নবনী

রেস্টুরেন্টের মালিক প্রায় অপমান করেই নবনী আর জাকির কে রেস্টুরেন্ট থেকে বের করে দিলো। ওরা বের হয়ে যাবার সময় মালিক অন্যান্য কাস্টমার দেখে গলা উঁচু করেই বললো, আমার রেস্টুরেন্টে এসব চুমাচুমি, ধস্তাধস্তি চলবে না। হালাল ভাবে আমি রেস্টুরেন্ট চালাই। এসব বেহালাল কাজ আমার রেস্টুরেন্টে হবে না।

রাস্তায় বের হয়ে নবনী প্রায় কেঁদে ফেললো। কি হতে কি হয়ে গেলো নবনী কিছুই বুঝতে পারেনি। জাকির নবনীর পিছুপিছু হাঁটছে। ওকে কি বলবে সে নিজেও ভেবে পাচ্ছে না। আসলে ব্যাপারটা যে এরকম হবে সেটা ও নিজেও বুঝতে পারেনি।

আজবাদে কাল নবনীর সাথে জাকিরের বিয়ে হবে। নবনীর বাবাই এই বিয়ে ঠিক করেছে। এর আগেও ওরা দুইবার বাইরে দেখা করেছে। রেস্টুরেন্টে বসে বিভিন্ন গল্পগুজব করেছে। বিয়ের পর কি কি ভাবে সংসার সাজাবে। কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে সেসবই ছিল গল্পের মূল বিষয়।

আজকেও স্বাভাবিক ভাবেই ওরা রেস্টুরেন্টে এসে খাবার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিল। এমন সময় লোডশেডিং হয়। হঠাৎ জাকিরের মনে কি যেন হয়ে গেলো। অন্ধকারে চুপ করে নবনীর গালে চুমু খাবার সময়ই জেনারেটর চালু হয়ে গেলো। আলো জ্বলতেই সরাসরি ওদের দেখে ফেললো রেস্টুরেন্টের মালিক।

উনি এগিয়ে এসে বললেন, উঠুন আপনারা চেয়ার থেকে। এক্ষুনি আমার রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যান। রেস্টুরেন্টের অন্যান্য কাস্টমার সবাই একে অন্যের মুখ দেখাদেখি করছিল তখন। আসলে ওরাও বুঝতে পারেনি। কেন এভাবে ওদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। নবনী আর জাকির অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে।
পরিবার শিক্ষা দেয়নি নাকি? লজ্জা করেনা পাবলিক প্লেসে এসে পরপুরুষের সাথে এভাবে ঢলাঢলি করতে। মুরুব্বি মানেন না?বাড়িতে আমার নিজের ছেলে মেয়ে আছে। ওদের তো আমি কখনো এমন শিক্ষা দেইনি। কেমন বাপ মা আপনাদের? এরকম নানান কথা বলে উনি চিৎকার করে যাচ্ছেন। ততক্ষণে ওরা দুজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।

নবনী বেশ অপমানিত বোধ করছে। কথাগুলো ভেবে প্রায় কেঁদেই দিলো। এতগুলো মানুষের সামনে লোকটা অপমান করে বের করে দিলো তাদের।

জাকির বারবার ডাঁকছে কিন্তু নবনীর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছে। সে এখনো বুঝতে পারছেনা এতগুলো মানুষের মধ্য থেকে কেন তাদের এভাবে অপমান করে বের করে দেয়া হলো। ঢলাঢলির কথাটা কাকে বললেন উনি। সে তো জাকিরের থেকে দূরত্ব রেখেই বসেছিলো। জাকির দ্রুত পায়ে এগিয়ে নবনীর সামনে এসে দাঁড়ায়।

~ নবনী প্লিজ শুনো, আমি সত্যিই চুমু খেতে চাইনি। এমন কোনো ইচ্ছে আমার ছিলোনা কিন্তু তখন হঠাৎ করে কিভাবে কি হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারছিনা।

~ তাহলে চুমু খেতে গেলেন কেন? নবনী দুহাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিলো।

~ বললাম তো ভুলে। এছাড়া আজ বাদে কাল তুমি আমার স্ত্রী হতে যাচ্ছ। এভাবে ওভার রিএক্ট করার কি আছে?

~ ওভার রিএক্ট! অন্তত একবার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। আমি এটা চাই কিনা। এখনো কিন্তু আপনার স্ত্রী আমি হইনি। আর আপনার স্ত্রীকে কি আপনি রাস্তাঘাটে চুমু খেয়ে বেড়াবেন?

~ ঘরের বউ যখন । অনুমতি নেয়ার কি আছে?

একথা শুনে নবনী চুপচাপ হেঁটে চলে আসে। জাকির ডাকলেও ও আর পিঁছু ফিরে তাকায়নি। জাকির বারবার কল দিচ্ছে। নবনী কলটা কেটে মোবাইল বন্ধ করে রাখে।
বাসায় এসে চুপচাপ রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। কি হতে কি হয়ে গেলো। এরকম একটা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সে প্রস্তুত ছিলো না। তাছাড়া জাকির এরকম করবে সেটাও সে ভাবতে পারেনি। বিয়েটা পারিবারিকভাবে ঠিক হয়েছে, দুদিন পরে বিয়ে তা না হয় মানলাম। তাই বলে অন্ধকারে পেয়ে চুমু খেতে হবে? একবার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করলো না? জাকির এতটাই খারাপ। ছিঃ
.
নবনীর মনে হলো সে অন্যায় করছে নিজের সাথে। নীরবতা আর রাগ কোনো কিছুর সমাধান হতে পারেনা। নবনী জাকিরকে কল করে বিকেলে তার সাথে দেখা করতে বলে। জাকির এসেই প্রথমে নবনীর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে তার ভূলের জন্য। কিন্তু নবনী দমে যাওয়ার পাত্রী না। কোনভাবেই সে জাকিরকে আর মেনে নিবেনা। জাকিরের কথা বলার এক পর্যায়ে নবনী বলে উঠে,

~ শুনুন, আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না।

~ আজ বাদে কাল আমাদের বিয়ে। আর এখন তুমি আমার সাথে মশকরা করছো? নিজের এত বড় ক্ষতি করোনা নবনী।

~ নিজের ক্ষতি করতে চাইনা বলেই এ বিয়ে আমি করবো না। যে নারীদেরকে সম্মান দিতে জানেনা তার সাথে আমার যায় না।

~ বললাম তো আমার ভুল হয়ে গেছে। ক্ষমা করে দাও। আমরা যে সংসারটা সাজাতে চেয়েছিলাম সেটা সাজাতে দাও প্লিজ।

~ প্রথমে বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দিতে শিখুন। যাকে বিয়ে করবেন তাকে পণ্য না ভেবে মানুষ বলে ভাবুন। তারপর সংসার সাজাবেন।

কথাগুলো বলেই নবনী ফিরে আসছে। এখন অনেক হালকা লাগছে নিজেকে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। চুপচাপ এরকম অন্যায় মেনে নেয়ার মেয়ে সে না। এ অন্যায় মেনে নেয়ার কোনো কারণও নেই। নবনী জানে, তার বাবা তাকে সাপোর্ট করবে। বাবার আদর্শেই তো সে আদর্শিত।
.
বাসায় ফিরে নবনী তার বাবার কাছে গিয়ে বলে, বাবা কিছু কথা ছিলো তোমার সাথে। একটু শুনো এদিকে। নবনীর বাবা তার পাশে এসে বসে। মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, কিছু বলবি?

~ আমি জাকিরকে বিয়ে করতে পারবো না বাবা। এ বিয়ে ভেঙে দিয়েছি আমি।

~ পাড়া-পড়শী সবাই জানে আজ বাদে কাল তোর বিয়ে হবে জাকিরের সাথে। আর এখন বলছিস বিয়ে করবি না। কাউকে পছন্দ করিস?

~ না

~ তাহলে বিয়ে করবিনা কেন?

~ যে পুরুষ নারীদের সম্মান করতে জানেনা তার সাথে আমার জীবন বাঁধা অসম্ভব। বাবা আমি “আলোকবর্তিকা” সংঘের সদস্য। সে সংঘ নারীকল্যাণমূলক কাজ করে। সমাজের অসহায়, অবহেলিত, নির্যাতিত নারীদের জন্য আমি কাজ করি। নারী সমাজকে এগিয়ে নেয়ার ব্রত নিয়ে পথ চলছি আমি। সেখানে নিজের সাথেই এতবড় অন্যায় আমি কিভাবে মেনে নিই বলো।

~ নবনী মা শোন, সে কি এমন করছে যার জন্য তুই একাই এতবড় একটা সিদ্ধান্ত নিলি। আর যা করুক না কেন। সেটার জন্য তোর কাছে না হয় ক্ষমা চেয়ে নিবে। কিন্তু বিয়েটা ভাঙিস না মা। বিয়ে ভাঙা মেয়েদের মর্যাদা এই সমাজ দেয়না।

~ প্রাচীন সমাজের ঘুণে ধরা চাকার নিচে পিষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না বাবা। আমি সমাজের উল্টো পথে হাঁটি। আমার কাছে আত্নমর্যাদা সবার আগে। আমি যদি নিজেকে সম্মান না দেই তাহলে অন্যজন থেকে সম্মান প্রত্যাশা করাটা বোকামি। আর যা-ই হোক, আমি নিজেকে অপমান করতে পারবো না।

~ নবনী একটু বুঝার চেষ্টা কর। তোর বিয়ের কথা সবার জানাজানি হয়ে গেছে। পরেরবার তোকে বিয়ে দিতে হলে কেলেঙ্কারি ঘটে যাবে। আর যদি বিয়ে না হয় তখন আজীবন সবাই তোকে ছোট করে দেখবে। অলক্ষুণে ডাকবে। পাড়া-পড়শীর একথা ওকথা শুনে হীনম্মন্যতায় বাঁচতে হবে। পারবি?

~ আজীবন মেয়েরাই কেন এসব সহ্য করে আসবে বাবা? চিরকাল ছেলেপক্ষ বিয়ে ভেঙে যায়, মেয়েটার অবস্থা বুঝার চেষ্টা করেনা। আজ কোনো মেয়ে স্বয়ং তার বিয়ে ভাঙলো। এবার তারা একটু সহ্য করুক, বুঝুক.. বিয়ে ভাঙার যন্ত্রণা। এ বিয়ে হবেনা। ব্যস।

~ নবনী আমাদের টিকে থাকা দায় হবে এ সমাজে। রাগ, জেদ এগুলো পুরুষদের মানায়। নারীদের সর্বদা কোমল হতে হয়।

~ বাবা তুমি তো আমাকে এ শিক্ষা দাওনি। তাহলে আজ কেন নিজের বিরুদ্ধে কথা বলছো? তুমিই আমাকে শিখিয়েছো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

~ অনেক সময় মাথা নোয়াতে হয় মা। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার তাগিদে।

~ আর কত বাবা? নারীরা চিরকাল মাথা নুইয়ে সব সয়েই গেছে, প্রতিবাদ করেনি। মাথা নুয়াতে নুয়াতে এখন আর নুয়াবার জায়গা নেই। কপাল মাটিতে ঠেকে গেছে। এবার একটু ঘুরে দাঁড়াই?

নবনীর কথা শুনে তার বাবা প্রায় কেঁদে ফেললো। মেয়েকে সঠিক শিক্ষা দিতে পেরেছে ভেবে গর্ব হচ্ছে। মেয়ের আত্নবিশ্বাস দেখে কলুষিত সমাজের ভয়টাও কাজ করছেনা আর।
.
আমাদের সমাজে নবনী চরিত্রের মেয়েদের খুব অভাব। এ সমাজের মেয়েরা পরিবারের জন্য চুপচাপ নিজেকে বিসর্জন দেয়। টু শব্দটি করেনা।

ঘুণেধরা সমাজে চিরকাল কন্যাপক্ষ শুধু পাত্রপক্ষের সামনে কেঁদে বুক ভাসায়। তাদের হাতে পায়ে ধরে আঁকুতি মিনতি করে। নারীরা তো দূর্বল নয়। ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যটা আমরাই সৃষ্টি করি। নীরবে সব সয়ে অন্যের কাছে নিজেকে বলি দেওয়া কোনো যুক্তিসঙ্গত কাজ না। সবসময় সয়ে না গিয়ে কিছুসময় রুখে দাঁড়াতে হয়। বাঁচতে হলে বাঁচার মতো বাঁচুন। নিজেকে সম্মান করতে শিখুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার সাহস রাখুন।

নবনী
~

রিফাত আহমেদ

শ্বশুরের অংক

ঠাস!কে যেন চড় মারল। আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না, ঘুমের ঘোরে শ্বশুরের গায়ের উপর পা তুলে দিয়েছি। শ্বশুর বলে উঠলো “ঐ হারামজাদা গায়ের উপর থেকে পা নামা কইতাছি। তোর মতন বেআক্কেল জামাই আমি জীবনে দেখিনি।” চোরের মতন আস্তে আস্তে শ্বশুরের শরীরের উপর থেকে পা নামিয়ে নিলাম।

গ্রামে শ্বশুর বাড়ি এসেছি শালার বিয়ে খেতে। ঘর ভর্তি মানুষজন। গভীর রাতে যখন প্রচণ্ড ঘুম পেলো। তখন বউ বলল শ্বশুরের কাছে ঘুমাতে।মানুষজন বেশি, ঘুমানোর যায়গা নেই। ওকে এতো করে মানুষের সামনে ইশারায় বুঝলাম ঘুমের সময় আমার হাত পায়ের হিসাব থেকে না। কিন্তু না বউ বুঝল না। কয়েকবার মানুষের আড়ালে পায়েও চিমটি দিয়েছে। তাও বুঝল না। উপায় না দেখে শ্বশুরের পাশে এসে শুয়ে গেলাম। কিন্তু কখন যে ঘুমের ঘোরে পা চলে গেছে!

বিছানায় উঠে বসে চোখ ডলতেছি। মনে মনে বউয়ের উপর রেগে গেলাম।কেন যে মেয়েটা এইভাবে রেখে গেলো। এমন সময় পেটের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। বাইরে গিয়ে দেখি আশেপাশে মানুষজন কেউ নেই। অন্ধকার রাত। একা একা কিভাবে বাথরুমে যাই! এদিকে ছোটবেলা থেকেই আমি ভূতের ভয় পাই। ছোটবেলায় মা ছাড়া কখনো রাতে বাথরুমে যাইনি। এখনো বাড়ি এলে মা কে ডেকে বাথরুমে যাই। কিন্তু এখানে মা, বউ কেউ নেই। উপায় না পেয়ে শ্বশুরের কাছে ফিরে গেলাম।

শ্বশুর আব্বা? একটা কথা বলি?
শ্বশুর আব্বা বললেন “কইয়া ফেলা” আমি বললাম
আব্বা “ছোটবেলা থেকে আমার অনেক ভূতে ভয় হয়।যদি কিছু মনে না করতেন তাহলে আমার সাথে একটু বাথরুমে যাবেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেই হবে।” শ্বশুর আব্বা আমার কথা শুনে হাঁ করে তাকিয়ে রইলো। আমি বললাম “আব্বা একটু তাড়াতাড়ি করেন। নাহলে কিন্তু অঘটন ঘটে যাবে এইখানেই। ” শ্বশুর আব্বা আমার কথা শুনে বললেন ” চল! চল! চল! তাড়াতাড়ি দৌড় দে”।

আমি কাজ সারছি আর শ্বশুর আব্বা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আহা! কি চমৎকার জীবন। এমন শ্বশুর কয়জনার কপালে জুটে। মনে মনে নিজেকে খুব সুখী মনে হলো। এমন সময় পাশে কি যেন নড়াচড়া করতে লাগলো। ভয়ে এক দৌড়ে আমি শ্বশুরের কোলে গিয়ে উঠে উনাকে জরিয়ে ধরে বললাম “শ্বশুর আব্বাগো ভূত ভূত।” শ্বশুর আব্বা চিৎকার করে বলে উঠলো “ওরে বাবা রে! নিচে নাম, মরে গেলাম, মরে গেলাম।” আমি ভয়ে আরো শক্ত করে শ্বশুর আব্বাকে জরিয়ে ধরলাম। পরে উনি যখন ধমক দিয়ে উঠলেন তখন নিচে নেমে এলাম। শ্বশুর তখন বলে উঠলো “তুই ছোটাতে ভাদাইম্মা ছিল সারাজীবন সেই ভাদাইম্মাই থাকবি।” আমার মেয়ে কোন চোখ দিয়ে তোরে পছন্দ করছিল আল্লাহ জানে।

আমার শ্বশুর আমাকে দুইচোখে দেখতে পারে না।
আমার দোষ একটাই,আমি তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম।

মাধ্যমিকে থাকতে আমার শ্বশুর আমার উপর যে নির্যাতন করছে। সেসব দিনের কথা স্বপ্নে দেখে এখনো ঘুমের মধ্যে আমি চিৎকার করে উঠি। উনি ছিল আমাদের অংকের মাস্টার। কিসব আজগুবি অংক ছিল মাধ্যমিক বইয়ে। যে আমি ব্ল্যাকবোর্ডে দেখে দেখে অংক তুলতে ভুল করতাম। সেই আমি পরীক্ষায় অংকে পাশ করি কিভাবে! স্কুলে যেসব পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম। সেসব ছিল আমার পাশে বসা ছাত্রছাত্রীদের কৃতিত্ব। ওদের দেখেই তো পাশ করেছি।

আমার শ্বশুরের ক্লাসে সবথেকে কাঁচা ছাত্র ছিলাম আমি। উনি আমাকে উঠতেও পেটাতেন। বসতেও পেটাতেন। আমাকে পেটানো যেন তার রীতিমত ব্যায়াম হয়ে গিয়েছিল। একেতো অংক পারিনি তার উপর উনার অপমানজনক কথা শুনে প্রতিশোধ নিবো বলেই উনার মেয়ের সাথে প্রেম করি।তারপর পালিয়ে বিয়ে।

কিন্তু মানুষ মরলেও নাকি অভ্যাস বদলায় না।ঠিক তেমনি আমার শ্বশুরের অভ্যাস যায়নি। প্রথম যেদিন আমরা স্বামী স্ত্রী উনার সামনে হাজির হয়ে মাফ চাইলাম। উনি হঠাৎ করে ক্লাস সেভেনের একটা পাটি গণিত দিয়ে বললেন এটা করে দেখা তাহলে মাফ করে দিবো। পাশের বাড়ির ছোট ছেলেটা সেদিন সাহায্য করেছিল বলে অংকটা পেরেছিলাম।
তারপর থেকে শ্বশুর আব্বা আমার কোনো দোষ পেলেই একটা না একটা অংক নিয়ে আমার সামনে এসে হাজির হয়। আমিও কম যাইনা। সব ক্লাসের অংকের গাইড কিনে রেখেছি। শ্বশুর বাড়ি এলেই সাথে করে সেসব নিয়ে আসি।

কালকে রাতের ভুলের জন্য আজকেও অংক করতে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা শালার বিয়ের নানান রকম খাবারের কথা মনে করে অংকের গাইড আনতে ভুলে গেছি। কিভাবে যে করি অংকটা। কেউ কি সাহায্য করবেন?

শ্বশুরের অংক

রিফাত আহমেদ

লিখাঃ ৯ এপ্রিল ২০১৮

হকার

হকার

রিফাত আহমেদ

লিখাঃ ১২ মে ২০১৮

প্লেনে উঠেই গার্লফ্রেন্ড বলল, “তুমি নাকি আমার জন্য সব করতে পারবা। আমি বললাম “অবশ্যই”। গার্লফ্রেন্ড বলল, ” তাহলে এই প্লেনের মধ্যে হকারি করো দেখি।”

গার্লফ্রেন্ডের কথা শুনে বেলুনের মতন গর্বে যেমন বুক ফুলে উঠেছিলাম,প্লেনে হকারির কথা শুনে ঠিক সেইভাবেই চুপসে গেলাম। জীবনে কেউ শুনেছে প্লেনে হকারি করা যায়?

গার্লফ্রেন্ডকে বললাম ” ইয়ে মানে এর থেকে কঠিন কিছু থাকলে বলো( ভাব নিয়ে)। এটা তো খুব সহজ কাজ”। গার্লফ্রেন্ড বলল ” আগে এটাই করে দেখাও। যতো সুন্দর করে করবা ততোই বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এগিয়ে আসবে। নাহলে কিন্তু অন্য কাউকে নিয়ে গিয়ে বাবার সাথে পরিচিত করিয়ে দিবো”।

সম্রাট শাহজাহান যদি প্রেমের জন্য তাজমহল বানাইতে পারে।

আমি প্রেমের জন্য হকারি করলে কি দোষ? এছাড়া গার্লফ্রেন্ড সরাসরি কলিজাতে হাত দিয়েছে।

নিজের সম্মান বাঁচাতে সীট থেকে উঠে হকারি করতে যাবো এমন সময় মনে হইলো ঢাকার বাসে যারা হকারি করে তারা নানা রকম জিনিস বিক্রি করে।

কিন্তু এই প্লেনে আমি কি বিক্রি করবো।

গার্লফ্রেন্ড কে বললাম ” ইয়ে মানে হকারি করতে তো জিনিসপাতি লাগে।

আমার কাছে তো কিছুই নেই”।

গার্লফ্রেন্ড আমার কথা শুনে ওর হাতের ব্যাগটা থেকে একটা ব্রাশের পাতা বের করে দিলো।

গুণে দেখলাম সেখানে ১২ টা ব্রাশ।

ব্রাশ গুলো হাতে নিয়ে উঠে যেই দাঁড়াতে যাবো ঠিক তখনি গার্লফ্রেন্ড বলল ” যদি ঠিকমতন হকারি না করতে পারো কি হবে বলেছি তো,মনে আছে”?

আমি হকারদের মতন হাতে ব্রাশের পাতা পেঁচিয়ে বললাম “হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে”।

কিছুটা সময় নিয়ে ভাবতে লাগলাম কিভাবে লোকাল বাসে হকাররা হকারি শুরু করে। তারপর ব্রাশ গুলো হাতে নিয়ে হকারি শুরু করে দিলাম।
” ডিয়ার ভাই ও বোনেরা,

আপনাদের কি দাঁতের সমস্যা? ঠিকমতন দাঁত ব্রাশ করেন না বলে দাঁতে ময়লা জমে গেছে?

দাঁতের গোড়ায় পোকা হয়ে দিন দিন দাঁত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? মুখের দুর্গন্ধে চারপাশের মানুষের সাঠে ঠিকমতন কথা বলতে পারছেন না? তাহলে এক্ষুনী সংগ্রহ করুন বাংলাদেশের নাভানা কোম্পানির এই মূল্যবান ব্রাশ। সকালবিকাল দুবার এই ব্রাশ করে দাঁগ মাজলে আপনার দাঁত হবে চকচকে ফকফকে”। তারপর ব্রাশের পাতা থেকে একটা ব্রাশ বের করে হাত উঁচু করে সবাইকে দেখিয়ে বললাম “দাম মাত্র দশ টাকা দশ টাকা”। প্লেনের মানুষজন আমার দিকে এলিয়েন দেখার মতন করে তাকিয়ে আছে।

গার্লফ্রেন্ডের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। গার্লফ্রেন্ডের ভয়ে আবার বলা শুরু করলাম। “আমার দাদা ছিলেন বিখ্যাত হকার কালু শেখ, তিনি সারাজীবন ট্রেনে হকারি করেছেন। তারপর তার ছেলে লাল শেখ ছিল আমার বাবা।উনি সারাজীবন বাসে হকারি করছে। আমি লাল শেখের ছেলে ধলা শেখ তাই প্লেনে হকারি করি।”

দেখি পিছন থেকে একটা বয়স্ক মহিলা আমাকে ডাকছে। কাছে যাবার সাথে সাথে উনি আমাকে দশ টাকা দিয়ে হাতের ব্রাশ টা নিয়ে নিলো।

তারপর এক বয়স্ক সাদা লোক আমাকে ডাকলো। উনার কাছে এগিয়ে যেতেই উনি বলল ” হ্যালো মিঃ ধলা শেইখ ( ইংরেজরা বাংলা উচ্চারণ করলে যেমন হয়)। আমি বললাম ” ইয়েস স্যার”। উনি বললেন ” টোমার আইডিয়া আমার খুব পছন্দ হইয়াছে। টুমি একমাত্র হকার যে প্লেন হকারি সূচনা করিয়াছ। যদি নোবেল কমিটি এইরকম মানব সেবায় নোবেল দিতো। টাহলে আমি টোমার নামে ওদের কাচে সুপারিশ করতাম “। আমি খুশিতে বললাম ” থ্যাংকইউ স্যার”। তারপর উনি বললেন ” আমাখে দুইটা নাভানা কোম্পানির ব্রাশ দেও”। সাথে সাথে ব্রাশের পাতা থেকে দুইটা ব্রাশ খুলে উনার হাতে দিয়ে দিলাম।

এরমধ্যে দেখি দুইজন এয়ার হোস্টেজ আমার দিকে দৌড়ে আসছে। ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেলো। আল্লাহ! আজ নিশ্চিত ওরা আমাকে প্লেন থেকে নিচে ফেলে দিবে। ঠিক তখনি হঠাৎ করে আমার গার্লফ্রেন্ড এগিয়ে এসে ছোট বাচ্চার মতন করে আমাকে বলল ” লক্ষী সোনা এমন করে না, চলো চলো সীটে বসো। মানুষ খারাপ বলবে বাবু”। গার্লফ্রেন্ডের এতো সুন্দর ব্যবহার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কিন্তু সেই অবাক আর বেশিক্ষণ থাকলো না যখন সে প্লেনের সবাইকে উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে বলল ” আপনারা সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার স্বামী একজন মানসিক রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওকে আমেরিকা নিয়ে যাচ্ছি”।

এবার দেখি প্লেনের সবাই আমার দিকে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এয়ার হোস্টেজ গুলার মুখ ও দেখার মতন ছিল। একজন এয়ার হোস্টেজ এগিয়ে এসে আমার হাতে একটা ললিপপ দিয়ে বলল, “এটা খাও, অনেক মিষ্টি।”

তারপর প্লেনে আমার আর কোনো সমস্যা হয়নি। গার্লফ্রেন্ড ও খুশি আমিও খুশি।

কিন্তু বাংলাদেশে ফিরবার পর এয়ারপোর্টে বিশাল ভিড় দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। পাশের একজন কে বললাম ভাই এতো ভিড় কিসের? লোকটি বলল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে তাই এতো ভিড়। আমি নিজের মতন একা একা হেঁটে যেইনা এয়ারপোর্ট থেকে বের হচ্ছি। দেখি সবার হাতে আমার ছবি। কেউ কেউ আমার ছবিতে মালা দিয়েছে। কেউ কেউ আমার ছবির নিচে লেখেছে দেশের গর্ব, জাতীর গর্ব মিঃ ধলা হকার। চোরের মতন এয়ারপোর্ট থেকে পালিয়ে বাসায় এসে শুনি কোন হারামজাদা যেন আমার প্লেনে হকারির ভিডিও নেটে ছেড়ে দিয়েছে। তাই বাংলাদেশের হকাররা আমাকে স্বাগতম জানাতে এয়ারপোর্ট গিয়েছিল।

 

লোকাল বাস

লোকাল বাস

রিফাত আহমেদ

লিখাঃ ১৬ মে ২০১৮

বাসে উঠে বসতে না বসতেই পাশের সীটের একটা সুন্দরী মেয়ে বলে উঠলো “ও মাই গড! আপনি এতো সুন্দর কেন? আমার গায়ে হাত দিয়ে বলল আপনার বডি এতো সুন্দর কেন! নিশ্চই জিম করেন?

জীবনে আব্বা-আম্মা আমাকে কালাচাঁদ ছাড়া ডাকে নাই। গার্লফ্রেন্ড আদর করে কালু ডাকে। কিন্তু আজ এই বাসে এই মেয়ে আমার মধ্যে এমন কি দেখে সুন্দর বলল বুঝতে পারলাম না। মনে মনে লজ্জা পাচ্ছিলাম।

একটুপর মেয়েটা আমার পাশে বসা ছেলেটাকে বলল “এই যে ভাই আপনি উঠুন, আমি এই ভাইয়ের পাশে বসতে চাই।আপনি আমার সীটে বসুন”। দেখলাম ছেলেটা সুড়সুড় করে পাশের সারির মেয়েটার সীটে গিয়ে বসল। মেয়েটা বসল আমার পাশে। খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটা বেশ সুন্দর।
কয়েকদিন আগে টিভির বিজ্ঞাপন দেখে একটা ফেসওয়াশ কিনেছিলাম। বিজ্ঞাপনে বলা ছিল এই ফেসওয়াশ চার সপ্তাহ মাখলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও চকচকে। কিন্তু দুই সপ্তাহেই যে কাজে দিবে এটা ভাবিনি।

মেয়েটা এবার বলল ” আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে”?
লোকাল বাসে সুন্দরী মেয়ে পাশে বসলে সব ছেলেরাই সিঙ্গেল হয়ে যায়। তাহলে আমি কি দোষ করছি? তাই মেয়েটাকে বললাম ” জ্বী না আমি সিঙ্গেল”। মেয়েটা এবার সরাসরি বলল ” প্রেম করবেন আমার সাথে”? মেয়েটার কথা শুনেই মনের মধ্যে জেমস ভাইয়ের ” ঝাকানাকা দেহ দোলানা” গানটা বেজে উঠলো। সারাজীবন গার্লস স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মেয়ে পটাতে পারিনি। যে মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছি সেই মেয়ে বলেছে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে। এক মেয়ে তো বলেই দিয়েছে কয়লা আর আমার চেহারার মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই, দুইটাই কালা। ইসস যদি পাশে বসা সুন্দরী মেয়েটার কথাটা ভিডিও করে ওদের দেখাতে পারতাম। মেয়েটাকে উত্তর দিতে যাবো এর মধ্যে আরেকটা মেয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো।

দাঁড়িয়ে আমার পাশে বসা মেয়েটিকে বলল ” বাসে বসা সুন্দর ছেলেদের দেখলেই প্রেম করতে ইচ্ছে করে, না? এই ছেলেকে আমার পছন্দ হয়েছে। তুই অন্য কাউকে দেখ”। দেখলাম আমার পাশে বসা মেয়েটা উঠে চলে গেলো। এবার যে মেয়েটা এলো সে আরো সুন্দরী দেখতে। আমি তাড়াতাড়ি ফোন বের করে সামনের ক্যামেরায় নিজের চেহারা দেখে নিলাম। সত্যি এটা আমি নাকি অন্য কেউ। নিজেকে রেস থ্রির সালমান খান মনে হচ্ছিল,শুধু চশমাটাই নাই। বাসায় ভুলে সানগ্লাস ফেলে এসেছি বলে নিজের উপর রাগ হচ্ছিল। নতুন মেয়াটা এবার বলল ” ওয়াও, আপনি আমার দেখা সেরা পুরুষ । প্রেম করবেন আমার সাথে”? মেয়েটার কথা শুনে বুকের মধ্যে ধপাস ধপাস শুরু হয়ে গেলো। গর্বে বুক ফুলে উঠলো। মনে মনে সেই ফেসওয়াশ কোম্পানি কে অনেক ধন্যবাদ দিলাম। মেয়েটাকে উত্তর দিতে যাবো এমন সময় দেখি আরো তিনটা মেয়ে এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ওরা তিনজন একসাথে বলে উঠলো ” এই ছেলে প্রেম করবে আমার সাথে?”। এবার আমার পাশের বসা মেয়েটা উঠে ওদের সাথে মারামারি শুরু করলো। চারজন মেয়ে আমার চার হাত পা ধরে বাসের মধ্যে টানাটানি শুরু করলো। একজন বলে এই ছেলে আমার, আরেকজন বলে না না এই ছেলে আমার। ওদের টানাটানি তে আমার গুলিস্তান থেকে কেনা নতুন শার্ট ছিঁড়ে গেছে। প্যান্ট ছিঁড়া ছিঁড়া অবস্থা। নিজেকে সালমান খান ভাবা ছেড়ে টম ক্রুজ ভাবতে শুরু করলাম। আহা! সুন্দরী মেয়েরা আমাকে পাবার জন্য আজ মারামারি করে। এই দিন যে আসবে কল্পনাও করিনি।এর মধ্যে বাসের হেলপার এক লাঠি নিয়ে দৌড়ে এসে বলল ” ঐ তোরা সবাই বস, নাহলে কারেন্ট শখ দিবো ” সাথে সাথে চারটা মেয়ে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি গাড়ির মধ্যে ধপাস করে পড়ে গেলাম।

হেলপার কাছে এসে বলল ” ঐ মিয়া আপনি কখন উঠলেন বাসে? ও বুঝছি, সিগারেট কিনতে নামছিলাম তখনি উঠছেন তাইনা? তাড়াতাড়ি নামেন ভাই, এই বাস পাবনা যাবে। বাসের মধ্যে যারা আছে তারা সবাই পাগল। ওদের সবাইকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। হেলপারের কথা শুনে অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি পাবনার মানসিক হাসপাতালে।

 

অন্তরালের অনুভূতি

অন্তরালের_অনুভূতি

মিলিকে বিয়ে করার পর বাসর রাত থেকে অবাক হওয়া শুরু হয়েছে,সেটা এখনো চলছে।

আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাসর রাতে ঘরে ঢোকার আগে আমাকে খুব করে বলল,,,

–বউকে যতটা সম্ভব হাতের মুঠোয় রাখবি ?

–কিভাবে ?

–খুব ভয় দেখাবি,,,,আর কঠিন গলায় কথা বলবি,,,,

আমি একটু অবাক হয়ে বললাম,,,,,

–ভার্সিটি পড়ুয়া একটা মেয়ে,আমি তাকে এভাবে ভয় দেখাবো আর সে পাবে,,,,

–হুম,,,,পাবে,,,,

আমার বন্ধু হয়তো ভুলেই গেছে যে, বিয়ের পর থেকে ওর বউ ওকে এখানো হাতের মুঠো করে রেখেছে সেটা আমি যানি না।

যে মানুষ নিজের বউকে হাতে রাখতে পারেনি। এখনো নিজের বউয়ের কথায় উঠ বস করে।
এরকম একজন মানুষের থেকে টিপস নিয়ে নিজের বউকে হাতে রাখার চিন্তা করা নেহাত বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।

তাই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে বাসর ঘরে ডুকলাম,,,

মিলিকে আগে থেকেই হালকা চিনতাম।মিলি আমার মায়ের বান্ধবীর মেয়ে দু একবার আমাদের বাসায় এসেছিল।

আমি বিছানায় গিয়ে বসতেই মিলি বলল,,,,

–কোন বুদ্ধি করে আসছ ?


–কিসের বুদ্ধি ?


–আমাকে হাতে রাখার ?

–নাহ,,,

–সত্যি,,

–আসলে, খুঁজেছি কিন্তু কোন বুদ্ধি পাইনাই।

–আর কখনো খুঁজবাও না কোন বুদ্ধি।

–কিন্তু তুমি কিভাবে বুঝলা ?

–সব ছেলেরাই এমনই হয়,,,বাসর রাতে বিড়াল মারার চিন্তা ভাবনা করে আসে।যাতে মেয়েরা তাদের সব সময় ভয় পায়।

–ওহ্,,,,তোমার তো দেখি ভালো অভিজ্ঞতা আছে এই ব্যাপারে।আগে কি কখনো বিয়ে হয়েছিল নাকি ?

–আজব,,,এসব জানতে হলে কি বিয়ে করা লাগে নাকি।

–তাহলে,,,

–যে বান্ধবী গুলির বিয়ে হয়েছে তাদের থেকে জেনেছি।

ওহ্

–কেন তোমার বন্ধুরা তোমাকে এই ব্যাপারে কিছু বলেনাই,,,

–ওরা আর কি বলবে,,,নিজেদের বউকে হাতের মুঠোয় আনতে গিয়ে নিজেরাই বউদের হাতের মুঠোয় চলে গেছে,,,

–তাই,,,নাকি,,,

–হম,,

সেদিন থেকে মিলিকে একটু কঠিনই মনে হত।তবে এখন অতটা মনে হয়না।

কিছুদিন আগের ঘটনা,,,

রাতে বাসায় ফিরে দেখি মিলি বই পড়তেছে,,,

ওর কাছে গিয়ে বললাম কাল তো আমার অফিস বন্ধ।চলো কাল কোথাও ঘুরতে যাই,,,

আমার কথা শুনে মিলি কোন উওর দিল না।

মিলির কাছ থেকে আশা অনুরূপ কোন উওর না পেয়ে খুব হতাশ হলাম।

পরের দিন বিকেল বেলা মিলি আমাকে দুটি শাড়ি দেখিয়ে বলল কোন শাড়িটি পরলে আমাকে মানাবে,,,,

–দুটি শাড়িই খুব ভালো।তুমি যাই পরবে তাতেই তোমাকে ভাল লাগবে,,,

আধা ঘন্টা পর মিলি রুম থেকে বেরিয়ে এল নীল শাড়িটা পরে।ও নীল শাড়িটা পরাতে আমি একটু আবাকই হলাম।

কারো প্রতি ভালবাসা থাকলে হয়তো তার মনের কথা জানা যায়।আর মিলিও হয়তো এভাবেই আমার মনের কথাটা জেনেছে।

মিলি আমার কাছে এসে বলল,,,

–কেমন লাগছে আমাকে ?

–ভাল,,

–শুধু ভাল,,,আর কিছু না।

আমি মিলির কপালের টিপ টা ঠিক জায়গাতে বসিয়ে তারপর বললাম এখন পারফেক্ট লাগছে।

–আমি কপালের টিপ টা ইচ্ছা করেই ঠিক জায়গাতে পরিনি।

–কেন ?

–তোমাকে পরীক্ষা করে দেখলাম আমার সবকিছু তোমার নজরে পরে কি না।

–হম বুঝলাম,,,কিন্তু এত সেজে গুজে কোথায় যাচ্ছ তুমি ?

–ঘুরতে,,,

–কার সাথে ঘুরতে যাবে ?

–তোমার সাথে,,

–কাল রাতে যখন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলছিলাম তখন তো কিছুই বললে না।

–তখন বলিনি তো কি হয়েছে এখন তো বলছি,,,

যাও তারাতারি রেডি হয়ে আসো আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করতেছি,,,,

আমি রেডি হয়ে এসে দেখি মিলি আমার জন্য বসে আছে।তারপর দুজন একসাথে বের হলাম।

–এই রিক্সা যাবে ?

–কোথায় যাবেন ‘স্যার’

–যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন গন্তব্যে নেই।তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী এই শহরের অলিতে গলিতে সন্ধ্যা নামার আগ পযন্ত আমাদের কে তোমার রিক্সায় নিয়ে ঘুরবা।

–আচ্ছা ‘স্যার’,,,, রিক্সায় উঠে বসেন।

রিক্সা চলতেছে তার আপন গতিতে।মিলি তাকিয়ে আছে প্রকৃতির দিকে আর আমি তাকিয়ে আছি মিলির দিকে।

এভাবেই চলুক না কিছুটা সময়,,,,,,,,,,,,


(সমাপ্ত)

লেখা || Tuhin Ahamed

এমন একটা জিনিস বলো যেটা গরুর চারটে আর তোমার দুটো আছে!!!

ছেলে:হাই বাবু!!!

😘😘😘😘
কি করছো???

মেয়ে:এই ডিনার করলাম সোনা…
তুমি কি করছো???

আমি ভাবছি!!

🤔
কি ভাবছো???

আমার বাবুর কথা ভাবছি!!
😜😜😜😜

বাবু আমার খুব ঘুম পাচ্ছে…কাল কথা বলি????

😡😡😡

কি হলো??

এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাবে???

কি করবো নাহলে???

একটা গেইম খেলি চলো??

কি গেইম??
😟😟😟😟😟

আমি তোমাকে কিছু প্রশ্ন করবো….তুমি আমাকে তার সঠিক উওর দেবে!!.
😉😉😉

আচ্ছা ঠিকাছে!!!

তাহলে আমি প্রশ্ন করি???

ওকে…

এমন একটা জিনিস বলো যেটা গরুর চারটে আর তোমার দুটো আছে!!!

😡😡😡
এটা আবার কি প্রশ্ন???

কি হলো?

আমি এসব বাজে কথার উওর দিতে পারবো না!!!

আমি তো পা-এর কথা বললাম!!!
😜😜😜😜

🙃🙃🙃🙃
আমি তো ভুল ভাবলাম !!!

বাবু তুমিও কি ভাবো এসব!???

পরের প্রশ্ন করো!!

বলোতো!!!
ছেলেদের প্যান্টে আছে কিন্তু মেয়েদের প্যান্টে নেই!!!কি হবে এটা???

এটাতো সোজা!!
এটা চেইন হবে!!

হয়নি বাবু!!😝😝😝
আমি তো পকেটের কথা বললাম!!
ছেলেদের সব প্যান্টে পকেট থাকে,,,,,,মেয়েদের সব প্যান্টে থাকে না!!!

ওওওওও….
পরের প্রশ্ন__

বলো দেখি ছেলেদের কোন অঙ্গ সামনে উপস্থিত জিনিস দেখে আকার বদলায়???

ছি!!!
এটা কি প্রশ্ন আবার???

আমি তো রেটিনার কথা বললাম!!!
তুমি সবসময় বাজে কথাটাই আগে ভাবো!!
.😜😜😜😜

কিন্তু রেটিনা তো সবার থাকে!!
তুমি তো শুধু ছেলে বললে!!

ছেলেদেরও তো থাকে।।
আজ সত্যি মজা হলো খুব খেলাটা খেলে!

হুম্!!!
কিন্তু আমার সত্যি খুব ঘুম পাচ্ছে…
😵😵😵😵😵😵

ওকে…
গুড্ নাইট বাবু…
লাভ ইউ

লাভ ইউ টু সোনা!!!
😘😘😘😘
বাই!!!

.
বাই….

আমরা কি এবার এই রিলেশনশিপ টা পর একটু গভীরতম করতে পারি না?? মানে??ঠিক বুঝলাম না।।

কষ্টের গল্প

ছেলে:হ্যালো!!!!

ঈশু…

মেয়ে:বলো বাবু।।
😃😃😃😃

কি করছো???

কিছুই না।।
তুমি কি করছো??

ভাবছি।।
☺☺☺☺

কি ভাবছো??
😐😐😐

আমার হবু বউ-এর কথা ভাবছি!!😋😋😋😋

কে সেটা??
😁😁😁

এখন যে আমার সাথে কথা বলছে সেই তো আমার হবু বউ!!

😙😙😙

একটা কথা জিঞ্জেস করবো??

হুম্!!!


আমরা কতদিন ধরে একে অপরকে চিনি??

প্রায় পাঁচ বছর।।
কেন??

না কিছু না!!
তুমি খারাপ ভাববে আমি বললে।।

কি কথা বলো??

না না থাক।।

বলো।।😡😡😡

আমরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসি তাই না??

হ্যাঁ।।
কিন্তু এসব তো তুমি জানো।।

জানি।
শোনো না!!
আমি এখন যা বলবো তুমি কিন্তু সিরিয়াসলি নিও না।।

বলো কি বলতে চাও!!

আমরা কি এবার এই রিলেশনশিপ টা পর একটু গভীরতম করতে পারি না??
😶😶😶

মানে??
ঠিক বুঝলাম না।।
😥😥😥

মানে আমরা কি এবার ফিজিকাল রিলেশনশিপ এ আসতে পারি না??

কি??
😠😠😠😠

ভুল কি বললাম??

বিয়ের আগে এসব ঠিক না।।
এটা জানো না??

আমাদের বিয়ে তো ঠিক হয়ে গেছে।।
তাহলে অসুবিধা কোথায়??

না আমি পারবো না।।

পারবে না মানে??
তোমাকে করতে হবে।।

তুমি আমাকে জোর করতে পারো না।।
আর তুমিই তো বলেছিলে আমাকে এইসব কথা সিরিয়াসলি নিতে না।।

কারন আমি ভেবেছিলাম তুমি রাজি হয়ে যাবে।।
😡😡😡

তুমি ভাবলে কি করে??

তাহলে আমাকে আর ফোন,ম্যাসেজ করবে না কোনোদিন।।

তুমি যা খুশি বলো আমি কিছুতেই বিয়ের আগে এইকাজ করতে পারবো না।

তোমাকে তাহলে আমি আর কোনোদিন ফোন করবো না।।

এই কারনে তুমি কথা বলবে না??
এত নোংরা তুমি??

নোংরা না।।
এটা ভালোবাসা।।

এরকম ভালোবাসা দরকার নেই আমার।।
আমি তোমাকে বিয়ে করবো না।।
আমাদের সব সম্পর্ক শেষ।।
😠😠😠😠😠

কি??

ব্লক………..

কোনো মেয়েকে আমরা যেন এভাবে জোর না করি,,,তাই ওই গল্পটা করা হয়েছে।।।।

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

লেখিকা : নীল পরী

নিলীমা আর তন্নয় একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তন্নয় নিলীমাকে প্রথম প্রপোজ করে কিন্তু নিলীমা রাজি হয়নি। তখন তন্নয়কে নিলীমা খুব অবহেলা করত।নিলীমা আর তন্নয়ের ২বছর আগের কথা। ২ বছর আগে ও নিলীমা তন্নয়কে এতটা ভালোবাসেনি । তন্নয় নিলীমার কাছে গেলেই বিরক্তি বোধ করতো। একদিন তন্নয় নিলীমা কে বলল….

তন্নয় : হাই……

নিলীমা : (কিছু বলে না)
তন্নয় : কি হলো তোমাকে বলছি শুনতে পাচ্ছো….????
নিলীমা : কি এমন চেচাছেন কেনো..?? আপনার ইচ্ছা হইছে আপনি বলছেন আমি কি আপনাকে আমার সাথে কথা বলতে বলছি।
তন্নয় : হুমমম তা বল নাই,, তাই বলে কি কথা বলা যায় না।
নিলীমা : (চুপ করে চলে গেলো কিছু না বলে)
এমন অবহেলা, বিরক্তি, আর তন্নয়ের ভালোবাসায় দিন চলতর থাকে।যত বার তন্নয় নিলীমার কাছে যায় ততবারই নিলীমা তন্নয়কে অপমান করে। এমন করে চলে গেলো অনেকটা দিন। কিন্তু নিলীমা সেই তন্নয় কে অপমানই করে। এমন করতে করতে কখন যে নিলীমা তন্নয়ের প্রেমে পরে গেছে নিলীমা বুঝতেই পারেনি। নালীমা এখন তন্নয়কে অপমান করলে তার নিজেরই খারাপ লাগে, বাসা বার বার তন্নয়ের কথা ভাবে। হঠ্যাৎ তন্নয়কে সে দেখে না। তন্নয় আর আসে না নিলীমার কাছে। নিলীমা খুব চিন্তায় পরে যায় যে তন্নয় কেনো আসে না। তবে কি আর আসবে না। যদি না ই আসবে তাহলে কেনো বুকের ভিতর ভালোবাসাে সৃ্ষ্টি করলো। নিলীমা এখন খুব কাদে তন্নয়ের জন্য, অপেক্ষা করে কিন্তু তন্নয় আসে না। নিলীমা তন্নয়ের বন্ধুদের কাছে খবর পেলো যে তন্নয়ের খুব জ্বর কয়দিন ধরে। তন্নয়ের বন্ধুরা তখন নিলীমাকে খুব বকা বকি করে কেনো তন্নয়ের খবর চাও, এখন তন্নয়কে অপমান করতে পারো না বলে..??? তখন নিলীমা কান্না করেদেয় আর বলে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি,, আর এটা ও বুঝেছি যে আমি তন্নয়কে খুব ভালোবেসে ফেলেছি, তন্নয় যে আমার অমূল্য রতন। তখন তন্নয়ের বন্ধুরা খুসিতে চিতকার দিয়ে উঠে আর বলে ভাবি এখন কান্না থামান। তন্নয়ের জ্বর কমলে আমরা তাকে বলে দিব সব ঠিক হয়ে যাবে। তন্নয়ের জ্বরের কথা শুনে তন্নয়কে দেখতে খালা আর খালাতো বোন আসে। তন্নয় এখন আগের থেকে একটু সুস্থ্য বলে খালাতো বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। আর তা নিলীমা দেখে। তন্নয়ের পাশে মেয়ে দেখে নিলীমার রাগ হয় আর তন্নয়ের কাছে গিয়ে বলে……

নিলীমা : এটা কি হচ্ছে..???

তন্নয় : কি হচ্ছে আর কি হচ্ছে…!!!
নিলীমা : কি হট্ছে হুমমম মেয়েটা কে..??
তন্নয় : কেনো তা বলতে হবে নাকি….?
নিলীমা : হে বলতে হবে। মেয়ে নিয়ে ঘুরা হয় বুঝি…??? তোমার না জ্বর..???
তন্নয় : যদি বলি এটা আমার বউ তা হলে কি করবে। আর আমার জ্বর তুমি কি করে জানলে…???
নিলীমা : (কান্না করে) এটা তোমার বউ তুমি বিয়ে করলে কবে…???
তন্নয়: তা কি তোমায় বলতে হবে..???
নিলীমা : বলো না তন্নয় মেয়েটা কে..??? আমার খুব খারাপ লাগছে…।
তন্নয় : ও আমার খালাতো বোন তন্নিমা।
নিলীমা : তন্নিমা

তন্নয় : হুমম কেনো।

নিলীমা : তোমার নাম তন্নয় আর অর নাম তন্নিমা মিলিয়ে।
তন্নয় : হুমমম ভাই বোনের নাম কি এক হয় না।
নিলীমা 🙁 হাসি দিয়ে) হে হয়। আমি তো তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে তোমার খোজ নিয়ে ছিলাম, জানতে পারলাম তোমার জ্বর।
তন্নয় : কেনো খুজ নিয়েছ তুমি আমার..?? কে হই আমি তোমার…? নাকি অপমান করতে পারছো না বলে…??
নিলীমা : (তন্নয়কে জরিয়ে ধরে) Sorry তন্নয় আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর আমি যে তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি তন্নয়, আর তুমি বললে তুমি কে আমার,,… তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন।তুমি যে আমার জীবনের আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।
তন্নয় : সত্যি বলছ নিলীমা..???
নিলীমা : হে তন্নয়….. I Love You 😍
তন্নয় : নিলীমা I Love You Too 😍
নিলীমা : আমাকে ছেড়ে যাবে না তো..
তন্নয় : না কখনো যাবো না… তোমাকে আমার এই বুকে রাখবো আমি ও যাবো না তোমাকে ও কখনো যেতে দিবো না.

নিলীমা : হুমমম যাবো না।

এমন করে চলে গেলো কিছু সময়। তন্নয়ের খালাতো বোন বলে আরে ভাইয়া আমি লজ্জা পাচ্ছি কিন্তু। তন্নয় বলে তো কি হয়েছে। আমি একটু প্রেম করছি আমার পাগলিটার সাথে। নিলীমা বলে হুমমম ঠিকইতো।
তন্নয় আর নিলীমা এখন দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে। একে অপরকে ছাড়া থাকতেই পারে না। ওদের বিয়ে হয়েছে। অরা খুব খুশি। নিলীমা প্রেগনেন্ট অরা মা বাবা হবে খুব খুশি অনেক স্বপ্ন। তার পর পার হয়ে গেল কয়টি মাস….নিলীমার জমজ দুটি বাঁচ্চা হয় একটি ছেলে একটি মেয়ে। মেয়ের নাম রাখে তন্নয়ের সাথে মিল করে তন্নি আর ছেলের নাম রাখে নিলীমার সাথে মিল করে নিলয়। অদের হাসি খুশিতে দিন কাটে খুব খুশি অরা। আজ তন্নয়ের জন্ম দিন। নিলীমা অনেক আয়োজন করেছে,,, আর সবাইর সামনে তন্নয়কে একটি কিস করে বলে তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন,,, তন্নয় ও বলে তুমি আমার অমূল্য রতন। তার পর জরিয়ে ধরে একে অপরকে।

সমাপ্ত

(প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগলো লাইক, কমেন্টস করে জানাবেন সবাই।

গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।)

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া part: 10

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

part: 10

লেখা –সুলতানা ইতি

প্রিন্সিপাল : তা বললে কি আর হয়রে মামুনি,তুই তো এখন আমাদের সবার গৌরব, আচ্ছা অনেক কথা হলো আজ তা হলে আসি,

আনুশার আম্মু: আপনারা এতো দূরর কষ্ট করে এলেন, আপনাদের কে ভালো করে,,

প্রিন্সিপাল : না না আপনি এতো ব্যাস্ত হবেন্না,আমরা এমনিতে ই অনেক খুশি,(আনুশার মায়ের কথা টা প্রিন্সিপাল স্যারর বুঝতে পেরে থামিয়ে দিলেন)আচ্ছা কাল আপনি ও আপনার মেয়ের সাথে যাবেন আপনি ও কিন্তু ইনভাইটেড

আনুশা আম্মু: কিচ্ছু বললেন না,(মনে মনে আল্লাহর কাছে শত কুটি শুকরিয়ে আদায় করলাম)

আনুশা: স্যার রা চলে গেছে,এখন আপুদের এই খবর টা জানাই কি করে,মোবাইলে যে ব্যালেন্স শূন্য, (মন খারাফ করে বসে আছে আনুশা,আজকের এই দিনে ও টাকা নেই হাতে, এই ভেবে মন টা খুব খারাফ)

#
তানভীর : এতো কিছু ভিতরে আনুশার সাথে একটু ও কথা বলতে পারলাম না,,ঠিক আছে কোন ব্যাপার না,আজকের, আর কালকের এক সাথে দুই দিনের কথা ওর সাথে বলবো কাল,, এখন বাসায় যাই

তানভীরের আম্মু: ছেলেটার যে কি হলো ফোনটা ও রিসিভ করছে না, কি এলো রেজাল্ট এ কিছুই জানালো না কি যে করি

তানভীর : খুশি খুশি মনে বাসায় ডুকলাম

তানভীরের আম্মু: কিরে এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো তোকে, বলনা রেজাল্ট কেমন হলো নিশ্চয় অনেক ভালো তাই না

তানভীর : ওহ আম্মু আমার কথা বাধ দাও তো তুমি জানো আজ কি হয়েছে।

তানভীরের আম্মু: তুই না বললে জানবো কি করে

তানভীর : আনুশা সবার প্রথম হয়েছে শুধু তাই নয় পুরো জেলা দিয়ে প্রথম স্থান আনুশা পেয়েছে

তানভীরে আম্মু:সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু তোর রেজাল্ট কি, সেটা তো বলবি,(তানভীর যেনো ওর মায়ের। কথা শুনতেই পাচ্ছে না)

তানভীর : দাড়া আম্মু এতক্ষনে তো টিভি তে খবর টা দেয়ার কথা,টিভি টা অন করি আগে

তানভীরের আম্মু:ছেলেটার যে কি হলো, কি জানতে চাইছি, আর ছেলেটা কি করছে, ওর মাথা ঠিক আছে তো
হ্যারে তানভীর আমি তোর কথা জানতে চাই আনুশার কথা নয়,বল আম্মুকে কি রেজাল্ট আসলো তোর

তানভীর : কিছু বলতে যাবে অমনি বাসার দরজাতে টোকা পড়লো, আম্মু যাই দেখে আসি কে আসছে

তানভীর দরজা খুলে দেখলো তানিম আসছে

তানভীর : কিরে তুই কি মনে করে এলি,

তানিম: এলাম আর কি, না এলে তো আর তোর পাগলামি দেখতে পারতাম না,রেজাল্ট পূরো এফ। তাতে ও তোর মধ্যে কোন এফেক্ট পড়েনি তুই আনুশার জন্য পাগল হয়ে আছিস

তানভীরের আম্মু:কিইইই তানিম তুমি কি বললে

তানিম: কেনো আন্টি তানভীর আপনাকে কিছু বলেনি, ওর তো রেজাল্ট ই আসেনি
তানভীরের আম্মু: স্তব্ধ হয়ে গেলাম ছেলের রেজাল্ট এর কথা শুনে,কিছু বলার ভাষা নেই

তানভীর : ওসব কথা ছাড় তুই কেনো এসেছিস সেটা বল

তানিম: প্রিন্সিপাল স্যারর তোকে ফোনে পাচ্ছে না তা আমাকে বল্লো তোকে বলতে কালকের অনুষঠানের কিছু আয়োজনে তোকে থাকতে বলেছে, তোকে আমি একটা মেসেজ সেন্ট করছি,সেখানে কি কি আনতে হবে সব লিখা আছে,অই গুলা স্যারর কে এনে দিবি

তানভীর : খুশি হয়ে,, ওও তাই দাড়া তো দেখি মোবাইল টা কোথায়,ইসসস চার্জ ই তো নাই দাড়া চার্জ দিচ্ছি

তানিম: আমি তা হলে যাই
তানভীর : মোবাইল টা চার্জে দিয়ে অন করে এক নজর দেখে নিলো লিস্টে কি কি আনতে হবে,তার পর মোবাইল রেখে বের হয়ে গেলো

তানভীরের আম্মু: কি বলবো আমি তানভীরের আব্বুকে কতো স্বপ্ন ওর ছেলেকে নিয়ে এখন,এখন কি হবে

আনুশা: রাত আটটা বাজলো এখন ও আমি কাউকে খবর টা জানাতে পারিনি,
আনুশার আম্মু: আল্লাহর খুশি সব মা, আজকের এমন একটা খুশির দিনে আমরা কাউকে খবর টা দিতে পারছি না,সবই আল্লাহর ইচ্ছে,আয় এশার নামায পড়ে নে

আনুশা: তুমি যাও মা আমি আসছি
রুমের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, রাতের শহরটা খুব ভালো লাগছে বিশেষ করে এই মন খারাফ এর রাতে, আজ তো খুব খুশি হওয়ার কথা আমার,তবু ও কেনো যেনো খুশি হতে পারছি না,মনে হচ্ছে কিছু একটা নেই, (আনুশার ভাবনায় পাটল পড়লো, কেন না মোবাইল টা বেজে উঠলো)
আনুশা: স্কিন এ তাকিয়ে দেখলাম অন্নি,কলটা রিসিভ করলাম

অন্নি:ঐ বান্দুরনি আজকের এমন একটা খুশির খবর আমাকে সবার আগে জানালি না কেনো,আমি একটু আগে খবর টা টিভি তে দেখলাম,তাই আমি এখন তোর উপর রেগে আছি

আনুশা:রাগ করিস না, ইচ্ছে থাকা সত্তেও তোকে জানাতে পারিনি,শুধু তুই কেনো,শিলা আপু, সুমি আপু, কাউকে বলতে পারিনি

অন্নি: যা আন্দাজ করেছি তা ই তো হলো তোর মোবাইলে ব্যালেন্স নাই,ওয়েট এ মিনিট,

আনুশা: যাহ লাইন কেটে দিলো কিছুক্ষন পর আনুশার মোবাইলে মেসেজ টোন বেজে উঠলো,আনুশা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে নিশ্চয় পাগলি টা মোবাইলে টাকা রিসার্চ করছে
এই বার কলটা আমি করি, সে কি কল টা কেটে দিলো,

অন্নি: আনুশা আমাকে কল করেছে কল কেটে দিয়ে নিজে কল করলাম,ঐতোকে কি আমাকে কল করার জন্য রিসার্চ করে দিয়েছি,তুই এই গুলা দিয়ে সুমি এন্ড শিলা আপুর সাথে কথা বলবি

আনুশা: কিন্তু ওদের সাথে কথা বলতে তো এতো টাকা লাগবে না

অন্নি: তো না লাগলে ওগুলা মোবাইলে থাক পরে দরকার হতে পারে, আচ্ছা বাদ দে এগুলা,বল আজ তোর কেমন লাগছে

আনুশা: কেমন লাগবে আবার,অন্যদিন যেমন লাগছে আজ ও তেমন লাগছে
অন্নি: বুদ্ধ অন্য দিন আর আজ এক হলো, তোর এই সাকসেস এ আমি কিন্তু খুব খুশি, কতটা খুশি তোকে বলে বুঝাতে পারবো না
নেক্সট প্ল্যান কি বল

আনুশা: কি আবার হবে কিছুই না,একটা জব খুজবো পেলে ভালো, না পেলে আর কি করার বল

অন্নি: কি যে বলিসনা তুই অনায়াসে যে কোন ভার্সিটিতে সান্স পাবি

আনুশা: এগুলা নিয়ে আমি ভাবি না রে, আমার ভাবনা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যেন মাকে ভালো রাখতে পারি

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

 হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া part:8

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

part:8

লেখা –সুলতানা ইতি

মায়ের সে কি আনন্দ, অনেক দিন পর মাকে এতো খুশি হতে দেখলাম

আম্মু: কিরে শিলা এতো শুকিয়ে গেলি কেনো

শিলা: কই মা আমি তো ঠিকই আছি

আনুশা: আপু বুঝিস না,তুই যদি হাতি ও হয়ে যাস তার পরে মা বলবে না তুই এখন ও চিকন, আরেকটু মোটা হতে হবে,আনুশার কথা শুনে সবাই এক সংগে হেসে উঠলো

তানভীর : যাক বাবা এতো দিনে আনুশা কোথায় থাকে সেটা জানতে পারলাম
তানিম: এবার খুশি তো চল এবার বাসায় যাই

তানভীর : আর একটু থাকি না এখানে

তানিম: থেকে কি করবি,দেখ এখন সন্ধ্যা হতে চল্লো আনুশা এখন আর বের হবে না সো এখানে থেকে ও তোর কোন কাজ হবে না তার ছেয়ে ভালো বাসায় যাই

তানভীর : কি আর করা চল তা হলে, বাসার দিকে ফিরে গেলাম

#আনুশা: আপু তুই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়,আমি খাবার দিচ্ছি,

শিলা:বাবা আনুশা তুই কবে থেকে কাজ করিস কি সুন্দর করে আমাকে ভাত বেড়ে খাওয়াচ্ছিস,আগে তো এক গ্লাস পানি ডেলে ও খাইতিস না

আনুশা: আপু আগে যেমন ছিলাম এখন ও কি তেমন থাকতে হবে, সব কিছুই পরিবর্তন শিল,আমি ও এর ব্যাতীর্কম নই

শিলা: তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো আনুশা আমি তো যাস্ট এমনি বললাম
আনুশা: কথা না বাড়িয়ে খাওয়া শুরু কর,
#
তানভীর : বাসায় এসে পৌছলাম
আম্মু: কিরে কই গেলি, এতো তাড়া তাড়ি চলে আসলি,বলে তো গেলি ফিরতে রাত হবে

তানভীর : আম্মু এতো কথা বলছো কেনো আমি বাসায় আসাতে কি তোমার প্রব্লেম হইছে,তা হলে বলো আমি আবার চলে যাই

আম্মু: যাক বাবা তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো,

তানভীর : তুমি রাগ করার মতো, কথা বললে আমি রাগবো না তো হাসবো,দেখো আম্মু এখন একটু চুপ থাকো, কোন প্রশ্ন করো না
এই বলে চলে এলাম রুমে দরজা লাগিয়ে দিলাম

তানভীরের আম্মু: ছেলেটার যে কি হয়েছে আজকাল কথায় কথায় রাগ দেখায়,সারা দিন কি এতো ভাবে,জিজ্ঞাস করলে ও বলে না ওর বাবাকে ব্যাপার টা জানাতেই হবে,আজকেই ফোন করলে বলবো

*
খাওয়া শেষ করার পর আনুশা বল্লো আপু তুই একটু রেস্ট নে আমি এগুলা পরিষ্কার করে আসছি কেমন

শিলা: বোন টা কে যতো দেখছি ততই যেন অভাক হচ্ছি,এ কি সেই বোন যে কি না কাজ করতে চাইতো না হাত ময়লা হয়ে যাবে সেই ভয়ে

আনুশার আম্মু: কিরে শিলা কি ভাবছিস

শিলা: মা আনুশা?

আনুশার আম্মু: আমার মেয়েটা আর আগের মতো নেই রে শিলা,অনেক পালটে গেছে কতোটা পাল্টেছে তা কেউ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবে না, মেয়েটা আমার বিতরে বিতরে গুমরে গুমরে মরছে,আর আমি মা হয়ে তা দেখছি

শিলা: মা কেদো না তো সব ঠিক হয়ে যাবে
আনুশা: হঠ্যাৎ এসে দেখি মার চোখে পানি,একি মা তুমি কাদছো কেনো

শিলা: মা আসলে ভাবছে উনার দুই মেয়ে উনার কাছে সুমি টা আসলে ভালো হতো ( কথা গুরানোর জন্য বললাম)

আনুশা: মা তুমি কেদো না তো যখন আমার একটা চাকরি হবে তখন বড় একটা বাসা নিবো, তখন তিন মেয়ে কে এক সাথে দেখবে,

আনুশার আম্মু: সুমি কে একটু ফোন কর তো,

আনুশা: আচ্ছা করছি,এই নাও রিং হচ্ছে রিসিভ হলে কথা বলবে

শিলা: চল আনু আমরা একটু কথা বলি দুই বোনের অনেক দিন পর দেখা হলো,
আনুশা: হুম তা যা বলেছো আপু তোমাকে পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি,আর ও খুশি হতাম যদি সুমি আপু ও একসাথে থাকতো।

এই ভাবে গেলো আর ও কিছু দিন

আজ আনুশাদের রেজাল্ট বের হবে আনুশা তো সকাল থেকে টেনশন এ শেষ গতো কাল শিলা আপু ও চলে গেছে, কতো করে বললাম থেকে যেতে থাকলো না দুলা ভাইয়ের খাওয়া দাওয়ার নাকি প্রব্লেম হচ্ছে,এখন যে কি করি রেজাল্ট জানি কেমন হয় উফফ আর ভাবতে পারছি না কান্না পাচ্ছে যদি রেজাল্ট ভালো না হয় তা হলে আমি কি করবো

আনুশার আম্মু: চিন্তা করিস না মা আমি জানি তোর রেজাল্ট ভালো হবে

আনুশা: মা তুমি বলছো ভালো হবে,আল্লাহ তুমি আমার মায়ের কথা টা কবুল করো এই ভাবে হতাসার মধ্যে আনুশার সময় যাচ্ছে,
#
তানভীর :: রেজাল্ট নিয়ে আমার কোন চিন্তা নাই,হয় তো রেজাল্ট আসবে না,নয় তো টেনে টুনে পাশ করা রেজল্ট আসবে,আমি জানি এক্সাম ভালো হয়নি,

তানভীর এর আম্মু: তানভীর জানিস তোর বাবা কাল দেশে আসছে

তানভীর : জানতাম না তো আম্মু তা আব্বু হঠ্যাৎ করে দেশে ফিরছে কেনো
আম্মু: হঠ্যাৎ করে আসতে যাবে কেনো অনেক দিন থেকেই আসার কথা চলছে,তোকে নাকি তোর আব্বু কয়েক দিন কল দিয়েছে,তুই নাকি তোর আব্বুর কল রিসিভ করিস নি,

তানভীর : হুম আম্মু আসলে কথা বলতে ভালো লাগেনি তাই

আম্মু: তুই জানিস তোর পরিক্ষার রেজাল্ট নিয়ে তোর আব্বুর কতো সপ্ন,ওনি আজই আসতে ছেয়ে ছিলো টিকেট পায়নি তাই কাল আসছে

তানভীর : মন খারাফ হয়ে গেলো কেননা আমি আব্বুর সপ্ন পুরন করতে পারবো না,

আম্মু: ভাবিস না বাবা রেজাল্ট ভালোই হবে আল্লার রহমতে
দুপুর ২ টার দিকে রেজাল্ট বের হলো

আনুশা: মা এবার তা হলে একবার কলেজ থেকে ঘুরে আসি,এতোক্ষনে রেজাল্ট বের হয়ে গেছে মনে হয়
আনুশার আম্মু: তা হলে যা,

এইদিকে তানভীর সকাল থেকেই কলেজ এ ওয়েট করতেছে রেজাল্ট এর জন্য,(কি ভাবছেন তানভীর নিজের রেজাল্ট এর জন্য অপেক্ষা করছে,না ও আনুশার রেজাল্ট দেখবে বলে অপেক্ষা করে বসে আছে)

তানভীর : যখন এ শুনলাম,নোটিশ বোর্ড এ রেজাল্ট শিট দিয়ে দিয়েছে তখনই ভোঁ দৌড় লাগালাম,
রেজাল্ট শিট দেখে তো আমি বলার ভাষা হারিয়ে পেলেছি,স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি

তানিম: কিরে এই ভেবে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো তোর তো রেজাল্টই আসেনি

তানভীর : তানিমের কথায় আমার ঘোর কাটলো, ওওও আমার টা আসেনি তা হলে, কোন ব্যাপার না তুই আনুশার রেজাল্ট টা দেখ তো

তানিম: আনুশার রেজাল্ট দেখে আমার কি হবে

তানভীর : ভ্রূ কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে, তুই বুঝবি না সর তো প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছে যাবো এই বলে হাটা ধরলাম অফিস রুমের দিকে
তানভীর : মে আই কামিন

প্রিন্সিপাল স্যারর:ইয়েস

তানভীর : স্যারর আনুশার রেজাল্ট দেখেছেন

স্যার: হুম দেখেছি আমরা কয়েকজন স্যারর মিলে এখন আনুশা দের বাড়িতে যাবো

তানভীর : (খুশি হয়ে) ও তাই নাকি

স্যার: কিন্তু আনুশার রেজাল্ট দেখে তুমি এতো খুশি কেনো তোমার তো রেজাল্ট ই আসেনি

তানভীর : কি যে বলেন স্যার সবাইকে আর ভালো রেজাল্ট করতে পারে,এর মধ্যে ইংলিশ স্যার মানে আমাদের রবিন স্যারর আসলো,
রবিন স্যারর প্রিন্সিপাল স্যারর কে বলছে স্যার গাড়ি রেডী চলুন আনুশাদের বাড়িতে যাওয়া যাক

প্রিন্সিপাল : হুম চলুন,

প্রিন্সিপাল স্যারর কি ভেবে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন তুমি যাবে আমাদের সাথে

তানভীর : স্যারর এর কথা শুনে তো আমার খুশি তে লাফাতে ইচ্ছে করছে, হুম স্যার। যাবো

এর মধ্যে:মেহেদী স্যারর আমাদের বাংলা শিক্ষক উনি এসে প্রিন্সিপাল স্যারর কে বললেন স্যারর একটা কান্ড ঘটে গেছে

প্রিন্সিপাল : আবার কি ঘটলো

মেহেদী স্যার:জার্নালিস্টি রা কি করে যেনো খবর পেয়ে গেছে ওরা আনুশার ইন্টার্ভিউ নিতে যায়

প্রিন্সিপাল : ও তাই চলো ওদের কে নিয়ে আনুশার বাড়িতে যাবো

তানভীর : আমার তো খুশির সিমা নেই আমাকে এতো খুশি হতে দেখে
তানিম বল্লো s,s,c te তোর রেজাল্ট অনেক ভালো ছিলো তখন তো তুই এতো খুশি হসনি

তানভীর : তানিম তুই বুঝবি না প্রিয়ো মানুষটার ভালো কাজে, কতো টা আনন্দ পাওয়া যায় এটা তুই বুঝবি না

তানিম: রাগ দেখিয়ে আমার বুঝার দরকার নেই আমি গেলাম তুই তো আনুশার বাড়িতে যাবি

তানভীর : হুম যাচ্ছি কেনো তুই যাবি না

তানিম: তোর ইচ্ছে হইছে তুই যা আমাকে এর মধ্যে টানছিস কেনো

তানভীর : ওকে আমি যাচ্ছি,সবাই এক সাথে মাইক্রোবাস করেছে আনুশাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য,আমি এ তাদের সাথে উঠে বসলাম

to bee continue
[09:04, 3/15/2019] sultana eity: হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

writer : সুলতানা ইতি
part:9

গাড়ি চলছে নিজের গতিতে,আর তানভীর এর হার্টবিট যেনো তার থেকে দশগুন বেশি গতি নিয়ে চলছে

আনুশার আম্মু: কিরে তোর হলো, যাবি কখন

আনুশা: এই তো মা আর একটু,আসলে মা টেনশন লাগছে খুব,যদি খারাফ কিছু শুনি তা হলে আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না মা

আনুশার আম্মু: দেখো মেয়ের কান্ড এমন অলক্ষনে কথা কেউ বলে,তুই আল্লাহর নাম করে যা তো

আনুশা: ঠিক আছে মা দোয়া করো এই বলে আনুশা বের হলো
গলির মোড়ে এসেই আনুশা থেমে গেলো ওর কলেজ এর স্যার প্রিন্সিপাল স্যার সবাই আসছে তানভীর কে দেখে তো ওর আর ও ভয় লাগতে শুরু করলো, কি জানি ছেলেটা কোন মতলবে এসেছে তা ও আবার স্যার দের নিয়ে
তানভীর : আনুশা এ ভাবে ছেয়ে আছে কেনো ও কি কিছু বুঝতে পারেনি নাকি,উফফ ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে খুশির খবর টা দিতে, কিন্তু তা সম্ভব না এখানে শিক্ষকরা আছেন উনারাই বলবে

আনুশা: কি জানি কি হয় আজ আমার সাথে তবু ও স্যারর দের কে সালাম করি আগে ( আসসালামু আলাইকুম) স্যার। আপনারা

প্রিন্সিপাল স্যার: কেনো আমাদের আশা করিসনি বুঝি,

আনুশা: ইয়ে মানে, না মানে

স্যারর:তুই এতো নার্বাস হচ্ছিস কেনো

প্রিন্সিপাল স্যার: তা আমাদের কে তোর বাসায় নিবি না

আনুশা:হ্যা স্যার আসুন,( স্যার দের কে বসতে দিবো কোথায় একটাই রুম,যেখানে থাকি ও খানেই, খাই ও,পড়ি ও ইসস কি লজ্জা)
ভাবতে ভাবতেই চলে আসলাম বাসার ভিতরে,

আনুশার আম্মু: কিরে আনু তুই না কলেজ এ গেলি ফিরে আসলি কেন

আনুশা: মা আমার কলেজ থেকে প্রিন্সিপাল স্যারর সহ আসছে

আনুশার আম্মু: কলেজ থেকে কেনো,অভাক হয়ে উনি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন
আনুশার মায়ের কথা উত্তর না দিয়ে স্যারর দের বসতে বল্লো,আর আমতা আমতা করে বল্লো আসলে স্যার আমি আর মা থাকি তো তাই বাড়তি রুম নিই নাই,

স্যার: আনুশা কে থামিয়ে না না, মা তোর এতো ব্যাস্ত হতে হবে না আমরা কয়েকটা কথা বলেই চলে যাবো,তোর আম্মুকে ডাক

আনুশা: জি স্যারর ডাকছি( মনে মনে আল্লাহ জানে মা কে কি বলবে স্যারর, উফফ কি যে টেনশন হচ্ছে)মা তোমাকে স্যারর ডাকছেন

আনুশার আম্মু: স্যার দের সালাম দিয়ে পর্দার আড়ালে দাড়ালেন

স্যার: আসলে আমরা আপনাকে একটা কথা বলতে এসেছি

আনুশার আম্মু: জি স্যার বলুন আমার মেয়ে কি কোন ভুল করেছে

স্যারর:না না ভুল করবে কেনো বরং ও যা করেছে তার জন্য আমরা গর্ভিত,আমাদের কলেজের সবাই অহংকার করে

আনুশার আম্মু: আমাকে কি বুঝিয়ে বলবেন কি হয়েছে

স্যারর: হুম কেনো নয় আপনার মেয়ে এই কয় দিন আগে আমাদের কলেজ ভর্তি হয়েছে,আর এই কয়দিনে সে আমাদের কলেজ এর সবাইকে পিছনে পেলে কলেজ স্টপার হয়েছে ( স্যারর অনেক খুশি মনে কথা টা বললেন)

আনুশা: এতক্ষন মায়ের সাথে দাঁড়ানো ছিলো কথা টা শুনে সে ভিতরে গেলো, চোখে চল চল পানি স্যার আপনি সত্যি বলছেন তো, কেনো জানি না আমার কান কে বিশ্বাস করাতে পারছি না

প্রিন্সিপাল স্যারর:হ্যারে মা দেখ আমরা সবাই এসেছি,তোকে খুশি খবর টা দিতে
আনুশার আম্মু: খুশিতে কেদেই দিয়েছেন,আল্লাহ তারকথা শুনেছেন,এর থেকে বেশি আর কি চাই

আনুশা: স্যার আমি কি নিজের চোখে দেখতে পারি,রেজাল্ট টা,

প্রিন্সিপাল স্যারর:কেনো নয় একশোবার দেখবি, আগে দাড়া আমাদের সাথে আর ও কিছু গেস্ট এসেছে তাদের সাথে কথা বলে নে

আনুশা: অভাক হয়ে গেস্ট?

স্যারর:কই আপনারা এবার ভিতরে আসুন, স্যার বলার সাথে সাথে কয়েকজন লোক ভিতরে ডুকে গেলো তাদেত হাতে ক্যামেরা সহ আর ও অনেক কিছু আছে
আনুশা: এরা কারা

স্যার:আনুশা এরা জার্নালিস্ট তোর ইন্টার্ভিউ নিতে এসেছে

আনুশা: আমি তো অভাক হলাম,এতো খুশি আল্লাহ আমার কপালে লিখে রেখেছেন আনুশার ঘোর কাটলো জার্নালিস্ট দেত কথায়

জার্নালিস্ট: ম্যাম আপনার এতো টা সাকসেস এর পিছনে কারন টা জানতে পারি, যে খানে এখন কার ছেলে মেয়েরা পড়া শুনা বাদ দিয়ে খারাফ নেশায় আসক্ত হচ্ছে সেখানে আপনি সব কিছু কে এড়িয়ে চলে এতো ভালো রেজাল্ট করেছেন এর পিছনে কারন টা জানতে পারি

আনুশা: খুভ স্বাভাবিক হয়ে উত্তর দিলো

আমি আমার লাইফে অন্য। কিছুর দিকে খেয়াল করিনি,আমার লখ্য । একটাই ছিলো, লাইফে সাকসেস হওয়া,

জার্নালিস্ট: ম্যাম আপনি এখন কি করবেন বলে আশা করেন,বা আপনি আপনার লাইফে কি হতে চান, কি হওয়ার স্বপ্ন,মানে আমাদের কে যদি একটু বলতেন?

আনুশা:আমি এখন কোন কিছু নিয়ে ভাবছিনা,আর আমি কোন কিছু নিয়েই আশা রাখি না,যে আমি লাইফে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো এমন কোন স্বপ্ন আমার নেই,আমার স্বপ্ন আমার মাকে ভালো রাখা জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত তার পাশে যেন আমি থাকতে পারি,

জার্নালিস্ট: তার মানে আপনি এখন পড়া লিখা বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছেননা?

আনুশা: আমি পড়া লিখা করবো না এই টা আপনাদের কে বলিনি,তবে কতটুকু পর্যন্ত করবো সেটা আমার ভাগ্যের উপরে নির্ভরশিল,

জার্নালিস্ট: ওকে ম্যাম আমরা, আপনার মাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই

আনুশা আম্মু: অদের সামনে গিয়ে দাড়ালেন

জার্নালিস্ট: আপনার মেয়ের এতো ভালো একটা রেজাল্ট করেছে এই নিয়ে আপনার কোন কিছু বলার আছে

আনুশার আম্মু: আমার আর কি বলার থাকবে আমার মেয়েকে নিয়ে গর্ব করি,সে যেন তার লাইফে ভালো একটা পর্যায়ে পৌছাতে পারে আমি সেই দোয়া করি

প্রিন্সিপাল স্যার:আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে আপনারা আর অহেতুক প্রশ্ন করে উনাদের বির্বত করবেন্না,আপনারা তো আনুশার কথা শুনেছেন আর কি
জার্নালিস্ট:আসলে স্যার মেয়ের এতো বড় একটা সাফল্যে মায়ের,মনের অবস্তা টা কেমন সেটা ই জানার ছিলো

প্রিন্সিপাল স্যার: আপনারা প্রশ্ন করা বন্ধ করলে আমরা উনাদের কিছু বলার সুযোগ পেতাম
জার্নালিস্ট : ওকে স্যার তা হলে আমরা আসছি,(জার্নালিস্ট রা চলে গেলো)

প্রিন্সিপাল : আনুশা মা তোকে কিছু বলার ছিলো,একটু শুনবি

আনুশা: জি স্যার বলুন

প্রিন্সিপাল : আমরা সবাই মিলে কাল তোকে একটা সম্ভর্ধনা দেয়ার অনুষঠানের আয়োজন করেছি,আসলে আমরা বললে ভুল হবে শহরের অনেক নামি দামি মানুষেরা এখন তোর সাথে দেখা করতে চাইবে, সেখানে সবাই উপস্থিত থাকবে

আনুশা: স্যারর এই সব না করলেও পারতেন,এমনিতে ও আপনাদের দোয়া আর ভালোবাসা আমার সাথে ছিলো বলেই আজ আমি এখানে দাড়াতে পেরেছি

to be continue