সতীনের_সংসার পর্ব_৬

#সতীনের_সংসার
Writer: তানজিন সুইটি
#পর্ব_৬

-হ্যালো আনিকা?(অচেনা কণ্ঠ)

-জি(ঘুম ঘুম কণ্ঠে)

-একটু তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসবে……?

-হাসপাতাল?এমন কথা শোনার পর………

আনিকার মাথায় বাধ ভেঙে পরলো।ভোরের সূর্যটা সবার জন্য উজ্জ্বলতা বয়ে আনে না।কারো কারো জন্য কালো কালবৈশাখী ঝড়ের ন্যায়ের মতো বয়ে আনে।

আনিকা আর এক মূহুর্ত না বসে থেকে।কোনো রকম ফ্রেস হয়ে রওনা হলো হাসপাতালে দিকে।কথায় আছে না,বিপদের পথ শেষ হয় না কখনো?আজ তার বেলাতেও একই মনে হচ্ছে।বুকের ভিতরে অন্য রকম ভয় কাজ করছে। আল্লাহ এমন কি হতে চলেছে আমার জীবনে ?কি এমন হয়েছে?নাহ আনিকা আর কিছুই ভাবতে পারছে না। আগে সেখানে যাবে তারপর বিস্তারিত শুনবে।কি হয়েছিলো ভিতরে ভিতরে খুড়ে খুড়ে খাচ্ছে আনিকার?

নানান কথা ভাবতে ভাবতে চলে আসলো হাসপাতালে।
দু তলায় ২২৪নং কেবিনে রাখা হয়েছে তাকে।দৌড়ে গিয়ে দাড়ায় কেবিনের বাহিরে চকচকে আয়নার এপারে।ওপাশে অক্সিজেন মাক্স লাগানো মুখে।সেটা দেখে বুকের ভিতরে হু হু করে উঠলো খনিকেই।এ সে কি দেখছে?

কেন এটা করলো?আর আমাকেই কেনো আসতে বললো?হঠাৎ হাত পরলো আনিকার কাঁধে।পিছু ফিরে তাকাতে তাকাতে কিছুটা ভয় কাজ করছে।অসহায়ের মতো তাকালো তার দিকে।তার চোখ কথাও বলছে কে আপনি কাঁধে হাত রাখলেন যে?

-তুমি কি আনিকা?

এমন প্রশ্নে আনিকা আরও অবাক হলো খানিকটা?
পরে হ্যাঁ সূচক জানায়!!!

-আমিই আনিকা..আপনি…???

কথা বলা শেষ করার আগেই বলে উঠলো।

-আমি ওর আম্মু।আর ওর আব্বু স্ট্রোক করেছে,এক মাত্র ছেলের এমন অবস্থা দেখে।পাশের কেবিনে আছে।ও হ্যাঁ আমিই তোমাকে কল দিয়েছি।ওর ফোনে তোমার নাম্বার সেভ করা ছিলো আর ফোন গ্যালারীতে শুধু তোমারই ছবি দিয়ে ভর্তি ছিলো।তাই তো তোমার কাছে কল করে আসতে বললাম মা।

এমন কথা শুনে আনিকা আকাশ থেকে পরে।এটা কি শুনছে সে? এটা কি করে হবে?না না এটা হতে পারে না।আমি তো তাকে ভালো করে চিনিই না।শুধু কয়েকদিন দেখা হয়েছিলো। কিন্তু তেমন কথা হয়নি?
এমন কথা ভাবতে থাকে।পাশ থেকে ভদ্র মহিলাটা আনিকাকে কিছুটা ঝাকুনি দিলো কাধে হাত দিয়ে।

-হুমম আন্টি…..( ভাবনা ভেদ করে,দুঃচিন্তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে আনিকার মুখে।)

-তুমি হয় তো ভাবছো আমার বাবুটার সাথে তুমি ভালো করে কথাবার্তা বলোও নি, তবুও কিভাবে কি,ঠিক না মা?

-জি আন্টি!(মাথা নারিয়ে)

ভদ্র মহিলাটা সব কথা শুরু করার আগে আনিকার হাত ধরে নিয়ে যায় পাশের কেবিনে যেখানে ভদ্রলোকটা স্ট্রোক করে ভর্তি আছে ছেলের শোকে।

সেখানে গিয়ে তো আনিকা বাকরুদ্ধ।কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছে।এটা কাকে দেখছে সে?স্যাররর?একটু জোরেই বলে ফেললো।

-হ্যাঁ তোমার অফিসের স্যার আশরাফ চৌধুরী।আর তার এক মাত্র ছেলে রায়হান চৌধুরী।

?????

-তুমি হয় তো ভাবছো।তার অফিসে চাকরি করো কিন্তু এখনও রায়হানকে চিনোই না ভালো করে,এটা কি
করে হয়?

আসলে কি জানো?আমার ছেলেটা একদম অন্যরকম।
কাজকর্ম করতে চায়তোই না।কিন্তু হঠাৎ কারো সাথে ওর দেখা হয় আর তখন থেকে প্রায় সময় রায়হান অফিসে যাওয়ার নেশা হয়ে যায়।সেটা কিছুটা ask করতে পারি আমি,তাই জিঙ্গাসা করলে একটা মেয়ের কথা বলে?আশ্চর্য বিষয়টা কি জানো?

??????

-গত পরশুও অনেক ভালো ছিলো।জানি না গতকাল থেকে কি এমন হয়েছে রাজের ফোন আসার পর থেকে।পরে যা হয়েছে তোমার চোখের সামনে বেডে শুয়ে আছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়চ্ছে।

-রাজজজ…রাজের সাথে রায়হানের কি সম্পর্ক?

-আরে ভুলেই তো গেছি বলতে।রাজ হলো রায়হানের বেস্ট ফ্রেন্ড।রাজ পড়াশোনা শেষ করেই আমাদের অফিসে জয়েন্ট করেছে আর রায়হান কাজের কথা শুনলেই দৌড়াতো।হঠাৎই ঐ মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার পর থেকে কাজ ওর জীবনে আবির্ভাব হয়ে উঠেছে।

আনিকা তো পুরাই অবাক হয়ে গেলো রাজের সাথে রায়হানের বেস্ট ফ্রেন্ডের কথা শুনে।কিন্তু এতোদিন কেনো বললো না রায়হানের কথা রাজ?আর রায়হানও বা মরার সিন্ধান্ত নিলো কেনো হুট করেই।তার মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে।মাথা ধরে বসে পরে পাশের বেঞ্চে।
তারপাশে বসে পরে মিসেস সালেহা বেগম।আনিকার মাথায় হাত রেখে..

-মা আনিকা তোমার কাছে একটা জিনিস ভিক্ষা চাই।(দু হাত চেপে ধরে)

-এমন কথায় আরও অবাক হচ্ছে আনিকা।তার কাছে এখন সব কিছুই অবাকের মতোই লাগছে।ভিক্ষা..
কি এমন চাইবে যে এভাবে বলছে?আনিকাকে চুপ করে থাকতে দেখে মিসেস সালেহা বেগম বলে উঠে।

-কি গো মা..ভিক্ষা দিবা না আমাকে?আজ যদি আমি তোমার মা হতাম।তাহলে কি ফিরিয়ে দিতে আমাকে?

আনিকার মার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বুকের ভিতরে
কষ্টে বাধ ভেঙে দিলো নিমিষেই।বেচারি এমনিতেই মা হারানোর কষ্ট ভুলতে চেষ্টা করে তার উপরে দিলো কাটা গায়ে লবণের ছিটে দিয়ে।চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পরতে লাগলো অঝরে।

-মা মা আমার মা?আমাকে সে তো জন্ম দেবার পর পরই মারা গেছে।মায়ের ভালোবাসা কি সেটা তো জানিই না আন্টি??

আনিকা আর কোনো কথা বলতে পারছে না। অবিরত কান্না করেই যাচ্ছে।এমনটা দেখে মিসেস সালেহা বেগম

-আমার দিকে তাকাও please…

কাঁদো কাঁদো চোখ মুখ নিয়ে তাকালো তার দিকে।

-আমার মেয়ে হবি তুই?অনেক ভালোবাসবো তোকে।

এমন কথা শুয়ে জড়িয়ে ধরে বাহুডোরে মিসেস সালেহা বেগমকে।ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে।ওর কান্নার তাল মিলিয়ে মিসেস সালেহা বেগমও কান্না করে দিলো এতোখনে।

-এখন বল মা আমাকে…

আনিকা আর কথা বলতে দিলো না।কিভাবে দিতো তাকে আর কথা বলতে কারণ, তাকে যে মা স্থান দিয়েই দিয়েছে।তাহলে কি মা ভিক্ষা চাইবে মেয়ের কাছে আর সেটা কেউ মেনে নিবে।সেই জন্য চুপ করে থেকে।

-আপনি শুধু হুকুম করেন কি চাই?

-আগে মা বলে ডাক আর তুমিও বলে ডাক তারপর চাইবো তার আগে না।?(অভিমান করে একটু)

-আনিকা একটু মুচকি হেসে তারপর..আচ্ছা বাবা তুমি তুমি তুমি হয়েছে এখন বলো মা তোমার।

দুজনেই এক সাথে হেসে দেয় খনিকেই।

-হ্যাঁ হয়েছে….তুই রায়হানকে বিয়ে করলো আজ এই মূহুর্তে।

এমন কথা শুনে আনিকার মুখ মূহুর্তেই মলিন গেলো।এটা সে কি বলছে?ভিতরে ভিতরে যেই ভয়টা ছিলো তাহলে কি এটাই সেটা হবে।কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

-মা এসব তুমি কি বলছো?আর এটা হয় না কখনো?

-কেনো হয় না বল মা?তুই কি চাস না রায়হানের বাবা সুস্থ্য হয়ে যাক আর আমার রায়হানটাও। দেখ মা ডাঃ বলেছে যদি উনি আরেকবার স্ট্রোক করে তো আর বাঁচাতে পারবে না উনাকে।তারপরে আসে আমার ছেলে,কিভাবে ওদের ছাড়া থাকবো একা বল।

আনিকাকে ছেড়ে দিয়ে ফ্লোরে বসে পরে হাটু গেরে। কাঁদতে থাকে চিৎকার করে।মা তো পা ধরে ভিক্ষা চাই স্বামী সন্তানকে।

আনিকাও আর এক মূহুর্ত উপরে বসে না থেকে। বসে পরে সঙ্গে সঙ্গে তার সাথে তাল মিলিয়ে ফ্লোরে।
তারপর পৃথিবীর আর কিছু চিন্তা ভাবনা না করে
হ্যাঁ বলে দেয় রায়হানকে বিয়ে করবে বলে।

বাসস হয়ে গেলো সব ব্যবস্থা খনিকের মধ্যে।

চলবে…..

(ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here