স্যার যখন স্বামী সিজন২ পার্ট_১৯

0
666

স্যার যখন স্বামী সিজন২
পার্ট_১৯
#লিখা জান্নাতুল ফেরদৌস

হঠাৎ করে মোবাইলের মেসেজে তমার ধ্যান ভাঙ্গল।এত রাতে আবার কে মেসেজ পাঠালো।
“আজকে আমার বাসায় গিয়ে মাকে যে কথাগুলো শুনিয়ে এসেছ সেজন্য তোমাকে অনেক পস্তাতে হবে তমা।Mind it.”

হুম কি করবে হাদারাম।যা করছি ভালো করছি।কালকে আমাদের বাসার ছাদে এসে আমার সাথে যে বাজে কাজটা করল তার বেলায় উনার মনে ছিল না যে একটা অবিবাহিত মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া কিস করা কতটা অন্যায়।উনি আমার বেলায় যা করেছেন তা মেনে নেওয়াটা আমার জন্য কষ্টসাধ্য ছিল।এইজন্য তখন আমার কাছে যা সঠিক মনে হয়েছে তাই করেছি।বেশ করেছি।দেখি উনিও কি করতে পারেন।Stupid একটা।উনি যদি আমার শিক্ষক না হতেন তাহলে না এতক্ষণে মেরে উনাকে আলুর ভর্তা বানিয়ে ফেলতাম।তমার সাথে ফাজলামিগিরি করলে কি অবস্থা হয় তা উনাকে প্রেক্টিক্যাল করিয়ে দেখিয়ে দিতাম।লুচু একটা।
.
.
যাই দেখি গিয়ে মামণি কি করছে। ঘরে গিয়ে দেখি সেখানে মামণি নেই।কোথায় গেল?ও বুঝতে পারছি।

“মামণি তুমি এতরাতে ছাদে কি কর?”
“কিছু নারে।”
“মামণি তুমি কি কাঁদছ?”
“কই না তো।”
“এমন কেন তুমি মামণি?কার জন্য কেঁদে চোখের জল ফেলছ?যার কাছে তোমার কোন মূল্য নেই,যে তোমাকে ছেড়ে অন্য আরেকটা মেয়েকে নিয়ে ফূর্তি করে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারে তাহলে কেন তুমি ওই অমানুষটার জন্য নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ।”
“তমা….., চুপ কর।”
“কেন চুপ করব।তুমি ওই জানোয়ারের জন্য কেঁদে কেঁদে নিজেকে কষ্ট দিয়ে শেষ করে দিচ্ছ তা কি তুমি বুঝতে পারো না।আরে আমাকে যত বুঝাও তুমি ভালো আছো,দুনিয়াকে যত বুঝাও তুমি সুখে আছো কিন্তু আমি তোমার মেয়ে বুঝতে পারি এই মিথ্যা অভিনয় আমার সাথে করে লাভ নেই।মামণি আগে ছোট ছিলাম যা বুঝিয়েছ তাই বুঝেছি আমার চোখে যা দেখাতে চেয়েছ তাই দেখেছি কারণ আমি আমার মামণিকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখন আমি আর আগের সেই ছোট তমা নেই যা আমাকে দিয়ে বুঝাবে,দেখাবে আমি তাই বুঝব দেখব।মামণি আমার চোখের দৃষ্টি আগের সেই ছোট তমার মধ্যে নেই।এখন আমি ২২শে পা রেখেছি।এতটা বছর আমার চোখের দৃষ্টি অনেক ভালো খারাপ কিছু দেখেছে। অনেক অভিজ্ঞতা নিয়েছি এই চোখ দিয়ে।যতই ওই লোকটাকে আমার চোখে ভালো করার চেষ্টা কর না কেন আমার চোখে সে আজীবন খারাপি থাকবে।শালার পুরুষ জাতটাই এমন।এদের টেস্ট এক জায়গাতে থাকে না।এদের ভাললাগা, ভালবাসার টেস্ট বদলাতে বেশি সময় নেয় না।”

এরপর তমা কিছু বুঝার আগেই মেঘ ওর মেয়ের গালে একটা জোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।

“আমার স্বামীকে নিয়ে আরেকটাও বাজে কথা বলবি না।ও কি করেছে না করেছে সেটা সম্পূর্ণ আমাদের স্বামী- স্ত্রীর ব্যাপার ছিল।আর এটাও তুই ভুলে যাস না ও তোর বাবা হয়।যাকে তুই এত অপমান করে কথা বলছিস আজ আমি তার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি।ও আমাকে একটা সুন্দর জীবন দিয়েছে যার জন্য আমাকে অন্য কারোর কাছে হাত পাততে হয় না।নিজের হাতে টাকা ইনকাম করতে পারি।আর হ্যা ওর সাথে আমার ঝগড়া হয়েছিল। কেন হয়েছিল সেটা বলতে আমি তোকে বাধ্য নই।ওর সাথে সংসার করলে হয়ত তার খারাপ প্রভাব তোর উপর পড়ত তাই তোকে নিয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসছি।আজ একটা কথা জেনে রাখ ও আমাকে যে ভালোবাসা আর সম্মান দিয়েছে তা অন্য কোন স্বামী তার স্ত্রীকে দেয় না।সংসারের চলন্ত পথে ও একটা ভুল কাজ করেছে আর তাই আমরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।ওকে নিয়ে আর একটাও বাজে কথা যেন আমি কখনো তোর মুখ থেকে আর না শুনি।কথাটা মনে রাখিস।”
.
.
মেঘ- মেয়েটা আমার সাথে রাগ করে কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে যায়। আর সকাল হলেই আমার সাথে কোন কথা না বলে না খেয়ে ভার্সিটি চলে যায়।এরপর সকাল গড়িয়ে বিকেল, সন্ধ্যা নামতেই যখন দেখি ও বাসায় আসে নি তখনি মনের মধ্যে ভয়টা কাজ করে।

ও তো বিকেল হলেই বাসায় চলে আসে কিন্তু এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে অথচ ওর আসার নাম কোন নাম নেই।এদিকে ফারিদও বাসায় নেই।নাহলে ও এতক্ষণে কিছু একটার ব্যবস্থা নিত।এরপর রাত হতে থাকলে আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলাম না। ফারিদের মাকে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম।
.
.
রাত ১০:৩০ টায় তমা আসছে আর তার সাথেও ফারিদ।ওদের গায়ে বর বউয়ের পোশাক দেখে আমি সহ ফারিদের পরিবার অবাক হয়ে গেল।মাথায় কিছু আসছিল না তখন।পরে দিয়ে ফারিদ নিজেই সব ক্লিয়ার করে বলল যে,ওরা আজকে বিয়ে করে ফেলেছে।

ওর কথাটা শুনেই প্রথমে খুব রাগ হল।কোন অনুষ্ঠান ছাড়াই হুট করে বিয়ে করার কারণটা কি ছিল?আমরা কি ওদের বিয়েটা আটকে রেখে ছিলাম।নিজেরা নিজেই বিয়ে করে বাসায় চলে আসল।

আমাদের সবার রাগ দেখেই ফারিদ অনেকটা শান্তভাবে আমাকে বুঝাল।দেখো আন্টি তোমার যে মেয়ে ওকে আমি ভরসা করতে পারি না।যদি বিয়ের আগের দিন পাগলের মতন বলে উঠে ও বিয়ে করবে না তাহলে আমার কি হবে বুঝতে পারছ।তাই তাড়াতাড়ি করে ওকে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ের কাজটা শেষ করে আসলাম।এখন থেকে ও আমার বউ।এখন চাইলেও ও আর কোন ঝামেলা করতে পারবে না।তোমরা আর কয়েকদিন পর নাহয় বিয়ের অনুষ্ঠানটা কর।
.
.
তমা- ভার্সিটি থেকে বাসায় আসার সময় কয়েকজন লোক আমাকে জোর করে একটা গাড়িতে উঠায়।অনেক কান্নাকাটি করছিলাম তখন কিন্তু আমাকে কেউ ছাড়ে নি।বুঝতে পারলাম আমি কিডন্যাপ হয়েছি।আর পরে দিয়ে জানতে পারলাম এই কিডন্যাপটা ফারিদ স্যার লোকজন দিয়ে করিয়েছে।উনার কালকের হুমকিটা পড়ে মনে পড়ল।মনে মনে আল্লাহকে ডাকছিলাম যাতে উনি আমার কোন ক্ষতি না করে।

কিন্তু উনি আমাকে অনেক ভয় দেখান।বলেন আমি যদি এই মূহুর্তে উনাকে বিয়ে না করি তাহলে উনি সত্যিই আমার ক্ষতি করে বসবেন।ছাদের বাকি কাজটা আজকেই সেরে ফেলবেন।ভয়ে সেদিন উনাকে বিয়ে করতে বাধ্য হই।বিয়ের পর উনি আমাকে বাসায় নিয়ে আসেন।আর এমনভাবে আমার মামণিকে সহ ওর পরিবারকে আমাদের বিয়ের কাহিনী শুনাচ্ছেন যেন আমার ইচ্ছায় বিয়েটা হয়েছে।উনার প্রতি রাগ আর ঘৃণা আরো বেড়ে গেল।
.
.
এরপর অনুষ্ঠান করেই আমাদের বিয়েটা আবার হয়।আস্তে আস্তে উনি উনার নিজের গুণ আর ভালোবাসা দিয়ে আমার মনটা জয় করে নেয়।রাগ আর ঘৃণার বদলে এখন উনাকে ধীরে ধীরে ভালোবাসতে শুরু করি।কিন্তু কখনো এই কথাটা উনাকে বলতে পারিনি।মুখের মধ্যেই কথাটা আটকে রইল।আর আমার অতীতের কথাটা উনাকে জানিয়ে নিজের কষ্টটা মাঝেমাঝে হালকা করতে খুব ইচ্ছে করে।কিন্তু এইসব কথা মনে মনে ভাবলেও পরে দিয়ে তা করার আর সাহস পাই নি।কারণ উনাকে হারানোর ভয়টা কাজ করে।যদি উনি এইসব কথা শুনে আমাকে ফেলে চলে যান তাহলে আমি আবার কি নিয়ে বাঁচব তা জানি না।তাই অতীতের কষ্টটা মনের ভিতরে ধামাচাপা দিয়ে রাখলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here