মন ফড়িং ❤১২.

মন ফড়িং ❤

১২.

আসমা জামান রান্নাঘরে নিদ্রের জন্য খাবার তৈরি করছেন। প্রায় ১ সপ্তাহের মতো হয়েছে ছেলেটা কোনোরকমে খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তারপরও সে মুখ ফুটে কিছু বলছেনা। নিজের কষ্ট হবে তারপরও তাকে কষ্ট দিবেনা। নাজমুলের তো খোঁজ পাওয়াই দায়। এতো ড্রিংক করতে শুরু করেছে যে কোনো হুশ থাকেনা। সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ায় আর রাতে নিজের ঘরে বসে এলকোহল গিলবে!
নিদ্র বেশ ক্লান্ত হয়ে বাসায় পৌঁছে দেখলো দাদী রান্নাঘরে! মনে মনে খুব খুশি হলেও ভাবভঙ্গিতে প্রকাশ না করে বললো
– দাদী এসবের কি দরকার ছিলো?
আসমা জামান ভেংচি কেটে বললেন
– আমি না করলে করবে টা কে?
– তা অবশ্য ঠিক! তা কী কী রান্না হচ্ছে?
– চিকেন স্যুপ, চিকেন ব্রোস্ট আর আপনার পছন্দের সালাদ।
নিদ্র তৃপ্তির হাসি দিয়ে বললো
– তাহলে আমি দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসি?
– অবশ্যই। আর তোর বাবাকে ডেকে আন।
নিদ্র বেশ ক্লান্ত স্বরে বললো
– আপনার ছেলে আপনিই ডেকে আনুন।
– আমি তো ডেকেছিলাম, আমার কথা কে শোনে!
– আমি দেখছি।

গোসল সেরে চুল মুছতে মুছতে নাজমুল সাহেবের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। রুমের দরজা বন্ধ ভেতর থেকে। এর অর্থ বাবা ভেতরে!
– বাবা, চলো একসাথে খেতে বসি।
দরজায় টোকা দিয়ে কথাটা বেশ কয়েকবার বললো। কোনো।সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় বেশ জোরে টোকা দিতে লাগলো। বাবার কিছু হলো না তো? দিনের এই সময়টাতো সে বাসায় থাকেনা। আজকে এইসময় বাসায় তার উপর কোনো সাড়াশব্দ নেই।
নিদ্রের খুব চিন্তা হচ্ছে।
রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে দাদীকে জিজ্ঞেস করলো
– দাদী, বাবা কখন থেকে দরজা লক করে এভাবে আছে?
– সেই ১২ টা থেকে।
– আমাকে বলবে না?
– আরে ও তো এমন প্রায়ই করে।
– কিন্তু তার রুমে সাড়াশব্দ পাওয়া যায় কিন্তু আজকে একেবারেই নিখোঁজ অবস্থায় আছেন।
– সব রুমেরই তো এক্সট্রা চাবি আছে। সেটা দিয়ে খুলতেই পারিস।
– বাবার রুমের এক্সট্রা চাবি তার কাছেই রাখেন।
– তাহলে লক খোলার মিস্ত্রী নিয়ে আয়। আমি ততক্ষণে ডাকাডাকি করে দেখি।
নিদ্র দ্রুত মিস্ত্রীর খোঁজে বের হলো। আসমা জামান ছেলের চিন্তায় রান্নাবান্না বন্ধ করে তার রুমের দরজায় টোকা দিলেন। নরম স্বরে বললেন
– বাবা নাজমুল শোন তো!বাবা আয় একসাথে খেয়ে নেই। বাবা, এমন করিস না।
আসমা জামান কাঁদতে শুরু করলেন। ছেলে মরে গেছে নাকি কে জানে?
নিদ্র পাগলের মতো লোক খুঁজছে। প্রায় ১ ঘণ্টা হতে চললো কিন্তু একজন মানুষ সে পেলো না।
একজনকে বেশ চড়া ভাড়ায় পেলো। নিদ্রের জমানো ডলারের বেশ খানিকটা খরচ হয়ে গেলো। কিছুই করার নেই তার।
বাসায় এসে দাদীকে বাবার রুমের দরজার সামনে বসে কাঁদতে দেখে নিদ্র হকচকিয়ে গেলো।
আধা ঘণ্টা চেষ্টা করার পর লক খুলতে সক্ষম হলো।
দরজা খুলে নিদ্র তার বাবাকে দেখে অবাক! নাজমুল সাহেব তার রকিং চেয়ারে হাতে বই পড়ার মতো করে নিয়ে বসে আছেন। বেশ মনযোগ দিয়েই বই পড়ছেন। নিদ্র তার বাবার দিকে এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ালো। নাজমুল সাহেব ছেলের দিকে না তাকিয়ে বললেন
– আমার বই পড়ায় বিরক্ত কেনো করছো তোমরা?
নিদ্র ঠান্ডা স্বরে বললো
– তুমি উল্টো করে বই কেনো পড়ছো কেনো বাবা?
নাজমুল সাহেব ইতস্ততভাবে বললেন
– সে তুমি বুঝবেনা। now get lost my dear son!
নাজমুল সাহেব পুরোপুরি নেশা অবস্থায় আছেন সেটা নিদ্র বুঝতে পেরে চুপচাপ রুম ছেড়ে বের হয়ে আসলো।
মিস্ত্রীকে তার ডলার বুঝিয়ে দিয়ে দাদীকে বললো
– খাবার দাও তো দাদী!
আসমা জামান রান্নাঘরে ফিরে এসে স্যুপের বাটি খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

রিতা ছাদে পাটি বিছিয়ে বসে আছেন। অদ্রি ঘুমুচ্ছে আর লিলি কী করছে তার জানা নেই। মেয়েটাকে তার চোখে চোখে রাখা উচিৎ। এটা ঠিক খুব বেয়াদব মেয়েটা। কিন্তু মেয়েটার ক্ষতি হলে তার খারাপ লাগবে,খুব খারাপ লাগবে!

রশিদ সাহেব তার স্ত্রীকে বললেন
– একটা মতামত দাও তাও।
– বলো।
– নাজমুলকে দাওয়াত করলে কেমন হয়? বড়লোক মানুষ দাওয়াতে না আসলেও গিফট পাঠাবে এটা আমি শিওর।
– দাওয়াতে আসবেনা তাহলে গিফট কেনো নিবা? লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়বা!
– ছোটো মেয়েটার শ্বশুরবাড়ি তো দামী গিফট দেয়া দরকার। খোঁটা শুনতে হবে ওর। আমরা না হয় লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়লাম কিন্তু ও তো ভালো থাকুক।
– মেয়েটাও আছে এতো বড়লোক ছেলের সাথে প্রেম কেনো করতে হবে?
– প্রেম কি বলে কয়ে হয় নাকি? আর আমাদের চাওয়া তো একটাই ছেলে মেয়ে ভালো থাকুক। আর ছোটো হচ্ছি নিজেদের লোকের কাছেই। অন্ততপক্ষে ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে তো হেয় হতে হবেনা।
– তাহলে করো দাওয়াত আর অদ্রির বাসায় কবে উঠবো আমরা?
– ওই বাড়ি রঙ করাতে হবে তারপর আমরা উঠবো।
– মেয়েটাকে বিয়ে দেয়া দরকার।
– তা দরকার কিন্তু আমি তো ওকে এসব বলতে পারছিনা। তুমি একটা কাজ করতে পারবা?
– বলো!
– ওকে একটু বিয়ের কথা বলে দেইখো তো কী বলে?
– আমার সাথে তো তেমন চেনাজানা নাই। ও আমার কথায় বিরক্ত হবে।
– বিরক্ত হলেও প্রকাশ করবেনা।

অদ্রির ঘুম ভেঙে গেলো। ঘড়িতে রাত ২ টা বেজে ৪৫ মিনিট। পানির পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। টেবিলে আজকে পানি রাখা নেই। লাইট জ্বালিয়ে খুঁজে নিজের রুমে পানি না পেয়ে নিচে নামার উদ্দেশ্যে রুম থেকে বের হলো।
অদ্রির মনে হচ্ছে নিদ্রের ঘরের দরজার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। ওইদিকটার লাইটটা বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বালানো হচ্ছেনা। লিলিটার যে কী হয়েছে আল্লাহ জানে!

চলবে……!

© Maria Kabir

মন ফড়িং পর্ব – ১১

মন ফড়িং ❤
পর্ব – ১১
আপনাদের একটা বিয়ের ছবি আমাকে দেয়া যাবে? – নিদ্র নিজের অজান্তেই বলে ফেললো। অচেনা কারো কাছ থেকে বিয়ের ছবি চাওয়াটা মনে হয় ঠিক হয়নি।
মিস্টার ব্রন্ড কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন
– অবশ্যই, কেনো নয়?
চেয়ার ছেড়ে উঠে ভেতরের দিকে চলে গেলেন। নিদ্র একটু স্বস্তি বোধ করলো।
কিছুক্ষণ পর মিস্টার ব্রন্ড ছোট্ট একটা ছবি এনে নিদ্রের হাতে দিয়ে বললেন
– এটাতে হবে?
নিদ্র ছবিটা দেখে বললো
– অবশ্যই!
মিস্টার ব্রন্ড মুচকি হেসে বললেন
– নিশ্চয়ই স্পেশাল কাউকে ছবিটি দেখাতে চাচ্ছো?
– হ্যাঁ, যদি সুযোগ হয়।
– অবশ্যই সুযোগ হবে।
নিদ্র বিড়বিড় করে বললো
– প্রিয় মানুষের দেখা সবাই পেলেও, স্পর্শ করার ক্ষমতা সবার মাঝে থাকেনা!
অদ্রির সামনে লিলি বেশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। অদ্রি তাকে কী বলার জন্য ডেকেছে সেটা বুঝতে পারছেনা লিলি। অদ্রি আপা কি জেনে গেছে, তার নদীর পাড়ে বসে থাকার কথা? অদ্রি আপা তো এই বাড়ির উঠানে পর্যন্ত নামেন না। তার কাছে অন্য এলাকার মানুষ তো দূরে থাক এই এলাকার মানুষই আসেনা। কে বলবে? রীতা বলেছে নাকি? না, সে নিজেও তো বাসার বাইরে বের হননা।
অদ্রি চায়ের শূন্য কাপ বিছানার পাশের ছোট্ট টেবিলে রেখে ভারি কণ্ঠে বললো
– কোথাও যাওয়া হয় আজকাল?
লিলি স্বাভাবিক ভাবেই বললো
– আপনার মতো বাসায় বসে থাকতে আমার ভালো লাগেনা!
অদ্রি এরকম উত্তর পাবে আশা করেনি। একটু অবাকই হলো।
– তাহলে কী ভালো লাগে? বেহায়াপনা করতে ভালো লাগে?
– ঘুরে বেড়নো কি বেহায়াপনা?
– গায়ের জামাকাপড় কিছু ঠিক থাকে নাকি তোমার? মুখে মুখে কথা তো বলতে খুব ভালো জানো
অদ্রি রেগে বললো
– তোমাকে কীভাবে সোজা করতে হয় আমার জানা আছে। ফের যদি দেখি বাসার বাইরে বের হয়েছো তাহলে আমার অন্যদিকের ব্যবহার দেখতে পারবে! খুব ভালো ব্যবহার করেছি। যাও এখান থেকে।
লিলি রাগে ফুসছিলো।  অদ্রির কঠোর ব্যবহার তার আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। লিলি তার রুমের দিকে পা বাড়ালো। অদ্রির কোনো কথাই সে শুনবেনা।
রশীদ সাহেব চিঠিটা পোস্টঅফিসে পোস্ট করে বাসায় ফিরছিলেন। নাজমুল কে দাওয়াত দেয়া কি ঠিক হবে? ও আসবেনা এটা সে শিওর। না আসলেও নিদ্রকে পাঠিয়ে দিবে। তাতেও লাভ আছে রশীদ সাহেবের। মেয়ের বিয়ের কথা শুনে কিছু টাকা বা গিফট পাঠাবে। টাকাপয়সার অভাবে আতিথ্য কর‍তে তার যে কী পরিমাণ কষ্ট হবে, তা বোঝার ক্ষমতা একমাত্র তার মতো বাবারাই জানে। অদ্রি তাকে একটা টেনশন থেকে মুক্তি দিয়েছে। সে কি এর বিনিময়ে কিছু কর‍তে পারবে?
অদ্রির টাকাপয়সার অভাব নেই। যা যা দরকার সবই তার আছে। না, কিছুই দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। নামাজে বসে মোনাজাতে প্রাণভরে দোয়া করতে পারবে – আর কিছুই করার ক্ষমতা তার নেই।
অদ্রি রিতাকে বললো
– আচ্ছা ২০ জনের মতো মানুষকে ৭/১০ দিন তিন বেলা খাওয়াতে কী পরিমাণ খরচ হতে পারে?
রিতা পান মুখে দিয়ে বললো
– চাল, ডালের হিসাব বলতে পারবো কিন্তু টাকার পরিমাণ টা আমি ঠিক বলতে পারবো না।
– রশীদ চাচার ছোটো মেয়ের বিয়ে এই বাড়িতে হবে। আমি চাচ্ছিলাম খাওয়া খরচ, বর যাত্রীর আপ্যায়ন সব আমি দিবো।
– তাহলে তো বেশ খরচের বিষয় অদ্রি। আমি একা এতো জনের রান্না করতে পারবো না। যদি একজন মানুষ সহকারী হয় তবে সহজ হবে।
– রশীদ চাচাকে আমি দুইজন লোক আনতে বলবো। আর বাড়িটাও রঙ করতে হবে।
– অদ্রি তুমিও বিয়েটা করে ফেলো। আমি ঘটকালি করবো।
অদ্রি মুচকি হেসে বললো
– আমি বিধবা।
রিতা আজকেই প্রথম জানলেন, অদ্রি বিধবা! তার কেনো যেন বিশ্বাস হচ্ছেনা। এতো অল্পবয়সী মেয়ে বিধবা? মেয়েটার এতো ছন্নছড়া থাকার কি এটাই কারণ?
অদ্রি বললো
– রশীদ চাচা কখন বের হয়েছেন?
– ১ ঘণ্টার মতো!
– লিলি কি করছে?
– সে দরজা আটকে তার ঘরে আছে।
– মেয়েটার যে কি হয়েছে বুঝতে পারছিনা। আগে সারাদিন আমার পিছু পিছু আর এখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়না।
– নয়া যৌবন এসেছে বুঝতে হবে!
– ঠিক বুঝলাম না।
– নতুন যৌবনে পা দিলে প্রত্যেক ছেলে – মেয়ের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসে। এইসময় তাদের চোখে চোখে রাখতে হয়।
– আমি আগামীকাল থেকে চোখে চোখে রাখবো। আজকে নিচে নামতে ভালো লাগছেনা। আগে বাগানে বেশ সময় কাটাতাম এখন কিছুই ভালো লাগেনা।
– ছাদে যেতে না?
– না!
– চলো আজকে ছাদে যাই। ভালো লাগবে। এতো সুন্দর বাড়িটাকে সুন্দর করে ডেকোরেশন করা হলে আরো ভালো লাগবে। বিশেষ করে তোমার রুমটা। দেখে কে বলবে বলোতো এটা অল্পবয়সী মেয়ের রুম?
– অল্পবয়সী বিধবা! কি অদ্ভুত উপাধি তাই না?
– চিঠিটা কাকে পাঠানোর জন্য দিলে?
– নিদ্র, আমাকে বেশ সাহায্য করেছিলো ব্যক্তিগত বিষয়ে। আমার হাতের হাবিজাবি রান্না খেয়ে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বেচারা চা খেতে পছন্দ করতেন কিন্তু আমার হাতের চা খেয়ে তার এখানে থাকার সখ হাওয়া হয়ে গেছে। আপনি আসার পরে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু কোনো প্রতিউত্তর পাইনি তাই এবার লাস্ট চেষ্টা করলাম।
– রশীদ সাহেবের জন্য এতো কিছু কেনো করতে চাচ্ছেন?
– সে আমার জন্য যা করেছে তার কোনো বিকল্প আমি কখনো দিতে পারবো না। বিধবা হবার পরে যখন এখানে চলে আসলাম কেবলমাত্র রশীদ চাচাই আমাকে সাহায্য করেছে। এতো বড় বাড়িতে আমি আর লিলি ছিলাম কেউ জ্বালাতন করার সাহস পায়নি। একমাত্র ওনার কারণে। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে আমি বাধ্য।
– রাতে কী খাবেন? দুপুরের খাবার গরম করে এনে দিবো নাকি থাই স্যুপ করে খাওয়াবো?
– আপনি পারেন?
– আমি অনেক ধরনের রান্না জানি।শুধু তুমি বলবে।
– আপনার ইচ্ছা হলে করবেন। আজকে থাক, দুপুরের খাবারেই হবে। কাল স্যুপ করে খাওয়াবেন।
রিতা খাবার গরম করার জন্য রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে নিচে নেমে আসলেন।
বিয়েটা রশীদ চাচার ছোটো মেয়েটার বদলে তারও হতে পারতো। এই বাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে গেলে হতে পারে কেউ জুটে যাবে কিন্তু নিদ্রকে তো পাওয়া যাবেনা।
তার মতো একজন বিধবাকে কেনইবা নিদ্র ভালোবাসবে?
তার এই শরীরে আজ অবদি নিদ্র ছাড়া কারও স্পর্শ পড়েনি। বিয়ে তার ঠিকই হয়েছিল তবে সেটা নামেমাত্র বিয়ে!
একজন মানুষ তাকে ভুলের মধ্যে রেখেছিলো। তার মা – বাবাকে দূরে সরিয়ে রেখেছে সেই মানুষ টা।
ভাবতেও ঘৃণা লাগে এরপর নিচু মানসিকতার কারো সাথে তার বিয়ে হয়েছিলো!
চলবে…..!
© Maria Kabir

মন ফড়িং ❤ পর্ব – ১০ 

মন ফড়িং ❤
পর্ব – ১০
মানব হৃদয় কখন কী ভাবে বোঝা মুশকিল। আসমা জামান তার ছেলের মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করছেন এই মূহুর্তে। কিন্তু পারছেন না। হতে পারে নিদ্রের মায়ের কথা মনে পড়েছে! আবার নাও হতে পারে।
– নাজমুল শোন তো।
নাজমুল সাহেব দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বললেন
– কিছু বলবা?
– চল একসাথে বাংলাদেশে ঘুরে আসি।
নাজমুল সাহেব মুচকি হেসে বললেন
– না, তোমরা যাও।
৭ টা ৫৫ মিনিটে নিদ্র, মিস্টার ব্রন্ডের বাসায় হাজির। মিস্টার ব্রন্ড দরজার সামনে নিদ্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন
– বাইরে কেনো দাঁড়িয়ে ভেতরে আসুন। মনে হচ্ছে রাতে ঘুম কম হয়েছে?
– একটু বেশিই ঘুম হয়েছে আরকি!
মিস্টার ব্রন্ড হাসতে হাসতে বললেন
– টেবিলের উপর গরম কফি রাখা আছে। খেয়ে কাজে লেগে পড়ুন।
– আপনি কোথাও যাচ্ছেন?
– হ্যাঁ, আমার স্ত্রীকে আনতে যাচ্ছি। ১০ টার দিকে চলে আসবো।
মিস্টার ব্রন্ড চলে যাবার পর নিদ্র কফি হাতে নিয়ে বাকি কাজে মন দিলো।কফিটা খারাপ না খেতে।
১০ টার দিকে মিস্টার ব্রন্ড ফিরে এলেন। হুইলচেয়ারে করে ২৫ – ২৮ বছরের একজন নারীকে নিয়ে। মহিলা প্যারালাইজড, পুরোপুরিভাবে! হাত পা কিছুই নাড়াতে পারেনা।মহিলা তেমন সুন্দরী না আবার অসুন্দরী নন। অদ্রির মতো!  মিস্টার ব্রন্ড আর এই মহিলা একা নন। একজন নার্স আছেন, মধ্যবয়সী!
ঘরে ঢুকেই মিস্টার ব্রন্ড, নিদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন
– নিড্র, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী ম্যান্ডি!
মিস্টার ব্রন্ড তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করলেন
– ম্যান্ডি, কেমন লেগেছে বলোতো? অল্পবয়সী ছেলেটাকে দেখছো না, ওইযে দাঁড়িয়ে আছে? ও ডেকোরেশন করেছে। দারুণ না? ওকে গিফট দেয়া উচিৎ না আমাদের?
নিদ্র বেশ অবাক হয়ে শুনছিলো ব্রন্ডের কথাগুলো।
মিস্টার ব্রন্ড তার ওয়ালেট থেকে ৫০০ ডলার এর তিনটি নোট নিদ্রের হাতে গুজে দিয়ে বললেন
– ম্যান্ডির, খুব ভালো লেগেছে তোমার ডেকোরেশন টা। ও  আমাকে বলেছে তোমাকে গিফট দিতে। গিফট তো আর এখন কিনে আনা সম্ভব না। তাই তোমাকে এক্সট্রা কিছু ডলার দিলাম। পছন্দমতো কিছু কিনে নিও।
নিদ্র বেশ স্বাভাবিকভাবেই বলল
– আপনি বলেছেন এতেই হবে। এক্সট্রা ডলার লাগবেনা।
– নিতেই হবে। তা না হলে ম্যান্ডি খুব কষ্ট পাবে। ওই দেখো ও তাকিয়ে দেখছে আর শুনছে কী বলি! যদি বুঝতে পারে তুমি নাও নি তাহলে তো কষ্ট পাবে।
নিদ্র তার ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছিলো বাসায় ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। মিস্টার ব্রন্ড তার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এই মুহূর্তে তাকে বিরক্ত করাটা ঠিক হবেনা কিন্তু তার স্ত্রীর এই অবস্থার পিছনে কারণটা জানতে ইচ্ছে করছে।
মিস্টার ব্রন্ড তার স্ত্রীর বিছানার পাশে বসে আছেন। স্ত্রী ঘুমুচ্ছেন, সে যদি একটা রাত এভাবে ঘুমাতে পারতেন।
স্ত্রীর পাশ থেকে উঠে চলে এলেন বসার ঘরে। নিদ্রকে ব্যাগ গুছাতে দেখে বললেন
– আপনার জরুরি কাজ আছে নাকি?
নিদ্র বলল
– না, তেমন নেই। তবে খুব খিদে পেয়েছে, বাসায় না গিয়ে উপায় নাই।
– একটা মিনি বার্গারে হবে আপাতত?
– না সমস্যা নেই। আমি বাসায় গিয়ে খেয়ে নিবো।
– আমি চাচ্ছিলাম তোমার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করবো।
বসার ঘরে ছোটো টেবিল এনে মিস্টার ব্রন্ড নিদ্রকে চেয়ার টেনে বসতে বললেন।
হাফ প্লেটে বার্গার আর টমেটো সস এনে টেবিলে রেখে, নিদ্রকে জিজ্ঞেস করলেন
– বেয়ার নাকি রেড ওয়াইন?
নিদ্র বলল
– ওসব আমার ঠিক সহ্য হয়না। ঠান্ডা পানি হলে হবে।
পানির বোতল টেবিলে রেখে মিস্টার ব্রন্ড নিদ্রের সামনে চেয়ার টেনে বসে বললেন
– আমার মনে হচ্ছে তোমার জানতে ইচ্ছা করছে আমার স্ত্রীর এই অবস্থা কেনো?
নিদ্র খেতে খেতে বললো
– তা ঠিক কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে?
– আমার স্ত্রীর অবস্থা কীভাবে এমন হলো।সবাই জানতে চায়। আর তোমার হাবভাব দেখে বুঝেছি কিছুটা।
– আপনি বলেন আমি শুনছি। আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছিলো।
– আমার স্ত্রী একটা স্কুলের টিচার ছিলো আর আমি একটা ফ্যাক্টরি তে ম্যানেজার পদে আছি। বিয়ের প্রথম দিকে বেশ সময় দিতাম ওকে কিন্তু ফ্যাক্টরির অবস্থা খুব একটা ভালো না চলাতে আমার ব্যস্ততা আরও বাড়লো। ফ্যাক্টরির মালিকের সাথে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক হওয়াতে দায়িত্বটাও বেড়েছিলো। এমনও রাত যেতো যে আমি বাসায় আসার সময় পেতাম না। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা থাকতো কীভাবে, কোন উপায়ে পরিবর্তন আনা যায়। ওর প্রতি অবহেলাটা আমার অনিচ্ছাকৃত ভাবেই বাড়তে থাকে। প্রায় ১ বছরের মতো এভাবেই চলছিলো। ও যে প্রচুর ড্রিংক করতো আমি বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। ক্যারিয়ার আর ক্যারিয়ার!
ঠিক ৬ মাস আগে আমার স্ত্রী সুইসাইড নোট লিখে বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করার চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়!
আমাদের লাভ ম্যারেজ ছিলো! এই ক্যারিয়ার আর ফ্যাক্টরি করে করে ওর সাথে আমি অন্যায় করেছি। আমাদের কালচার নিড্র তোমার দেশের মতো না। আমাদের এখানে বিয়ে, ডিভোর্স, সেক্স পার্টনার এসব কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু ভালোবাসাটা বোধহয় কালচার ভেদে পরিবর্তন হয়না।
আমার মনে হয় ও ভাবতো – আমি আর তাকে ভালোবাসিনা। অন্য কোনো মেয়ে পেয়ে গেছি। অন্য কারো সাথে সেক্সুয়াল সম্পর্ক রেখেছি এসব। কিন্তু ওর ভাবনাটা ভুল ছিলো। তবে এই ভুল ভাবার পিছনে আমি দায়ী ছিলাম। আমার এখনো মনে পড়ে অচেনা নাম্বার থেকে কেউ একজন বলছে – আপনার স্ত্রী সুইসাইড করেছে!
আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না যে, ও আমাকে ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ডাক্তার বলেছেন – সুস্থ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদি কোনো মিরাকেল না হয়!
আমি প্রায়শই ভাবি, একটা মিরাকেল ঘটে গেছে। ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আমার জন্য স্পেশাল বার্গার তৈরি করছে!
আমার ওর স্পেশাল বার্গারটা খুব পছন্দ! ও সুস্থ হলে, আপনাকে একদিন খাওয়াবো।
চলবে…..!
© Maria Kabir

মন ফড়িং ❤ পর্ব – ৯ 

মন ফড়িং ❤
পর্ব – ৯
প্রিয় মানুষের চেহারাটা হয়তোবা কখনো মনে রাখা যায়না। নিদ্রকে সে কোনো ভাবেই কল্পনায় আনতে পারেনা। কিন্তু তার স্বামীর চেহারা ভুলতে পারেনা। যতবার চেষ্টা করে ততবারই সেই চেহারা আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে যায়। জীবন তাকে কিছুই দিবেনা। রশীদ চাচার মেয়েটার বিয়ে তার এই বাড়িতে হবে। চোখের সামনে তার মতোই একজন মেয়েকে নতুন জীবনে পা বাড়াতে দেখবে। স্বামীর ভালোবাসায় স্বপ্ন গুলো তার রঙিন হবে। তার সব স্বপ্ন একটি একটি করে পূর্ণতা পাবে। রীতাকে আসতে দেখে অদ্রি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। রীতা নামে এই মায়ের বয়সী মহিলা তাকে খুব বেশি যত্ন করে। টাকা দিয়ে এরকম যত্ন কেনা যায়না। সে তো নিজে কখনো বেশি কথা বলেনি রীতার সাথে। তাহলে কীভাবে বা কী কারণে এতোটা যত্ন সে পায়? রান্নাবান্নার কাজের জন্য তাকে আনা কিন্তু সে ধীরে ধীরে সবকিছুতেই প্রভাব খাটাচ্ছে। অদ্রির রুটিন করা অনিয়মকে খুব সহজেই নিয়মে রূপ দিচ্ছে।
রীতা অদ্রিকে চুপচাপ দেখে বললেন
– আজকে একটু ছাদে যেতে ইচ্ছে করছে।
অদ্রি বললো
– আচ্ছা যাবেন। চাবি আমার কাছ থেকে নিয়ে নিবেন।
– আমার সাথে আপনিও যাবেন। ভালো লাগবে।
– আমার শরীর তেমন ভালো না। ভালো হলেই যাবো। আর আমাকে তুমি করে বলবেন।
– শরীর ভালো করার জন্যই তো বলছি ছাদে যাওয়ার কথা।
– অন্যদিন আমি যাবো।
রীতা বুঝতে পারলেন একে এভাবে বলে নিয়ে যাওয়া যাবেনা।
– আচ্ছা বাদ দাও। আগে খেয়ে নাও
– খাবার রেখে যান। আমি খেয়ে নিবো।
– ওই ভুল অনেক করেছি আর না। আমি এখন থেকে তোমাকে খাইয়ে দিবো।
– আপনাকে কষ্ট করতে হবেনা।
– কষ্ট না। রান্নাবান্না ছাড়া তো আর কোনো কাজই নেই। তোমার যত্নে না হয় কিছু সময় কাটুক। সুস্থ হলে না হয় আর করবোনা।
অদ্রি অনিচ্ছাসত্ত্বেও খেতে হলো। কোনো খাবারই তার ভালো লাগছেনা। কেমন যেন তিক্ত স্বাদের। কিন্তু খুদাও বেশ পেয়েছে। খুদার কারণে তিক্ত স্বাদের খাবার তাকে খেতে হচ্ছে।
রীতা বললেন – তিতা লাগতেছে তাই না?
– হ্যাঁ।
– বোধহয় হালকা জ্বর তোমার শরীরে। পেট ভরে খেয়ে আবার ঘুম দাও ঠিক হয়ে যাবে।
লিলি নদীর পাড়ে বসে আছে। আশেপাশের মানুষ এখন আর তাকে কোনো প্রশ্ন করে না। প্রথম দিকে এখানকার স্থানীয় মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে সে রীতিমতো বিরক্ত ছিলো। এখন কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়না। লিলির বাসায় থাকতে ভালো লাগেনা। তার যুবক ছেলেদের দেখতে ভালো লাগে। ইচ্ছা করে তাদের মধ্যেকার কেউ একজন তাকে সঙ্গ দিক। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করুক
– এভাবে একা বসে থাকো কেনো? মন খারাপ?
না, তাকে কেউই জিজ্ঞেস করবেনা। কারণ সে তো কাজের মেয়ে। আজ পড়াশোনা করলে কোনো স্কুলে থাকলে এর বিপরীত ঘটনা ঘটতো।
তার বয়সী কতো মেয়েকে সে এখানকার ঝোড়ঝাপে লুকিয়ে প্রেম করতে দেখেছে।
শুধু কি এরা প্রেম করে? মনে পড়তেই লিলির পুরো শরীরে কেমন তড়িৎ বয়ে যায়!
নদীতে ঠিক এই সময় ৭-৮ জনের মতো যুবক ছেলেদের দল আসে গোসল করতে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর যে যুবক তাকে লিলির খুব ভালো লাগে। ক’দিন যাবত সেই ছেলেও কীভাবে যেন তাকায় ওর দিকে। ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। লিলির খুব ভালো লাগে! ছেলেটাও কি একইরকম ভাবে?
ইশ !
৭-৮ জনের দলটি ইতিমধ্যে এসে গোসলে নেমেছে।
সেই যুবকের দিকে তাকিয়ে আছে লিলি।
সন্ধ্যা হবার কিছুক্ষণ আগেই লিলি বাসায় ফিরেছে। রীতা বললেন
– অদ্রি তোমাকে ডেকেছে। তবে এখন যেয়ো না। ও ঘুমাচ্ছে।
লিলি বেশ বিরক্ত হয়ে বললো
– আমি সেটা বুঝবানি।
– কী বুঝবা না বুঝবা তোমার ব্যাপার কিন্তু অদ্রির ঘুমে যেন ব্যাঘাত না হয়। ও খুব অসুস্থ। বুঝতে পারছো কী বলেছি?
রীতার  কঠোর গলায় কথাটা শুনে লিলি কিছুটা ভয় পেলো। কোনো উত্তর না দিয়েই সে তার ঘরে চলে গেলো।
দরজা আটকে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছে। সে কি সত্যি খুব সুন্দর? তাহলে ওই যুবক কেনো তার দিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকে?
এই বয়সের মেয়েরা পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি কে ভালোবাসা ভেবে নেয় বুঝি। তা না হলে লিলি ওই যুবকের তাকানোর অর্থ বুঝতে পারতো।
নিদ্রের ঘুম ভাঙলো তখন রাত ৩ টা বেজে ৪৫ মিনিট। অন্ধকারে ঘড়ির কাটা জ্বলজ্বল করছে।
সকাল ৮ তাকে যেতে বলেছে। রঙের কাজ এখনো কিছু বাকি আছে। তার স্ত্রী নাকি সকাল ১০ টার দিকে আসবেন। এতো সহজে কি সে পেয়েছে? তাকে জিজ্ঞেস করলে বলবে কিছু?
মিস্টার ব্রন্ড আবার তাকে খারাপ ভাব্বে না তো? ভাবলে ভাবুক।
ঘুম আসছে না নিদ্রের। কী করবে? নতুন কোনো নকশা তৈরি করার চেষ্টা করবে? নাকি তার কাজে কী কী পরিবর্তন করা যায় সেটা নিয়ে বসবে? দাদীর সাথেও তো আজ তেমন কথাই হয়নি। একটু দেখে আসা যাক কী করছেন আসমা জামান?
নিশ্চয়ই দাদার ছবি হাতে নিয়ে নীরবে চোখ ভেজাচ্ছেন। দেখে ফেললে, স্বীকার করতেই চাইবেনা।
নিদ্র দাদীর রুমের দরজার কাছে যেতেই বুঝতে পারলো, দাদী জেগে আছেন এবং দাদার ছবি হাতে নিয়ে নীরবে কাঁদছেন! নিদ্র দাদীর কাছে বিছানার উপর বসলো। আসমা জামান ছবিটা উপর করে রেখে চোখ মুছে বললেন
– ঘুম আসছে না?
– তা তো দেখতেই পাচ্ছো।
– মেয়েটাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। ছবি আছে তোর কাছে?
– আছে। তবে আমি চাই তুমি সামনাসামনি ওকে দেখবে। ছবিতে তোমার ওকে একদমই ভালো লাগবেনা।
– কবে যাবি?
– টাকাই তো জোগাড় হচ্ছে না। আর দুই একটা কাজ করলে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে।
– ওই মেয়ের যদি বিয়ে হয়ে যায় তখন?
– তখন আর কী? ভাবতে হবে আল্লাহ তায়ালা আমার ভাগ্যে ওর নামটা লিখে দেয়নি।
– জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে দিবি?
– আসলে দাদী, আমি অনেক চেষ্টা করেছি ভুলে থাকার। বাংলাদেশ ছেড়ে চলে এসেছি ওকে না জানিয়ে। এখানে এসেও কোনো যোগাযোগ করিনি। ও চিঠি পাঠিয়েছে কিন্তু আমি তার প্রতিউত্তর দেইনি। তারপরও আমি পারছিনা। ক্লাবে, বারে গিয়ে কতো সুন্দরী মেয়েদের সাথে মেশার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। তাই আমি চাচ্ছি একটা শেষ চেষ্টা করবো। মনে করো যদি একটু বুঝতে পারি, আমার জন্য অল্প একটু ফিলিংস আছে। তাহলেও আমি ওকে…..
নিদ্রের গলার কাছে কথাটা আটকে গেলো। বিছানা ছেড়ে উঠে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো নিদ্র।
আসমা জামান, নিদ্রের চলে যাওয়ার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।
নাজমুল সাহেব ডান হাতে দুটো টিকিট নিয়ে বসে আছেন। আরেক হাতে এলকোহলের বোতল। আজকে আর গ্লাসে নিয়ে খাচ্ছেন না। নাজমুল সাহেব বোতল রেখে তার মায়ের রুমের দিকে গেলেন। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইলেন। আসমা জামান বললেন
– আয়। ঘুমাস নাই?
– না, ঘুমাতে ইচ্ছা করছেনা।
– নাকি ঘুম আসছে না?
– ওই একই কথা?
ছেলের হাতের টিকিট দেখে জিজ্ঞেস করলেন
– কীসের টিকিট রে বাপ?
– তোমাদের বাংলাদেশ যাওয়ার টিকিট। আর যাওয়ার সময় মনে করো কিছু টাকা রেখেছি। তা না হলে ভুলে যাবো।
– বাপ তুই আরেকটা বিয়ে কর।
নাজমুল সাহেব হো হো হো করে হাসতে শুরু করলেন। হাসি থামিয়ে বললেন
– এখন ছেলের বিয়ের বয়স আর যদি আমি করি তাহলে ব্যাপারটা একটু কেমন হয়ে যায়না?
– বিয়ের কোনো বয়স নাই বাপ।
– তারপরও আমার আর ওতে মন নেই। মা, আমি যাই নেশাটা বেশি হয়ে গেছে মনে হয়। মাথাটা কেমন যেন লাগছে।
নাজমুল সাহেব টিকিট মায়ের হাতে দিয়ে বললেন
– মা, আমাকে পারলে মাফ কইরো। অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তোমাকে আর নিদ্রকে। বেচারাকে আমি মনে হয় কখনো ভালোবাসতে পারিনি।
বাবা হতে পারিনি আমি, মা। আমি পারিনি!
চলবে…..!
© Maria Kabir

তিনি এবং ও ! ৩৫ . (শেষ পর্ব)

তিনি এবং ও !

৩৫ .
(শেষ পর্ব)

বিছানার উপর ফেলে রাখা মোবাইল থেকে সুফি সাহেবের কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে । রেকর্ড করে রাখা প্রত্যেকটি কথা তার ভিতরে নতুন ভাবে আগুনের সৃষ্টি করছে।
২ বছর যাবত সে যে পাপের জন্য নিজেকে দোষী ভেবেছে ,দিনের পর দিন সে শুধু নিজেকে সব হাসি আনন্দ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে ; সে পাপ সে করেই নি।রেকর্ড গুলো সে বারবার শুনছে কোথাও যদি একটু মিথ্যে সে খুঁজে পায় ,তাহলে নিজের সাথে করা অন্যায়কে সে ক্ষমা করতে পারতো ।
না কোনো মিথ্যে সে খুঁজে পাচ্ছেনা।
অদ্রি চায়ের ট্রে নিয়ে যখন রুমে আসলো তখন নিদ্রকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল। কারণ টা অদ্রি কিছুটা অনুমান করতে পারছিলো কিন্তু কীভাবে কী শুরু করবে অথবা প্রশ্ন করবে ভেবে পাচ্ছিলো না।
নিদ্র তার শব্দ গুলোকে একত্রিত করতে পারছিলো না।
একজন মেয়ে ৩ বছর ধরে জানে তার স্বামী একজন ফেরেস্তা সমতুল্য মানুষ। নিদ্র জানেনা অদ্রি আসলে জানে কি জানেনা। তারপরও এরকম তিতা সত্যি সরাসরি কাউকে বলে দেয়াটা সহজ না। মিথ্যে বলাটাই সহজ। সত্যি বলাটাই কঠিন।
কীভাবে কী বলবে ভাবতে ভাবতেই অদ্রি চায়ের ট্রে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো। ২২ বছরের যুবতীর মাঝে সে অন্য এক নতুন সত্ত্বা দেখতে পাচ্ছে। এতদিন যার অস্তিত্ব অদ্রির মধ্যে ছিলোনা! হয়তোবা ছিলো সুপ্ত অবস্থায়। বসন্তের হাওয়ায় সে তার সুপ্ত অবস্থার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে।
বসন্ত টা কি সে? এই প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। জানে অদ্রি, জানে তার নতুন সত্ত্বা। চায়ের মগে চুমুক দিয়ে নিদ্র বলল
– আপনি কোথাও বেড়াতে যান না?
– নাহ।
অদ্রি চায়ে চুমুক দিয়ে জানালার ধার ঘেঁষে দাঁড়াল। নিদ্র , অদ্রির বিপরীতে দাঁড়াল।
নিদ্র হাসিহাসি মুখে বলল
– চলুন দূরে কোথাও ঘুরে আসা যাক।
– আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি?
– কেনো? আপনার কি বাসার বাহিরে যাওয়া নিষেধ?
– বিধবা আমি। অনেক বড় পাপী আমি।পাপ আর এ জন্মে পিছু ছাড়বেনা।
নিদ্রের হঠাৎ করেই মেজাজ বিগড়ে গেলো। পাপী কী কারণে? ওরকম নরপিশাচ এর জন্য ?
নিদ্র বলল
– সুফি সাহেবের বাগান আসলেই সুন্দর।
অদ্রি কেমন যেন মুশরে গেলো। তারপরও সে ক্ষীণ স্বরে বলল
– হ্যা, তার পরম ভালবাসা।
– সুফি সাহেব বিয়ে করেছেন, ছোট্ট একটা ছেলেও আছে।আচ্ছা অদ্রি আপনার বাচ্চাকাচ্চা ভালো লাগেনা? ১ বছরের দম্পতি জীবনে একটা ছোট্ট প্রাণের ছোঁয়া পেতে ইচ্ছে করেনি?
অদ্রি গলা জড়ায় আসছে এই প্রশ্নের উত্তর সে কখনও দিতে পারবেনা। এর আগে নিদ্রকে পরোক্ষভাবে বলেছে কিন্তু ……
নিদ্র অদ্রির মুখের উপর তাকিয়ে বলতে শুরু করলো
– সে আপনাকে কখ‌নো ভালবাসেনি আর আপনাকে বিয়ে করেছিলেন সমাজের প্রশ্নোত্তর দেয়ার জন্য। হয়তোবা শেষ বয়সের ভরসার কারণে।
আপনাকে আমি বলে বুঝাতে পারবোনা। আমি রেকর্ড করে এনেছি।
প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করে রেকর্ড অন করে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
এতদিন একটা বিশ্বাস নিয়ে সে ছিলো আর কিছু সময়ের ব্যবধানে সেটাও ভেঙে গেলো।
বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতেই হয়।
স্বামীর প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ ছিলো এখন সেটা আর নেই। কর্পূর এর মতো উড়ে গেছে। প্রতিনিয়ত সে ঠকে এসেছে !
লিলিকে দিয়ে মোবাইল নিদ্রের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে সে দরজা ভালো করে লাগিয়ে দিলো।
একা থাকার খুব প্রয়োজন তার।
রাতে নিদ্র আর লিলি খাবার খেলো। অদ্রিকে শত চেষ্টা করেও খাবার টেবিল পর্যন্ত আনতে পারলোনা।
অদ্রি সারারাত ধরে শুধু চিন্তাভাবনা করেই কাটালো। আফসোস করা ছাড়া উপায় নেই। সেদিন সুফি সাহেবকে যদি সে কথা বলতে দিতো তাহ‌লে এরকম বিশ্রী জীবন তাকে যাপন করতে হতোনা।
মা বাবা তাকে কতোটা ভুল বুঝেছে, কতোটা খারাপ ভেবে এসেছে।
তার স্বামী অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট ছিলো। ড্রাগ এডিক্টেড, নিষিদ্ধ পল্লী …….
আর তার জন্য সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, বাসার বাহিরে কখনো পা রাখেনি।
সে বেঁচে থাকতেও শান্তি দেয়নি এবং মরার পরও চায়নি আমি শান্তিতে থাকি।
লিলি সকাল ৯ টায় ঘুম থেকে উঠে চায়ের পানি চুলায় দিয়ে নিদ্রের ঘরের দিকে গেলো।
সকালে কী নাস্তা করবে না জানলে সে বানাবে কীভাবে? অদ্রিকে তো এখন কোনোভাবেই ডেকে পাওয়া যাবেনা।
নিদ্রের ঘরের সামনে এসে লিলি অবাক হয়ে গেলো। দরজা হা করে খোলা, ব্যাগপত্র কিছুই নেই। সে ঘরের মধ্যে ঢুকে বিছানার উপর পরে থাকা চিরকুট খুঁজে পেলো।
কয়েকটা লাইন লেখা আর নিচে বামপাশে ছোট্ট করে নিদ্র লেখা।

সেই ভোরবেলা সে বের হয়েছে কিন্তু এখনো ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারলো না।
রশিদ সাহেবকে না জানিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি।
১১ টায় প্লেন আকাশে উড়াল দিবে আর এখন ১০ টা বাজে। ট্রাফিক জ্যামের কারণে তার এই অবস্থা।
বাংলাদেশের প্রথমদিনেও তাকে জ্যামে পরতে হয়েছিল।
নাজমুল সাহেব বেশ অবাক হচ্ছেন তার ছেলে এতো তাড়াতাড়ি ফিরে আসছে কেনো?
এদিকে রশিদ সাহেবের মোবাইল সুইচ অফ বলছে।
নিদ্রকে বিভিন্ন ভাবে আসার কারণ টা জানতে চেয়েছে। কিন্তু নিদ্র তার প্রত্যেকটি উত্তরে একই কথা বলেছে
– সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।

লিলি চায়ের পানি ফেলে দিলো। ফ্রীজে রাখা বাসি খাবার গরম করে খেয়ে নিলো। চিঠিটা সে যত্ন করেই রেখে দিয়েছে। আপামনি যখন বের হবেন তখন তাকে দিয়ে দিবে।

৪ মাস পর …….

নিদ্রের দাদী চিঠি হাতে বসে আছেন বিছানার উপর।তার পাশে নিদ্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
চিঠিটা নিদ্রের নামে এসেছে বাংলাদেশ থেকে। তাও একজন মেয়ের চিঠি। নামটাও নিদ্রের সাথে মিলে যায়। কিন্তুটা মেয়েটা সম্পর্কে না জেনে তার অস্থিরতা কমছেনা।
অনেক ডাকাডাকির পর নিদ্র ঘুম থেকে উঠে বসলো। কিছু বলার আগেই চিঠিটা তার হাতে দিয়ে বলল
– মেয়েটা কে রে? এরকম নিমন্ত্রণ করেছে তোকে।
চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলো। মাত্র দুটো লাইন লিখা।
” বাসায় নতুন বাবুর্চি রেখেছি, চা টা দারুণ বানায় সে। একদিন আসবেন, চায়ের দাওয়াত রইলো। ”
ইতি
অদ্রি।
বিঃ দ্রঃ বর্ষাকাল চলে এসেছে তার কালো মেঘের ভেলা নিয়ে।

নিদ্র মুচকি হেসে চিঠিটা ভাজ করে বালিশের নিচে রেখে দিলো।
তার লিখা ছোট্ট চিরকুট লিখে রেখে এসেছিল। কয়টা লাইন তার জানা নেই কিন্তু শব্দগুলো তার স্পষ্টভাবে মনে আছে।

অদ্রি,
বৃষ্টির সেই রাতে আপনার স্পর্শ আমার ঠান্ডায় জমে যাওয়া মন টাকে উষ্ণ ভাবে ছুঁয়ে দিয়েছিল। মন বারংবার সেই উষ্ণ ছোঁয়ায় মেতে থাকতে চায়। প্রিয় সেই ……

নিদ্র, ভালো থাকবেন।

সমাপ্তি 😌🙃🤓

© Maria Kabir

তিনি এবং ও ! ৩৪.

তিনি এবং ও ! ৩৪.

তিনি এবং ও !

৩৪.
হলুদ রঙের লুঙ্গি আর নীল রঙের হাফ হাতা গেঞ্জি পড়ে নিদ্র খাবার টেবিলে অধীর আগ্রহে বসে আছে। খুব খিদে পেয়েছে, সেই সকাল থেকে এই পর্যন্ত সে না খাওয়া। দুপুর ২ টা বেজে ২০ মিনিট।
সুফি সাহেবের বাসা থেকে রীতিমত সে পালিয়ে এসেছে। সুফি সাহেবের স্ত্রী তাকে খুব সাবধানে বাসা থেকে বের করেছেন। নিদ্র রাস্তায় পা দেয়ার পর সুফি সাহেবের স্ত্রী মাথা নিচু করে বললেন
– কিছু মনে করবেননা না খাইয়ে আপনাকে যেতে দিচ্ছি। মৌরি কোনোভাবে যদি জেনে যেত আপনি চলে যাচ্ছেন, তাহলে ও আপনাকে যেতে দিতো না। হয়তোবা আপনার সাথেই রওনা হতো।
নিদ্র কী বলবে ঠিক ভেবে পাচ্ছিলোনা।সুফি সাহেবের স্ত্রী বুঝতে পেরে বললেন
– আপনি এখনি যান। ও চলে আসলে বিপদে পড়বেন।
এতো সকালে এসব গ্রাম্য এলাকায় রিক্সা, ভ্যান কিছুই পাওয়া যায়না। শহরের বাড়ি বিক্রি করে এরকম স্থানে আসার কারণ কি অনুশোচনা?
হতেও পারে,আবার নাও পারে। নিদ্রকে এই মানুষ টাকেই বিশ্বাস করতে হবে। তাছাড়া কোনো উপায় নেই। অদ্রি আর ইখলাস সাহেব সম্পর্ক এ অনেকেই জানতে পারে কিন্তু অদ্রি তাকে সুফি সাহেব ছাড়া কাউকে চিনেন না। সুফি সাহেবও তাকে ঘটনা বলেছেন কিন্তু চরিত্রের নাম বলেননি। হয়তোবা সুফি সাহেব চাননা তাদের সাথে আমার দেখা হোক বা এমন কোনো সত্য যেন আমি জানতে পারি। ইখলাস সাহেব যে মানুষ টা সুবিধার ছিলেননা সেটা তো বাবার বন্ধুর কাছ থেকেই জেনেছি।
নিদ্র চিন্তার খেই খুঁজে পাচ্ছেনা। সে যা শুনেছে তা কি সত্যি?
অদ্রিকে জানাবে নাকি জানাবে না? এভাবে একটি মেয়েকে অন্ধকারে ডুবে যেতে দেয়া যায়না। কতোই বা বয়স এই মেয়ের। নিদ্রের ২-১ বছরের বড়। এই বয়সে তো আজকালকার মেয়েরা বিয়েই করেনা আর তো বিধবার জীবন!
লিলি রান্নাঘরের দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
হলুদ রঙের লুঙ্গী?ভাগ্যিস তার গায়ের রঙ ফর্শা, তা না হলে খাটি খ্যাত লাগতো।
লিলি আজকাল একটা বিষয় খেয়াল করেছে, অদ্রি বেশ হাসিখুশি থাকে। আগের মতো গুমোট হয়ে থাকেনা। সাদা গোলাপ নিজ হাতে ছিঁড়ে এনে ঘর সাজায়। সাদারঙ টা সে পছন্দ করছেনা।
হালকা গোলাপি বা হলুদ বা সবুজ রঙটা তাকে টানছে।
সুফি সাহেব বারান্দায় একমনে কী যেন ভাবছেন।
সত্য বলতে ভাবতে হয়না বেশি বা পরিকল্পনাও করতে হয়না। আর মিথ্যে বলতে হলে আটঘাট বেধে নামতে হয়। মিথ্যে বোকা মানুষ বলতে পারেনা, মিথ্যা বলতে হলে চালাকচতুর হতে হয়। যেন সেটা ধরা না পড়ে।
সুফি সাহেব মিথ্যে বলতে তেমন একটা পছন্দ করেননা। কিন্তু মাঝেমধ্যে বলতে হয়।
ইতি কে সেই অফিসে ডেকে এনেছিলেন। অবশ্য কাজটা সে পরোক্ষভাবে করেছিলেন। নিষিদ্ধ পল্লীর সেই ইতি অনেক বেশি সুন্দরী ছিলো। তিনি টাকা খাইয়ে ওই মেয়েকে ফুসলেফাসলে এনে ছিলেন।
ফুসলেফাসলে কথাটা ঠিক না। অতি মাত্রায় ভালবাসতো মেয়েটি ইখলাস সাহেবকে। ইখলাস সাহেবও তাই কিন্তু তিনি গ্রহণ করবেন না স্ত্রী হিসেবে? কেনো রে প্রয়োজন তো একসময় ঠিকই মিটিয়েছেন আর সামাজিক মর্যাদা দিতে সমস্যা?
এরকম ভালবাসার কী প্রয়োজন? যাকে গ্রহণ করতে পারবো না!
সুফি সাহেব চেয়েছিলেন ইখলাস সাহেব আর ইতিকে এক করে দিতে আর অদ্রিকে মুক্তি দিতে। কিন্তু হয়ে গেলো উল্টো।
ইতি ইখলাস সাহেবের সামনেই আত্মহত্যা করেছিলো।
ইতিকে সে সবকিছু দিতে পারবে কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারবেননা। এক কথায় দুই কথায় ইতি ডেড।
ইখলাস সাহেব আমার চালাকি টা কিছুটা হলেও ধরতে পেরেছিলেন তাই তো আমাকে বিশ্রী ফাঁদে ফেলে দিয়ে গেলেন।
টাকা থাকলে গুপ্তচর পাওয়া অসম্ভব কিছুনা। গুপ্তচর অবশ্য এখনো আমার আছে। নিদ্রের পিছনে লাগিয়েছি। আসলেই কি সে অদ্রির শুভাকাঙ্ক্ষী নাকি ধ্বংস কামনাকারী ; জানতে হবেনা তাকে?
মেয়েটাকে সেই তো মুক্তি দিয়েছে। তবে পুরোটা দিতে পারিনি। এখন যদি এই অল্পবয়সী আবেগী ছেলেটা পারে।
দুটি প্রাণের জন্য তার মাঝে কখনওই অনুশোচনা জাগেনা আর জাগবেও না। কারণ, একটি ঠাণ্ডা মাথার শয়তান কে সে ধ্বংস করেছে। কোনো মানুষ কে সে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়নি। একজন অসুস্থ মানসিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ইখলাস সাহেব।
নিজের ফুফুকে সে গলাটিপে হত্যা করেছেন আমার সামনে। আমি কিছুই করতে পারিনি। একজন অসহায় বৃদ্ধা মহিলা যে,এই ইখলাস কে তিলেতিলে বড় করেছে তার নিশ্বাসবন্ধ করে দিতে তিনি পিছুপা হননি।
আমার তখন কিছুই করার ছিলোনা। আমাকে উনি ভীষণ ভাবে আটকে রেখেছিলেন এক বিশ্রী ফাঁদে। অদ্রিকে ফুফু সম্পর্কে জানানো হয়েছিলো – তিনি তার নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।
এসব সত্যি আমি ফাঁস করে দিলে আমিই ফেঁসে যাবো।
কী দরকার নিজের পায়ে কুড়াল মারার?
ভালোই তো আছি বউ, বাচ্চা নিয়ে।

অদ্রি হালকা নীল রঙের সালোয়ার
কামিজ পড়েছে। ভেজা চুল গুলো ঘাড়ের এক পাশ দিয়ে এলিয়ে দিয়ে সে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে।
নিদ্র অদ্রিকে বেশিরভাগ সময় এভাবেই দেখেছে। তবে আজকে একটু পার্থক্য আছে। অদ্রির মাথায় ঘোমটা আজ নেই। হালকা নীলে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। নিদ্র দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে আর ভাবছে ঘরে ঢুকবে কি ঢুকবেনা?
অদ্রি বুঝতে পারছে নিদ্র ঠিক তার ঘরের দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।
ভিতরে আসছে না কেনো সে তার কারণ খুঁজে পাচ্ছেনা।

অদ্রির মাঝে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ব্যবহার, কথাবার্তা, স্টাইলে। মেয়েটা আসলেই সুন্দর। নিদ্র বলল
– ভিতরে আসতে পারি?
অদ্রি পিছন না ফিরেই বলল
– হ্যা পারেন।
– গল্পগুজব করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু আপনাকে দেখে তো সেরকম গল্পের মুডে আছেন বলে মনে হচ্ছেনা।
– যুক্তিটা বলবেন নিদ্র সাহেব?
– উদাসীন হাওয়া যেন আপনার মনের কোণ জুড়ে বয়ে যাচ্ছে।
– তো হাওয়া টা কোথা থেকে আসছে জানেন?
– মনে হচ্ছে আপনার প্রিয় জানালা থেকে।
– আপনার গবেষণা সবসময় ঠিক হয়না সেটা জানেন?
– জানলাম আজকেই প্রথম।
– তো চা না কফি খাবেন?
– খাবো না পান করবো।
অদ্রি উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। নিদ্র তার চলে যাওয়া দেখছে। চুল গুলো ঢেউ খেলানো, হাঁটার সময় দুলে উঠে অনবরত।

চলবে……..!

#Maria_Kabir

তিনি এবং ও ! ৩৩

তিনি এবং ও ! ৩৩

তিনি এবং ও !

৩৩.

ভাষাই মানুষের পরিচয় – একটা কথা আছে জানেন তো?
নিদ্রের উত্তরের অপেক্ষা না করে সুফি সাহেব বললেন
– অফিসের মধ্যে এরকম ঝামেলা শুরু হবে আমরা ভাবিনি।মেয়েকে তো ইখলাস সাহেব কোনোরকম বুঝিয়ে অফিস থেকে বের করলেন কিন্তু কর্মচারীরা তাকে আড় চোখে…. মানে বুঝোই তো।
আমাদের সাথে যারা লেনদনে যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যেও ব্যাপার টা ছড়িয়ে গেলো। নিষিদ্ধ পল্লীর যে,ওই মেয়ে এটা জানতে কর্মচারীদের সমস্যা হয়নি। কারণ, সবাই তো আর সাধু না।
ইখলাস সাহেবকে অনেক কথাই শুনতে হয়েছে। কেউ ঠাট্টাতামাসা করে বলেছে আবার কেউ ঘৃণাবশত হয়ে বলেছে।
নিদ্র বলল
– অদ্রির কানে যায়নি?
– অদ্রিকে অফিসের কেউই কোনোদিন দেখেনি, আমি ছাড়া। সুফি সাহেব জানতেন, সত্য কোনোদিন গোপন থাকেনা।এই কারণেই তিনি অদ্রিকে আড়ালে রেখেছিলেন। শেষ বয়সের ভরসা হিসেবে।
– আপনি কেনো অদ্রিকে বলেননি?
– বলার কোনো উপায় আমি পাইনি। সেদিনই তিনি ওই মেয়ের কাছে যান। কী হয়েছিলো আমি জানি না।
ইখলাস সাহেব প্রায় ১ সপ্তাহ অফিসে আসেননি। বাসায় ছিলেননা।
অদ্রির সাথেও আমার যোগাযোগ নেই।নিষিদ্ধ পল্লীতে খোজ নিয়ে জানতে পারলাম, সেই সুন্দরী মেয়ে আত্মহনন করেছেন।
– সে কবে সুইসাইড করেছিলো?
– ইখলাস সাহেবের সুইসাইড করার ৩ দিন আগে। এই হলো ভালবাসা!
– ভালবাসা হলে সে যতোই নোংরা জায়গার মানুষ হোক না কেনো তাকেই জীবনসঙ্গী করতেন।
– দুই নৌকায় পা দিলে যা হয়।
– না। এটা মানায় না। কর্মফল ভোগ করতেই হবে।
– তবে আজব ব্যাপার হচ্ছে সুইসাইড করার আগের দিন তিনি তার সব সম্পত্তি অদ্রিকে দিয়ে যান। পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছিলেন মনে হয়।
– আমার একটা বিষয়ে বেশ খাপছাড়া লাগছে। অদ্রি সত্যিই কিছুই জানতো না?
– আমার জানা নেই। আমি যতটুকু জানি ততটুকুন তোমাকে বলেছি।
– ব্যবসার কী হলো?
– অদ্রি তার অংশটুকু বিক্রি করে দিয়েছে আমিও তার ১ মাস পর বিক্রি করে দিয়ে এক অজপাড়া গায়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম।
মনের মধ্যে অনুশোচনা বোধটা কোনোভাবেই যাচ্ছিলো না। রাতে আমি ঘুমাতে পারতাম না। হুট করেই অদ্রি বাড়িঘর বিক্রি করে উধাও হয়ে গেলো।অনেক খুঁজেছি ওকে। প্রত্যেক মা – বাবার উচিত তার সন্তানকে বিশ্বাস করার।সন্তান যতোই ভুল করুক না কেনো মা – বাবার উচিত তার সন্তানকে স্নেহে আগলে রাখা। এতে সন্তান প্রথমে ভুল করলেও পরবর্তীতে যেন তা না করে। অদ্রি প্রথমে তার মা – বাবার কাছেই গিয়েছিলো কিন্তু তারা তাকে গ্রহণ করেনি। তাদের কাছে মেয়ের বর ফেরেশতা আর মেয়ে শয়তান। মেয়ের ক্যারেক্টার এর কারণেই নাকি তার ফেরেশতা জামাই আত্মহত্যা করেছেন। গলায়দড়ি দেয়ার আগে অদ্রির মা – বাবার সাথে তার কথা হয়।অদ্রির মা – বাবা কে বলেছে- আমার সাথে নাকি অদ্রির খুব প্রেম চলছে। আমাদের নাকি বিয়ে যেন তারা দিয়ে দেয়।
জানেন নিদ্র, মিথ্যা কে আমি খুব ভয় পাই।
– অদ্রির মা, বাবাকে যে তিনি ফোন করেছিলেন সেটা জানলেন কীভাবে? পুলিশ ইনভেস্টিগেশন?
– পুলিশ? এলাকার পুলিশ তার আশেপাশের এলাকার পুলিশ তাকে ভালো ভাবেই চিনতেন। এলাকার দারোগা তাকে কতোবার যে নিষিদ্ধ পল্লী থেকে ধরেছেন। টাকার জোড়ে বেঁচেছেন। আর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী তার মৃত্যু গলায়দড়ি দিয়েই। গলায় গভীর দাগ ছিলো।
ওনার এই কাণ্ডের পর আমাকে আর অদ্রিকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। আমাদের মাঝে সম্পর্ক আছে এই কারণে আমরা ইখলাস সাহেব মেরে ঝুলিয়ে রেখেছি – এই মর্মে অদ্রির বাবা কেস করেছিলেন।
– আমার প্রমাণের অভাব ছিলো কিন্তু টাকার অভাব ছিলোনা।কেস থেকে রেহাই পাই কিন্তু অনুশোচনা থেকে পাইনি আজও।
উপর দিয়ে দেখাই সুখী একজন মানুষ আমি। কিন্তু আমার ভেতর যে ঝড় চলছে আজও সেটা কেউই দেখেনি। আর দেখতেও দিবোনা।
মাঝেমধ্যে ভাবি, আমি কেনো ইখলাস সাহেবের কথা শুনে অদ্রির সাথে মেলামেশা শুরু করেছিলাম? না করলেই তো আমাকে অনুশোচনার আগুনে জ্বলতে হতোনা। পরে ভাবি, আমি না হয় বেঁচে যেতাম কিন্তুকিন্তু……
– কী?
– অন্য কাউকে দিয়ে অদ্রির বড় কোনো ক্ষতি করতে পারতেন। আমি তো তাকে বন্ধু, ছোটোবোনের চোখে দেখেছি। ওই খাঁচা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছি কিন্তু ব্যর্থ।
– আমি কি আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি?
– সেটা আপনার ইচ্ছা। আমার জানা যতটুকু ছিলো বলেছি।
– ওই বুড়িকে কোথায় পাবো?কেসের সাক্ষী হিসেবে তো ওনাকে…….
– ইখলাস সাহেবের মৃত্যুর দেড় মাস আগেই তিনি ওই বাসা ছেড়ে চলে যান।
– তার বাড়ির ঠিকানা?
– তিনি ইখলাস সাহেবের ফুফু ছিলেন। আপন কিনা সেটা অদ্রি ভালো জানে।
আর কিছু জানার আছে?
– আপাতত নেই। আগে সমীকরণ মিলিয়ে নেই।আমি কাল খুব ভোরে চলে যাবো।
– তাই ভালো মৌরি থেকে পালানো উচিৎ।
ওরকম অসুস্থ মেয়েকে আমি কারো ঘাড়ে চাপাতে চাইনা।

অদ্রি তার ঘরে হিসাবের খাতা নিয়ে বসেছে। আজকেই তাকে শেষ ছক কেটে ফেলতে হবে।
আর বেশি সময় নেয়া ঠিক হবেনা।

চলবে……..

#Maria_kabir

তিনি এবং ও! ৩২.

তিনি এবং ও! ৩২.

তিনি এবং ও!

৩২.
– আপনাকে মৌরি পুকুরে চুবিয়েছে?
বেশ গম্ভীর স্বরেই প্রশ্নটা সুফি সাহেব নিদ্রকে করলেন।
নিদ্র তীক্ষ্ণ স্বরে বলল
– না, সেরকম কিছু করলে জানতে পারতেন।
সুফি সাহেব সিগারেট ফেলে দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বলে থাকা শিখার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছু একটা ভাবছেন।
ফ্লাক্স থেকে চা ঢেলে নিলেন।
নিদ্রের কাছে সুফি সাহেবের এরকম ঢিলেমি একদম সহ্য হচ্ছেনা। তারপরও কিছুই করার নেই তার। তারই প্রয়োজন বেশি। আর মানুষ টা আজ খুব অসুস্থ, সারাদিন কিছুই সে খেতে পারেননি।
নীরবতা মানুষ কে কখনো খুব জ্বালায়। কখনো আরাম দেয়। কিন্তু এই মুহূর্ত তাকে খুব জ্বালাতন করছে।
সুফি সাহেব চায়ে লম্বা চুমুক দিয়ে বললেন
– আমার মা সেইসময় খুব অসুস্থ। মায়ের অসুস্থতা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত তার সাথে আবার অদ্রির বিষয়টা যোগ হয়। আমি প্রথমে তো না করলাম কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, খারাপ মানুষের অভাব এই পৃথিবীতে নেই। আমি না হয় ইখলাস সাহেবকে না করলাম কিন্তু সে তো টাকার বিনিময়ে অন্য কাউকে ব্যবহার করতে পারে। কী করবো ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না। এরকমভাবে অন্য একটা মেয়ের সাথে আমি? মিলাতে পারছিলাম না।
সুফি সাহেব আবারো চায়ে চুমুক দিয়ে চোখ বুজে বসে রইলেন।
চোখ বুজা অবস্থায় বললেন
– আমি একটা মাস্টারপ্ল্যান করলাম। অদ্রির সাথে মিশবো ইখলাস সাহেবের প্ল্যান সাকসেসফুল করার জন্য না। ইখলাস সাহেবের কুকীর্তি প্রকাশের জন্য।
নিদ্র বলল
– অদ্রি যে আপনার কথাই বিশ্বাস করবে এরকম ভাবার কারণ?
– বৎস আমি আটঘাট বেঁধে নেমেছিলাম। কিন্তু ওই বুড়ি ঝামেলা পাকালো। বুড়ি তো পিছু ছাড়েই না।
– ইখলাস সাহেবের প্ল্যান অনুযায়ী তো আশেপাশে কাউকে জানানো যাবেনা। এরকম ছিলো?
সুফি সাহেব মুচকি হেসে বললেন
– তোমার যথেষ্ট বুদ্ধি আছে। আসল কথা হচ্ছে ওই বাড়ির মধ্যে এক বুড়ি ছাড়া চেনাজানা কেউই থাকতো না। দারোয়ান তো মেইন গেটের সাথের রুমের।অদ্রির সাথে কথাবার্তা বলতে শুরু করলাম। বাড়ির মধ্যে ঘুরাঘুরি, দাবা খেলা বেশ চলতো।
অদ্রির সাথে ১ সপ্তাহ কথা বলার পর বুঝতে পারলাম, সে তার স্বামী মহোদয় কে খুব বিশ্বাস করেন।
এই ১ সপ্তাহে আমি অদ্রিকে পরোক্ষভাবে ইখলাস সাহেবের কথা বলেছি।
চায়ের কাপ পাটির উপর রেখে সুফি সাহেব বললেন
– অদ্রি মনে হয় এসব আকার ইঙ্গিত এসব বুঝেনা।মাথার মধ্যে প্যাচ না থাকলে অন্যের প্যাচ ধরা যায়না।
ওই বুড়ি বুঝতে পেরে ইখলাস সাহেবকে বললেন। ব্যাস তেলে বেগুনে সম্পর্ক। তিনি আমাকে ডেকে কী বলেছিলেন জানেন?
নিদ্র বলল
– আমি কীভাবে জানবো? আমি তো ওইসময় ছিলাম না আপনাদের সাথে বা আপনিও ইতোপূর্বে বলেননি।
– সায়ানাইড বিষ চিনো সুফি? তোমার মাকে খুব ভালোবাসো তাই না? আপনি না বড়োই ফাজিল সুফি সাহেব। আমার নামে আমার বউ এর কাছে কুটনামি করা তাই না?
– আপনার মা তখনো জীবিত ছিলো?
– হ্যা, হাসপাতালে ভর্তি ছিলো।তারপর আমার মাস্টারপ্ল্যান চেঞ্জ করলাম। কিন্তু সেটাও কাজে দিলোনা। ইখলাস সাহেব নিজেই লোক ভাড়া করে অদ্রিকে ইভটিজিং করিয়ে ছিলেন। যাতে ভয়ে বাসা থেকে বের না হতে পারে।
আর তার বাসায়ও কোনো আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী আসতো না। কারণ তো জানেনই। না জানলে বলুন আমি এক্সপ্লেইন করি?
– না না আমি বুঝেছি।
– নিষিদ্ধপল্লীর সেই সুন্দরীর কথা মনে আছে? গতকাল গল্পে বললাম।
– জি জি ইখলাস সাহেব তাকে ভালবাসতেন।
– এইতো মনে আছে। ওই মেয়ের কাছে যাওয়াআসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ওই মেয়েও তাকে খুব ভালবাসতো।ইখলাস সাহেব যে বিয়ে করেছেন, সেটা জানতে পারে। তারপর….. তারপর একদিন অফিসে এসে হাজির। ইখলাস সাহেবকে অনেক কথা বলেছিলো। তার সবকয়টি আমার মনে নেই। কিছুকিছু মনে আছে।
আমি আর ইখলাস সাহেব তার অফিসকক্ষে ব্যবসা সম্পর্কিত জরুরি কিছু কাজ করছিলাম।
পিওন এসে বলল – ইখলাস ভাই একজন মেয়েমানুষ আসছে। আপনার লগে দেখা করতে চায়।
ইখলাস সাহেব ইশারায় আসতে বলে দিলেন। যখন ওই মেয়ে কক্ষে প্রবেশ করলো, আমরা দুজনই মোটামুটি অবাক।
ইখলাস সাহেব ঘামতে শুরু করলেন, এসির ঠাণ্ডা বাতাসেও।
জানো তো এসব মেয়েদের লাজলজ্জা কম থাকে।কী না কী বলে বসে তাই আমি উঠে চলে যাবো তখন ইখলাস সাহেব আমাকে বসতে বললেন।
মেয়ে বলল – বিয়ে করে আমাকে ভুলে গেলেন? এখন আর এই পুরাতন দেহের স্বাদ মিষ্টি লাগেনা?
ইখলাস সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললেন
– এসব নিয়ে পরে কথা হবে। এখন তোমার জায়গায় তুমি যাও।
– আপনি আজ প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে আমার কাছে আসেননি। কারণ টা কি জানতে পারি?
– হ্যা পারো। তবে এখানে না।
– কেনো না? আমার দেহের স্বাদ তো নিতে পারেন সেটা স্বীকার করতে পারেননা?
বউকেও তো ভোগ করেন। সেই একই তো হলো। স্বীকারোক্তি তেই তো পার্থক্য।
– বললাম না, এখানে এসব না।
– আমাকে সমাজে আপনার স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তা না হলে…..
– কী করবে শুনি?
– আমি আপনার বাচ্চার মা হতে চলেছি।
ইখলাস সাহেব বেশ বিরক্তি নিয়ে বললেন
– গাঁজাখুরি কথা বলবা না।
– ক্যান? আমার সাথে ঘুমান নাই আপনি?
– আচ্ছা তোমার কতো মাস চলে?
– ৫ মাস।
ইখলাস সাহেব হেসে বললেন
– তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি। আমার আজ থেকে প্রায় ১ বছর আগেই ওই ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাই ধরা পড়েছে। তোমার ওইধরনের কথা হাস্যকর।
জানেন নিদ্র মেয়েটা বেশ আস্তে আস্তে কথা বলছিলো। লাস্টের কথাগুলো শোনার পর মেয়েটার চেহারা দেখার মতো ছিলো। আর মেয়েটাও প্রথমে বলল ১ বছরের বেশি যায় না তার কাছে। পরে বলে ৫ মাসের প্রেগন্যান্ট। হাস্যকর।
মেয়েটি রাগে ফুপাচ্ছিলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল
– তো ওই মা* খায়েশ মিটাও ক্যামনে?

সুফি সাহেব তিক্ত স্বরে নিদ্রকে বললেন
– বিশ্বাস করেন নিদ্র, আমি ছেলে হয়েও এধরনের বাক্য কখনো বলিনি বা ব্যবহার করিনি।
নিদ্র চোখ বুজে বলল
– আমি তো এই প্রথম শুনলাম।

চলবে…..!

#Maria_kabir

তিনি এবং ও! ৩১.

তিনি এবং ও! ৩১.

তিনি এবং ও!

৩১.
সুফি সাহেব বড় এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে গিলে ফেললেন। পান করলেন ব্যাপার টা তার কাছে ঠিক মানায় না এভাবে পানি খাওয়ার সাথে। এই নিয়ে সে ১১ তম গ্লাসের পানি গিললেন। তার স্ত্রী ভীতিবিহ্বল হয়ে তার দিকে বারবার তাকাচ্ছে। সাধারণত খুব টেনশন আর রাগ না হলে ১ ঘণ্টায় এতো পানি তিনি খান না।
দেড় ঘণ্টার মাথায় তিনি পানিবমি করতে শুরু করবেন। আধা ঘণ্টা পানিবমির পর সে সহ্যা নিবেন। মৌরি ঘটনাটা ঘটার সময় ঘড়ি ধরে মাপে। তার এই বাসায় আসার পর সুফি সাহেবের মাসে চার বার এমনকি পাঁচবার এরকম হয়।মৌরি এমন কিছু করে বসে তাতে সুফি সাহেবের টেনশন বাড়বে আর তা না হলে রাগেগরগর করবেন।
প্রতিবারই দেড় ঘণ্টা সময় নেন সুফি সাহেব সহ্যা নেয়ার।
সুফি সাহেবের স্ত্রী অবশ্য বুঝতে পারছেন, মৌরি নতুন অতিথির সাথে কিছু একটা করেছে তার ফলে তার স্বামী টেনশনে এরকম করছেন।
মানুষ টাকে সে খুব ভালবাসে আর সম্মান করে কিন্তু তার বোন কখনওই তাকে সম্মান করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখ ভেংচি কেটে কথা বলে।
বাসায় যে এতো কিছু ঘটছে তার দিকে নিদ্রের কোনো খেয়াল নেই। নিদ্র, নিদ্রায় ব্যস্ত। সকাল ৮ টা পর্যন্ত অদ্রির সাথে একনাগাড়ে কথা বলার পর তার ঘুম যেন পিছু ছাড়ছেই না।
সে বেহুঁশ এর মতো ঘুমাচ্ছে।
সকাল ৯ টায়,
সুফি সাহেব নিদ্রের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নক করবে ঠিক তখন খেয়াল করলেন, দরজা খোলা। এক হাতে ট্রেতে দু কাপ কফি নিয়ে নিদ্রের রুমে ঢুকলেন। নিজ হাতে অতিথির জন্য কফি বানিয়েছেন। বিছানার উপর নিদ্র চার হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে ঘুমুচ্ছে। সুফি সাহেব বুঝতে পারলেন, মৌরি কিছু একটা করেছে। খুব সাবধানে কপালে হাত দিয়ে বুঝতে পারলেন উষ্ণতা।
তার মতে শরীর একটু গরম হওয়া মানেই জ্বর আসা।
মৌরি তাকে পুকুরে চুবায় নাই তো?
ঘুম থেকে টেনে তোলাও ঠিক হবে না। কী করা যায়?
কফি ওভাবেই ঘরের মধ্যে রেখে চলে এলেন তার ঘরে।
মৌরিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কিছুই জানতে না পেরে আরো বেশি টেনশনে পরে যান।
জ্বর যদি মেয়াদে চলে যায়? তখন?
এভাবে একজন মেহমান কে বিপদে ফেলা টা ঠিক হলোনা।
তারপর থেকে তার টেনশন বাড়তে বাড়তে পানি খাওয়া বাড়লো।
তারপর আর কী? সেই ঘটনা চক্র আবার ঘটবে ।
লিলি দর্জি বাড়ি থেকে নতুন জামা কাপড় নিয়ে বেশ হাসিহাসি ভাবেই বাসায় আসলো।
এতক্ষণে আপামনির ঘুম থেকে উঠে যাওয়ার কথা। সকালের নাস্তা তাহলে রেডি। এতদূর হেটে এসে তার খুব খিদে পেয়েছে।
কিন্তু বাসার মধ্যে প্রবেশ করেই তার মনে হলো আপামনি ঘুম থেকে উঠে নাই।
সরাসরি দোতলায় উঠে অদ্রির রুমের দিকে এগিয়ে গেলো লিলি। দরজা খোলা ছিলো।
বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলো, অদ্রি ঘুমুচ্ছে। গভীর ঘুমে সে পরে আছে বিছানায়। হাতের মুঠোর মোবাইল।
বিছানার একপাশে জামাকাপড় রেখে লিলি রান্নাঘরে চলে এলো।
এভাবে এইপ্রথম সে আপামনিকে এভাবে দেখলো।
ঘুমন্ত মুখখানা দেখে তার মনে হচ্ছিলো সে হাসছে। হাসিটার মধ্যে আনন্দ খেলা করছিলো।
সুফি সাহেব পানিবমি করতে শুরু করলেন। তার স্ত্রী মৌরিকে রাগ করতে শুরু করলেন। মৌরি খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো।
নিদ্রের ঘুম ভাঙলো বাচ্চার কান্নার শব্দে।
তার মনে হচ্ছে ৫ মিনিট হয়েছে ঘুমিয়েছে।
চোখ খোলার সাথে সাথে তার ফোনালাপ এর কথা মনে পড়লো।
খুব ভালোই কেটেছে সময়। অন্ততপক্ষে ওই বিরক্তিকর মেয়ে থেকে দূরে থাকতে পেরেছে।

সুফি সাহেব বিছানার উপর পরে আছেন, নিদ্র তার পাশে লাল রঙের চেয়ারে বসে আছে।
নিদ্রকে সে হাজার বার প্রশ্ন করেছেন, সুস্থ আছেন কিনা?
নিদ্র তাকে কয়েকশ বার বলেছে, সে সুস্থ!
নিদ্রের এদিকে বাসায় যেতে হবে।
গতকাল রাতে পুরোটা গল্প বলে দিলেই হতো।
তাকে এভাবে আটকে থাকতো হতোনা। এই একমাত্র মানুষ যিনি ইখলাস সাহেবের ব্যাপারে ভালো ভাবে জানেন।
আর কেউ জেনে থাকলেও নিদ্রের জানা নেই।
সুফি সাহেব বললেন
– আমি আজকেই আপনাকে বলে দিবো। আমার যতটুকু জানা আছে জানাবো।
নিদ্রের বলতে ইচ্ছে করছিলো না কিন্তু তারপরও বলল
– না আপনি সুস্থ হন তারপর……
– না, আজ রাতেই আমি আপনাকে ছুটি দিয়ে দিবো। মৌরি আপনাকে খুব জ্বালাচ্ছে। ও না এমনি। বাসায় ছেলে মেয়ে কেউই আসতে পারেনা আমাদের এখানে।
বলুন কী করবো?
– বিয়ে দিয়ে দিন।
– দিয়েছিলাম। পাগলামি মানে এসব যা করে সেই কারণে তালাক হয়ে গেছে।
– আবার বিয়ে দিয়ে দিন।
– মাথা খারাপ। ওকে বিয়ে দিয়ে অন্য পুরুষের জীবন নষ্ট করবো নাকি?
প্রথম জনের যে,অবস্থা হয়েছিলো। পাগলের ডাক্তার দেখাতে হয়েছিলো। জানি না এখন তার কী অবস্থা।
সুফি সাহেব আর নিদ্র আগের রাতের মতোই ছাদে বসে আছেন।
নিদ্র অধীর আগ্রহে বসে আছে।
সুফি সাহেব সিগারেট হাতে নিয়ে ঝিমুচ্ছেন।

চলবে…….!

#Maria_kabir

তিনি এবং ও ! ৩০.

তিনি এবং ও ! ৩০.

তিনি এবং ও !

৩০.

২ টা প্রশ্ন নিদ্রের মাথার মধ্যে ব্যথার সৃষ্টি করেছে।
মাথাব্যথা যেন ক্রমশ বাড়ছে। প্রশ্নের উত্তর মৌরি আর সুফি সাহেব জানেন। এই কৃষ্ণ সুন্দরী কখনওই সত্য বলবে না। সুফি সাহেবকে এখন এইসময় বিরক্ত করতেও ইচ্ছে করছে না নিদ্রের।
কিন্তু প্রশ্ন দুটোর উত্তর তার চাই। তা না হলে মাথাব্যথা কমবে না।
খুব বিশ্রী একটা সমস্যা নিদ্রের। কোনো প্রশ্ন মাথার ভেতর প্রবেশ করলেই হয় একবার। সঠিক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তার স্বস্তি হবেনা। এমনকি এই নিয়ে বেশি চিন্তা করলে মাথাব্যথা শুরু হবে।
এরকম অবশ্য অনেকদিন পর হলো। নিদ্র জানে এখন রেস্ট নেয়াটা খুব দরকার তার।
মৌরি নিদ্রকে চিমটি কেটে বলল
– কী? ভয় করছে নাকি?
এভাবে গায়ে হাত দেয়াটা নিদ্রের বেশ অপছন্দ। তার উপর অসহ্যকর একটা মেয়ে তাকে ছুঁয়েছে।
নিদ্র বেশ শান্ত মেজাজে বলল
– একটা শর্ত দিবো। যদি পূরণ করতে পারেন তাহলে আমি আপনার সাথে ঘুরতে বের হবো।
মৌরি তার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল
– কী আবার শর্ত ? আর আমিই বা মানবো কেনো?
নিদ্র শান্ত কণ্ঠে বলল
– আমিই বা ঘুরতে যাবো কেনো? যান তো এখান থেকে! আমি ঘুমাবো।
– যাবোনা। কী করবেন?
নিদ্র মৌরিকে উপেক্ষা করে বিছানার উপর শুয়ে পড়লো। এমনভাবে বিছানায় শুয়ে রইলো যেন দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি উপস্থিত নেই।
মৌরি ঠিক বুঝতে পারছেনা কী করবে? এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে তার নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। এই প্রথম কোনো পুরুষ তাকে অগ্রাহ্য করলো। তাকে এতোটা অপমান করলো।
মৌরি খুব অস্থির অনুভব করছে। সে নিঃশব্দে রুম থেকে বের হয়ে দরজা আটকে দিলো।
নিদ্রের মাথাব্যথা কিছুটা কমেছে। অনেক কষ্টে সে তার প্রশ্নগুলোকে ঘুম পাড়িয়েছে। এখন সে ঘুমাবে।
হঠাৎ অদ্রির সেই লাল টকটকে চোখ দুটি তার মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠলো।
অদ্রির লাল টকটকে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে। নিদ্র ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলো পানি না, লাল রঙের তরল পদার্থ। তার বুঝতে অসুবিধা হলো না যে, চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে।
অদ্রির ওড়না, জামা সেই রক্তে লাল হয়ে উঠছে ধীরেধীরে।
একসময় হুট করেই ক্যানভাস থেকে পুরো দৃশ্যটা উধাও হয়ে গেলো।
যেমন করে এসেছিলো ঠিক তেমনভাবেই।
নিদ্রের ঘুম আর হলোনা।
সহ্যা ছেড়ে উঠে বসলো। রশিদ সাহেবকে ফোন দিলো।
এবার প্রথম রিং এ ফোন রিসিভ হলো। ফোনের ওপাশ থেকে রশিদ সাহেব ঘুমে জড়ানো কণ্ঠে বলল
– কী বাবা? কোনো সমস্যা হয়েছে?
নিদ্র যথাসাধ্য চেষ্টা করলো নিজেকে শান্ত রাখার। তারপর বলল
– চাচা অদ্রির মোবাইল নাম্বার টা দিবেন?
রশিদ সাহেব কোনো প্রশ্ন না করেই বলল
– আচ্ছা আমি ম্যাসেজে পাঠাচ্ছি।
ফোন কেটে দিয়ে রশিদ সাহেব মেসেজে অদ্রির নাম্বার পাঠিয়ে দিলো।
অনেক সাধনার পর ম্যাসেজ দেয়া সে শিখেছে।
তারপর আবারো ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমের ঘোরে ছিলেন বলেই কোনো প্রশ্ন না করেই কাজটা করেছেন। জাগ্রত থাকলে নিদ্রকে বিরক্ত করেই নাম্বার দিতেন।

বিছানার উপর মোবাইল টা প্রায় চিৎকার করে জানান দিচ্ছে যে, অদ্রিকে কেউ ফোন করেছে।
অদ্রি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে জীবনের পাতাগুলো উল্টে পাল্টে দেখছিলো।
একটু পরেই ভোর হবে। দিগন্ত রেখায় অগণিত আলোকরশ্মি তার আভা ছড়াবে। সেই আভা অদ্রির জীবনে কখনওই আসেনি।
তার দিকে শুধু অন্ধকারই ধেয়ে আসে। অন্ধকার তাকে দিনদিন আরো বেশি অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রথমে সে নিজেই চাইতেন অন্ধকারে ভেসে যেতে কিন্তু আজকাল তার সহ্যশক্তি কমে যাচ্ছে।
মোবাইল ৩ বারের মতোন জানান দিচ্ছে কেউ ফোন করছে। অদ্রি অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোন রিসিভ করে শুকনো কণ্ঠে বলল
– হ্যালো।
নিদ্র কী বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না। এসময় ফোন করেছে সে অদ্রি যদি রাগ হয়? নিদ্র আস্তে আস্তে বলল
– আমি নিদ্র বলছিলাম।
অদ্রি যেন তার কানকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। নিদ্র তাকে ফোন করেছে?সেও কি রাত জাগছে? আমার মতোই? না না এসব আমি কীসব ভাবছি, অদ্রি নিজেকে শুধরালো। অদ্রি বলল
– হ্যা বলুন।
নিদ্র আড়ষ্টভাবে বলল
– আমি খুব বাজে স্বপ্ন দেখেছি।আমার এই ঠাণ্ডা পরিবেশেও খুব গরম লাগছে।
অদ্রি বলল
– স্বপ্নটা আমাকে বলুন। দেখবেন ভয় কিছুটা কমে যাবে।
নিদ্র, অদ্রির কথায় কিছুটা সহজ হলো। নিদ্র বলল
– আপনি কেঁদেছেন আবার তাই না?
অদ্রি থতমত খেয়ে গেলো। কীভাবে নিদ্র বুঝলো? নাকি সে আন্দাজে বলেছে?
অদ্রি কোনো উত্তর না দেয়াতে নিদ্র বলল
– আপনার লাল টকটকে চোখ বেয়ে লাল রঙের রক্ত গড়িয়ে পরছে। আপনার সাদা কামিজ, ওড়না রঙিন হয়ে যাচ্ছে।
এই স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দিলোনা।
অদ্রি বলল
– চোখেরজল কখনওই রঙিন হয়না। কারণ কষ্টগুলো তো জীবনকে ফ্যাকাসে করে দেয়। জীবনের রঙটাকে চুষে খেয়ে ফেলে রাখে ফ্যাকাসে জীবনটাকে। সেই চোখেরজল কী করে রঙিন হয় বলতে পারবেন নিদ্র???

চলবে…….!

#Maria_kabir