Love At 1st Sight  Season 3 Part – 9

0
641

 

 Love At 1st Sight 
~~~Season 3~~~

Part – 9

Writter : Jubaida Sobti

রাহুল চলে যাওয়ার পর…জ্যাকেট টা..পরে নিলো স্নেহা!

আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছে! অনেকটাই ঢিল হয়েছে..তবে শীত মানানোর জন্য চলবে! চলেই যাচ্ছিলো হঠাৎ আবার থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে!

স্নেহা : [ মনে মনে ] ও তো চলেই গেছে…তবে এমন কেনো লাগছে…যে ও আমার পাশেই আছে!

হঠাৎ স্নেহা জ্যাকেটের দিক খেয়াল করলো… এবং ধীরে ধীরে কলারের দিকটা মুখের কাছে এনে জ্যাকেটের স্মেল নিতে লাগলো! [ বুকটা ধুপ করে উঠলো স্নেহার ] এবার বুঝতে পারলো কেনো এমন লাগছিলো যে রাহুল তার পাশেই আছে, তাড়াতাড়ি জ্যাকেটের পজিশন ঠিক করে পড়ে নিলো! কিছুক্ষণ Silent হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো…[ with blushing ]

নিচে নেমে এসে দেখে…রাহুল গাড়ীতেই বসে আছে…স্নেহা ও গিয়ে কিছু না বলে গাড়ীতে উঠে পড়ে…অলরেডি নামতে দেরী করে ফেলেছে…

রাহুল ও আর কিছু না বলে সোজা তাকিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে…স্নেহা একটু অবাক হলো আজ শুধু গাড়ীই চালাচ্ছে একবার ও ফিরে তাকাচ্ছে না…

কিছুক্ষণ পর,

স্নেহা : আপনি এখনো বলেননি..আমাকে আপনার বাসায় কেনো এনেছেন?

রাহুল : No No…স্নেহা! তুমি ড্রাইভিং রুলস্ জানো না?.. আগে ড্রাইভিং তারপর কথা! ড্রাইভিং করার সময় এদিকওদিক তাকাতে নেই!

স্নেহার হাসি চলে আসাতে জানালার পাশফিরে হাসতে লাগলো… রাহুল ও সামনে তাকিয়ে তেডি স্মাইল দিতে লাগলো…

রাহুল : নাইস্ [ স্নেহা ফিরে তাকালে ] স্মাইল!

স্নেহা : [ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ] Black Sunglass not save for drive!

রাহুল : You know স্নেহা! তোমার না…ডান্সার না হয়ে…টিচার হওয়া উচিৎ ছিলো…কথায় কথায় এডভাইস্ দিতে পারো… মানে মাথার মধ্যে সে্ট করা থাকে এগুলো তাই না…

স্নেহা : [ রাহুলের দিক তাকিয়ে থেকে ] কিন্তু দেখতে ভালো লাগছে..

রাহুল : [ অবাক হয়ে ] What?…

স্নেহা : না নাহ!..বলছিলাম যে সানগ্লাসটা দেখতে ভালো… আপনার… মানে সানগ্লাস দেখতে..

রাহুল : রিলেক্স! [ with tedi smile ] feeling better?..

স্নেহা : হুম হুম! [ বলেই পাশ ফিরে যায়,আর মনে মনে ভাবতে থাকে..] রিলেক্স স্নেহা রিলেক্স…কি বলতে কি বলে ফেলছিস…

রাহুল স্নেহার বিহেভিয়ার দেখে তেডি স্মাইল দিতে থাকে…

বাড়ী এসে পৌছালো…স্নেহা গাড়ী থেকে নামলে,

বারান্দা থেকে জারিফা খুশিতে স্নেহা বলে চেঁচিয়ে উঠে…

রাহুল : [ নেমে এলো গাড়ী থেকে…] Listen! আজ ভার্সেটি আসার প্রয়োজন নেই! বুঝলে?..[ স্নেহার কাছে এসে কপালে হাত দিয়ে ] ফেভার তো নেই..হুম! চাইলে আসতে পারো.. [ স্নেহা ব্লাশিং হয়ে অন্যদিক ফিরে গেলো ]

জারিফা, মার্জান,শায়লা: [ দৌড়ে এগিয়ে এসে স্নেহাকে জড়িয়ে ধরে ]

জারিফা : স্নেহা…মেরি জান! কোথায় গিয়েছিলি?..

মার্জান : কার সাথে গিয়েছিলি স্নেহা?..আমরা পাগলের মতো খুজছিলাম তোকে…

শায়লা : সারারাত টেনশন হচ্ছিলো…স্নেহা বলনা কোথায় গিয়েছিলি কার সাথে গিয়েছিলি?..

স্নেহা রাহুলের দিক কোণা চোখে তাকালে দেখে রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কান্ড দেখছে! স্নেহা তাকাতেই রাহুল চোখ টিপ মারে!

স্নেহা : [ তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে ] আরে সবাই একসাথে..এইভাবে জিজ্ঞেস করলে কেমনি বলবো…

রাহুল : আমি বলছি! [ এগিয়ে এসে পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়ায় ] আসলে! ব্যাপারটা এমন ছিলো…কেউ একজন বেহুশ হয়ে গিয়েছিলো…এবং স্নেহা তাকে বাচাতে গিয়ে নিজেই বেহুশ হয়ে যায়,

[ স্নেহা নাক ফুলিয়ে রাহুলের দিক তাকায় ]

মার্জান : What?..কিন্তু কে বেহুশ হয়েছিলো?..[ স্নেহাকে তার দিক ফিরিয়ে ] আর তুই?..স্নেহা তুই কোথায় ছিলি?..

শায়লা : আরে মার্জান সব প্রশ্ন রাস্তায় করবি নাকি?..আগে ভেতরে চল রিলেক্স হয়ে বয়..তারপর সব Discuss করিস! চল চল!

জারিফা : [ রাহুলের হাত টেনে ধরে ] আরে হিরো! আপনি কোথায় যাচ্ছেন বলেন তো?.. [ রাহুল অবাক হয়ে তাকায় ] আরে…অবাক হওয়ার কি আছে…এতো কষ্ট করে আমাদের ফ্রেন্ডসকে খুজে দিয়েছেন এক কাপ কফি তো অন্তত খেয়ে যেতে হবে!

রাহুল : ওহ! No Thank you so much! নেক্সট টাইম ওকে!

মার্জান : [ এগিয়ে এসে ] Thank you! তো আমাদের আপনাকে বলা উচিৎ আসলে! Thank you! বললেও কম হবে,

রাহুল : দ্যাটস্ ওকে!

জারিফা : [ রাহুলকে টেনে ] দ্যাটস্ ওকে! বললে চলবে না…কফি তো আমাদের সাথে খেতেই হবে!

রাহুল : Listen!

মার্জান : থাক বাদ দে! জারিফা! আমরা গরীব মানুষ! আমাদের ঘরের কফি কি উনি খাবে নাকি?…

রাহুল : Okay Okay fine! I am coming!

জারিফা : That’s my boy! [ বলেই রাহুলকে টেনে ভেতরে নিয়ে চলে গেলো ]

বাকিরা হাসতে থাকে,

সবাই কফি সামনে রেখে টেবিলে বসে আছে! স্নেহা মাথা মুছতে মুছতে ওয়াসরুম থেকে বের হলো…হঠাৎ চোখ গেলো রাহুলের দিক…রাহুল হা করেই দেখে আছে স্নেহার দিক…স্নেহা তাড়াতাড়ি ভেতর রুমে চলে গেলো…

রাহুল : [ মনে মনে হেসে ] আমার কাছ থেকে ভাগছে..কিন্তু আমার সামনেই এসে পরে…কখনো Without শাড়ী, আবার কখনো Without ওড়না..How funny!

চুল ঠিক করে,ওড়না গায়ে দিয়ে…স্নেহা ও এসে টেবিলে বসলো…

জারিফা : [ রাহুল স্নেহার দিক তাকিয়ে থাকায় ] ছানি পড়ে যাবে, [ সবাই অবাক হয়ে জারিফার দিক তাকালে ] আহ! I mean কফিতে!

শায়লা : স্নেহা! এবার বল গতকাল কই ছিলি কি হয়েছে!

মার্জান : হ্যা স্নেহা! বলনা…আমার তো টেনশনে জান চলে যাচ্ছে!

জারিফা : What?..জান চলে যাচ্ছে?..কিন্তু তুই তো এখনো বেচে আছিস!

মার্জান : দেখ জারিফা! তুই চুপ থাক কিছুক্ষণ..আমার হাতে কিন্তু এখন গরম কফি আছে!

জারিফা : না প্লিজ! গরম মাড়িস না…ঠান্ডা করে মাড়িস!

রাহুল : Listen guys! তোমরা কফি মারামারি করতে গিয়ে আমার গায়ে মেরে দিওনা…আমি মিডলে আছি!

[ সবাই হেসে উঠে ]

জারিফা : আরে আপনাকে কিভাবে মারবো.. আপনি তো স্নেহাকে খুজে এনে আমাদের হেল্প করেছেন… বাই দ্যা ওয়ে… [ গলা ঝেড়ে ] মিষ্টার রাহুল! ইথনা মেহনত কিস্কিলিয়ে?…হুম হুম?…

রাহুল : স্নেহা!

[ সবাই অবাক হয়ে রাহুলের দিক তাকালো! স্নেহা কফি মুখে কাশতে লাগলো ]

রাহুল : পানি! পানির গ্লাসটা দাও স্নেহা!

স্নেহা রাহুলের দিক কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কাপা হাতে পানির গ্লাসটা রাহুলের দিক এগিয়ে দিচ্ছে, সবাই স্নেহার হাতের দিক তাকিয়ে আছে…স্নেহার হাত কাঁপছে চারদিক পানি ছিটে পড়ছে…রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার হাত থেকে পানির গ্লাস এগিয়ে নিতে হাতের স্পর্শ লাগলো.. স্নেহার হাত আরো কেপে উঠলো…

রাহুল : You Ok স্নেহা?.. [ with tedi smile ]

[ স্নেহা অবাক হয়ে তাকালো রাহুলের দিক ]

রাহুল : I think পানি গুলো তোমার খাওয়া উচিৎ! দেখো হাত কাঁপছে তোমার!

স্নেহা কিছু না বলে উঠে রুমে চলে যায়, মার্জান ও স্নেহার পিছু পিছু এগিয়ে গেলো…

মার্জান : স্নেহা! তুই ঠিকাছিস?..

স্নেহা : হ্যা! ঠিকাছি!

মার্জান : [ স্নেহার কাধে হাত রেখে! ] বাই দ্যা ওয়ে! স্নেহা..মাই ডিয়ার…কি চলছে বলতো?…

স্নেহা : [ অবাক হয়ে ] মানে?..

মার্জান : তুই আর রাহুলের মধ্যে!

স্নেহা : কি আজিব কথা বার্তা বলছিস?…

এইদিকে,

জারিফা : I am confused!

রাহুল : [ কফি খেতে খেতে ] Why?..

জারিফা : আপনি…আমার প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন নাকি?..সত্যি সত্যি পানিই খুজেছিলেন!

রাহুল : Confused হওয়ার কি আছে?..ভেবে দেখো!

জারিফা : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে ] Oh my god! that means আপ..আপনি আমার প্রশ্নের..

শায়লা : আমিতো তখনি ধরেছিলাম এটা ওটারই জবাব ছিলো!

রাহুল : [ শায়লার দিক আংগুল দেখিয়ে ] ইয়াহ! You are very intelligent!

শায়লা : Yes! I m..

জারিফা : এই এতো খুশি হওয়ার কি আছে?..আমিও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু একটু তাও কনফিউজড ছিলাম আরকি!

[ স্নেহা আর মার্জান এগিয়ে আসে ]

শায়লা : স্নেহা! কি হয়েছে তুই ঠিকাছিস?…

স্নেহা : [ রাহুলের দিক একবার তাকিয়ে আবার শায়লার দিক তাকিয়ে ফেলে ] হ্যা! আমি ঠিকাছি!

জারিফা : দেখে তো মনে হচ্ছে না ঠিকাছিস!
[ রাহুলের দিক তাকিয়ে ] আপনি জানেন..স্নেহা অনেক ভালো রান্না পারে! আমরা তো ওকে সবসময় বলি…ওর হ্যাসবেন্ড অনেক লাকি হবে! আর ওর রান্না খেয়ে সবসময় উমম! উমম! করবে..

রাহুল : রিয়েলি!

জারিফা : [ মাথা নাড়িয়ে ] ইয়েস্

মার্জান : [ হেসে ] আর তোর রান্না খেয়ে…

জারিফা : দেখ ইনসাল্ট করবি না বলেদিলাম..

মার্জান : ওকেই!

রাহুল : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] Okay guys! see you later! [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] Bye! [ with tedi smile ]

জারিফা : Bye!

মার্জান : [ স্নেহার কানের কাছে এসে ] Bye বলবি না স্নেহা?..[ স্নেহা অবাক হয়ে মার্জানের দিক তাকায় ] আরে অবাক হওয়ার কি আছে…সবই তো বোঝা যাচ্ছে..

[ স্নেহা কিছু না বলে আবারো ভেতর রুমে চলে যায় ]

মার্জান হাসতে থাকে, [ রাহুল চলে যায় ]

স্নেহা…খাটে বসে আছে…মনটা কেমন যেনো ছটফট করছে…কি হচ্ছে তার সাথে সে কিছুই বুঝছে না…হঠাৎ চোখ গেলো রাহুলের জ্যাকেটের উপর….

ধীরেধীরে জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে আবারো স্মেল নিতে লাগলো.. আর ব্লাশিং হতে লাগলো…

হঠাৎ রুমে..মার্জান, জারিফা এবং শায়লার এন্ট্রি…

স্নেহা তাড়াতাড়ি জ্যাকেট টা…হাত থেকে রেখে দেই…কিন্তু বাকিরা তা ঠিকই notice করলো…

মার্জান : [ স্নেহাকে শুনিয়ে ] জারিফা..মাই ডিয়ার এই রাহুলকে না আমরা যতোটা খারাপ ভেবেছিলাম আসলে ততোটাও খারাপ না..তাই না..

জারিফা : Absolutely Right!

শায়লা : আসলেই…

মার্জান : কিন্তু তাও কি?..চ্যাছড়া তো চ্যাছড়াই থাকবে…গার্লস্ পার্টি.. লেইট নাইট পার্টি…ব্যাচেলার পার্টি,

স্নেহা : কিন্তু ওসব তো..ওর ক্যারেক্টারে পড়ছে না…

মার্জান : আচ্ছা তাই?..কিন্তু আমিতো বেশীরভাগই ওকে মেয়েদের সাথেই ঘুরতে দেখি!

জারিফা : আরে মেয়েগুলোই ওর পেছন ঘুরতে থাকে… ও মেয়েদের পেছন ঘুরবে ইম্পসিবল তাই না স্নেহা!

মার্জান : বাইরে এই অবস্থা! না জানি বাসায় কি কি করে…

স্নেহা : আরে না! বাসায় তো ও একাই থাকে…

মার্জান : কেনো?..ওর মা, বাবা,ফ্যামিলি?..

স্নেহা : [ ইমোশনাল হয়ে ] ওর মা-বাবা একসাথে থাকে না…বেচারা ছোট থেকেই একা একা কাটিয়েছে…বাহির থেকে দেখতে যেমন..আসলেই ও তেমনটা না…

সবাই এক একজনের দিক একজন তাকিয়ে একসাথে এগিয়ে এসে স্নেহার পাশে বসে,

মার্জান : [ ইমোশনাল হয়ে ] So sad! বেচারা!..কতো আফসোস হচ্ছে তাই না স্নেহা!

এবার স্নেহা লক্ষ্য করলো সবাই ইচ্ছে করেই তার মজা নিচ্ছে,

শায়লা : আরে হ্যা! আমরা তো ওকে কি না কি ভেবে বসেছিলাম…ওর তো দুঃখ্য ভরা Past আছে!

মার্জান : কিন্তু স্নেহা! I have one question! [ স্নেহার কানের কাছে এসে ] তুই এতোসব কি করে জানলি?…

স্নেহা : [ ঘাবড়ে গিয়ে ] আ…আমি…ও..[তোতলাতে লাগলো ]

জারিফা : আরে আরে! রাখ তোদের Past…আমিতো present দেখছি, [ জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে ] স্নেহা..স্মেলতো অনেক নিয়েছিস…এবার বল পার্ফিউমটা কোন ব্রান্ডের ছিলো!

স্নেহা লজ্জা পেয়ে উঠে চলে যাচ্ছিলো…

জারিফা : [ স্নেহার হাত ধরে কাছে টেনে নেই ] এখন বল…গতকাল রাত কি কি হয়েছে রাহুলের সাথে হুম হুম?..

স্নেহা : [ জারিফাকে ধাক্ষিয়ে ] ছিঃ জারিফা! কিসব বকছিস! তেমন কিছুই না…

মার্জান : আচ্ছা! তাহলে ভাগছিস কেনো?…রাহুলের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে ও বেশি জানিস এখন…কখন হয়েছে এতোসব কথা?..হুম হুম?.

স্নেহা : আরে ওসব তো ও আমাকে ঐদিন বলেছিলো যেদিন আমি আবার ডান্স ক্লাস জয়েন করেছিলাম…

সবাই অবাক হয়ে তাকালে,

স্নেহা : হ্যা! ডান্স ক্লাস শেষে বাড়ী ফিরছিলাম…তখনি দেখি ও গাড়ি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে,

জারিফা : [ এক্সাইটেড হয়ে ] Then then then…

স্নেহা : তারপর ও ব্লাকমেইল করে আমাকে ওর গাড়ীতে উঠতে বাধ্য করে,

শায়লা : ব্লাকমেইল?.. কিরকম ব্লাকমেইল?..

স্নেহা : বলেছে যদি না উঠি… তাহলে অনেক রকম Way আছে গাড়ীতে উঠানোর…

জারিফা : মানে কিছুটা এমনটাই যদি স্নেহা না উঠতো…তাহলে রাহুল স্নেহাকে.. সবার সামনে কোলে তুলে জোড় করেই গাড়ীতে বসাতো…[ এক্সাইটেড হয়ে ] ওয়াও ইয়ার কি রোমান্টিক… তারপর বলনা..

স্নেহা : তারপর ওর বাড়ী নিয়ে গেলো..

শায়লা : রিয়েলি??

স্নেহা : হ্যা! কতো বড় বাড়ী ছিলো…আমি ভেবেছিলাম…কোনো…ফাইভ স্টার হোটেল হবে…তারপর ওর দাদীর সাথে দেখা করালো…অনেক ভালোছিলো ওর দাদী… তারপর ওর রুমে নিয়ে গেলো.. পরে বললো…ও ঐরুমে থাকে না…পাশের গেষ্ট হাউজে আলাদা থাকে..

শায়লা : আরে কিন্তু কেনো?..

স্নেহা : ওর মা চলে যাওয়ার পর থেকে..ওর বাবার সাথে কথা বলে না…

জারিফা : আচ্ছা তারপর বলনা?..

স্নেহা : তারপর ওর মায়ের পূরোনো গিটার দেখালো…তখন ও আপসে্ট ছিলো…তাই বললাম বাজিয়ে দেখাতে,

জারিফা : আরে ওয়াহ! বাজালো নাকি?..

স্নেহা : হুম!

মার্জান : স্নেহা! মাই ডিয়ার! তুই আমাকে শুধু এটা বল ও তোকে কোন গানটা গাইয়ে শুনিয়েছিলো…

স্নেহা : কা..কাক..কাহো না পেয়ার হে্

জারিফা : [ লাফিয়ে উঠে ] ওয়াহ..স্নেহা ওয়াহ…ও তো তোকে গানদিয়ে ডেডিকেট করে বুঝিয়ে দিয়েছে…ইয়ার স্নেহা…একটু ভেবে দেখ কতো মেয়েই তো ওর আগেপিছে ঘুরে…কিন্তু ও তোকেই কেনো

মার্জান : এমন ও তো হতে পারে…যে ও সব মেয়েকেই সেইম গানটাই শোনায়..

জারিফা : দেখ তুই একটু বেশিই বুঝিস.. সব মেয়েকে কেনো সেইম গান শোনাতে যাবে?..আচ্ছা মানলাম সব মেয়েকে সেইম গান শোনায়…তাহলে গতকাল যখন স্নেহাকে খুজে পাচ্ছিলাম না…তখন অনেক ছেলেই তো ছিলো..কিন্তু তুই গিয়ে রাহুল থেকেই কেনো হেল্প চেয়েছিলি বল বল…?

মার্জান : হ্যা কারণ…ও স্নেহার ডান্স পার্টনার ছিলো…

জারিফা : আচ্ছা?..ওকে সেটাও মানলাম এবার বল…যখন আমরা স্নেহাকে ছাড়া বাড়ী ফিরছিলাম..তখন কার উপর ভরসা করে বাড়ী চলে এসেছিলি?…

[ Everyone silent ]

জারিফা : [ হেসে ] You know মার্জান তুই জানতি রাহুল স্নেহাকে খুজে আনবেই.. কারণ আলাদা একটা কানেকশন আছে…বস্ ?

মার্জান : তোর বাকোয়াস্ শোনার না আমার টাইম নেই! [ স্নেহার দিক ফিরে ]
স্নেহা! তুই বল…গতকাল কি হয়েছে তোর সাথে কোথায় ছিলি…

[স্নেহা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গতকালের সব ঘটনা খুলে বলে,]

মার্জান : [ রাগান্বিত ভাবে ] কিহ! কে করেছে এসব?..আর…তুই চিৎকার করতে পারিসনি?…

শায়লা : আরে ও বলছে না..ওর মুখে টেপ লাগিয়ে দিয়েছিলো…

জারিফা : কিন্তু স্নেহা! ওরা তোর সাথে উলটা পালটা কিছু করেনি তো…আই মিন্ তুই বুঝতে পারছিস আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি?..

স্নেহা : নাহ! তেমন কিছুই করেনি..শুধু বেধে রেখে চলে গিয়েছিলো…আর চেঁচাচ্ছিলাম দেখে শাড়ী টান দেই…

শায়লা : স্নেহা তুই ওখান থেকে ফিরে এলি কি করে?…

স্নেহা : আমার অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েগিয়েছিলো যে ভালো করে চোখ খুলেও তাকাতে পারছিলাম না…কে ছিলো তারা..কেনো আমাকে বেধে রাখা হয়েছিলো আমি কিছুই বুঝতে পারছিলামনা…

মার্জান : তারপর?..

স্নেহা : তারপর দেখি হঠাৎ রাহুল আসে…আমি রাহুলকে দেখে…[ ফুফিয়ে কেঁদে উঠে ]

[ বাকিরা স্নেহাকে ঝড়িয়ে ধরে ]

জারিফা : Don’t cry মেরি জান!

মার্জান : কে করেছে একবার জানতে পারতাম! একবার ঐ বদমাইশগুলো আমার হাতে লাগুক!

পরদিন ভার্সেটিতে,

ক্লাস চলছে…স্নেহা এদিকওদিক তাকাচ্ছিলো জানালার বাহিরে…

জারিফা : [ ফিসফিস করে ] স্নেহা! মেরি জান! কি হয়েছে বলতো ছটফট করছিস কেনো?…

স্নেহা : নাহ! আসলে একটু গরম লাগছে তাই!

জারিফা : ইয়ার স্নেহা! এতো হট হয়ে গিয়েছিস কবে থেকে?..[ হেসে] উইন্টার সিজনে ও গরম লাগছে…

স্নেহা : Stop it জারিফা! আচ্ছা শোন..তু…তুত তুই…রা..রার রাহুলকে দেখেছিস আজ?..[ বলেই অন্যদিক ফিরে গেলো ]

জারিফা : [ স্নেহাকে তার দিক ফিরিয়ে ] হুম হুম…এখন বুঝছি কিজন্য হট লাগছে…?

স্নেহা : না না…আসলে…

জারিফা : হুম?..আসলে?..

স্নেহা : আসলে..ওর জ্যাকেট টা… রিটার্ন করার ছিলো…

জারিফা : ওকে..I understand!

স্নেহা : তুই উলটা পালটা কেনো ভাবছিস! আমি ভেবেছি তুই হেল্প করবি…

জারিফা : ওকে মেরি জান! আমি কবে বললাম হেল্প করবো না… [ স্নেহার হাত ধরে ] চল!

মার্জান : আরে কোথায় যাচ্ছিস জারিফা!

জারিফা : আ..আমার একটু ওয়াসরুমে যেতে হবে!

মার্জান : কিন্তু ক্লাস শেষ করে যা…

জারিফা : ইয়ার! ইমার্জেন্সি!

মার্জান : ওকে ওকে!

[ জারিফা স্নেহাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো চারদিক খুজে দেখলো ক্যান্টিন, লাইব্রেরী, ক্লাস, কিন্তু রাহুল কোথাও নেই ]

জারিফা : আমার মনে হয়, রাহুল আজ ভার্সেটি আসেনি! আসলে তো আমরা ঢুকার সময় ওকে দেখতাম তাই না..ও তো পার্কিং এর দিকই থাকে,

স্নেহা : কিন্তু আমি ওর গাড়ী দেখেছিলাম!

জারিফা : আচ্ছা?..?

স্নেহা : না মানে হঠাৎ চোখ পড়লো!

জারিফা : তার মানে রাহুল এসেছে! [ কিছুক্ষণ চিন্তা করে ] আরে হ্যা…চল আমরা হলরুমে গিয়ে দেখি! I am sure ও ঐখানেই থাকবে, [ বলেই স্নেহার হাত ধরে নিয়ে চলে গেলো ]

শিরি দিয়ে উঠতেই কারো সাথে ধাক্ষা লাগে…এবং জারিফার ব্যাগ কাধ থেকে পড়ে যায়,

জারিফা : [ শকড হয়ে ] আরে বাপরে!?

[ স্নেহা তাড়াতাড়ি জারিফার ব্যাগ তুলে তার কাধে পড়িয়ে দিলো ]

স্নেহা : জারিফা! তুই ঠিকাছিস?..

রিদোয়ান : হেই ইউ! আমি তোমাকেই খুজছিলাম!

জারিফা : [ মুখে হাত দিয়ে ] জারিফা আব তো তু গায়া!

স্নেহা : [ জারিফার মুখ থেকে হাত নামিয়ে দিয়ে ] জারিফা! মুখে হাত দিয়ে বললে কেমনি বুঝবো?..

রিদোয়ান : তোমার ঐদিন পার্টিতে আমার সাথে ডান্স করার কথা ছিলো রাইট?..

জারিফা : [ মাথা নাড়ালো ] হ্যা! আসলে..আসলে…

রিদোয়ান : What’s wrong with you?..কি আসলে আসলে! আমার কি ইন্সাল্ট হয়েছিলো জানো?…

হঠাৎ কানের কাছে গিটারের শব্দ ভেসে এলো,

স্নেহা দৌড়ে হলরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,

রাহুল স্নেহাকে দেখে একটা তেডি স্মাইল দেই! এবং গিটার বাজানো বন্ধ করে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়!

রাহুলের ফ্রেন্ডসরা দরজার দিক ফিরে তাকায় স্নেহাকে দেখে তারাও বুঝতে পারে…রাহুলের দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণ!

শ্রেয়া : [ স্নেহার দিক দৌড়ে গিয়ে…টেনে ভেতরে ঢুকাই ] স্নেহা! Thank god তুমি ঠিকাছো! জানো ঐদিন কতো টেনশন হয়েছিলো তোমার জন্য!

আসিফ : [ এগিয়ে এসে ] Between আমাদের চেয়েও অন্যকেউ একটু বেশিই টেনশন করেছিলো!

স্নেহা রাহুলের দিক একবার চেয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেলে,

শ্রেয়া : Guys! Come on! বুঝতে হবে তো! [ রাহুলের দিক চোখ মেরে ]

রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে অন্যদিক ফিরে যায়,

স্নেহা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,এক এক করে রাহুলের ফ্রেন্ডস সবাই বেড়িয়ে যাচ্ছে,

শ্রেয়া : [ নেহা এখনো বসে আছে দেখে ] Come on! নেহা! তোকে আবার আলাদা করে বলতে হবে নাকি?…চল!

নেহা : [ নাক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে যায় রাহুলের দিক একবার তাকিয়ে হনহনিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে আবার স্নেহার দিক দাঁড়িয়ে গিয়ে ] নাইস্ চশমা [ একটু হেসে বেড়িয়ে যায় ]

স্নেহা চশমা ঠিক করে রাহুলের দিক তাকায়…দেখে রাহুল পকেটে হাত দিয়ে তেডি স্মাইল দিতে দিতেই এগিয়ে আসছে…

রাহুল : [ স্নেহার কাছে এসে ] আমি জানতাম তুমি আসবা!

স্নেহা : জি! আপনার! [ ব্যাগ থেকে জ্যাকেট বের করে ] এই জ্যাকেট টা…

রাহুল : [ স্নেহার অনেকটা কাছে আসলে স্নেহা পিছিয়ে গিয়ে টেবিলের সাথে বাড়ি খেয়ে দাঁড়িয়ে যায় ] স্নেহা! You can’t lie to me! জ্যাকেটের বাহানা দেওয়া বন্ধ করো!

স্নেহা : আ..আপনি প্লিজ সরে দাঁড়ান কেউ এসে দেখলে..উলটা পালটা…

রাহুল : [ হাত দিয়ে স্নেহার মাথা তুলে ] So what?..[ With tedi smile ] Miss করছিলে আমায়?..

স্নেহা : না নাতো…আমি সত্যিই আপনার জ্যাকেট…

রাহুল : কিন্তু জ্যাকেট তো… তোমার বাসায় গিয়েছিলাম তখনো দিতে পারতে…

স্নেহা : হ্যা! আসলে…[ চশমা ঠিক করতে থাকে…]

রাহুল : ওকে রিলেক্স! স্নেহা![ with tedi smile ]

স্নেহা : দেখেন আমি জাষ্ট আপনার জ্যাকেটটাই দিতে এসেছি…[ রাহুল স্নেহার চশমাটা খুলে নিলো, ] আরে, চশমা..কেনো…

রাহুল : আমার না তোমার চোখটা দেখার ইচ্ছে…

স্নেহা তাড়াতাড়ি চোখের উপর হাত দিয়ে দিলো,

রাহুল হেসে স্নেহার চোখ থেকে হাত নামিয়ে নিলো, স্নেহা হাত ছুটিয়ে নিতে চাইলে রাহুল স্নেহার দুনো -হাত দু দিকে ধরে রেখে স্নেহার একদম কাছে এসে দাঁড়ায়…

স্নেহা : আরে, কি করছেনটা কি! ছাড়েন প্লিজ! আমার ফ্রেন্ডস অপেক্ষা করছে..বাহিরে, আমার যেতে হবে…

রাহুল : তো আমি কবে যেতে নিষেধ করেছি [ with tedi smile ]

[ স্নেহা হাতের দিক তাকিয়ে দেখে রাহুল স্নেহার হাত আরো শক্ত করে ধরে আছে…স্নেহা ছুটানোর জন্য টানাটানি করলেও..ছুটিয়ে আনতে পারছে না…রাহুল স্নেহার চোখের দিক তাকিয়ে আছে আর স্নেহার কান্ড দেখে হাসছে ]

রাহুল : এইটুকুতেই হাপিয়ে উঠলে, But No chance… যদি ছুটিয়ে যেতে পারো তাহলে যাও…[ With tedi smile ]

স্নেহা অবাক হয়ে রাহুলের দিক তাকালো,

[ রাহুল চোখ টিপ মারলে স্নেহা চোখ নামিয়ে ফেলে ]

কিছুক্ষণ পর,

স্নেহা : হয়েছে দেখা?..

রাহুল : মন ভরছে না..

স্নেহা : [ অবাক হয়ে ] আরে পাগল নাকি?..দেখেন কেউ এসে দেখলে…[ রাহুল হুট করে স্নেহার কপালে একটু চুমু খেলো ]

স্নেহা শকড হয়ে হয়ে যায় কোণা চোখে রাহুলের দিক তাকালে দেখে রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে তাকিয়ে আছে…স্নেহা লজ্জায় রাহুলের চোখে চোখ রাখতে পারছে না…হাত দুটো ও রাহুল চেপে ধরে আছে..চোখের উপর হাত দিতে পারছে না…আর না পেরে চোখ কুচকে বন্ধ করে ফেলে…

রাহুল হেসে,

এই চান্সে স্নেহার ঠোটে চুমু খেয়ে বসলো,

স্নেহা চোখ বড় করে মূর্তি হয়ে গেলো… ছুটার চেষ্টা করলেও রেহাই নেই…রাহুল স্নেহার হাতের মুঠোই হাত রেখে আরো শক্ত করে চেপে ধরে…

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here