বিসর্জন শেষ_পর্ব

0
737

বিসর্জন শেষ_পর্ব

অবশেষে আমার সাথে লিজার বিয়েটা হয়ে গেল।প্রচন্ড অনিচ্ছা সত্তেও এই বিয়েটা আমাকে করতেই হল।

লিজাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর মা এসে আমাদেরকে বরন করে ঘরে তুলল।বিয়ে বাড়িতে সাবাই এসে ভীর করেছে নতুন বউ দেখতে।এসব দেখে আমার ভাল লাগতে ছিল না।তাই আমি ঘর থেকে বের হয়ে যায়,,,,

এখন বাজে রাত বারোটা।বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পরেছে।ঘরে এসে দেখি লিজা খাটের উপরে বসে আছে।হয়তো আমার অপেক্ষাতেই বসে আছে।কিন্তু আমি তো এমনটা কখনো চাইনি।

ঘরে থাকতে মোটেও ইচ্ছা হচ্ছে না।তাই বারান্দায় চলে আসলাম।পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ধরালাম।অনেক দিন ধরে সিগারেট খাওয়া হয় না।সিগারেট টানতেছি আর ধোঁয়া ছাড়ছি,,,,

এর সাথে সাথে একবছর আগের স্মৃতি গুলি মনে পরে গেল।

সেদিন লিনা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।ডাক্তার লিনাকে দেখার পরে কিছু টেস্ট করতে দেয়।লিনার টেস্ট গুলি করিয়ে ওরে বাসায় দিয়ে তারপর আমি বাসায় ফিরি।

সেদিন বাসায় আসার পরে খুব চিন্তা হচ্ছিল কাল লিনার কি রিপোর্ট আসে এটা নিয়ে,,,

পরের দিন ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট নিয়ে যাওয়ার পরে ডাক্তার রিপোর্ট দেখে যা বলল এমন কিছু শুনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।ডাক্তার যখন বলল লিনার ব্রেন টিউমার হয়েছে।এটা শুনার পরে আমার পৃথিবীটাই কেমন যেন উলট পালট হয়ে গেল।

এর পরে দেশের অনেক বড় বড় ডাক্তার লিনাকে দেখিয়েছি কিন্তু কোন ডাক্তারেই লিনাকে সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দিতে পারল না।আর এদিকে যতই দিন যাচ্ছিল লিনার অবস্থার ততই অবনতি হচ্ছিল।

তারপর নিলাকে দেশের বাহিরে নিয়ে গেলাম।কিন্তু সেখানের ডাক্তাররাও তেমন কোন আশ্বাস দিতে পারছিল না।এভাবেই চলে গেল আরো কিছুদিন।

তারপর একটা সময় ডাক্তার জানিয়ে দিল ওনাকে নিয়ে দেশে চলে যান।ওনার সুস্থ হওয়ার মত আর কোন চিকিৎসা নেই।ওনি এই মূহুর্তে ওনার জীবনের লাষ্ট স্টেজে আছেন।যে কোন সময় ওনার কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।

ডাক্তারের থেকে কথা গুলি শুনে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল তখন।একটা মানুষ চখের সামনে তিল তিল করে শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তার জন্য কিছুই করতে পারছি না আমরা।লিনার বাবা আর লিজা খুব ভেঙে পরল ডাক্তারের কথা শুনে।এদিকে লিনাও কিভাবে যেন সব জেনে গেল।

দেশে ফিরেই লিনা সবাইকে একসাথে তার ঘরে ডাকলো।আমি,লিজা,আঙ্কেল সবাই লিনার কথা শুনার জন্য ওর ঘরে গেলাম।আমাদের সবার উদ্দেশে লিনা বলল,,,,

– তোমরা আমাকে না বললেও আমি ঠিকি বুঝতে পেরে গেছি আমি আর বেশি দিন বাঁচবো না।আমি মরে যাবো এতে আমার কোন দুঃখ নেই।কিন্তু আমি মরে যাওয়ার আগে যদি তোমাদের কাছে কিছু চাই তোমরা কি আমাকে তা দিবে ??

আমরা সবাই তখন কান্না জরিত কন্ঠে বললাম। তুমি কি চাও বল।আঙ্কেল লিনার কাছে গিয়ে লিনার মাথা আঙ্কেলের বুকে নিয়ে আঙ্কেল কান্না করতে করতে বলল।তুই কি চাস আমাকে বল মা,,,,

– বাবা আমি মারা যাওয়ার আগে আমার আপুর বিয়েটা আমি দেখে যেতে চাই।

আচ্ছা মা তাই হবে।আমি লিজার জন্য কাল থেকেই ছেলে খুঁজতে ঘটক কে খবর দিচ্ছি।

– না বাবা,তোমাকে ছেলে খুঁজতে হবে না।আপুর জন্য ছেলে আমি পছন্দ করেছি।

তুই কার কথা বলছিস মা ?

– লিনা যখন আমার দিকে তাকিয়ে আমার নাম টা বলল।আমি এটা শুনে খুব অবাক হলাম।লিনা এটা কি করে বলতে পারল।আমি তো ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না।তাহলে সে এটা কেমন করে বলল।

লিনার মুখে এটা শুনে আমি সাথে সাথেই বললাম না লিনা এটা আমি কখনোই করতে পারবো না।আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চাইনা লিনা।

একটা সময় লিনা আমাকে এমন ভাবে বলল।তখন আমি খুব দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পরে গেলাম।একদিকে মৃত্যু পথ যাত্রী লিনার কথা রাখতে লিজাকে বিয়ে করতে হবে আর অন্যদিকে আমার ভালবাসা।আমি কি করব কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

তখন আঙ্কেল আমাকে বলল,,,বাবা তুমি কি আমার মেয়ের কথা টা রাখবে না ??

আমি আঙ্কেলকে কি উত্তর দিব ভেবে পাচ্ছিলাম না।

একটা সময় লিনার কথা রাখতে গিয়ে আমার মনের অবাধ্য হয়েই এই বিয়েটা করতে আমি রাজী হলাম।

সেদিনের এই একটা ঝড়েই আমার জীবনটা কেমন উলট পালট করে দিল।

ওফফ,,,,,হাতে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা লাগলো।কখন যে আমার জীবনের মত করে হাতে থাকা সিগারেট টাও পুরতে পুরতে ছাই হয়ে গেল খুঁজি পেলাম না।

এর মধ্যেই হটাৎ ফোনটা বেঝে উঠল।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি আমার ফোনে তো কোন কল আসেনি তাহলে শব্দটা কোথায় থেকে আসছে,,,

পরক্ষণেই মনে হল ফোন বাজার শব্দটা আমার ঘর হতে আসছে।হয়তো লিজার ফোনে কল আসছে,,,,

কিন্তু এত রাতে লিজাকে কে ফোন করল।এটা ভাবতেই,,,

খুব জোরে একটা চিৎকারের আওয়াজ কানে আসলো।আমার এই চিৎকারের কারন বুঝতে একটুও দেরি হল না।এই চিৎকার শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস আর চখের কোনে দু-ফোটা জল চলে এলো আমার….

#সমাপ্ত

গল্পটা আজকে শেষ করে দিলাম।আমি আমার সবটুকু দিয়েই গল্পটা লিখতে চেষ্টা করেছি।জানি না কেমন হয়েছে,এটা আপনারাই ভাল বলতে পারবেন।

যারা দৈর্য্য নিয়ে পুরো গল্পটা পরেছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

লেখা || Tuhin Ahamed

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here