নবনী

রেস্টুরেন্টের মালিক প্রায় অপমান করেই নবনী আর জাকির কে রেস্টুরেন্ট থেকে বের করে দিলো। ওরা বের হয়ে যাবার সময় মালিক অন্যান্য কাস্টমার দেখে গলা উঁচু করেই বললো, আমার রেস্টুরেন্টে এসব চুমাচুমি, ধস্তাধস্তি চলবে না। হালাল ভাবে আমি রেস্টুরেন্ট চালাই। এসব বেহালাল কাজ আমার রেস্টুরেন্টে হবে না।

রাস্তায় বের হয়ে নবনী প্রায় কেঁদে ফেললো। কি হতে কি হয়ে গেলো নবনী কিছুই বুঝতে পারেনি। জাকির নবনীর পিছুপিছু হাঁটছে। ওকে কি বলবে সে নিজেও ভেবে পাচ্ছে না। আসলে ব্যাপারটা যে এরকম হবে সেটা ও নিজেও বুঝতে পারেনি।

আজবাদে কাল নবনীর সাথে জাকিরের বিয়ে হবে। নবনীর বাবাই এই বিয়ে ঠিক করেছে। এর আগেও ওরা দুইবার বাইরে দেখা করেছে। রেস্টুরেন্টে বসে বিভিন্ন গল্পগুজব করেছে। বিয়ের পর কি কি ভাবে সংসার সাজাবে। কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে সেসবই ছিল গল্পের মূল বিষয়।

আজকেও স্বাভাবিক ভাবেই ওরা রেস্টুরেন্টে এসে খাবার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিল। এমন সময় লোডশেডিং হয়। হঠাৎ জাকিরের মনে কি যেন হয়ে গেলো। অন্ধকারে চুপ করে নবনীর গালে চুমু খাবার সময়ই জেনারেটর চালু হয়ে গেলো। আলো জ্বলতেই সরাসরি ওদের দেখে ফেললো রেস্টুরেন্টের মালিক।

উনি এগিয়ে এসে বললেন, উঠুন আপনারা চেয়ার থেকে। এক্ষুনি আমার রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যান। রেস্টুরেন্টের অন্যান্য কাস্টমার সবাই একে অন্যের মুখ দেখাদেখি করছিল তখন। আসলে ওরাও বুঝতে পারেনি। কেন এভাবে ওদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। নবনী আর জাকির অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে।
পরিবার শিক্ষা দেয়নি নাকি? লজ্জা করেনা পাবলিক প্লেসে এসে পরপুরুষের সাথে এভাবে ঢলাঢলি করতে। মুরুব্বি মানেন না?বাড়িতে আমার নিজের ছেলে মেয়ে আছে। ওদের তো আমি কখনো এমন শিক্ষা দেইনি। কেমন বাপ মা আপনাদের? এরকম নানান কথা বলে উনি চিৎকার করে যাচ্ছেন। ততক্ষণে ওরা দুজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।

নবনী বেশ অপমানিত বোধ করছে। কথাগুলো ভেবে প্রায় কেঁদেই দিলো। এতগুলো মানুষের সামনে লোকটা অপমান করে বের করে দিলো তাদের।

জাকির বারবার ডাঁকছে কিন্তু নবনীর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছে। সে এখনো বুঝতে পারছেনা এতগুলো মানুষের মধ্য থেকে কেন তাদের এভাবে অপমান করে বের করে দেয়া হলো। ঢলাঢলির কথাটা কাকে বললেন উনি। সে তো জাকিরের থেকে দূরত্ব রেখেই বসেছিলো। জাকির দ্রুত পায়ে এগিয়ে নবনীর সামনে এসে দাঁড়ায়।

~ নবনী প্লিজ শুনো, আমি সত্যিই চুমু খেতে চাইনি। এমন কোনো ইচ্ছে আমার ছিলোনা কিন্তু তখন হঠাৎ করে কিভাবে কি হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারছিনা।

~ তাহলে চুমু খেতে গেলেন কেন? নবনী দুহাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিলো।

~ বললাম তো ভুলে। এছাড়া আজ বাদে কাল তুমি আমার স্ত্রী হতে যাচ্ছ। এভাবে ওভার রিএক্ট করার কি আছে?

~ ওভার রিএক্ট! অন্তত একবার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। আমি এটা চাই কিনা। এখনো কিন্তু আপনার স্ত্রী আমি হইনি। আর আপনার স্ত্রীকে কি আপনি রাস্তাঘাটে চুমু খেয়ে বেড়াবেন?

~ ঘরের বউ যখন । অনুমতি নেয়ার কি আছে?

একথা শুনে নবনী চুপচাপ হেঁটে চলে আসে। জাকির ডাকলেও ও আর পিঁছু ফিরে তাকায়নি। জাকির বারবার কল দিচ্ছে। নবনী কলটা কেটে মোবাইল বন্ধ করে রাখে।
বাসায় এসে চুপচাপ রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। কি হতে কি হয়ে গেলো। এরকম একটা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সে প্রস্তুত ছিলো না। তাছাড়া জাকির এরকম করবে সেটাও সে ভাবতে পারেনি। বিয়েটা পারিবারিকভাবে ঠিক হয়েছে, দুদিন পরে বিয়ে তা না হয় মানলাম। তাই বলে অন্ধকারে পেয়ে চুমু খেতে হবে? একবার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করলো না? জাকির এতটাই খারাপ। ছিঃ
.
নবনীর মনে হলো সে অন্যায় করছে নিজের সাথে। নীরবতা আর রাগ কোনো কিছুর সমাধান হতে পারেনা। নবনী জাকিরকে কল করে বিকেলে তার সাথে দেখা করতে বলে। জাকির এসেই প্রথমে নবনীর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে তার ভূলের জন্য। কিন্তু নবনী দমে যাওয়ার পাত্রী না। কোনভাবেই সে জাকিরকে আর মেনে নিবেনা। জাকিরের কথা বলার এক পর্যায়ে নবনী বলে উঠে,

~ শুনুন, আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না।

~ আজ বাদে কাল আমাদের বিয়ে। আর এখন তুমি আমার সাথে মশকরা করছো? নিজের এত বড় ক্ষতি করোনা নবনী।

~ নিজের ক্ষতি করতে চাইনা বলেই এ বিয়ে আমি করবো না। যে নারীদেরকে সম্মান দিতে জানেনা তার সাথে আমার যায় না।

~ বললাম তো আমার ভুল হয়ে গেছে। ক্ষমা করে দাও। আমরা যে সংসারটা সাজাতে চেয়েছিলাম সেটা সাজাতে দাও প্লিজ।

~ প্রথমে বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দিতে শিখুন। যাকে বিয়ে করবেন তাকে পণ্য না ভেবে মানুষ বলে ভাবুন। তারপর সংসার সাজাবেন।

কথাগুলো বলেই নবনী ফিরে আসছে। এখন অনেক হালকা লাগছে নিজেকে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। চুপচাপ এরকম অন্যায় মেনে নেয়ার মেয়ে সে না। এ অন্যায় মেনে নেয়ার কোনো কারণও নেই। নবনী জানে, তার বাবা তাকে সাপোর্ট করবে। বাবার আদর্শেই তো সে আদর্শিত।
.
বাসায় ফিরে নবনী তার বাবার কাছে গিয়ে বলে, বাবা কিছু কথা ছিলো তোমার সাথে। একটু শুনো এদিকে। নবনীর বাবা তার পাশে এসে বসে। মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, কিছু বলবি?

~ আমি জাকিরকে বিয়ে করতে পারবো না বাবা। এ বিয়ে ভেঙে দিয়েছি আমি।

~ পাড়া-পড়শী সবাই জানে আজ বাদে কাল তোর বিয়ে হবে জাকিরের সাথে। আর এখন বলছিস বিয়ে করবি না। কাউকে পছন্দ করিস?

~ না

~ তাহলে বিয়ে করবিনা কেন?

~ যে পুরুষ নারীদের সম্মান করতে জানেনা তার সাথে আমার জীবন বাঁধা অসম্ভব। বাবা আমি “আলোকবর্তিকা” সংঘের সদস্য। সে সংঘ নারীকল্যাণমূলক কাজ করে। সমাজের অসহায়, অবহেলিত, নির্যাতিত নারীদের জন্য আমি কাজ করি। নারী সমাজকে এগিয়ে নেয়ার ব্রত নিয়ে পথ চলছি আমি। সেখানে নিজের সাথেই এতবড় অন্যায় আমি কিভাবে মেনে নিই বলো।

~ নবনী মা শোন, সে কি এমন করছে যার জন্য তুই একাই এতবড় একটা সিদ্ধান্ত নিলি। আর যা করুক না কেন। সেটার জন্য তোর কাছে না হয় ক্ষমা চেয়ে নিবে। কিন্তু বিয়েটা ভাঙিস না মা। বিয়ে ভাঙা মেয়েদের মর্যাদা এই সমাজ দেয়না।

~ প্রাচীন সমাজের ঘুণে ধরা চাকার নিচে পিষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না বাবা। আমি সমাজের উল্টো পথে হাঁটি। আমার কাছে আত্নমর্যাদা সবার আগে। আমি যদি নিজেকে সম্মান না দেই তাহলে অন্যজন থেকে সম্মান প্রত্যাশা করাটা বোকামি। আর যা-ই হোক, আমি নিজেকে অপমান করতে পারবো না।

~ নবনী একটু বুঝার চেষ্টা কর। তোর বিয়ের কথা সবার জানাজানি হয়ে গেছে। পরেরবার তোকে বিয়ে দিতে হলে কেলেঙ্কারি ঘটে যাবে। আর যদি বিয়ে না হয় তখন আজীবন সবাই তোকে ছোট করে দেখবে। অলক্ষুণে ডাকবে। পাড়া-পড়শীর একথা ওকথা শুনে হীনম্মন্যতায় বাঁচতে হবে। পারবি?

~ আজীবন মেয়েরাই কেন এসব সহ্য করে আসবে বাবা? চিরকাল ছেলেপক্ষ বিয়ে ভেঙে যায়, মেয়েটার অবস্থা বুঝার চেষ্টা করেনা। আজ কোনো মেয়ে স্বয়ং তার বিয়ে ভাঙলো। এবার তারা একটু সহ্য করুক, বুঝুক.. বিয়ে ভাঙার যন্ত্রণা। এ বিয়ে হবেনা। ব্যস।

~ নবনী আমাদের টিকে থাকা দায় হবে এ সমাজে। রাগ, জেদ এগুলো পুরুষদের মানায়। নারীদের সর্বদা কোমল হতে হয়।

~ বাবা তুমি তো আমাকে এ শিক্ষা দাওনি। তাহলে আজ কেন নিজের বিরুদ্ধে কথা বলছো? তুমিই আমাকে শিখিয়েছো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

~ অনেক সময় মাথা নোয়াতে হয় মা। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার তাগিদে।

~ আর কত বাবা? নারীরা চিরকাল মাথা নুইয়ে সব সয়েই গেছে, প্রতিবাদ করেনি। মাথা নুয়াতে নুয়াতে এখন আর নুয়াবার জায়গা নেই। কপাল মাটিতে ঠেকে গেছে। এবার একটু ঘুরে দাঁড়াই?

নবনীর কথা শুনে তার বাবা প্রায় কেঁদে ফেললো। মেয়েকে সঠিক শিক্ষা দিতে পেরেছে ভেবে গর্ব হচ্ছে। মেয়ের আত্নবিশ্বাস দেখে কলুষিত সমাজের ভয়টাও কাজ করছেনা আর।
.
আমাদের সমাজে নবনী চরিত্রের মেয়েদের খুব অভাব। এ সমাজের মেয়েরা পরিবারের জন্য চুপচাপ নিজেকে বিসর্জন দেয়। টু শব্দটি করেনা।

ঘুণেধরা সমাজে চিরকাল কন্যাপক্ষ শুধু পাত্রপক্ষের সামনে কেঁদে বুক ভাসায়। তাদের হাতে পায়ে ধরে আঁকুতি মিনতি করে। নারীরা তো দূর্বল নয়। ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যটা আমরাই সৃষ্টি করি। নীরবে সব সয়ে অন্যের কাছে নিজেকে বলি দেওয়া কোনো যুক্তিসঙ্গত কাজ না। সবসময় সয়ে না গিয়ে কিছুসময় রুখে দাঁড়াতে হয়। বাঁচতে হলে বাঁচার মতো বাঁচুন। নিজেকে সম্মান করতে শিখুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার সাহস রাখুন।

নবনী
~

রিফাত আহমেদ

ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কাভার

পরীক্ষার হলে ঢুকে দেখলাম সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে সীট পরেছে। দেখতে এক্কেবারে ক্যাটরিনা কাইফের মতন। জামাকাপড় ও সুগন্ধির ঘ্রাণ বলে দিচ্ছে বড়লোকের মেয়ে। মনে মনে ভাবলাম একটু খাতির জমানো যাক। পরীক্ষায় টুকটাক সমস্যা হতেই পারে।

মেয়েটার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম আপনি কোন কলেজ থেকে এসেছেন। মেয়েটা কোনো উত্তর দিলো না। ভাবলাম শুনতে পায়নি তাই আবার একই প্রশ্ন করলাম। কিন্তু এবার বুঝলাম, মেয়েটা শুনেই না শুনবার ভান করছে। সুন্দরী মেয়েরা যেমন অহংকারী হয় আরকি। সুন্দর চেহারা ও দামি কাপড়চোপড় কিনার যোগ্যতা কোনোটাই আমার নাই। মনে মনে নিজের উপর কিছুটা রাগ হলো। কেন যে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেলাম।

উচ্চ মাধ্যমিকে সাইন্সের ছাত্র ছিলাম। খারাপ ছাত্র ছিলাম না। বিশেষ করে সাইন্সের বিষয় গুলোতে।জেনারেল সাবজেক্ট গুলোর পরীক্ষা চলাকালীন মেয়াটা কখনো আমার সাথে কথা বলেনি। আমিও আর নিজেকে ওর কাছে ছোট করতে যাইনি।

 

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা দিন লক্ষ্য করলাম প্রশ্ন বেশ কঠিন। পরীক্ষার হলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একপ্রকার হাহাকার চলছে। নিজের প্রশ্ন দেখে বুঝলাম প্রায় প্রশ্ন কমন এসেছে। খাতার দিকে মনোযোগ দিয়ে লিখা শুরু করলাম। এমন সময় পাশে বসা সুন্দরী ক্যাটরিনা কাইফ বলে উঠলেন এইযে ভাই “এক নাম্বার প্রশ্নটা কি আপনার কমন এসেছে? “।
‎এইবার এসেছে আমার সুযোগ। শুনেও না শুনবার ভান করে রইলাম। সুন্দরী আবার আমাকে একই প্রশ্ন করলেন। আমিও আবার না শুনবার ভান ধরে নিজের উত্তর পত্রতে লিখে যাচ্ছিলাম।

আশেপাশে ছেলেমেয়েদের সাথে সুন্দরীর ফিসফিসানি ও কলম কামড়ানোর ধরণ দেখে বুঝে গেলাম ক্যাটরিনা আপুর কমন আসেনি। মনে মনে আমি হানি সিং ও দিপিকা পাড়ুকোনের সাথে “লুঙ্গী ড্যান্স” দিচ্ছি। ভাবছি উচিৎ শিক্ষা হয়েছে ওর। আজ কোথায় যাবে তোমার অহংকার।

অর্ধেক প্রশ্ন লিখা শেষ। এমন সময় সুন্দরী দেখি কলম দিয়ে আমাকে গুঁতা মারে। এমনেই আমার ছোটবেলা থেকে প্রচণ্ড কাতুকুতু। ক্যাটরিনার কলমের গুঁতায় এক্কেবারে লাফিয়ে উঠলাম। আশেপাশে ছেলেমেয়ে আমার বাঁদরের মতন লাফ দেখে হেসে একাকার। মুখে প্রচণ্ড বিরক্তি এনে ক্যাটরিনা আপুকে জিজ্ঞাস করলাম কি হয়েছে।
ক্যাটরিনা আপু কাঁদোকাঁদো হয়ে উত্তর দিলো “উনার নাকি কোনো প্রশ্ন কমন নাই”। আমি যদি তাকে সাহায্য না করি তাহলে নিশ্চিত ফেল। এইবার আমার মনের মধ্যে বেজে উঠলো গুরু মাইকেল জ্যাকসনের “বিট ইট” গানটা। কিন্তু গুরুজন বলেছেন মেয়েদের প্রতি দয়া দেখানো আর নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।

আমি ক্যাটরিনা আপুকে সাহায্য করার জন্য রাজি হলাম।ক্যাটরিনা আপু শুনে তো মহাখুশি। কিন্তু উনাকে একটা শর্ত দিলাম। প্রত্যেকটা নাম্বার দেখানোর জন্য উনাকে দশ টাকা করে দিতে হবে। অর্থাৎ দশ নাম্বার মার্কের জন্য উনাকে দিতে হবে একশো টাকা।
মেয়ে আমার কথা শুনে পুরাই টাস্কি। এই ছেলে বলে কি! আমি বলে দিলাম, আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে জানাবেন।

ক্যাটরিনা আপু অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আমার হাতে একশো টাকা তুলে দিলেন। আমিও নির্লজ্জ ভাবে সেই টাকা হাত পেতে নিলাম। মাসে মাসে যদি হাজার টাকা প্রাইভেট টিউটর কে দিতে পারে।তাহলে এক পরীক্ষায় কিছু টাকা খরচ করলে কোনো কিচ্ছু হবেনা এইসব ক্যাটরিনা আপুদের।

এইভাবে সম্পূর্ণ পরীক্ষায় ক্যাটরিনা আপুকে উত্তরপত্র দেখিয়ে যাচ্ছি আর আস্তে আস্তে নিজের পকেট ভারি করছি। মনে মনে যে কি পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছিলাম।

পরীক্ষা শেষ হলে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বাইরে এসে বন্ধুদের সাথে কথা বলছি। এমন সময় দেখি ক্যাটরিনা আপুও বের হয়েছে। এগিয়ে গেলাম ক্যাটরিনা আপুর দিকে। পকেট থেকে টাকা গুলো বের করে উনার হাতে দিয়ে বললাম। পরীক্ষার হলে পাশের সীটে বসা কোনো ছেলে কথা বলতে চাওয়া মানে খারাপ কিছু না। সে দেখতে খারাপ হতে পারে তার কাপড়চোপড় দেখতে সুন্দর না হতে পারে। কিন্তু “প্লিজ, ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কাভার!”

ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কাভার

রিফাত আহমেদ

লিখা: ৫ এপ্রিল ২০১৮

ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ 

যদি বউয়ের সাথে প্রচন্ড ঝগড়া করার পরেও সে বাপের বাড়িতে না গিয়ে আপনার জন্য রান্না ঘরে গিয়ে রান্না করে। তাহলে বুঝবেন আপনার বউ আপনাকে প্রচন্ডরকম ভালবাসে।

হতে পারে সেই রান্নায় আজ ঝাল বেশি হয়েছে।আপনি মুখে দিতে পারছেন না। প্রচন্ড রাগ হচ্ছে বউয়ের উপর। আরে বোকা ওই ঝালটাই আপনার বউয়ের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

হতে পারে সেই রান্নার একদম লবন হয়নি। খেতেই পারছেন না। সেটাও ধরে নিতে হবে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

হতে পারে সেই রান্না খেয়ে আপনার পেট খ্রাপ হয়েছে। দুই মিনিট পরপর আপনাকে বাথরুম যেতে হচ্ছে আর এটা দেখে আপনার বউ মুচকি মুচকি হাসছে। সেটাও তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

ঝগড়ার পর আপনার বউ আলাদা ঘরে শুয়েছে। আপনি রাতের বেলা চুপিচুপি তার ঘরে গিয়ে উপস্থিত হলেন। তারপর তার ঠোঁটে ঠোঁট রাখতেই মাথার হাতুড়ি দিয়ে টিং করে একটা বারী খেয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে রইলেন। চোখ খুলে দেখলেন আপনি হাসপাতালে আর আপনার স্ত্রী আপনার পাশে বসে। আর আপনার মাথায় ব্যান্ডেজ করা। সে আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। সেটাও তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

তারপর ধরুন সুন্দরী একটা নার্স আপনার রুমে ঢুকলো। আপনার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তাকে। কিন্তু আপনার বউ আপনার চোখ আড়াল করে রেখেছে। নার্সকে একটুও দেখতে দিচ্ছে না। সেটাও তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

তারপর মনে করেন বউ নাই। এই সুযোগে আপনি নার্সকে একটু দেখার চেষ্টা করলেন আর ঠিক তখনি আপনার বউ এসে হাজির। আপনি সাথেসাথে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। আর আপনার বউ চেয়ার তুলে আবার আপনার মাথায় বারী দিলো। আবার আপনি জ্ঞান হারালেন। তারপর চোখ খুলে দেখলেন আপনি শুয়ে আছেন আপনার বাড়িতে। চোখ ছাড়া সমস্ত মুখে ব্যান্ডেজ করা। আপনার বউ আবার আপনার সামনে বসে আছে একটা খুন্তি নিয়ে। আপনার চোখ খুলা দেখতেই সে বলে উঠলো,

“আবার যদি কোনো মেয়ের দিকে চোখ দিয়েছ তাহলে এই খুন্তি দিয়ে তোমার চোখ দুটো তুলে নিবো। তখন আর কোনো মেয়ের দিকে চোখ দিতে পারবে না। ”

এই কথা শুনে আপনার প্রচন্ড রাগ হতে পারে।

কিন্তু ভাই। এটাও তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ

রিফাত আহমেদ

হকার

হকার

রিফাত আহমেদ

লিখাঃ ১২ মে ২০১৮

প্লেনে উঠেই গার্লফ্রেন্ড বলল, “তুমি নাকি আমার জন্য সব করতে পারবা। আমি বললাম “অবশ্যই”। গার্লফ্রেন্ড বলল, ” তাহলে এই প্লেনের মধ্যে হকারি করো দেখি।”

গার্লফ্রেন্ডের কথা শুনে বেলুনের মতন গর্বে যেমন বুক ফুলে উঠেছিলাম,প্লেনে হকারির কথা শুনে ঠিক সেইভাবেই চুপসে গেলাম। জীবনে কেউ শুনেছে প্লেনে হকারি করা যায়?

গার্লফ্রেন্ডকে বললাম ” ইয়ে মানে এর থেকে কঠিন কিছু থাকলে বলো( ভাব নিয়ে)। এটা তো খুব সহজ কাজ”। গার্লফ্রেন্ড বলল ” আগে এটাই করে দেখাও। যতো সুন্দর করে করবা ততোই বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এগিয়ে আসবে। নাহলে কিন্তু অন্য কাউকে নিয়ে গিয়ে বাবার সাথে পরিচিত করিয়ে দিবো”।

সম্রাট শাহজাহান যদি প্রেমের জন্য তাজমহল বানাইতে পারে।

আমি প্রেমের জন্য হকারি করলে কি দোষ? এছাড়া গার্লফ্রেন্ড সরাসরি কলিজাতে হাত দিয়েছে।

নিজের সম্মান বাঁচাতে সীট থেকে উঠে হকারি করতে যাবো এমন সময় মনে হইলো ঢাকার বাসে যারা হকারি করে তারা নানা রকম জিনিস বিক্রি করে।

কিন্তু এই প্লেনে আমি কি বিক্রি করবো।

গার্লফ্রেন্ড কে বললাম ” ইয়ে মানে হকারি করতে তো জিনিসপাতি লাগে।

আমার কাছে তো কিছুই নেই”।

গার্লফ্রেন্ড আমার কথা শুনে ওর হাতের ব্যাগটা থেকে একটা ব্রাশের পাতা বের করে দিলো।

গুণে দেখলাম সেখানে ১২ টা ব্রাশ।

ব্রাশ গুলো হাতে নিয়ে উঠে যেই দাঁড়াতে যাবো ঠিক তখনি গার্লফ্রেন্ড বলল ” যদি ঠিকমতন হকারি না করতে পারো কি হবে বলেছি তো,মনে আছে”?

আমি হকারদের মতন হাতে ব্রাশের পাতা পেঁচিয়ে বললাম “হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে”।

কিছুটা সময় নিয়ে ভাবতে লাগলাম কিভাবে লোকাল বাসে হকাররা হকারি শুরু করে। তারপর ব্রাশ গুলো হাতে নিয়ে হকারি শুরু করে দিলাম।
” ডিয়ার ভাই ও বোনেরা,

আপনাদের কি দাঁতের সমস্যা? ঠিকমতন দাঁত ব্রাশ করেন না বলে দাঁতে ময়লা জমে গেছে?

দাঁতের গোড়ায় পোকা হয়ে দিন দিন দাঁত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? মুখের দুর্গন্ধে চারপাশের মানুষের সাঠে ঠিকমতন কথা বলতে পারছেন না? তাহলে এক্ষুনী সংগ্রহ করুন বাংলাদেশের নাভানা কোম্পানির এই মূল্যবান ব্রাশ। সকালবিকাল দুবার এই ব্রাশ করে দাঁগ মাজলে আপনার দাঁত হবে চকচকে ফকফকে”। তারপর ব্রাশের পাতা থেকে একটা ব্রাশ বের করে হাত উঁচু করে সবাইকে দেখিয়ে বললাম “দাম মাত্র দশ টাকা দশ টাকা”। প্লেনের মানুষজন আমার দিকে এলিয়েন দেখার মতন করে তাকিয়ে আছে।

গার্লফ্রেন্ডের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। গার্লফ্রেন্ডের ভয়ে আবার বলা শুরু করলাম। “আমার দাদা ছিলেন বিখ্যাত হকার কালু শেখ, তিনি সারাজীবন ট্রেনে হকারি করেছেন। তারপর তার ছেলে লাল শেখ ছিল আমার বাবা।উনি সারাজীবন বাসে হকারি করছে। আমি লাল শেখের ছেলে ধলা শেখ তাই প্লেনে হকারি করি।”

দেখি পিছন থেকে একটা বয়স্ক মহিলা আমাকে ডাকছে। কাছে যাবার সাথে সাথে উনি আমাকে দশ টাকা দিয়ে হাতের ব্রাশ টা নিয়ে নিলো।

তারপর এক বয়স্ক সাদা লোক আমাকে ডাকলো। উনার কাছে এগিয়ে যেতেই উনি বলল ” হ্যালো মিঃ ধলা শেইখ ( ইংরেজরা বাংলা উচ্চারণ করলে যেমন হয়)। আমি বললাম ” ইয়েস স্যার”। উনি বললেন ” টোমার আইডিয়া আমার খুব পছন্দ হইয়াছে। টুমি একমাত্র হকার যে প্লেন হকারি সূচনা করিয়াছ। যদি নোবেল কমিটি এইরকম মানব সেবায় নোবেল দিতো। টাহলে আমি টোমার নামে ওদের কাচে সুপারিশ করতাম “। আমি খুশিতে বললাম ” থ্যাংকইউ স্যার”। তারপর উনি বললেন ” আমাখে দুইটা নাভানা কোম্পানির ব্রাশ দেও”। সাথে সাথে ব্রাশের পাতা থেকে দুইটা ব্রাশ খুলে উনার হাতে দিয়ে দিলাম।

এরমধ্যে দেখি দুইজন এয়ার হোস্টেজ আমার দিকে দৌড়ে আসছে। ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেলো। আল্লাহ! আজ নিশ্চিত ওরা আমাকে প্লেন থেকে নিচে ফেলে দিবে। ঠিক তখনি হঠাৎ করে আমার গার্লফ্রেন্ড এগিয়ে এসে ছোট বাচ্চার মতন করে আমাকে বলল ” লক্ষী সোনা এমন করে না, চলো চলো সীটে বসো। মানুষ খারাপ বলবে বাবু”। গার্লফ্রেন্ডের এতো সুন্দর ব্যবহার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কিন্তু সেই অবাক আর বেশিক্ষণ থাকলো না যখন সে প্লেনের সবাইকে উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে বলল ” আপনারা সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার স্বামী একজন মানসিক রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওকে আমেরিকা নিয়ে যাচ্ছি”।

এবার দেখি প্লেনের সবাই আমার দিকে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এয়ার হোস্টেজ গুলার মুখ ও দেখার মতন ছিল। একজন এয়ার হোস্টেজ এগিয়ে এসে আমার হাতে একটা ললিপপ দিয়ে বলল, “এটা খাও, অনেক মিষ্টি।”

তারপর প্লেনে আমার আর কোনো সমস্যা হয়নি। গার্লফ্রেন্ড ও খুশি আমিও খুশি।

কিন্তু বাংলাদেশে ফিরবার পর এয়ারপোর্টে বিশাল ভিড় দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। পাশের একজন কে বললাম ভাই এতো ভিড় কিসের? লোকটি বলল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে তাই এতো ভিড়। আমি নিজের মতন একা একা হেঁটে যেইনা এয়ারপোর্ট থেকে বের হচ্ছি। দেখি সবার হাতে আমার ছবি। কেউ কেউ আমার ছবিতে মালা দিয়েছে। কেউ কেউ আমার ছবির নিচে লেখেছে দেশের গর্ব, জাতীর গর্ব মিঃ ধলা হকার। চোরের মতন এয়ারপোর্ট থেকে পালিয়ে বাসায় এসে শুনি কোন হারামজাদা যেন আমার প্লেনে হকারির ভিডিও নেটে ছেড়ে দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের হকাররা আমাকে স্বাগতম জানাতে এয়ারপোর্ট গিয়েছিল।

 

এমন একটা জিনিস বলো যেটা গরুর চারটে আর তোমার দুটো আছে!!!

ছেলে:হাই বাবু!!!

😘😘😘😘
কি করছো???

মেয়ে:এই ডিনার করলাম সোনা…
তুমি কি করছো???

আমি ভাবছি!!

🤔
কি ভাবছো???

আমার বাবুর কথা ভাবছি!!
😜😜😜😜

বাবু আমার খুব ঘুম পাচ্ছে…কাল কথা বলি????

😡😡😡

কি হলো??

এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাবে???

কি করবো নাহলে???

একটা গেইম খেলি চলো??

কি গেইম??
😟😟😟😟😟

আমি তোমাকে কিছু প্রশ্ন করবো….তুমি আমাকে তার সঠিক উওর দেবে!!.
😉😉😉

আচ্ছা ঠিকাছে!!!

তাহলে আমি প্রশ্ন করি???

ওকে…

এমন একটা জিনিস বলো যেটা গরুর চারটে আর তোমার দুটো আছে!!!

😡😡😡
এটা আবার কি প্রশ্ন???

কি হলো?

আমি এসব বাজে কথার উওর দিতে পারবো না!!!

আমি তো পা-এর কথা বললাম!!!
😜😜😜😜

🙃🙃🙃🙃
আমি তো ভুল ভাবলাম !!!

বাবু তুমিও কি ভাবো এসব!???

পরের প্রশ্ন করো!!

বলোতো!!!
ছেলেদের প্যান্টে আছে কিন্তু মেয়েদের প্যান্টে নেই!!!কি হবে এটা???

এটাতো সোজা!!
এটা চেইন হবে!!

হয়নি বাবু!!😝😝😝
আমি তো পকেটের কথা বললাম!!
ছেলেদের সব প্যান্টে পকেট থাকে,,,,,,মেয়েদের সব প্যান্টে থাকে না!!!

ওওওওও….
পরের প্রশ্ন__

বলো দেখি ছেলেদের কোন অঙ্গ সামনে উপস্থিত জিনিস দেখে আকার বদলায়???

ছি!!!
এটা কি প্রশ্ন আবার???

আমি তো রেটিনার কথা বললাম!!!
তুমি সবসময় বাজে কথাটাই আগে ভাবো!!
.😜😜😜😜

কিন্তু রেটিনা তো সবার থাকে!!
তুমি তো শুধু ছেলে বললে!!

ছেলেদেরও তো থাকে।।
আজ সত্যি মজা হলো খুব খেলাটা খেলে!

হুম্!!!
কিন্তু আমার সত্যি খুব ঘুম পাচ্ছে…
😵😵😵😵😵😵

ওকে…
গুড্ নাইট বাবু…
লাভ ইউ

লাভ ইউ টু সোনা!!!
😘😘😘😘
বাই!!!

.
বাই….

বিয়ের আগে আমি পারবো না এসব করতে।।

ছেলে:হাই🖐🏻

অনলাইন থেকেও ম্যাসেজ করো না এখন।।😔😔

মেয়ে:সেটাই কি উচিৎ না??

মানে??

তুমি আমার সাথে কাল যা করেছো তারপরেও তোমার সাথে কথা বলা যায়??
তোমার কি মনে হয়??

তুমি তো কাল কথা না বলেই চলে গেলে তোর্সা??

তোমার সাথে আর কোনো কথা বলার ইচ্ছে নেই আমার!!!
😖😖😖😖😖😖😖
আমকে মিথ্যে বলেছো নিয়ে গেছিলে????

প্লিজ তোর্সা আমার কথাটা একবার শোনো।।।
😟😟😟😟

কি বলবে আর তুমি রাতুল??

তোমাকে খুব ভালোবাসি তোর্সা।।
তাই তোমার কাছে আসতে চেয়েছিলাম,,এখানে কি ভুল করেছি আমি??
😰😰😰😰

বিয়ের আগে আমি পারবো না এসব করতে।।

আমি তোমাকে ভালোবাসি।।
কিন্তু তুমি আমাকে কি ভাবো???
আমি তোমার শরীর পাওয়ার তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো???
😢😢😢😢

সেটা নয়!!
আমি এখুনি এসবের জন্য তৈরী নই।।।
😶😶😶😶

প্লিজ্ তোর্সা!!
আমাকে বিশ্বাস করে একবার চলো আমার সাথে।।

😔😔
আমাকে মাফ করো রাতুল।।
আমি পারবো না।।.

ভালোবাসো না আামাকে??

😨😨😨
না না সেটা নয়।।

তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমার সাথে থাাকবো সারাজীবন।।
তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।।
একবার আমাকে সুযোগ দাও।।🙏

ঠিকাছে!!
আমি রাজি রাতুল।।

😚😚😚😚
লাভ ইউ সোনা।।

হুম্!!
আমি পরে কথা বলবো।।

কেনো??
তুমি রাগ করেছো??

না না!
সেরকম কিচ্ছু না।।
আমার কাজ আছে,,,

ও!!!
তাহলে কালকেই তুমি আমার কাছে আসবে তাইতো??
😥😥😥

হুম্!!
যাবো।।
😒😒😒

😗😗😚😚😚
থ্যাঙ্ক ইউ তোর্সা।।

Okkk!!
Bye!!😐😐😐

বাই।।
😘😘😘

2 মাস পর……….

মেয়ে:রাতুল।।
😭😭😭😭

কি হলো তোর্সা??
কাঁদছো কেনো??

😭😭😭😭😭

😖😖😖😖😖
কিছু জিঞ্জেস করলাম তো??
কি হয়েছে তোমার সোনা??

রাতুল আমি প্রেগনেন্ট।।
😭😭😭

কি??
তুমি নিশ্চিত??

হ্যাঁ।।
আমি পরীক্ষা করিয়েছি রাতুল।।
কি করবো আমি এখন??

শান্ত হও সোনা।।
আমি আছি তো!!
😗😗😗

তাহলে আমরা বিয়ে করি চলো।।
🙏🙏🙏🙏

কি বলছো তোর্সা???
আমার এখনও চাকরি হয়নি।।
কি করে বাড়িতে বলবো বিয়ের কথা???

তাহলে কি করবো??
আমার মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।।
😭😭

এসব বলো না,,,একটু বোঝো।।

কি করবো তাহলে বলো??
আমি যখন বারন করেছিলাম তখন আমার কথা শোনোনি।।
আজ তাহলে এইদিন দেখতে হতো না।।

তুমি কালই আমার সাথে হসপিটাল-এ গিয়ে অ্যাবোর্শান করাবে।।

😡😡😡😡😡
আমাদের সম্তান কে খুন করবে তুমি??

বোকা বোকা কথা বলো না।।

তুমি মানুষ??
এইটাতো তোমারও বাচ্ছা!!
😶😶😶

তুমি আমার সাথে যখন শুয়েছো,,,তখন আরও অনেকের সাথেই শুয়েছো নিশ্চয়ই!!
😡😡😡😡

তুমি আমাকে এতো অপমান করছো কিভাবে??
তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই না???

ভালোবাসি তাই তোমার গর্ভে আমার সন্তান আছে কিনা সেটা না জেনেও অ্যাবোর্শান করাবো বলেছিলাম।।

তুমি থামো।।
আমি অ্যাবোর্শান করাবো না।।
স্বার্থপর ছেলে একটা….

তোমার যা মনে হয় করো।।
আমাকে তোমার মুখ আর দেখাবে না!!!
তোমার নোংরা মুখটা আমাকে আর দেখিও না।।

ছিঃ!!
আমি ভুল একজন কে ভালোবেসেছিলাম।।

ব্লক…………

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

লেখিকা : নীল পরী

নিলীমা আর তন্নয় একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তন্নয় নিলীমাকে প্রথম প্রপোজ করে কিন্তু নিলীমা রাজি হয়নি। তখন তন্নয়কে নিলীমা খুব অবহেলা করত।নিলীমা আর তন্নয়ের ২বছর আগের কথা। ২ বছর আগে ও নিলীমা তন্নয়কে এতটা ভালোবাসেনি । তন্নয় নিলীমার কাছে গেলেই বিরক্তি বোধ করতো। একদিন তন্নয় নিলীমা কে বলল….

তন্নয় : হাই……

নিলীমা : (কিছু বলে না)
তন্নয় : কি হলো তোমাকে বলছি শুনতে পাচ্ছো….????
নিলীমা : কি এমন চেচাছেন কেনো..?? আপনার ইচ্ছা হইছে আপনি বলছেন আমি কি আপনাকে আমার সাথে কথা বলতে বলছি।
তন্নয় : হুমমম তা বল নাই,, তাই বলে কি কথা বলা যায় না।
নিলীমা : (চুপ করে চলে গেলো কিছু না বলে)
এমন অবহেলা, বিরক্তি, আর তন্নয়ের ভালোবাসায় দিন চলতর থাকে।যত বার তন্নয় নিলীমার কাছে যায় ততবারই নিলীমা তন্নয়কে অপমান করে। এমন করে চলে গেলো অনেকটা দিন। কিন্তু নিলীমা সেই তন্নয় কে অপমানই করে। এমন করতে করতে কখন যে নিলীমা তন্নয়ের প্রেমে পরে গেছে নিলীমা বুঝতেই পারেনি। নালীমা এখন তন্নয়কে অপমান করলে তার নিজেরই খারাপ লাগে, বাসা বার বার তন্নয়ের কথা ভাবে। হঠ্যাৎ তন্নয়কে সে দেখে না। তন্নয় আর আসে না নিলীমার কাছে। নিলীমা খুব চিন্তায় পরে যায় যে তন্নয় কেনো আসে না। তবে কি আর আসবে না। যদি না ই আসবে তাহলে কেনো বুকের ভিতর ভালোবাসাে সৃ্ষ্টি করলো। নিলীমা এখন খুব কাদে তন্নয়ের জন্য, অপেক্ষা করে কিন্তু তন্নয় আসে না। নিলীমা তন্নয়ের বন্ধুদের কাছে খবর পেলো যে তন্নয়ের খুব জ্বর কয়দিন ধরে। তন্নয়ের বন্ধুরা তখন নিলীমাকে খুব বকা বকি করে কেনো তন্নয়ের খবর চাও, এখন তন্নয়কে অপমান করতে পারো না বলে..??? তখন নিলীমা কান্না করেদেয় আর বলে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি,, আর এটা ও বুঝেছি যে আমি তন্নয়কে খুব ভালোবেসে ফেলেছি, তন্নয় যে আমার অমূল্য রতন। তখন তন্নয়ের বন্ধুরা খুসিতে চিতকার দিয়ে উঠে আর বলে ভাবি এখন কান্না থামান। তন্নয়ের জ্বর কমলে আমরা তাকে বলে দিব সব ঠিক হয়ে যাবে। তন্নয়ের জ্বরের কথা শুনে তন্নয়কে দেখতে খালা আর খালাতো বোন আসে। তন্নয় এখন আগের থেকে একটু সুস্থ্য বলে খালাতো বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। আর তা নিলীমা দেখে। তন্নয়ের পাশে মেয়ে দেখে নিলীমার রাগ হয় আর তন্নয়ের কাছে গিয়ে বলে……

নিলীমা : এটা কি হচ্ছে..???

তন্নয় : কি হচ্ছে আর কি হচ্ছে…!!!
নিলীমা : কি হট্ছে হুমমম মেয়েটা কে..??
তন্নয় : কেনো তা বলতে হবে নাকি….?
নিলীমা : হে বলতে হবে। মেয়ে নিয়ে ঘুরা হয় বুঝি…??? তোমার না জ্বর..???
তন্নয় : যদি বলি এটা আমার বউ তা হলে কি করবে। আর আমার জ্বর তুমি কি করে জানলে…???
নিলীমা : (কান্না করে) এটা তোমার বউ তুমি বিয়ে করলে কবে…???
তন্নয়: তা কি তোমায় বলতে হবে..???
নিলীমা : বলো না তন্নয় মেয়েটা কে..??? আমার খুব খারাপ লাগছে…।
তন্নয় : ও আমার খালাতো বোন তন্নিমা।
নিলীমা : তন্নিমা

তন্নয় : হুমম কেনো।

নিলীমা : তোমার নাম তন্নয় আর অর নাম তন্নিমা মিলিয়ে।
তন্নয় : হুমমম ভাই বোনের নাম কি এক হয় না।
নিলীমা 🙁 হাসি দিয়ে) হে হয়। আমি তো তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে তোমার খোজ নিয়ে ছিলাম, জানতে পারলাম তোমার জ্বর।
তন্নয় : কেনো খুজ নিয়েছ তুমি আমার..?? কে হই আমি তোমার…? নাকি অপমান করতে পারছো না বলে…??
নিলীমা : (তন্নয়কে জরিয়ে ধরে) Sorry তন্নয় আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর আমি যে তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি তন্নয়, আর তুমি বললে তুমি কে আমার,,… তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন।তুমি যে আমার জীবনের আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।
তন্নয় : সত্যি বলছ নিলীমা..???
নিলীমা : হে তন্নয়….. I Love You 😍
তন্নয় : নিলীমা I Love You Too 😍
নিলীমা : আমাকে ছেড়ে যাবে না তো..
তন্নয় : না কখনো যাবো না… তোমাকে আমার এই বুকে রাখবো আমি ও যাবো না তোমাকে ও কখনো যেতে দিবো না.

নিলীমা : হুমমম যাবো না।

এমন করে চলে গেলো কিছু সময়। তন্নয়ের খালাতো বোন বলে আরে ভাইয়া আমি লজ্জা পাচ্ছি কিন্তু। তন্নয় বলে তো কি হয়েছে। আমি একটু প্রেম করছি আমার পাগলিটার সাথে। নিলীমা বলে হুমমম ঠিকইতো।
তন্নয় আর নিলীমা এখন দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে। একে অপরকে ছাড়া থাকতেই পারে না। ওদের বিয়ে হয়েছে। অরা খুব খুশি। নিলীমা প্রেগনেন্ট অরা মা বাবা হবে খুব খুশি অনেক স্বপ্ন। তার পর পার হয়ে গেল কয়টি মাস….নিলীমার জমজ দুটি বাঁচ্চা হয় একটি ছেলে একটি মেয়ে। মেয়ের নাম রাখে তন্নয়ের সাথে মিল করে তন্নি আর ছেলের নাম রাখে নিলীমার সাথে মিল করে নিলয়। অদের হাসি খুশিতে দিন কাটে খুব খুশি অরা। আজ তন্নয়ের জন্ম দিন। নিলীমা অনেক আয়োজন করেছে,,, আর সবাইর সামনে তন্নয়কে একটি কিস করে বলে তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন,,, তন্নয় ও বলে তুমি আমার অমূল্য রতন। তার পর জরিয়ে ধরে একে অপরকে।

সমাপ্ত

(প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগলো লাইক, কমেন্টস করে জানাবেন সবাই।

গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।)

প্রেমেরপরশ  পার্ট_31 ( লাস্ট পার্ট)

প্রেমেরপরশ 

পার্ট_31 ( লাস্ট পার্ট)

জামিয়া_পারভীন

__ “ নাহহ!  হটাৎ করে লোকটা হারিয়ে গেলো ই বা কোথায়।  ” রিমি ওর ভাইকে বলে।

শুভ তখন বলে,

__ “ চিন্তা করিস না,  কালপিট কে একদিন না একদিন খুঁজে পাবোই। যারা কিনা আমার নিরুকে এতিম করেছিলো,  যারা নিরুর বোন কে নষ্ট করেছে,  যে কিনা আমার একমাত্র বোনকে নিয়ে গেমস খেলেছে।  তাকে আমি সহজে ছেড়ে দিবো না।  একদিন সময় আসবেই।  আর সেদিন সব শত্রু কে জীবন থেকে সরিয়ে দিবো।  ”

__ “ চলো ভাইয়া,  ভাবী বাসায় একাই আছে।  ”

শুভরা চলে আসে বাসাতে।  দেখতে দেখতে এক মাস কেটে যায়।  শুভর একার পক্ষে এতো বড় বিজনেস সামলানো খুব কঠিন হয়ে গিয়েছে।  সারাক্ষণ অফিসে,  একেক সময় একেক অফিসে যাওয়া,  আর বাসায় বসে ল্যাপটপ এ অফিসের কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে শুভ।  আজকাল নিরুকে বা শায়ান কেও তেমন সময় দিতে পারেনা শুভ।

সেদিন রাতে ঘরে গিয়ে শায়ানের পাশে বসে,

__ “ পাপ্পা টা কেমন আছে,  আই এম সো সরি পাপ্পা,  তোমার আব্বু টা খুব পঁচা।  তোমাকে একদম ই সময় দিতে পারে না। ”

শায়ান বাবার গলা পেয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে হাসে আর শব্দ করে।  নিরু পিছন থেকে শুভ কে জড়িয়ে ধরে,  অনেক দিন পর নিরুর স্পর্শে শুভ কেঁপে ওঠে।  নিরুর দিকে তাকিয়ে দেখে,  নিরু কালো শাড়ির সাথে পিংক কালারের পাড়ের  সিল্কের শাড়ি পড়েছে।  চোখে কাজল দিয়েছে গাড় করে।  চুল গুলো বুকের বাঁ পাশে ছেড়ে রেখেছে।  গলায় কিছুই দেয়নি কিন্তু কানে পিংক কালারের দুল দিয়েছে।  পায়ে নুপুর পড়েছে নিরু এই প্রথম।

নিরুর দিকে তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে দেখে কিছুক্ষণ।  এরপর নিরু বলে,

__ “ বেবি হবার পর তুমি তো আমায় ভুলেই গেছো।  নাকি আগের মতো ভালোবাসোনা আমায় আর।  ”

__ “ বউটা মনে হচ্ছে অনেক অভিমান করেছে আমার উপর।  ” নিরুর কোমরে হাত দিয়ে নিজের কাছে টেনে নেয় শুভ।  এরপর আবার বলে,

__ “ সামনে তুমি এইচএসসি পরীক্ষা দিবে, রিমিও পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।  তাই তোমাকে ও সুযোগ দিয়েছি।  এতোদিন তো এতো মানসিক টেনশন এ পড়াশোনা কিছুই করোনি।  তাছাড়া সাগর ভাই নেই।  এতো বড় বিজনেস আমাদের সাথে তোমার পারিবারিক বিজনেস সব একা সামলাতে হচ্ছে।  এতো কিছু মেইনটেইন করে সত্যিই আমি আমার পরিবার কে সময় দিতে পারিনি।  আমি জানি তুমি মনে মনে খুব কষ্ট পাচ্ছো।  মাফ করে দেয়া যায়না তোমার হাজবেন্ড টা কে। ” শুভ নিরুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে।।

__ “ জানো!  খুব একা লাগে নিজেকে।  তুমি সব সময় ব্যস্ত থাকো। আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয়? ”

__ “ কি কাজ বলো? ”

__ “ এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে রিমির জন্য একটা পাত্র দেখলে কেমন হয়। ”

__ “ আগে তো শেষ হোক,  এরপর না হয় দেখা যাবে।  ”

নিরুকে জড়িয়ে ধরে আরোও শক্ত করে।  এরপর শুভ বলে,

__ “ এখন না হয় তোমার সাথে একটু রোমান্স করি। ” বলেই নিরুর গলাতে মুখ গুঁজে দেয় শুভ।  ওরা ভাসুক ওদের ভালোবাসার রাজ্যে।

৫ মাস পর,

শুভদের বাসার ভিতর  সাজানো হয়েছে ফুলে ফুলে।  বাইরে দিকে রঙ বেরঙের লাইটিং।   অনেক মেহমান কে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।  আজ রিমির গায়ে হলুদ।  রিমি কে হলুদ শাড়ি আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে।  নিরু রিমিকে কানে কানে বলে,

__ “ একেবারে হলুদ পরী লাগছে তোমাকে ননদিনী।  ” বলে নিরুর চোখ থেকে একটু কাজল নিয়ে রিমির গলাতে দিয়ে দেয়।

__ “ ভাবী এই বিয়েটা করতে ইচ্ছে করছে না।  কোন ভাবে কি নিষেধ করা যায় না। ”

__ “ তোমার কি অন্য কোন পছন্দ আছে রিমি! ”

__ “ তুমি তো জানোই যাকে একবার ভালোবেসে ফেলা যায়,  সে যতই খারাপ হোক না কেনো ভুলে থাকা খুব কষ্টের।  আমি কেনো জানি অন্য কাউকেই মেনে নিতে পারছিনা।  ”

__ “ যাই করো,  ভুল বুঝোনা আমায়,  কষ্ট হলেও বিয়েটা করেই নাও।  কারণ জীবনে সুখী হতে হবে রিমি।  একা একা শুধুই কষ্ট ই পাবে।  কাউকে জীবন সাথী হিসেবে পেলে আরোও ভালো লাগবে দেখিও।  অতীত ভুলিয়ে দিবে তোমার বর। ”

__ “ হুমম”

সবার হৈচৈ শুরু হয়ে যায়,  একে একে সবাই রিমির গায়ে হলুদ দেয়,  মিষ্টি খাওয়ায় রিমিকে।  সবার খাওয়ানো হয়ে গেলে সাগর শুভকে ভিডিও কল দেয়।  সেখানে রিমি আর সাগর দুজনেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।  নিরুর কাঁধে মাথা দিয়ে রিমি বসে আছে।  রাতে রিমির হাতে মেহেদী দিয়ে দেওয়া হয়।  রাত দুটো তে সবাই কফি পান করে।

মজার ছলে রিমি শুভ কে বলে,

__ “ ভাইয়া আমার বিয়ের গিফট চাই এখুনি।  ”

__ “ কি বল! ”

__ “ ভাবীর সাথে ডান্স করবে তুমি আজ।  ”

সবাই হাত তালি দিতে থাকে,  নিরুও রিমির মন রক্ষার্থে রাজি হয়ে যায়,  কিন্তু বলে,

__ “ আমি নাচবো ঠিক আছে,  যদি আমার সাথে এখানে যতো  কাপল আছে সবাই নাচে। এমনকি আব্বু আম্মু কেও নাচতে হবে ।  ”

সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়,  মেয়েকে সুখী দেখতে সবাই রাজী হয়ে যায়।

শুভ একটা গান প্লে করে, আর গানের তালে যে যেমন পারে ডান্স দেয়।

এখন তো সময় ভালোবাসার

এ দুটি হৃদয় কাছে আসার

তুমি যে একা আমিও যে একা

লাগে যে ভালো ও প্রিয় ও প্রিয়।।

পেয়েছি তোমাকে এতদিনে

যেও না সরে গো আভিমানে।

আমি তোমারই ও বুকের **।।

কী ছোয়া আমাকে দিলে তুমি

রাত দিন তোমাকে ভাবি আমি।

কেন বোঝ না প্রেমেরও পাগলামি।।

পরদিন বিয়েতে বরযাত্রী আসে, কেউ গেট আটকায় নি।  বর‍যাত্রী বেশ অবাক হয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। অন্যরা আপ্যায়ন করলো বরযাত্রী দের কে।  বরের বোন বলে,

__ “ বর তো এলো,  বউ কোথায়।  একটু দেখি তাকে।  “

রিমির ফুপাতো বোন বলে,

__ “ বউ দেখা মুখের কথা না,  দেখতে হলে শর্ত আছে।  ”

__ “ ওকে ডান,  চলো নিয়ে যাও বউয়ের কাছে।  ”

পাশের রুমে সবাই কে নিয়ে যাওয়া হয়।  সবার চক্ষু চড়কগাছ হবার দশা।  একই পোশাক একই সাজসজ্জার দুইটা মেয়ে বউ সেজে বসে আছে।

__ “আসল বউ কোনটা!” বরের ভাই জিজ্ঞেস করে।

__ “ আসল বউ কোনটা সেটা বলবেন আপনারা!  যদি আসল বউ চিনতে না পারেন তাহলে কিন্তু ১ লক্ষ টাকা আমাদের গচ্চা দিয়ে বিয়ে বসতে হবে। ” রিমির ফুপাতো বোন রোজী বলে।

__ “ আমার বউ আমি খেয়াল করলেই চিনতে পারবো। ” একটু ওভার কনফিডেন্সের সাথে বলে রিমির হবু বর।  ”

চয়ন খেয়াল করে ভালো ভাবে,

দুই টা মেয়েই লাল লেহেঙ্গা পড়ে বসে আছে,  গলা ভর্তি সেম গয়না দুজনের ই।  হাত ভর্তি সেম চুরি,  আংটি।  মেহেদীর ডিজাইন টা একটু আলাদা মনে হচ্ছে চয়নের।  কিন্তু বুঝতে পারছেনা, কারণ দুজনের মাথার উপর শাড়ি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে এমন ভাবে শুধু থুতনি দেখা যাচ্ছে।

__ “ আর পর্যবেক্ষণ করার টাইম নেই,  এখুনি বলে দিন কোনটা আপনার বউ! ” রোজী বলে,

ডান পাশের বউ টা একটা আঙুল তুলে,  এতে চয়ন ভাবে যে বউ মনে হয় তাকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য ইশারা করছে।  হুট করেই বলে দেয়,

__ “ ডান পাশের টা আমার বউ।  ”

সবাই হো হো করে হেসে উঠে,  মাথার উপর থেকে ঘোমটা সরিয়ে ফেলা হয়।  চয়ন এবার নিজেই লজ্জা পাচ্ছে।  শুভ পাশ থেকে এসে বলে,

__ “ ভায়া ডান পাশের টা আমার বউ,  বাম দিকের টা তোমার। হাহাহা ”

নিরু আর রিমি দুজনে ই মুচকি হাসে,  অতঃপর চয়নের কাছে এক লক্ষ টাকা আদায় করে ছাড়ে রিমির ভাই বোনেরা।

ভালো ভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে,  রিমি কে নিয়ে যাওয়া হয় শ্বশুর বাড়ি।

দুইদিন পর রিমির শ্বশুর বাড়ি তে অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। নিরু শুভ সহ অনেক আত্মীয় আসে রিমি আর চয়ন কে নিয়ে যেতে।

রিমি চেয়ারে বসে আছে,  নীল রঙ এর বেনারসি পড়ে। চয়ন নীল শেরওয়ানি পড়েছে।  দুজন কে বেশ মানিয়েছে।  ফটোগ্রাফার ডাকা হয়েছে,  ছবি তুলার জন্য।  রিমি কিছুক্ষণ পর উঠে গিয়ে একজনের কলার চেপে ধরে।

নতুন বউয়ের এমন কীর্তি দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়।  রিমি চিৎকার দিয়ে উঠে,

__ “ ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া! ”

সবাই দৌড়ে আসে,  নিরুও অবাক হয়ে যায়।  শুভ গিয়ে লোকটা কে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে।

চয়ন শুভ কে সরিয়ে ধরলেও রাকিবের অবস্থা মার খেয়ে কাহিল হয়ে যায়।  নাক,  মুখে রক্ত ফুটে উঠেছে।

__ “ ভাইয়া,  আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন নাকি!  ফটোগ্রাফার কে মারছেন কেনো? ”

__ “ এই লোক একটা ক্রিমিনাল,  এতোদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিলো।  আজ পেয়েছি ওকে,  আমরা কি ছেড়ে দিবো নাকি?”

বিয়ে বাড়ির সব লোকে জটলা পাকিয়ে ফেলে।

শুভ পুলিশ কে ফোন দেয়,  সবাইকে সব ঘটনা খুলে বলে।  রাকিবের মাধ্যমে ওর মা কেও ধরে ফেলে।

রাকিবের স্বীকারোক্তি  নেওয়ার সময় শুভ উপস্থিত থাকে। প্রচুর টর্চার করার পর রাকিব স্বীকার করে সব।

রাকিব বলে,

__ “ রুবিকে ভালোবেসেছিলাম সত্যিই সম্পত্তির মালিক ভেবে  কিন্তু যখন আম্মা বলে রুবির নামে কোন সম্পত্তি নেই তখন রুবিকে ত্যাগ করি। এরপর জানতে পারি সব কিছু নিরুর নামে।  ওকে ইউজ করার চেষ্টা করেও পারিনি।  কোনভাবে বেঁচে যায়।  পরে বড়লোক মেয়ে দেখে রিমির বান্ধবী কে পটিয়ে ওর নাম্বার নিয়ে ওর সাথে প্রেম করি।  পরে জানতে পারি নিরুর ননদ রিমি।  এক সাথে বড়লোক হবার স্বপ্নে আমি বিভোর হয়ে পাপের পর পাপ করতে থাকি।  ”

রাকিব এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কোর্ট এ ওর ফাঁসির আদেশ হয়ে যায়,  ওর মা খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এতো কিছু জানার পর চয়ন একটু রাগ করলেও চয়ন কে নিরু বোঝানোর পর চয়ন ভুল বুঝতে পারে।  রিমি কে মেনে নেয় চয়ন।

সাগর তুরস্কের কোন মেয়েকে যদি পছন্দ হয় তাহলে বিয়ে করবে না ইচ্ছে হলে বিয়ে করবেনা এটা সম্পুর্ণ সাগরের ইচ্ছের উপর নির্ভর করছে।

শুভ কাজের চাপ সামলাতে না পেরে রিমির অংশ টুকু রিমির নামে করিয়ে দেয়,  এতে চয়ন দেখবে বিজনেস।

শুভ এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারলো।

নিরু শায়ান কে খাওয়াচ্ছে,  এমন সময় শুভ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিরুকে,

__ “ আরে করছো টা কি?  বাবুর ক্ষিদে পেয়েছে তো। ”

__ “আমার ও খুদা পেয়েছে!  আমি কখন খাবো।  ”

__ “ হিংসুটে! ”

শায়ান কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয় নিরু,  উল্টো দিকে ঘুরে শুতেই শুভ হ্যাচকা টানে নিরু কে শুভর উপর নিয়ে নেয়।

__ “ কি মহাশয়,  এতো দিন পর কি রোমান্স উথলে উঠেছে নাকি!”

__ “ হুমম ”

শুভ নিরুর কপালে চুমু দিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

( সমাপ্ত)

#বিঃদ্রঃ জানিনা কেমন হলো ,  এটা আমার লিখা তৃতীয় উপন্যাস। আসলে আমি লিখালিখি শুরু করেছি শখের বসে। কেমন করে লিখতে হয় নিজেও জানিনা। এই লিখা শুরুর পর অনেকের কটু কথা শুনেছি।  সেগুলো উহ্য করে আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে লিখায় মন দিতাম।  লিখালিখি শুরুর পর আপনাদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।  খুব ভালো লাগতো তখন।  কিন্তু কাজের চাপে নিয়মিত ভাবে পর্ব গুলো দিতে পারিনি। তাই খুব খুব দুঃখিত।  তাছাড়া এগুলো প্রথম প্রথম লিখা তাই ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে।  সেইজন্য ক্ষমা করে দিবেন।  আর এই উপন্যাস টা কেমন হলো অবশ্যই জানাবেন।

প্রেমেরপরশ  পার্ট_30

প্রেমেরপরশ 

পার্ট_30

জামিয়া_পারভীন

ডক্টর এর কথা শুনে শুভর মাথা খারাপ হয়ে যায়,  মাথায় হাত দিয়ে কিছুক্ষণ বসে পড়ে।  এতো কেয়ার করার পরও কিভাবে বেবির ঠান্ডা লাগতে পারে শুভর মাথায় আসে না।  হটাৎ করে শুভর মাথা কাজ করে,  কাছে থাকা ল্যাপটপ অন করে।  যা দেখে শুভর রাগ আরোও বেড়ে যায়।  মানুষ খারাপ হলে যে এতো খারাপ হতে পারে শুভর তা জানা ছিলো না।

বেবির ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হয়েছে শুনে নিরু ফুঁপিয়ে কাঁদছে।  শুভ নিরুর  মাথায়  হাত দিয়ে বলে,

__ “ যা হয়েছে হয়েছে,  এখন আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেনো আমাদের বাচ্চা সুস্থ হয়ে উঠে।  ”

__ “ এমন পরিস্থিতি তে তুমি কিভাবে এতো শান্ত আছো শুভ।  ”

__ “ কারণ সন্তান আল্লাহ দিয়েছে,  বাবুর যদি কিছু হয় সেটাও হবে উনার ইচ্ছে।  আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না নিরু।  ”

শুভ ভিডিও ফুটেজ সবার সামনে ওপেন করে,  ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে,

গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে আছে,  সামিহা ওয়াশরুমে যায়।  তাও পা টিপে টিপে।  সামিহার বুক ধক করে উঠে।  সামিহা ভাবতেও পারেনি এই ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।  হার্টবিট বেড়ে গেছে সামিহার।  এরপর দেখা যাচ্ছে,  সামিহা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কেবিনে এসে বেবির বুকের উপর পানি দিয়ে দেয়।  শুভ ঘুমিয়ে থাকা তে কিছুই বুঝতে পারেনি।  এরপর খুব আস্তে আস্তে সামিহা বেবির উপর বাতাস করতে থাকে।  বাতাস যেনো শুভ বা নিরুর কাছে না যায় সেভাবেই করছে।

আর এই জন্যই সদ্যোজাত শিশুর এক রাতে বুকে ঠান্ডা জমে নিউমোনিয়া হয়ে গেল।  সাগর আর ওর বাবা মা বোন এই দৃশ্য দেখার পর সাগর সাথে সাথেই সামিহা কে মুখে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।  হসপিটালে দায়িত্ব রত মহিলা পুলিশের কাছে দিয়ে দেয় সামিহা কে।  সদ্যোজাত বাচ্চা কে মারতে চাওয়ার অপরাধে সামিহার শাস্তি হয়ে যাবে।

এদিকে শায়ান কে ডক্টর রা NICU তে দিয়ে দেয়।  সেখানে হিট দিয়ে রাখা হয়েছে বাচ্চা কে।  আর বাসার সবাই বাচ্চার জন্য পেরেশানি হয়ে হাটাহাটি করছে,  দোয়া করছে।

দুইদিন পর শায়ানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সুখবর শুনার পর নিরুর বাবা আসে মেয়ের কাছে,

__ “ আজ আমি খুব খুশি হয়েছি রে মা,  হোক তোর সৎ মা তবুও তার জ্ঞান ফিরেছে।  তোকে দেখতে চেয়েছে,  প্লিজ না করিস না আর।  ”

__ “ হ্যাঁ বাবা,  আমি যাবো,  আপুর মৃত্যুর পর আমিই তো তোমাদের সন্তান।  মা তো মা ই হয়।  আমি অবশ্যই যাবো।  ”

শুভর দিকে তাকিয়ে নিরু বলে,

__ “ আমাকে একটু উনার কাছে নিয়ে যাবে প্লিজ,  উনার কাছে অনেক কিছুই জানার আছে।  ”

__ “ হুম,  আমারও মনে অনেক প্রশ্ন আছে। ”

খুব সাবধানে নিরুকে বেড থেকে উঠিয়ে লুতফা বেগমের কেবিনে নিয়ে গেলো শুভ।  নিরু গিয়ে দেখে লুতফা বেগম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে নিরুর দিকে।  হয়তো তার চোখ দুটো নিরুকেই খুঁজছিলো এতক্ষণ।  এখন যেনো নিরুকে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে লুতফা বেগম।

নিরু পাশে গিয়ে বসতেই লুতফা বেগম বলেন,

__ “ তোর বাবা বলেছে,  আমার মেয়েটা আর বেঁচে নেই রে। তখন থেকেই তোর সাথে কথা বলার জন্য খুব ছটফট করেছি। তোকে অনেক কিছু বলার আছে।  মন দিয়ে শুনবি আর কিছুই বলবি না।  ”

__ “ হ্যাঁ আম্মু বলো,  তোমার কাছে এই কথা শুনার জন্যই এসেছি।  ”

লুতফা চোখ বন্ধ করে দুই মিনিট থাকলেন এরপর বলতে লাগলেন,

__ “ জানিস মা,  প্রত্যেক মেয়েই চাই তার হাজবেন্ড তাকে ভালোবাসুক।  স্বভাবতই আমিও চেয়েছিলাম আমার হাজবেন্ড এর কাছে ভালোবাসা।  বুঝতে পারিনি কখনো যে উনি আমার না।  উনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন কিন্তু আমাকে ঠকিয়েছেন উনি।  ”

লুতফা বেগম কাঁদছেন,  নিরু তখন বলে

__ “ হ্যাঁ আম্মু আমি জানি,  এরপর কি বলবেন বলেন। ”

লুতফা বেগম আবার বলতে লাগলেন,

__ “ যখন তোর মা কে নিয়ে উনি খুব সুখে থাকতে শুরু করেন,  আমি খুব জ্বলতাম। উনি আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা যদি নাই দিতে পারবে কেনো বিয়ে করেছিলো,  কেনোই বা আমার কাছে এসেছিলো।  এসব ভাবতাম আর কান্না করতাম সব সময়।  যখন শুনলাম তুই পৃথিবী তে আসতে চলেছিস,  আমার মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।  আর ক্ষোভে বাতাস দিতে থাকে আমার ননদ।  সে সব সময় উল্টো পাল্টা বুঝাতো আমাকে।  আমিও ওর কথাতে রাজি হয়ে যায়।  ও আমাকে বুঝায়,  তোকে আর তোর মাকে মেরে ফেলতে পারলে সব সম্পত্তি হবে আমাদের। আর তোর বাবা তো আমাকে ভালোই বাসে না।  তাই উনার জন্য কোন আক্ষেপ হতো না। ”

লুতফা বেগম একটু থামলেন,  তখন নিরু বললো,

__ “ আচ্ছা আম্মু,  বুঝলাম আব্বু তোমায় ভালোবাসে না। কিন্তু এটা কি ভেবে দেখেছিলে,  সে তোমার প্রতি দায়িত্ব বোধ করেই কিন্তু তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো।  আব্বু চাইলে তোমাকে ডিভোর্স দিতেও পারতো।  তা করেনি,  তোমাকে পরিচয় হয়তো দিতে পারেনি আমার মায়ের সামনে।  কিন্তু তোমার থাকা খাওয়া সব ব্যবস্থা ই কিন্তু করে দিয়েছিলো।  এগুলো তুমি ভাবোই নি,  শুধুমাত্র লোভে পড়ে আজ…. ”

নিরু থেমে যেতেই লুতফা বেগম বলেন,

__ “ ভুল করেছি রে মা, লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু।  এই কথা টা ভুলেই গিয়েছিলাম।  তাই আজ এই অবস্থা।  সেদিন তোর মায়ের কেবিনে আপা ঢুকে বালিশ চাপা দেয় তোর মাকে।  তোকেও হয়তো মেরে ফেলতো।  কিন্তু তোর বাবা চলে আসে,  যখন তোর মায়ের মুখ থেকে বালিশ সরাতে যায় তখন আমি ছবি তুলে নিই। পুরো কাজ দুজন মিলে করেছিলাম।  এর শাস্তি আমি পেয়েছি,  আমার মেয়েটা কে হারিয়ে। আমি জানতাম রাকিব ওর ক্ষতি করেছে,  কিন্তু কিছুই বলতে পারিনি।  নিজ মেয়ের এতো বড় ক্ষতির পরও আমি রাকিব বা ওর মায়ের সাথে মিশেছি।  কারণ লোভ ছিলো নিরু কে যেখান থেকে পারি খুঁজে বের করা।  আর হত্যা করা। এতে সব সম্পত্তি আসবে আমাদের হাতে।  লোভে লোভে এতো নিচে নেমে গিয়েছিলাম।  আমার মেয়েটাকে তোর বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিলাম।  দেখ মা আমি যতো অন্যায় করেছি তার শাস্তি পৃথিবী তে পেয়ে গেছি৷   রাকিব আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো।  জানিনা কতদিন এখানে শুয়ে আছি।  ”

খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে লুতফা বেগমের।  জ্ঞান ফিরে এই কথা গুলো বলে এক ঘন্টার মধ্যে আবার ও জ্ঞান হারান। নিরু সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে ।এখন শুধু রাকিব কে পেয়ে গেলেই হয়।  নিরু উঠে যায়,  শুভ ধরে ধরে নিয়ে আসে নিরুর কেবিনে।

কয়েকদিন হসপিটাল এ থেকে শায়ান কে পুরো পুরি সুস্থ করে বাসায় ফিরে আসে নিরু আর শুভ। বাসায় এসেই দেখে সাগর বের হচ্ছে লাগেজ নিয়ে। সাগর কে শুভ জিজ্ঞেস করে,

__ “ আমরা বাসায় আসতেই কোথায় চলে যাচ্ছিস! ”

__ “ তোরা ভালো থাকিস,  আমি তুরস্ক চলে যাচ্ছি।  সেখানে নতুন যে বিজনেস টা ওপেন করেছি সেটা হ্যান্ডেল করতে চাই।  তাছাড়া লাইফ নতুন করে আবারো শুরু করতে চাই। ”

শুভ কে জড়িয়ে ধরে সাগর কাঁদে অনেক্ষণ।  এরপর শায়ান কে কোলে নেয় সাগর।  কপালে চুমু দিয়ে নিরুর থেকে বিদায় নেয়।  রিমি  এসে সাগর কে জড়িয়ে ধরে,

__ “ ভাইয়া,  আবার কবে আসবে!  খুব মিস করবো তোমায়।  ”

__ “ পাগলী বোন আমার,  আমি ওখানে সেটেল হয়ে যাবো।  চিন্তা করিস না,  ভিডিও কলে প্রায়ই কথা বলবো।  ”

বোনের কাছে বিদায় নিয়ে বাবা মা সবাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে অনেক্ষণ।  এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।  শুভ আর রিমি এয়ারপোর্টে গিয়ে বিদায় দিতে আসে সাগর কে।

সাগর চলে যাবার পর রিমির মনে হয় রাকিবের মতো কাউকে দেখলো।  রিমি শুভ কে আস্তে করে বলে,  ফলো করতে থাকে দুজনে।

প্রেমের_পরশ পার্ট_29

প্রেমের_পরশ
পার্ট_29
জামিয়া_পারভীন

নিরুর প্রেগন্যান্সির ৯ মাস চলছে, সে শারীরিক ভাবে সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিরুকে নিয়ে শুভ বড়ই দুশ্চিন্তায় আছে। পরিবারের এই রকম অবস্থা, এর উপর নিরুর মানসিক ভেঙে পড়া শুভর মনে প্রচুর আঘাত আনছে। সিড়ি বেয়ে বারবার উঠানামা করা নিরুর জন্য কষ্ট সাধ্য বলে নিচতলায় থাকছে নিরু আর শুভ। সেইদিন সকালে নিরু মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলে শুভ ধরে নেয়।
শুভ নিরু কে জিজ্ঞেস করে,

__ “ কি হয়েছে, খারাপ লাগছে নাকি? ”
__ “ নাহহ মাথা টা এমনিতেই কেনো জানি চক্কর দিয়ে উঠলো, বেডে শুইয়ে দাও, ভালো লাগবে হয়তো। ”

নিরুকে শুইয়ে দিয়ে শুভ নিরুর জন্য স্যুপ নিয়ে আসে। মানসিক দুর্বলতা কাটতে শুভ নিরুর সাথে গল্প করে বেশি। রাজা রাণীর রুপকথার গল্প শুনায় নিরুকে। নিরু এগুলো আগে কখনো শুনেছি, এতিমখানা তে কেই বা গল্প শুনাবে। শুভর কাছে গল্প শুনে আর রুপকথার রাজ্যে ভাসে নিরু। একদিন গল্প শেষ করতেই নিরু শুভকে জিজ্ঞেস করে,

__ “ আচ্ছা শুভ আমাদের রাজকুমার এর নাম কি হবে শুনি? ”
__ “ রাজকুমার চাই না রাজকুমারী হবে, চাঁদের মতো সুন্দরী রাজকুমারী। অবশ্য তোমার থেকে অল্প কম সুন্দরী হলেও হবে। ”
__ “ কেনো, আমার রাজকুমারী হবে আমার চেয়েও সুন্দরী। আমার মেয়ে বলে কথা। ”
__ “ তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী হলে আবার তোমার আদর কমে যাবে। হাহা,, ”

নিরু রেগে কয়েকটা আস্তে করে কিল দেয় শুভর হাতে। শুভ নিরুকে জড়িয়ে নেয় আলতো করে।
,,,

বাইরে সাগর বসে ছিলো, ওর সাথে ওর বাবা মা কি নিয়ে যেনো তর্ক করছে। শুভ যেতেই থেমে যায় সবাই। শুভ গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

__ “ আমি কি আজকাল বাড়িতে নগন্য নাকি , যে আমায় দেখলে কথা বলা থেমে যায়। ”

শুভর মা আমতা আমতা করে বলে,

__ “ ন মানে! তেমন কিছুই না বাবা, ভুল বুঝিস না দয়া করে। ”
__ “ তো কি এমন কথা যে আমায় দেখে থেমে যাওয়া লাগে। ”
__ “ আসলে, বলছিলাম যে, রুবি মারা যাওয়া একমাস পার হয়ে গেলো। বাসায় আসলেই একা একা বসে থাকে, ও যদি আবার বিয়ে করে সংসার করে। মায়ের মন বলে কথা, তোরা ছেলেরা কেনো যে বুঝিস না। ”

তখন সাগর মায়ের কথার প্রতিউত্তরে বলে,

__ “ আম্মু, বিয়ে যদি করার ই হতো, আগেই করে নিতাম। আমি রুবির স্মৃতি ভুলতে চাইনা। ”
__ “ রুবি তোকে বিয়ের জন্য বলতো, কারণ ও চাইছিলো তুই বাবা হতে পারিস। এখন যদি তুই বিয়ে না করিস রুবির আত্মা শান্তি পাবেনা। ”
__ “ ওকে ফাইন, আমি বিয়ে করবো। কিন্তু রুবির সাথে স্মৃতি ঘেরা শহরে আমি থাকতে পারবোনা। বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিও তাহলে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার নিউজ যেনো ফাঁস না হয়। ”

শুভ জিজ্ঞেস করে,

__ “ মেয়েটা কে? যার সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছো! ”

শুভর আম্মু চাই সাগর সামিহা কে বিয়ে করুক, কারণ ছোট বোন আবদার করেছে বোনের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিবে। শুভ এই কথা শুনে রাগ করে চলে যায় নিজের ঘরে।

দুইদিন এর মাঝেই সাগরের সাথে সামিহার বিয়ে দিয়ে দেয় ঘরোয়া ভাবেই, আর বিয়ের দিন রাতেই নিরুর পেইন উঠে। নিরুর চিৎকারে বিয়ে বাড়ির সবাই নিরুকে নিয়ে হসপিটালে পৌঁছে। চার ঘন্টা পর নিরুর নরমাল ডেলিভারী তে ছেলে হয়। শুভ পুরো সময় টা নিরুকে পাহারা দিচ্ছে, যেনো ভুলেও কেউ নিরুর বা বেবির ক্ষতি করতে না পারে। একজন নার্স বেবি কে এনে প্রথমে শুভর কোলে দেয়, শুভ প্রথমে বেবি কে কোলে নিয়ে জোরে করে আযান দেয়। এরপর বাচ্চাকে মায়ের হাতে দিয়ে কেয়ার করতে বলে। নিরু অজ্ঞান ছিলো, তাও শুভ নিরুর পাশে গিয়ে বসে। নিরুর পেটে হাত বুলিয়ে দেয় আলতো করে । কপালে চুমু দিয়ে কেবিনের বাইরে আসে। বেবি কে শুভর আম্মু কোলে নিয়ে বসে ছিলো।

শুভ মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
__ “ আম্মু দোয়া করো, মা আর ছেলে দুজনেই যেনো ভালো থাকে। আমি যেনো আমার সন্তান কে তোমাদের মতো করে যত্ন নিয়ে বড় করতে পারি। ”
__ “ সব সময় দোয়া করি বাবা। ” শুভর মা শুভর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

সাগর সামিহা কে নিয়ে শুভর সামনে আসে। খুব নরমাল ভাবেই সাগর শুভর ছেলে কে কোলে নিয়ে কাঁদতে থাকে। এটা যদিও খুশির কান্না কিন্তু সাগরের খুব মনে পড়ছিলো রুবির কথা। সাগর শুভ কে বলেই ফেলে,

__ “ জানিস শুভ, আজ যদি রুবির এক্সিডেন্ট না হতো, তাহলে আমারও সংসার টা হয়তো ভেঙে যেতো না। ”
__ “ মন খারাপ করিস না ভাই, অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমান নিয়ে নতুন ভাবে শুরু কর। দেখ খুব সুখে থাকবি, আর তোর ও আবার সুখের সংসার হবে দেখিস। সামিহা আছে তো, ওকে নিয়ে সুখেই থাকবি তুই। ”

বেবি কে শুভর বাবা কোলে নেয়। সবার মুখেই আনন্দর ছোঁয়া কিন্তু একজন এর মুখে ভার, সেটা সামিহা!। খুব শখ ছিলো শুভর স্ত্রী হবে কিন্তু কিনা ওর মা ওকে সাগরের সাথে বিয়েতে বাধ্য করে। সামিহা ওর মায়ের কথায় বাধ্য মেয়ের মতো বিয়ে করে নেয়। শুভর ছেলেকে দেখে হিংসা হচ্ছে খুব ওর। তারপরও সবার সাথে ভালো বিহেভ করতে হচ্ছে তার।

শুভ নিরুর জ্ঞান ফেরার পর নিরুর পাশে গিয়ে বসে, নিরু বলে,
__ “ দেখেছো আমার ছেলেকে। ”

__ “ হুমম ”

__ “ তোমার মতো হয়েছে তাইনা! ”

__ “ আব্বু তো বলছে আমার মতো আর আম্মু বলছে তোমার মতো। আমি তো ভাবি আমাদের ছেলে দুজনের মতই হয়েছে। ”

নিরু তখন বলে,
__ “ এই! শোনোনা! আমাদের ছেলের নাম কি রাখবে গো? ”

__ “ চাঁদের মত সুন্দর ছেলের নাম ঠিক করবে আমার বউ, কারণ এই অধিকার তার আছে। ”
__ “ তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাইনা! আমি জানি! আমরা দুজনে ওর নাম ঠিক করবো। কারণ ও আমাদের দুজনের সন্তান। ”

__ “ শুভর শ আর নিরুর ন দিয়ে আমাদের ছেলের নাম হবে শায়ানুজ্জামান শায়ন। কেমন হবে! ”

__ “ খুব ভালো হবে, আমি শায়ান বলেই ডাকবো আজ থেকে।”

শায়ান, শায়ান আর শায়ান! নাম শুনতে শুনতে সামিহার মনে বিষ উঠে গেছে। সবাইকে শুভ মিষ্টি খাওয়াচ্ছে আর ফোন দিয়ে শায়ান নাম বলছে শুভ। সে মনে মনে ঠিক করেছিলো শুভর সাথে সংসার হবে, ছেলের নাম রাখবে স্নিগ্ধ। সব গুড়েবালি, শুভর ছেলের নাম নাকি শায়ান। এইটা আবার নাম হলো নাকি। একা একাই বিড়বিড় করতে থাকে সামিহা।

রাতে বেবিকে নার্স দের দায়িত্বে নিতে দেয়না শুভ।

বাচ্চা তার মায়ের পাশেই থাকবে, শুভ নিজেই থাকবে নিরুর কাছে। শুভর মায়ের বয়স অনেক হয়ে গিয়েছে বলে সাগর সামিহা কে থাকতে বলে। শুভ সামিহা কে পছন্দ না করলেও আর নিষেধ করতে পারেনা সবার সামনে। আর রিমি তো থাকবেই নিরুর পাশে।

শুভ নিরুর পাশে শায়ান কে শুইয়ে পাশে বসে থাকে। আর সামিহা আর রিমি পাশের বেডে শুয়ে পড়ে। রিমি ঘুমিয়ে গেলেও সামিহা জেগেই থাকে।

গভীর রাতে শুভ ও নিরু পাশে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে। পরদিন বাচ্চার কান্না তে শুভর ঘুম ভাঙে। বেবি খুব কান্নাকাটি করতে থাকে। শুভ থামানোর অনেক চেষ্টা করেও পারেনা। নার্স দের ডেকে বাচ্চা কে দিয়ে দেয়। নার্স রা বলে,

__ “ বাচ্চার ঠান্ডা লেগেছে, নিউমোনিয়া হয়ে গেছে। ”

চলবে……….