খেলাঘর পর্ব-৩১

0
729

খেলাঘর পর্ব-৩১
লেখা- সুলতানা ইতি

আর খবর করতে হবে না অনেক খবর হয়ে গেছে আমাদের, বারোটার আগে ঘুমাবো না হলো তো
মিথিলা মুচকি হেসে আয়ানের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিলো

সকাল বেলা নির্ঝরিণী এসে বল্লো
আপুউউউউউ
মিথিলা- কিরে কিছু বলবি?

নির্ঝরিণী – শুন না আপুনি

মিথিলা- এতো ডং করছিস কেনো, যা স্কুলের জন্য রেডি হয়ে নে

নির্ঝরিণী – আপু আমার একটা কথা ছিলো
মিথিলা- বল

নির্ঝরিণী – আগে বলো বকবে না আর আমার কথা টা তুমি রাখবে

মিথিলা – আচ্ছা যা বল

নির্ঝরিণী – আপু আজকে না আনিশার বার্থডে, তো আমাদের সবাই কে ইনভাইট করেছে স্কুল শেষে ওর বাড়ি যেতে বলেছে

মিথিলা- হুম বুঝলাম, ফিরবি কখন

নির্ঝরিণী – অনেক রাত হয়ে যাবে আসতে না পারলে ওদের বাড়ি থেকে যাবো

মিথিলা ভাবনায় পড়ে গেলো কি করবে এখন আবার বোন কে অচেনা একটা বাসায় রাতে থাকতে বলতে ও মন শায় দিচ্ছে না
– ঠিক আছে যাস, তবে আমি টিউশনি শেষে তোকে আনতে যাবো,, তোর বান্ধবীর বাসার এড্রেস দে

নির্ঝরিণী – তোমার যেতে হবে না আপি, এক রাত থাকলে কি হবে

মিথিলা ধমক দিয়ে বল্লো
– বেশি বুঝিস না, রাত পর্যন্ত থাকতে দিয়েছি এটা ই কি বেশি নয়
নির্ঝরিণী – ওকে তুমি যা বলবে

,,মিথিলা বেশির ভাগ সময় হেটেই যায় স্কুলে যখন টাইম থাকে না তখন রিক্সায় যায়
আজ টাইম আছে তাই হেটেই যাচ্ছিলো
মিথিলার সামনে ঠিক দু হাত দূরে একটা গাড়ি এসে থেমে যায়

গাড়ি থেকে ইহান কে নামতে দেখে মিথিলা থমকে যায়, মনে হচ্ছে চোখে ভুল দেখেছে আজ এতো গুলো দিন পর ইহানের সাথে দেখা হবে ভাবতে ও পারিনি,
অনেক চেঞ্জ হয়েছে ইহান,

ইহান মিথিলার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায় দেখছে মিথিলা কে দু চোখ ভরে,

ইহান- এখন ও আগের মতো ই বিউটি আছিস ন্যাচারাল বিউটি, চশমার পাওয়ার টা মনে হচ্ছে চেঞ্জ করতে হয়েছে,
হা হা ইহান নিজেই হেসে দিলো আমি তোকে নিয়ে খুব ভাবি মিথিলা

কথা টা শুনে মিথিলা ইহানের দিকে তাকায়

ইহান- না মানে ভাবি আর কি তুই যখন বুড়ি হবি তখন তোর চোখে কতো পাওয়ারের চশমা উঠবে সেটা নিয়ে,আচ্ছা থাক এই সব কথা,কেমন আছিস বল,কোথায় যাচ্ছিলি

মিথিলা- স্কু.লে -স্কুলে যাচ্ছি

ইহান- ওহ, বাচ্ছা কাচ্ছা পড়াস নাকি, ম্যাডাম ম্যাডাম লাগছে তোকে
চুলে বেণী বাধা,চোখে চশমা পরনে শাড়ি আগে কতো করে বলে ও তোকে একদিনের জন্য শাড়ি পরাতে পারিনি

মিথিলা – ভু-ভুলিসনি সে সব কথা

মিথিলার কথা শুনে ইহান অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে
– তুই এখন ও সেই আগের মতো নার্ভাস ফিল করছিস, এই আমি কি বাঘ নাকি রে, ভয়ে তুতলিয়ে কথা বলছিস

মিথিলা- কবে এলি, আর সেদিনের পর থেকে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি

ইহান- খুঁজছিলি নাকি,কেনো খুঁজছিলি?

মিথিলা- ক্ষমা করেছিস তো

ইহান- রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলবি নাকি কোথায় ও গিয়ে বসবি
মিথিলা- আমার স্কুলের দেরি হয়ে যাবে
তুই কিন্তু আমার একটা কথার উওর দিসনি

ইহান- সব প্রশ্নের উত্তর একদিনেই পেতে চাস? তাই আমি বলবো না, আচ্ছা বাই তোর তো লেইট হয়ে যাচ্ছে
এই বলে ইহান মিথিলা কে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গাড়ি স্ট্রাট দিয়ে চলে যায়

মিথিলা স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাবতে পারছে না সে এই মুহুর্ত টা কি স্বপ্ন ছিলো,হঠ্যাৎ করে ইহান কোথা থেকে এলো,অস্ট্রিয়া থেকে কখন এসেছে
ঘড়িতে কাটায় কাটায় দশটা বাজে মোবাইলে এলার্ম দেয়া ই ছিলো,এলার্মের শব্দে মিথিলার ঘোর কাটে একি স্কুলে কখন গিয়ে পৌছবো ইসসস আজ আমার চাকরী টা মনে হয় থাকবে ই না
স্কুলে যেতে যেতে দশটা চল্লিশ ভেজে গেছে যা ভয় পেয়ে ছিলো ঠিক তাই হলো, আজ প্রিন্সিপাল মিথিলা কে সবার সামনে ডেকে নিয়ে অপমান করেছে সাথে স্কুল থেকে সাসপেন্ড করে দিয়েছে,,প্রিন্সিপাল এর একটাই কথা অন্য শিক্ষক দের কাছে মিথিলা উদাহরণ হয়ে থাকবে লেইটে করে আসার ফল এইটা ই,তা ছাড়া মিথিলা কে অনেক ছাড় দিয়েছে আর নয়

মিথিলা আজ চোখে অন্ধকার দেখছে সংসার ভাই বোনের পড়া শুনা চলবে কি দিয়ে, অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে দূর আকাশের পানে পৃথিবীর মানুষ গুলো এতো নিষ্টুর কেনো

আনিশা নির্ঝরিণী কে বল্লো শুন ঝড় তুই কিন্তু একটা গান গাইবি আজ
নির্ঝরিণী – আমি? এমা না না কি বলছিস আমি গান গাইতে পারবো না এতো লোক জনের সামনে আমি কি করে গান গাই বল

আনিশা-সেদিন স্কুলে গেয়েছিস না?
কিন্তু তবু ও নির্ঝরিণী রাজি হয়নি
রাত আটটায় অনুষ্টান শুরু হয় যদি আনিশার বাবা মা রাত বারোটায় কেক কাটতে ছেয়ে ছিলো কিন্তু আনিশা এতে শায় দেয়নি কেনো না ওর বান্ধবীরা এতো রাত অব্দি থাকতে পারবে না

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে আনিশার কাজিন আবির এসে যায়
আনিশা- আবির ভাইয়া তুমি আসতে এতো লেইট কেনো করলে

আবির- আরেহ পাগলি তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে

আনিশা- কি সারপ্রাইজ গো
আবির, কই আয়াপ বিতরে আয়,
আমার বন্ধু আয়াপ খান বর্তমানে নাম করা একজন সিংগার আর মেয়েদের হার্ট থ্রোব

আনিশা- ওয়াও আবির ভাইয়া আয়াপ খান যে তোমার ফ্রেন্ড আগে বলোনি তো

আবির- আগে বল্লো কি এখন তুই অবাক হতি

আনিশা- তা ঠিক, তো আয়াপ ভাইয়া কেমন আছেন,জানেন আমার একজন বান্ধুবী আপনার অন্ধ ভক্ত, এতো ভক্ত যে কি বলবো আপনার সব গান ওর কালেক্টে থাকে,, আর সব গুলো গান হাজার বার শুনে

আয়াপ-ওয়াও তা সে কি আজ পার্টিতে এসেছে

আনিশা- অফকোর্স, ভাইয়া, দাড়ান ডেকে আনছি, ঝড় টা যেন কোথায় গেলো
এই ঝড় এদিকে আয়

নির্ঝরিণী – আসছি রে
আনিশা- কোথায় ছিলি

নির্ঝরিণী – তোর রুমের বারান্দায় ছিলাম আজ মনে হয় বৃষ্টি হবে, বৃষ্টির আগের ঠান্ডা আব হাওয়া টা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম

আনিশা- হুম আজ তোর কপাল ভালো যা দেখবি তাতে ইই তোর মন ছুয়ে যাবে
নির্ঝরিণী – মানে?

আনিশা- চল দেখবি
আয়াপ কে দেখে নির্ঝরিণীরর হার্ট বীট আবার বেড়ে যায়,, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে হার্ট বীট টিক টিক করে চলছে শব্দ টা নির্ঝরিণী শুনতে পাচ্ছে এমন লাগছে, নির্ঝরিণী চোখ বুঝে গেলো

আনিশা- আয়াপ ভাইয়া এই আপনার পাগলী ভক্ত
আয়াপ- আরেহ এতো সেই কোকিলা কন্ঠি হেই তোমাকে না বলেছি আমাকে মেসেজ করতে

নির্ঝরিণী আয়াপের কথা শুনে ছেয়ে আছে তার দিকে,মুখে তার কোন কথা নেই

চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here