ধর্ষিতা_বউ পার্ট:৩৫

0
471

ধর্ষিতা_বউ

পার্ট:৩৫

#Rabeya Sultana Nipa

 

__আয়ান প্রাপ্তির দিকে ফিরে নিজের থুতনিটা প্রাপ্তির মাথার উপর রেখে প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে, কখনো নিজেকে অবহেলা করবেনা।নিজের মাথা উঁচু করে বাঁছতে শিখো।নিজের পায়ের তলার মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।নিজেকে স্ট্রং ভাবে গড়ে তোলো প্রাপ্তি।তোমাকে এইটা ভুলে গেলে চলবেনা তুমি আয়ান চৌধুরীর ওয়াইফ। আয়ান এতো সহজে ভেঙে পড়েনা।তেমনি তুমিও ভেঙে পড়বেনা।আমি সারা জীবন তোমার পাশে ছায়ার মতো থাকবো না তোমাকে সামলানোর জন্য।তোমাকে পরিস্থিতির সাথে সামলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।কথা গুলো বলে প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিয়ে চলো ফ্রেশ হবে।কোনো ভুলভ্রান্তি মনে রাখবেনা।সারা দিনে চেহারাটার কি অবস্থা করেছো আয়নাটা একবার দেখো।কথা গুলো বলতে বলতে প্রাপ্তিকে ওয়াশরুমের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও আমি দেখে আসছি বাহিরের কি অবস্থা। বিকাল থেকে সবাই তোমাকে নিয়ে অনেক চিন্তায় আছে।
আয়ান রুম থেকে বাহিরে গিয়ে দেখে সবাই এখনো ড্রইংরুমেই বসে আছে।আয়ান মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে কি ব্যাপার সবাই এইভাবে বসে আছো।অরণী! নীরাকে এখনো বসিয়ে রেখেছো কেনো?নীরা আর ভাইয়াকে ওদের রুমে দিয়ে আসো সবাই।আয়ান এমন ভাবে কথা বলছে জেনো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

অরণী -ভাইয়া আমি অনেক আগেই বলেছি।কিন্তু সবাই বলছে আপু আসুক তারপর।নীরা ভাবী ও তাই বলছে।আপুকে না দেখে রুমে যাবেনা। প্রাপ্তি অনেকক্ষণ পরে গোসল করে ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে খাটের উপর এসে বসলো।আয়ানের কথা গুলো তার কানে বাজছে, আজ নিজেকে খুব ভাগ্যে বাণ মনে হচ্ছে আয়ানকে জীবনে পেয়ে।আয়ানের এই ভালোবাসা, বিশ্বাস আমার প্রতি সারাজীবন থাকবে তো? নাহ্ এইটা আমি কি ভাবছি ও আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারেনা। কথা গুলো ভাবতেই নীরা দরজায় এসে দাঁড়িয়ে, আপু আসবো?
প্রাপ্তি দরজায় নীরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, নীরা পারমিশন নেওয়ার কি আছে? ভিতরে আসো।এই বাড়িটা এখন থেকে তোমারও আমারা শুধু দুই দিনের অতিথি। তাই পারমিশন নিতে হবেনা।
নীরা রুমের ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে, আপু তুমি তো দেখছি আমাকে এখনি পর করে দিতেছো।যাইহোক আগে এইটা বলো তোমার শরীর এখন কেমন আছে?

প্রাপ্তি -নিছের দিকে তাকিয়ে, হুম আমি ঠিক আছি।তোমাকে এখনো এতো রাত পর্যন্ত বসিয়ে কে রেখেছে?

নীরা -আপু আমি আপনাকে দেখবো বলেই রুমে যাইনি।
আয়ান এসে রুমে ঢুকেই কি ব্যাপার নীরা আপুকে দেখতে চেয়েছিলে এখন দেখে তাড়াতাড়ি রুমে যাও বলেই আয়ান তোয়ালেটা নিয়ে ওয়াশ রুমে যাবে এমন সময় নীরা প্রাপ্তির পাশে গিয়ে বসে আচ্ছা আপু তুমি জয় কে দেখে এইভাবে চিৎকার দিলে কেনো? তুমি কি ওকে আগে থেকে চিনতে? কথাটা শুনেই আয়ান থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো।প্রাপ্তি আয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।আয়ান নীরার কাছে এগিয়ে এসে নীরা ওই ছেলেটা তোমার কি হয়?
নীরা উঠে দাঁড়িয়ে ভাইয়া ও তো আমার কাজিন হয়।
আয়ান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তি অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে।প্রাপ্তির কাছে এগিয়ে গিয়ে বালিশটা ঠিক করে দিয়ে প্রাপ্তিকে শুয়ে কাঁথাটা গায়ের উপর দিতে দিতে নীরা তুমি এখন যাও।তোমার সাথে আমি সকালে কথা বলবো।

নীরা -ভাইয়া আমি কি কোনো অন্যায় করে ফেলছি?
আয়ান -নীরা! তোমার আপু একটু অসুস্থ এখন তোমার সাথে ও কোনো কথাই বলবে না।সকালে দেখবে ও তোমার সাথে ঠিক কথা বলবে।অরণী! অরণী! কোথায় তুমি?

আয়ানের ডাকে অরণী এসে ভাইয়া কিছু বলবে?
আয়ান -নীরাকে নিয়ে ওর রুমে দিয়ে আসো।যাও নীরা অরণীর সাথে যাও।
নীরাকে সুমি আর অরণী রুমে দিয়ে গেলো।
আসিফ অভ্র আর আকাশের সাথেই বসে কথা বলছে।সুমি এসে আসিফকে বললো,নীরাকে রুমে দিয়ে আসছি তুমি রুমে যাও।

আকাশ -আসিফ তাহলে শুভ কাজে আর দেরি করা ঠিক হবেনা।তুমি রুমে যাও ভাই।বলেই হাঁসতে শুরু করলো।আকাশের কথা শুনে আসিফ লাজ্জা পেয়েছে দেখে, অভ্র আসিফকে জোর করে উঠিয়ে রুমের দরজার সামনে এনে ভাই বাকী টা আপনার জন্য রেখে গেলাম।অভ্র আসিফকে দিয়েই হাঁসতে হাঁসতে এসে আকাশের পাশে বসলো।অভ্র ফোনের এসএমএস এর শব্দ শুনে পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে আয়ান তাকে এসএমএস করেছে ছাদে যাওয়ার জন্য, সেইখানে অভ্রর জন্য অপেক্ষা করছে।অভ্র সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ছাদে গিয়ে দেখে আয়ান ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।অভ্র এসে
পিছনে দাঁড়িয়ে,আয়ান হঠাৎ এই সময় ছাদে? অভ্রর কথা শুনে আয়ান পিছনের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো।

অভ্র -প্রাপ্তির কি অবস্থা এখন? বিকেলবেলা আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ওর অবস্থা দেখে।তুই ওকে একা রেখে ছাদে আসা এখন একদম ঠিক হয়নি।তোর যদি কিছু বলার থাকে সেটা কালকেও তো বলতে পারতি।

আয়ান -আমার হাতে এতো সময় নেই।তোকে যেই কাজের জন্য ডেকেছি সেটা মন দিয়ে শুন,আজ যেই ছেলেকে দেখে প্রাপ্তি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো তার নাম জয়।

অভ্র ভ্রু কুঁচকে আয়ানের দিকে তাকিয়ে, তুই কি করে জানলি?

আয়ান -নীরা বলেছে।ওই ছেলেটা নীরার কাজিন হয়।তুই এক কাজ কর ওই ছেলের বাড়িতে খবর নে কে কে আছে।ছেলেটা কোথায় কি করে।সব ডিটেল আমার চাই আর সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই।

অভ্র -হুম।সময় মতো পেয়ে যাবি।আগে এই বাড়ির ভেজাল মিটে যাক।

আয়ান -ওকে।আর এই কথা গুলো শুধু তোর আর আমার ভিতরে থাকবে।চল এইবার নিছে যাই।
আয়ান এসে দেখে প্রাপ্তি ঘুমাচ্ছে।প্রাপ্তির মাথার উপরে হাত রেখে, বিড়বিড় করে বলছে,আল্লা যা করে ভালোর জন্যই করে প্রাপ্তি! ওই ছেলের তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালোই হয়েছে।কারণ ওদের শাস্তিটা যে পাওনা রয়ে গেছে।আর সে শাস্তি দিবে তোমার আয়ান।যে তোমাকে তার ছেয়ে বেশি তোমায় ভালোবাসে,বিশ্বাস করে।ওদের সবাইকে আমি এমন শাস্তি দিবো যে কোনো মেয়ের দিকে তাকালে আগে আয়ান চৌধুরীর কথা মনে করবে।আয়ান লাইট অফ করে দিয়ে প্রাপ্তিকে নিজের কাছে টেনে বুকের উপরে রেখে শুয়ে পড়লো।
প্রাপ্তির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে কখন যে নিজেও ঘুমিয়ে পড়লো তার মনে নেই।

সকাল বেলা সুমি আর ঝিনুক ফ্রেশ হয়ে এসে ড্রইংরুমে বসেছে।রুমকি এসে সুমির কোলে উঠে বসেছে দেখে ঝিনুক কড়া গলায় রুমকিকে বললো, রুমকি তোমার মা মনি মাত্র এসে বসলো আর তুমি আসতে না আসতেই কোলে উঠে গেলে? তুমি এখন বড় হয়েছো, নামো কি হলো নামো বলছি!

সুমি -আপু থাকনা! কে বলেছে রুমকি বড় হয়েছে আমার কাছেতো আমার ছোটো আম্মুটাকে এখনো ছোটোই আছে।(রুমকির গালে একটা চুমু দিয়ে)

ঝিনুক -ভাবী তুমি ওকে আশকারা দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছো।আর তুলো না পরে নামাতে পারবেনা।

নিলিমা বেগম আর অরণী রান্নাঘরে সবার জন্য নাস্তা রেডি করছে।নীরা উঠে এসে ড্রইংরুমে সুমি আর ঝিনুককে দেখে মুচকি হাঁসি দিয়ে রান্নাঘরের দিকে গেলো।
নীরাকে দেখে অরণী বললো কি ব্যাপার ভাবী এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেলো?
নীরা এই কথার আনসার না দিয়ে আপু আমি তোমাদের সাথে হেল্প করি?
নিলিমা বেগম নীরা কথায় মুচকি হেঁসে একটু এগিয়ে এসে, একদম না! তুমি মাত্র কাল এই বাড়িতে এসেছো কয়েক দিন যাক তারপর না হয় আস্তে আস্তে সব শিখিয়ে দিবো।অরণী এসে চায়ের ট্রে টা হাতে দিয়ে তোমাকে আর কোনো কাজ করতে হবেনা শুধু চা টা সবাইকে দিয়ে আসো।
নীরা হাতে চায়ের ট্রে টা নিয়ে, আপু এইখানে চায়ের সাথে যে কফি ওইটা কাকে দিবো?

অরণী -ওহ তোমাকে তো বলতে ভুলে গেছি, ওই কফিটা আয়ান ভাইয়াকে দিও।
নীরা সবাইকে চা দিয়ে নিজের রুমে আসিফের জন্য চা নিয়ে আসলো।
আসিফ ফ্রেশ হয়ে এসে নীরার থেকে চা নিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চা কি তুমি বানিয়েছ?

নীরা -না! শুধু হাতে করে আপনার জন্য নিয়ে আসলাম।চা মা বানিয়েছে।

আসিফ -সেটা আমি ভালো করেই জানি চা আমার মা বানিয়েছে,দেখলাম আর কি তুমি কি বলো।

নীরা -ওওও আচ্ছা।তোহঃ আপনার ঘুম কেমন হলো?এতো ঘুম কাতুরী মানুষ আমি জন্মেও দেখিনি।

আসিফ -হুম বেশ ভালো।কিন্তু এই প্রশ্নটা কেনো?

নীরা -কেনো সকাল হতেই ভুলে গেলেন? মানুষ বাসর রাত নিয়ে নাকি অনেক সপ্ন দেখে, কিন্তু আপনি,,,,,,,আচ্ছা আপনি সারাজীবন ঘুম সপ্ন দেখে আসছিলেন নাকি?তাই মনে হয় কাল রাতে কুমড়ো পটাশের মতো পড়ে ঘুমিয়েছেন।
নীরা কথা শুনে আসিফ অট্র হাঁসিতে গড়াগড়ি পড়তে লাগল।নিজের হাঁসিকে একটু কন্ট্রোল করে,আছা কুমড়োপটাশ টা কে? তোমার নানা না দাদা?
আসিফের কথা শুনে নীরা এক গাল অভিমান নিয়ে, আপনি হাঁসছেন?আপনি জানেন? আপনার সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি আপনাকে নিয়ে কতো ভেবেছি।ভেবেছিলাম সারারাত বসে আপনার সাথে গল্প করবো।কিন্তু আপনি পড়ে পড়ে ঘুমালেন।

আসিফ -সরি নীরা! ওকে তোমার সাথে আজ সারারাত বসে গল্প করবো।এইবার তো একটু হাঁসো।

আয়ান কফি হাতে করে রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখে সবাই ড্রইংরুমে বসে চা খাচ্ছে।নিহাদ আয়ানকে দেখে, কি শালা বাবু তোমার বউয়ের কি অবস্থা?

আয়ান বসতে বসতে একদম পারফেক্ট।

আজাদ সাহেব এসে সিয়ামকে বললো, সিয়াম! নতুন বউদের বাড়ি থেকে লোক জন কয়টার সময় আসবে খবর নিয়ে দেখো।অবশ্য যাদের আয়ান রান্নার জন্য এনেছে তাদের রান্না ঘনিয়ে আসছে।

আয়ান এদিক সেদিক তাকিয়ে রেশী কোথায়? এই বাড়িতে আশার পর দেখছি দূরে দূরে সরে থাকে। ওর কি মন খারাপ নাকি অন্য কিছু তাও তো বলছে না।রেশী! রেশী! বলে ডাকতেই রেশী ড্রইংরুমে এসে ভাইয়া আমাকে ডেকেছেন?
এইদিকে নিহাদের চোখে চোখ পড়তেই রেশী নিছের দিকে তাকিয়ে আছে।

আয়ান -রেশী! কি হয়েছে তোর? এইরকম দূরে দূরে সরে থাকিস কেনো?

নিহাদ আয়ানের কথা শেষ হতেই, আয়ান! যদি বলি আমার জন্য মনে হয় ও দূরে দূরে থাকে।হয়তো আমার থেকে আড়াল হওয়ার জন্য।
নিহাদের কথা শুনে আয়ান অবাক হয়ে নিহাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেশীর দিকে তাকালো।

চলবে,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here