গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

সত্যি একটি রিয়েল গল্প,,,সবাই পড়েন আশা করি ভালোলাগবে আপনাদের কাছে…..

গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

লেখিকা : নীল পরী

আজমিরার ও মিরাজের ১ বছরের প্রেম কাহিনী।

আজমিরা ও মিরাজ একে অপরকে খুব ভালোবাসে। আজমিরা আর মিরাজের বাসা এক পাশা পাশি। আজমিরাকে প্রথম দেখেই মিরাজের ভালোলেগে যায় এবং আজমিরার ও। কিন্তু কেও কাউকে বলেনি। প্রতিদিনই তাদের দুজনের দেখা হয়। এমন করে দেখতে দেখতে কিছু দিন চলে গেলো। একদিন মিরাজ কিছু না ভেবেই আজমিরাকে বলল…..
মিরাজ : আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই, যদি কিছু মনে না করেন..!!
আজমিরা : ( নিচে তাকিয়ে হাসছে) হ্যাঁ বলেন।😊
মিরাজ : কেমন আছেন..???

আজমিরা : জ্বী ভালো… আপনি কেমন আছেন..??

মিরাজ : হুমমম আমিও ভালো আছি…। আচ্ছা তোমার নাম কী..?😍
আজমিরা : আমার( বলতে না বলতেই)
মিরাজ : ইয়ে মানে Sorry… 😋
আজমিরা : কেনো..??? 🤔
মিরাজ : ভুলে তুমি করে বলে ফেলেছি তার জন্য..😔
আজমিরা : Ok কোনো সমস্যা নেই,, আমাকে আপনি তুমি করেই বলতে পারেন… 😊
মিরাজ : আচ্ছা তাহলে আপনি ও ইয়ে মানে তুমি ও আমাকে তুমি করে বলবে…। এখন বলো তোমার নাম কী..? 😍
আজমিরা : আমার নাম আজমিরা…☺ আপনার নাম টা… ( বলা শেষ না হতেই)
মিরাজ : মিরাজ আমার নাম মিরাজ 🙂 আমি তোমার বাসার পাশেই থাকি….।
আজমিরা : ওওও তাই বুঝি তা তোমার( কথা শেষ না হতেই)
মিরাজ : আজমিরা I LOVE YOU ☺
আজমিরা : ( লজ্জা পেয়ে আর খুশি হয়ে) কি বললা তুমি…???

মিরাজ : না মানে… আমি তোমাকে ভালোবাসি….

আজমিরা কিছু না বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছে আর মিরাজ ও লজ্জায় ভয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারছে না। আজমিরা একটু দূরে গিয়ে বলে… আমি ও😍 মিরাজ অর কথা শুনে খুব খুশি….। অরা প্রতিদিন কথা বলে, দেখা করে আর অনেক ভালোবাসে। মিরাজ আজমিরাকে রাগানোর জন্য কত কিছু বলে ইচ্ছে করে অন্য মেয়েদের কথা বলে। আর আজমিরা ও রেগে যায়। এমন করেই তাদের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম চলতে থাকে। কিন্তু কথায় আছে না বেশি সুখ কপালে সয় না। আজমিরার মামাতো ভাই আছে। আর ভাই যেহেতু তো কথা তো হতেই পারে… আজমিরা যে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলে তা আবার মিরাজ অর ফোনে চেক করে দেখে,,, কিন্তু আজমিরা কিছু বলে না সে চায় মিরাজ সব দেখুক। কিন্তু মিরাজ আজমিরাকে সন্দেহ করতে শুরু করে। মিরাজ আজমিরাকে বলে….
মিরাজ : আজমিরা তুমি তোমার মামাতো ভাইয়ের সাথে কেনো কথা বলো তুমি কি তাকে ভালোবাসো…??
আজমিরা : এই সব তুমি কি বলছ মিরাজ। তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি…!!তুমি আমাকে এই কথাটা বলতে পারলে মিরাজ…। 😢

মিরাজ : হে পারলাম… তোমার ভাই তোমাকে ভালোবাসে…!!

আজমিরা : না মিরাজ এটা তোমার ভুল ধারনা,, তুমি আমাকে বিস্বাস করো( কাদঁতে কাদঁতে) মিরাজ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি….
মিরাজ : মিথ্যে কথা,, আর শুনো আমার সাথে তুমি আর কথা বলবা না….!! 😡
আজমিরা : মিরাজ এমন করে বলো না আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না,,, তুমি আমাকে সন্দেহ করে না প্লিজ।আচ্ছা আমি তোমার সামনে আমার ভাইকে কল দেই তুমি শুনো প্লিজ।😢
তার পর আজমিরা তার মামাতো ভাইকে কল দিল এবং সাউন্ড বারিয়ে দিলো ফোনের,, কল রিসিভ করলো আজমিরার মামাতো ভাই আর বলল…..
আজমিরার মামাতো ভাই :: হেল্লো
আজমিরা : শুন ( একটু কান্না কন্ঠে)
ভাই : হে বল,, আর তর গলা এমন লাগছে কেন..?? কি হইছে 🤔
আজমিরা : তুই কি আমাকে ভালোবাসাস…??
ভাই : এই এইসব কি বলছিস তুই মাথা ঠিক আছে তোর…? তুই আমার বোন,, আর বোন হিসাবে যতটুকু একটা ভাই ভালোবাসে ততটুকুই তোকে ভালোবাসি.. আর তেমন করে কিছু না।
আজমিরা : তুই বল ভালো বাসিস না.
ভাই : না বাসি না…। তুই আমাকে এমন কথা বলতে পারলি 🙁

কল কেটে দিয়ে আজমিরা মিরাজ কে বলল।

আজমিরা : শুনেছ তুমি ( কেদে কেদে) এখন তো বিস্বাস করো আমাকে।
মিরাজ : হয়েছে তোমার কান্না শুনে তোমার ভাই মিথ্যে কথা বলেছে..!!😠
আজমিরা : মিরাজ..তুমি আমাকে ভুল বুঝ না প্লিজ…
মিরাজ : শুনো তোমার কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। আর তুমি আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করবে না।
আজমিরা : তুমি কোনো আমাকে ভুল বুঝতাছ… এমন করে বলো না প্লিজ…. আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি..আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না… 😭😭
মিরাজ : আমি কিছু শুনতে চাই না।

মিরাজ আজমিরার কোনো কথাই শুনে চায়নি,,, সন্দেহ করে ভুলই বুঝল কিন্তু আজমিরা এত কিছুর পর ও মিরাজ কে কাছে পেতে চাইলো। কিন্তু মিরাজ আজমিরার ভালোবাসাটা বুঝলো না। আজমিরা খুব কান্না করে। কিন্তু মিরাজ তার মূল্য দিল না।

সমাপ্ত

কিছু কথা:- ভালোবাসায় কখনো কেউ কাউকে সন্দেহ করবেন না। কারণ সন্দেহ খুব খারাপ যা সম্পর্ককে, জীবনকে শেষ করে দেয়। ভালোবাসায় ভুল বুঝা বুঝি না করে বিস্বাস করতে হয়। এমন অনেক আজমিরার মত লোক আছে যে সব কিছু নিরবে সয়ে যায় তবুও ভালোবাসার মানুষটাকে তার জীবনে চায়। তাই সবার কাছে অনুরোদ প্লিজ সম্পর্কের মাঝে কেউ অবিস্বাস,, সন্দেহ,ভুল বুঝা বুঝি করবেন না। তাহলে সম্পর্ক টিকে থাকবে সুখের হয়ে।

গল্পটি কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ,
আর গল্পটি যদি ভালোলেগে থাকে তাহলে প্লিজ লাইক দিবেন,, আর শিয়ার করে আপনার বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ সবাইকে সাথে থাকার জন্য।

অনুরাগ শেষ পর্ব

অনুরাগ
শেষ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

কলারের থেকে হাত দুটো ছাড়িয়ে নিয়ে পুলক পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ভিডিও প্লে করে দিলো।ভিডিও তে সেই মেয়েটি স্বীকারোক্তি দিচ্ছে।মেয়েটি কাঁদছে আর কথাগুলো বলছে।আর তার পাশেই ওই সর্দারনী।মাথায় ঘোমটা টেনে মাথা নিচু করে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে সেও স্বীকারোক্তি দিচ্ছে।
বোঝাই যাচ্ছে বেঢপ মার দেওয়া হয়েছে তাদের।শ্রুতি বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছে না।কাকে বিশ্বাস করবে সে? মন তো চাইছে পুলককে বিশ্বাস করতে।কিন্তু পুলক যদি নিরাপরাধ হয়ে থাকে তাহলে এই তিন বছরের মধ্যে কেনো ওকে জানালোনা? ও কিছু ভাবতে পারছেনা।

-‘ বোকা পেয়েছিস? তুই যে ওদের মারধোর করে স্বীকারোক্তি নিয়েছিস তা তো বোঝাই যাচ্ছে।’
-‘ ওয়েল।তাহলে প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ে আসি।’ ঠান্ডা গলায় বললো পুলক।

পুলকের ফোন পেয়ে রিয়া আর ধ্রুব এসে হাজির হলো ওদের মাঝে।তারপর ধ্রুব বলতে শুরু করলো,-‘ এতকিছু তো পুলক একা করতে পারে নি।ওকে সাহায্য করেছি আমরা।ও তো মরেই যাচ্ছিলো শ্রুতি ওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর।কতভাবে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে! তারপর ওর থেকে সবটা শুনে আমি আর রিয়া উদ্যোগ নিলাম সত্যিটা কী আর এর পেছনে আসল ঘটনাটা কী তা জানার জন্য।কিন্তু পুলক এতটায় ডিপ্রেশনে ভুগছিলো ওকে আগে সুস্থ করার প্রয়োজন বোধ করলাম।মাস ছয়েকের মধ্যে ওকে নিয়ে স্কটল্যান্ড চলে এলাম।আমার আর আমার বাবার সাথে ওকে শেয়ারে নিয়ে নিলাম আমাদের ব্যবসায়ে।শুধু ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য।তার ভেতর রিয়াকে শ্রুতির ব্যাপারে সব খোঁজ নিতে বললাম।পুলক অস্থির হয়ে থাকতো ওর খবর জানার জন্য।আস্তে আস্তে ডিসিশন নিলো ও আর কোনোদিনও শ্রুতির সামনে আসবেনা।ওকে বলবে না ও নির্দোষ।কিন্তু আমি বললাম,-‘ তোর জানা উচিত ওই মেয়েটা কেনো মিথ্যে বলেছিলো।শ্রুতির কাছে নিরাপরাধ সাজার জন্য নয়।সত্যটা জানা তোর প্রয়োজন।’ তার মধ্যেই রিয়া খবর জানালো ঈশাণ শ্রুতিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।ব্যাপারটা আমার কাছে খটকা লাগলেও পুলক নিশ্চিত হয়ে গেলো যে ওই ঘটনার সাথে ঈশাণ জড়িত কোনোভাবে।দেশে ফিরে এলাম ওকে নিয়ে।বহুকষ্টে ওই মেয়েটাকে খুঁজে বের করলাম। মেয়েটির সন্ধান পাওয়ার জন্য সর্দারনীকে কম ধোলাই খেতে হয়নি।আর যখন মেয়েটাকে খুঁজে পেলাম তখন তো সবটা রেকর্ড করেই রেখেছি।এরপরই পুলক আমি আর রিয়া প্ল্যান করলাম ইভেন্টের।নতুন করে আগমন ঘটালাম পুলকের। পুলক আমার ছোটবেলার বন্ধু।ওকে আমি চিনি ওর অতীতটা আমি জানি।তাই আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম যে পুলক কখনো শ্রুতিকে ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্তোম সর্বশ্রেষ্ঠা সুন্দরী মেয়ের দিকেও তাকাবেনা।আমি ওর বন্ধু হয়ে ওর প্রতি এমন বিশ্বাস রেখেছিলাম।আর শ্রুতি তুই ওর ভালোবাসার মানুষটা হয়ে ওর প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারলিনা?মেরেই তো ফেলেছিলি ওকে।’

-‘ এই তোরা চুপ কর।সবগুলো গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসেছিস? নাটক করতে শিখে গেছিস না?’ চিৎকার করে বলছিলো ইশাণ।

হঠাৎ করেই ঈশাণের গালে শ্রুতির পাঁচ আঙুল বসে গেলো। ঈশাণ থম মেড়ে দাঁড়িয়ে রইলো ওর দিকে চেয়ে।

-‘ সবাই তোর শত্রু তাই না?সবাই তোর বিরুদ্ধে নাটক সাজিয়েছে তাই না? কেনো এমনটা করলি তুই? কীভাবে পারলি আমাদের সাজানো সংসার টা ভেঙ্গে দিতে? কী ক্ষতি করেছিলাম আমরা তোর? বল?’

আরো কয়েকটা থাপ্পর পড়ল ঈশাণের গালে।হঠাৎ করে ঈশাণ শ্রুতিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।তারপর হুংকার দিয়ে উঠল।

-‘ ক্ষতি তুই করিসনি।ক্ষতি করেছে ও।’ পুলকের দিকে তাকিয়ে বললো।

আবার বলতে শুরু করলো,-‘ পুলক আমাদের বন্ধুমহলে আসার আগেই আমি তোকে পছন্দ করতাম। ভালোবাসি কথাটা বলতে গিয়েও কখনো বলতে পারি নি। হঠাৎ করেই পুলক কোথা থেকে উড়ে এসে তোর মনে জায়গা করে নিলো।আমি বলতে গিয়েও কিছু বলতে পারলাম না। দেখলাম তুই অনেক হ্যাপি তোদের রিলেশনশিপে।আস্তে আস্তে তোদের থেকে দূরে সরে গেলাম।সহ্য হতোনা তোদের একসঙ্গে দেখলে।ভেতরটা পুড়ে জ্বলে যেতো।তোদের বিবাহবার্ষিকী তে তোকে ওইভাবে নতুন বউয়ের সাজে দেখে আমার সেই পুরোনো ঘা টা আবার তাজা হয়ে গেলো।তাও বহুকষ্টে নিজেকে সামলিয়েছি এই ভেবে তুই এখন অন্য কারো।তারপরও নিজেকে বেঁধে রাখতে পারি নি।তোকে আরো একবার দেখার লোভটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতো। চলে এলাম অন্য একদিন তোর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু সেদিন পুলকের ব্যবহার আর আমাকে দেখিয়ে তোর সঙ্গে পুলকের ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে খাওয়া আমাকে একরকম পাগল করে দিচ্ছিলো।ভেতরে ভেতরে পুলককে খুন করে ফেলার একটা ঝোঁক কাজ করছিলো।কিন্তু সেই ঝোঁকটাও সামলে উঠলাম।নিজেকে একদম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে শুরু করলাম।ভুলে যেতে চাইলাম পুলকের সেদিনকার ব্যবহার। তারপর যেদিন তোর বাসায় এসে তোর কাছ থেকে পুলকের অবহেলার কথাগুলো জানলাম মনে মনে খুব খুশি হচ্ছিলাম। ভাবতে থাকলাম এভাবে যদি তোদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায় তারপরই আমি তোকে আমার প্রতি কনভিন্স করার চেষ্টা করবো।আর রবিন যখন পুলকের ব্যাপারে ওই ঘটনাগুলো বললো প্রথমে আমার বিশ্বাস না হলেও আমি এতটায় খুশি হয়েছিলাম যে তখন আমি সব ভেবে নিলাম খুব বেশি সময় লাগবেনা তোদের সম্পর্কটা নষ্ট হতে।’

-‘ এরপরই তুই প্ল্যানগুলো করে ফেললি তাইনা?’ পুলক বললো।

-‘ তিনটা বছর নষ্ট করলি আমাদের জীবনের।কতোটুকু উপকার পেলি এগুলো করে?

কথাটা বলেই পুলক এসে ঈশাণের চোয়ালে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলো।মার খেয়ে তাল সামলাতে না পেরে ঈশাণ টেবিলের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল।রেগে উঠে দাঁড়িয়ে স্যুটের ভেতর পকেট থেকে পুলিশের লাইসেন্সকৃত পিস্তল পুলকের দিকে তাক করে ধরে বললো, -‘ এতকিছু করে যখন উপকার পাইনি তাহলে তোকে খুনই করি।’

শ্রুতি,রিয়া আর ধ্রুব তিনজনই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো ভয়ে।পুলকের রাগ তখন আরো দ্বিগুণ হয়ে গেলো।পিস্তলকে তোয়াক্কা না করে ওর চোয়ালে আরো একটা ঘুষি মাড়ল।

-‘ আর কতো নিচে নামবি?আমাকে খুন করলে তুই নিজে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবি?পুরো জীবনটায় তোর শেষ হয়ে যাবে।’

ঈশাণ টেবিলের ওপর হুমড়ি দিয়ে পরে রইলো।প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে ওর।এভাবে কারো ক্ষতি করে নিজে কোনোদিন সুখী হওয়া যায় না।আর ভালোবাসা এ তো ঈশ্বর কতৃক দান। এই জিনিস ঈশ্বর যাকে দিবেন শুধু সেই তার অধিকার পাবে। জোর করে তা বা মিথ্যা দিয়ে তা কোনোদিনও অর্জন করা সম্ভব না। কাঁদতে কাঁদতে সে উঠে দাঁড়ালো।কোনো দিকে না তাকিয়ে টলতে টলতে বেরিয়ে গেলো শ্রুতির বাড়ি থেকে।
_______________________

-‘ কিছু বলছোনা যে? ক্ষমা করবেনা আমাকে?’

-‘ তুমি কী অপরাধ করেছো যে তোমাকে ক্ষমা করবো?’

-‘ এতটা অনুরাগ চেঁপে রেখোনা আমার প্রতি।মারতে ইচ্ছা করলে মারো, হাত পা বেঁধে যেমন খুশি তেমন শাস্তি দাও। তবুও মুখ ফিরিয়ে থেকো না।’

-‘ কী চাইছো তুমি?’

-‘ তুমি বুঝতে পারছোনা?’

-‘ বোঝার ক্ষমতা আজ কাল খুব কম।’

-‘ নিয়ে যাবেনা আমাকে তোমার সঙ্গে?’

-‘ গিয়ে কী করবে?’

শ্রুতি এতসময় পুলকের পাশে বসে ওর বাহু জড়িয়ে ধরে কথা বলছিলো।হুট করে ওর পাশ থেকে উঠে এসে ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।

-‘ আমাকে একা ফেলে চলে যাবে?আমার ভুলের শাস্তি আমাকে এভাবে দেবে?’

কান্নার বেগ বেড়ে গেছে শ্রুতির।পুলক ওর দিকে না তাকিয়ে বললো, -‘ ভুলের শাস্তি তুমি আর পেলে কই?পেলাম তো আমি।আর ভবীষ্যতে যাতে না পেতে হয় তাই…..’

-‘ তাই কী?’
পুলক নিশ্চুপ।
-‘ বলো তাই কী?

পুলক এবার ওর দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে তেজী গলায় বললো,-‘ এরপর যদি কেউ আবার এমন কোনো নাটক তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে তখনও যে তোমার বিশ্বাস নড়বড়ে থাকবে না আমার প্রতি তার কী গ্যারান্টি? আমি পারবোনা এত বার বার ধাক্কা খেতে।আমার এত্ত এনার্জি নাই ধাক্কা সামলানোর।’

-‘ দিবোনা তো আর।’ কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো শ্রুতি।পুলক ধমকে প্রশ্ন করলো, -‘ কী দিবা না?’

-‘ ধাক্কা।’

-‘ আমার জায়গায় থাকলে তুমি কী করতে বলো তো?’

-‘ অনেস্টলি বলি?’

পুলক দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে তাকিয়ে আছে।

-‘ আনলিমিটেড থাপ্পড় লাগাতাম তোমার গালে।’

-‘ ব্যাস! আর কিছুই না?’

-‘ বাজে স্ল্যাং ইউজ করতাম।’

-‘ এটুকুই?’

-‘ অবশ্যি আরো একটা কাজ করতাম।কিন্তু সেটা বলবোনা।’

-‘ আমি তো শুনতে চাইছি।’

-‘ বলা রিস্ক।’

-‘ রাত ন’টা বাজে।আমাকে যেতে হবে।কাল সন্ধ্যে ফ্লাইট। অনেক গোছগাছ বাকি আছে।’ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে বললো।

-‘ না প্লিজ!’

-‘ না প্লিজ কী? আমাকে যেতে হবে না? তোমার রং তামাশা দেখবো বসে?’

-‘ আরে বললাম তো আমাকে যা শাস্তি দেওয়ার দাও।যা খুশি বলো, যা খুশি করো।তাও আমাকে ছেড়ে যেওনা।’

-‘ আমার আইডিয়া নেই কী করে শাস্তি দেওয়া যায়।’

-‘ আমি তো কিছু আইডিয়া দিলাম।’

-‘ শেষ একটা আইডিয়া দাওনি।’

মুখটা কাচুমাচু করে বসে আছে শ্রুতি।কী করে এমন একটা শাস্তির কথা বলবে সেটাই ভাবছে।তবুও ও তো বলেছে ও অনেস্টলি বলবে।মুখটা নিচু করে বললো, -‘ তোমাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সত্যি সত্যি কারো সাথে…..’

-‘ কারো সাথে কী? থেমে গেলে কেনো?’

পুলক বেশ এনজয় করছে শ্রুতির অবস্থাখানা।কথাটা ওর মুখ থেকে বের করে তবেই এখান থেকে যাবে ও।বললো, -‘ বলবে নাকি আমি উঠবো?’

-‘ না।সত্যি কারো সাথে প্রেম করে তোমার সামনে এসে দেখাতাম।’

-‘ তোমার আইডিয়া গুলো আমার পছন্দ হয়েছে।তার জন্য তোমাকে আমার সঙ্গে নিবো।তবে আমি শুধু প্রেম করবোনা। বিয়েও করবো তোমাকে চরম শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’

তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললো, -‘ চলো এখন।’

-‘ বিয়ে করতে মানে? আমি কী বিয়ে করতাম?কখনোই না।’

-‘ আজকে কী করছিলে?’

-‘ এটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’

-‘ আর এটা আমার সঠিক সিদ্ধান্ত।’

-‘ আমার সামনে তুমি অন্য একটা মেয়ের সাথে…..’

-‘ শোবো, ঘুমাবো।’

-‘ যাবোনা।যাও তুমি।’ উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললো।

-‘ যেতে তোমাকে হবেই।আইডিয়া দিয়েছো শাস্তির।আর শাস্তি খাবে না? চলো……’

টানতে টানতে শ্রুতিকে নিয়ে চলে গেলো পুলক।হয়তো কিছু সময় বাদেই অনুরাগের পালা শেষ করে ভালোবাসার শাস্তির পালা শুরু হবে তাদের মাঝে।

_

অনুরাগ 11 পর্ব

অনুরাগ 11 পর্ব

লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ কী হয়েছে শ্রুতি?কোনো সমস্যা?’

দু চোখ বেয়ে পানির সঙ্গে আগুন ঝরছে শ্রুতির চোখে।ঈশাণের দিকে ভয়াবহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ও।ঈশাণ আবার ও প্রশ্ন করলো,-‘ কী হয়েছে? এভাবে দেখছিস কেনো? দেখি কাগজ টা দে তো আমার কাছে।’

শ্রুতির হাত থেকে কাগজটা নিয়ে ঈশাণ পড়তে আরম্ভ করলো।প্রথম অংশ পড়ে তেমন কিছুই মনে হলো না ওর কাছে।শেষের দিকে এসে যা পড়ল তা পড়ার পর ওর হাত কাঁপতে শুরু করলো।যে মেয়েটিকে পুলক ওর বোন ভেবে নিয়েসেছিল সে সত্যিই পুলকের বোন ছিল না ঠিকই। কিন্তু পুলকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছিল মেয়েটি তা সম্পূর্ণ সাজানো কথা ছিল।আর এই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিল ওই পতিতালয়ের সর্দারনী।কেনো এই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিল সেটাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ওখানে।সবকিছু পড়ার পর ঈশাণ জোর গলায় বললো,-‘ শ্রুতি তুই ওর এসব কথা বিশ্বাস করছিস?ও তোকে যে এসব মিথ্যা বলছেনা তার প্রমাণ কী? ওর কাছে শোন যে কথাগুলো এখানে লিখা আর তা যে সত্যিই ওই মেয়েটির আর তার সর্দারনীর জবানবন্দী তার সত্যতা কী?’

শ্রুতি এবার সত্যিই দ্বিধায় পড়ল।সত্যিই তো! পুলক যে সবটাই সত্যি বলছে তার প্রমাণ কী?ও যদি সত্যিই বলে থাকে তাহলে এই তিনটা বছর ও কেনো শ্রুতির সামনে এলো না?এই কথাগুলো এই তিন বছরের মধ্যে কেনো ওকে বললো না?
শ্রুতি প্রশ্নচোখে পুলকের দিকে তাকাতে পুলক একটু একপেশে হাসল।তারপর বললো,

-‘ মেয়েটাকে আমি ঢাকা নিয়ে আসার পূর্বেই ঈশাণ নিজে ভালোভাবে যাচাই করে দেখেছে।আমি যে মেয়েটির সঙ্গে ঘোরাফেরা করেছি তার পরিচয় আসলে কী?এবং অবশেষে জানতেও পারলো আমি তাকে নিজের বোন ভেবে ওই পতিতাবৃত্তি থেকে তাকে মুক্তি দিয়ে নিজের বোনের পরিচয় দিতে যাচ্ছি।ঠিক তখনই ঈশাণ ওখানকার সর্দারনীর সাথে আলাপ করলো।পরিষ্কার হওয়ার জন্য জানতে চাইলো মেয়েটি সত্যিই আমার বোন কিনা।তখন সে তো আরো একটি সত্যি ঈশাণকে জানিয়ে দিলো যে সত্যটা আমি তখন জানতাম না।
আমার মামা আমার বোন কে যেখানে রেখে এসেছিল সেখান থেকে তারা কোথায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যে ওকে বিক্রি করে দিয়েছে তাও তাদের মনে নেই।শুধুমাত্র নিজের চিকিৎসার টাকার জন্য মামা এমন একটা নাটক করেছিলো।
অন্য একটা মেয়েকে আমার বোন বানিয়ে দিলো।আর ওই সর্দারনীকে শিখিয়েও দিলো আমি খোঁজ নিতে এলে যেনো সে এটাই বলে ওই মেয়েটিই আমার বোন। সে তাই ই করলো।এতগুলো মিথ্যা কথা সে এই আশাতেই বলেছিলো সে জানতো আমি টাকার মায়া না করে আমার বোনকে এখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাবো।আর এই ব্যাপারটা সে এমনি এমনি ঈশাণকে বলে দেয়নি।ঈশাণ তাকে আমার চেয়েও টাকার পরিমাণ বেশি দিয়ে কথাগুলো জেনেছে।আর তারপর ও আরো কিছু টাকা দিয়ে একটা কাহিনী সাজিয়ে ফেললো আমি ওই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসার আগেই। মেয়েটাকে শিখিয়ে দেওয়া হলো আমার বাসায় তাকে আনার পর সে যেনো বলে আমি তাকে বোনের পরিচয়ে নয় নিজের ভোগের বস্তু করে নিয়েসেছি।মেয়েটি তাই ই করলো।এবং শর্তমোতাবেক মেয়েটিকে ও আরো কিছু টাকা দিয়ে ঢাকার শহর থেকে ভাগিয়ে দিলো।’

-‘ এই একদম চুপ।একদম বাজে কথা বলবি না।এতদিন পর এসে একটা মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে এনে কী সুন্দর সাজিয়ে সাজিয়ে বলছিস।আর ভাবছিস খুব সহজেই তা শ্রুতি বিশ্বাস করে নিবে।আর কতো ক্ষতি করতে চাইছিস মেয়েটার? আর কত অমানুষ হবি?’ ঈশাণ পুলকের কলার চেপে ধরে হুংকার দিয়ে বললো।

অনুরাগ পর্ব ১০

অনুরাগ
পর্ব ১০
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলি বল তো এই তিনটা বছর?’ (নিশাদ)
-‘ আমি কী আসামি নাকি যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকবো?’

গ্লাসে ড্রিংক ঢেলে নিতে নিতে কথা বলছে পুলক।ওর দিকে কয়েক জোড়া চোখ বিস্ময় আর প্রশ্ন ভরা চোখে তাকিয়ে আছে। রিয়ার পাশে এসে বসলো পুলক।সবার দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শ্রুতির দৃষ্টিকে লক্ষ্য করে বললো, ‘ কী সমস্যা?এভাবে তাকিয়ে দেখছো কেনো আমাকে? এ্যাম আই লুকিং আগলি?’

শেষ প্রশ্নটা রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো পুলক।রিয়া ভ্রু জোড়া উঁচু করে একটা হাসি দিয়ে বললো, ‘ নো।মোর দ্যান ড্যাস্যিং।’

শ্রুতি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো।ঈশাণকে বললো, ‘ আমায় বাসায় ফিরতে হবে।আমি উঠছি।’
-‘ চল আমি তোকে নামিয়ে দিয়ে আসি।’
-‘ আরে আরে আজকে কে কখন ফিরবো তার ঠিক নেই। অনেক দিন বাদে সবাই একসাথে।কোনো উঠাউঠি নেই।আজ অনেক মজা হবে।’

ধ্রুবর কথার সঙ্গে পুলক একটা রহস্যভরা হাসি মেশালো। হাসিটা ঈশাণের চোখ এড়ালো না।এর মধ্যে অনেকেই পুলে নেমে পড়েছে।কেউ এখানে ডেট শুরু করে দিয়েছে, কেউ বা মিউজিকের তালে হেলছে-দুলছে।মোটামোটি যে যার মতো এনজয় করতে ব্যস্ত।শুধু একটা জায়গায় বসে আছে, পুলক,রিয়া, শ্রুতি,ঈশাণ,ধ্রুব,মেঘলা,তানিয়া,নিশাদ আর রবিন।রিয়া আর নিশাদ উঠে হাঁটতে হাঁটতে খানিকটা দূরে চলে গেলো।পুলক ড্রিংকের গ্লাস টা নিচে নামিয়ে রাখলো। হঠাৎ করেই চোখ পড়লো ঈশাণের হাতের দিকে।শ্রুতির হাঁটুর কিছুটা উপরে ওর হাতটা।শ্রুতি ও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ওর হাতটা গ্রহণ করে বসে আছে।একটা গম্ভীর নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো পুলকের মাঝ থেকে।কিন্তু ওদের দুজনকেই খুব অপ্রস্তুত লাগছে।

-‘ তো?’

পুলকের আওয়াজ পেয়ে চমকে তাকালো শ্রুতি।চোখে মুখে উচ্ছন্ন ভরা হাসি মেখে আছে পুলকের।মনে হচ্ছে খুব চিন্তামুক্ত আর হাস্যজ্জল মানুষ একটা।তিন বছর আগে তার জীবনে যে কোনো একটা অপ্রিয় ঘটনা ঘটে গেছে সেটা তাকে দেখে মনেই হচ্ছেনা।চোখের পলক পড়ছে না শ্রুতির।এদিকে পুলকও চেয়ে আছে তার প্রাণখোলা হাসি মুখে মেখে নিয়ে।ঈশাণ শুধু তাকিয়ে দেখছে ওদের দৃষ্টি বিনিময়।এক মিনিট, দু মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে শ্রুতি হাজারো প্রশ্নভরা চোখে তাকিয়ে দেখছে ওকে।ঈশাণ হঠাৎ করে একটু কেশে উঠল।ভাবনাগ্রস্ত শ্রুতি হুঁশে এলো তখন।পুলক খানিকটা হেসে ফেলল।

-‘ হাসছিস যে?’
-‘ হুম? আমাকে বলছিস?’

পুলকের এমন উদাসীন ভাবটা নেওয়া ঈশাণের অসহ্যবোধ লাগলো খুব।চোখ মুখ শক্ত করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো ওর থেকে।পুলক বললো, ‘ বিয়েতে কী ইনভাইটেশন পাচ্ছি?’
-‘ লজ্জা করছে না তোর?কোন মুখে এই প্রশ্নগুলো করছিস?’
-‘ অ…! লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু বলেছি বোধহয়? এই ধ্রুব আমার প্রশ্নটা কী লজ্জা পাওয়ার মতো ছিল?’
-‘ আমি কী বলবো ভাই!’
-‘ তোরা বিয়ে করছিস এটা একটা ভালো কথা।আমি সেখানে দাওয়াত পাচ্ছি কিনা সেটা জানতে চাওয়া কী আমার অপরাধ?’
-‘ এতদিন কই ছিলি?’
-‘ স্কটল্যান্ড।’
-‘ মেয়েটাকে নিয়ে ওখানে পাড়ি জমিয়েছিস?’

রবিনের প্রশ্নে পুলকের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে আসার মতো অবস্থা।কিন্তু না, ও এখন এই মুহূর্তে কোনো সিনক্রিয়েট করবে না।রবিনের প্রশ্ন শুনে শ্রুতি চেয়ে আছে পুলকের দিকে।অবশ্যই পুলক কী উত্তর দেয় তা শোনার আশায়।ওর বুকের ভেতরটা যে তোলপার হয়ে যাচ্ছে।পারছেনা এভাবে চুপচাপ ওর সামনে বসে থাকতে। ইচ্ছে করছে ওর কলারটা চেঁপে ধরে ওর দু’গালে বিরতিহীন চড় বসাতে।জানতে ইচ্ছা করছে এমনটা কেনো করলো ওর সাথে।শ্রুতির চোখে চোখ পরতেই পুলক দেখতে পেলো শ্রুতির চোখের আগুন।শুধু একটু হাসলো।তারপর উঠে চলে গেলো পুল সাইডে অন্যসব ফ্রেন্ডদের মাঝে।প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলো পুলক।কিন্তু শ্রুতি যে খুব আগ্রহ নিয়ে বসে ছিল উত্তরটা শোনার আশায়।মনে মনে ভেবেই নিলো আজ ও সবকিছু পুলকের থেকে জেনে তারপর এখান থেকে যাবে।

-‘ শ্রুতি! চল আমরা ফিরি।’
-‘ না।’

অনেকটা গম্ভীর হয়ে বললো শ্রুতি।

-‘ একটু আগেই না বললি বাসায় ফিরবি?’
-‘ এখন যেতে ইচ্ছে করছে না।’

উঠে চলে এলো ঈশাণের পাশ থেকে।দূরে দাঁড়িয়ে শুধু পুলককে লক্ষ্য করছে শ্রুতি।কী সুন্দর না দেখাচ্ছে আজ পুলককে। শ্যামলা বর্ণ ছিলো গায়ের রং টা।তিন বছর পর দেখে মনে হচ্ছে গায়ের রং টা আরো পরিষ্কার হয়েছে।চশমার ফ্রেমটাও চেইঞ্জ করেছে,চুলগুলো স্টাইলিশ ব্রাশ করা।দু একটা চুল লম্বা হয়ে পরে আছে কপালে ওপর।রেড টি শার্টের ওপর ব্ল্যাক স্যুট। হাতা কনুই অবদি গুছিয়ে রাখা।এত পরিবর্তন! কে বলবে দেখে এই মানুষটার জীবনে কিছু ঘটে গেছে যা একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।এত ভালো থাকতে দেখে পুলকের প্রতি শ্রুতির ঘৃণাবোধ টা আরো বেড়ে গেলো।ও দেখতে চেয়েছিল পুলক যেদিন ওর সামনে আসবে সেদিন ওর চেহারা হবে অপরাধবোধ আর অনুশুচোনার আগুনে দগ্ধ হয়ে যাওয়া একটা মানুষের চেহারা।আজ ওর সামনে এসেছে ঠিকই তবে যা ভেবে রেখেছিল একদম তার বিপরীত কিছু হয়ে ওর সামনে এসেছে।পুলক কানে ফোন নিয়ে পুল সাইড থেকে একটু দূরে সরে এলো একটু ফাঁকা জায়গাতে।শ্রুতি সেখানে দ্রুত হেঁটে গেলো।ও অপেক্ষাতে ছিল কখন ফাঁকা স্পেসে পাবে পুলককে।

-‘ হ্যাঁ প্রজেক্টটা আমিই কমপ্লিট করবো সমস্যা নেই।এ মাসের সাতাশ তারিখেই আমি ব্যাক করছি।টেনশান নিতে হবে না আপনাকে।’

কথার মধ্যেই দেখল শ্রুতি ওর দিকে এগিয়ে আসছে।অনেকটা কাছে চলে এসেছে ওর।ফোনের ওপাশের ব্যক্তিকে বিদায় জানিয়ে ফোনটা পকেটে ভরে নিলো।ওর দিকে তাকিয়ে সুন্দর একটা প্রাণখোলা মুচকি হাসি দিলো।

-‘ হ্যালো।’

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে গম্ভীর চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।চোখ দুটো উপচে পানি নেমে আসবে আসবে ভাব।পুলক বললো,
-‘ কী দেখছো এভাবে?’
-‘ একজন প্রতারক কে।’
-‘ কে প্রতারক এখানে?’
-‘ নামটা কী শুনতে ইচ্ছা করছে আমার মুখ থেকে?’
-‘ হ্যাঁ।’
-‘ কতোটা পাথর হৃদয়ের মানুষ হলে কেউ এত বড় অপরাধ করার পর ও….’
-‘ চুপ।’

ঠোঁটের ওপর অনামিকা আঙুল রেখে চোখে মুখে কঠোরতা এনে বললো পুলক।

-‘ এখনো যে আমার সামনে তুমি এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছো সেটাই তোমার কপাল।ধৈর্য ধরে বসে আছি শুধু।’
-‘ কী বোঝাতে চাইছো তুমি?’
-‘ কিছুনা।এখন বলো তো এঙ্গেজমেন্টের দিন ইনভাইটেশান পাচ্ছি কিনা?’
-‘ খুব শখ আসার?’
-‘ খুব।’
-‘ ঠিক আছে।চলে এসো।’
-‘ কী চায় তোমার আমার থেকে?’
-‘ অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি।’
-‘ ওমা অবাক হওয়ার কী হলো?কিছু চায়না তোমার?ডিভোর্স? এটাও চায়না?’

আর পারলোনা আটকে রাখতে।অশ্রুর বাঁধ ভেঙ্গে পড়লো দু চোখ থেকে।আরো বেশি কান্না পাচ্ছে পুলকের এক্সপ্রেশন গুলো দেখে।শ্রুতি কান্না করলে পুলক সেই কান্না ভেজা চোখে আর মুখে হাজারো চুমুর প্লাবন বইয়ে দিতো।আজ সেই পুলক ওর কান্না দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেমন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে। এ কেমন পুলক?এই পুলককেই কী শ্রুতি সবটা উজার করে ভালোবেসেছিলো?এত বড় স্বার্থবাদী একটা প্রতারককে বিশ্বাস করে নিজের বাড়ি ছেড়েছিল?পুলক আজ শ্রুতির চোখের পানি নিয়ে যে খেলাটা খেলল তা শ্রুতি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলবেনা। ওর কাছে এগিয়ে এসে গাল থেকে এক ফোটা পানি অনামিকা আঙুলের ডগার ওপর তুলে নিলো পুলক।তারপর বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে সেটা ঝেড়ে ফেলল।টিস্যু পেপাড় দিয়ে সেই আঙুল দুটোও মুছে নিলো।সবশেষে শ্রুতির পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।মরে যেতে ইচ্ছে করছে শ্রুতির।এর থেকে তো সারাজীবনে দেখা না হলেও ভালো হতো।তক্ষণি শ্রুতি ছুটে চলে আসে হোটেলের বাহিরে।আর সে দেখতে চাই না এই বিশ্বাসঘাতক,প্রতারক মানুষটাকে।
_____________________

তিন বছর আগের সবকিছুকে দুঃস্বপ্ন ভেবে সামনের জীবনে এগিয়ে যাবে শ্রুতি।এমন কিছু ভেবেই সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে।ভাববে না সে আর ওই প্রতারকের কথা।

-‘ কিরে আজকের দিনে অনন্ত এভাবে মুখটা কালো করে রাখিস না।এমনিতেই তোদের নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।তারউপর মুখটা এভাবে কালো করে রাখলে আরো বেশি বলার সুযোগ পাবে সবাই।’

মেঘলার কথাগুলো কানে আসতেই শ্রুতি ভাবলো, -‘ সত্যিই তো! কেনো আমি মনমরা হয়ে থাকবো? আমার তো আজ থেকে জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।আমি আজ থাকবো সবার থেকে খুশি হয়ে।’

কথাগুলো ভেবে নিজেকে একদম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো শ্রুতি।আজকে ঈশাণের সঙ্গে শ্রুতির এঙ্গেজমেন্ট।শ্রুতির বাড়িতেই পার্টিটা এ্যারেঞ্জ করা হয়েছে।শ্রুতি আর ঈশাণের আশপাশ দিয়ে ওদের সকল বন্ধু-বান্ধব গিজগিজ করছে। কেউ ই আসতে বাকি নেই।শুধু একজন বাদে।সে তো নিজে যেচে এসে দাওয়াতটা নিয়েছিল।আসবে কী সে? সবার সাথে হেসে হেসে গল্প করছে ঠিকই।কিন্তু মনের মধ্যে সেই মানুষটার ভাবনাও ভাবছে শ্রুতি।সবশেষে এঙ্গেজমেন্টটা হয়েই গেলো। প্রত্যেকেই খুব খুশি।কিন্তু খুশি হতে পারছে না শ্রুতি।এত ঘেন্নার পরও ইচ্ছা ছিল ওই মানুষটা আসবে এখানে, একটাবার দেখবে তাকে।কিন্তু কই?সে তো এলোনা।আর আসবেই বা কোন মুখ নিয়ে।আত্মসম্মানবোধ না থাকলে ঠিকই আসতো। নিচে গার্ডেন সাইডে বসে শ্রুতি আর ঈশাণ সব ফ্রেন্ডদের সঙ্গো আড্ডাই ব্যস্ত ছিলো।এরই মাঝে পুলক এসে উপস্থিত হলো।

-‘ আড্ডা তো বেশ জমেছে।আমি কী জয়েন করতে পারি?’

সবাই ফিরে তাকালো ওর দিকে।বাহ্ বেশ তো লাগছে আজ দেখতে পুলককে।পুলকের পরনে আজ শ্রুতির দেওয়া শেষ উপহারের হোয়াইট স্যুট এন্ড প্যান্ট।তার সঙ্গে স্যুটের নিচে হালকা পিংক কালার একটা শার্ট।পকেটে দু’হাত পুরে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে সে।নজরটা রয়েছে শ্রুতির দিকে।শ্রুতিও আজ হোয়াইট আর পিংক কালার মিক্সড একটা ল্যাহেঙ্গা পরেছে।যার জন্যই সবাই একবার শ্রুতিকে দেখছে আবার পুলককে দেখছে।পুলকের আগমন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে শুধু ধ্রুব ছাড়া।সে এসে ওকে বললো,
-‘ আমি তো ভাবলাম তুই বোধহয় রুমে বসে কাঁদছিস আর টিসু পেপাড়ে চোখ মুছছিস।’
-‘ কী যে ভাবিস না আমাকে তোরা!’
-‘ তুই এখানে?’

ঈশাণ রাগে গম গমে ভাব নিয়ে প্রশ্নটা করলো পুলককে।ভদ্রতা বজায় রেখে পুলক উত্তর দিলো,-‘ তোর হবু বউয়ের কাছ থেকে সেদিন ইনভাইটেশান পেলাম।অবশ্য আমিই যেচে পড়ে নিয়েছিলাম।খুশি হোস নি বুঝি?’

শ্রুতির নজর মাটির দিকে।সে না পারছে পুলকের দিকে তাকাকে আর না পারছে ওর সঙ্গে কথা বলতে।চোখ ফেটে ভেতরে সব কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছে।এতটা কষ্ট তো ওর হওয়া উচিত না।পুলক তো বেশ আছে।তাহলে ও কেনো এত কষ্ট পাবে?

-‘ আমি এসেছি তার কারণটা তুই না বুঝলেও তোর বউ বুঝে গেছে।’

পুলকের কথায় শ্রুতি এতক্ষণে টের পেলো।পুলক এসেছে ওকে ডিভোর্স পেপাড় টা দিতে।কাগজে কলমে সারাজীবনের জন্য আজই ওদের বিচ্ছেদ ঘটবে।পারবে কী শ্রুতি ওই কাগজে একটা সই করে সারাজীবনের জন্য ওকে ত্যাগ করতে?হুহ্ মনের বিচ্ছেদটা তো কবেই ঘটে গেছে।তাহলে কাগজে কলমে বিচ্ছেদটা মেনে নিতে আর সমস্যা কোথায়?নিজেকে সামলে একদম স্বাভাবিক করে উঠে এলো পুলকের সামনে।

-‘ কই? কাগজটা দাও।’

পুলক কাগজটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।শ্রুতির চোখের দিকে তাকিয়ে কাগজ ওর দিকে এগিয়ে ধরলো।
_________________

বাগানের ভেতরটায় যেখানে নিরিবিলি বসার জন্য একটা ছোট টেবিল আর দুটো চেয়ার সেখানে গেল ওরা দুজন।সাথো এলো ঈশাণও।কাগজটা হাতে নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে শ্রুতি যখন সই করতে গেলো তখন পুলক বললো,-‘ অন্ততপক্ষে একবার চোখটা বুলিয়ে নাও।পড়ে দেখো কাগজে কী লেখা আছে।এত তাড়া কিসের?বিয়েটা তো আর আটকে দিচ্ছি না।’

ঈশাণ এগিয়ে এসে বললো,-‘ শ্রুতি কাগজটা দে তো দেখি।’
-‘ ডিভোর্সটা আমার আর তোর শ্রুতির হচ্ছে।তোর ভূমিকা এখানে না থাকলেও চলবে।স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাক।’

ঈশাণ ক্রুদ্ধ চোখে চেয়ে আছে পুলকের দিকে।পুলকের চাহনি ও ঠিক একই রকম।শ্রুতি কাগজটা হাতে নিয়ে যখন পড়তে শুরু করলো তখন পুলক আবার বললো,-‘ চেয়ারটাতে বসো তারপর পড়ো।’

শ্রুতি একটু সময় ওর দিকে চেয়ে থেকে চেয়ারে বসল।তারপর পড়তে আরম্ভ করলো।শুরুর দিকে আইনীভাবে কাগজে যা লেখা থাকে সেগুলোই লেখা।তারপর নিচে নামতে নামতে যে লিখাগুলো ছিল তা পড়তে পড়তে শ্রুতির গলা শুকিয়ে আসছিলো।মনে হচ্ছিল ওর পায়ের নিচের জমিন কেঁপে উঠছে বার বার।এর জন্যই বোধহয় পুলক ওকে বসে পড়তে বলেছে।

_

অনুরাগ ৯ম পর্ব

অনুরাগ
৯ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

 

-‘ বিয়েটা কেনো করছিস না বল তো?ঈশাণ কিন্তু সত্যি খুবই পছন্দ করে তোকে।আর সেটা ভার্সিটি টাইম থেকেই।ও এখনো তোর জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।আর তুই অপেক্ষা করে আছিস ওই বেঈমানের জন্য?’

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।এই তিনটা বছর শ্রুতি কীভাবে কাটালো তা নিজেরও অজানা।এর মাঝে অনেকবার মনে হয়েছে যে পুলকের সাথে একটাবার কথা বলা উচিত।কিন্তু রাগ অনুরাগ তাকে আটকে ধরে রেখেছিলো।আর যখন সেই রাগ অনুরাগকে ভুলে গিয়ে পুলকের খোঁজ নিতে গেলো তখন আর পুলককের অস্তিত্ব পাওয়া গেলো না।সবাই বলছে পুলক হয়তো সেই বাবলী মেয়েটার সঙ্গে দূরে কোথাও সংসার পেতেছে কিংবা অন্য কাউকে নিয়ে।কিন্তু শ্রুতির মনে হচ্ছে পুলক ভালো নেই।

-‘ শ্রুতি?কথা বলছিস না কেনো?

মেঘলার ডাকে শান্ত চোখে ওর দিকে ফিরে তাকালো।

-‘ তোর কী মনে হয় পুলক সত্যিই কাউকে….?’
-‘ শ্রুতি!’
-‘ প্লিজ বল না?’
-‘ আমি জানিনা কিছুই।ওর ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে নামা প্লিজ।ও যদি কোনো অপরাধ করে না থাকে তাহলে তোর সাথে কেনো আর যোগাযোগ করলোনা বল।ও তোকে একসময় এমনিতেই ছেড়ে চলে যেতো।কিন্তু তার আগেই তো…..’

মেঘলার কথার মাঝে ওর ফোন বেজে উঠলো।ফোনে কথা বলা শেষে শ্রুতিকে বললো, ‘ঈশাণ আসছে এখানে।তোর ফোন রিসিভ হচ্ছেনা বলে আমাকে ফোন করেছে।’

-‘ ও এখানে এসে কী করবে?’
-‘ কী করবে আবার?কফি খাবে আমাদের সঙ্গে।শোন আজ সবকিছু তোদের মাঝে ক্লিয়ার করে নে।ঈশাণ সত্যি তোকে ভালোবাসে রে।ও তোকে অনেক ভালো রাখবে।’

সেদিনের কথার পর শ্রুতি আর ঈশাণ কে ফিরিয়ে দিতে পারে নি।ঈশাণের ওর মুখ থেকে হ্যাঁ শব্দটি না শোনা পর্যন্ত জায়গা থেকে এক চুল পরিমাণ ও নড়েনি।শ্রুতির হাতটা ধরে বসেই ছিল শুধুমাত্র ওর মুখ থেকে হ্যাঁ শব্দটি শোনার জন্য।অবশেষে শ্রুতি আর ফিরিয়ে দিতে পারে নি ওকে।সেদিন রাতেই ঈশাণ ওর বাবা-মা কে নিয়ে শ্রুতির বাড়িতে যায় শ্রুতিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিতে।ঈশাণের মতো ছেলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ইচ্ছা কোনো বাবা-মায়ের ই নেই।শ্রুতির বাবা-মা ও পারে নি।সবশেষে রিসেন্ট মান্থেই ওদের এঙ্গেজমেন্টের ডেট ফিক্সড করেছে তারা।
.
.
.
-‘ আচ্ছা তোরা এ্যারেঞ্জমেন্ট কর। ওকে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার।ওকে রাখছি।’
-‘ ঈশাণ আমি কোথাও যাবোনা। প্লিজ আমাকে জোড় করিস না।’
-‘ কেনো যেতে চাইছিস না তুই?আচ্ছা তুই কী আমাকে মেনে নিতে পারছিস না এখনো?’
-‘ তেমন কোনো বিষয় না।আমার ভালো লাগছে না।’
-‘ ভালো লাগাতে হবে শ্রুতি।২-৩ বছর আগেও আমরা সব ফ্রেন্ডরা এমন কতো ইভেন্ট তৈরি করেছি।কতো এনজয় করেছি সেইসব ইভেন্টগুলো।তাহলে আজ কেনো করবি না?এভাবে লাইফটাকে থামিয়ে রাখার কোনো মানেই হয়না।’

শ্রুতি ঈশাণ কে কী করে বোঝাবে যে এমন ধরনের ইভেন্টে জয়েন করা মানেই পুলকের স্মৃতিগুলো ওকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে।সেইসব ইভেন্টগুলোর মূল ইভেন্ট প্ল্যানার ছিল যে পুলক।সেই সময়গুলোতে দুজন কতো মিষ্টি মধুর সময় কাটিয়েছে ওরা।আর আজ এখন সেই ইভেন্টে সবাই থাকবে শুধু থাকবে না পুলক।

-‘ তুই নিশ্চই পুলকের কথা মনে করে ইভেন্টে যেতে চাইছিস না?’
-‘ (নিশ্চুপ)’
-‘ যদি এটাই তোর না যাওয়ার মূল কারণ হয় তাহলে আমি তোকে বাধ্য করবো ইভেন্টে জয়েন করতে।কারণ আমি চাই না তুই ওই প্রতারকের স্মৃতি মাথায় রেখে সব আনন্দ খুশি থেকে নিজেকে দূরে রাখবি।এখন তুই কী চাস বল?আমি তোকে বাধ্য করবো আমার সঙ্গে যেতে নাকি তুই নিজেই যাবি?’

অগত্যা শ্রুতি পুলকের সঙ্গে একটি হোটেলে গেলো ওদের ফ্রেন্ডদের গেট টুগেদার পার্টিতে।সেখানে তানিয়া,মেঘলা,নিশাদ,রবিন ছাড়াও ভার্সিটির আরো কিছু ফ্রেন্ড এসেছে।পার্টিটা হচ্ছে হোটেলের মধ্যে সুইমিং প্লেসের সাইডে।চারপাশ অসম্ভব আলো আর মিউজিকের জোরালো শব্দে শ্রুতির মাথা ধরে আসছে।সবাই ইতোমধ্যে শ্রুতি আর ঈশাণের বাগদানের কথা জেনে গেছে।খুব ইয়ারকি মজা করছে সবাই ওদের সঙ্গে।এর মধ্যে ওদের একটি ফ্রেন্ড ধ্রুব এসে ঈশাণকে বললো, ‘ সেই তো ওকে ভাগিয়েই নিলি।তো পুলকের সঙ্গে বিয়েটা হওয়ার আগেই ভাগিয়ে নিতি।বিয়ের পরে কেনো দোস্ত?’
-‘ ভাগিয়ে নিয়েছি এটা কেমন কথা ধ্রুব?কথা সংযত হয়ে বল।’
-‘ অদ্ভুত!রেগে যাচ্ছিস কেনো?কথাটা কী শুধু আমি একা বলছি? এখানে যারা উপস্থিত সবাই একই কথা বলছে।’
-‘ সবাই বলছে মানে?সবাই কী বলছে?’
-‘ আচ্ছা থাক বাদ দে।যা বলেছি তো বলেছি।ওসব কথা থাক। এসেছি এনজয় করতে।ভাগাভাগি প্রসঙ্গ থাক।চল ওদের কাছে যাই।’
-‘ দাঁড়া শ্রুতিকে ডাকি।’
-‘ আরে ও তো আছে মেঘলাদের সঙ্গে।তুই আয় আমার সাথে।’

হাতে সফ্ট ড্রিংকসের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে ঈশাণ সবার সঙ্গে কথা বলছে।কথার এক পর্যায়ে ঈশাণ জানতে চাইলো আজকের ইভেন্টের মূল প্ল্যানার কে?শুভ নামের একটি ফ্রেন্ড বললো, ‘ কেনো তুই জানিস না?’
-‘ না তো।কে?’
-‘ কী যে বলিস।এতকাল ধরে ইভেন্টগুলো কে তৈরি করে? সেই ই করেছে।’

ঈশাণ কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেলো শুভ’র কথা শুনে।চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।বললো, ‘কার কথা বলছিস।ভালো করে বল।’
-‘ থাক আর জানতে হবে না।একটু পর নিজের চোখেই দেখে নিস।’

-‘ এই শ্রুতি তোদের কী আকদটা হয়ে গেছে?’
-‘ আরে না।এ মাসের ছাব্বিশ তারিখে এঙ্গেজমেন্ট।তারপরই বিয়ের ডেট ফিক্সড হবে।’
-‘ আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?কিছু মনে করবি না তো?’
-‘ রিয়া তুই কী জিজ্ঞেস করতে পারিস তা আমি জানি। না, আমার আর ওর ডিভোর্সটা এখনো হয়নি।ও কোথায় আছে আমি নিজেও জানিনা।’
-‘ তাহলে ডিভোর্স ছাড়া……’

রিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই ইভেন্ট প্ল্যানার এসে উপস্থিত। সবাই তার সঙ্গে জাপ্পি নিতে ব্যস্ত।

-‘ এবারের ইভেন্ট প্ল্যানার কে?’
-‘ গিয়ে দেখে আয় কে।’

রিয়ার মুখের দিকে চেয়ে দেখলো শ্রুতি।রিয়া ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।রিয়ার থেকে চোখ ফেরাতেই ঈশাণের দিকে চোখ পড়লো শ্রুতির।কেমন বিষণ্নতার ছাপ চেহারায় দেখতে পাচ্ছে ও।

-‘ চল দেখা করে আসি ওর সাথে।অনেকদিন বাদে দেখা হচ্ছে।’

রিয়ার সাথে এগিয়ে গেলো সকলের মাঝে সেই ইভেন্ট প্ল্যানারের সাথে দেখা করতে।বুকের ভেতরটা কেমন যেনো ছটফট করছে।মানুষটা কে হতে পারে এটা ভেবেই বড্ড অস্থির লাগছে শ্রুতির।শ্রুতির পাশে এসে দাঁড়ালো ঈশাণ।সে নিজেও এক্সাইটেড মানুষটা কে হতে পারে তাকে দেখার জন্য।

_

অনুরাগ ৮ম পর্ব

অনুরাগ
৮ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘আমি কী তোমার বাসায় যাচ্ছি?’
-‘হ্যাঁ।’
-‘সত্যি?’
-‘মিথ্যা হবে কেনো?’
-‘আমি কী আজ থেকে তোমার সঙ্গেই থাকবো?’
-‘অবশ্যই।আমার সঙ্গে থাকবেনা তো কার সঙ্গে থাকবে তুমি?’
-‘ওখানে আর আমাকে ফিরে যেতে হবেনা? ওরা যদি আমাকে কখনো নিতে আসে আবার?’
-‘আর আসবেনা ওরা বাবু।তুমি এত চিন্তা করছো কেনো?এখন তো আমি আছি তোমার সঙ্গে তাইনা?’

গাড়িতে বসে পুলক বাবলীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাড়িতে পৌঁছে গেলো।বাবলী ছোট বাচ্চাদের মতো পুলকের বাহু জড়িয়ে ধরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।শ্রুতি কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে ওদের দুজনকে একসাথে দেখে না চাইতেও চমকে গেলো।
পুলকের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি।আর বাবলী মেয়েটা খুব ভীত চোখে তাকিয়ে দেখছে শ্রুতিকে।
শ্রুতি দরজার মুখের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে ওরা ভেতরে ঢুকলো।ড্রয়িংরুমে তানিয়া,মেঘলা, ঈশাণ,রবিন,নিশাদ সবাই বসে আছে।সবারই মুখের ভাবটা গম্ভীর।পুলকের সঙ্গে ছবিতে দেখা ওই মেয়েটিকে দেখে সবাই বেশ চমকে উঠলো। কেউ কিছু বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছেনা।শুধু তাকিয়ে দেখছে দুজনকে।

-‘বাহ্ তোরা সবাই আছিস দেখছি।ভালোই হয়েছে।সবটা সবার সামনেই পরিষ্কার হবে।’
রবিন বললো, ‘ও কে পুলক?’
-‘ও বাবলী।’
-‘সেটা তো ওর নামের পরিচয়।’

শ্রুতি শান্ত ভঙ্গীতেই বললো পুলককে।পুলক বললো, ‘ও আমার ছোট বোন শ্রুতি।আমার একমাত্র ছোট বোন।যাকে আমি সেই এগারো বয়স হারিয়েছিলাম।’

পুলকের উত্তরে সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলো।শ্রুতিও একদম চুপ হয়ে গেলো।ওরা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে শুধু।ঈশাণ হঠাৎ এর মধ্যে খিক করে হেসে উঠল।বললো, ‘কারো কোনো কমেন্ট আছে?’

সবাই নিশ্চুপ।এ্যাটেনশন এখন সবার ঈশাণের দিকে।পুলকও চেয়ে আছে ওর দিকে।কী বলতে চাই তা শোনার আশায়।ঈশাণ উঠে এসে পুলকের সামনে দাঁড়াল পকেটে হাত গুজে।বললো, ‘এত লো ক্লাসেস বুদ্ধি পাস কই?’

-‘তোর সমস্যা কোথায় বল তো ঈশাণ?’
-‘এটা তো আমি জিজ্ঞেস করবো আমি?কেনার সময় কী বোন বলে কিনেছিস?’
-‘ঈশাণ….!’

চিৎকার করে উঠলো পুলক।ঈশাণ আবারো বললো, ‘কিনেই তো এনেছিস।মিথ্যে বলেছি কী?রবিন স্বাক্ষী আছে এখানে।আর সব থেকে বড় স্বাক্ষী ওখানকার সর্দারনী।ফোন দিই?কী বলিস?তুই দিবি নাকি আমি দিবো?’

ঈশাণ পুলককে সর্দারনীর নাম্বারটা দেখিয়ে কল করলো তাকে।কলটা স্পীকার করে সবাইকে শুনালো পুলক কীভাবে কত দামে বাবলীকে ওখান থেকে কিনে নিয়েসেছে।আর সব থেকে বড় যে কথাটা সেটা হলো সর্দারনী জানিয়েছে বাবলীকে পুলক বিয়ে করবে বলে সে ওকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছে।কোন বোন পরিচয়ে আনেনি এখানে।শ্রুতি ধপ করে ফ্লোরে বসে পরলো।মেঘলা,তানিয়া ওকে দ্রুত গিয়ে ধরে বসল।পুলক ঈশাণের কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে সর্দারনীকে বললো, ‘এই কী বলছেন আপনি?এসব কী বলছেন?বাবলীকে আমি বিয়ে করবো বলে…..।ছিঃ ও আমার বোন।আমি কত কষ্টে ওর সন্ধান পেয়েছি আপনি জানেন।হ্যালো হ্যালো…..?’

ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গিয়েছে।পুলক ঘুরে তাকিয়ে দেখলো শ্রুতি মেঘলার বুকে মাথা রেখে ফ্লোরে পাথরের মতো বসে আছে।তাকে খুবই অস্বাভাবিক লাগছে।ওর কাছে গিয়ে পুলক বললো, ‘তুমি আমাকে বিশ্বাস করছোনা,হ্যাঁ? এই শ্রুতি?তোমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আমার কথা? বাবলী আমার বোন।ছোট থাকতে আমার মামা একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে ওকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো আমার কাছ থেকে।ও তখন খুব ছোট ছিলো।আমি ওকে কোথাও খুঁজে পাইনি।সপ্তাহ খানেক আগে আমার সেই মামা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার জন্য।আমাকে জানায় সে ক্যান্সারে আক্রান্ত।এডিক্টেড ছিলো খুব সে।আমি তাকে টাকা দিতে রাজি না হলে সে আমাকে বাবলীর কথা জানায় বাবলীকে সে কোথায় চুরি করে রেখে এসেছিলো।আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বাবলী এখন টাঙ্গাইল।আর আমি সেদিনই তোমাকে অফিসের কাজের কথা জানিয়ে টাঙ্গাইল যাই ওকে ফিরিয়ে আনতে।আমি……’

-‘থাম ভাই।অনেক তো বললি।এবার তোর বাবলীকে কিছু বলতে দে।’

পুলক থম মেড়ে দাঁড়িয়ে আছে।শ্রুতিকে কিছু বলবে তখনই ঈশাণ ধমকে বাবলীকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এই মেয়ে তোর সাথে পুলকের পরিচয় কী করে?তোর সাথে ওর সম্পর্ক কিসের?’

এরকম আরো নানারকম প্রশ্ন করলো ঈশাণ বাবলীকে।বাবলীর উত্তর যা ছিল তা শোনার পর পুলক আর এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। শ্রুতি ওর মুখটা অবদি তাকিয়ে দেখেনি।শ্রুতি বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে মেঘলা আর তানিয়ার সাথে।বাবলী কী করে বলতে পারলো পুলক তার দেহ ভোগের জন্য বাড়িতে নিয়েসেছে পতিতালয় থেকে?নিজের বোন হলে এমন কথা সে কখনো বলতে পারতোনা।এসব ভেবে পুলকের মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে একদম।এর মধ্যে কখন যে শ্রুতি মেঘলা আর তানিয়ার সাথে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে পুলক তা লক্ষ্যও করেনি।একে একে বাসাটা পুরো খালি হয়ে গেছে।পুলক মেঝেতে বসে আছে।

-‘জীবন টা আবারও আমার সঙ্গে লুকোচুরি খেললো।’

এটায় ছিলো পুলকের শেষ কথা।এরপর প্রায় তিন বছর কেটে যায়।পুলকের কোনো সন্ধান মিলেনি।শ্রুতি যখন নিজের বাড়িতে ফিরে যায় তার কিছুদিনের মাথায় ওর ফ্যামিলি শ্রুতিকে বাধ্য করে পুলককে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে। পুলকের ঠিকানাতে ডিভোর্স লেটার পৌঁছালেও পুলককে আর পাওয়া যায় না।তার আগে পুলক বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলো শ্রুতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে।কিন্তু পারেনি আর তার এক সপ্তাহ পর থেকেই পুলক হারিয়ে গেছে কোথাও।কেউ ই তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

_

অনুরাগ ৭ম অংশ

অনুরাগ
৭ম অংশ

লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ তোর সাহস কতখানি তুই আমাকে থ্রেট করছিস?অবশ্য এমন একটা বাজে কাজ করার মতো সাহস যে দেখাতে পারে তার তো…..।তুই বেরো আমার বাসা থেকে।যাহ্ বেরো……বেরো।’

একরকম ঘাড় ধাক্কা দিয়েই বের করে দিলো ঈষাণকে পুলক।শ্রুতি বেলকোনির এক কোণে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।চোখের পানিতে গাল চিকচিক করছে তার।আবছা আলোতেই পুলক দেখতে পাচ্ছে শ্রুতি আর শ্রুতির ভেজা গাল।তখন ঈষাণের সাথে অমন ক্লোজড হয়ে বসে থাকতে দেখে ক্ষণিকের জন্য মাথা খুব গরম হয়ে গিয়েছিল।নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারেনি তখন।ওইভাবে শ্রুতিকে আঘাত করা পুলকের একদমই উচিত হয়নি।সম্পর্কের এতগুলো বছরে এভাবে হুট করেই শ্রুতিকে অবিশ্বাস করাটা পুলকের কাছে খুব অন্যায় বলে মনে হচ্ছে।তবুও মনকে মানাতে পারছেনা সে।

-‘ কেনো এমনটা করলে?’

পুলকের প্রশ্নে শ্রুতি চোখের পানি মুছে চোখ মুখ শক্ত করে ওর দিকে এগিয়ে এলো।

-‘ আমাকে করছো এই প্রশ্ন?প্রশ্নটা তো আমার করার কথা ছিলো তাইনা?’

পুলক খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে।শ্রুতি যদি অন্যায় কিছু করে থাকে তাহলে ওর চোখে মুখে কঠোরতা নয় আতংক থাকার কথা।কিন্তু না তাকে খুবই আপসেট লাগছে।ওপর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ভেঙ্গে চুড়ে পরেছে সে।ব্যাপারটা আগে জানা প্রয়োজন পুলকের।

-‘ কী করেছি আমি বলো তো?কী হয়েছে তোমার?’
-‘ আমার মুখ থেকেই শুনতে চাইছো?’
-‘ প্লিজ আমি এভাবে তোমাকে দেখতে পারছিনা।’
-‘ তাই?’
-‘ তখন তুমি কী বললে আমাকে?আমি তোমার সতীন আনছি।নারী পিপাসু আমি।এগুলো কী ভাষা ছিলো শ্রুতি?এমনো কথা তোমার থেকে আমাকে কখনো কোনোদিন শুনতে হবে……।’
-‘ কী করেছি আমি বলো?’

শ্রুতি কিছুক্ষণ পুলকের মুখের দিকে চেয়ে থেকে রুমে চলে গেলো।পুলকও ওর পিছু পিছু রুমে এলো।বিছানার ওপর থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে ফটো গুলো পুলকের সামনে মেলে ধরলো শ্রুতি।ফটোগুলো দেখে চোখদুটো বন্ধ করে হতাশার ভঙ্গীতে মুখ ঘুরিয়ে নিলো পুলক। অনেক সময় ধরে শ্রুতি পুলকের মুখের দিকে চেয়ে আছে কিছু শোনার আশায়।ও শুনতে চায় পুলক বলুক, ‘ তুমি যা ভেবেছো সব ভুল সব মিথ্যা।’ কিন্তু পুলক এমন কিছুই বললোনা। কিছুক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলো।গলা থেকে টাই টা খুলে নিচে ফেলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো সে।শ্রুতির ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কাঁদতে।হেঁটে হেঁটে বেলকোনিতে চলে গেলো সে।
————————————————–

মাথাটা প্রচন্ড ভার হয়ে আছে শ্রুতির।কেমন যেনো চোখ মেলে তাকাতেও কষ্ট হচ্ছে।মাথাটা চেঁপে ধরে উঠে বসে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো সে।সকাল ১০ বেজে ৩৫ মিনিট।

-‘ অনেক দিন পর এতো বেলা অবদি ঘুম হলো।’

পুলকের কথা শুনে ফিরে তাকালো শ্রুতি ওর দিকে।হাতে দু কাপ কফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। খুব খোশ মেজাজে আছে বলে মনে হচ্ছে শ্রুতির কাছে।ব্ল্যাক টি শার্ট আর হাফ কোয়ার্টার প্যান্ট সাথে ভেজা চুল গুলো কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পরে আছে।খুবই স্বচ্ছ লাগছে তাকে দেখতে।
ওর এতো অতী স্বাভাবিক ভাব দেখে শ্রুতির নিজেকে আরো বেশি এলোমেলো লাগছে।

-‘ আমি তো রাতে বেলকোনিতে ছিলাম।’
-‘আমি তো আপনাকে বিছানাতে নিয়েলাম।’

কফি হাতে শ্রুতির পাশে এসে বসল।শ্রুতি ফোলা চোখে একটু বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখছে পুলককে।হাতে কফির মগটা ধরিয়ে দিয়ে শ্রুতিকে বললো, ‘ ভেবেছিলাম কোলে তুলে নিয়ে আসার সময় আপনি সিনক্রিয়েট করবেন।কিন্তু ম্যাডাম তো একদম ঘুমে কাদা ছিলেন।যখন বিছানাতে শুইয়ে দিলাম একদম গলা টেনে ধরে সারারাত গলা জড়িয়ে বেঘোরে ঘুমালেন।’

একটু আবেগমাখা কন্ঠে পুলক আবারো বললো, ‘ পারবেনা তো আমাকে ছেড়ে থাকতে।তাহলে খামোখা এই দূরে থাকার ব্যার্থ চেষ্টা কেনো?’
-‘ কী চাইছো বলো তো তুমি?কী চাইছো?সবকিছু স্বাভাবিক রেখে আমার সামনে তাকে নিয়ে সংসার করতে?কীভাবে পারছো তুমি এমন জিনিস ভাবতে?’

বড্ড তেজী গলায় কথাগুলো বললো শ্রুতি।পুলক শুধু শূণ্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওর দিকে।শ্রুতি ওর এমন ব্যবহার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা। পুলকের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারলোনা। চোখের পলক নামিয়ে মাথা নিচু করে আবার কেঁদে ফেললো।ও পারবেনা এভাবে থাকতে। মরেই যাবে ও পুলককে ছাড়া।পুলক শ্রুতির মাথাটা নিজের কাঁধের ওপর টেনে নিলো।শ্রুতি মাথা উঠিয়ে নিতে চাইলে পুলক জোর করেই ধরে রাখলো ওকে।

-‘ ছাড়ো।’
-‘ না।’
-‘ উফ্ আমার অসহ্য লাগছে খুব।ছাড়ো।’
-‘ আমি সারাদিন তোমাকে এভাবে ধরে রাখলেও তোমার যে অসহ্য লাগবেনা তা আমি জানি। তোমাকে জানতে হবে, শুনতে হবে আমার সব কথা। কে বা কারা এমন একটা ব্যাপারকে ভুলভাবে তুলে ধরেছে তোমার সামনে তা আমি শুনবোনা। কারণ সেই তথ্য আমি নিজেই অনুসন্ধান করবো।কিন্তু তুমি যে ব্যাপারটাকে ঘিরে একটা বিশ্রি ঘটনা তৈরি করে নিয়েছো নিজের মনে সেটা আমায় ক্লিয়ার করতে হবে তোমার কাছে। তবে শুধু মুখে বলে নয়।স্ব-চোক্ষে দেখিয়ে ক্লিয়ার করবো সবকিছু।একটু ওয়েট করো।’
__

অনুরাগ ৬ষ্ঠ পর্ব

অনুরাগ
৬ষ্ঠ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

ঈশাণ শ্রুতির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখল পুলকের সঙ্গে একটি মেয়ের বেশ কিছু ছবি।একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুলক ওই মেয়েটাকে আইসক্রিম খাইয়ে দিচ্ছে, মেয়েটাও ওকে আইসক্রিম খাইয়ে দিচ্ছে আবার ওর নাকেও জড়িয়ে দিচ্ছে।দুজন মিলে শপিং করে বের হচ্ছে,রিক্সায় ঘুরছে।ছবিগুলো দেখে ঈশাণ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।তারপর শ্রুতিকে বলল,
-‘ রবিনকে ফোন কর।’

শ্রুতির শরীর থরথর করে কাঁপছে তখন। মাথাটাও কেমন ঘুরছে মনে হচ্ছে ওর কাছে।আজকে শ্রুতির পুলকের বলা ওই কথাটা মনে পরছে,
-‘ জীবনের সব থেকে বড় খুশিটা ফিরে পেয়েছি।’

তাহলে কী এটাই ছিল ওর জীবনের সব থেকে বড় খুশি?হ্যাঁ ছবিতে পুলককে খুব খুশি দেখাচ্ছে।এই খুশির জন্যই হয়তো ও এতদিন অপেক্ষা করেছে।এমনটাই মনে হচ্ছে ছবিগুলো দেখে।শ্রুতি আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা।মাথা ঘুরে নিচে পরে গেল।ঈশাণ দ্রুত ধরে ওকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে এল।চোখ মুখে পানি ছিটানোর পর ওর জ্ঞান ফিরলে ঈশাণের বুকে মাথা রেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল শ্রুতি।ঈশাণ তখন ধমকে বলল,
-‘ ছবিটার মেয়েটা কে তুই কী জানিস? না জেনেই এরকম পাগলের মত কান্নাকাটি করছিস কেন?ওর তো কোনো রিলেটিভ…..’

শ্রুতি ঈশাণের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-‘ ওর কোনো রিলেটিভ নেই ঈশাণ ওর কোনো রিলেটিভ নেই।’
-‘ তুই কান্না থামা।আগে রবিনকে ফোন কর।ও মেসেজ করেছে তুই ওই মেয়েটাকে চিনিস কিনা?’

কোনরকমে নিজেকে সামলে শ্রুতি রবিনকে ফোন করল।

-‘ হ্যালো শ্রুতি?’
-‘ তুই এই ছবিগুলো কোথায় পেয়েছিস?’
-‘ এই ছবিগুলো আমি নিজে তুলেছি। গতকাল আমি টাঙ্গাইল এসেছি মামার বাড়িতে।তারপর বিকালে আমি মামার সাথে শহরে ঢুকতেই পুলককে একটা দোকানের সামনে দেখলাম।ওকে দেখে ছুটে ওর কাছে যাব তখন দেখি ওর পাশে ওই মেয়েটা।তারপর ওরা ওখান থেকে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকল।আমিও গেলাম সেখানে।ওরা পাশাপাশি বসে যেভাবে গল্প করছিল আর খাচ্ছিল এভাবে আমি বাইরে কখনো তোর সাথে বসেও করতে দেখিনি।ব্যাপারটা তখনই আমার কাছে বেশ খটকা লাগল।তাই আমি ছবিগুলো তুলে ফেলি।ভেবেছিলাম ওই সময়ই তোকে ফোন দিব।পরে ভাবলাম আগে আমি নিজে ক্লিয়ার হই।পুরোটা বিকাল ও ওই মেয়েটাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে।আর সন্ধ্যার সময় ওই মেয়েটাকে নিয়ে এমন একটা জায়গায় ঢুকল যে তখন আমি মাথা ঠান্ডা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না।’

শ্রুতি কাঁপা কন্ঠে প্রশ্ন করল, ‘ কোথায় ঢুকেছিল ওরা?’

রবিন একটু চুপ থেকে নিচুস্বরে বলল, ‘ নিষিদ্ধ পল্লিতে।’

শ্রুতি তখন একদমই চুপ।রবিন আবার বলতে শুরু করল,
-‘ আমি পিছু পিছু মামাকে নিয়ে ওখানে ঢুকলাম।তারপর দেখলাম মেয়েটাকে নিয়ে ওই পল্লির সর্দারনীর বিল্ডিং এ ঢুকতে।মিনিমাম দু ঘন্টা পর পুলক বেশ মন ভার করে বেরিয়ে এল ওখান থেকে।আমি ভাবলাম তখনই ওর সাথে গিয়ে কথা বলব।কিন্তু মামা বারণ করল।ওর পিছে পিছে তখন ওই সর্দারনী বেরিয়ে এসেছে।ওকে বলল,
‘ কাল রাতেই তুমি ওকে এসে নিয়ে যেতে পারবে।কিন্তু আজকে নয়।কথা দিচ্ছি ওর কাছে আজকে রাতে আর কেউ আসবে না।তুমি নিশ্চিন্তে ফিরতে পারো।’

-‘ আমার হাত পা নিশপিশ করছিল তখন। কোনোরকমে নিজেকে সামলে চলে এসেছি আমি।তারপর মনে হল ব্যাপারটা তোকে জানানো উচিত।’
-‘ অনেক বড় উপকার করেছিস।তুই কোথায় এখন?’
-‘ আমি এখনো মামার বাড়িতে।কাল ঢাকা ফিরব।’
-‘ কাল রাতে আমাদের বাসায় আসিস।’
-‘ পুলক বাড়িতে ফিরেনি?’
-‘ না।কাল আসবে।’
-‘ আচ্ছা তুই নিজেকে সামলা।ওর থেকে আগে পরিষ্কার ভাবে জানতে চাইবি মেয়েটা কে ছিল?’
-‘ হুম।রাখছি।’

ফোনটা হাত থেকে নিচে পরে গেল। শ্রুতির চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি পরছে।এখন ওর কী করা উচিত,কীভাবে নিজেকে সামলানো উচিত ও কিচ্ছু বুঝতে পারছেনা।ওর কী এগুলো বিশ্বাস করা উচিত নাকি উচিত না ওর মাথায় কিছুই কাজ করছেনা।ঈশাণ বার বার জিজ্ঞেস করছে,”কী বলল রবিন?” সেই প্রশ্নেরও উত্তরও দিচ্ছেনা শ্রুতি।বিছানা থেকে উঠে দৌড়ে ডাইনিং এ চলে গেল।তারপর টেবিল থেকে ছুড়িটা নিয়ে হাতে আঘাত করতে গেলে ঈশাণ ছুটে এসে জোড় করে ওর হাত থেকে ছুড়িটা নিয়ে নিচে ফেলে দিল।টানতে টানতে ওকে বেডরুমে নিয়ে বসাল।

-‘ কী করছিলি তুই?নিজেকে কেন মারতে চাইছিস?তুই কোনো অপরাধ করিসনি তাহলে তুই কেন সাজা পাবি?আমাকে খুলে বল রবিন কী বলল?আর ওই মেয়েটি কে ছিল?’

শ্রুতি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-‘ আমার পুলক একটা বেশ্যার প্রেমে পরেছে ঈশাণ।’

শ্রুতিকে সামলাতে খুব কষ্ট হচ্ছে ঈশাণের।এভাবে ওকে একা ফেলে গেলে নির্ঘাত কোনো একটা অঘটন ঘটিয়ে বসবে।বাধ্য হয়ে ঈশাণকে থেকে যেতে হচ্ছে শ্রুতির কাছে।শ্রুতিকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে ঈশাণ।আর শ্রুতি ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে যাচ্ছে।কাঁদার এক পর্যায়ে শ্রুতি ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরে।ঈশাণ তখন ঘড়িতে দেখল রাত ১১:৩০ টা বাজে।এখন শ্রুতিকে শুইয়ে দিয়ে চলে যাওয়া যায়।কিন্তু তারপরেই মনে হল ঘুম ভেঙে যদি আবার কিছু করার চেষ্টা করে।তাই ঈশাণ সিদ্ধান্ত নিলো আজকের রাতটা এখানেই থেকে যাবে।ব্যাপারটা খারাপ দেখালেও কিছু করার নেই এখন।রাত দুটোর সময় পুলক বেশ হাসিখুশিভাবে বাসায় ফিরে এল।অনেক কিছু কিনে এনেছে পুলক শ্রুতির জন্য।আজকে অবশ্য আসার কথা ছিলনা পুলকের।এটাই বলেছিল শ্রুতিকে। কিন্তু ওকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য না বলেই চলে এল।রুমে ঢুকে দেখল ডাইনিং রুমের লাইট জ্বলছে।নিজেদের রুমের ও লাইট জ্বলছে।শ্রুতি কী এখনো জেগে আছে?রুমে ঢুকেই পুলক একটা ধাক্কা খেল।স্বপ্নেও কখনো কল্পনা করেনি শ্রুতিকে ও এইভাবে ঈশাণের সঙ্গে দেখবে।হাতের প্যাকেটগুলো ফ্লোরে ছুড়ে মাড়ল।তার শব্দ শুনেই ওদের ঘুম ভেঙ্গে গেল।পুলকের চোখে তখন আগুন জ্বলছে।শ্রুতিও একটু ঘৃণাভরা আর বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখছে পুলককে।তারপরই খেয়াল হলো ও ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। দ্রুত সোজা হয়ে বসল শ্রুতি।ঈশাণের দৃষ্টি তখন স্বাভাবিক।এই মুহূর্তে কার কী বলা উচিত কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা কেউ। পুলক হঠাৎ ঈশাণের দিকে তেড়ে আসে ওর কলার চেঁপে ধরে দাঁড় করিয়ে বলল,
-‘ জানুয়ারের বাচ্চা তোর রুচিতে একটুও বাঁধলোনা রে?আমার ঘরে বসেই তুই আমার বউয়ের সঙ্গে রাত কাটাচ্ছিস? এভাবেই দাম দিলি বন্ধুত্বের?’
-‘ পুলক কলাড় ছেড়ে কথা বল।কিছু না জেনে না শুনে আগেই কোনো ব্লেম দিবিনা।’

পুলক ওর কলাড় চেঁপে ধরে ঠেলতে ঠেলতে দেয়ালের সঙ্গে মিশিয়ে বলল,
-‘ কী জানাবি তুই?রাত দুটোর সময় তোরা কাঁধে মাথা রাখা রাখি করে ঘুমিয়ে আমাকে কী জানাতে চাস?’

শ্রুতি চোখদুটো চোখে মুখে রাগ নিয়ে পুলকের পিছে দাঁড়িয়ে চিল্লিয়ে বলল,
-‘ নিজের নোংরা মনের সাথে সবার মনের তুলনা করবেনা তুমি।ঈশাণকে ছাড়ো।ছাড়ো ওকে।’

শ্রুতির দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওর গালে কষে একটা চড় মাড়ল পুলক।শ্রুতির ঠোঁট কেটে একটু রক্ত গড়িয়ে পরল।

-‘ লজ্জা লাগছেনা গলা উঁচু করে কথা বলতে?নোংরামি করে এখনো এত জোড় আসছে কোথার থেকে?নাকি ধরা পরে গেছো বলে আর কোনো লুকোচুরি রাখছোনা?এখন নিশ্চই বলবে তুমি আমাকে তালাক দিয়ে ওর সঙ্গে ঘর বাঁধতে চাও?এমন সিদ্ধান্ত নিলে আমাকে খুন করে তবেই মুক্তি পাবে আমার থেকে।কী ভেবেছো?আমাকে বলবে আর আমি তোমাদের সেই সুযোগ দিয়ে দিব?’
-‘ ছিঃ লজ্জা তো তোমার করা উচিত। আমাকে ঠঁকিয়ে যাচ্ছো দিনের পর দিন। এই ঘরে আমার সতীন এনে সংসার করার চিন্তা করছো?এতটা নারী পিপাসু তুমি?একজনকে রেখে তোমার মন জুড়াবেনা।আর আমাকে বলছো আমি নোংরামি করছি।আজকে ও না থাকলে আমার মৃতদেহ দেখতে পেতে এই ঘরে। ঈশাণ তুই যা। আমি চাইনা তুই আর অপমানিত হ।কাল ওদের সবাইকে নিয়ে চলে আসিস।যা হবে সকলের সামনে হবে।সবাই জানবে এই মানুষটা একটা মুখোশধারী শয়তান।সবাই ওকে ফেরেশতা ভাবতো না?সবাই জানবে ও কীভাবে আমার সঙ্গে ধোঁকাবাজি খেলা খেলছে।’

ঈশাণ পুলকের সামনে এসে ওকে থ্রেট করে বলল,
-‘ ওর যদি কোনো ক্ষতি হয় একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া তোকে কেউ আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেনা।’

__

অনুরাগ ৫ম পর্ব

অনুরাগ
৫ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

 

শ্রুতি বেশ চমকে উঠে তাকাল পুলকের দিকে।আর ঈষাণ অনেকটা ঘাঁবড়ে গেল পুলকের এই ব্যাপারটাতে।গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে পুলক ঈষাণের দিকে। শ্রুতির বাহু চেঁপে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।তারপর আচমকা ঈষাণের পেটে ঘুষি দিয়ে বলল,
-‘ এই শালা তুই আমার বউয়ের হাত ধরে কী করছিলি রে? ‘

শ্রুতি বুঝতে পারল যে পুলক ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেয়নি।তখন শ্রুতি ওর কনুই দিয়ে পুলকের পেটে গুতা দিয়ে বলল,
-‘ তুমি যে কী ভয়ানক কাজ করো আজকাল!এভাবে কেউ টেনে ধরে?ফাজিল ছেলে।ফ্রেশও তো হওনি।যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।আমি তোমাদের ডিনার রেডি করছি।’
-‘ আরে না।আগে দু কাপ কফি পাঠাও। আজ আমি আর ঈষাণ একটু আড্ডা দিই।’
-‘ মাত্রই তো খেলাম আমরা কফি।আবার?’
-‘ তোমরা দুজন খেয়েছো।আমি তো আর খাইনি।তোমাকে আর খেতে হবেনা।তুমি বরং আমাদের দুজনের জন্য পাঠাও।’
-‘ আচ্ছা ঠিকআছে।বসো নিয়ে আসছি।’

ঈষাণ মুখটা শুকনো করে বলল,
-‘ নারে… আমাকে এগারোটার আগে ফিরতে হবে।আজ আর গল্প নয়।অন্য কোনোদিন আসব।’
-‘ অন্য কোনোদিন?তার মানে বর্তমান একটু ফ্রি সময় পাচ্ছিস তাই তো?আরে কাল তো তোদের সাথে কথাই হয়নি ঠিকমত।একটু বস তারপর না হয় ডিনার করে চলে যাস।’
-‘ এই ঈষাণ বস না?আমার কফিটা কিন্তু মন্দ না সেটা নিশ্চই খেয়ে বুঝেছিস। তাই আর এক মগ যে খাওয়া অসাধ্যকর এমনটা কিন্তু নয়।’

ঈষাণ শুকনো মুখের একটা মুচকি হাসি দিল মাত্র।সেটা দেখে পুলক বলল,
-‘ থাক জোড় করে বেচারাকে কফি গেলানোর কোনো মানে হয়না।ও যে এত ব্যস্ততার মাঝে এটুকু সময় বের করে আমার বাসায় আসতে পেরেছে এতেই আমার ভালো লেগেছে।চল ডিনার করে যাবি।’
-‘ হুম চল।’

ডিনার শেষ করেই ঈষাণ আর এক সেকেন্ডও বসেনি।বিষয়টা দেখে শ্রুতি বেশ অবাক হলো।
**************
-‘ আজ এত জলদি জলদি শুয়ে পড়লে যে?’
-‘ খুব ক্লান্ত গো।তাড়াতাড়ি এসো তো।ঘুম আসছেনা তোমাকে ছাড়া।’

পুলকের কথা শুনে মুচকি হেসে দিল শ্রুতি।চুলটা বিনুনি করে পুলকের পাশে এসে শুয়ে পরল।পুলক বলল,
-‘ তুমি বসে আগে আমার চুলগুলো নেড়েচেড়ে দাও।আমি তোমার কোলের ওপর মাথা রেখে শুবো।’

শ্রুতি সেটাই করল।পুলক ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে ওর কোলের ওপর মাথা রেখে বুকে ভর দিয়ে শুয়ে আছে।আর শ্রুতি ওর চুলগুলো নেড়েচেড়ে দিচ্ছে।

-‘ ঘুমিয়ে পরলে? ‘
-‘ উহু।চোখ বন্ধ করে আছি।তবে না ঘুমানো পর্যন্ত তুমি শুবেনা। ‘
-‘ এই তখন খেয়াল করেছিলে ঈষাণকে? ডিনার করে আর একটা মুহূর্তও বসলোনা।কিরকম তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল। ‘

শ্রুতির কথা শুনে পুলক চোখ খুলল। কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,
-‘ পুলিশ মানুষ।কোন আসামির কথা মনে পরেছে তাই তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে গেছে। ‘
-‘ হুম।হয়তোবা। ‘

পুলক খুব ভালো করেই জানে ঈষাণ কেন ওভাবে চলে গেল।ঈষাণের সামনে যখন পুলক শ্রুতিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে তখন ঈষাণের মুখটা একদম শুকিয়ে যায়।পুলকের ব্যবহারটা শ্রুতির কাছে ওইসময় স্বাভাবিক মনে হলেও ঈষাণ ঠিকই বুঝতে পেরেছে পুলকের চোখের চাহনি দেখে।তাই ওর আর ইচ্ছা করেনি পুলকের সামনে থাকতে। তারপর খেতে বসে যখন পুলক শ্রুতিকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে বলছিল,
-‘ আজ আর আমি হাত দিয়ে খেতে পারবোনা।তোমাকে খাইয়ে দিতে হবে এভাবে আমার কোলে বসেই।’
এই দৃশ্যগুলো দেখে ঈষাণের ভাত হজম করতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল।তাই খাওয়া শেষ করে আর এক সেকেন্ডও বসেনি।এর সবটাই পুলক ইচ্ছে করে করেছে।আর ঈষাণ নিজেও তা বুঝতে পেরেছে।পুলক হঠাৎ শ্রুতির দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘ এই তুমি আজ হোয়াইটটা পরেছো কেন? ‘
-‘ তো কী হয়েছে?একটা পরলেই হলো। ‘
-‘ না একটা পরলেই হলোনা।তুমি আজকে ব্ল্যাকটা পরবে।যাও এটা খুলে ব্ল্যাকটা পরে এসো।’
-‘ কী অদ্ভুত!নাইটি তো নাইটিই।সেটা ব্ল্যাক আর হোয়াইট কী? ‘
-‘ উফ তুমি কী যাবে নাকি আমি গিয়ে নিয়ে আসব? ‘
-‘ আমি নিজেই যাচ্ছি।আচ্ছা নাছোড়বান্দা তুমি। ‘

নাইটি চেইঞ্জ করে পুলকের সামনে এসে দাঁড়াতেই পুলক হ্যাঁচকা টানে ওর বুকের মধ্যে নিয়ে নিলো শ্রুতিকে।তারপর চেঁপে ধরে শ্রুতির ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসল।

-‘ তুমি যে কত বড় লুচু…. ‘
-‘ লুচুর মত কী করলাম তোমার সাথে? ‘
-‘ আমি বুঝিনি কিজন্য তুমি এটা পরতে বলেছো? ‘
-‘ বলো কিজন্য পরতে বলেছি? ‘
-‘ এটা যে খুব শর্ট।হাঁটুর উপরে উঠে থাকে একদম। ‘

শ্রুতিকে বুকের ওপর নিয়ে শুয়ে পরে বলল,
-‘ এখন আর হাঁটুর ওপরেও থাকবেনা।ওয়েট…..’

এমনকরেই সুখে দিনগুলো পার করছিল ওরা।ছোট্ট সংসারে দুটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিলনা। ওদের দুজনের ভালোবাসা নিজেদের কাছে সবসময় কম মনে হতো।পুলক ভাবত শ্রুতির তুলোনায় পুলক হয়তো ওকে কম ভালোবাসে।আর শ্রুতি ভাবত পুলক ওকে বেশি ভালোবাসে নিজের ভালোবাসার তুলনায়।পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল বলে শ্রুতির বড় বোন ইতি ওকে অভিশাপ দিয়েই বলেছিল, ‘যে ভালোবাসার জন্য নিজের পরিবার ত্যাগ করলি সেই ভালোবাসায় একদিন তোর কাছে বিষ মনে হবে।সেই বিষ সহ্য করতে না পেরে ফিরে আসতে হবে আব্বা আম্মার পায়ের কাছে।’
এই কথাগুলো যখন পুলক শুনেছিল তখন শ্রুতিকে সে বলেছিল, ‘আমার ভালোবাসা যদি কোনোদিন সত্যি বিষে পরিণত হয় তাহলে আর কিছু ভাববেনা শেষ করে দেবে আমাকে।’ কথাগুলো তখন শ্রুতির কাছে আবেগী মনে হলেও পুলক যে কথাগুলো অনেক কষ্ট পেয়ে মন থেকেই বলেছে তার প্রমাণ শ্রুতি তার কিছুদিন পরই পেয়ে গিয়েছিল।পুলক যত ব্যাংক ব্যালেন্স তৈরি করেছে তার চাকরি জীবনে তার সবটায় শ্রুতির নামে ট্রান্সফার করে দিয়েছে।আর ভবিষ্যতেও যা হবে তার সবটাই শ্রুতি পাবে।যদিও তা শ্রুতির বাবার বাড়ির সম্পত্তির তুলনায় কম। তবুও শ্রুতি অনেক অবাক হয়েছিল।রেগে গিয়ে পুলককে বলেছিল,
-‘ ব্যাংক ব্যালেন্স প্রপাটি এইসব হাবিজাবি দিয়ে তুমি ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছো? এগুলোর জন্য আমি তোমাকে বিয়ে করেছি? ‘

পুলক সেদিন শ্রুতিকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে বলেছিল,
-‘ সবটাই যদি আবেগ দিয়ে বিচার করা যেত তাহলে তোমার আমার সম্পর্কটাও তোমার বাবা-মা আবেগ দিয়ে বিচার করে আমাদের মেনে নিতো।তারা আমাকে কেন মেনে নেয়নি সেটা তো তুমি জানোই।শুধুমাত্র আমার সামর্থ্যের জন্য। তাই ভালোবাসাতে যেমন আবেগটাও খুব জরুরি তেমন ভালোবাসাকে আর নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য এই টাকা পয়সাটাও জরুরি।তুমি যতই সবার সামনে নিজেকে সুখি প্রমাণ করো তবুও তারা জানতে চাইবেই আমি তোমাকে কী দিয়েছি?তোমার দেনমোহর কত দিয়েছি? বিবাহবার্ষিকীতে আমি তোমাকে কী উপহার দিয়েছি তাছাড়াও আমি ইনকাম করে তোমাকে কতটুকু কী খরচ দিই আরো নানানরকম কথা জিজ্ঞেস করবে তোমাকে।তখন যদি তুমি বলো শুধু ভালোবাসা দিলেই হবে তখন সেটা তোমার কাছে মিষ্টি শোনালেও ওদের কাছে তেঁতো লাগবে।আড়ালে তোমাকে নিয়ে তোমার স্বামীকে নিয়ে ওর কানাকানি করবে অপমানজনক কথা বলবে।তখন তুমি ভেতরে ভেতরে কতটা কষ্ট পাবে তোমার আইডিয়া নেই।আর এমন কিছু জায়গা থেকেই শত ভালোবসার মাঝে দুজনের মধ্যে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।’
-‘ তার মানে তুমি বলতে চাইছো আমি এগুলো নিয়ে তোমার সাথে ঝামেলা করব?’
-‘ নারে বাবা আমি কী সেটা বলেছি? এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আপনাআপনিই নিজেদের মধ্যে ঝুট ঝামেলা তৈরি হয়ে যায়।এসব পরিস্থিতির মাঝে না পরলে তুমি বুঝতে পারবেনা আমি তোমাকে কেন এগুলো বলছি।আর আমাদের বিয়েটা তো বাকিসবার মত স্বাভাবিকভাবে হয়নি।তাই এমন বিয়েতে মেয়েদের বাবার বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের কাছে নানানরকম কথা শুনতে হয়। তুমি কিছুটা শুনেওছো।আর যাতে এমন কিছু না শুনতে হয় তার জন্য এই ব্যবস্থা। তুমি যেমন চাইবেনা তোমার স্বামীকে কেউ ছোট করে কথা বলুক তেমন আমিও চাইনা আমার বউটাকে কেউ অপমান করুক।’

এতকিছুর পর এই মানুষটার ভালোবাসা যে কখনো বিষ হতে পারেনা শ্রুতি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।এর মাঝে হঠাৎ শ্রুতি খুব অসুস্থ হয়ে পরে।প্রচুর পরিমাণে ব্লিডিং শুরু হয় ওর।সেটা দেখে শ্রুতি চিৎকার করে কান্না শুরু করে।পুলক ওকে দ্রুত হসপিটালাইজড করে জানতে পারে শ্রুতি কনসিভ করেছিল কিন্তু বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে।পরে জানতে পারল শ্রুতির জড়ায়ুতে সমস্যা হয়েছে।মাসখানেকের মত ওদের ফিজিকালি এটাচ্ড হওয়া যাবেনা। বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে শ্রুতি খুব উদাস হয়ে পরে।ওর খালি বারবার মনে হচ্ছে ওর বাবা-মায়ের দেওয়া অভিশাপ গায়ে লেগেছে হয়তো।মেন্টালি সিক হয়ে পরছে দিন দিন শ্রুতি।এদিকে পুলকটাও আজকাল খুব কম সময় দিচ্ছে শ্রুতিকে। যতটুকু সময় ওর পাশে থাকে ততটুকু সময় খুব কেয়ার করে ওকে।কিন্তু আজকাল আগের মত আর পুলক বাইরে থাকলে তেমন কথা বলেনা ফোনে। আবার বাড়িতেও ফিরে রাত বারোটা একটার সময়।মাঝে মাঝে রাতে খাওয়া দাওয়া না করেই এসে ঘুমিয়ে পরে। আবার খুব সকালে উঠে বেরিয়ে যায়। পুলকের এমন পরিবর্তনটা শ্রুতি ঠিক মেনে নিতে পারছিলোনা।দেখতে দেখতে প্রায় এভাবেই দুটো মাস কেটে যায়। শ্রুতির চেহারাও দিন দিন ভেঙে পরছিল। পুলকটাও আজকাল শ্রুতিকে সেই আগের মত হূরপরীও বলে ডাকেনা।ও সুস্থ হওয়ার পর পুলক নিজে থেকে কখনোই শ্রুতির সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করেনা।যার জন্য শ্রুতিও কখনো ওর কাছে যেচে পরে যায়না।কিন্তু মনের মধ্যে তোলপার হয়ে যায় ওর।একদিন সকালে খেতে বসে পুলক শ্রুতিকে বলে,
-‘ তুমি বাসায় একা থাকতে পারবে তো? ‘
-‘ একা থাকতে হবে কেন?তুমি কী কোথাও যাবে? ‘
-‘ হুম।অফিসের কাজে দুদিনের জন্য একটু ঢাকার বাইরে যেতে হবে।’
-‘ ও কোথায় যাবে?’
-‘ টাঙ্গাইল।তোমার যদি অসুবিধা হয় তো মেঘলাকে এসে থাকতে বলি তোমার সঙ্গে দুদিনের জন্য।’
-‘ খারাপ লাগলে আমি নিজেই বলব।তুমি কী আজই যাবে?’
-‘ হ্যাঁ।অফিস করেই চলে যাব।বাসায় আর আসব না।’
-‘ আচ্ছা সাবধানে যেও।পৌঁছে ফোন দিও একটু।’

শেষের কথাটা শুনে পুলক শ্রুতির দিকে তাকাল।ওর হাতের ওপর হাতটা রেখে একটা মুচকি হাসি দিল।আজকাল খুব কম সময় দিচ্ছে শ্রুতিকে সে সেটা পুলকের আজ খেয়াল হলো।আজ সারাটা রাত শ্রুতি বেলকোনিতে বসে কেঁদে পার করেছে।তার কাছে যেন আর কিছুই ভালো লাগছেনা।দম বন্ধ লাগছে এই ঘরের পরিবেশটাকে।আগে তো এমন কখনো লাগেনি।পুলকটা এভাবে পাল্টে যাবে সেটাও কখনো ভাবেনি শ্রুতি। পরেরদিন রাত নয়টার সময় ঈষাণ এসে হাজির হলো।বিস্ময় চোখে তাকিয়ে শ্রুতিকে দেখে ঈষাণ প্রশ্ন করল,
-‘ এটা কে? ‘
-‘ কেমন আছিস? ‘
-‘ আমি যে খুব ভালো আছি তা আমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।তোর শরীরের কী অবস্থা এটা?ওয়েট লস করছিস নিশ্চই? তাই বলে এরকম শুকনা কাঠির মত শরীর বানানোর কোনো মানেই হয়না শ্রুতি।চেহানার কী অবস্থা দেখেছিস?পুলক কিছু বলেনা তোকে? ‘
-‘ এই তুই এত কথা একসাথে বলিস কীভাবে রে?আয় বস আগে। ‘
-‘ সিরিয়াসলি তোকে দেখে আমার একটুও ভালো লাগছেনা।কী হয়েছে বল তো? চোখ মুখ একদম শুকিয়ে গেছে।মনে হয় কতকাল খাসনা ঘুমাসনা। ‘
-‘ আরে এমনিতেই।বয়স হচ্ছে তো।
চিরকালই কী একইরকম থাকব? ‘
-‘ একটা থাপ্পর খাবা।তুমি আমাকে বয়স দেখাচ্ছো।আমাকে বল কী হয়েছে?শরীর ঠিক আছে তোর? ‘
-‘ হুম একদম ঠিক আছি।তো এতদিন পর মনে পরলো আমাদের কথা? ‘
-‘ আমাদের কথা না শুধুমাত্র তোর কথা। পুলককে তো আজকাল ফোন করলেও পাওয়া যায়না।তোর কথা আর জিজ্ঞেস করবো কীভাবে?তাই তোকে দেখতে চলে এলাম।আজ নিশ্চই ওর এমন সময় বাইরে থাকার কথা নয়।আজ তো ফ্রাই ডে। ‘
-‘ অফিসের কাজে টাঙ্গাইল গেছে।আজ ফেরার কথা ছিল।কাল ফিরবে।একা মানুষ তাই আর তেমন কিছু রান্না করিনি।বল কী খাবি? ‘
-‘ এই থাম তো আসলেই শুধু খাওয়া খাওয়া।আমি তোর দিকে তাকাতে পারছিনা। ‘
-‘ তোকে তাকাতে হবেনা।তুই বস আমি আসছি। ‘

শ্রুতি উঠে রান্নাঘরে চলে গেল।তখনই শ্রুতির ফোনটা বেজে উঠল।পুলক ফোন করেছে।ঈষাণ ডাকতে গিয়েও শ্রুতিকে ডাকলনা।তার বদলে ফোনটা সাইলেন্ট উল্টে রাখল।এর মধ্যে মিনিমাম চারবার ফোন করেছে পুলক।শ্রুতি এসে ঈষাণের হাতে কফির মগ ধরিয়ে দিয়ে বলল,
-‘ তো বল বিয়ে কবে করছিস? ‘
-‘ চল্লিশ পার হোক তারপর ভেবে দেখব। ‘
-‘ এসব পাগলামী বাদ দিয়ে জলদি একটা বিয়ে টিয়ে কর। ‘

ঈষাণ শ্রুতির কথার উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বসল ওকে।
-‘ তুই ভালো নেই তাইনা? ‘
-‘ কী শুরু করেছিস বল তো আসার পর থেকে। ‘
-‘ তুই কিছু হাইড রাখতে চাইছিস।আচ্ছা বলতে না চাইলে থাক।জোড় করবনা। আমি তাহলে উঠি।পুলকের সাথে তো আর দেখা হলোনা। ‘
-‘ উঠবি মানে?ডিনার করে তারপর যাবি। ‘
-‘ ফরমালিটিস পালন না করলেও চলবে। আসি, নিজের খেয়াল রাখিস। ‘

ঈশাণ যাওয়ার জন্য বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে শ্রুতি বলল,
-‘ তোর সাথে আমি ফরমালিটি করব কেন?আমার সাথে কী তোর ফরমালিটির সম্পর্ক?বসে যা না। ‘

ঈশাণের নিজেরও যেতে ইচ্ছা করছিল না।খুব মায়া লাগছে শ্রুতির মুখটা দেখে ওর।শ্রুতির পাশে গিয়ে বসল ঈশাণ।

-‘ মনে তো হচ্ছেনা ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করিস।আমারও খিদে পেয়েছে চল তো খেয়ে নিই। ‘

এক চিলতে হাসি দিয়ে শ্রুতি ডিনার রেডি করতে চলে গেল।দুজনে একসঙ্গে বসে খাবার শেষ করে আবার গল্প জুড়ে বসল।গল্পে গল্পে শ্রুতি ওর সংসার জীবনে নানারকম গল্পও করল।আজকাল পুলকের পরিবর্তনের বিষয়টাও শ্রুতি ঈশাণকে জানাল।

-‘ পুলককে যতদূর জানি সেই হিসাবে ওর এমন পরিবর্তনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা।ওর কাছের বন্ধু বলতে তো জানি আমরা পাঁচজনই।আর অফিস কলিগদের সাথে তো এত ভালো সম্পর্ক কারো সাথে আছে বলে মনে হয়না।কারণ ও সবসময় কম মিশুক ছিল মানুষের সাথে।আর সবসময় নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময় সচেষ্ট।তাহলে আড্ডাবাজি নিয়ে মেতে থাকার কোনো কোনো কারণ দেখছিনা আমি।তুই ওর সঙ্গে এই বিষয়ে ক্লিয়ার করে কথা বল। ‘
-‘ ইচ্ছে করেনা রে। ‘
-‘ শ্রুতি তোর সমস্যা কী বল তো।তুই একটু বেশিই চাপা।এত চাপা স্বভাব নিয়ে পুরুষ মানুষের মন জুগিয়ে চলা খুবই কষ্টকর।তোকে তো শক্ত থাকা উচিত। তোদের সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই এখনো কানাঘুষা করে।সেখানে পুলকের এমন পরিবর্তন দেখা দিলে তোর বাবা-মাও বলা বাদ রাখবেনা।তারা আরো সুযোগ পাবে এটা নিয়ে। ‘

ওদের কথার মাঝেই শ্রুতির মেসেঞ্জারে মেসেজ আসার শব্দ পেল শ্রুতি।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল পুলক বেশ কয়েকবার ফোন করেছিল।অনেকটা খুশি হয়ে কল করতে গেল কিন্তু হোমস্ক্রিণে রবিনের কনভার্সেশন দেখে আগে সেখানে ঢুকল। কিছুক্ষণ পরই শ্রুতির চোখ থেকে টুপ টুপ করে পানি পরতে থাকল।স্তব্ধ হয়ে বসে আছে শ্রুতি।

-‘ কী হয়েছে শ্রুতি?কাঁদছিস কেন? ‘
‘(নিশ্চুপ)’
-‘ কী হয়েছে বলবি তো? ‘

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে ফোনের স্ক্রিণের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে ওর রবিনের মেসেজগুলো দেখে।

 

অনুরাগ ৪র্থ পর্ব

অনুরাগ
৪র্থ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

শ্রুতিঃ আমি তখন বললাম আমি আমার ভ্যালেন্টাইন গিফ্ট পেয়ে গেছি আমার কলিজাটা। ও আমায় তখন বলল, ‘ যা এটা কী কোনো গিফ্ট হতে পারে?এটা তো আমার জীবনের একটা মহামূল্যবান উপহার। আচ্ছা তোমার তো আগরা যাওয়ার খুব শখ।এ বছর বসন্তঋতুতে আমরা দীর্ঘসময়ের জন্য ভ্রমণে বের হবো।ধরো দার্জিলিং আর আগরা দুটো জায়গাতেই আমরা ঘুরে আসব।আর বেঁচে থাকলে পরের বছর তোমার পৃথিবীর ভূস্বর্গতে নিয়ে যাব কাশ্মীরে। ‘

তানিয়াঃ ওয়াও সো এক্সেলেন্ট গিফ্ট দোস্ত।

শ্রুতিঃ মোটেও না তানিয়া।কারণ আগে আমাকে ওর এবিলিটির দিকে নজর দিতে হবে।ও চাকরিতে জয়েন করেছে মাত্র দু বছর হলো।আমি এখনি ওকে ফিন্যান্সিয়াল ভাবে এত চাঁপ দিতে চাইনা।আমি তো ওর ওই খুশিটাকে গিফ্ট হিসেবে চেয়েছি।

মেঘলাঃ ওর ওই খুশিটা কী আমাদের বল।

শ্রুতিঃ জানিনা এখনো।বললো পরে জানাবে।

বেলা দুপুরের সময় শ্রুতি লাঞ্চ শেষ করে পুলক কে কয়েকবার ফোন করল।কিন্তু ওপাশ থেকে ফোনটা আর রিসিভ হলোনা।মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল শ্রুতির।পুলক শত ব্যস্ততার মাঝেও শ্রুতির সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পারলেও টেক্সট করে কথা বলে।তবু শ্রুতির ফোন কখনো ইগনোর করেনা। কিন্ত এখন তো অফিসে লাঞ্চের সময়। এখন তো ওর কোনোভাবেই বিজি থাকার কথা নয়।এতকিছু ভাবনার মাঝে শ্রুতি নিজের মনকে এটা বলে বুঝ দিলো হয়তো ফোনের কাছে নেই কিংবা সত্যি খুব বিজি বলেই ফোনটা রিসিভ করছেনা।ব্যস্ততা শেষ হলেই পুলক ওকে ফোন দিবে।এটা ভেবে বিছানায় শুয়ে অপেক্ষা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে গেল শ্রুতি।ঘুম ভাঙলো সন্ধ্যার সময়। নিজের ঘুম দেখে শ্রুতি নিজেই অবাক। ও কখনোই এতসময় অবদি ঘুমায়না তাও আবার দিনের বেলাতে।বিছানা ছাড়তেই পুলকের ফোনের কথা মনে পড়ল।দ্রুত ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল পুলকের কোন ফোন কলস আসেনি।একটু অবাক হলো শ্রুতি।সেই সাথে চিন্তাও হতে লাগল। কোনো সমস্যাই পরলো কিনা কে জানে। সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোন করলো পুলককে। এবার ফোনটা কেটে দিয়ে পুলক টেক্সট করলো,
‘ Byasto achi my heart. ‘ মেসেজটা পেয়ে অনেকটা স্বস্তি পেল শ্রুতি।রাতের রান্না চাঁপিয়েছে চুলায় এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল।গ্যাস অফ করে দরজা খুলতেই ঈষাণকে দেখল শ্রুতি।

-‘ আরে বাবা আজ কাল সূর্য কোনদিকে উঠছে এস.পি সাহেব। ‘
-‘ এই তুই আমাকে আমার নাম ধরে ডাকবি।এইসব প্রফেশোনাল নাম ধরে ডাকবিনা একদম। ‘
-‘ ভয় করে তো। ‘
-‘ ভয় তোর পিঠের ওপর দিবো।আগে ঢুকতে দে। ‘
-‘ ও স্যরি স্যরি।ভেতরে আসুন মি.ঈষাণ রাজ। ‘

ঈষাণ ভেতরে এসেই ঠাস করে সোফায় বসে পরল।তারপর বলল, ‘ ফ্যানটা একটু ছেড়ে দে কষ্ট করে। ‘

শ্রুতি ফ্যান ছেড়ে দিয়ে ঈষাণের মুখোমুখি বসল।

-‘ এত পরিমাণ ব্যস্ত যিনি যে টয়লেটে আরাম করেও পাঁচটা মিনিট বসতে পারেনা।আর সেই ব্যক্তিই আজ আমার সামনে বসে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। আমি কী সত্যি দেখছি? ‘

ঈষাণ ধুম করে শ্রুতির পাশে বসে ওর হাতে জোড়ে একটা চিমটি কাটল।

-‘ উহ্ কীরে তুই।এভাবে চিমটি কাটলি কেন?দেখেছিস কী করলি? ‘
-‘ কই দেখি কী করলাম? ‘
-‘ থাক আর দেখতে হবেনা। ‘
-‘ বিশ্বাস করছিলিনা বলেই তো চিমটি কাটলাম। ‘
-‘ বল কী খাবি? ‘
-‘ কী খাওয়াবি? ‘
-‘ যা খেতে চাস।রান্না করছিলাম।কী খেতে চাস বল এক্ষণি রান্না করে দেব। ‘
-‘ রান্না খাবার নয়। ‘
-‘ তাহলে কী কোল্ড ড্রিংকস? ‘
-‘ না রেডিমেড। ‘

শ্রুতি হেসে দিয়ে বলল, ‘ রেডিমেড কী জিনিস আবার? ‘
-‘ আছে।খাওয়াতে পারবি তো? ‘
-‘ বলেই দ্যাখ।সামর্থ্যে কুলালে অবশ্যই খাওয়াবো। ‘
‘ সামর্থ্য না?তাহলে থাক বাদ দে। ওটা তোর আর সামর্থ্যে কুলাবেনা। ‘
-‘ এতটা গরীব ভাবিস না। ‘
-‘ তাই?তাহলে একটা চুমু খাওয়া। ‘

বলেই ঠোঁট টিপে হাসছে ঈষাণ।আর শ্রুতির মুখটা তখন দেখার মত ছিল।বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে ঈষাণের দিকে।তারপর ঈষাণ হো হো করে হেসে ফেলল।সেটা দেখে শ্রুতি ওর গায়ে চাপড় দিয়ে বলল, ‘ তোকে না আমি সাত দিনের রিমান্ডে নিব।শয়তনা একটা।এখনো এত মজা করতে পারিস তুই কীভাবে কে জানে? ‘
-‘ আমি তো এমনই ছিলাম তাইনা? ‘
-‘ বুঝেছি তোর এখন কী প্রয়োজন। ‘

ঈষাণ হাসি থামিয়ে মুখটা মলিন করে জিজ্ঞেস করল, ‘ সত্যি বুঝেছিস? ‘
-‘ হুম।দাঁড়া কালই আন্টিকে ফোন করব। ‘
-‘ আরে এর মধ্যে আবার আন্টি কেন? ‘
-‘ বিয়ে টিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তো কথা বলতে হবে।না হলে তো তুই খুব তাড়াতাড়িই পাগল হয়ে যাবি। ‘
-‘ ঠিকই বলেছিস। তোকে আজকাল দেখলে সত্যি পাগল পাগল লাগে।ভালোই ছিলাম এতদিন তোকে না দেখে। ‘

শ্রুতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ মানে? ‘

ঈষাণ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলল, ‘ মানে তোর মত একটু কিউট বউ দরকার আমার।পুলক শালা তো ঝোপ বুঝে কোপটা মাড়ল।আমাদের বন্ধুমহলে একরকম সবার ক্রাশ ছিলি যে তুই। ‘
-‘ আচ্ছা তুই বস আমি তোর জন্য কফি করে নিয়ে আসি।টিভিটা চালিয়ে দিচ্ছি টিভি দ্যাখ বসে।রান্না বন্ধ করে এসেছি তো।আমি ততক্ষণে রান্নাটা করে আসি।রাতের খাবার খেয়ে যেতে হবে কিন্তু তোকে। ‘
-‘ হুম।পুলক কখন ফিরবে? ‘
-‘ এক দেড় ঘন্টার মধ্যে চলে আসবে। ‘
-‘ অনেক দেরী তো। ‘
-‘ তো কী হয়েছে?ডিনার না করে তোকে যেতে দিচ্ছিনা।’
-‘ তাহলে চল তোর রান্নাতে হেল্প করি। ‘
-‘ আরে না।তুই বসে টিভি দ্যাখ আমি চট করে রান্নাটা সেড়ে আসছি। ‘
-‘ কথা বলিসনা তো।চল। ‘



-‘ ইলিশ মাছের দোপেয়াজা রাইট? ‘
-‘ হুম।ওর ভীষণ পছন্দের খাবার। ‘
-‘ আমারও খুব পছন্দ এটা। ‘
-‘ পোলাও আর তার সঙ্গে ইলিশের দোপেয়াজা পেলে ঈদের চাঁদ দেখার মত খুশিতে লাফিয়ে উঠে। ‘

রান্না শেষে ডাইনিং এ বসে শ্রুতি আর ঈষাণ গল্প করছে।এর মধ্যে পাঁচবার ফোন করেছে পুলক শ্রুতির ফোনে।কিন্তু শ্রুতি ফোনটা বেডরুমে রেখে চলে এসেছে।

-‘ এই শ্রুতি তোদের বেডরুমটা কিন্তু আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ‘
-‘ আমার আসার আগেই ও আমার থেকে শুনে শুনে নিজেই বেডরুমটা সাজিয়েছে। আর সবথেকে বেশি সুন্দর আমাদের বেলকোনিটা।ওটাও ও নিজেই সাজিয়েছে। ‘
-‘ আমাকেও তো সাজিয়ে রাখতে হবে আমার বউয়ের জন্য।চল তো তোদের বেলকোনিটা দেখে আসি।”
“আয়। ‘

ঈষাণ ওদের বেডরুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। বেডরুমে দেখার মত সব থেকে আকষর্ণীয় জিনিস হলো পুলক আর শ্রুতির ছবিগুলো।সেগুলোই দেখছিল ঈষাণ। তারপর বেলকোনিতে গিয়ে দাঁড়াল ওরা।

-‘ আচ্ছা বেলকোনিটার সৌন্দর্যটা কী আমি এখনো বুঝতে পারলাম না। ‘
-‘ দেখবি সৌন্দর্যটা? ‘
-‘ দেখব বলেই তো এলাম। ‘
-‘ ওয়েট। ‘

বেলকোনির গ্রিলে সাদা পর্দাটা টেনে দিল শ্রুতি।তারপর রুমে গিয়ে রুমের লাইট অফ করে নীল ড্রিম লাইটটা জ্বালিয়ে দিল।অন্য একটা সুইচ অন করতেই সারা বেলকোনি বিভিন্ন রঙের মৃদু আলোতে ভরে গেল।ঈষাণ ওপরে তাকিয়ে দেখল বেলকোনির ছাদ জুড়ে বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট কালারফুল প্রজাপতি জ্বলছে।অন্ধকার ঘরে এই প্রজাপতিগুলো খুব সুন্দরভাবে জ্বলে ওঠে। এখন সত্যিই বেলকোনিটাকে স্বপ্নেররাজ্য বলে মনে হচ্ছে ঈষাণের কাছে।সেখানে দাঁড়িয়ে দুজন গল্প করছে। গল্প করতে করতে কখন যে ঘড়ির কাটাতে রাত দশটা বেজে গেল শ্রুতির তা খেয়ালই নেই।পুলক বাসায় ফিরে কলিংবেল চাঁপার আগেই দেখল দরজা ভেজিয়ে রাখা।দরজা লক করে ড্রয়িংরুমে ঢুকে দেখল সোফার ওপর একটা ফোন। যেটা শ্রুতির নয়।সোজা বেডরুমে ঢুকে গেল।বেডরুমের লাইট অফ শুধু ড্রিম লাইট জ্বলছে।আর বেলকোনি থেকে শ্রুতি আর একজন পুরুষের কথা আর হাসির শব্দ আসছে।ব্যাগটা বিছানার ওপে রেখে বেলকোনিতে চলে গেল পুলক। শ্রুতির হাতের তালুতে ঈষাণ আঙুল দিয়ে কী যেন লিখছে আর কথা বলছে। আর শ্রুতি সেটা দেখে হাসছে।পুলক বেলকোনিতে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা ওদের কারোরই খেয়াল হলোনা।ঈষাণ শ্রুতির হাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে তার মধ্যেই পুলক এক ঝটকায় শ্রুতিকে টেনে নিয়েলো নিজের কাছে।