গ্যাংস্টার_Gangstar-Part 01

0
259

গ্যাংস্টার_Gangstar-Part 01
লেখা_রওনাক_ইফাত_জিনিয়া

.আজ আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন কারন আজ আমার বিয়ে।পার্লারে বসে আছি আর দুজন মহিলা আমার সাজগোজ নিয়ে খুব ব্যস্ত।যদিও পার্লারে সাজগোজের কোন ইচ্ছেই আমার ছিলনা কিন্তু মিতুর জোরেই আসা হল পার্লারে।সকালে মিতু এসেই আগে বলেছিল-

মিতুঃ কিরে নীলা কোন পার্লারে যাবি রে তুই সাজতে?

আমিঃ তুইতো জানিস আমার বিয়েটা ঘরোয়াভাবেই হচ্ছে তাই কোথাও যাব নারে বাসাতেই যা পারি করব।

মিতুঃ এটা কেমন কথা?বিয়েতো জীবনে একবারই হবে তাই ভালভাবে উপভোগ করা উচিত।আর দেখতে ভাল লাগারও তো একটা ব্যাপার আছে নাকি?

আমিঃ এমনিতেই অনেক ঝামেলা চলছে তাই ভালভাবে বিয়েটা শেষ হলেই সবাই বেঁচে যায়।

মিতুঃ হাসানের সাথে কথা হয়েছে তোর ওই কি চায় তুই বাসাতেই সাজগোজ করবি?

আমিঃ না কথা হয়নাই।

মিতুঃ এটা কেমন কথা যার সাথে আজ তোর বিয়ে হতে যাচ্ছে তারসাথে তুই কথা বলিসনি?

আমিঃ কথা বলিনি কে বলল?যখন দেখতে এসেছিল তখন কথা হয়েছে আর সব জেনেই বাবা-মা বিয়ে ঠিক করেছে এবং তাদের উপর আমার ভরসা আছে।

মিতুঃ কি বলিস এসব আর হাসান এই বিয়েতে আদৌ রাজি কিনা এসব কিছুওতো তুই জানিসনা।

আমিঃ যখন আমাকে দেখতে এসেছিল তখনতো আমাদের আলাদাভাবে কথা বলতে দেয়া হয়েছিল কই কখনতো ওই এসব কিছু বলেনি?

মিতুঃ তবেতো ভালই।এখন এসব রেখে চল পার্লার থেকে সেজে আসি।

আমিঃ নারে এমনিতেই ঝামেলার শেষ নেই।আমি আর ঝামেলা বাড়াতে চাইনা আর মা ও রাজি হবেনা।

মিতুঃ আমি আন্টির সাথে কথা বলছি।

আমিঃ মিতু শোন আমার কথা..

আমার কোন কথা না শুনেই মিতু চলে গেল।যদিও এই বিয়েতে আমার আর হাসানের পরিবার ছাড়া বাইরের কাউকেই বলা হয়নি তবে মিতু আমার খুব ভাল বান্ধবী তাই ওরে আনা হয়েছে যেন আমার খারাপ না লাগে।

জীবনে কখনও ভাবিনি আমার বিয়েটা এভাবে চুপিচুপি হবে।কত স্বপ্ন ছিল আমার বিয়ে নিয়ে অথচ আজ সেসব স্বপ্নই রয়ে গেল।সবকিছুই ভাগ্য আমার ভাগ্যে যা ছিল তাই হচ্ছে।

মিতুঃ আন্টি তুমি কি খুব ব্যস্ত এখন?তোমার সাথে কিছু কথা ছিল শোনার সময় হবে?
মাঃ ব্যস্তই তো এত কাজ।তুই কি বলছিলি বলনা আমি শুনছি?

মিতুঃ আন্টি আমি নীলাকে নিয়ে পাশের পার্লার থেকে সেজে আসি তুমি যদি অনুমতি দেও তো।

মাঃ কি বলছিস এসব তুইতো জানিস মা বাধ্য হয়েই আমাদের একমাত্র মেয়েকে এতছোট থাকতেই আমাদের বিয়ে দিতে হচ্ছে।কত স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে.. আর বিয়েতে শুধু ঘরের মানুষই থাকবে তাই তুই ওরে বাসাতেই সাজাবি।আমি চাইনা আজ নীলার বিয়ে এটা জানাজানি হোক তাইতো আমার বোনের বাসাতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

মিতুঃ আমি সব জানি আন্টি কিন্তু তুমি একবার নীলার কথাটা ভেবে দেখ ওর কি দোষ?মেয়েটা নিজের বিয়েতে নিজে একটু মন খুলে আনন্দ করবে তার উপায় নেই আর তুমিতো জানই ওই তোমাদের কথা ভেবেই এই বিয়েতে রাজি হয়েছে।তাই আমি চাচ্ছিলাম ওরে একটু ভালভাবে সাজাতে যেন ভবিষ্যতে আর ছবিগুলো দেখেও ওর কষ্ট না লাগে যে একটাও ভাল ছবি নেই।

মাঃ আমি ওর মা তাই ওর কষ্টটা আমি বুঝি।কিন্তু বাইরে সাজলে লোকজন দেখবে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে বলবে নিজের বাড়ি থাকতে কেন এত দূরে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে তখন কি উত্তর দিব তুই বল?

মিতুঃ আমি কথা দিচ্ছি আন্টি আমরা গাড়িতে করে গিয়ে সেজে আবার গাড়িতে করেই ফেরত আসব কেউ দেখবেনা আমাদের।

মাঃ কিন্তু মিতু…

মিতুঃ কোন কিন্তু না আন্টি।মেয়েটার দিকে তাকাও একবার কেমন মনমরা হয়ে বসে আছে।আমার উপর তোমার বিশ্বাস আছেতো আন্টি?

মাঃ আমি তরে নিজের মেয়ের মতই ভালবাসি আর বিশ্বাস করি মিতু।আচ্ছা ঠিক আছে এতকরে যখন বলছিস নিয়ে যা তবে সাথে লাবণ্যকেও নিয়ে যা।

মিতুঃ আচ্ছা আন্টি।ঠিক আছে।

তারপর আমি,মিতু,লাবণ্য আন্টি(যে খালার বাসায় বিয়েটা হচ্ছে উনার ননদ) তিনজনে পার্লারে গেলাম।পার্লারটা কাছেই ছিল।পায়ে হাঁটলে খালার বাসা থেকে বিশ মিনিটের পথ।

আমাদের সাজগোজ শেষ।বাসায় যাওয়ার জন্য যখনই গাড়িতে উঠতে যাব ঠিক তখনই আরেকটা গাড়ি এসে কিছু বুঝার আগেই তিনজন লোক আমাকে জোর করে ধরে গাড়িতে তুলে নিল।সবকিছু এতদ্রুত ঘটল যে আমরা তিনজনেই অনেক বেশি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম আর কিছু যে করব তার কোন উপায়ই ছিলনা।সবাই ঘুরের মধ্যে ছিলাম।যখন ঘোর কাটল ততক্ষনে আমাকে গাড়িতে তুলে গাড়ি চালানো শুরু হয়ে গেছে।আমি অনেক চেষ্ঠা করছিলাম নিজেকে ছাড়ানোর কিন্তু দুজন আমার দুপাশে বসে আমাকে ধরে রেখেছিল।কিন্তু আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।শেষে আমাকে অচেতনের ঔষধ দেয়া হল।তারপর আর আমার কিছুই মনে নেই।

যখন জ্ঞান ফিরল তখন নিজেকে একটা বেডে আবিষ্কার করলাম।কিন্তু আমি এখানে কখন আসলাম আর কিভাবে আমাকে আনল এসবের কিছুই আমার মনে নেই।এখন আমি কোথাই আছি আর কেনইবা আমাকে এখানে আনা হয়েছে বলতে পারবনা।আমি চারপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্ঠা করছি কোথায় আছি আমি।তাকিয়ে দেখলাম রুমটা খুব সুন্দর গুছানো।প্রতিটা জিনিস খুব সুন্দর ভাবে সাজানো।রুমটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে রুমটা যার সে খুব গোছানো প্রকৃতির মানুষ আর তার রুচিবোধেরও তারিফ করতে হয়।

ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত দশটা বাজে।তারমানে আমি প্রায় নয় ঘন্টা যাবত অজ্ঞান ছিলাম কারন যখন পার্লার থেকে বের হলাম তখন আনুমানিক সময় একটা হবে।না জানি এখন বাসায় কি হচ্ছে?বাবা-মার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে তা আল্লাহ্ জানে?তারা নিশ্চয় অনেক টেনশনে আছে?হাসানের পরিবার নিশ্চয় অনেক কথা শুনিয়েছে?
(চলবে)

Rownak Ifat Xenia

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here