চুক্তির বউ ১০ম (শেষ পর্ব)

0
642

চুক্তির বউ ১০ম (শেষ পর্ব)

লেখা:তামান্না
তোমাকে ভালোবেসেছি দূরে থাকার জন্য নয় মেঘ।এটা ঠিক যে তোমাকে একরকম জুড় করে বিয়ে করেছি।আমি তখন অসহায় ছিলাম তোমাকে বাঁচানোর কোনো উপায় ছিলো না আমার কাছে।তবু ও তোমার মত নেওয়া টা আমার উচিত ছিলো।আর এখন যখন মতামতের কথা উঠলো তো ঠিক আছে তুমি যেতে চাইলে যেতে পারো আমি তোমাকে আটকাবো না।তোমার ইচ্ছার দাম আমি দিবো।তুমি চাইলে ডিভোর্স পেপারে সাইন ও করে দিবো সব করবো কিন্তু প্লিজ তোমাকে ভুলে যেতে বলোনা।এই কাজটা আমি করতে পারবো না মেঘ কোনোদিন ও না।
শ্রাবণ কথাগুলো বলে ছাদ থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।যেই শ্রাবণ চলে যাবে অমনি মেঘ শ্রাবণের এক হাত ধরে ওকে আটকায়।
শ্রাবণ মেঘের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।শ্রাবণ অবাক মেঘ তো কাঁদছে।
শ্রাবণঃকি ব্যাপার এখন কাঁদছো কেনো?বললাম তো তোমার ইচ্ছের দাম আমি দেবো।আমি ডিভোর্স পেপার টাতে সাইন করে ওটা নিয়ে আসছি তুমি সাইন……
মেঘঃআর একবার ডিভোর্স এর কথা উঠলে মাথা ফাটিয়ে দিবো।
শ্রাবণঃএখন তো তোমার ইচ্ছে…
শ্রাবণ কে থামিয়ে মেঘ নিজেই বলা শুরু করে।
মেঘঃআমি কি একবার ও বলেছিলাম আমার ডিভোর্স চাই।আমি কি একবার ও বলেছিলাম আমি আপনার থেকে দূরে থাকতে চাই।আমি কি একবার ও বলেছিলাম আপনাকে ঘৃণা করি।
সবসময় নিজের যা ভালো মনে হলো তাই করলেন।আবার এখন ও বলছেন ডিভোর্স দিবেন।ডিভোর্স কি ওতো সহজ নাকি যে আপনি চাইবেন আর আমি দিয়ে দিবো।
শ্রাবণঃমানে…..
মেঘঃখুব সোজা আমি ওই পেপারটা পুড়িয়ে ফেলেছি।
শ্রাবণঃকি! কখন করলে এটা?
মেঘঃকেনো?খুশি হননি।
শ্রাবণঃওটা পুড়িয়ে দিলে কেনো?
মেঘঃপুড়ালাম কেনো আবার আমার ইচ্ছা হয়েছে।
শ্রাবণঃতোমার ইচ্ছে হলেই তুমি ওটা পুড়াবে কেনো আমাকে জানাবে না।
মেঘঃবেশ করেছি।
শ্রাবণঃআমি আবার আনবো
মেঘঃআমি আবার পুড়িয়ে ফেলবো।
শ্রাবণঃতাও আমি আরো আনবো।
মেঘঃআমি তবুও ওটা পুড়াবো।
শ্রাবণঃকেনো পুড়াবে?
মেঘঃভালোবাসি তাই।(কান্নামাখা কন্ঠে)
শ্রাবণঃমেঘ……
মেঘ নিজে থেকেই শ্রাবণ কে জড়িয়ে ধরে।
শ্রাবণ ও নিজের দুহাত দিয়ে মেঘকে বুকে জড়িয়ে নেয়।
মেঘ বলা শুরু করে….
জানেন শাণ যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলো খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।জানতাম না শাণ এতোটা খারাপ মনের মানুষ।যেদিন পিয়ালি বললো শাণ প্রতারক বিশ্বাস হয়নি।কিন্তু যেদিন জানলাম শাণের বাবা আপনাকে মেরে ফেলার জন্য বার বার চেষ্টা করেও পারছে না মারতে তখন অজান্তেই মনের ভিতরে ঝড় বইতে শুরু করে।
মাকে হারিয়েছি এখন যদি আপনাকে ও হারাই আমি কিভাবে বাঁচবো বলতে পারেন।
মাকে জিজ্ঞেস করে অনেক কষ্ট করে ম্যানেজার আংকেলের ঠিকানা জুগাড় করি তারপর জানি যে ম্যানেজার আংকেলের ছেলে শাণ আর বাবার সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিশোধ নিতে আপনাকে মেরে ফেলতে চায়।তখন ইচ্ছে করছিলো নিজের হাতে শাণ কে মেরে ফেলি।
যে শাণ আপনাকে মেরে ফেলতে চায় আপনি কি না সেই শাণের সাথেই হাত মিলিয়ে আমাকে #চুক্তির_বউ করে আনলেন।জানেন শাণকে ভুলতে শুরু করেছিলাম কিন্তু আপনার দেওয়া চুক্তিটা দেখে আবারো মনের ভিতর কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠে।
অফিসে একটা মেয়ে জব করে।চুপিচুপি তাকে দেখে ভালোবেসে ফেলেন আবার মিথ্যা চুক্তি দিয়ে বিয়েও করেন একবার ও বলতে পারলেন না তাকে ভালোবাসেন।বলতে পারলেন না মেঘ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কেনো বলেননি সত্যি টা আমাকে?
আমি কি পারতাম সত্যিটা জেনেও আপনার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে।পারতাম এই বন্ধন ভেঙে দিতে।
শ্রাবণঃমেঘ সরি।আর জীবনেও এমন কথা মুখে আনবো না।কোনোদিন ও তোমাকে দূরে যেতে দিবো না।
মেঘঃএই চুক্তিটা যদি সত্যি হতো যদি এমন হতো আপনার থেকে আলাদা হতে হতো তাহলে হয়তো আমি মরে….
শ্রাবণ মেঘের ঠোটে আঙুল দিয়ে আটকায়…
শ্রাবণঃহুসসসসস।চুক্তিটা সত্যি হোক কি মিথ্যে এই চুক্তির মাধ্যমেই আমি তোমাকে আমার বউ করে পেয়েছি মেঘ।প্রতি মুহুর্তে মনে হতো এই এক বছরে কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে নাকি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।যদি আমাকে নিয়ে তোমার মনে ভালোবাসার জন্ম না তো হতো তাহলে জানিনা আমি কি করতাম হয়তো নিজেকে শেষ করতেও দুবার ভাবতাম না।
মেঘ দুহাত দিয়ে শ্রাবণের গলা জড়িয়ে ধরে।পা থেকে জুতো খুলে শ্রাবণের পায়ের উপর পা তুলে একদম কাছে চলে যায়।মেঘের নিঃশ্বাসের প্রতিটা ছোঁয়া শ্রাবণের মুখে গিয়ে লাগছে।শ্রাবণ যেন একটা ঘুরের মাঝে চলে যাচ্ছে।মেঘের কোমর দুহাত দিয়ে জড়িয়ে হ্যাচকা টানে মেঘকে আরো কাছে নিয়ে আসে।
সবসময় ভালোবাসি কথাটা বলার প্রয়োজন হয়না।ভালোবাসার মানুষ এর প্রতিটা ছোঁয়া বারবার ভালোবাসি বলে যায়।
মেঘ দুচোখ ভরে আজ শ্রাবণ কে দেখছে।গভীর দৃষ্টি দিয়ে শ্রাবণের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।মেঘ শ্রাবণের চোখে নিজের জন্য ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে।খুঁজে পেয়েছে তার আসল ঠিকানা।এই ঠিকানা ছেড়ে চলে যাওয়ার শক্তি মেঘের নেই।মেঘ চায় না আজ এই মায়া কাটাতে।চায় আজ হারিয়ে যেতে শ্রাবণের মাঝে।
শ্রাবণ একটু একটু করে মেঘকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিচ্ছে।মেঘ বুঝতে পারে শ্রাবণ তার ঠোঁটের একদম কাছে চলে এসেছে।মেঘের ঠোট দুটো কাঁপতে শুরু করে।শ্রাবণ মেঘের ঠোঁটে চুমু দিতেই মেঘ চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়।
একহাত দিয়ে শ্রাবণের চুলে হাত রাখে অন্যহাত দিয়ে পিটে খামছে ধরে।শ্রাবণ মেঘের ঠোঁটে আজ নিজেকে ডুবিয়ে নিচ্ছে।মিনিট দুয়েক পর শ্রাবণ মেঘকে ছেড়ে দেয়।মেঘ নিচের দিকে চোখ নামিয়ে জুড়ে জুড়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।শ্রাবণ মেঘের দুগালে হাত রেখে মুখ উঁচু করে কপালে চুমু দিয়ে মেঘকে কোলে তুলে নেয়।
মেঘঃআরে আরে করছেন টা কি?
শ্রাবণঃকেনো দেখতে পাচ্ছো না।আমার বউকে আমি কোলে তুলে নিলাম।
মেঘঃছি লজ্জা করে না আপনার।দুহাত দিয়ে শ্রাবণের গলা জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ লুকায়।
শ্রাবণ মেঘকে কোলে করেই ছাদ থেকে নিচে নেমে আসে।মেঘ লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারছেনা।এরপর সব ইতিহাস।আর কিচ্ছু বলা যাবে না।
…………………
…………………
সকালে মেঘের ঘুম ভাঙতেই দেখে শ্রাবণ ওর দিকে তাকিয়ে আছে।আর মেঘ শ্রাবণের কলার চেপে ধরে আছে।শ্রাবণের তাকিয়ে থাকা দেখে মেঘ শ্রাবণ কে ছেড়ে বিছানা থেকে নামতে যাবে তখনই শ্রাবণ মেঘের হাত ধরে আটকে নেয়।
মেঘ নিজের হাত মুড়ানো শুরু করে কিন্তু ছাড়াতে পারছে না।
শ্রাবণঃগুড মর্নিং বলে তো যাও।
মেঘঃপ্লিজ হাত ছাড়ুন।সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে।নাস্তা রেডি করতে হবে।
শ্রাবণঃনা ছাড়বো না।
শ্রাবণ নিজেই উঠে দাঁড়ায় পিছন থেকে মেঘকে জড়িয়ে ধরে মেঘের চুলে মুখ গুঁজে দেয়।
মেঘ বাধ্য হয়ে শ্রাবণের দিকে ঘুরে শ্রাবণের কপালে চুমু দেয়।শ্রাবণ আপনা থেকেই মেঘকে ছেড়ে দেয়।মেঘ এক দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ঢুকে।
শ্রাবণঃসময় আমারো আসবে তখন দেখবো কোথায় পালাও।
এরপর সবাই একসাথে নাস্তা করে।
শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে পিয়ালি আর মেঘ দুজনেই হেসে যাচ্ছে।
শ্রাবণঃওই ভাবে হাসছো কেনো তোমরা?
মেঘঃকিছু না এমনি।
মেঘ উঠে শ্রাবণের কাছে যায়।তারপর শাড়ির আচল দিয়ে কপাল লেগে থাকা লিপস্টিক এর রঙ মুছে দেয়।শ্রাবণের মা কিছু না বলে খাওয়া শুরু করেন।এদিকে পিয়ালি হেসেই যাচ্ছে।
মেঘঃপিয়ালি এখন কিন্তু বেশি বেশি হচ্ছে।নিজের বেলায় দেখবো কি করিস তুই?
পিয়ালিঃদুর বাবা দেখবি কিভাবে?তোকে তো আমার বিয়েতে ইনভাইট করবোইনা।শুধু দুজন কে করবো আর সে দুজন হলো স্যার আর আন্টি।তাই না গো আন্টি।
পিয়ালির কথা শুনে শ্রাবণ শ্রাবণের মা সবাই হাসা শুরু করে।মেঘ একটু রেগেই কথা বলে।
মেঘঃআমাকে দাওয়াত দিবি না।
পিয়ালিঃনা দেবো না।তুই তো আমার একমাত্র শত্রু।আর শত্রুকে কেউ বিপদ বাড়াতে ডাকে নাকি।
মেঘঃআমি তোর শত্রু তাই না।
পিয়ালিঃহ্যা শত্রুই তো।
মেঘঃবের হয়ে যা এক্ষুণি।
একটু রাগী মুডে।
পিয়ালিঃওই এটা তোর বাসা না।এটা আমার বেষ্টুর বাসা।
মেঘঃকে তোর বেষ্টু?
পিয়ালিঃকেনো তুই জানিস না।আমার বেষ্টুর নাম কাশফিয়া হাসান মেঘ।হরফে মিসেস শ্রাবণ মাহমুদ।
মেঘঃতবে রে আজ তোকে আমি
মেঘ পিয়ালির পিছনে ছুটছে।দুজনে সারাঘর ছুটাছুটি শুরু করলো।একসময় পিয়ালি গিয়ে শ্রাবণের পিছনে লুকায়।
মেঘঃবেঁচে গেলি ডাইনী।
পিয়ালিঃস্যার থুক্কু দুলাভাই বলি।দেখেন না আপনার বউ টা কি শয়তান নিজের বান্ধবী রে কেউ ওইভাবে দৌড়ানি দেয়।
শ্রাবণঃমেঘ এইবার থামো।বেচারি হাপাচ্ছে আর ছুটাছুটি করতে পারবে না।
মেঘঃআপনি ও ওর দলে।ঠিক আছে আমিও দেখবো।
শ্রাবণঃকি দেখবে?
মেঘঃআপনাকে দেখে নেবো।
শ্রাবণঃএক বছর ধরেই তো দেখছো আর কি দেখবে।
মেঘঃদুর ছাই ভাল্লাগেনা।
মেঘ রাগ করে সোফায় গিয়ে বসে।কারো সাথে কথা বলছে না।পিয়ালি মেঘের রাগ ভাঙাতে ওর পাশে গিয়ে বসে।মেঘ নিজের দুপা সোফায় তুলে দুহাত দিয়ে ধরে পা নাচিয়ে যাচ্ছে।
পিয়ালিঃমেঘ বলছি কি আমার বিয়েতে তুই বরং এক সপ্তাহ আগেই যাস তোকে ছাড়া তো আমি কনের সাজে সাজতে পারবো না।
মেঘঃতুই কে রে আমি তোর বিয়ে তে কেনো যাবো?
পিয়ালিঃপ্লিজ মেঘ রাগ করিস কেনো?আমি তো ফান করেছি।
মেঘঃহ্যা করবিই তো।মা ও ছেড়ে চলে গেলো স্বার্থপরের মতো এখন তুই ও যা।আমার কাউকে লাগবে না।সবাই চলে যাও সবাই।
পিয়ালিঃমেঘ আই এম সরি।আমি এইভাবে বলিনি কেনো ভুল বুঝছিস?
শ্রাবণের মাঃমেয়ে বলে কি আমি আবার কখন মরলাম।
মেঘ অবাক চোখে শ্রাবণের মায়ের দিকে তাকায়।শ্রাবণের মা মেঘের কাছে গিয়ে বসেন।
শ্রাবণের মাঃবল আমি কবে মরলাম।
মেঘঃ…….
শ্রাবণের মাঃআমি কি তোর মা নই।আমাকে তুই পর করে দিবি।তোর জন্য আমি আবার নতুন করে হাটতে পেরেছি।আর তুই কি না বললি তোর মা তোকে ছেড়ে চলে গেছে তাহলে আমি তোর কে মেঘ?
মেঘঃমাঅাঅা (কান্না জড়ানো কণ্ঠে)
শ্রাবণের মাঃতাহলে কিভাবে বললি আমি স্বার্থপর?
মেঘ নিজের এক হাত কানে দিয়ে বলে..
মেঘঃমা সরি।
শ্রাবণের মাঃহয়েছে আর সরি বলা লাগবে না।আমার তো তোকে নিয়ে কতো চিন্তা হচ্ছিলো।আমার ছেলের বোকামির জন্য ও না আবার তোকে হারিয়ে বসে।এমন এমন কাজ করে যার জন্য বার বার কষ্ট পায়।
মেঘ মাথা তুলে শ্রাবণের দিকে তাকায়।শ্রাবণ ওর দিকে তাকাতেই মেঘ মুখ ভেঙচি দিয়ে মায়ের বুকে মাথা রাখে।
মেঘঃমা আমাদের মাঝে আপনার ওই পাজী ছেলেটাকে টানবেন না তো।কতো সাহস ওর আমাকে এগ্রিমেন্টে সই করিয়ে বিয়ে করে।আবার নিজেই কষ্ট পায়।কি বুদ্ধি ওনার।
শ্রাবণঃমা আর মেয়ে মিলে এখন আমাকে পঁচানি দিবে।পিয়ালি দেখো তোমার বান্ধবী কতো বড় স্বার্থপর।আমার মাকে নিজের মা বানিয়ে আমাকেই দূরে সরিয়ে দেওয়ার প্লেন করছে।
পিয়ালিঃহ্যা তাইতো।মেঘ তুই এতো শয়তান।
মেঘঃএই ডাইনী তুই আসবিনা মা মেয়ের মাঝে ওনি আমার মা।আর কারো না বুঝলি।
শ্রাবণের মাঃঝগড়া থামাও।আমি দুজনেরি মা।হয়েছে শান্তি।
শ্রাবণঃহ্যা মামনি এইবার ঠিক আছে।
শ্রাবণের মা মেঘকে আর শ্রাবণকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেন।অন্যদিকে পিয়ালি ওদের খুশি দেখে কান্না আটকাতে পারে না।পিছন ঘুরে চোখের জল টা মুছে মেঘের দিকে তাকায়।মেঘ চোখ দিয়ে ইশারা করে কি হয়েছে?
পিয়ালি মাথা নাড়িয়ে না বলে।তারপর আঙুল তুলে একদম পারফেক্ট বলে ইশারা করে।
আর মনে মনে বলে….
আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া অবশেষে তুই একটা ঠিকানা পেলি।তোর মুখের হাসিটা যেন এইভাবেই থাকে মেঘ।সারাজীবন তুই খুশি থাকিস মেঘ।বিধাতার কাছে আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
অন্যদিকে শ্রাবণ মাকে ছেড়ে মেঘকে চোখটিপা মারে।তারপর পিয়ালির কাছে যায়।
শ্রাবণঃভেবো না পিয়ালি।ওর এখানে কোনো অযত্ন হবে না।ওর জীবন টাকে সুখ দিয়ে ভরিয়ে দিবো আমি।মুছে দেবো ওর মনকে শাণের অস্তিত্ব।
পিয়ালিঃআমার সেই বিশ্বাস আছে স্যার সেইজন্য তো মেঘের ব্যাপারে সব তথ্য আমি আপনাকে দিয়ে সাহস করতে পেরেছি।আমার এটা মনে হয়েছিলো ওর মা পরে যদি কেউ ওকে বুঝে তবে সেটা আপনি।
শ্রাবণঃথেংক্স এ লট।আজ তোমার হেল্পেই ও আমার হয়েছে।
পিয়ালিঃথেংক্স না বলে আমার জন্য এমন কাউকে খুঁজে দিন না।তাহলেই তো হয়ে যায়।
মেঘঃভাবিস না তোর জন্য আমি এমন একজনকে সিলেক্ট করবো যে সারাজীবন তোকে জ্বালাবে।
পিয়ালিঃসত্যি তুই আমার শত্রু।
পিয়ালির কথা শুনে সবাই একসাথে হেসে উঠে।
অবশেষে মেঘ #চুক্তির_বউ থেকে শ্রাবণের সত্যিকারের বউ হয়ে উঠলো।ওদের সংসারে সারাজীবন এরকম খুনসুটি লেগে থাকুক।হাসি খুশি আর আনন্দের ভরে উঠুক ওদের এই মিষ্টি সংসার।
ভালোবাসার জুর থাকলে সম্পর্ক যেমনি হোক একদিন তা #পূর্ণতা পাবেই।অনেক কষ্ট আর ত্যাগের বিনিময়ে মেঘ সত্যি ভালোবাসার সন্ধান পেলো আর শ্রাবণ ফিরে পেলো তার ভালোবাসার মায়াবতীকে।
ভালো থাকুক ভালোবাসা,ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষ গুলো।
সমাপ্ত——-।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here