রোমান্টিক_অত্যাচার (২) শেষ_পর্ব

0
630

রোমান্টিক_অত্যাচার (২)
শেষ_পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan
ধারনাঃ #Kashnir_Mahi

চাচ্চু দ্রুত আশফিকে ধরে ফেললো।চাচ্চু আর আলিশা আশফিকে ধরে বিছানার উপর বসালো।চাচিমা পানির গ্লাস হাতে নিয়ে আশফিকে ধরে একটু খাইয়ে দিল। আশফি কিছুক্ষণ বসে থাকে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।চোখে মুখে পানি দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো।চাচ্চুকে বলল,
-“চাচ্চু ঘরে বসে টিভিতে নিউজ দেখার সময় নেই।বের হতে হবে আমাদের।
-“সে তো অবশ্যই যাবো।কিন্তু বাবা তুই আর একটু বিশ্রাম নে।তোর চোখ মুখের অবস্থা এখনো ভালো লাগছেনা।
-“আরে আমার সবকিছুই ঠিকআছে। তুমি চলো তো।বিমান কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে।
আশফি ওর চাচ্চুর সাথে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।ওখানে গিয়ে জানতে পারলো যে ঐ প্লেইনে যে কয়জন যাত্রী ছিল তার ভেতর মাত্র সাতজন বেঁচে আছে তাও গুরুতরভাবে আহত হয়ে।আর বাকি সবাই মারা গিয়েছে। আশফি আর ওর চাচ্চু নিহত আর আহত যাত্রীদের কাগজের লিস্ট দেখলো। লিস্ট দেখার পর জানতে পারলো আহত এবং নিহত যাত্রীদের কোনো লিস্টেই মাহি আর আশনূহার নাম নেই।কিন্তু চিন্তাটা কমে যাওয়ার বদলে আরো বেড়ে গেলো।আশফি মাহি আর আশনূহার ডিটেইলস বলল বিমান কতৃপক্ষকে।
তারপর জানতে চাইলো,
-“এই দুইজন যাত্রী কালকের ফ্লাইটে ছিল?
-“হ্যা,ওনারা ছিল।
-“তাহলে লিস্টের কোথাও তো ওদের নাম দেখতে পেলাম না।
-“আচ্ছা আপনারা আমাকে একটু সময় দিন।আমি ভালো করে তথ্যটা জেনে নিই।
কম্পিউটারে মাহি আর আশনূহার তথ্যগুলো সার্চ করে বিমান কতৃপক্ষ আশফিকে জানালো,
-“নুসরাত জাহান মাহি এবং ওনার বেবি আশনূহা চৌধুরী দুজনকে থাইল্যান্ড নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
-“থাইল্যান্ড কেনো?ওরা তো জাপানের টিকেট কেটেছিল।
-“হ্যা তবে নুসরাত জাহান মাহি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে।হঠাৎ করেই উনি মিনি স্ট্রোক করে যার জন্য থাইল্যান্ডের সিটি হসপিটালে ওনাকে শিফট করা হয়। এখন উনি ওখানেই আছেন।
চাচ্চু আর আশফি অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।চাচ্চু বলল,
-“থ্যাংকগড।মাহি আর আশনূহা বেঁচে আছে।
বিমান কতৃপক্ষ বলল,
-“হ্যা….উনি থাইল্যান্ড নেমে গিয়েছিলেন আর তারপরেই প্লেইন ক্রাশ করে।
আশফিকে দেখে মনে হচ্ছে নতুন করে প্রাণটা ফিরে পেলো।ওরা দুজন বাসায় গিয়ে সবাইকে খবরটা জানালো।এরপর আশফি থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল।থাইল্যান্ডে সিটি হসপিটালে আশফি কথা বলে নিল।ওদেরকে জানিয়ে দিল যে আশফি না যাওয়া পর্যন্ত ওদেরকে যেনো রিলিজ করা না হয়।দুদিন পর আশফি সবার থেকে বিদায় নিয়ে থাইল্যান্ড চলে গেলো।
ওখানে পৌঁছানোর পর আশফি হসপিটালে গিয়ে দেখলো মাহি এখনো ট্রিটমেন্টে আছে।ডক্টরের সাথে কথা বলে জানতে পারলো অতিরীক্ত টেনশনের আর রক্তচাপের পরিমাণ বেরে যাওয়ার কারণে মিনি স্ট্রোক করেছে।মেডিসিন চালু রেখেছে ওরা।আশফি চাইলে আজই রিলিজ করে দিবে মাহিকে।আর আশনূহাকে দেখাশোনা করার জন্য একজন নার্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আশফি একদিন থাইল্যান্ড থেকে মাহি আর আশনূহাকে নিয়ে জাপান চলে এলো।স্ট্রোক করার পর থেকে আশফি সবসময় মাহির কাছে থাকতো।এমনকি অফিসে পর্যন্ত যেতোনা।মাহি প্রেগন্যান্ট থাকাকালীন যতোটা যত্ন করতো ওকে তার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ যত্ন করে আশফি মাহিকে।আশনূহারও সম্পূর্ন খেয়াল আশফিই রাখে শুধু খাওয়ার দায়িত্বটুকু মাহি পালন করে।মাহি এখন পুরোপুরি সুস্থ তবুও আশফি মাহিকে কখনো একা থাকতে দেয়না।কিন্তু মাহিকে ঘরে শুয়ে বসে ও থাকতে দেয়না।প্রতিদিন সকাল এক্সারসাইজ থেকে শুরু করে মাহির টাইম মেইনটেইন করে খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে খেয়াল রাখতো আশফি তবে আগের থেকে একটু বেশি।এভাবে প্রায় এক মাস কেটে গেলো।একদিন সন্ধ্যাই মাহি আর আশফি বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলো।তখন দরজা খুলতেই দরজার সামনে আলিশাকে দেখতে পেল আশফি।আশফি পুরো অবাক হয়ে গেছে।আলিশাকে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আলিশা আশফি আর মাহিকে বলল,
-“আমি কলিংবেলে চাপ দেওয়ার আগেই তোমরা বুঝে ফেলেছো আমি এসেছি?
মাহি আলিশাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“এতো সুন্দর একটা সারপ্রাইজ!আমরা সত্যিই একদম আশা করিনি।
আশফিও কিছুটা খুশি হয়ে আলিশাকে বলল,
-“আচ্ছা ভেতোরে এসো।তারপর সবকিছু শুনি হঠাৎ করে সারপ্রাইজ দেওয়ার কারণটা কি?
আলিশা আশফিকে বলল,
-“কিন্তু আমি তো একা আসিনি।
মাহি আর আশফি আলিশার পেছনে তাকালো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলোনা। মাহি আলিশাকে জিজ্ঞেস করলো,
-“একা আসোনি?আর কে এসেছে? কাউকে তো দেখতে পাচ্ছিনা।
-“সে লজ্জা পাচ্ছে।যদিও আমিই তাকে লজ্জা পেতে বলেছি।
-“মানে?
-“তোমাদের বাড়ির গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে সে।
আশফি আলিশার দিকে বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে গেটের সামনে গেলো।সেখানে দুপুরকে দেখতে পেয়ে আশফি পুরোই অবাক।ওর আর বুঝতে বাকি নেই ওরা দুজন একসাথে এসেছে।দুপুরের সাথে আশফি হ্যান্ডশেক করলো পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরলো।তারপর দুপুরকে আশফি ভেতোরে নিয়ে এলো।মাহিও দেখে অনেক চমকে গেলো।ওদের বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে দুপুর আর আলিশাকে নিয়ে মাহি আর আশফি ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।আলিশা বলল,
-“আশফি তুমি জানতে চাইবেনা মি.দুপুর সাহেবের পাথর হৃদয় কিভাবে গলে জল হলো?
আলিশা আর দুপুর দুজনে মাহির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিল।আশফি বলল,
-“সেটা শোনার জন্য আমি দৃঢ় আগ্রহ নিয়ে বসে আছি।
আলিশা বলল,
-“তোমার বউ এর মাধ্যমে।হ্যা…… সে সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় একটা কাজ করেছে।আর দুপুরের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বের হতে সাহায্য করেছে। যেদিন মাহি জাপান চলে আসার জন্য বের হয়েছিল সেদিন আগে মাহি দুপুরের কাছে আগে গিয়েছিল।এই তুমি বলো তারপর কি হয়েছিল।
দুপুরকে উদ্দেশ্য করে আলিশা বলল।
তারপর দুপুর বলতে শুরু করলো,
-“সেদিন মাহি আমাকে আলিশাকে ভালোবাসার জন্য চাপ দেয়নি।
ভালোবাসা বুঝতে আর ভালোবাসা শিখতে চাপ দিয়েছিল।ও আশফি আর মাহির ভালোবাসার গল্প শুনিয়েছিল আমাকে।আশফি কিভাবে মাহির ভালোবাসা অর্জন করেছে,মাহি এখন আশফিকে কতোটা ভালোবাসে।আর ওদের দুজনের মাঝে ভালোবাসার সাগর কতোটা গভীর সেটা বলেছে আমাকে। সেই সাগরের প্রতিটা ঢেউয়ে যে কতো পরিমাণ সুখ বয়ে নিয়ে আসে সেই সুখের পরিমাণ জানিয়েছে আমাকে। পরিমাণটা হয়তো অগণিত ছিল।তবুও আমি সেই পরিমাণটা বুঝতে পেরেছি।ও এতো নিখুঁতভাবে তোমাদের সুখে থাকা তোমাদের ভালোবাসার গল্পটা বর্ণনা করেছে যে আমার কাছে মনে হচ্ছিলো আমি যেনো আমার চোখেন সামনে সবকিছু দেখতে পাচ্ছি।সেই সুখ সেই ভালোবাসা আমিও অনুভব করতে পারছি।একটানা তিনদিন আমি শুধু মাহির বলা কথাগুলোই ভেবেছি।আমার মনে হচ্ছিলো আমিও এমন সুখ পেতে পারি,এমনকরেই কারোর ভালোবাসা পেতে পারি,তাকে এমনকরেই হয়তো ভালোবাসতে পারি।আর সেই এমন কেউটা আলিশা ছাড়া আর কেউ হতে পারেনা।তারপর আর একটাদিন ও দেরী না করে আমি সরাসরি আলিশার বাবার কাছে গিয়ে আলিশাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছি।
-“হ্যা।আমিই বাবাকে খবরটা দিতে বারণ করেছিলাম।ভেবেছিলাম আমি আর দুপুর এসে সরাসরি তোমাদের সারপ্রাইজ দিবো।আর আজকে দিয়েই ফেললাম সারপ্রাইজটা।
আশফি মনেমনে খুবই খুশি হলো।কিন্তু খুশিটা মাহির সামনে প্রকাশ করলনা। হয়তো অন্যভাবে অন্যকোনো সময় মাহিকে ওর খুশিটা দেখাবে।আলিশা আশফি আর মাহিকে বলল,
-“তোমরা বুঝি কোথাও ঘুরতে বের হচ্ছিলে?চলো,আমরাও যাবো তোমাদের সাথে।সেলিব্রেট করবো আমাদের খুশিটা তোমাদের সাথে।
আশফি বলল,
-“আরে সেটা তো অবশ্যই করা যাবে। কিন্তু এইতো এলে।আগে ফ্রেশ হও,রেস্ট নাও।তারপর না হয় কাল বের হওয়া যাবে।
-“আরে না।এক্ষণি যাবো আমরা।দুপুর তুমি যাবে তো নাকি রেস্ট নিতে চাইছো?
-“না না রেস্ট নিতে হবেনা।লেটস এনজয়।
আশফি মাহি আর দুপুর আলিশা একসাথে বের হলো।আশনূহা ছিল গভরনেসের কাছে।তবে আশনূহাকে ওরা বাসায় রেখে যায়নি।গভরনেসকে সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওরা সঙ্গে দুটো গাড়ি নিলো।একটা গাড়িতে আশফি মাহি আর আশনূহাকে নিয়ে গভরনেস। আর অন্য গাড়িটাতে দুপুর আর আলিশা।গাড়িতে উঠার আগে দুপুর আশফিকে বলল,
-“মি.আশফি আমি কি আপনার গাড়িটা নিজে ড্রাইভ করতে পারি?
-“অবশ্যই।আজকে না হয় আমরা নিজেরাই ড্রাইভ করি।কি বলো ডিয়ার?
মাহি আশফির হাতটা জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে ছিল।মুখে মৃদু হাসি টেনে ঘাড়টা বাঁকা করে হ্যা সূচক উত্তর দিলো।তারপর ওরা টকিওর সিটিতে ঢুকে গেলো।পুরো সিটি ওরা ঘুরে বেড়াতে লাগলো।বাইরের রেস্তোরাঁই বসে হালকা খাবার খাচ্ছে ওরা।খেতে বসে গল্প করছে।গল্পের মাঝে দুপুর আশফিকে বলল,
-“ভাইয়া আপনার বোন কিন্তু দুর্দান্ত ড্রাইভিং করতে পারে।
-“হুম তা তো জানি।কিন্তু কথা হচ্ছে আমরা একে অপরকে আপনি করে না বলে তুমি করে বললে হয়না?
মাহি আশফির কথার সাথে সাঁয় দিয়ে বলল,
-“হ্যা সেটাই।এই আপনি সম্বন্ধটা একদমই মানাচ্ছে না তোমাদের মাঝে।
দুপুর বলল,
-“ওকে ওকে।তুমিটাই চালু হলো।
এবার আলিশা কথা বলল,
-“তো মি.দুপুর আপনি যেনো কি বলছিলেন আমাকে নিয়ে?
-“ও হ্যা।যে ঘটনাটা বলতে চাইছিলাম। আলিশার ড্রাইভিং হিস্ট্রি।
মাহি বলল,
-“ড্রাইভিং হিস্ট্রি?কোনো স্মরণীয় ঘটনা নাকি?
-“স্মরণীয় বলতে শুধু স্মরণীয় নাকি? গাড়িতে ফুল সাউন্ডে গান চালিয়ে ফুল স্পীডে ড্রাইভিং করে আমাকে যা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল আর যা হয়েছিল ঐদিন রাতে।পুরো একটা রাত জেলে কাটাতে হয়েছে।
আশফি বলল,
-“কি হয়েছিল সেদিন?
-“কি আর হবে?একটা ব্যাপার নিয়ে সে আমার উপর রেগে ছিল।গাড়িতে উঠানোর আগে আমার সাথে খুব নরমালি কথা বলল।গাড়িতে উঠানোর পর তার রাগ কাকে বলে সেটা দেখলাম।আর সেই রাগটা সে আমাকে দেখালো তার ঐ ভয়ানক ড্রাইভিং এর মাধ্যমে।রাস্তায় রুলস ব্রেক করেছিলো। তাই ওর বদলে আমি জেলে গেলাম।
মাহি বলল,
-“তার মানে আলিশার দোষটা তুমি ঘাড়ে নিয়েছিলে,তাইতো?
-“হুম।আজকে গাড়িতে বসে আবদার করছিলো ড্রাইভটা নিজে করার জন্য। আমি কি আর সেই কাঁচা ভুল।মনে থাকতে আমি তো আর ওকে কখনো ড্রাইভ করতে দিবোনা।
আলিশা দুপুরকে বলল,
-“এই শোনো,সেদিন আমার খুব রাগ হচ্ছিলো তাই ওভাবে ড্রাইভ করেছিলাম। তাছাড়া আমি ড্রাইভিং এ খুব পারফেক্ট। মাহি তুমিই বলো,তুমি তো আমার সাথে ড্রাইভিং চ্যালেঞ্জ করেছিলে।সেদিন তো দেখেছিলে আমার ড্রাইভ করা। আফসোস সেদিন আশফি না এসে পড়লে আমিই চ্যাম্পিয়ন হতাম।
-“আচ্ছা?তখন কিন্তু আমি তোমার সামনে ছিলাম।আশফি আমার গাড়ির সামনে এসে না দাড়ালে আমিই চ্যাম্পিয়ন হতাম।
আশফি ওদের দুজনের কথা থামিয়ে দিয়ে বলল,
-“এবার আপনারা থামুন।আমি কিছু বলি।মেয়েদের এসব ব্যাপারে কতদূর দৌড় সে আমরা ভালো করেই জানি। আর মাহির ব্যাপারটা একটু বিশ্বাস করা যায় যে মাহি ড্রাইভিং এ চ্যাম্পিয়ন হতে পারতো সেদিন।কারণ ওকে ড্রাইভিংটা আমি শিখিয়েছি।আমার থেকে ওটা তুমি নিশ্চই ভালো জানোনা,আলিশা?
-“নিজের বউ এর সাপোর্ট নেওয়া হচ্ছে,তাইনা?মেয়ে বলে কি ছেলেদের সাথে প্রতিযোগিতায় পারবোনা?তুমি আমার ড্রাইভিং দেখোনি বলে এমনটা বলছো।
দুপুর আলিশাকে বলল,
-“তৃমি মন খারাপ করছো কেনো?আমি তো তোমার ড্রাইভিং দেখেছি।ভাইয়া যেমন তার বউ এর সাপোর্ট নিচ্ছে আমিও আমার বউ এর সাপোর্ট নিচ্ছি।
মাহি আর আশফি হেসে দিল।দুপুরের কথা শুনে আলিশা একটু লজ্জা পেলো। আশফি বলল,
-“আচ্ছা ওটা ব্যাপার না।আমাদের দুজনের বউ ই চ্যাম্পিয়ন।
দুপুর বলল,
-“চ্যাম্পিয়ন তো যে কোনো একজন হয়।
-“হুম তা ঠিক।
-“আচ্ছা আজকে আর একটা প্রতিযোগিতা হলে কেমন হয়,কাপলদের মাঝে?
আলিশা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল। মাহি আলিশার কথা শুনে বলল,
-“এখন?আজকে থাক অন্য কোনোদিন না হয় কার রেসটা হবে?এখন চলোনা সমুদ্রের পারে যায়।বোটে ঘুরবো।রাতে সমুদ্রের বুকে ঘুরতে খুব ভালো লাগে। অন্যরকম একটা রোমান্স কাজ করে।
মাহির কথা শুনে আশফি বলল,
-“তাই?কই আমাকে তো কখনো বলোনি?
-“বলার আগেই তো তুমি বুঝে যেতে তো বলবো কি?
আলিশা আর দুপুর হেসে ওদের বলল,
-“তোমাদের চোখে চোখে ও যে এতো রোমান্স কাজ করে যা দেখলে সত্যিই খুব ভালো লাগে।বুঝলে দুপুর,আমাদের কিন্তু ওদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
আলিশা কথাগুলো বলল।আলিশার কথা বলার পর দুপুর বলল,
-“সত্যিই তাই।ভালোবাসার প্রতীকী তোমরা।
মাহি আর আশফিকে বলল দুপুর। আশফি বলল,
-“শেখার কোনো শেষ নেই।শিখবে সমস্যা নেই।এখনো চলো যাওয়া যাক, সমুদ্রে।
গাড়িতে উঠার আগে আলিশা বলল মাহিকে,
-“মাহি শোনোনা,আশনূহাকে আমাদের কাছে রাখিনা?দুপুর ওকে আমাদের গাড়িতে নিতে বলছে।ওকে আমি আমার কোলে রাখবো।
-“আচ্ছা ঠিকআছে।সমস্যা নেই।
মাহি গভরনেসকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“মিস ইয়ান আপনি বরং ওদের গাড়িতে যান।
-“ওকে ম্যাম।
ওরা সবাই যার যার গাড়িতে উঠলো। আশফি আর মাহি গাড়িতে বসে কথা বলছে।আশফি মাহিকে বলছিল,
-“আচ্ছা তুমি তোমার ফিলিংস সবসময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করো কেনো?
-“কই,কখন লুকিয়ে রাখলাম?
-“এইযে,সমুদ্রের মাঝে রাতের বেলা ঘুরতে তোমার খুব ভালো লাগে।তখন তোমার মাঝে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে।ওটা তো কখনো আমার সাথে শেয়ার করোনি?
-“যতোবার তোমার সাথে ঘুরতে বেরিয়েছি ততোবারই তো তুমি আমার কিছু বলার আগেই আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখতে।শুধু ঐ রাতটা বাদে।সেদিন তুমি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিলে।ইচ্ছা করছিলো তোমাকে আর ছাড়বোনা।ওভাবেই জড়িয়ে ধরে রাখবো।কিন্তু তুমি সেদিন আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলে।
-“হুম।আচ্ছা,আজকে তোমাকে খুব ভালোবাসবো বোটে উঠে সমুদ্রের মাঝে গিয়ে।সেদিনের রাতে যতোটুকু বাকি ছিলো আজ তা পূরণ করে দিবো।
সারাটাক্ষণ তোমাকে জড়িয়ে থাকবো। আর তাছাড়া তোমার তো আমার থেকে ডাবল পেমেন্ট পাওনা আছে।
-“ডাবল কেনো?
-“দুপুরকে বোঝানোর জন্য।
-“ওহ্,আচ্ছা।তাহলে অর্ধেকটা এখনই দাও।
-“এখন?গাড়িতে রোমান্স করার শখ হলো নাকি?
-“হুম,কখনো তো করিনি।আজ না হয় লাভ বার্ডসদের(লাভারস)মত গাড়িতেই কিছুটা রোমান্স করবো।
-“তা তো আমি করতেই পারি।সেটা গাড়িতে হোক আর বাড়িতে হোক।ওটার প্রতি আমার রুচি সারাজীবন একইরকম থাকবে কখনো কমবেনা।
-“তাহলে ওয়েট করছো কেনো?
কথাটা বলেই মাহি আশফির কাছে গিয়ে আশফির গলার একপাশে চুমু খেতে শুরু করলো।মাহির ঠোঁটের ছোঁয়াই আর ওর গরম নিঃশ্বাসে আশফির শরীরটা কেঁপে উঠলো।হঠাৎ করেই আশফি গাড়িটার ব্রেক কষে ধরলো।
দুজনেই খুব জোড়ে ঝাঁকি খেলো।ঝাঁকি খেয়ে মাহি থেমে গেলো।দুজনেই আবেগ ভরপুর চোখে দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।আস্তে আস্তে করে আশফি মাহির খুব কাছে চলে এলো। মাহির চুলের ফাঁক দিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে মাহির মুখটা এগিয়ে এনে ওর গালে চুমু খেলো।তারপর মাহির ঠোঁটে দীর্ঘসময়ের চুমু খেলো।মাহিও আশফির মাথার পেছনের চুল হাতের মুঠোই চেপে ধরে দুজন দুজনের ঠোঁটে চুমু খাচ্ছিলো। আশফি গাড়িটা এমন জায়গায় দাড় করিয়েছিল যে ও বুঝতেই পারেনি ওটা রং(wrong)সাইড ছিলো।রাস্তাটা ও নিড়িবিলি ছিলো।গাড়িগুলো খুব কমই চলে এই রাস্তা দিয়ে।কিন্তু বিপদ ভাগ্যে থাকলে সেটা যে কোনোভাবে সম্পূর্ণ হয়ে যায়।আশফি মাহি দুজনেই একে অপরের মাঝে হারিয়ে গেছিলো।দূর থেকে কোনো এক ব্যক্তি ওদের সতর্ক করছিলো কিন্তু সেটা ওরা শুনতে পাচ্ছিলোনা।কারণ সামনে আর একটা গাড়ি আসছিলো।লোকটা দৌড়ে আসছে ওদের কাছে আর চিল্লিয়ে বলছে গাড়িটা রাস্তার ডানপাশ থেকে সরাতে।লোকটার কথাগুলো যখন আশফির কানে পৌঁছালো তখন সেই মুহূর্তে খুব দেরী হয়ে গিয়েছিল।আশফি সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়িটা সাইড করার চেষ্টা করছিল।কিন্তু পুরোপুরি সাইড করতে পারেনি।ঐ গাড়িটাতেও একজোড়া লাভ বার্ড ছিলো।দুজনের মাঝে কথোপকথন চলছিলো।আর রাস্তাটাও নির্জন থাকাতে সামনের দিকে ভালোভাবে না খেয়াল করেই আশফির গাড়িতে ধাক্কা লাগিয়ে দেয়।গুরুতরভাবে আঘাতটা লাগে ওদের। আশফির কালো স্যুট আর তার নিচে পড়া হোয়াইট টি-শার্ট রক্তে পুরো ভিজে যায়।আশফি ওখানেই জ্ঞান হারায় যে গাড়িটা ধাক্কা দিয়েছে ওদের সেই দুজন ছেলে মেয়ে আর যে লোকটা আশফি মাহিকে সতর্ক করছিলো তারা তিনজনে মিলে ওদের হসপিটাল নিয়ে যায়।আলিশা আর দুপুর ও ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে হসপিটাল ছুটে আসে।।কিছুক্ষণ পর ডক্টর ও.টি.(O.T)থেকে বেরিয়ে দুপুর আর আলিশাকে খবর জানায়,
-“মিসেস চৌধুরী বিপদমুক্ত।আঘাতটা তেমনভাবে ওনার লাগেনি।উনি সুস্থ আছেন।
গাড়িটা যখন আশফির গাড়ির একদম কাছে এসেছিলো তখন আশফি গাড়ি সাইড করার বৃথা চেষ্টা না করে ধুম করে ড্রাইভিং স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে মাহিকে জাপটে ধরে।ওকে আড়াল করার চেষ্টা করে।যাতে আঘাতটা সম্পূর্ণ আশফির গায়ে এসে লাগে।মাহির যেনো কোনো ক্ষতি না হয়।
দুপুর আর আলিশা ডক্টরের কাছে আশফির খবর শুনে,
-“আশফির কি অবস্থা ডক্টর?ও কেমন আছে?
-“ওনার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।পুরো আঘাতটা ওনার মাথায় এসে লেগেছে।
ওনার অপারেশনটা অনেক জটিল।
আমরা চেষ্টা করছি।প্রচুর পরিমাণ রক্ত ক্ষরণ হয়েছে ওনার।জানিনা গড ওনার কি অবস্থা করবে।
আলিশা কেঁদে ফেললো।ডক্টরকে বলল,
-“প্লিজ ডক্টর ওর যেনো কোনো ক্ষতি না হয়।ওকে সুস্থ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই তাই করুন।কিন্তু ওর যেনো কোনো ক্ষতি না হয়।
ডক্টর ওদের শুধু আল্লাহকে স্মরণ করতে বলে চলে গেলো।সেদিন আশফির জ্ঞান ফিরেনি।এক বছর পর….মাহি আশফির চাচ্চুর বাড়িতে।বাগানে দাড়িয়ে বাগানে থাকা গাছ,ফুল এগুলো দেখাচ্ছে আর আশনূহাকে খাবার খাওয়াচ্ছে।হঠাৎ করে বাগানে দুপুর এলো,
-“এইযে ভাবীজি,আপনি এখানে আমার মামনিকে নিয়ে আর আমি সারা বাড়িতে আপনাকে খুঁজছি।
মাহি পিছু ফিরে তাকালো।দুপুরকে দেখে গাল ভর্তি হাসি দিল।তারপর ওকে বলল,
-“আর বর সাহেব যে?সকাল সকাল নিজের গায়ে হলুদ রেখে বউ এর গায়ে হলুদ দেখতে চলে এলে নাকি?
-“হুম।সেরকম কিছুই।
-“তার মানে?
-“মানে,আমার আর আপনার একমাত্র ননদিনীর ইচ্ছা আমাদের গায়ে হলুদটা একই জায়গায় আর এক সাথেই হবে। তাই আর কি আমরা সবাই চলে এলাম আপনাদের বাড়িতে।ওউ স্যরি আমার শ্বশুড় বাড়িতে।
-“ওয়াও গ্রেট।আইডিয়াটা অনেক সুন্দর তো।
-“সে তো হতেই হবে।ট্রেনিংটা কার থেকে নিয়েছি তা তো দেখতে হবে?তা সে ট্রেনিং মাস্টারটি কোথায়?
-“ঘরে,ঘুমাচ্ছে।
আশফি ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে
আড়মোড়া ভাঙ্গছে আর রুমের চারপাশ তাকিয়ে দেখছে।হঠাৎ করেই সামনে রাখা মনিটরে একটা ভিডিও প্লে হলো।
ভিডিওটা ছিল,
-“গুড মর্নিং ডিয়ার।তোমার অভ্যাসটা দেখছি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে আমার আগে তুমি ঘুম থেকে উঠতে।তারপর আমার সারা মুখে আদর করে আমাকে ঘুম থেকে জাগাতে।আর এখন সেটা উল্টো।আমি তোমার আগে ঘুম থেকে উঠে তোমার সারা মুখে আলতো করে চুমু খাই।কিন্তু তোমাকে ঘুম থেকে তুলিনা এই মোমেন্টার জন্য। ও হ্যা,আমার পরিচয়টা দিই।আমি মাহি,নুসরাত জাহান মাহি।চার বছর আগে চৌধুরী অব ইন্ডাস্ট্রির এম.ডি আশফি চৌধুরীর একমাত্র পি.এ ছিলাম। আর আশফি চৌধুরী কে জানো তো? অবশ্যই তুমি।এছাড়াও আমার আর একটা পরিচয় ছিলো আমি আপনার ছোটকাল থেকে ফিক্সড করা ফিক্সড বউ ছিলাম।যদিও সেটা আমি জানতাম না।ওটা তুমি জানতে।তাই সুদূর জাপান থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছিলে সেই ফিক্সড করা বউটিকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।একসময় তুমি আমাকে আমার মনের বিরুদ্ধে বিয়ে করেও নিলে।তুমি জানো বিয়ের পর তুমি আমাকে কিভাবে কিভাবে অত্যাচার করতে আর কিভাবে কিভাবে ভালোবাসতে?আমি বলছি শুনো…..
এভাবেই মাহি আশফির সাথে প্রথম আলাপ থেকে শুরে করে ওদের অতীত বর্তমান সবকিছু আশফির সামনে বর্ণনা দিতে থাকলো ভিডিওতে।যেটা আশফি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পরই দেখতে পায় আর শুনতে পায়।সেদিন এক্সিডেন্টের পর আশফি দীর্ঘ ছয় মাস কমায় চলে গিয়েছিলো।যখন জ্ঞান ফিরে তখন আশফির টেম্পোরারিলি মেমোরি লস হয়।এটা এমন ছিলো যে যেকোনো মুহূর্তে ওর সব অতীত বর্তমান ভুলে ও ভুলে যাবে আবার সবকিছু পুনরায় সেই অতীত আর বর্তমানগুলোর কথা বা প্রতিচ্ছবি আশফির সামনে তুলে ধরতে হবে।তাহলে সবকিছু আবার আস্তে আস্তে ও মনে করতে পারবে।হয়তো সারাটাজীবনই আশফিকে এমন একটা পরিস্থিতির ভেতরে থাকতে হবে।ডক্টরের কথাগুলো এমনই ছিল।সেইদিন থেকে মাহি প্রতিটাদিন ওর সামনে নতুন করে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়।ওর সাথে কাটানো সবগুলো দিনের বর্ণনা মাহি এভাবে আশফিকে বলে থাকে।একটা ভিডিও তৈরি করে রেখেছে মাহি আশফির জন্য।যেটা দেখে আশফি আবার পুরোনো আশফি হয়ে ফিরে আসতে পারে মাহির কাছে।ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে আশফি এভাবে মাহির তৈরী করা ভিডিওটা দেখে বসে বসে মিটিমিটি হাসছে।তারপর বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আশফি বাগানে গেলো।দুপুর আশফিকে দেখে বলল,
-“আরে ঐ তো আমার ট্রেনিং মাস্টার চলে এসেছে।গুড মর্নিং মাই মাস্টার।
-“ব্যাড মর্নিং।
-“হোয়াই?
-“তোমার মাস্টারের বউ আমাকে ঘুম থেকে না ডেকে চলে এসেছে।
মাহি আশফির দিকে তাকিয়ে একটু একটু হাসছিল।তখন ওদের চোখে চোখে খুনসুটি আদান প্রদান হচ্ছিলো।দুপুর ওদের স্পেস দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো।আশফি মাহির কাছে গিয়ে আশনূহাকে কোলে নিল।আর মাহিকে বলল,
-“আমি যখন তোমার মুখে চুমু খেতাম তখন তোমার ঘুম ভেঙ্গে যেতো।কিন্তু তুমি আমার মুখে কিভাবে চুমু খাও যে আমার ঘুম ভাঙ্গেনা?
-“কেনো?যেভাবে চুমু খেতে হয় সেভাবেই তো খাই।
-“কিভাবে খাও?প্র্যাকটিক্যালে দেখাও আমাকে।আমি দেখতে চাই যে তুমি চুমুটা ঠিকমত দিতে শিখেছো নাকি?
মাহি মুখে একটু মুচকি হাসি রেখে আশফির গালে আলতো করে চুমু খেলো।তখন আশফি বলল,
-“আমি জানতাম তোমার চুমুটা এমনই হবে।আমি তো এখনই বুঝতে পারিনি যে তুমি আমাকে চুমু খেয়েছো নাকি জাস্ট ছুঁয়ে দিয়েছো।এখন তো দেখছি চুমু দেওয়ার পদ্ধতিটা আমাকে শেখাতে হবে।
-“আচ্ছা?যদি শেখাতে হয় তাহলে শেখাবে।
-“হুম।
আশফি মাহির কাছে এগিয়ে মাহির কপালে লম্বা একটা চুমু খেলো।বাবার চুমু খাওয়া দেখে কোলে থাকা ছোট্ট আশনূহাটা বাবার গালে চুমু খেয়ে বসলো।এমন একটা দৃশ্য আলিশা ক্যামেরা বন্দি করে ফেললো।আশফি মাহিকে চুমু খাচ্ছে আর আশনূহা তার বাবাকে চুমু খাচ্ছে।আলিশা আর দুপুরের হাসির শব্দ শুনে মাহি আর আশফি ওদের দিকে তাকালো।ওরা এসে মাহি আর আশফির সাথে একটু মজা করলো। তারপর ছবিটা ওদের দেখালো।ছবিটা সকলেরই খুব পছন্দ হয়েছে।ওটা ক্যামেরা থেকে আলিশা আর দুপুর বের করে ফ্রেমে বন্দি করে ওদের বাড়িতে দেওয়ালে একটা টাঙ্গিয়ে রাখলো।আর একটা আশফি আর মাহিকে দিলো।দুপুর আর আলিশার রিসিপশনের দিন সন্ধ্যাই,
-“ম্যাম আমি দুপুরের ফ্রেন্ড।আমি আপনার সাথে ড্যান্স করতে পারি? আমি জানি আপনি দুপুরের সম্পর্কে ভাবী হন।তবুও যদি….
-“আচ্ছা ঠিক আছে,সমস্যা নেই।
রিসিপশন পার্টিতে মিউজিক অন করে সবাই ড্যান্স করছিলো।এমন সময় একজন ছেলে এসে মাহির সাথে ড্যান্স করার অফার করে।তখন মাহি ছেলেটার সাথে ড্যান্স করছিল আর আশফি মাহিকে পার্টিতে খুঁজে বেরাচ্ছিল।দূর থেকে মাহিকে কারো সাথে ড্যান্স করতে দেখে ওর মাথা গরম হয়ে গেলো।মাহির সামনে গিয়ে দাড়ালো আশফি।
আশফিকে দেখে মাহি দাড়িয়ে গেলো। তারপর মাহির হাতটা ধরে টেনে আশফি রুমে নিয়ে গেলো মাহিকে। মাহি অনেকটা ভয় পেয়ে গেছে।কারণ আশফি এটা কখনোই পছন্দ করেনা। কিন্তু পার্টিতে এভাবে কাউকে এভোয়েড করলে তাকে যে ডিরেক্ট ইনসাল্ট করা হয়ে যায়।তাই মাহি বাধ্য হয়ে ছেলেটার সাথে ড্যান্স করছিল।আশফি মাহিকে বলল,
-“ছেলেটা তোমার কোমরে হাত দিয়েছিল কেনো?
-“ও তো জাস্ট সিম্পল ড্যান্স করছিল আশফি।এছাড়া বেশিকিছু নয়।
-“তুমি কি মনে করেছো আমার মেমোরি লস হয়েছে বলে আমার অভ্যাস,পছন্দ,রুচি এগুলো ও পরিবর্তন হয়ে গেছে?
মাহি কোনো উত্তর দিলোনা আশফির কথার।চোখে ভয় নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়েছিল মাহি।আশফি রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিল।মাহির পেছনে দাড়িয়ে মাহির বাহু ধরে মাহিকে সামনে ঘুরিয়ে দাড় করালো আশফি।ওর কোমড়টা ধরে ওকে কাছে টেনে নিয়ে এলো।কোমড়টা জড়িয়ে ধরে আশফি মাহির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আমি আশফি মাহিকে বা সবকিছুকে ভুলে গেলেও মাহির প্রতি আমার যে যে জায়গায় দুর্বলতা,কঠোরতা,অভ্যাস এই জিনিসগুলো কোনোদিনও ভুলবোনা। এগুলো আমার রক্তে মিশে গেছে।হ্যা মাহি নামটা আমার রক্তে মিশে গেছে। মাহিকে ঘিরে আমার যা রুলস,অভ্যাস আছে তা সারাজীবনেও আমার ভেতর থেকে মুছে যাবেনা।তোমার কি আমার এই জিনিসগুলোতে খুব সমস্যা হবে? তুমি কি চাও আমি এগুলো ভুলে যায়?
মাহি আশফির একদম কাছে এসে ওর বুকে মাথা রেখে বলল,
-“যদি কোনোদিন এই জিনিসগুলো তোমার মাঝে না পাই তাহলে আমার তৈরি ভিডিওতে এগুলো এড করে দিব। আমার আশফির মাঝে আমি সারা জীবন এগুলো দেখতে চাই।তুমি আমাকে যতবারই ভুলে যাবে আমি তোমাকে ঠিক ততোবারই আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবো।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।আমি যে পারবোনা তোমার ভালোবাসা ছাড়া বাঁচতে।
আশফি মাহিকে ওর বুকের কাছ থেকে সরিয়ে মাহির দুবাহু ধরে বলল,
-“আমাকে ভুলে যেতে দিওনা কখনো মাহি।আমি মাহিকে ভুলে বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারবোনা।মরে যাবো।
আশফির মুখে মৃত্যুর কথা শুনে মাহি আশফির ঠোঁটে হাত দিয়ে ঠোঁপ চেপে ধরে ধরলো।আশফি মাহির হাতটা সরিয়ে হাতের আঙ্গুলের মুখে চুমু খেয়ে কিছুটা নিচু হয়ে মাহির ঠোঁটে চুমু খেলো।তারপর মাহিকে জড়িয়ে ধরে মাহির মুখের সাথে ওর মুখটা মিশিয়ে দিয়ে মাহিকে বলল,
-“মাহি সারাজীবন আশফির অন্তরে আশফির প্রতিটা অঙ্গে অঙ্গে এভাবে জড়িয়ে থাকবে।এভাবেই মিশে থাকবে। মাহি শুধু আশফির মাঝেই বিদ্যমান।

ভালোবাসার মাঝেই ওদের ভালোবাসার গল্পটা পরিসমাপ্তি ঘটলো।কেউ কাউকে কখনো ভুলে যেতে দিবেনা এমন প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে ওরা দুজন। ভালোবাসাটা এমনই।একজন আর একজনের মাঝে বিস্তার করে।ভালোবাসার মানুষটা যেমনই হোক তাকে যে ভালোবেসেছি অন্তরের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে।কি করে তাকে ভুলে যেতে দিই আমাকে?তার মাঝেই যে আমি বেঁচে আছি।সে আমাকে ভুলে গেলে আমি কি করে বাঁচবো……
অনেক অনেক ধন্যবাদ সবাইকে আমার গল্পটাকে ভালোবাসার জন্য।শুভকামনা রইলো প্রত্যেকের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here