হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-৯

0
553

হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-৯
#আরিশা অনু

–আজ ছুটির দিন।রোহানকে আজ সারাদিন দেখতে পাবোনা ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেল।কত পাগলামি ই না করে ও আজকাল।মুখ ফুটে বলবেনা একবার যে এখনো আগের মত ভালোবাসি পাগলি।অথচ চোখের সামনে থেকে এক সেকেন্ড নড়তে ও দেবেনা কোথাও।কি এক নিয়ম বের করেছে ওনার কেবিনে বসে কাজ করা লাগবে।এতে অবশ্য বাকিরা যে খারাপ কিছু ভাবতে বাদ রাখেনি তা আমি সেদিন নিপার কথায় বুঝে গেছি।কিন্ত কে কি ভাবলো তাতে কিছু যায় আসেনা আমার।এতবছর পর যে রোহান কে সামনে থেকে দেখতে পাচ্ছি এটাই বা কম কিসে।ওকে দেখার এতবছরের তৃষ্ণা যে আজ এত কাছ থেকে মিটছে এটাই বা কম কিসে আমার জন্য।আমি তো ওকে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম….!!

এখানে আসার পর থেকে একটা দিন ও রুহিকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাইনি তাই ভাবছি ওকে নিয়ে আজ একটু ঘুরতে বের হব….!!!

রুহি সোনা রেডি হয়ে নাও আজ আমরা ঘুরতে যাবো।অনেক চকলেট,আইসক্রিম কিনে দেব আজ আমার সোনামা টা কে…..!!!

–সত্যি আম্মু আমরা আজ ঘুরতে যাব….!!!

–হ্যাঁ সোনা মা ঘুরতে যাব….!!!

–আচ্ছা আম্মু আমি নানু কে বলে আসি বলে রুহি দৌড়ে বেরিয়ে গেল।পাগলি মেয়ে একটা হয়েছে আমার….!!!

–তারপর আমি ও আম্মুর কাছে গেলাম যেয়ে দেখি পাকা বুড়ি আম্মুকে বলছে…!!!

–নানু নানু রেডি হয়ে নাও আমরা ঘুরতে যাব…!!

–তাইনাকি আজ আমার নানুভাই ঘুরতে যাবে এটা তো খুব ভালো কথা….!!!

–শুধু আমি না তুমি ও যাবা আমাদের সাথে…!!!

–না সোনা আমি যাবনা তুমি আম্মুর সাথে যেয়ে ঘুরে আসো….!!

–কেনো আম্মু তুমি ও চল না আমাদের সাথে সবাই মিলে ঘুরে আসি….!!!

–না রে মা তোরা যা ঘুরে আস…!!!

–তুমি আমাদের সাথে আসলে আরো ভালো হত..!!!

–তারপর রুহিকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম….!!!
.
.
.
.
.
–আজ ছুটির দিন সারাদিন অনন্যা কে দেখতে পাবনা।খুব দেখতে ইচ্ছা করছে ওকে। উফ্ কি করছে মেয়েটা কে যানে।একটা ফোন দি দেখি কি করছে ও।

উফ্ ফোন ধরেনা কেন এই মেয়ে মেজাজ টাই খারাপ করে দেয়।বাসার ঠিকানা টা ও যানিনা যানলে একটু ঘুরে আসা যেত।ধ্যাৎ কিছুই ভালো লাগছে না।বাসায় বসে বসে বোর হচ্ছি যাই বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি…!!!
.
.
.
.
–ঘুরতে ঘুরতে বিকাল হয়ে গেল রুহিকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্ট এ আসলাম। আইসক্রিম,নুডলস্ আর বিরিয়ানি অর্ডার করলাম। আমার বাচ্চাটার প্রিয় খাবার যে এগুলো….!!!

–আরে অনন্যা তুই এখানে….!!!

–হঠাৎ আমার নাম ধরে কেউ ডাকলো পিছন ফিরে দেখি তমাল দাঁড়িয়ে আছে।তমাল আমার ছোট বেলার বন্ধু। এতবছর পর ওর সাথে এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। অবশ্য আজকাল সব কিছু হুট হাট করেই হচ্ছে আমার সাথে।তারপর ওর সাথে কথা বলা শুরু করলাম…..!!!

–আরে তমাল কেমন আছিস। কত বছর পর দেখা হল। আন্টি, আঙ্কেল কেমন আছে রে…?

–ভালো আছি। আম্মু, আব্বু ও ভালো আছে। তুই কেমন আছিস রে।কত খুঁজেছি তোকে কোথাও পাইনি। ওই দিনটার পর সত্যিই খুব অপরাধী মনে হয় নিজেকে রে।আমার ভুলের জন্য বিনা দোষে শাস্তি পেলি তুই….!!!

–আহ্ বাদ দে তো এসব কথা যা হয়ে গেছে তা মনে করে আর লাভ নাই।আর আমি আছি এক রকম।আই তোকে একজনের সাথে পরিচয় করাই।

–আমার মেয়ে রুহি।আর রুহি মা এটা তোমার তমার আঙ্কেল। আঙ্কেল কে সালাম দাও মা…!!

–আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল….???

–ওয়ালাইকুম আসসালাম।রুহিকে কোলে নিয়ে বললাম বাহ্ আমার মামুনি টা তো অনেক বড় হয়ে গেছে…..!!!

–তারপর তিনজন মিলে টুকটাক কথা বলে আড্ডা শুরু করে দিলাম…..!!!
.
.
.
.
–অনেকখন ঘোরা ফেরার পর একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম কফি খেতে।চেয়ার টেনে বসতেই সামনের টেবিলের দিকে চোখ আটকে গেল আমার। অনন্যা আর তমাল সাথে একটা বাচ্চা মেয়ে। আর মেয়েটা অনন্যাকে আম্মু ও বলছে।তারমানে সেদিন অফিসে যে মেয়ের কথা তুলেছিল সেটা সত্যি।আর অনন্যা সেদিন আবার আমায় মিথ্যা বলে ঠকিয়েছে।এটা তাহলে অনন্যা আর তমালের মেয়ে।কিন্ত মেয়েটা দেখতে পুরো আমার মত কেন লাগছে।ওর চোখ,নাক,মুখ বার বার বলে দিচ্ছে ও আমারি অংশ।বাট আমার মেয়ে হলে অনন্যা লুকালো কেনো সেদিন আমার কাছে।

–নাহ্ কিচ্ছু ডুকছে না মাথায়।মাথার ভিতরটা বন বন করছে এখন।অনন্যা আবার আমার সাথে প্রতারনা করলো।নাহ্ কিছুতেই ক্ষমা করবো না ওকে আর।আজকের পর তোমার জীবনটা নরক করে তুলবো আমি অনন্যা….!!!

–মাথাটা আগুন হয়ে গেছে আমার।ড্রাইভ করছি আর চোখটা ঝাঁপসা হয়ে উঠছে বার বার।এতটা নিকৃষ্ট কেনো তুমি।আইনত এখনো আমার স্ত্রী তুমি অনন্যা আর এটা জানার সত্যেও আবার তমাল কে বিয়ে করলে আর বাচ্চা ও উফ্ আর কিছু ভাবতে পারছিনা আমি….!!!

–কেউ যেন গলাটা খুব জোরে চেপে ধরেছে আমার শ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে এখন।

–বাসায় এসে ওর রেখে যাওয়া সব জিনিস পুড়িয়ে ফেললাম।ওর আর আমার বিয়ের সব ছবি এতদিন স্মৃতি হিসেবে আমার কাছে ছিল যখন ওকে খুব মিছ করতাস তখন দেখতাম এগুল কিন্ত আজ ও যেটা করলো তারপর আর এগুলো বাঁচিয়ে রাখার কোনো মানে হয়না।

–আবার রুমের সবকিছু ভেঙে তছনছ করলাম।এ্যালবাম টা পোড়াতে যেয়েও পারলাম না বুকে জড়িয়ে ফ্লোরে ধপ করে বসে পড়লাম।চিৎকার করে কাঁদতে মন চাইছে এখন আমার।মা-বাবাকে খুব ছোট থাকতে হারিয়েছি আমি।ফুপুর কাছে বড় হয়েছি।যখন ভার্সিটি তে ভর্তি হলাম তখন কাউকে ভালো করে চিনতাম না।আমি আবার অতটা মিশুক ছিলাম না তাই আমার বন্ধুর সংখ্যা কম ছিল সবসময়….!!!
.
.
.
.
.
Continue….
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here