অন্যরকম ভালোবাসা পর্বঃ ০৯

0
419

অন্যরকম ভালোবাসা পর্বঃ ০৯
– আবির খান

গোলাগুলির একপর্যায়ে হঠাৎ আবিরের ডান কাধে একটি গুলি এসে লাগে..আবিরের হাত থেকে সাথে সাথে তার আর্মসটা পরে যায়…আর সেও ব্যাথায় নিচে বসে পরে…এর কিছু মুহূর্ত পরই আবিরের মাথার পিছনে ঠাস করে কেউ বারি দেয় সাথে সাথে আবির মাটিতে পরে যায়…

মরনযন্ত্রনা শুরু হয়েগিয়েছে আবিরের…মা,বাবা,ছোট বোন আর অপূর্ন ভালোবাসা…মানে মায়ার কথা মনে পরছে…মায়ের সেই আদর…ছোট বোনের দুষ্টামি…আর মায়া..তাকেতো পেতেই পারেনি আবির…সব শেষ…

শেষবারের মতোও তাদের কাউকেই আর দেখতে পাবে না..চোখ দিয়ে দুফোটা তিনফোটা করে পানি পরছে….ধীরে ধীরে আবিরের চোখ গুলো বুজে যাচ্ছে…অন্ধকার হয়ে গেলো সব….

মায়ার বাসায়…
মায়ার মাঃ কিরে তোর এ অবস্থা কেন?? কি হইছে মায়া??
মায়া কিছু না বলেই তার রুমে চলে যায়..রুমে গিয়ে দরজা দিয়ে নিজের শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দেয়..
মায়াঃ উনার কি হয়েছে??কে উনাকে ফোন দিলো যে উনার মুখটা তখন ওভাবে ফ্যাকাসে হয়ে গেলো?? আমাকেও বা কেন এভাবে পাঠিয়ে দিলো??নাহ আর পারছিনা..উনাকে একটা ফোন দি…নাহ যদি রাগ করে. . করলে করুক.. কিন্তু আমার জানা প্রয়োজন উনি বাসায় গিয়েছেন কিনা…

মায়া আবিরকে ফোন দেয়…কিন্তু ফোনটা বন্ধ দেখাচ্ছে…মায়া শুয়া থাকা থেকে উঠে পরে এক অজানা ভয়ে এক অজানা টানে…আবার ফোন দেয়…এখনো বন্ধ..এভাবে টানা ১ঘন্টা ধরে ট্রাই করে যাচ্ছে মায়া…কিন্তু কোন লাভই হচ্ছে না…আবিরের ফোন বন্ধ…

মায়ার শরীরটা কেমন জানি অসর হয়ে আসছে..কোন অজানা টানে মায়ার এমন হচ্ছে মায়া নিজেও বুঝতে পারচ্ছে না…মায়া ভাবে…
তার হাসি,তার কথা,তার আমার প্রতি যত্ন,তার আমাকে আগলে রাখা,তার স্পর্শ সবই তো আমার ভালো লাগে..তার চোখের কথা গুলো একটু একটু বুঝতেও শুরু করেছিলাম…কিন্তু আজ কি হলো…তার ফোনটা এখনো কেনো বন্ধ…মাথা ঘুরাচ্ছে মায়ার..

মায়া এসব ভাবতে ভাবতে শাওয়ার নিতে চলে যায়..শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসে ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে মায়া…তার ভাবনা..এই বুঝি আবির প্রতিদিনের মতো এখনই ফোন দিবে…অনেকক্ষন হয়ে গেলো… প্রায় রাত ১১ টা…মায়া কেমন এক ঘোরের মধ্যে চলে গেলো..হঠাৎ মায়ার রুমের দরজায় করা পরে..

মায়ার মাঃ মায়া…মায়া…মা দরজাটা খুল..
মায়া মায়ের ডাকটা শুনতে পাচ্ছে কিন্তু তার শরীর তাকে উঠার জন্য সায় দিচ্ছে না…
মায়ার মা অনেকক্ষন ধরে মায়াকে ডেকে ডেকে টেনশনে পরে যায় কারণ মায়া দরজা খুলছে না..
হঠাৎ মায়া দরজাটা খুলে দেয়..মায়ার মা মায়াকে জরিয়ে ধরে…
মাঃ কি হয়েছে আমার মামনির??তোকে এরকম লাগছে কেন??আর না খেয়ে রুমে দরজা দিয়ে বসে আছিস কেন?? কি হয়েছে আমাকে বল..
মায়াঃ কিছুই হয়নি মা..আজ আর খাবোনা…মা আমায় একটু ঘুম পরিয়ে দিবে??
মায়ার মা মায়াকে দেখে অনেক টেনশন হচ্ছে..হাসিখুশি মেয়েটা আজ এমন হয়ে গেলো কেন??
মায়ার মা মায়াকে এরপর ঘুম পরিয়ে দিয়ে একরাশ চিন্তা নিয়ে চলে যান…

সকালঃ ৭.৩০
মায়া এই মায়া উঠ…ভারসিটিতে যাবিনা??
মায়াঃ কে??
মায়া চোখ খুলে দেখে অনু…
মায়াঃ তুই এখানে??
অনুঃ আজকে ভারসিটিতে যাবো.. তাই…কিন্তু তোর এ অবস্থা কেন??ফোন দিয়েছিলাম ধরলি না…

ফোনের কথা শুনতেই মায়া একলাফে শুয়া থেকে বসে পরে..আর তার ফোনটা তারাতাড়ি খুজে বের করে..
মায়া ফোন চেক করছে আবির ফোন দিয়েছিলো কিনা…নাহ দেয়নি…মায়া সাতপাঁচ না ভেবে আবিরকে ফোন দেয়… মায়ার মুখটা আবার কালো হয়ে যায়…কারন ফোনটা এখনো বন্ধ… মায়া ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পরে..
অনুঃ কি হয়েছে দোস্ত?? এভাবে উঠে মন খারাপ করে আবার ঠাস করে শুয়ে পরলি??
মায়াঃ…
এরপর অনুর অনেক জোরাজুরিতে মায়া অনুকে সব খুলে বলে..
অনুঃ আরে টেনশন করিস না…ভাইয়া হয়তো ভারসিটিতে আছে…ভারসিটিতে গেলেই তাকে পাওয়া যাবে…
মায়া যেন অনুর কথায় জানটা ফিরে পেয়েছে… মায়া তারাতাড়ি উঠে রেডি হতে চলে যায়…

অনু বসে বসে হাসছে আর বলছে..
অনুঃ হায়রে মায়া আবির ভাইয়ের মতো তুইও তাকে এতো ভালোবেসে ফেললি কিন্তু বুঝতে পারছিস না…দেখা যাক কি হয় তোদের…

এরপর ওরা ভারসিটিতে চলে যায়..পুরো ভারসিটি তন্নতন্ন করে খুজেও আবিরকে পাওয়া যায়নি…কারণ সে আসে নি…

এভাবে দুটো দিন চলে যায়…
মায়া আর আগের মতো নাই.. মায়ার মুখেও আর সেই মায়াবী ভাবটা নাই…আছে শুধু বিষন্নতা আর হারিয়ে ফেলার কষ্ট…
অনুঃ তুই কি জানিস??
মায়াঃ…..
অনুঃ আবির ভাইয়াকে তুই ভালোবেসে ফেলেছিস…
মায়া একটু ভেবে এবার বুঝতে পারছে এ অজানা টান শুধু ভালোবাসার…
হ্যা মায়া আবিরকে এইকয়দিনে ভালোবেসে ফেলেছে.. আবির পেরেছিলো মায়ার মনের মধ্যে আবিরের ঘর বানাতে..কিন্তু সে ঘরে আর আবির থাকতে পারলো না…
মায়াঃ উনি কোথায় অনু??উনাকে কি বলতে পারবো না ভালোবাসি??বলেই মায়া কান্নায় ভেঙে পরে…
অনুঃ আরে কাদিস না..তুই যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসিস তবে সে ফিরে আসবেই..তুই অপেক্ষা কর..
মায়াঃ …..
অনুঃ এখন প্লিজ ক্যানটিনে চল…সকাল থেকে কিচ্ছুই খাস নি…তোর আবির যদি এসে তোকে এভাবে দেখে তাহলে ত তোকে ছেড়ে অন্য সুন্দরী মেয়ের কাছে চলে যাবে..
মায়া অনুর দিকে তাকিয়ে… ওর সাথে চলে গেলো..
অনু ক্যান্টিন থেকে কিছু খাবার নিলো..কিন্তু যখনই টাকা দিতে যাবে… তারা বলে আবির স্যার আপনাদের দুজনের জন্য পুরা ক্যানটিন ফ্রী করে দিয়েছে…মায়া এ কথা শুনে আরো মন খারাপ হয়ে যায়..কারণ ও এখন বুঝতে পারছে আবিরও ওকে ভালোবাসে…তাহলে সে কেন এভাবে হারিয়ে গেলো…

মায়া কোনরকম কিছু খেয়ে আর ক্লাস টা করে বাসায় চলে যায় সন্ধ্যার মধ্যে…
বাসায় পৌছাতেই মায়ার মা মায়াকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়…এবার মায়াও অঝোরে কান্না করতে লাগে.. এরপর মায়া তার মাকে সব খুলে বলে…মাও অবাক হয়ে যায়…
মাঃ আমার মনে হয় ছেলেটা ওইদিন তোকে তার ভালোবাসার কথাটা বলে দিতো..কিন্তু ছেলেটা এভাবে চলে গেলো কেন…
মায়া ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে…
মাঃ কাদিস না মা…আল্লাহ উপর ভরসা রাখ…ওর কিছুই হয়নি…আর শুন আমার মনে হয় ও তোকে অনেক ভালোবাসে…হয়তো কোন সমস্যায় পরেছে.. ও আবার ফিরে আসবে..
মায়াঃ যদি না আসে??কাদতে কাদতে..
মাঃ তাহলে মনে করিস এটাই তোর ভাগ্য ছিলো…

এরপর আরো ৭ টা দিন চলে গেলো…
মায়া সেই ফোন হাতে রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আবিরের ফোনের অপেক্ষা করে আর কেদে উঠে…
আজ ১০ দিন হয়ে গেলো… মায়ার শরীরটারও অবস্থা অনেক খারাপ… কারণ আবিরের কোন খবর নাই…ভারসিটিতে আবিরের বাসার কোন এড্রেস দেওয়া নাই…ফলে মায়া আবিরের বাসায় যেতে পারেনি..মায়া ফোন হাতে আবিরের জন্য বসে আছে আর অনু মায়াকে শান্তনা দিচ্ছে…কারণ মায়া ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলো… হয়তো অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলো মায়া আবিরকে..
হঠাৎই মায়ার….

চলবে…?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here