ভুল এবং ভালোবাসা পর্ব:- ১২

ভুল এবং ভালোবাসা
পর্ব:- ১২
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

অবশেষে দরজা ভেঙে’ই রুমে প্রবেশ করা হলো। একসাথে দু’দুটো দরজা ভাঙবে এটা সত্ত্বেও শুভ্রর বাবা মনে মনে হাসছিলেন আর ছেলেকে বাহবা দিচ্ছিলেন আর মনে মনেই বলছিলেন-
” সাবাস ব্যাটা! এতদিন পর একটা কাজের মত কাজ করছিস। বউ নিয়ে পালাইছিস।”
কিন্তু একি?! এ ছেলে যে এখনো রুমে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে। শুভ্রকে রুমে দেখে বাপ মাইয়্যা দুজনের মুখ’ই অমাবস্যার কালো অন্ধকারের ন্যায় হয়ে যায়। ঘুমড়া মুখে শিশির শুভ্রর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্রর মা মনে মনে আল্লাহর অশেষ শোকরিয়া আদায় করলেন। যাক বাবা! রুমে’ই আছে তবে। কাছে গিয়ে ছেলেকে ধাক্কা দিলেন রোকসানা বেগম। কারো হাতের ধাক্কা পেয়ে চমকে উঠল শুভ্র। চটজলদি বিছানা ছেড়ে উঠে বসল সে। চতুর্দিকে সবাইকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখ ছানাভরা হয়ে যায় শুভ্রর। চোখ কচলে প্রশ্ন করে,
” তোমরা? তোমরা এ ঘরে কেন? আর এভাবে তাকিয়ে কেন আছ?”
কেউ কোনো কথা বলছে না দেখে কাজের মেয়ের দিকে তাকাই শুভ্র। কাজের মেয়ে চোখ ইশারায় ঘড়ির দিকে তাকাতে বললো। শুভ্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ‘থ’ হয়ে যায়। Oh, my god! তিনটা বাজে? এতবেলা অবধি ঘুমালাম? ইনোসেন্ট লুক নিয়ে বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকালো শুভ্র। তারপর ছোট্ট বাচ্চাদের মত বলতে শুরু করল-
” Sorry, baba.Sorry, Maa.I am extremely sorry…..”
আসলে সারাদিনের অভুক্ত শরীর তো। তাই এমন হয়েছে। আর কেউ না জানুক তোমরা তো জানো না খেয়ে ঘুমোলে আমি আর সেদিন বিছানা থেকে উঠতে পারি না। আমাকে ধরে উঠাতে হয়। এখানে আমার কিবা করার আছে বলো?!”
কেউ কিচ্ছু না বলে নিরবে রুম ত্যাগ করে লাবণ্যর রুমে যায় ওর অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য। থাকার মধ্যে শুধু শুভ্রর বাবা’ই শুভ্রর রুমে থেকে গেল। সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলে ছেলের পাশে গিয়ে বসেন ওনি। পাশে বসে ছেলের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছেন যে, মনে হচ্ছে পারলে এখনি গিলে খেত। ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে শুভ্র ওর বাবার দিকে তাকাই।
” সেই কখন থেকে এমনভাবে তাকিয়ে আছ মনে হচ্ছে আমি যেন মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি।” ?
শুভ্রর বাবা আরো ভয়ংকর দৃষ্টি নিয়ে শুভ্রর দিকে তাকালো।
” কি হলো? এভাবে রাগ দেখাচ্ছ কেন?”?

মুখ খুলে শুভ্রর বাবা, গর্দভ কোথাকার! এতকিছুর পরও এখানে পরে আছিস কি করে? বউ নিয়ে পালিয়ে যেতে পারিস না?

শুভ্র অবাক চোখে বাবার মুখের দিকে তাকান। কি বলছেন এসব ওনি? প্রশ্ন করেন বাবাকে, কিন্তু বাবা ও যদি না যায় আমার সাথে??

একরাশ বিরক্তি নিয়ে ছেলের দিকে তাকান মিস্টার চৌধুরী। তারপর গম্ভীর গলায় বলেন, ব্যাটা বোকা কোথাকার! যেতে না চাইলে জোর করে তুলে নিয়ে যাবি। প্রথম প্রথম নাক ফুলিয়ে, মুখ ফুলিয়ে থাকবে। পরে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। শুভ্র মৃদু হেসে বাপের দিকে তাকাই। ওর বাবা বলতে থাকে, ” তোর মায়ের সাথে আমার একবার গন্ডগোল হয়ছিল। তোর মা আমায় ছেড়ে তোর নানাবাড়ি চলে যায়। তোর নানাবাড়ির সবাইও একসাথে জোট বেঁধে লাগে যে, তোর মাকে আর আমার কাছে দিবে না।”
তো আমি কি করলাম জানিস? আমি আমার চাচা শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই। তোর চাচাতো মামি ছিল একটা অনেক ভালো। ওনি তোর মাকে মিথ্যে অজুহাতে বাইরে বের করে আনে। গ্রাম এলাকা। তখন বিদ্যুৎও ছিল না। চারদিকে অন্ধকার। সেই অন্ধকারটাকেই আমি কাজে লাগালাম। তোর মামিকে আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে তোর মাকে কাঁধে তুলে দৌঁড়’ই দৌঁড়। তোর মা চিৎকার দিতে গিয়ে থেমে যায় আমার গলার আওয়াজ শুনে। হাজার হোক স্বামী তো। স্বামীর সম্মান বাঁচাতে চিৎকার আর দিলো না। তবে হাত পা ছুড়াছুড়ি করেছিল অনেক।”
শুভ্রর বাবা এটুকু বলে থেমে যায়। বাপ- ব্যাটা দু’জনে দু’জনের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে মেতে উঠে। রুমে উপস্থিত হয় শুভ্রর মা। ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,
” বলি রং কি বেয়ে বেয়ে পরতেছে? এত হাসাহাসি কিসের?”
বাপ পুত্র দু’জনেই চুপসে যায়।
” সে কিছু না। লাবণ্যর রুমে গিয়েছিলা?”
শুভ্রর বাবার প্রশ্নে ওর মা বলে, হুম গিয়েছিলাম। ঘুম আসছিল না, সেই জন্য ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুম দিয়েছিল নাকি। এখনো মনে হয় ঘুম পুরোটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবছে সেহরি খাওয়ার টাইম হইছে। আমায় বলতেছে মা, তোমরা এভাবে দাঁড়িয়ে আছ কেন? সেহরির সময় যে চলে যাচ্ছে? খাবে না নাকি আজকে? আমি বলে এসেছি, হাত মুখ ধূয়ে পারলে গোসলটাও করে আসিস। সেহরির সাথে আজকে ইফতারটাও করতে পারবি।”
এই অবস্থা? হা, হা করে হেসে দিল শুভ্রর বাবা। শুভ্রর মা ভ্রু কুচকে বলেন, হুম। এখন তুমি উঠে আসো। আর হ্যাঁ, ওকে বলে আসো ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে আসতে। রোজা’তো আজকে দু’দিন ধরে রাখতেছে। ইফতারটাও না হয় তিনঘন্টা আগ থেকেই করা শুরু করবে। শুভ্রর মা চলে যায়।
” যা ব্যাটা! গোসল করে আয়। পরে বুদ্ধি যা করার করা যাবে। মনে রাখিস, এমনি এমনি কোনো কিছু তোর হাতে ধরা দিবে না। অধিকারের সাথে সাথে জোরটাও খাটাতে হবে।” বাবার কথায় অনেকটা শক্তি পেল শুভ্র। তাইতো বাবার দিকে তাকিয়ে একটা ভুবনজয়ী হাসি দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াই শুভ্র।

এদিকে লাবণ্য। শিশিরের থেকে যখন শুনলো যে এটা রাত নয়, দিন। এখন দিনের সাড়ে তিনটে বাজে। তখন থেকেই লাবণ্যর দৌঁড়ানোর শুরু। একবার ব্রাশ নিয়ে ওয়াশরুমে যাচ্ছে তো, আবার ফিরে এসে জামা কাপড় নিয়ে যাচ্ছে গোসলের জন্য। একবার তোয়ালে তো আরেকবার শ্যাম্পুর জন্য রুমের দিকে দৌঁড়াচ্ছে। তাড়াহুড়ো কাজ করলে যা হয় আর কি! তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে গোসলখানার দরজা আটকাতেই ভুলে গেছে লাবণ্য। দরজা খুলা রেখে লাবণ্য যখন ওর চুলে শ্যাম্পু করতেছিল তখন’ই পিছন থেকে একজন বলে উঠে, কয়টা খেয়েছিলে ট্যাবলেট? লাবণ্য পিছু না ফিরেই আঙুল উচিয়ে দেখায়, তিনটা। তারপর আর কোনো কথা নেই। চুলে শ্যাম্পু করা শেষে চুল ভালো ভাবে ধূয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় লাবণ্য। শাওয়ার ছেড়ে নিচে দাঁড়াতেই খেয়াল হয়, কি ব্যাপার? কে প্রশ্ন করেছিল আমায় ঔষধের ব্যাপারে? আর আমি কাকে উত্তর দিলাম? শাওয়ারের নিচ থেকে ক্ষাণিকটা সরে ভেঁজা শরীরেই পিছু ফিরে তাকাই লাবণ্য। গোসলখানার দরজার সামনের দেয়ালে হেলান দিয়ে একমনে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে শুভ্র। খালি গা, শরীরে কাপড় বলতে একটা তোয়ালে ঝুলানো আছে গলায়। শুভ্রকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলে লাবণ্য। মনে মনে-
” ওনি? কখন এলেন চেম্বার থেকে? আর এভাবে খালি গায়ে এখানে কেন দাঁড়িয়ে? আমি ঘুমের ঔষধ খেয়েছি এটা ওনি কিভাবে জানেন? আর ওনি এভাবে হাসছেন কেন?” এলোমেলো সব প্রশ্ন নিজে নিজেকেই করে যাচ্ছে লাবণ্য।
” কি হলো? এভাবে দাঁড়িয়ে’ই থাকবা নাকি আরো যে মানুষ রয়েছে ওদেরকে জায়গা দিবা?” পানির ট্যাব বন্ধ করে ঢোক গিলে লাবণ্যর জবাব, আমি এখন কাউকে জায়গা দিতে পারব না। আমি গোসল করব। কিছুটা রাগী গলায় শুভ্রর পাল্টা প্রশ্ন, তো আমি কি এখানে নাচতে এসেছি? আমিও গোসল করতেই এসেছি। আর শুনো! গোসলখানা’টা কারো একার সম্পত্তি না…… শুভ্র দরজা ঠেলে গোসলখানায় প্রবেশ করল। লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে লাবণ্য। শুভ্র ছিটকিনিটা ভালো ভাবে আটকিয়ে শাওয়ারটা ছেড়ে নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। লজ্জায় লাবণ্য না পারছে কিছু বলতে না পারছে কিছু করতে। শুধু নিশ্চুপ হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। শুভ্র শরীরে সাবান লাগাচ্ছে আর আড়চোখে লাবণ্যর দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে না দেখার ভান করে ইচ্ছে করে’ই পানিরছিটা দ্বারা লাবণ্যকে ভিঁজিয়ে দিচ্ছে।
এতক্ষণ ধরে সব সহ্য করে গেলেও এবার মুখ খুলে লাবণ্য। ধীর গলায় বলে-
” কি করছেন এসব? আমি যে ভিঁজে যাচ্ছি!”
আচমকা শুভ্র বালতি থেকে এক মগ পানি এনে, লাবণ্যর মাথায় ঢেলে দেই। লাবণ্য মুখটা অন্ধকারের মত করে বলে-
” এটা কি করলেন?”
মুচকি হেসে শুভ্রর জবাব, এতক্ষণ পুরোপুরি ভিঁজনি, তাই এখন পুরোপুরি ভিঁজিয়ে দিলাম। এখন আসো গোসল করিয়ে দেই।
লাবণ্য কিছুটা পিছু সরে যায়। শুভ্র লাবণ্যর দিকে এগিয়ে যায়। কি হলো? এভাবে পিছনে যাচ্ছ কেন? লাবণ্যর শেষ সীমানা দরজাতে গিয়ে মিশে যায়। শুভ্র লাবণ্যর সামনে গিয়ে দাঁড়াই। লজ্জায় লাবণ্য শুভ্রর চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। আবার ভেঁজা শরীর নিয়ে বাইরেও যেতে পারছে না। নিরুপায় লাবণ্য তাই মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে আছে। লাবণ্যর লজ্জা রাঙ্গা মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চট করে হাতটা ধরে একটানে শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। লাবণ্য তখনও মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে। থুতনি ধরে মুখটা উপরের দিকে তুলে মুখের দিকে একটা আঙ্গুল নিয়ে যায় শুভ্র। লজ্জায় চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে লাবণ্য। গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁটজোড়াতে মৃদু কম্পনের সৃষ্টি হয়েছে। ভীরু চোখের পাতা দুটি কাঁপছে। লাবণ্যর পুরো মুখ লজ্জায় লাল বর্ণ ধারণ করেছে। শুভ্র দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে সে দৃশ্য’ই দেখছে। কিছু করছে না দেখে চোখ খুলে লাবণ্য। শুভ্র তখনো লাবণ্যর মায়া মায়া মুখপানে’ই তাকিয়ে ছিল। লাবণ্যর ডাকে ঘোর কাটে ওর। ছাড়েন….. শুভ্র ওর একহাত দ্বারা লাবণ্যর কোমড়ে ধরে রেখেছিল। লাবণ্যর কথায় কোমর ছেড়ে দু’হাতে শুভ্র লাবণ্যর গাল চেপে ধরে। লাবণ্য ফ্যালফ্যাল করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ভাবছে, আজ এমন কেন করতেছেন ওনি? আর ওনার এত সাহস এলো কোথা থেকে আজকে? শুভ্র লাবণ্যর দু’গাল চেপে ধরে বলতে শুরু করে-
” আমি স্যরি লাবণ্য। আমি আসলে জানতাম না তোমার আব্বু আম্মু নেই। আর তুমিও তো আমাকে জানাওনি। জানালে এতকিছু হতো না। জানো আমি তোমায় কিভাবে খুঁজেছি? তোমার নাম্বার বন্ধ পেয়ে আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। এদিকে আমি তোমার ঢাকার বাসার ঠিকানাও জানতাম। তোমাকে এ শহরে কত জায়গায় যে খুঁজেছি, যদি তুমি বুঝতে পারতা! সবসময় একটা ভয় আমায় তাড়িয়ে বেড়াতো, ও ঠিক আছে তো?! আমি তোমার সব বান্ধবীদের কাছে তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি, ওরা কিচ্ছু বলেনি। আমি তোমার গ্রামের বাড়ির ঠিকানাও চেয়েছিলাম ওদের কাছে, ওরা ঠিকানাটাও দেয়নি। তখন যে আমার কেমন অবস্থা হয়ছিল যদি তখন দেখতা তাহলে বুঝতে পারতা! লাবণ্য আমি ইচ্ছে করে এমন করিনি। আমার বন্ধুরা আমায় পাগল বানিয়ে দিয়েছিল। তোমায় নিয়ে বাজে কথা বলত। বলত-
” আরে ব্যাটা! ঐ মাইয়্যা তো মনে হয় সুখেই দিন কাটাচ্ছে, তুই কেন এমন দেবদাস মার্কা চেহারা বানিয়েছিস? খুঁজ নিয়ে দ্যাখ! ও হয়তো নতুন কাউকে পেয়ে গেছে।”
এরকম হাজারো কথা প্রতিনিয়ত ওদের থেকে শুনতে হতো আমার। একটা সময় ওদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই। তবুও ওদের কথা পাত্তা দেইনি। কিন্তু সেদিন যখন হসপিটাল থেকে ফিরার সময় তোমাকে একটা অচেনা ছেলের সাথে দেখি, তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি জানতাম না এ তোমার কাজিন ছিল। জানলে এমন ধারণা মনে পোষতাম না। লাবণ্য জানো তোমার সাথে এই যে আমি এত খারাপ ব্যবহার করতাম, আমার খুব কষ্ট হতো। খুব বেশী কষ্ট হতো। তবুও কষ্ট দিতাম। কারণ, তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো আমি বুকের মধ্যে পুষে রেখে দিয়েছিলাম। যতবারই চেয়েছি তোমার কাছে যেতে, ততবারই মনে পরে গেছে এ তো সেই মেয়ে! যে তোর স্বাভাবিক জীবন নষ্ট করে দিয়েছিল। রেগে গিয়ে তখনি তোমার সাথে উল্টাপাল্টা আচরণ করতাম। লাবণ্য জানো, তুমি চলে আসার পর থেকে একটা রাতও আমি শান্তিতে ঘুমোতে পারিনি। অজানা এক শূন্যতায় ভেতরটা কেমন খাঁ, খাঁ করেছে। ছন্নছাড়া পাখির মত আমি শুধু ডানা ঝাপটাইতাম। তুমি চলে আসার পর থেকে একটা রাতও আমি ভালো ভাবে ঘুমোতে পারিনি লাবণ্য। সেদিন শিশিরের থেকে যখন জানতে পারলাম তোমার এবং পরিবারের কথা, তখন আমার সব, সব ভুল কেটে গেছে লাবণ্য। আমি বুঝতে পারছি লাবণ্য আমি অনেক বড় ভুল করেছি, যার কোনো ক্ষমা নেই। এখন তুমি যদি আমায় ক্ষমা করতে না চাও তাহলে করো না। এতে আমার একটুও আফসোস নেই। কিন্তু প্লিজ লাবণ্য তুমি আর এভাবে মুখ ফিরিয়ে থেকো না। আমার কষ্ট হয়। ভালোবাসা না দাও, শাস্তিটুকু দাও লাবণ্য। তবুও প্লিজ এভাবে আর এমন করে থেকো না।”
লাবণ্যর চোখ জলে টলমল করছে। শুভ্রর হাতের মুঠো থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, ” মা ডাকতেছে। তাড়াতাড়ি বের হোন। আমি চেঞ্জ করব।”
শুভ্র মায়ের ভয়ে তাড়াতাড়ি গোসল সেরে চলে যায়। শুভ্র চলে যাওয়ার পর শুকনো মুখে একটা হাসির রেখা টেনে লাবণ্যর জবাব,
” হা, হা শাস্তি! সেতো আপনাকে দিব’ই, এমন শাস্তি যা আপনি কখনো কল্পনাও করতে পারবেন না।”

চলবে…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here