My_Mafia_Boss পর্ব-১৬

0
479

My_Mafia_Boss পর্ব-১৬
Writer:Tabassum Riana

রুহীর ঘুম ভাঙ্গে নিচে বন্দুকের আওয়াজে।ধড়ফড় করে উঠে বসে রুহী। রোয়েন কি তাহলে অন্য কাউকে মারলো?তারপরই আরকেটা বন্দুকের আওয়াজ ভেসে এলো।রুহী জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করে রোয়েনকে।কতগুলো লোক রোয়েনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।রোয়েনের সামনে কিছু কাঁচের বোতল সাজানো আছে।সেগুলো সুট করছে রোয়েন। পাশের লোক গুলো হাততালি দিয়ে উঠলো।রোয়েন কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে উপরে তাকাতেই রুহীকে দেখতে পায়।ইশারা দিয়ে নিচে আসতে বলে রুহীকে।
রুহী মাথা ঝাঁকিয়ে না জানাতেই রোয়েন চোখ রাঙ্গিয়ে নিচে আসতে বলে।
রুহী ফ্রেশ হয়ে চুল গুলো খোপায় গুঁজে নিচে নেমে আসে।রোয়েন ওর বাগানে বন্দুক হাতে লোকগুলোর সাথে কথা বলছিলো।রুহী যেতেই হাত দিয়ে ইশারা করে লোক গুলোকে চলে যেতে বলল রোয়েন। রুহী রোয়েনের কাছে এসে দাঁড়ালো। রুহীর সামনেই একটি বোতল কে সুট করলো রোয়েন।ট্রাই করতে চাও রুহীকে জিজ্ঞেস করলো রোয়েন।মাথা নাড়লো রুহী।এ শব্দে ভীষন ভয় লাগে ওর।

রুহীর কোমড় জড়িয়ে কাছে নিয়ে এলো রোয়েন।রোয়েনের বুকের সাথে লেপ্টে আছে রুহী।রুহীর গালের সাথে গাল লাগালো রোয়েন চেষ্টা তো করতে হবে তোমাকে নিজের সেফ্টির জন্য।আমার কিছু হলে তোমাকেই তো নিজের প্রোটেক্টর হতে হবে।
এই কথায় রুহীর বুক ধক করে উঠলো। ওনার কি হবে?ওনার কি কিছু হতে পারে?ভাবতে ভাবতে কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে যায় রুহী।রোয়েনের কথায় ঘোর ভাঙ্গে রুহীর কি হলো? সামনে তাকাও ধমক দিয়ে বলল রোয়েন। জি রুহী আস্তে করে বলল।রোয়েন দুষ্টমি করেই একটা হাত দিয়ে রুহীর কোমড় জড়িয়ে ধরলো।রোয়েনের স্পর্শে রুহী একটু কেঁপে উঠলো। রুহীর চুল গুলো একটানে খুলে দিলো রোয়েন।রুহীর হাতে বন্দুক ধরিয়ে একটা বোতলকে নিশানা বানালো রোয়েন।এটাকে সুট করো বলে রোয়েন রুহীর হাতের ওপর হাত রাখলো।সুট করো রুহী রোয়েন বলে উঠলো।রুহী চোখ খিচে বন্ধ করে সুট করলো সাথে রুহী জোরে চিৎকার করে রোয়েন কে জড়িয়ে ধরলো। খুব ভয় করছে ওর।রোয়েন রুহীর কাঁধের চুল গুলোয় মুখ ডুবিয়ে দিলো।স্যার নাস্তা হয়ে গেছে খেতে আসুন কাজের লোকটি বলে উঠলো।

রুহী রোয়েন থেকে সরে এলো।বেচারী রোয়েনের দিকে তাকাতে পারছেনা। রুহীর হাত শক্ত করে ঘরের ভিতরে নিয়ে এলো রোয়েন। টেবিলে নাস্তা সাজানো আছে।রুহীকে বসতে দিয়ে ওর পাশের চেয়ারে রোয়েন বসলো।রুহী রোয়েনের দিকে বারবার তাকচ্ছে আবার ওর খাবারের দিকে। এতো গুলো সবজি খেয়ে কি করে কাঁটায় পুরো দিন ভাবছিলো রুহী।।

রোয়েন খেয়াল করলো রুহী ওর দিকে বারবার তাকাচ্ছে।ফোন বের করে নিজের একটি ছবি তুলে রুহীর হাতে ফোনটি ধরিয়ে দিলো রোয়েন। রুহী অবাক চোখে রোয়েনের দিকে চেয়ে আছে।রোয়েন এবার দাঁতে দাঁত চেপে রুহীর দিকে ফিরলো কি হলো?

ক ক কইইই কি হলো?

এতো কি দেখছো?ছবি তো তুলে দিলাম।

ন ন না আ আ আসলে আপনি এতোগুলো সবজি খাচ্ছেন।

ওহ।এটাকে স্যালাড বলে।

স্যা…….

স্যালাড।সালাদ ও বলতে পারো।

ওহ সালাদ।

হুম।

খিদে লাগেনা আপনার?

উহুম।অভ্যাস হয়ে গেছে।

ওহ।খাবার সেড়ে দুজন উঠে পড়লো।আমি কি বাগান টা ঘুরে দেখতে পারি?

অবশ্যই যাও।

রুহী দৌড়ে বাগানে চলে গেল।চোখ বড় বড় করে বাগানটি দেখছে রুহী।বিভিন্ন ফুলের গাছে ভরে গাছে বাগানটি।পানির ফোয়ারা থেকে অনবরত পানি ঝড়েই যাচ্ছে।মালি দুজন গাছে পানি দিচ্ছে।রুহী ওদের সাথে গল্পে মেতে উঠলো।রুহীকে বিভিন্ন ফুলের নাম বলছে মালীরা।ড্রাইভার গাড়ি ধুচ্ছে।পাইপ থেকে পানি বের করে গাড়িটাকে ধুচ্ছে ড্রাইভার।রুহী ড্রাইভার থেকে পাইপটা নিয়ে পানি মারতে লাগলো খুব মজা হচ্ছে ওর।পানি ছিটিয়ে এসে ওর মুখ ভিজিয়ে দিচ্ছে।চোখ বারবার বন্ধ হয়ে আসছে রুহীর। হঠাৎ রোয়েনের চিৎকারে চোখ খুলল রুহী। হাত থেকে পাইপটি পড়ে গেল।রোয়েন ভিজে গেছে একেবারে।ভীষন রেগে আছে রোয়েন।দাঁতে দাঁত চেপে রুহীর দিকে তাকিয়ে আছে ও।

রুহী ভয় পেয়ে মাথা নিচু করলো। কি করলো সে?রোয়েনকে পুরো ভিজিয়ে দিলো?এখন তো ঝাড়ি খেতে হবে।ঠিক তখনই ওর শরীরে পানি এসে পড়লো পুরো ভিজে গেল রুহী। রুহীর মুখে পানি পড়ছে। সামনে তাকিয়ে দেখলো পাইপটি নিয়ে রোয়েন দাঁড়িয়ে রুহীর দিকে পানি মারছে।দাঁত বের করে হাসছে রোয়েন।রোয়েনের হাসিটা মুহূর্তের মধ্যে পাগল করে দিলো রুহীকে।রোয়েন পাইপ হাতে রুহীর দিকে দৌড়াতে লাগলো।রুহী ও দৌড়াচ্ছে।চারদিক মিষ্টি দুটি হাসির শব্দে ভরে উঠলো।
প্লিজ আর পানি মারবেন না রুহী দৌড়াতে দৌড়াতে বলছে।

এত সহজে ছাড়ছি না রুহী দৌড়াতে দৌড়াতে বলল রোয়েন।

প্লিজ আর এমন হবেনা।

বললে হবেনা।এক পর্যায়ে রুহীকে কোলে তুলে নিলো রোয়েন।অনেক হয়েছে আর না।ভিতরে চলো।

রুহী মাথা নিচু করলো।

রুহীকে কোলে নিয়ে রুমে চলে এলো রোয়েন।দুজনেই ভিজে একাকার হয়ে গেছে।রোয়েনের পুরো শরীর দৃশ্যমান শার্টের ভিতর দিয়ে।রুহীর ঠোঁটের ওপরের বিন্দু বিন্দু পানি গুলো পাগল করে দিচ্ছে রোয়েনকে।এগুতে শুরু করলো রুহীর দিকে।রুহী মাথা নিচু করে পিছুচ্ছে।রোয়েন জোরে গলা খাকারি দিতেই রুহী দাঁড়িয়ে গেল।রুহীর কাছে এসে দাঁড়ালো রোয়েন।রুহীর কানের সামনে মুখ নিয়ে বলল”রোম্যান্সে বাঁধা একদম পছন্দ না আমার”রুহীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিলো রোয়েন।রুহী রোয়েনের শার্টের এককোনা ধরে আছে।রুহীর গালে চুমো দিয়ে ঠোঁটের কাছে এলো রোয়েন।ঠোঁটের বিন্দু বিন্দু পানি গুলো কে ঠোঁট দিয়ে শুষে নিলো রোয়েন।রুহীর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট দিয়ে হালকা চাপ দিলো রোয়েন। রুহী কেঁপে উঠলো।এবার বেশ গাঢ়ো চুমো দিতে শুরু করলো রোয়েন।রুহীর কোমড় জড়িয়ে শূন্যে তুলে নিলো রোয়েন।রুহীর চোখের এক ফোঁটা অশ্রু রোয়েনের ঠোঁটের কোনা বেয়ে গড়িয়ে পড়লো।রোয়েন সাথে সাথে ছেড়ে দিলো রুহীকে।অন্যদিকে ফিরে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে ও।রুহী ও মাথা নিচু জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। রোয়েন আরেকটু হলে কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলতো নিজের ওপর থেকে।কিন্তু সেটা ও চায়নি।যাও গোসল করে আসো গম্ভীরমুখে বলল রোয়েন।রুহী মাথা নিচু করে রুমে চলে এলো।জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল রুহী।রোয়েন ও ফ্রেশ হতে চলে গেল।

রোয়েন আলমারি থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে রুহীর রুমের দিকে এগুলো।রুহী বেশ কিছুক্ষন ধরে জামার চেইনটাকে উপরে তোলার ব্যার্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে।রোয়েন এসে চেইনটাকে টেনে দিতেই রুহী একঝটকায় রোয়েনের দিকে ফিরলো আ আ আপনি?হুম।প্যাকেটটি রুহীর হাতে দিলো রোয়েন গেট রেডি।কোথা ও যাবেন? রোয়েন এবার ধমক দিয়ে বলে উঠলো পাল্ট া প্রশ্ন করোনা রুহী বলে রুম থেকে চলে গেল।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here