খোলা চিঠি পর্ব ০৪

0
82

খোলা চিঠি পর্ব ০৪

??নীলিমা বুঝতে পারেনা যে আসাদ সে যা করেছে তার সবটাই জানে,
—সে বুঝতে পারেনা সেই মানুষকে সে অন্ধকারের মধ্যে রেখেছে যে তাকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসে!!
তার মুখের হাসি টুকুর জন্য নিজের শেষটা বিলিয়ে দিতে এক সেকেন্ড ও চিন্তা করবেনা,,,
এমন একজন মানুষকে নীলিমা দিনের পর দিন একজন আদর্শ স্ত্রীর মুখোশ পরে ঠকিয়ে যাচ্ছে,,,

★আসাদ ভাবে—
নীলিমার কিসের এতো দ্বায়ভার?
ওকে তো আমি অনেক আগেই মুক্তি দিয়েছি আমার কাছ থেকে এবং নতুন করে শুরু করার সুযোগ ও দিয়েছি তাহলে এসবের অর্থ কি?
কারন আমি জানি প্রতিটা মানুষেরই শারীরিক চাহিদা আছে আর সেটা দোষের বা অস্বাভাবিক ও কিছুনা,
–বরং চাহিদা না থাকাটাই অস্বাভাবিক!
কিন্তু আমি তো ওকে আটকিয়ে রাখিনি,
তবে কেন ও এমনটা করছে?
— এসব নানান প্রশ্ন বানে আসাদ জর্জরিত,

★একদিন সকালে —
প্রতিদিনের মতো সকালে নাস্তার টেবিলে আসাদের জন্য নীলিমা নাস্তা রেডি করে বসে আছে,
আসাদ নাস্তা বা খাবার যাই খাবে নীলিমার মুখে আগে তুলে দিবে পরে সে খাবে,
আজ ও তার ব্যতিক্রম হলো না,
কিন্তু আজ নীলিমার মুখে তুলে দিতেই নীলিমা মুখে হাত দিয়ে বেসিনে চলে গেলো,

★হুম নীলিমা বমি করছে!!
আসাদের বুঝতে আর বাকি নেই নীলিমা প্রেগন্যান্ট,
আসাদ দৌড়ে গিয়ে ওকে ধরে বিছানায় বসালো,
আসাদ: কি খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে?
চলো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই তোমাকে,
নীলিমা : না না থাক ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করো না আমি ঠিক আছি,

আসাদ: হুম তুমি বললেই হলো?
চলো প্লিজ,
নীলিমাঃবললাম তো লাগবেনা,
আসাদঃ লাগবে,
তুমি তৈরি হয়ে নাও জলদি,
আমি গাড়ি বের করছি,

★নীলিমার ভয় এবার হাত পা কাঁপছে!
কি হবে এখন?
আজ তো শেষ সব কিছু!
কেমন করে আজ লুকাবে এসব?
কিন্তু নীলিমা কি জানে যাকে সে এসব লুকানোর চেষ্টা করছে সে অনেক আগে থেকেই সব কিছু জানে,,,

★প্রত্যেকটা বিষয়ের একটা রেজাল্ট আছে,
নীলিমা তার স্বামীকে দিনের পর দিন অন্ধকারে রেখে যা কিছু করে আসছিলো তার ফলাফলতো একদিন উন্মোচন হবারই কথা,,,
আজ সেই ফলাফলের কাঙ্খিত দিন!
আকাশে চাঁদ উঠলে তার আলোর ঝলকে অস্বীকার করার সাধ্য কার আছে?

★যাই হোক, আসাদ আর নীলিমা একজন গাইনি ডাক্তারের কাছে আসে,
ডাক্তার নীলিমাকে দেখে বলে-
এখানে কিছু টেষ্ট আছে করিয়ে নিয়ে আসুন,
আসাদঃ আজকেই করব?
ডাঃ জ্বি আজ করিয়ে যান কাল সকালেই রিপোর্ট দিবে, আপনার ওয়াইফকে বিকেলে নিয়ে আসবেন!
আসাদঃ ওকে ডাঃ, ধন্যবাদ!
এই বলে আসাদ নীলিমাকে নিয়ে সব গুলো টেষ্ট করিয়ে গাড়িতে বসে,,,

★আসাদঃ হাতে সময় আছে চলো একটু ঘুরে ডিনার শেষে আজাদের জন্য পার্সেল নিয়ে যাই,
নীলিমা হ্যা সূচক মাথা নাড়ে অন্য দিকে তাকিয়ে,
নীলিমার সাহস নেই আসাদের চোখের দিকে তাকানোর,
এমন একজন মানুষকে সে ঠকিয়েছে যে কিনা এই পর্যন্ত তাকে সর্বাবস্থায় সাপোর্ট করে এসেছে,
আজ প্রথম নিজের প্রতি ধিক্কার জানাতে ইচ্ছে করছে নিজেকে,,,

পরদিন ডাক্তার সব রিপোর্ট দেখে বলে–
“সুখবর আপনার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট!
নীলিমা চোখ বন্ধ করে আছে,
আজকেই সব শেষ আর হয়তো টিকানো যাবেনা এই সম্পর্ককে!!
আসাদ: একটু হাসি দিয়ে,,
“”ধন্যবাদ ডাক্তার,
জ্বি আপনি আপনার স্ত্রীর সব কিছুতে হেল্প করবেন,
তাকে হার্ট করবেন না,
ওলোয়েজ সাপোর্ট করবেন,
আর ভারি কোনো কাজ যাতে না করে,
আমি মেডিসিন লিখে দিচ্ছি এগুলো কন্টিনিউ করবেন,
আসাদঃ ওকে ডাক্তার,,,

★এবার নীলিমার অবাক হবার পালা!!!
নীলিমা ভাবছে-
আসাদ কেনো কোনো রিয়েক্ট করলো না?
এমন ভাব করছে যেনো এমন একটা নিউজের অপেক্ষায় সে ছিলো,,
এবং সে আগে থেকেই সব কিছু জানতো!!!

আসাদ আর নীলিমা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গাড়িতে বসলো,
–গাড়ি চলছে,
দুজনই চুপ করে বসে আছে,
আসাদ খেয়াল করলো নীলিমা ভয় পাচ্ছে এবং কি যেন গভীর ভাবে চিন্তা করছে,

★আসাদ নীলিমার ভয় ভাঙ্গাতে বলে—
কিছু খাবে?
–নীলিমা চুপ,
আসাদ আবার-
এই নীলিমা—
খাবে কিছু?
নীলিমাঃ না না কিছু খাবো না, আমি বাসায় যাবো,
আসাদঃ কেন সারাদিন তো কিছুই তো খাওনি,
এখন তো এমন অনিয়ম করলে চলবে না!
শোনোনি ডাক্তার কি বলেছে???

আসো নামো গাড়ি থেকে,
তোমাকে একটা মজার জিনিষ খাওয়াবো এই বলে এক রকম জোর করেই আসাদ নীলিমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে এক পাশে দাড় করিয়ে গাড়ি পার্ক করে আসে,
হুম চলো একটু সামনে,
-নীলিমা : কোথায়?
আরে আসো তো আগে!
হুম চলো,
ওরা একটু হেটে সামনে গেলো,

নীলিমা হঠাৎ খেয়াল করলো জায়গাটা তার খুবব পরিচিত লাগছে,
হুম এটা তো সেই জায়গা যেখানে নীলিমা আর তার বান্ধবীরা মিলে শেয়ারে পিজা খেতো,
আর এটা ছিলো তার খুব পছন্দের,

নীলিমা ভাবে,
খুব খেয়াল না করলে তার এই পছন্দ কারো জানার কথা না,
তার মানে আসাদ সত্যিই তাকে অনেক নিখুঁত ভাবে খেয়াল করতো!!

এইখানকার পিজা অনেক এক্সপেনসিভ আর টেষ্টি হওয়াতে নীলিমাকে সব সময় শেয়ার করেই খেতে হতো,
–কিন্তু আজ তার সামনে এই সপের সবচাইতে টেষ্টি পিজা,
আসাদ বলে—
নাও নীলিমা তোমাকে এটা কারো সাথে শেয়ার করতে হবেনা,

নীলিমা অবাক হয়ে আসাদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে,
মানুষটা এটাও জানে সে এই পিজা শেয়ার করে খেতো!
নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসলো নীলিমার,
এমন একজন মানুষকে কেমন করে ঠকালাম আমি?

আসাদঃ এখন থেকে তোমাকে সপ্তাহে তিন দিন এখানে নিয়ে আসবো তোমাকে তুমি তোমার মন ভরে পিজা খেও কেমন!!!
নীলিমা মন ভরে পিজা খেলো,
আসাদ তা প্রান ভরে উপভোগ করলো,
তারা আবার গাড়িতে উঠে বসলো বাসার উদ্দেশ্যে,

★নীলিমার ভয় লাগছে,
আজ বাসায় গিয়ে হয়তো তাকে ছেড়ে দিবে,
কিন্তু বাসায় আসার পর আসাদের নরমাল ব্যবহার,
আসাদ: ডাক্তার কি বলেছে শুনেছো?
তোমার এক্সট্রা যত্ন দরকার,
এখন থেকে টোটালি বেড রেষ্ট,

–নীলিমা কি করবে বুঝতে পারেনা,
আসাদ তো জানে এই বেবি ওর না,
যাকে আজ পর্যন্ত ভালো করে স্পর্শ করেনি সে প্রেগন্যান্ট হলো কি করে?
তাহলে সত্যিই কি ও সব আগে থেকেই জানতো?
তা না হলে কেনো সে কেনো কিছু বলছে না?
এই নীরবতার মানে কি?
তবে কি এটা প্রচণ্ড ঝর হবার আগের কোনো লক্ষণ?
না কিছুই বুঝতে পারছেনা নীলিমা!!!

★রাত বারটা,,,
আসাদ আর নীলিমা শুয়ে আছে,
খুব অস্বস্তি ফিল করে নীলিমা!
এমন করে কি থাকা যায়?
তাই এবার নীলিমা নিজেই মুখখুলে বলল–
আসাদ—
আসাদঃ হুম বলো,,,
তোমাকে কিছু কথা জিগ্যেস করি?
আসাদঃ হুম বলো,,
তবে এই বেবির প্রসঙ্গ বাদে যা জিগ্যেস করার করতে পারো কিন্তু এ বিষয়ে কিছুনা বলো না প্লিজ নিলু!!

#চলবে

লেখা : মুসকান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here