চুক্তির বউ ৫ম পর্ব

0
489

চুক্তির বউ ৫ম পর্ব

লেখা:তামান্না
শ্রাবণ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে না পারায় মেঘের উপরে গিয়ে পড়ে।এদিকে মেঘ ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে।মেঘের দিকে অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে শ্রাবণ।আজ যেন মেঘকে নতুন রূপে দেখছে।শ্রাবণ মেঘের অনেকটা কাছে চলে যায়।মেঘের নিঃশ্বাসের প্রতিটা শব্দ শ্রাবণের বুকে এসে লাগছে।এক অদ্ভুত ভালোলাগা শ্রাবণ কে ছুঁয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ করেই শ্রাবণের চুক্তির কথা মনে পড়ে।উঠতে গেলে আবার বিছানায় পড়ে যায়।
শ্রাবণ ভাবে মেঘ ঘুমিয়ে পড়লো তাহলে টান লাগলো কোথায়?তখনই ওর চোখ পড়ে নিজের হাতে থাকা ঘড়ির দিকে।শ্রাবণের হাতের ঘড়ি মেঘের শাড়ির আঁচলের সাথে আটকে আছে।এরজন্যই শ্রাবণ যখন উঠতে যাচ্ছিলো শাড়ির টান লেগে পড়ে যায়।ঘড়ি থেকে আচলটা সরিয়ে মেঘের থেকে দূরে সরে যায়।মনে মনে বলে….
তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি মেঘ কি করবো বলো আমি যে নিরুপায়।যদি এই চুক্তিটা আমাদের মাঝে না আসতো তাহলে এইভাবে তোমাকে কষ্ট পেতে দিতাম না।জানিনা কোনোদিন সত্যি টা তোমাকে বলতে পারবো কি না।শুধু এইটুকু বলতে পারি এই চুক্তির মাধ্যমেই তোমাকে এক বছরের জন্য হলেও নিজের বউ হিসেবে পেয়েছি এটাই অনেক।এই চুক্তিটা না থাকলে আজ তুমি আমার কাছে থাকতে না।এক বছর মেঘ মাত্র এক বছর।কিন্তু এখন এই বছর আমার কাছে অনেক কিছু।
কথাগুলো বলার সময় শ্রাবণের চোখ দুটো লাল বর্ণ ধারণ করে।চোখের জল আড়াল করতে রুম থেকে বেড়িয়ে রুমের পাশে বেলকুনিতে চলে যায়।
এভাবেই কয়েকটা দিন কেটে যায়।শ্রাবণ মেঘকে অনেক টা সময় দেওয়ার চেষ্টা করে যদিও অফিসের কাজ সামলে খুব একটা সময় পায় না তবুও চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখে না।
সকাল বেলা শ্রাবণ নাস্তা করে অফিসে চলে যায়।মেঘ আর ওর শ্বাশুড়ি সোফায় বসে গল্প করছিলেন।এমন সময় মেঘের ফোনে একটা কল আসে।মেঘ ওর শ্বাশুড়ি মাকে বলে যে বাইরে একটা কাজ আছে যেতে হবে।মেঘের শ্বাশুড়ি খুব ভালো একজন মানুষ ওনি বাধা দেন নি মেঘকে।মেঘ ফুলিকে মায়ের খেয়াল রাখতে বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়।
একটুপর একটা টেক্সিতে করে একটা রেস্টুরেন্টে যায়।মেঘ যখন রেস্টুরেন্ট পৌঁছায় তখন দেখে পিয়ালি ওর জন্য অপেক্ষা করছে।তারপর কফি অর্ডার করে মেঘ চেয়ারে বসে।
মেঘঃহ্যা পিয়ালি বল কি জন্য ডেকেছিস?
পিয়ালিঃমেঘ তুই কেমন আছিস?
মেঘঃভালো।(একটা চাপা হাসি দিয়ে)
পিয়ালিঃস্যারের সাথে বিয়ের পর তো তোর সাথে আমার আর যোগাযোগ হয়নি।আন্টি মারা গেলেন তাকেও গিয়ে দেখতে পারলাম না।সরি রে।
মেঘঃদুর তুই সরি কেনো বলছিস?সব আমার কপাল রে।
পিয়ালিঃসত্যি কি তুই ভালো আছিস?
মেঘঃভালো না থাকার কি আছে?এতো বড়লোক একজন মানুষ এর সাথে আমার বিয়ে হলো ভালো না থেকে উপায় আছে।
পিয়ালিঃতোর কথাবার্তা এমন লাগছে কেনো মনে হচ্ছে কিছু একটা আড়াল করছিস?
মেঘঃছাড় তো এসব কথা বল কেনো ডেকেছিস?
পিয়ালিঃতুই কি কিছু জানিস না?
মেঘঃকোন ব্যাপারে?
পিয়ালিঃস্যার মানে তোর স্বামী।
মেঘঃকেনো কি হয়েছে?
পিয়ালিঃঅফিসে তোর পদে একজন কে জব দেওয়া হয়েছে।
মেঘঃজানি সে একজন মেয়ে।
পিয়ালিঃজানিস তাহলে চুপ করে আছিস কেনো?
মেঘঃমানে…….
পিয়ালিঃস্যার তিনমাসের জন্য রিদিকে নিয়ে আমেরিকা যাচ্ছেন।
মেঘঃতো।
পিয়ালিঃমেঘ কি হয়েছে তোর।ওনি তোর স্বামী আর তুই ওনাকে আটকাবি না।কি দরকার এসব ডিল করার আর তিনমাসের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার।আর ওই মেয়েটাকেই কেনো নিয়ে যাবেন।অফিসে তো অন্য স্টাফেরা আছে।
মেঘঃঅফিসের কাজে যাবে এতে তুই এতো ভাবছিস কেনো?
পিয়ালিঃমেঘ তুই তো এতো বোকা না।ওই মেয়েটা সারাক্ষণ স্যারের মাথায় চড়ে থাকে।স্যার যেখানে যাবেন ওই রিদি মেয়েটাও সেখানে যাবে।
মেঘঃপিয়ালি এতে এতো ভাবার কি আছে।অফিসের কাজেই তো যাচ্ছে।
পিয়ালিঃমেঘ বাচ্চাদের মতো বিহেভ করিস না।কেনো বুঝেও না বুঝার ভান করছিস?তোর স্বামী তোকে না বলে অফিসের কাজে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে আমেরিকা যাবে আর তুই একা একা থাকবি।
মেঘঃপিয়ালি প্লিজ এসব কথা নাইবা বললি ভালো লাগছে না আমার এইগুলো শুনতে অন্য কিছু বল।
পিয়ালিঃওহহ সরি।একটা কথা মেঘ তুই কি শাণের জন্য স্যারকে দূরে সরিয়ে রাখছিস?
মেঘঃপিয়ালি শাণ কে এর মাঝে টেনে আনছিস কেনো?
পিয়ালিঃমেঘ তুই যদি ভেবে থাকিস শাণের জন্য স্যারকে অবহেলা করবি তাহলে জেনে রাখ তুই কিন্তু তোর জীবনের সব চাইতে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছিস।
মেঘঃভুল….একটা দীর্ঘ শ্বাস নেয় মেঘ।ভুল তো সেদিন করেছি যেদিন শ্রাবণ মাহমুদের বউ হয়ে ওই বাড়িতে পা রেখেছি।
পিয়ালিঃমেঘ……..একটা ধমক দিয়ে।
মেঘঃতুই স্যারের জন্য আমাকে ধমকালি।
পিয়ালিঃসরি রে।মেঘ তুই ভালো করেই জানিস শাণ একটা প্রতারক।আর তুই শাণের জন্য স্যারকে দূরে কেনোই বা রাখবি বল।
মেঘঃশাণ প্রতারক না পিয়ালি।
পিয়ালিঃমিথ্যে ভালোবাসার মায়াজালে আটকা পড়েছিস তুই তাই বুঝতে পারছিস না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।তবে হ্যা যখন বুঝতে পারবি তখন যেন খুব বেশি দেরী না হয় মেঘ।
মেঘঃশাণকে নিয়ে আর একটা কথাও আমি তোর মুখ থেকে শুনতে চাই না।আর হ্যা ওনি আমার স্বামী।আমি ওনাকে নিয়ে কি ভাববো না ভাববো সেটা আমি জানি।আর আমি এটাও জানি আমাকে ঠিক কি করতে হবে।মাত্র তো তিনমাস তারপরেই সব শেষ।
পিয়ালিঃমানে কি উল্টা পাল্টা বলছিস?
মেঘঃজাস্ট ওয়েট এন্ড সি।
এইবলে মেঘ উঠে দাঁড়ায়।পা বাড়ায় চলে যাওয়ার জন্য।পিয়ালি পিছন থেকে শুধু একটা কথাই বলে।
পিয়ালিঃঅতীতে যে ভুলটা করেছিলি সেই ভুল আর করিস না মেঘ।সব হারাবি তুই।
মেঘ পিয়ালির কথাটা শুনে অবাক হয়ে পিছনে তাকায়।তারপর বলে….
মেঘঃহারানোর মতো নেই কিছু যা ছিলো অনেক আগেই হারিয়েছি নতুন করে কিছু হারাবে না আমার।আর অতীতে ভুল আমি করিনি।
এইবলে মেঘ সামনের দিকে হাটা শুরু করে।তারপর বাসায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।
বাসায় এসে বার বার পিয়ালির কথাগুলো মনে পড়তে থাকে।ভুলে যেতে চাইলেও কানে বাজে একটা কথা অতীতের ভুলটা করিস না মেঘ।
মেঘ রুমে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
আমি তো কোন ভুল করিনি তাহলে কেনো আমাকে এতো কষ্ট পেতে হচ্ছে।কেনো আমার সাথেই এমন হচ্ছে।সব ভুলেই তো ভালো ছিলাম আমি কেনো স্যার চুক্তিটা মাঝখানে নিয়ে এলো।কেনো এই চুক্তি দিয়েই আবার আমার মনে শাণের দেওয়া আঘাত গুলো ফিরিয়ে দিলো।কেনো কেনো কেনো?
মেঘের কান্না যেন থামছেই না।
রাতে শ্রাবণ বাসায় ফিরে ব্যাগ প্যাকিং করা শুরু করে।মেঘ খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে আসে।এসে দেখে শ্রাবণ ব্যাগ গুছাচ্ছে।
মেঘঃআমি হেল্প করবো।
শ্রাবণঃনা আমি নিজেই করে নিবো।
মেঘঃআচ্ছা।মা অপেক্ষা করছে খাবার টেবিলে।
শ্রাবণঃতুমি যাও আমি আসছি।
মেঘ যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই শ্রাবণ আবার মেঘকে ডাকে…….
শ্রাবণঃমেঘ শোণ।
মেঘ থেমে যায়……
মেঘঃজ্বি বলেন।
শ্রাবণঃকোথায় যাচ্ছি ব্যাগ কেনো গুছাচ্ছি জিজ্ঞেস করলে না?
মেঘ অনেকটা অবাক হয় শ্রাবণের এমন কথায় তারপর বলে……..
মেঘঃকারো পারসোনাল ব্যাপারে জানার তেমন ইচ্ছা বা আগ্রহ কিছুই আমার নেই।
শ্রাবণঃকিন্তু তুমি তো আমার…….
মেঘঃহুম আমি….(একটু থেমে)আমি আপনার #চুক্তুর_বউ ।তাই আমার মনে হয় না কোনো কিছু জানার অধিকার আমি রাখি।একবছর তো চলেই যাচ্ছে হাতে মাত্র তিনমাস পনেরো দিন তারপর আপনার এই এগ্রিমেন্ট থেকে আমি মুক্ত।
মেঘ চলে গেলো……..
শ্রাবণ এর মাথায় ছিলোই না মাত্র তিনমাস পনেরো দিন সময়।তার মাঝে তিনমাস শ্রাবণ আমেরিকাতে থাকবে ইচ্ছে করছে ডিলটা এক্ষুণি ক্যান্সেল করে দেই কিন্তু সেই চান্স ই নেই।আগেই সব ফাইনাল হয়ে গেছে।
এসব ভাবছিলো এমন সময় রিদির কল……
শ্রাবণঃহ্যা রিদি বলো।(কাঁপা কাঁপা গলায়)
রিদিঃস্যার আপনি ঠিক আছেন তো।
শ্রাবণঃহ্যা আমি ঠিক আছি।কি জন্য কল দিলে সেটা বলো?
রিদিঃস্যার আমরা কাল সকালেই এয়ারপোর্ট এ যাচ্ছি।আপনি আমাকে কষ্ট করে পিক করতে পারবেন।
শ্রাবণঃতুমি নিজেই এয়ারপোর্ট চলে এসো আমি অপেক্ষা করবো।
রিদিঃএকই জায়গায় যখন যাচ্ছি তখন একসাথে গেলেই বা কি দোষ?
শ্রাবণঃওকে ফাইন একসাথে যাবো।
শ্রাবণ রাগে রাগে গজগজ করতে লাগলো।কি জন্য যে ওকে জব দিতে গেলো এখন সেটা হারে হারে টের পাচ্ছে এই মেয়ে সারাক্ষণ মাথার কাছে ছারপোকার মত ঘুরে বেড়ায়।খেয়ে দেয়ে আর কোনো কাজ নেই নাকি।হাত থেকে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে।তারপর নিচে যায় খাবার খেতে।
শ্রাবণঃমামনি কালকে সকালের ফ্লাইটে আমেরিকা যেতে হচ্ছে।তিনমাসের জন্য একটা ডিল ফাইনাল করতে যাচ্ছি।তুমি একটু সাবধানে থেকো।
শ্রাবণের মাঃতিনমাস অনেকটা লম্বা সময় হয়ে গেলো না।
শ্রাবণঃকিছু করার নেই মামনি সাইন করে ফেলেছি যেতেই হবে।
শ্রাবণের মাঃএক কাজ কর বউ মাকে সাথে নিয়ে যা।বিয়ের পর তো ওকে নিয়ে কোথাও যাওয়া হয় নি।সারাদিন বাসায় একা একা থাকে।
মেঘঃনা মা আমি এখানেই ভালো আছি।আমার জন্য কারো কাজে ডিস্টার্ব হোক এটা আমি চাই না।আর আমি চলে গেলে আপনার দেখা শুনা করবে।
শ্রাবণের মাঃসেকি রে মা।তাই বলে তুই যাবি না।
মেঘঃনা মা আমি যাবো না।
শ্রাবণঃকারো যাওয়া লাগবে না আমার সাথে।রিদি আছে আমি সব সামলে নেবো।
খুব জুড়ে কথাটা বলে শ্রাবণ খাবার না খেয়েই উঠে গেলো।শ্রাবণের মা পিছন থেকে ডাকলেও শুনে না।
মেঘ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে।আজ শ্রাবণ চলে যাবে।শ্রাবণ এর জন্য নাস্তা বানাতে গেলো।
সকাল আটটার দিকে শ্রাবণ মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বের হবে।তখন পিছন ঘুরে একবার তাকায়।মেঘ বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে আছে।শ্রাবণ মেঘকে ডাক দিবে ভেবে আবারো থেমে যায়।
কিছু না বলেই বেড়িয়ে যায়।শ্রাবণ ভাবছে হয়তো মেঘের মনে নিজের জন্য বিন্দুমাত্র অনুভুতির জন্ম হয়নি।তাই মেঘ ওর থেকে দূরে দূরে থাকছে।
অন্যদিকে মেঘ ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে।শ্রাবণ যখন গাড়িতে উঠছিলো তখন আবার উপরে তাকায়।শ্রাবণ কে নিচে দেখে মেঘের ঘুর কাটে।একই ওনি তো চলে যাচ্ছেন।আমাকে একবারও ডাকলেন না কেনো?একটুপর শ্রাবণ গাড়িতে উঠে তারপর এয়ারপোর্ট এর দিকে এগিয়ে যায়।
মেঘের মন ঘরে ঠিকছে না।বার বার মাথায় পিয়ালির কথাগুলোই বাজছে।পিয়ালির কথার মাঝে কেমন যেন রহস্যের চাপ ছিলো মেঘ সেটা বুঝতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু কি লুকাচ্ছে পিয়ালি সেটাই মেঘ জানে না।
শ্রাবণ আমেরিকাতে পৌঁছার পর মাকে কল করে জানিয়ে দিলো।মেঘ মনে মনে একটু কষ্ট পেলেও পরক্ষণে মনে পড়ে মেঘ শ্রাবণের #চুক্তির_বউ।
কেনোই বা আমার কাছে কল করবে আমি তো ওনার কিছুই না।এসব ভাবতে ভাবতেই মেঘের মন খারাপ হয়ে যায়।কখনো শ্রাবণ কে নিয়ে ভাবতে গেলেই মনে পড়ে আর মাত্র কয়েকমাস তারপরেই সব শেষ।কি দরকার এসব?কেনোই বা মায়ার বাধা পড়বে।কিছুদিন পর তো আলাদা হয়েই যাবে।তাহলে আর এতো ভাববে কেনো?
এদিকে শ্রাবণ চলে যাওয়ার সপ্তাহ খানেক পর মেঘ আর ওর শ্বাশুড়ি মিলে বেশ ভালোই আড্ডা দিচ্ছেন।কলিংবেল
এর আওয়াজ কানে আসতেই মেঘ দরজার দিকে আগায়।ভাবতে থাকে এসময় কে আসতে পারে।কারো আসার কথা ণা।তাহলে কে এলো এই সন্ধ্যেবেলা।
মেঘ দরজা খুলে দরজার সামনে তাকিয়ে পিয়ালিকে দেখে একটা হাসি দিলো।তারপর ওকে ভেতরে নিয়ে বসালো।
মেঘঃআজ হঠাৎ কি মনে করে?
পিয়ালিঃকেনো আমি আসতে পারি না?
মেঘঃএই খালি প্যাচ টেনে কথা বলিস কেনো?
পিয়ালিঃদেখেন না আন্টি আপনার বউমা কতো শয়তান।বিয়ের পর নিজের বেষ্ট ফ্রেন্ড কে তো ভুলেই গেছে একবার খুঁজ নিয়েও দেখে না বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি।
শ্রাবণের মাঃহ্যা তাইতো।বউমা তুমি ওর খুঁজ নেওনি এটা কি সত্যি?
মেঘঃমা ওর কথা বিশ্বাস করবেন না তো গতসপ্তাহে আমরা দেখা করলাম।শাঁকচুন্ন
ি টা সেটা চেপে যাচ্ছে।
পিয়ালিঃবেশি বেশি বকবক করিস না যা আমার জন্য চা নিয়ে আয়।চা খেতে খেতে এই সন্ধ্যেবেলা একটা আড্ডা হয়ে যাবে।
শ্রাবণের মাঃহ্যা বউমা যাও তুমি চা নিয়ে আসো আমি ওর সাথে গল্প করি।
মেঘ চলে যাওয়ার পর পিয়ালি আর মেঘের শ্বাশড়ি মিলে গল্প করছেন।
পিয়ালিঃআপনার শরীর এখন কেমন আছে আন্টি?
শ্রাবণের মাঃএইতো আছি রে মা ভালো।তোর কি খবর?
পিয়ালিঃভালো আছি।আন্টি স্যার কেমন আছেন?
শ্রাবণের মাঃকাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত কল করার সময় পায়না।মাঝে মাঝে কল করে খুঁজ নেয়।
পিয়ালিঃআন্টি মেঘ কি এখনো কিছু জানতে পারেনি?
শ্রাবণের মাঃমেঘ এখনো ওর সাথে স্বাভাবিক হতে পারেনি পিয়ালি।ওরা দুজন যে আলাদা থাকে সেটা আমি জানি।আমি মেঘকে বলেছি শ্রাবণের থেকে সব জেনে নিতে কিন্তু মেয়েটা কেনো যেন এক পা আগালে দুপা পিছিয়ে পড়ে।
পিয়ালিঃআপনি নিজেই তো বলে দিতে পারেন।
শ্রাবণের মাঃআমি চাই মেঘ নিজে থেকে বুঝে নিক।শ্রাবণ ওর স্বামী শ্রাবণের ব্যাপারে কথা বলার অধিকার ওর আছে কিন্তু কেনোও মেয়েটা স্বাভাবিক হচ্ছে না সেটাই মাথায় যাচ্ছে না।
পিয়ালিঃসেদিন আমি অনেক বুঝিয়েছি কাজ হয় নি।ও চাইলেই স্যারকে আমেরিকা যাওয়া থেকে আটকাতে পারতো।
এরইমাঝে মেঘ চা নিয়ে হাজির…………
মেঘঃআমাকে রেখে কি কথা হচ্ছে শুনি?
পিয়ালিঃআর কথা হলো কই।চাইলাম আন্টির সাথে একটু সুখ দুঃখের কথা ভাগাভাগি করবো তা না দিলি এসে জল ঢেলে।
মেঘঃগরম চা ঢেলে দিবো বলে দিলাম।তুই মায়ের সাথে গল্প করবি তাতে আমি আবার জল ঢাললাম কই।আমি তোকে বারণ করছি নাকি যে মায়ের সাথে আড্ডা দিস না।এক নাম্বারে শয়তান মেয়ে।
শ্রাবণের মাঃথামবি তোরা।কই একটু বান্ধবী কে নিয়ে গল্প করবি তা না ঝগড়া করে যাচ্ছে।
মেঘ একটু হেসে পিয়ালির কাছে বসে।তিনজনে মিলে আড্ডা দিয়ে অনেকটা সময় কাটায়।তারপর রাতের খাবার খেয়ে পিয়ালি চলে যায়।মেঘ অনেক জুড় করে কিন্তু পিয়ালি কাজের অজুহাত দেখিয়ে পালিয়ে গেলো।
চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here