গল্প : সিনিয়র ফাজিল বউ !!

0
329

গল্প : সিনিয়র ফাজিল বউ !!

Writer : Tannoy(পিচ্ছি ফাজিল)

– ইয়া মাবুদ আমার মতো পিচ্চিটরেই
পাইলা বিয়া দেওয়ার জন্য,
আমার বাপটা আমারে কুরবানি দিয়াই
ছাড়ল।
ভয়ে ভয়ে রুমে যেতেই বউয়ের চিৎকার।
হায় হায় কীইইই হয়েছে আপু,
এই যা বউরে আপু ডাইকা ফালাইছি।
– ঐ আমারে কীইইই বললা।
– আসলে সবাইরে আপু বলে বলে অভ্যাস
তো তাই, আগে বিয়ে করিনি তো তাই
হঠাৎ করে আপু বের হয়ে গেছে।
আপনি টেনশন কইরেন না আমার
দুই দিনেই ঠিক হয়ে যাবে।

– ঐ পোলা তোর সাথে আমার
বিয়ে হয়েছে বলে স্বামী গিরি
দেখাতে আসবানা, নেহাত
আব্বুর কথা ফেলতে পাড়ি না
তাই, না হলে তোমার মতো পিচ্চিরে
বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে।
– কীইইই বললেন, আপনার কপার
ভালা যে আমার মতো এমন একটা কিউট
সুইট জামাই পাইছেন, কার ভাগ্যে হয়
শুনি।
আমার ও বিয়ে করার কোন শখ নাই
বুঝলেন ঐ সালা বাপটার কথাই রাজি
হইছি এই মাত্র।
– হুমমমম হুমমমম হইছে, এবার পিচ্চি
বাবুর মতো বেলকনিতে গিয়া ঘুমাই
পড়ো যাও।
– কীইইই, আমি ঘুমাবো বেলকনিতে, ঐ আপনার কোন দয়া মায়া নাই
এমনিতেই কীইইই ঠান্ডা তার মধ্যে
বেলকনিতে ঘুমাব।
– ঐ তাইলে কীইইই হুমমমম আমি
কোন পিচ্চির সাথে ঘুমাতে পারব না।
– আল্লার দোহায় লাগে আমারে
আর পিচ্চি কইয়েন না কেমন।
বিয়ে করার আগে মনে ছিল না হুমমমম।
– হুমমমম ছিল ঐ যে আব্বুর ভয়ে করতে
হইছে।
– থাক থাক বুঝি আমি।
– ঐ কীইইই বোঝ শুনি।
– আমার মতো একটা কিউট ছেলেরে
হাত ছাড়া করবা না তাই, হি হি হি।
– ঐ কীইইই বললা।
– না কিছু না, আপনি থাকেন কেমন
আমি আইসক্রিম খাইতে যামু।
বলেই চলে আসছিলাম।
– ঐ দাঁড়াও আমি ও যাব।
– কীইইই আপনি যাবেন মানে, নতুন
বউ কেউ দেখলে কী বলবে।
– আরে যা বলে বলুন তুমি নিয়া
যাবা কী যাবা না।
– হি হি এমন একটা সু্ন্দর মেয়ের কথা কেউ
ফেলতে পারে,
আরে কিন্তুু আমি তো যাব পাঁচিল টপনে।
আপনি যেতে পারবেন।
– ঐ তখন থেকে কীইইই আপনি আপনি করছ
তুমি বল।
– হি হি ওকে,
আর হ্যা পড়ে কিছু হইলে কিন্তুু আমার কোন দোষ নাই।

ঠিক আছে চলো।
– ওই এই সব গয়না শাড়ি পড়ে যাবা নাকি।
– হুমমমম।
– আল্লাহ কী করমু আমি, এই সব পড়ে
পাঁচিল টপকাতে পারবা হুমমমম পাগলি।
অন্য কিছু পড়ে এস যাও।
হুমমমম এবার ঠিক আছে।

একটা মই নিয়ে আসলাম চোরের
মতো, তার পড়ে বউটারে উপরে তুলে
যেই আমি উঠতে যাব, সেই রফিক
চাচা মনে যে আমাদের কাজের লোক
জোরে বলে উঠল চোর চোর চোর,

একবার ভাবেন আজকে আমার বাসর
রাত, আর আমি বউরে নিয়া পাঁচিল টপকে
আইসক্রিম খাইতে যাইতেছি।

তারপর দুই জনে দিলাম দৌড়।

হি হি হি।
– ঐ তন্নয় হাঁসো কেন।
– আরে কে বলবে বলো আজকে আমাদের
বিয়ে হইছে, বিয়ের
দিন সবাই চোর বলে দৌড়ানি দিল।
আচ্ছা তুমি আমার নাম জানলে কেমনে।
– আরে আব্বু বলছে, তোমার ব্যাপারে আমি
সব জানি হি হি।
– কীইইই মেয়েরে বাবা, আমি তো ওর নামটা
ও এখন অবদি জানি না।
আচ্ছা তোমার নাম কীইইই।
– ঐ বিয়ে করছ বউয়ের নাম যান না।
– না মানে তোমারে প্রথম দেখেই
ভাল লাগছিল তো তাই আর নাম
শুনিনাই, ভাবছিলাম বাসর ঘরে
শুনব, কিন্তুু আমার কপাল।
ঐ নাম বললা না তো।
– আমার নাম তুবা গাধা।
– আচ্ছা তুমি কেমন এমন
একটা পিচ্চিকে বিয়ে করলে শুনি।
– কার কপালে এমন কিউট পিচ্চি জামাই
জুটে বলো তাই বুঝলা।
ঐ আজকে কিন্তুু আমাকে নিয়ে ঘুরবা
কেমন।
– হুমমমম, অলরেডি ঘুরতেছি ম্যাডাম।
চলেন আইসক্রিম খাই।
আহা কত্ত সু্ন্দর কইরা আইসক্রিম
খায়,
জীবনে ভাবিনাই এমন সুন্দর বউ হইব আমার
আহা কী ভালা কপাল আমার।
– মামা টাকা দেন।
– হায় হায় টাকা তো আনি নাই,
বউ না না তুবা তোমার কাছে ৫০টাকা হবে
পিলিজ,
আমার না টাকা আনতে মনে নাই।
– কীইইই হনুমান, এই নাও ধরো টাকা।
– হি হি হি কীইইই ভালা বউ আমার
প্রথম রাতেই বাঁচাইছে, আচ্ছা
তুবা তুমি একবার দেখেই কেন
বিয়েতে রাজি হলে।

– আরে কে বলছে একবার দেখছি,
একবার তুমি ডাব চুরি করতে গিয়ে
ধরা পড়ছিলে মনে আছে,
– হুম সেটা তো সেই দুই বছর আগে।
– তোমার বাবা সবার সামনে কান
ধইরা দাঁড় করাই রাখছিল, হি হি
কী যে কিউট লাগছিল সেদিন।
– ঐ তার মানে তুমি ও ছিলে সেদিন।
– হুমমমম বাঁদর তোমার সব
দুষ্টুমির খবর যানি, আর এটা ও যানি
আজকে ও তোমারে কান ধরাই রাখা
হবে।
– কীইইই, কিন্তুু কেন।
– কারণ আসার সময় আমি দড়জা খুলে
রেখে আসছি, হি হি হি
– কীইইই, ওই কীইইই করছ এইটা,
কেমন ফাজিল মেয়েরে বাবা।

আচ্ছা তুবা কেমন মজা না,
আমরা বাসর রাত বাদ
দিয়ে রাস্তাই ঘুরতেছি।

– হুমমমম আর সেই জন্যই তো
আমি এই বাঁদরটারে বিয়ে করছি।
– তুমি না দেখতে হেব্বি হুমমমম সত্যি,হি হি
খালি পাপ্পি দিতে মন
চাইতেছে।
– ঐ কীইইই বললা ফাজিল পোলা।
– একটা কথা বলি,
– হুমমমম বলো শুনি।
– আপু আমারে একটু ভালাবাসবা, হি হি হি
– ঐ কীইইই বললি তুমি দাঁড়া একবার।
– আমি দৌড় দিছি তুবা ও দৌড়াইতেছে,
হঠাৎ আমি দাড়িয়ে গেলাম তুমা সোজা
আমার বুকে এসে পড়ল
কিন্তুু কিছু বলল না।
– ঐ এবার কই যাবি হুমমমম, ভাল করে
প্রপোজ কর না হলে
খুন করে ফেলব।
– ওকে বাবা করছি, আচ্ছা তুবা
তুমি কীইইই পিকলু এর দাদি হবা
পিলিজ।
– ঐ এইটা কেমন কথা হুমমমম, একটা
চর দিব।
– আরে আমাদের ছেলের ছেলে হলে ওর
নাম পিকলু রাখব বুঝলা।
– এই এবার যদি বাঁদরামি করিস
আমি আর কথাই বলব না।
– এবার সোজা তুবার হাত
ধরে বললা, তোমার বাঁদরটাকে প্রতিদিন
একটা করে পাপ্পি দেওয়ার অধিকার
দিবা।
খুব ভালবাসব তোমাই, একটু মাথাটা টিপে
দিবা।
– হুমমমম পিচ্চি বাবুটা আমার দিব তো।
– হি হি আচ্ছা এবার চলো বাসাই যাই।
– আবার সেই একি ভাবে পাঁচিল টপকে রুমে
গিয়ে দেখি,
সবাই আমার রুমে বসে আছে,
আমাদের এমন ভাবে দেখছে যেন
আমরা দুই জন সার্কাস দলের।
– হঠাৎ ঠাসসসসসস আমার গালে,
ঐই তুই কীইইই মানুষ হবি না বাসর
ঘরে ও বাঁদরামি, কান ধর, আরো যে যা পারে
বকা দিয়ে চলে গেল, তুবা শুধু হাঁসছে।
আব্বা ও চলে গেল।
তুবা দরজা লেগে দিয়ে এসে একদম
হেঁসে হেঁসে শেষ।

– ঐ হাঁসবা না বুঝলা,
কত্ত জোরে চরটা লাগছে ওহহহহহ।
– তাই বুঝি বাবু, এগো একটু আদর করে দিই
কেমন, বলেই পাপ্পি দিল।

প্রতিদিন এমন পাপ্পি দিও কেমন।
– ঠিক আছে প্রতিদিন এমন পাপ্পি খেও
কেমন, হি হি হি।।

ওর হাঁসি মুখে আমি ও একটা পাপ্পি দিলাম
, আমিও কিছু কম যাই না তো হি হি।
মনে হয় বাসর রাত শুরু হয়ে গেল।

ঐ আপনারা কিন্তুু চোখ মুইজা থাকবেন
কেমন হি হি হি।।।।।।।

>>সমাপ্ত<< <

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here