গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

সত্যি একটি রিয়েল গল্প,,,সবাই পড়েন আশা করি ভালোলাগবে আপনাদের কাছে…..

গল্প : ভালোবাসার পরিণতি

লেখিকা : নীল পরী

আজমিরার ও মিরাজের ১ বছরের প্রেম কাহিনী।

আজমিরা ও মিরাজ একে অপরকে খুব ভালোবাসে। আজমিরা আর মিরাজের বাসা এক পাশা পাশি। আজমিরাকে প্রথম দেখেই মিরাজের ভালোলেগে যায় এবং আজমিরার ও। কিন্তু কেও কাউকে বলেনি। প্রতিদিনই তাদের দুজনের দেখা হয়। এমন করে দেখতে দেখতে কিছু দিন চলে গেলো। একদিন মিরাজ কিছু না ভেবেই আজমিরাকে বলল…..
মিরাজ : আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই, যদি কিছু মনে না করেন..!!
আজমিরা : ( নিচে তাকিয়ে হাসছে) হ্যাঁ বলেন।😊
মিরাজ : কেমন আছেন..???

আজমিরা : জ্বী ভালো… আপনি কেমন আছেন..??

মিরাজ : হুমমম আমিও ভালো আছি…। আচ্ছা তোমার নাম কী..?😍
আজমিরা : আমার( বলতে না বলতেই)
মিরাজ : ইয়ে মানে Sorry… 😋
আজমিরা : কেনো..??? 🤔
মিরাজ : ভুলে তুমি করে বলে ফেলেছি তার জন্য..😔
আজমিরা : Ok কোনো সমস্যা নেই,, আমাকে আপনি তুমি করেই বলতে পারেন… 😊
মিরাজ : আচ্ছা তাহলে আপনি ও ইয়ে মানে তুমি ও আমাকে তুমি করে বলবে…। এখন বলো তোমার নাম কী..? 😍
আজমিরা : আমার নাম আজমিরা…☺ আপনার নাম টা… ( বলা শেষ না হতেই)
মিরাজ : মিরাজ আমার নাম মিরাজ 🙂 আমি তোমার বাসার পাশেই থাকি….।
আজমিরা : ওওও তাই বুঝি তা তোমার( কথা শেষ না হতেই)
মিরাজ : আজমিরা I LOVE YOU ☺
আজমিরা : ( লজ্জা পেয়ে আর খুশি হয়ে) কি বললা তুমি…???

মিরাজ : না মানে… আমি তোমাকে ভালোবাসি….

আজমিরা কিছু না বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছে আর মিরাজ ও লজ্জায় ভয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারছে না। আজমিরা একটু দূরে গিয়ে বলে… আমি ও😍 মিরাজ অর কথা শুনে খুব খুশি….। অরা প্রতিদিন কথা বলে, দেখা করে আর অনেক ভালোবাসে। মিরাজ আজমিরাকে রাগানোর জন্য কত কিছু বলে ইচ্ছে করে অন্য মেয়েদের কথা বলে। আর আজমিরা ও রেগে যায়। এমন করেই তাদের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম চলতে থাকে। কিন্তু কথায় আছে না বেশি সুখ কপালে সয় না। আজমিরার মামাতো ভাই আছে। আর ভাই যেহেতু তো কথা তো হতেই পারে… আজমিরা যে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলে তা আবার মিরাজ অর ফোনে চেক করে দেখে,,, কিন্তু আজমিরা কিছু বলে না সে চায় মিরাজ সব দেখুক। কিন্তু মিরাজ আজমিরাকে সন্দেহ করতে শুরু করে। মিরাজ আজমিরাকে বলে….
মিরাজ : আজমিরা তুমি তোমার মামাতো ভাইয়ের সাথে কেনো কথা বলো তুমি কি তাকে ভালোবাসো…??
আজমিরা : এই সব তুমি কি বলছ মিরাজ। তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি…!!তুমি আমাকে এই কথাটা বলতে পারলে মিরাজ…। 😢

মিরাজ : হে পারলাম… তোমার ভাই তোমাকে ভালোবাসে…!!

আজমিরা : না মিরাজ এটা তোমার ভুল ধারনা,, তুমি আমাকে বিস্বাস করো( কাদঁতে কাদঁতে) মিরাজ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি….
মিরাজ : মিথ্যে কথা,, আর শুনো আমার সাথে তুমি আর কথা বলবা না….!! 😡
আজমিরা : মিরাজ এমন করে বলো না আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না,,, তুমি আমাকে সন্দেহ করে না প্লিজ।আচ্ছা আমি তোমার সামনে আমার ভাইকে কল দেই তুমি শুনো প্লিজ।😢
তার পর আজমিরা তার মামাতো ভাইকে কল দিল এবং সাউন্ড বারিয়ে দিলো ফোনের,, কল রিসিভ করলো আজমিরার মামাতো ভাই আর বলল…..
আজমিরার মামাতো ভাই :: হেল্লো
আজমিরা : শুন ( একটু কান্না কন্ঠে)
ভাই : হে বল,, আর তর গলা এমন লাগছে কেন..?? কি হইছে 🤔
আজমিরা : তুই কি আমাকে ভালোবাসাস…??
ভাই : এই এইসব কি বলছিস তুই মাথা ঠিক আছে তোর…? তুই আমার বোন,, আর বোন হিসাবে যতটুকু একটা ভাই ভালোবাসে ততটুকুই তোকে ভালোবাসি.. আর তেমন করে কিছু না।
আজমিরা : তুই বল ভালো বাসিস না.
ভাই : না বাসি না…। তুই আমাকে এমন কথা বলতে পারলি 🙁

কল কেটে দিয়ে আজমিরা মিরাজ কে বলল।

আজমিরা : শুনেছ তুমি ( কেদে কেদে) এখন তো বিস্বাস করো আমাকে।
মিরাজ : হয়েছে তোমার কান্না শুনে তোমার ভাই মিথ্যে কথা বলেছে..!!😠
আজমিরা : মিরাজ..তুমি আমাকে ভুল বুঝ না প্লিজ…
মিরাজ : শুনো তোমার কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। আর তুমি আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করবে না।
আজমিরা : তুমি কোনো আমাকে ভুল বুঝতাছ… এমন করে বলো না প্লিজ…. আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি..আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না… 😭😭
মিরাজ : আমি কিছু শুনতে চাই না।

মিরাজ আজমিরার কোনো কথাই শুনে চায়নি,,, সন্দেহ করে ভুলই বুঝল কিন্তু আজমিরা এত কিছুর পর ও মিরাজ কে কাছে পেতে চাইলো। কিন্তু মিরাজ আজমিরার ভালোবাসাটা বুঝলো না। আজমিরা খুব কান্না করে। কিন্তু মিরাজ তার মূল্য দিল না।

সমাপ্ত

কিছু কথা:- ভালোবাসায় কখনো কেউ কাউকে সন্দেহ করবেন না। কারণ সন্দেহ খুব খারাপ যা সম্পর্ককে, জীবনকে শেষ করে দেয়। ভালোবাসায় ভুল বুঝা বুঝি না করে বিস্বাস করতে হয়। এমন অনেক আজমিরার মত লোক আছে যে সব কিছু নিরবে সয়ে যায় তবুও ভালোবাসার মানুষটাকে তার জীবনে চায়। তাই সবার কাছে অনুরোদ প্লিজ সম্পর্কের মাঝে কেউ অবিস্বাস,, সন্দেহ,ভুল বুঝা বুঝি করবেন না। তাহলে সম্পর্ক টিকে থাকবে সুখের হয়ে।

গল্পটি কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ,
আর গল্পটি যদি ভালোলেগে থাকে তাহলে প্লিজ লাইক দিবেন,, আর শিয়ার করে আপনার বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ সবাইকে সাথে থাকার জন্য।

ঘুমন্ত রাজপরী_পর্ব(০১)

ঘুমন্ত রাজপরী

ঘুমন্ত রাজপরী_পর্ব(০১)

ছাপ্পান্ন মিনিট পার হল। | ফিরােজ বসে আছে। কারাে কোনাে খোঁজ নেই। ঘুমন্ত রাজপুরীর মতাে অবস্থা। কোনাে শব্দটব্দও পাওয়া যাচ্ছে না, যা থেকে ধারণা করা যায় এ-বাড়িতে জীবিত লােজন আছে। সে যে এসেছে, এ-খবরটি ছাপ্পান্ন মিনিট আগে পাঠানাে হয়েছে। বেঁটেখাটো এক জন মহিলা বলে গেল—আফা আসতাছে। ব্যস, এই পর্যন্তই। ফিরােজ অবশ্যই আশা করে না যে, সে আসামাত্র চারদিকে ছােটাছুটি পড়ে যাবে। বাড়ির কর্তা স্বয়ং নেমে আসবেন এবং এনাকে চা দিতে এত দেরি হচ্ছে কেন? বলে চেচামেচি শুরু করবেন। তবে এক ঘন্টা শুধুশুধু বসে থাকতে হবে, এটাও আশা করে না। সময় এখনাে এত সস্তা হয় নি।
‘আপনি কি আমাকে ডাকছিলেন?
পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ফিরােজ মনে-মনে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল । চমৎকার মেয়েগুলি সব এমন-এমন জায়গায় থাকে যে, ইচ্ছা করলেই হুট করে এদের কাছে যাওয়া যায় না। দূর থেকে এদের দেখে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতে হয় এবং মনে-মনে বলতে হয়—আহা, এরা কী সুখেই না আছে। | ফিরােজ উঠে দাঁড়াল। সালামের মতাে একটা ভঙ্গি করল। এটা করতে তার বেশ কষ্ট হল। উনিশ-কুড়ি বছরের একটি মেয়েকে এ-রকম সম্মানের সঙ্গে সালাম করার কোনাে মানে হয়!
ফিরােজ বলল, আমি আপনার বাবার কাছে এসেছি।’ ‘বাবা তাে দেশে নেই, আপনাকে কি এই কথা বলা হয় নি?”
হয়েছে। ‘তাহলে? মেয়েটির চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। যেন কৈফিয়ত তলব করছে, কেন তাকে
ডাকা হল। ফিরােজ ঠাণ্ডা গলায় বলল, আপনার বাবা নেই বলেই আপনাকে খবর। দিতে বলেছি। গল্পগুজব করার উদ্দেশ্যে খবর দেয়া হয় নি।
অপালা পর্দা ছেড়ে ঘরের ভেতর ঢুকল। লােকটিকে চট করে রেগে যেতে দেখে তার বেশ মজা লাগছে। বয়স্ক মানুষেরা মাঝে-মাঝে খুবই ছেলেমানুষি করে।
| ‘আপনার বাবা আমাকে কমিশন করেছেন বসার ঘরটি বদলে নতুন করে সাজিয়ে দিতে। এই সাজ তাঁর পছন্দ নয়।
‘আপনি কি একজন আর্টিস্ট?
‘না। আর্টিস্টরা মানুষের ঘর সাজায় না। তারা ছবি আঁকে। আমার কাজ হচ্ছে আপনাদের মতাে পয়সাওয়ালাদের ঘর সাজিয়ে দেয়া।
‘বেশ, সাজিয়ে দিন।
‘আপনি জানেন তাে, আপনার বাবা ড্রইংরুমটা বদলাতে চাচ্ছেন? | ‘না, জানি না। বাবার মাথায় একেকটা খেয়াল হঠাৎ করে আসে, আবার হঠাৎ করে চলে যায়। আপনি বসুন।
ফিরােজ বসল। মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। এইসব পরিবারের মেয়েরা অসম্ভব অহঙ্কারী হয়। এক জন হাউস ডেকোরেটরের সঙ্গে এরা বসবে না। এতে এদের সম্মানের হানি হবে।
‘আমি ভাবছিলাম আজই কাজ শুরু করব।’ ‘করুন।”
‘আপনার বাবা আমাকে টাকাপয়সা কিছু দিয়ে যান নি। জিনিসপত্র কিনতে আমার কিছু খরচ আছে।
‘আপাতত খরচ করতে থাকুন। বাবা এলে বিল করবেন।
এত টাকা তাে আমার নেই। আপনি কি কোনাে ব্যবস্থা করতে পারেন? আমি কী ব্যবস্থা করব? | ‘আপনার বাবা বলেছিলেন, যে-কোনাে প্রয়ােজনে আপনাদের এক জন ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে-নিশানাথবাবু। কিন্তু তাঁর ঠিকানা আমাকে দিয়ে যান। নি।
‘আপনি অপেক্ষা করুন, আমি ম্যানেজার কাকুকে খবর দিয়ে নিয়ে আসছি। আপনাকে কি ওরা চা দিয়েছে?
‘চা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
আপনার অসীম দয়া।
অপালা হেসে ফেলল। অসীম দয়া বলার ভঙ্গির জন্যে হাসল, না অন্য কোনাে কারণে, তা বােঝা গেল না। সে দোতলায় উঠে ম্যানেজার সাহেবকে টেলিফোনে আসতে বলল। নিশানাথবাবুকে এ-বাড়িতে সবাই ম্যানেজার ডাকে, তবে ম্যানেজারি ধরনের কোনাে কাজ উনি করেন না। উনি বসেন মতিঝিল অফিসে। গুরুত্বহীন কাজগুলি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে করেন। টাটকা মাছ কেনার জন্যে প্রায়ই ভােররাতে দাউদকান্দি চলে যান। এই জাতীয় কাজে তাঁর সীমাহীন উৎসাহ।।
অপালার টেলিফোন পেয়েই বললেন, এক্ষুণি চলে আসছি মা। এই ধর পাঁচ
মিনিট। এর সঙ্গে আরাে দু’মিনিট যােগ করে নাও, রাস্তাঘাটের অবস্থা তাে বলা যায়
না! ঠিক না মা?
‘তা তাে ঠিকই।’
‘এক মাইল চওড়া রাস্তা; এর মধ্যেও ট্রাফিক জ্যাম। দেশটার কী হচ্ছে, তুমি বল? একটা অনেস্ট অপিনিয়ন তুমি দাও … | নিশানাথবাবু বকবক করতে লাগলেন। তিনি দশ মিনিটের আগে টেলিফোন ছাড়বেন না। কথার বিষয় একটিই-দেশ রসাতলে যাচ্ছে। মুক্তির কোনাে পথ নেই। দেশের সব কটা মানুষকে বঙ্গোপসাগরে চুবিয়ে আনতে পারলে একটা কাজের কাজ হত ইত্যাদি।
| অপালা রিসিভার কানে নিয়ে সুযােগের অপেক্ষা করতে লাগল কখন বলা যাবে, কাকা, টেলিফোন রাখলাম।
| ফিরােজ ভেবেছিল একটি খুব সুদৃশ্য কাপে এক কাপ চা-ই শুধু আসবে। অন্য কিছুই থাকবে না। অসম্ভব বড়লােকরা এককথার মানুষ—যখন চায়ের কথা বলেন তখন শুধু চা-ই আসে, অন্য কিছু আসে না। অথচ প্রচণ্ড খিদে লেগেছে। ভাের সাতটায় পরােটা-ভাজি খাওয়া হয়েছিল, এখন বারটা দশ। খিদেয় নাড়ি পাক দিয়ে উঠছে। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে সে এতটা হৃদয়হীন হবে না। সঙ্গে কিছু-না-কিছু থাকবে। এদের ফ্রীজ খাবারদাবারে সবসময় ভর্তি থাকে। চট করে চমৎকার একটা স্যাণ্ডউইচ বানিয়ে দেয়া এদের কাছে ছেলেখেলা। দু’টি রুটির মাঝখানে কয়েক টুকরাে পনির, শসার কুচি, এক চাকা টমেটো। ফ্রেঞ্চ ড্রেসিং-এর আধচামচ। গােলমরিচের গুড়। চমৎকার!
| কাজের মেয়েটি ট্রে নিয়ে ঢুকল। যা ভাবা গিয়েছে তাই। সুদৃশ্য কাপে চা এবং রুপপার একটা গ্লাসে এক গ্লাস হিমশীতল পানি। খিদে নষ্ট করার জন্যে ফিরােজ সিগারেট ধরাল। সেন্ট্রাল টেবিলে চমৎকার একটি অ্যাশটে। নিশ্চয়ই অনেক টাকা খরচ করে কেনা। একটি পরী নিচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরীটির গা থেকে কাপড় খুলে যাচ্ছে। সে কাপড় সামলাতে ব্যস্ত। অগােছালাে কাপড়ের কারণে লজ্জায় তার গাল রক্তিম। এ জাতীয় অ্যাশট্রেগুলিতে কেউ ছাই ফেলে না। এতটা দুঃসাহস কারাে নেই। ফিরােজ ছাই দিয়ে সেটা মাখামাখি করে ফেলল। তার খুব ইচ্ছা করছে উঠে যাবার সময় এদের কোনাে একটা ক্ষতি করতে। কার্পেটের খানিকটা সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেয়া, কাপটা ভেঙে ফেলা। এ-রকম ইচ্ছা তার প্রায়ই হয়।
ম্যানেজার নামক জীবটির এখনাে কোনাে দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটি খবর দিয়েছে কি না কে জানে। নিজের ঘরে গিয়ে হয়তাে গান শুনছে কিংবা ভিসিআর-এ ‘আকালের সন্ধানে’ চালু করে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের চিন্তায় মগ্ন।
ফিরােজ কাপ হাতে নিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। ছাগল-দাড়ির এক লােক দু’টি অ্যালসেশিয়ানকে গােসল দিচ্ছে। সাবান দিয়ে হেভি ডলাডলি। কুকুর দু’টি বেশ আরাম পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নড়াচড়া করছে না। লােকটি কুকুর দু’টির সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় কথা বলছে। কাম কাম, সিট ডাউন, নটি বয়, বি কোয়ায়েট জাতীয় শব্দ শােনা যাচ্ছে। কুকুররা বিদেশি ভাষা এত ভালাে বােঝে কেন কে জানে। দেশি ঘিয়ে ভাজা কুত্তাকেও ‘কাম হিয়ার’ বললে কুঁই-কুঁই করে এগিয়ে আসে। ফিরােজের বাথরুম
পেয়ে গেল। কোনাে বাড়িতে গিয়ে ফট করে বলা যায় না—ভাই, আপনাদের বাথরুম কোথায় ? মালদার পার্টিদের ড্রইং রুমের পাশেই ব্যবস্থা থাকে। এখানে নেই। ড্রইং রুম নাম দিয়ে কুৎসিত একটা জিনিস বানিয়ে রেখেছে। ছাদ পর্যন্ত উচু শাে-কেসে রাজ্যের জিনিস। যেন একটা মিউজিয়াম। পয়সার সঙ্গে-সঙ্গে রুচি বলে একটা বস্তু নাকি চলে আসে। ডাহা মিথ্যে কথা। এই জিনিসটি সঙ্গে নিয়ে জন্মাতে হয়। | একটা পাঁচ বাজে। ম্যানেজারবাবুর দেখা নেই। ফিরােজের উচিত স্নামালিকম বলে উঠে যাওয়া। স্নামালিকুম বলারও কেউ নেই। অহঙ্কারী মেয়েটি এ-ঘরে আর ঢােকে নি। হয়তাে ভেবেছে এ-ঘরে ঢুকলেই থার্ড রেট একটি ছেলের সঙ্গে প্রেম হয়ে যাবে। আরে বাবা, প্রেম এত সস্তা নয়। হুট করে হয় না। হুট করে প্রেম হয় কনজারভেটিভ ফ্যামিলিগুলিতে। ঐ সব ফ্যামিলির মেয়েরা পুরুষদের সঙ্গে মিশতে পারে না, হঠাৎ যদি সুযােগ ঘটে যায়—তাহলেই বড়শিতে আটকে গেল। উপরতলার মেয়েদের এই সমস্যা নেই। কত ধরনের ছেলের সঙ্গে মিশছে! | ফিরােজ উঠে দাঁড়াল। শশা-কেসটির সামনে কিছুক্ষণ কাটানাে যায়। ভদ্রলােক দেশ-বিদেশ ঘুরে এত সব জিনিস এনেছেন, কেউ এক জন দেখুক। এই বাড়িতে যারা বেড়াতে আসে তাদের শাে-কেসও এ-রকম জিনিসে ভর্তি। এরা নিশ্চয়ই দেখার ব্যাপারে কোনাে উৎসাহ বােধ করে না। আর থাকা যায় না, চলে যাওয়া উচিত। ডেকোরেশনের ফার্মটা ভার হলে এতক্ষণে চলেই যেত। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, ফার্মটা তার নয়। এক দিন যে এ-রকম একটা ফার্ম তার হবে, সে-রকম কোনাে নমুনাও বােঝ যাচ্ছে না।
ম্যানেজার বাবু ঠিক দেড়টার সময় এলেন। ফিরােজ প্রথম যে-কথাটি বলল, তা হচ্ছে—বাথরুমটা কোথায়, আপনার কি জানা আছে?
অনেকক্ষণ থেকেই টেলিফোন বাজছে। | অপালা বারান্দায় ছিল, শুনতে পায় নি। ঘরের দিকে রওনা হওয়ামাত্র শুনল। টেলিফোন বেজেই যাচ্ছে, আহানা জনি কে টেলিফোনের রিং হলেই অপালার কেন জানি মনে হয়, কেউ ব্যাকুল হয়ে ডাকছে। তার খুব একটা বড় সমস্যা। এই মুহূর্তেই তার কথা শােনা দরকার। এক বার সত্যি-সত্যি হলও তাই। রিসিভার তুলতেই ভারি মিষ্টি গলায় একটি মেয়ে বলল, ‘সালাম ভাইকে কি একটু ডেকে দেবেন? আমার খুব বিপদ।’
অপালা বলল, ‘সালাম ভাই কে? ‘আপনাদের একতলায় থাকে। প্লীজ, আপনার পায়ে পড়ি। আমাদের একতলায় তাে সালাম বলে কেউ থাকে না। ‘তাহলে এখন আমি কী করব?
বলতে-বলতে সত্যি-সত্যি মেয়েটি কেঁদে ফেলল। অপালা নরম স্বরে বলল, আপনার রং নাম্বার হয়েছে, আবার করুন, পেয়ে যাবেন। আমি রিসিভার উঠিয়ে
১০
রাখছি, তাহলে আর এই নাম্বারে চলে আসবে না।’
মেয়েটি ফোঁপাতে-ফোঁপাতে বলল, নাম্বার ঠিক হলেও লাভ হবে না। ওরা ডেকে দেয় না।’
‘তাই নাকি?
‘হ্যা। শুধু যূথী বলে একটা মেয়ে আছে, ও ডেকে দেয়। কে জানে, আজ হয়তাে যূথী নেই।
‘থাকতেও তাে পারে, আপনি করে দেখুন। | ‘আমাকে আপনি-আপনি করে বলছেন কেন? আমি মাত্র ক্লাস টেনে উঠেছি। আমাকে তুমি করে বলবেন।
| মেয়েটির সঙ্গে তুমি-তুমি করে কথা বলার আর সুযােগ হয় নি। তার টেলিফোন নাম্বার জানা নেই। মেয়েটিও অপালার নাম্বার জানে না। রং নাম্বারের একটি ব্যাপারে অল্প পরিচয়। কত দিন হয়ে গেল, এখনও সেই মিষ্টি গলার স্বর অপালার কানে লেগে আছে। টেলিফোন বেজে উঠলেই মনে হয়, ঐ মেয়েটি নয়তাে?
, ঐ মেয়ে না। সিঙ্গাপুর থেকে অপালার বাবা ফখরুদ্দিন টেলিফোন করেছেন। ‘কেমন আছ মা? ‘খুব ভালাে। ‘তােমার মা’র কোনাে চিঠি পেয়েছ?
আজ সকালেই একটি পেয়েছি। মা এখন প্রায় সুস্থ। সেকেও অপারেশনের ডেট পড়েছে? সে-সব কিছু তাে লেখেন নি। ‘এই মহিলা প্রয়ােজনীয় কথাগুলি কখনাে লেখে না। তুমি সন্ধ্যা সাতটা-সাড়ে সাতটার দিকে টেলিফোন করে জেনে নিও। এখানে সন্ধ্যা সাতটা মানে লণ্ডনে ভাের ছয়টা।
‘আচ্ছা, আমি করব।’ ‘খুব একা-একা লাগছে নাকি?” “না, লাগছে না। তুমি আসছ কবে? ‘আরাে দু’দিন দেরি হবে। কোনাে খবর আছে?
না, কোনাে খবর নেই।’ বসার ঘরটা নতুন করে সাজাতে বলে গিয়েছিলাম। কিছু হচ্ছে? ‘হা, হচ্ছে। ভীষণ রােগা আর লম্বা একটা ছেলে রােজ এসে কী—সব যেন করছে। তার সাথে মিস্ত্রি-টিস্ত্রিও আছে।”
কাজকর্ম কতদূর এগােচ্ছে? ‘তা তাে জানি না বাবা! আমি নিচে বিশেষ যাই না।
একটু বলে দিও তাে, যাতে আমি আসার আগে-আগে কমপ্লিট হয়ে থাকে। আমি এক্ষুণি বলছি। আর শােন, তােমার মাকে কিছু জানিও না। সে এসে সারপ্রাইজড় হবে। ‘আচ্ছা।’
ঐ ছেলেটার নাম কি?
কোন ছেলেটার? ‘কাজ করছে যে। ‘নাম তাে বাবা জানি না। জিজ্ঞেস করি নি। নাম দিয়ে তােমার কী দরকার?
‘কোনাে দরকার নেই। মতিন বলে একটা ছেলেকে দিতে বলেছিলাম। ওর কাজ ভালাে। কিন্তু তুমি তাে বলছ রােগা, লম্বা। ঐ ছেলে তাে তেমন লম্বা নয়।
‘আমি নাম জিজ্ঞেস করব। যদি দেখি ও মতিন নয়, তাহলে কী করব?
‘কাজ বন্ধ রাখতে বলবে। আমি স্পেসিফিক্যালি বলেছি মতিনের কথা। তােমার পরীক্ষা কেমন হচ্ছে মা?
‘তালাে হচ্ছে না।
খুব বেশি খারাপ হচ্ছে? ‘কেমন যেন মাঝামাঝি হচ্ছে! মাঝামাঝি কোনাে কিছুই আমার ভালাে লাগে না।
ফখরুদ্দিন সাহেব উঁচু গলায় হাসতে লাগলেন। অপালার এই কথায় হঠাৎ করে । তিনি খুব মজা পেলেন।
‘আচ্ছা মা, রাখলাম। ‘তুমি ভালাে আছ তাে বাবা? ‘অসম্ভব ভালাে আছি। খােদা হাফেজ।
অপালা নিচে নেমে এল। ঐ ভদ্রলােক বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসে আছেন। তার সঙ্গের দু’ জন লােক করাত দিয়ে কাঠ টুকরাে করছে। অপালা বসার ঘরে উকি দিল। সমস্ত ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে। পেইনটিংগুলি নামিয়ে রাখা হয়েছে, শাে-কেসটি নেই। কার্পেট ভাঁজ করে এক কোণায় রাখা। অপালা বলল, আপনি কেমন আছেন?
ফিরােজ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ‘আমাকে বলছেন? ‘হ্যা, আপনাকেই। আপনার নাম কি মতিন? ‘আমার নাম মতিন হবে কী জন্যে? আমার নাম ফিরােজ। ‘আপনার নাম ফিরােজ হলে বড়াে রকমের সমস্যা কাজ বন্ধ।’
কাজ বন্ধ মানে?’ ‘কাজ বন্ধ মানে হচ্ছে আপনি আপনার জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ি চলে যাবেন।
ফিরােজের মুখ হাঁ হয়ে গেল। যেন এমন অদ্ভুত কথা এর আগে সে শশানে নি। অপালা হেসে ফেলল। সে অবশ্যি হাসি মুহুর্তের মধ্যেই সামলে ফেলল। শান্ত গলায় বলল, ‘বাবা টেলিফোনে বললেন, মতিন নামের একজনের নাকি কাজটা করার কথা।
| কিন্তু আমি তাে ঠিক তার মতােই করছি।
‘আপনি করলে হবে না।’ ‘মতিন এখন ছুটিতে আছে। তার বড়াে বােনের অসুখ। বরিশাল গেছে।
বরিশাল থেকে ফিরে এলে আবার না-হয় করবেন। | ফিরােজ সিগারেট ধরাল। মেয়েটির কথা তার এখন বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে সে ঠাট্টা করছে। যদি ঠাট্টা না হয়, তাহলে তার জন্যে বড়াে ধরনের ঝামেলা অপেক্ষা করছে। এই কাজটি সে জোর করে হাতে নিয়েছে। করিম সাহেবকে বলেছে, কোনাে
অসুবিধা নেই, মতিনের চেয়ে কাজ খারাপ হবে না। করিম সাহেব বিরক্ত হয়ে বলেছেন, “আরে না। ভদ্রলােক মতিনের কথা বলেছেন।
| ‘আমি নিজে তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। সে বলেছে, আমি করলেও চলবে। কাজ ভালাে হলেই চলবে। | ‘দেখেন, পরে আবার ঝামেলা না হয়। বড়লােকের কারবার। মুডের উপর চলে। মাঝখানে যদি বন্ধ করে দেয়…..’
‘পাগল হয়েছেন! কাজ দেখে চোখ ট্যারা হয়ে যাবে।

চলবে……

হারিয়ে যাওয়া  পথ খুঁজে পাওয়া part 22

হারিয়ে যাওয়া  পথ খুঁজে পাওয়া part 22

লেখা –সুলতানা ইতি

তানভীর: আজ কতো গুলো বছর পর আনুশাকে দেখলাম ও ঠিক আগের মতোই আছে একটুও চেঞ্জ হয়নি,ও তো জানে না ওকে দেখার পর আমার বুকের ভিতরে চলাৎ করে ঢেউ বয়ে যাওয়া শুরু করলো,, বুকের রক্ত আবার নিজের গতীভেগে ফিরে এসেছে
আজ অনেক বছর পর,আশার আলো দেখেছে এই দুই চোখ তোমাকে ফিরে পাবার আশা, আর তোমাকে হারিয়ে যেতে দিবো না,

কিন্তু আজ যদি ও আমকে এই চাকরি থেকে বের করে দেয় তা হলে তো ওর কাছা কাছি থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে

অন্নি: মিঃ তানভীর

তানভীর : ও অন্নি ম্যাম আপনি,আসুন আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিতে বলেছে তাই না

অন্নি: না তা বলেনি,আমি আছি না

তানভীর : হাহ সত্যি তো আনুশা আমাকে ওর অফিসে রাখবে

অন্নি: হুম, আচ্ছা শুনুন আপনার সাথে আমার কথা আছে

তানভীর : জি বলুন

অন্নি: আরে অফিসে না, অফিস শেষ এ বাইরে কোথায় ও মিট করবো আমরা কেমন
তানভীর : ওকে

আনুশা: অন্নি এখন ও কি করছে একটু পরে যে মিটিং শুরু হবে সে দিকে খেয়াল নেই তার,ইন্টার কমে রত্নাকে ফোন করে বল্লো আনুশাকে পাঠিয়ে দিতে

কিছুক্ষন পর অন্নি এসে, ম্যাম চলুন মিটিং এর সময় হয়ে গেছে

আনুশা: আপনার তা হলে মনে আছে

অন্নি; মনে থাকবে না কেনো ক্লাইন্টরা এসে গেছে আসুন মিটিং শুরু করা যাক

আনুশা আর অন্নি মিটিং রুমে গেলো & ভালো ভাবে ডিলটা ফাইনাল করলো

অন্নি: যাক আনুশার অনেক ইচ্ছে ছিলো এই ডিলটা যেন ঠিক ভাবে হয় এখন,কোন ঝামেলা হয়নি এই অনেক

দুপুরে লাঞ্চের বিরতি,অন্নি: ম্যাম বাসা থেকে আপনার খাবার পাঠিয়েছে আপনি খেয়েনিন

আনুশা: আপনি খাবেন না,

অন্নি: আমি ক্যান্টিনে খেয়ে নিবো

আনুশা: কোথায় ও খেতে হবে না আমরা দুজনে খাবারটা খেতে পারবো

অন্নি: যাহ এখন কি হবে ভেবেছিলাম,লাঞ্চ এর সময় তানভীর এর সাথে কথা বলে নিবো সেটা ও তো হলো না, এখন কি করবো

আনুশা: কি এতো ভাবছেন অন্নি, চলুন খেয়ে নিবেন

অন্নি: হুম,,

খাওয়া শেষ এ। অফিসের কিছু কাজ ছিলো অন্নি সব গুলো তাড়া তাড়ি শেষ করে নিলো,,

আনুশা: এতো তাড়া হুড়া করে কাজ করছিস কোথায় ও যাবি নাকি

অন্নি: হ্যারে সরি,ম্যাম আসলে আম্মু ফোন করেছিলো, কি জানি কাজ আছে, যেতে হবে তাই

আনুশা: ও আন্টি ফোন করেছিলো তো তাড়া তাড়ি যা কাজ করতে হবে না, নিশ্চয় খুব দরকারে ডেকেছে

অন্নি: যাক বাচা গেলো আমার মিথ্যা বলাটা বুঝতে পারেনি নইলে তো সব ভেস্তে যেতো, অন্নি অফিস থেকে বের হয়ে তানভীর কে মেসেজ করে দিলো আনুশা কে কি বলে অফিস থেকে বের হবে সব বলে দিলো

তানভীর মেসেজ পেয়ে আর দেরি করলো না,আনুশার ক্যাবিন এর বাইরে থেকে নক করলো

আনুশা: ওহ নো এ কে অফিসে রাখলে ও শুধু কাজের অযুহাতে আমার কাছে আসতে ছাইবে, বাট অফিসে না রেখে ও উপায় নেই,,,,ইয়েস

তানভীর : ম্যাম এখানে আসার পর, বাড়ি থেকে ফোন এসেছে হঠ্যাৎ করে নাকি আমার আম্মুর শরির টা খুব খারাফ হয়ে গেছে,এখন ম্যাম আমি ছাড়া তো আম্মুর কেউ নেই কে দেখবে বলুন

আনুশা: এতো ঘুরিয়ে পেছিয়ে না বলে সোজাই তো বলতে পারেন, যে আপনার ছুটি লাগবে

তানভীর : ইয়ে মা,মানে ম্যাম

আনুশা: আর কিছু বলতে হবে না যান,আপনার আম্মুর কাছে যান,, আর হ্যা রোজ রোজ এই ভাবে কাজে ফাঁকি দেয়ার জন্য ছুটি চাইবেন্না

তানভীর : জি ম্যাম,
বেরিয়ে পড়লাম উফ বাচলাম,যে ভাবে উকিলের মতো জেরা করা শুরু করছে,এখন মিস অন্নির দেয়া ঠিকানায় পৌছাতে হবে

আনুশা: অফিসের কাজ গুলো শেষ করে আজ বাড়িতে যাবো বিদেশ থেকে আসার পর মা আর আপুকে একদম সময় দেয়া হয়নি
এর মাঝে একবার সুমি আপু জামাইয়ের সাথে দেখা করবো,,আপুর সাথে উনি সংসার করতে চায়কি চায় না,জানতে হবে

তানভীর ঠিকানা অনুযায়ী পৌছে গেলো,,স্থান একটা কফি শপ

অন্নি: উফ এই তানভীর ছেলেটা আসছে না কেনো,আনুশা ছুটি দিয়েছে তো ওকে

তানভীর : সরি সরি অনেক্ষন ওয়েট করতে হলো তাই না

অন্নি: ও আপনি এসে গেছেন, যাক তা হলে আনুশা কে ম্যানেজ করতে পারলেন

তানভীর : একটু কষ্ট হয়েছিলো, বুঝেনই তো ম্যাম বিজনেস এর ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ করতে চায় না

অন্নি: তা বুঝি না আবার,,আচ্ছা কি খাবেন বলুন অর্ডার করি আগে

তানভীর : আমার কফি হলেই চলবে

অন্নি: ওকে এক্সকিউজমি ভাইয়া দুইটা কফি দেন, এই টেবিলে

তানভীর : তা কেনো ডেকেছেন জানতে পারি

অন্নি: ইয়াহ অবশ্যই জানবেন দাড়ান কফি খেতে খেতে বলবো, আমার আবার খাওয়ার সময় গল্প করা খুব পছন্দ,, এই তো কফি এসে গেছে

তানভীর : এই বার তা হলে শুরু করা যাক

অন্নি: হুম,আপনি জানেন তো আমি আনুশার কি হই

তানভীর : কেনো আপনি আনুশার পিএ, এটা না জানার কি আছে

অন্নি: আপনার জানার মধ্যে একটু ভুল আছে আমি ওর পিএ প্লাস আমি ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড,প্লাস বোন, কেনো না আনুশার আম্মু আমাকে মেয়ের মতোই স্নেহ করে

তানভীর :😱😱😱😱😱 বলেন কি,তা হলে আপনারা একজন আরেক জন কে আপনি করে বলেন কেনো

তানভীর : আমাদের মহাররানীর মতে অফিস কাজের জায়গা,কোন ফ্রেন্ড আড্ডার জায়গা নয়,কাজের জায়গাতে সবাই সবাইকে আপনি করে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে হবে

তানভীর : জিও, লভলি, আপনার বান্ধুবী কে দিয়ে সব সম্ভব

অন্নি: তা ঠিক,বাট কথা হচ্ছে আমার মনে হয় আপনি অনেক ভালোবাসেন আনুশা কে তাই না

তানভীর : খুশি হয়ে আপনি জানেন কি করে নিশ্চয় আনুশা বলেছে তাই না,তা হলে আপনার সাথে আমামার গল্প ও করেছে,আমি জানি তো ও আমাকে মনে মনে ভালো বাসে কিন্তু মুখে বলতে চায়না

অন্নি: এতো এক্সাইটেড হওয়ার মতো কিছু বলেনি, ওকে,
আমি সেই স্কুল লাইফ থেকে আনুশার বন্ধু,,ওকে ভালো করে চিনি,বুঝি ওর মনের ভাষা,, আমাকে ও বলেছিলো আপনার কথা,কলেজে একটা ছেলে ডিস্ট্রাব করে,আমি ভাবলাম এই রকম অনেক ছেলেই আছে টাইমপাস করার জন্য মেয়েদের পিছনে ঘুরে,, তাই এতো গুরুত্ব দিই নি,,,আপনি ছিলেন না সে দিন এয়ারপোর্ট এ, আমার মনে ও ছিলো না আপনি সেই,,

তানভীর : হুম আমি গেছিলাম সেদিন আনুশার সাথে দেখা করতে, ভেবেছিলাম ওর সাথে আর কোন দিন দেখা হবে না,,কিন্তু আবার যে ওকে দেখতে পাবো আমি তা কল্পনা ও করিনি, ওকে দেখে আমার বুকের ভিতর চলাৎ করে উঠে, আপনি বুঝতে পারবেন্না,তখন আমার মনের ভিতরে কি চলছিলো আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না,,

অন্নি: হুম বুঝতে পেরেছি আমি,আজ এই টা বুঝলাম যে আপনার মতো করে আনুশা কে কেউ ভালোবাসতে পারবে না,, তাই আমি চাই আপনি আনুশার মন জিতুন ওর মনে একটু একটু করে জায়গা করে নিন

তানভীর : কিন্তু কি করে আনুশা তো আমাজে সহ্যই করতে পারে না।

অন্নি: সুযোগ টা আমি আপনাকে করে দিবো

তানভীর : কি করে,,

অন্নি: বাবা মা অনেক দিন থেকেই আমার বিয়ের কথা বলছে, কিন্তু আনুশার কথা ভেবে আমি চুপ ছিলাম,এখন আমি সেই বাহানায় অফিসে যাবো না আর আমার পরে সব কাজ আপনি দেখবেন,এই দায়িত্ব আমি আপনাকে দিবো

তানভীর : কিন্তু ম্যাম আপনার জায়গায় যদি আপনার বান্ধুবী আরেক জনকে নিয়ে আসে

অন্নি: আনবে না কারন চাকরিটা আমি ছাড়বো না, আপনি শুধু আমার এপসেন্স এ আমার কাজ গুলো দেখার বাহানায় আনুশার কাছা কাছি যাবেন,এমন কিছু করবেন যাতে ও আপনার প্রতি ইমপ্রেস হয়ে যায়

তানভীর : আমার একটা প্রশ্ন ছিলো

অন্নি: হুম বলুন

তানভীর : আনুশার জীবনে কি এমন হয়েছে যে সে ছেলেদের সহ্য করতে পারে না, আর বিয়ের মতো একটা পবিত্র বন্ধন কে সাপোর্ট করে না

অন্নি: (নাহ আনুশা ফাস্ট সম্পর্কে আমি তানভীর কে কিছু বলবো না,তানভীর যদি সব জেনে আনুশা কে আর ভালো না বাসে,তা হলে মেয়েটার মনটা আবার ভেঙে যাবে)নাহ তেমন কিছুই নেই,এমনি ওর বিয়ে হয়ে গেলে ওর মা কি করবে, কে দেখবে তাকে তাই জন্য আর কি

তানভীর : ও আচ্ছা তাই,,ঠিক আছে অনেক কথা হলো এবার তা হলে উঠা যাক
অন্নি: হুম চলুন

আনুশা আজ অনেক দিন পর বাড়িতে সবার সাথে গল্প করছে

সুমি: আনু আজ না ছোট বেলার কথা খুব মনে পড়ছে এখন শুধু বড় আপু থাকলে ভালো হতো

আনুশা: তা ঠিক বলেছিস,বড় আপু তো এখন আসতে পারবে না, অনেক কাজ নাকি ওর,

সুমি: হুম, কি করা আমরা দুই বোন মিলে আড্ডা দিই,অন্নি থাকলে ও হতো অন্নি কোথায় রে

আনুশা: আন্টি ফোন করেছিলো তাই দেখা করতে গেছে
সুমি: ওহ

আনুশা: আপু তুই কি আর ভাইয়ার কাছে ফিরে যাবি না

সুমি; কি করে যাবো মানুষ টা কে আমি এতো বছরে ও একটা সন্তান দিতে পারিনি,,

আনুশা: আজ কাল এই রকম তো হয়েই থাকে,, তোরা বাচ্চা দত্তক নিবি তা হলেই তো হয়

সুমি: তা হলে তো ভালোই হতো কিন্তু আমার শাশুড়ি এতে রাজি নয়,আর তোর দুলা ভাই মায়ের কথার উপরে কথা বলে না

আনুশা: ঠিক আছে আমি দুলা ভাইয়ের সাথে কথা বলবো,, এমন সময় আনুশার ফোন বেজে উঠলো

আপু অন্নি ফোন করেছে কথা বলে আসি
অন্নি বল কি খবর আন্টি কেমন আছে

অন্নি: সব ঠিক আছে জানিস আব্বু আমার বিয়ে এক রকম ফাইনাল করে ফেলেছে

আনুশা: হোয়াট তোকে না জানিয়ে বিয়ে ফাইনাল করে কি করে

অন্নি: এখন ঠিক হয়নি, বাসার সবার ছেলেকে পছন্দ ইতালি থেকে এসেছে,ইতালি তে নাকি ছেলের বিজনেস আছে,,কালকে দেখতে আসবে ছেলে পক্ষ আমাকে,তুই আসবি তো

আনুশা: তুই তা হলে কাল অফিসে আসতে পারবি না

অন্নি: তুই ও তো অফিসে যাবি না,তুই অফিসে গেলে এখানে আসবে কে

আনুশা: আমি পরে যাবো

অন্নি: পাত্র পক্ষ চলে গেলে তুই আসার কি দরকার,,আর তুই পাত্র পছন্দ না করলে আমি বিয়ে করবো না

আনুশা: কি বলছিস তুই, বিয়ে করবি তুই ছেলের সাথে থাকবি তুই আর পছন্দ করবো আমি,ইম্পসিবল

অন্নি: আমি ওতো কথা বুঝি না তুই আসবি,,বায়

আনুশা: যাহ কিছু বলার সুযোগ ও দিলো না,,এখন না যেয়ে কোন উপায় নেই,ও সব সময় আমার পাশে থেকেছে,আর আমি ওর জীবনের ইম্পরট্যান্ট সময়ে থাকবো না তা ও তো হয় না একদিন অফিসে না গেলে কিছু হবে না,,,মহনাকে সব বুঝিয়ে দিবো, আর তানভীর তো আছেই,,ও দেখে নিবে সব আমি জানি

to be continue

একটি পানকৌড়ির গল্প ৭

 

একটি পানকৌড়ির গল্প

৭.

রশীদ আলমের বাড়ি খুঁজতে গিয়ে আফতাব হোসেনের দারুণ হয়রানি হয়েছে! এই লোক তো তার চেয়েও কিপটে মনে হচ্ছে। এতো ভিতরে কেউ বাড়ি করে! সে অবশ্য নিজেও তো বেশ ভিতরে বাসা ভাড়া করে থাকেন। কিন্তু রশীদ আলম সাহেব তাকেও হার মানিয়েছেন বটে! তবে মধ্যবিত্তরা ইচ্ছাকৃত ভাবে কিপটে হয়না। হাজারটা কারণ থাকে। কলিং বেলে চাপ দিয়ে বুঝতে পারলেন, কলিং বেল নষ্ট বা নেই। সুইচ আছে, এতে বোঝা যায় পূর্বে কলিং বেল ছিলো। রশীদ আলম সাহেব সত্যিই আর্থিক সংকটে থাকেন।

দরজায় টোকা দিলেন। তিন চার বার দেয়ার পরে দাঁড়িয়ে রইলেন। ভিতরে মানুষ থাকে কোনো হেলিকপ্টার না, যে উড়ে উড়ে আসবে। নিজেকেই বোঝাতে লাগলেন। কেনো যেন সবকিছুতেই অস্থিরতা কাজ করছে তার৷ কারণ টা খুঁজে পাচ্ছেন না।

১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরে আবার টোকা দিলেন।
বাড়ির লোকজন কি ঘুমায় নাকি? আজব ব্যাপার তো! একজন মানুষ আসবে সেটা তো খেয়াল রাখতে পারে।
আফতাব হোসেন চলে যাবেন ভেবে পা বাড়ালেন তখনই দরজা খুললেন রশীদ আলম সাহেব।
তিনি লজ্জিত হয়ে বললেন
– কিছু মনে করবেন না, দরজা খুলতে দেরি হয়ে গেলো।
আফতাব হোসেন বললেন
– আজকে সব বিষয়ে আমার অস্থিরতা লাগছে। তাই কিছু মনে করতে বাধ্য হচ্ছি। ভেতরে আসা যাবে কি?
রশীদ আলম সাহেব দরজা ছেড়ে দাঁড়িয়ে বললেন
– অবশ্যই। আপনার জন্যই তো অপেক্ষা করছি!
– তাই নাকি? অপেক্ষা করছিলেন তাই দরজা খুলতে এতো দেরি। আর অপেক্ষা না করলে কী হতো কে জানে!
– আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
– মেনে নিলাম।ফারিয়াকে ডেকে আনুন আর তার মাকেও।
রশীদ আলম ভেতরের ঘরে চলে গেলেন। গেলেন তো গেলেনই আর খোঁজ নেই।
আফতাব হোসেন নিজেকেই গালি দিলেন। তার আসা যে ঠিক হয়নি বুঝতে পারছেন।
না এসেও উপায় ছিলো না। এইটুকুন একটা মেয়েকে এভাবে ফেলা যায়না।
প্রায় ১০ মিনিট পরে রশীদ আলম চা, বিস্কুট, চানাচুর নিয়ে এলেন। পিছনে গুটি গুটি পায়ে ফারিয়া এসে বাবার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো।
আফতাব হোসেন বললেন
– এসবের প্রয়োজন ছিলো না। বেশি করে ফেলছেন।
– আপাতত নাস্তা করেন। রাতে খেয়ে যাবেন। ফারিয়ার আবদার!
ফারিয়া নিচু স্বরে বলল
– আপনি না খেয়ে যাবেন না।
বাসার ভেতর থেকে বৃদ্ধা নারী চেঁচিয়ে বললেন
– ঔ মাইয়ার কথায় মন গলতে দিয়েন না ডাক্তার সাহেব। ওর ঘাড়ে জ্বীন আছে জ্বীন। গঞ্জু ফকীর রে দেখাইছিলাম হে কইছে ঘাড়ে জ্বীনের মন্ত্রী বসেছেন। এই মেয়েকে ছাড়বেনা। আপনি ডাক্তার মানুষ আপনি জ্বীন-ভূত ছাড়াবেন ক্যামনে বলেন?
রশীদ আলম লজ্জায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছেন না। তার মা যে এসব বাজে কথা বলে বসবেন বুঝতে পারেননি।
রশীদ আলম আমতা আমতা করে বললেন
– ওসব কথায় কান দিবেন না। মা তো বয়স হয়েছে তাই আরকি…..
বৃদ্ধা চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন। আফতাব হোসেন একটি কথাও বুঝতে পারছেন না। এক নাগাড়ে বিরতিহীনভাবে কথা বললে, সেই কথার আগাগোড়া বোঝা মুশকিল। আফতাব হোসেন ব্যাপারটাকে অগ্রাহ্য করে চায়ের কাপে চুমুক দিলেন।
– আপনার নাকে চিল্লাতে দিন। একাই থেমে যাবে। আর আমাকে নিয়ে ভাববেন না। আমি আপনাদের পারিবারিক বিষয় টাকে অগ্রাহ্য করতে পারবো।
রশীদ আলম নীরবে কোনো প্রতিউত্তর না দিয়েই বসার ঘর ছেড়ে রান্নাঘরের দিকে গেলেন।
ফারিয়া, আফতাব হোসেনের সামনে চেয়ার নিয়ে বসলো।
– চা খাবে মামনী?
ফারিয়া মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালো।
– আজকে মনে হচ্ছে বেশ সুস্থ আছো?
– জি, আজকে গন্ধটা নাকে কম আসছে। ব্যথাও কিছুটা কমেছে।
আফতাব হোসেনের মনে হলো মেয়েটি পুরোপুরি সুস্থ না। ভান করছে সুস্থ হওয়ার। যেমনটা মধ্যবিত্তরা সুখী হওয়ার ভান করে। মেয়েটার চোখ তীব্র কষ্ট ধরে আছে। গলার স্বরটাও সুস্থ দের মতো না। মেয়েটি এখন তাকে মিথ্যা বলেছে।
– স্বপ্নটা আবার বলোতো।
– অন্যদিন বলি? আজকে আমার কিছুটা সুস্থ লাগছে।
– তুমি মোটেও সুস্থ না। তোমার চোখ আর গলার স্বর প্রমাণ করে তুমি অসুস্থ। গন্ধটা কম লাগছে বিধায় নিজেকে সুস্থ মনে হচ্ছে।
– সুস্থ তো হতে পারছিনা।
– স্বপ্নটা আজ বলবা না বুঝলাম তবে আগামীকাল বলতেই হবে। আমি তোমার বাবাকে ফোন করবো তখন বলতে হবে।
– আচ্ছা।
– কিছু প্রশ্ন করবো সঠিক উত্তর দিবে। মিথ্যা হলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারবোনা।
– আমি যদি মিথ্যা বলি আপনি ধরতে পারবেন?
– মামনী, একটু আগেও তো ধরলাম!
ফারিয়া খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো।
ভেতরের ঘরে বসে রশীদ আলমের মা ফারিয়ার এরকম হাসি শুনে বেশ বিরক্ত হলেন। কিছু বলতে চাচ্ছিলেন কিন্তু বললেন না। কারণ ডাক্তার তাকে একেবারেই পাত্তা দেননি।
– তোমার স্কুলে যেতে ইচ্ছা করেনা?
– করে।
– খেলতে?
– করে। আমাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটা মাঠ আছে। এই এলাকার সবাই ওখানেই খেলে।
– তোমার বন্ধু বান্ধবী নেই? তোমাকে দেখতে আসেনা?
– স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেবার পরে ওরা আসতো। কিন্তু দাদী তাদের কে আসতে নিষেধ করেছেন। আমার ঘাড়ে নাকি জ্বীন  আছে। সেই জ্বীন ওদের ক্ষতি করবে।
– তুমি এইসব কথা বিশ্বাস করো?
– না, মোটেও না। আমার দাদী আমাকে পছন্দ করেন না।
বিস্কুটের বাটি এগিয়ে দিয়ে আফতাব হোসেন বললেন
– নাও, বিস্কুটা খাও। একা একা খেতে নিজেকে ছোঁচা মনে হয়।
লিমা দেশি মুরগীর ঝোলের লবণ স্বাদমতো হয়েছে কিনা দেখছিলেন। স্বামীকে লজ্জিত অবস্থায় রান্নাঘরে আসতে দেখে খুব একটা অবাক হলেন না। লিমা জানতেন তার শ্বাশুড়ি আম্মা আজকে বড় কিছু ঘটনা ঘটাবেন। বড় কিছুর তুলনায় এই ঘটনাটি খুব ছোট্ট। স্বামীকে বললেন
– শুকুর করুন যে অল্পের উপর দিয়েই গেছে। এর চেয়ে বাজে কিছু ঘটতে পারতো।
– রান্না হয়েছে?
– প্রায়ই শেষ। কেনো?
– ডাক্তার সাহেব তোমার সাথে কথা বলবেন।
– আমার সাথে আবার কীসের কথা!
– তোমার মেয়ের সম্পর্কেই জানতে চাইবে।
লিমা গুছিয়ে নিচ্ছে কী কী বলবে। আর কীভাবে কথা বলবে। একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলবে সে। ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে।
ডাক্তার সাহেবের সামনে লিমা একা বসে আছেন। ডাক্তার সাহেব তাকে ২০ মিনিট যাবত বসিয়ে রেখেছেন কিন্তু একটা প্রশ্ন পর্যন্ত করেননি। সে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতেও পারছেন না।
আফতাব হোসেন লিমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন
– আমি দুঃখিত আপনাকে এভাবে বসিয়ে রাখার জন্য।
লিমা বললেন
– সমস্যা নেই।
– কী যে বলেন গৃহিণী দের আবার সমস্যা নেই। ৫ মিনিটও আপনাদের বসে থাকার উপায় নাই। সেখানে ২০ মিনিট, যাইহোক।আসল কথায় আসি।
– ফারিয়া তো আপনার সৎ মেয়ে, তাই না?
প্রশ্নটা করে আফতাব হোসেন লিমার দিকে তাকালেন। কষ্টের ছায়া পুরো চোখ মুখ জুড়ে খেলা করছে। মনে হচ্ছে একটু পরেই কেঁদে ফেলবে। ঠিক তাই হলো, চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে শুরু হলো।
আফতাব হোসেন বললেন
– প্রথম যেদিন স্বপ্ন দেখেছিলো সেদিনের ঘটনা মানে স্বপ্ন দেখার আগে বা পরে কী কী করেছিলো ফারিয়া একটু বলবেন? আপনি তো ওর মা আপনি ভালো জানবেন।
চোখের পানি না মুছেই লিমা বলতে শুরু করলেন
– স্বাভাবিক কাজই তো করেছে। স্কুলে গিয়েছিল। তারপর এসে খেয়ে ঘুমালো। ঘুম থেকে উঠে গোসল করে পড়তে বসলো। বিকালে খেলতে গেলো। প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় ফিরে আসলো। সন্ধ্যায় নাস্তা করে আবার পড়তে বসলো। তারপর রাতে খেয়ে ঘুম। কিন্তু ভোরের দিকে ওর বিকট চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে। প্রায় দৌঁড়ে আমি ওর ঘরে গেলাম। ফারিয়া ওর বিছানার উপর বসে ভয়ে কাঁপ ছিলো। আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ও চিৎকার দিয়ে বললো
– মা ব্যথা লাগে। মা পুরো শরীরে আমার ব্যথা।
আমার মেয়েটার কথা কেউ বিশ্বাস করলো না। সবাই ওকে মিথ্যাবাদী বলতে শুরু করলো। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন অবস্থা খুব খারাপ হতে লাগলো তখন ওর বাবা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন।
লিমা চুপ করে গেলেন।
আফতাব হোসেন কিছুক্ষণ ভেবে বললেন
– স্কুলে খারাপ কিছু হয়েছিল?
– না। ও আমাকে সবকিছু শেয়ার করতো। ভালো লাগা, খারাপ লাগা সব। স্কুলে কিছু হলে অবশ্যই আমাকে বলতো।
– বাসায় কিছু বা খেলতে গিয়ে?
– নাহ।
– আপনি ওকে জিজ্ঞেস করবেন অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে কিনা ওর সাথে। আমার জানা টা খুব দরকার। আচ্ছা ওর দাদীর কাছে গল্পটল্প শুনতো বা আপনার কাছে না কারো কাছে?
– ও ছোটো বেলা থেকেই দাদীর কাছ থেকে দূরে থাকতো। আসলেই আমিই দূরে রাখতাম। ওর দাদী ওকে ঠিক পছন্দ করেন না। আমি গল্প বলতাম।
– কীরকম গল্প? ভূতের?
– নাহ, রাজা রাণীর গল্প বা টোনাটুনির গল্প এসব। আমার বাবা নিষেধ করে দিয়েছিলেন বাচ্চাদের যেন ভূতের গল্প না শোনাই।
– কোনোদিন ওর মাঝে অস্বাভাবিক কিছু দেখেছেন বা অস্বাভাবিক কিছু করেছে?
– না।
– আমার ধারণা আপনি ওর সবচেয়ে কাছের, খুব কাছের। আপনাকে আমি ২ দিন সময় দিলাম, খুঁজে বের করুন পূর্ব স্মৃতি থেকে।
আমি আজ উঠি।
– না না খেয়ে যাবেন। যাই রান্না করেছি তাই খেয়ে যাবেন।
চলবে……..!
© Maria Kabir

নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১

লেখিকা: সুলতানা তমা

বেশি বড় না আবার বেশি ছোটও না মাঝারি আকারের একটি রুম, পুরো রুম জুড়ে নীল সাদা অর্কিড ফুলের ছড়াছড়ি। সাথে পুরো রুম জুড়ে জ্বলছে অনেক গুলো ক্যান্ডেল লাইট। খাটের চারপাশে চোখ বোলালাম, পুরো খাটটি সাজানো হয়েছে শুধু নীল সাদা অর্কিড দিয়ে। আচ্ছা নীল সাদা অর্কিড তো আমার পছন্দের ফুল তাহলে কি আমার জন্যই আজ এই বাসর ঘর আমার মনের মতো করে সাজানো হয়েছে? কিন্তু কে সাজাবে, মেঘ? নাহ মেঘ আমার মনের কথা জানবে কিভাবে আর মেঘ আমার মনের মতো করে বাসরঘরই বা সাজাবে কেন? এই বাসর ঘরের তো কোনো প্রয়োজন নেই কারণ মেঘ তো বিয়েটাই করেছে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্বে। অবশ্য আমারো এই বিয়েতে তেমন মত ছিলনা। নিজের দিকে একবার চোখ বোলালাম সবুজ রঙের বেনারসিতে বউ সাজে আমাকে দারুণ লাগছে। আচ্ছা আমি যে বিয়ের সময় সবুজ রঙের বেনারসি পড়ার স্বপ্ন দেখতাম সেটা তো কেউ জানতো না তাহলে এই রঙের বেনারসি কেন? খাটের একপাশে ঘোমটা দিয়ে বসে বসে এসব ভাবছিলাম হঠাৎ দরজা খুলার শব্দ পেয়ে একটু নড়েচড়ে বসলাম। মেঘ এসেছে, বড্ড ইচ্ছে হচ্ছে ওকে বর সাজে একবার দেখতে। ঘোমটাটা আলতো করে একটু সরিয়ে সামনের দিকে তাকালাম, মেঘ মাথার পাগড়ীটা খুলে সোফায় ছুড়ে মারলো তারপর হনহন করে হেটে বারান্দায় চলে গেলো। মেঘের এমন আচরণে আমি মুটেও অবাক হইনি এমনটাই তো হবার ছিল।

দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম রাত দুটু বাজে। এখনো খাটের একপাশে চুপচাপ বসে আছি, মেঘ এখনো বারান্দায় ভাবতেই ভীতরটায় একটু কষ্ট অনুভব হলো। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খাটের মাঝখানে থাকা ঘুমন্ত পরীটার দিকে তাকালাম। নিষ্পাপ এই শিশুটাকে ঘুমন্ত অবস্থায় খুব মায়াবী লাগছে। তোহার মায়াবী মুখটায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলাম, এই নিষ্পাপ মুখ দেখলে সব কষ্ট যেন ভুলে যাই।

চার বছরের ছোট্ট মেয়ে তোহা, মেঘ এর একমাত্র রাজকন্যা তোহা। সেই ছোট্ট বেলায় তোহাকে ফেলে রেখে মেঘ এর প্রথম স্ত্রী চলে গিয়েছিল, মেঘ ওর আদর ভালোবাসা দিয়ে তোহাকে একটু একটু করে বড় করে তুলছে। আজ তোহার বার্থডে, মেঘ আব্বুর বন্ধু আহসানুল আঙ্গেল এর ছেলে তাছাড়া মেঘ এখন আব্বুর অফিসে চাকরি করে সেই সুবাদে আব্বুর সাথে তোহার বার্থডে পার্টিতে এসেছিলাম কিন্তু এখানে এসে আমার জীবনের মুড় এভাবে ঘুরে যাবে ভাবিনি।

এইতো আজ সকালে ঘটে যাওয়া কাহিনী…
বারান্দায় বসে পড়ছিলাম হুট করে আব্বু এসে পিছনে দাঁড়ালেন।
আমি: কি কিছু বলবে?
আব্বু: হ্যাঁ এক জায়গায় যেতে হবে।
আমি: কোথায়?
আব্বু: মেঘ’কে তো তুই চিনিস।
আমি: হ্যাঁ আহসানুল আঙ্গেল এর ছেলে।
আব্বু: হ্যাঁ আর ও তো এখন আমার অফিসেই চাকরি করছে মাঝে মাঝে বাসায়ও আসে, আজ ওর মেয়ের জন্মদিন তা…
আমি: তুমি যাও আমি যেতে পারবো না।
আব্বু: কেন?
আমি: আব্বু তুমি কি ভুলে গিয়েছ তোমার কণা এখন ইন্টার পড়ছে সামনে ওর পরীক্ষা।
আব্বু: ভুলিনি মা কিন্তু আমার সঙ্গে তুই গেলে ওরা সবাই খুব খুশি হতো আর মেঘ এর মেয়েটা একটু সময়ের জন্য হলেও তোর মতো একজন বন্ধু পেতো।
আমি: আব্বু একটি বাচ্চার সবচেয়ে ভালো বন্ধু তার মা, তোহার তো মা নেই আমি কিভাবে…
আব্বু: মা নেই বলছিস কেন? বল রাক্ষসীটা তোহাকে ফেলে চলে গেছে।
আমি: ওই একি হলো।
আব্বু: চল না মা সবাই তোকে দেখে খুব খুশি হবে, আহসানুল যখন গ্রামে থাকতো তখন একবার গিয়েছিলি তখন তো তুই ছোট ছিলি, চলনা মা। জানিস তো তোহা মেয়েটাকে দেখলে বড্ড মায়া হয়। (তোহাকে তো আগে কখনো দেখিনি শুধু ওর গল্পই শুনেছি আব্বুর মুখে, আজ গেলে মন্দ হয় না তোহাকে দেখা হবে)
আমি: ঠিক আছে যাবো।
আব্বু: রেডি হয়ে নিচে চলে আয়।

রেডি হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দেখি আব্বু আম্মু আমার জন্য অপেক্ষা করছেন।
আম্মু: আমার কণা মামুনিকে শাড়িতে কিন্তু বেশ সুন্দর লাগছে।
আমি: সত্যি বলছ নাকি আমাকে খুশি করার জন্য বলছ?
আব্বু: সত্যি মা তোকে খুব সুন্দর লাগছে।
আম্মু: হ্যাঁ মেয়ে কিন্তু বড় হয়ে গেছে…
আব্বু: বিয়ে দিয়ে দিতে হবে হাহাহা।
আমি: আব্বু, আম্মু আমি কিন্তু তোমাদের আগেই বলেছি এই বিয়ে টিয়ে আমি এতো তাড়াতাড়ি করছি না।
আব্বু: ওকে ওকে এখন চল।

একমাত্র রাজকন্যার বার্থডে বলে কথা, পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখছিলাম হুট করে মেঘ এসে সামনে পড়লো।
মেঘ: কণা আপনি আমার বাসায় আসবেন আমিতো ভাবতেই পারিনি।
আমি: তোহাকে দেখতে এসেছি কোথায় ও?
মেঘ: আপনি একটু ওয়েট করুন আমি নিয়ে আসছি। (মেঘ তোহাকে আনতে চলে গেলো)

পুরো বাসা জুড়ে মেহমানের আনাগোনা, আব্বু আম্মু আহসানুল আঙ্কেল ও সাবিরা আন্টির সাথে কথা বলতে ব্যস্ত। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি।
মেঘ: কণা এইযে আমার রাজকন্যা তোহা। (মেঘ এর কথা শুনে পিছন ফিরে তাকালাম, মুগ্ধ হয়ে গেলাম তোহার মায়াবী চেহারা দেখে। এমন নিষ্পাপ শিশুকে রেখে মেঘ এর স্ত্রী চলে গেলো কিভাবে)
মেঘ: তোহা মামুনি এইযে এইটা তোমার কণা আন্টি। (তোহা কোনো কথা বলছে না চুপচাপ আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে)
মেঘ: কি হলো মামুনি? আন্টিকে হাই বলো।
তোহা: এইটা তো আমার আন্টি না। (আধোআধো কন্ঠে বলে উঠলো তোহা, বেশ অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে)
তোহা: এইটা তো আমার নতুন আম্মু। (তোহার এমন কথায় মেঘ আমি দুজনেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম, কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছি না। তোহা এসে আমার শাড়ির আচল ধরে চিৎকার করে উঠলো)
তোহা: সবাই শুনো এইটা আমার নতুন আম্মু।

সবাই বেশ অবাক হয়ে আমাদের তিনজনের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে খুব অসস্থি হচ্ছে, ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে চলে যাই এখান থেকে কিন্তু পারছি না তোহার নিষ্পাপ চেহারা আমাকে বাধা দিচ্ছে।
মেঘ: কণা আমি সত্যি দুঃখিত আমার মেয়ে এমন কিছু বল…
আব্বু: কণা মা কি হয়েছে? তোহা এসব কি বলছে?
মেঘ: স্যার, তোহা বাচ্চা মেয়ে তো তাই ভুল করে…
তোহা: আমি মুটেও ভুল করে বলিনি, এটাই আমার নতুন আম্মু। (তোহার এমন আচরণে শুধু অবাকই হইনি খুব অসস্থিও হচ্ছে, খুব কান্না পাচ্ছে সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে দেখে)
মেঘ: আম্মু তোহাকে নিয়ে যাও তো এখান থেকে। (সাবিরা আন্টি এসে তোহাকে কোলে তুলে নিলেন, তোহা যাবে না বলে হাত পা ছুড়াছুঁড়ি করছে)
আব্বু: দাঁড়ান তোহার সাথে আমি কথা বলছি।
আমি: আব্বু কোনো কথা বলতে হবে না বাসায় চলো।
তোহা: নতুন আম্মু তুমি আমাকে রেখে চলে গেলে আমি কিন্তু কিছুই খাবো না। (তোহা কাঁদছে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে আবার ওর মুখে নতুন আম্মু ডাক শুনে রাগও হচ্ছে খুব)
তোহা: আজ থেকে এইটা আমার নতুন আম্মু, তুমি এক কাজ করো তো এই পরীটাকে এক্ষণি বিয়ে করে ফেলো। (তোহার এমন কথা শুনে মেঘ ধমক দিয়ে উঠলো, মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে দাদুর কোল থেকে নেমে এক দৌড়ে রুমে চলে গেলো)

সবাই আমার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে দেখে আব্বুর হাত ধরে টান দিলাম।
আমি: চলো আব্বু এখানে আর এক মুহূর্তও নয়।
আব্বু: দাঁড়া মা, কোথায় যাবি বাসায়? মেয়েটাকে কাঁদিয়ে চলে গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবি? (সত্যিই তো এমন একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে কাঁদিয়ে কি আমি ভালো থাকতে পারবো)
আব্বু: কণা মা জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এই তিনটা জিনিস কিন্তু আল্লাহ্‌…
আমি: কি বলতে চাইছ আব্বু?
“রায়হান যা চাইছে তা কিন্তু আমরাও চাইছি” (কথাটা শুনে পাশে তাকালাম, মেঘ এর আব্বু আম্মু আমার সামনে দু হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন)
আব্বু: আহসানুল আমি কিন্তু…
আহসানুল আঙ্গেল: তুই আমার বন্ধু তাই বলে তোর মেয়েকে তো আমি জোড় করে আমার বাড়ির বউ করে নিয়ে আসতে পারি না, আজ কণার উপর সব ছেড়ে দিলাম। মা তুমি যা চাইবে তাই হবে।
আমি: কি বলছেন এসব আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, একটা বাচ্চা মেয়ের কথায় আপ…
সাবিরা আন্টি: হয়তো আল্লাহ্‌ চাইছেন তোমাদের দুজনের চারহাত এক হউক তাইতো এই বাচ্চা মেয়ের দ্বারা…
আমি: এ হয় না আন্টি আমি…
“কেন হয় নারে কণা, তুই বড় হয়ে গেছিস বলে আমাদের কথা শুনবি না? নাকি আমরা তোদের চেয়ে গরীব বলে আমাদের পরিবারে আসতে চাইছিস না” (পিছনে দাদিকে দেখে সালাম করলাম, সেই ছোটবেলায় দেখেছিলাম উনাকে)
আমি: দাদি এসব কিছুই না, আপনারা কেন বুঝতে চাইছেন না…
দাদি: এসব নয়তো কি? আমার মেঘ দাদুভাই দেখতে খারাপ? (দাদির কথা শুনে মেঘের দিকে তাকালাম, ও রাগে ফুঁসছে)
মেঘ: সবাই যারযার মতামত জানিয়ে দিচ্ছ হচ্ছেটা কি এসব? একটা বাচ্চা মেয়ে বললো আর তোমরাও ওর সাথে বাচ্চা হয়ে গেলে? ভালো করে শুনে রাখো আমি বিয়ে করতে পারবো না। (মেঘ রাগে গজগজ করতে করতে রুমে চলে গেলো)
দাদি: কণা তোর কি মতামত?
আম্মু: অনেক্ষণ ধরে চুপচাপ সবার কথা শুনে যাচ্ছি, কি পেয়েছেন আমার মেয়েটাকে? আপনারা বললেই আমরা বিয়ে দিয়ে দিবো নাকি?
আব্বু: শারমিন আমি কিন্তু এই বিয়েতে রাজি।
আম্মু: কিন্তু আমি রাজি না। (আব্বু আম্মুর তর্কাতর্কি দেখে দূরে সরে আসলাম, তোহাকে তো কোথাও দেখতে পাচ্ছি না মেয়েটা কি কাঁদছে নাকি)

তোহা: আজ থেকে তুই আর আমার আম্মু না, আমি তোকে ফেলে দিবো। আম্মুরা খুব দুষ্টু হয়, প্রথম আম্মু আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আর আজ নতুন আম্মুও আমাকে রেখে চলে যেতে চাইছে। আর আব্বু তো আরো দুষ্টু, আজ আমাকে বকা দিয়েছে। (তোহাকে খুঁজতে খুঁজতে উপরে চলে এসেছিলাম, জানালার কাছে দাঁড়িয়ে তোহার কন্ঠে এসব শুনে ভিতরে চোখ রাখলাম। তোহা হাতের পুতুলটা ছুড়ে ফেলে দিতে যেতেই মেঘ তোহাকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো)
তোহা: ছাড়ো আমাকে, তুমি আমাকে বকা দিয়েছ কথা বলোনা আমার সাথে। (তোহার কান্নাভেজা কন্ঠে মেঘের কান্না যেন আরো বেড়ে গেলো)
মেঘ: মামুনি আমি আর তোমাকে বকা দিবো না, তুমি এই পুতুলটা ফেলে দিওনা। এই পুতুল তো তোমার মা তাই না?
তোহা: চাই না আমার আম্মু, সব আম্মুরা দুষ্টু হয় সব আম্মুরা পঁচা। (তোহার এই কথাটা যেন আমার কলিজায় এসে লাগলো। ছোট মেয়েটির মা নেই, একটু মায়ের ভালোবাসা চাইছে ওর মন আর আমি কিনা…)
মেঘ: মামুনি তুমি যা চাইছ তা হয়না মা। কণা আন্টিটা অনেক বড় লোক আর বড়লোক মেয়েরা বাচ্চা ফেলে চলে যায় কণা আন্টি খুব পঁচা তোমাকে ফেলে চলে যাবে। তুমি আর জেদ করো না।
তোহা: বললাম তো এই পরীটাই আমার নতুন আম্মু হবে নাহলে আমি না খেয়ে খেয়ে মারা যাবো তখন বুঝ…
মেঘ: চুপ কর মা, এসব কি বলছিস? তুই ছাড়া আমার আর কি আছে তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো কি নিয়ে। (মেঘের মেয়েকে এমনভাবে জরিয়ে ধরে কান্না দেখে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না)
আমি: মেয়েকে ছাড়া বাঁচতে পারবেন না যখন মেয়ের কথা মেনে নিচ্ছেন না কেন? (মেঘ আমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে)
মেঘ: কি বলছেন এসব? এইটা হয় না।
আমি: কেন হয় না? আমি যদি ছোট্ট তোহার জন্য নিজের সব স্বপ্ন ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিয়ে করতে রাজি হতে পারি তাহলে আপনি বাবা হয়ে পারবেন না কেন?
মেঘ: আপনি রাজি মানে?
আমি: হ্যাঁ আমি এই বিয়েতে রাজি। আমি তোহা মামুনির নতুন আম্মু হতে চাই।
তোহা: এ্যা আমার নতুন আম্মু পঁচা না খুব ভালো। (তোহা এতোক্ষণ ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আমার কথা গুলো শুনছিল, বিয়েতে রাজি বলতেই দৌড়ে এসে আমার কোলে উঠলো)
মেঘ: আমি পৃথিবীর কোনো মেয়েকে বিশ্বাস করি না বুঝেছেন? এই বিয়ে হবে না, আমি ঘৃণা করি মেয়ে জাতিকে।
আমি: তোহার নতুন আম্মু হবো বলেছি যখন তখন হবই পারলে আটকান।
তোহা: হিহিহি পরীটা। (তোহা হাসতে হাসতে আমার নাক টেনে দিলো, ওকে নিয়ে বেরিয়ে আসলাম)

আব্বুর সাথে আম্মু এখনো তর্ক করছেন দেখে আমি গিয়ে আব্বুর পাশে দাঁড়ালাম।
আমি: আব্বু আমি বিয়েতে রাজি। (সবাই অবাক হয়ে একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আবার আমার কোলে থাকা তোহার দিকে তাকাচ্ছে)
আম্মু: কণা কি বলছিস ভেবে চিন্তে বলছিস তো?
আমি: হ্যাঁ আম্মু।
দাদি: আমি জানতাম কণা এই বিয়েতে রাজি হবে।
মেঘ: কিন্তু আমি রাজি না। (মেঘের কথা শুনে ওর পরিবারের সবাই ওর কাছে গিয়ে বুঝাতে শুরু করলো। আম্মু এসে তোহাকে আমার কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে আমার হাত ধরে টেনে একটু দূরে নিয়ে আসলেন)

আম্মু: কণা তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
কণা: না আমি ঠিক আছি আর আমি তোহার আম্মু হতে চাই।
আম্মু: এই পরিবারে তুই থাকবি কিভাবে? তাছাড়া মেঘ বিবাহিত।
কণা: কেন থাকতে পারবো না এই পরিবারে? কি কম আছে ওদের? আমাদের চেয়ে অনেকটা গরিব এটাই তোঁ? আমি মানিয়ে নিতে পারবো। আর মেঘ এর কথা কি বললে ও বিবাহিত? তাতে কি হয়েছে আম্মু, ওর বিয়েটা টিকেনি এতে কি ওর দোষ?
আম্মু: কিন্তু মেঘ তো বিয়েতে রাজি না, তুই সুখী হবি নারে মা।
আমি: আজ রাজি না কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলে পর হয়তো একদিন মেনে নিবে তাছাড়া আমি তোহার জন্য বিয়েটা করছি তাই তোহা আমার কাছে থাকলে আমি আর কিছুই চাই না।
আম্মু: তোর যা মন চায় কর।

আম্মু চলে গেলেন, চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি আর ভাবছি আমি কি ঠিক করছি এসব? পরক্ষণেই তোহার মায়াবী মুখটার দিকে নজর পড়লো, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। নাহ এই বিয়ে আমাকে করতেই হবে শুধুমাত্র তোহার জন্য, আর মেঘ তো খারাপ ছেলে নয়, শুধু মেয়েদের জন্য ওর মনে একটু ঘৃণা জন্মে গেছে, আমি নাহয় আমার ভালোবাসা দিয়ে সব ঘৃণা ধুয়ে মুছে দিবো।
মেঘ: ওকে আমি রাজি। (মেঘের কথা শুনে তাকালাম ওর দিকে, স্পষ্ট বুঝতে পারছি ও পরিবারের সবার কথায় রাজি হয়েছে)

কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিয়ের আয়োজন করা হলো, সন্ধ্যাবেলা মেঘের বাড়িতেই বিয়েটা হয়ে গেলো। আর আট-দশটা মেয়ের মতো আমিও বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম কিন্তু আজ সবকিছু…

বারান্দার দরজা খুলার শব্দ শুনে ঘোমটাটা পুরোপুরি সরিয়ে মেঘের দিকে তাকালাম। এতোক্ষণ হয়তো একের পর এক সিগারেট টেনেছে, ওর চোখ মুখ তো তাই বলছে। এলোমেলো পায়ে হেটে এসে মেঘ দফ করে সোফায় বসে পড়লো। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। আমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেঘ চেঁচিয়ে উঠলো…
মেঘ: এই মেয়ে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন আর বউ সেজেই বা বসে আছ কেন? খবরদার একদম অধিকার ফলাতে আসবা না আমি মেয়েদের ঘৃণা করি। (বিয়ে তো জীবনে একটাই হয় তাই মেঘের কথার পাত্তা না দিয়ে খাট থেকে নেমে ওকে সালাম করতে গেলাম)

সালাম করতে যেতেই মেঘ আমার দুহাত ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে সজোরে একটা থাপ্পড় মারলো আমার গালে। থাপ্পড়ের শব্দে তোহা ঘুম থেকে উঠে বসে গেছে আর আমি বোবার মতো গালে হাত দিয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছি। প্রথম রাতেই এমন, জানিনা বাকি জীবনে আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে।

চলবে😍

প্রেমেরপরশ  পার্ট_31 ( লাস্ট পার্ট)

প্রেমেরপরশ 

পার্ট_31 ( লাস্ট পার্ট)

জামিয়া_পারভীন

__ “ নাহহ!  হটাৎ করে লোকটা হারিয়ে গেলো ই বা কোথায়।  ” রিমি ওর ভাইকে বলে।

শুভ তখন বলে,

__ “ চিন্তা করিস না,  কালপিট কে একদিন না একদিন খুঁজে পাবোই। যারা কিনা আমার নিরুকে এতিম করেছিলো,  যারা নিরুর বোন কে নষ্ট করেছে,  যে কিনা আমার একমাত্র বোনকে নিয়ে গেমস খেলেছে।  তাকে আমি সহজে ছেড়ে দিবো না।  একদিন সময় আসবেই।  আর সেদিন সব শত্রু কে জীবন থেকে সরিয়ে দিবো।  ”

__ “ চলো ভাইয়া,  ভাবী বাসায় একাই আছে।  ”

শুভরা চলে আসে বাসাতে।  দেখতে দেখতে এক মাস কেটে যায়।  শুভর একার পক্ষে এতো বড় বিজনেস সামলানো খুব কঠিন হয়ে গিয়েছে।  সারাক্ষণ অফিসে,  একেক সময় একেক অফিসে যাওয়া,  আর বাসায় বসে ল্যাপটপ এ অফিসের কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে শুভ।  আজকাল নিরুকে বা শায়ান কেও তেমন সময় দিতে পারেনা শুভ।

সেদিন রাতে ঘরে গিয়ে শায়ানের পাশে বসে,

__ “ পাপ্পা টা কেমন আছে,  আই এম সো সরি পাপ্পা,  তোমার আব্বু টা খুব পঁচা।  তোমাকে একদম ই সময় দিতে পারে না। ”

শায়ান বাবার গলা পেয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে হাসে আর শব্দ করে।  নিরু পিছন থেকে শুভ কে জড়িয়ে ধরে,  অনেক দিন পর নিরুর স্পর্শে শুভ কেঁপে ওঠে।  নিরুর দিকে তাকিয়ে দেখে,  নিরু কালো শাড়ির সাথে পিংক কালারের পাড়ের  সিল্কের শাড়ি পড়েছে।  চোখে কাজল দিয়েছে গাড় করে।  চুল গুলো বুকের বাঁ পাশে ছেড়ে রেখেছে।  গলায় কিছুই দেয়নি কিন্তু কানে পিংক কালারের দুল দিয়েছে।  পায়ে নুপুর পড়েছে নিরু এই প্রথম।

নিরুর দিকে তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে দেখে কিছুক্ষণ।  এরপর নিরু বলে,

__ “ বেবি হবার পর তুমি তো আমায় ভুলেই গেছো।  নাকি আগের মতো ভালোবাসোনা আমায় আর।  ”

__ “ বউটা মনে হচ্ছে অনেক অভিমান করেছে আমার উপর।  ” নিরুর কোমরে হাত দিয়ে নিজের কাছে টেনে নেয় শুভ।  এরপর আবার বলে,

__ “ সামনে তুমি এইচএসসি পরীক্ষা দিবে, রিমিও পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।  তাই তোমাকে ও সুযোগ দিয়েছি।  এতোদিন তো এতো মানসিক টেনশন এ পড়াশোনা কিছুই করোনি।  তাছাড়া সাগর ভাই নেই।  এতো বড় বিজনেস আমাদের সাথে তোমার পারিবারিক বিজনেস সব একা সামলাতে হচ্ছে।  এতো কিছু মেইনটেইন করে সত্যিই আমি আমার পরিবার কে সময় দিতে পারিনি।  আমি জানি তুমি মনে মনে খুব কষ্ট পাচ্ছো।  মাফ করে দেয়া যায়না তোমার হাজবেন্ড টা কে। ” শুভ নিরুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে।।

__ “ জানো!  খুব একা লাগে নিজেকে।  তুমি সব সময় ব্যস্ত থাকো। আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয়? ”

__ “ কি কাজ বলো? ”

__ “ এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে রিমির জন্য একটা পাত্র দেখলে কেমন হয়। ”

__ “ আগে তো শেষ হোক,  এরপর না হয় দেখা যাবে।  ”

নিরুকে জড়িয়ে ধরে আরোও শক্ত করে।  এরপর শুভ বলে,

__ “ এখন না হয় তোমার সাথে একটু রোমান্স করি। ” বলেই নিরুর গলাতে মুখ গুঁজে দেয় শুভ।  ওরা ভাসুক ওদের ভালোবাসার রাজ্যে।

৫ মাস পর,

শুভদের বাসার ভিতর  সাজানো হয়েছে ফুলে ফুলে।  বাইরে দিকে রঙ বেরঙের লাইটিং।   অনেক মেহমান কে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।  আজ রিমির গায়ে হলুদ।  রিমি কে হলুদ শাড়ি আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে।  নিরু রিমিকে কানে কানে বলে,

__ “ একেবারে হলুদ পরী লাগছে তোমাকে ননদিনী।  ” বলে নিরুর চোখ থেকে একটু কাজল নিয়ে রিমির গলাতে দিয়ে দেয়।

__ “ ভাবী এই বিয়েটা করতে ইচ্ছে করছে না।  কোন ভাবে কি নিষেধ করা যায় না। ”

__ “ তোমার কি অন্য কোন পছন্দ আছে রিমি! ”

__ “ তুমি তো জানোই যাকে একবার ভালোবেসে ফেলা যায়,  সে যতই খারাপ হোক না কেনো ভুলে থাকা খুব কষ্টের।  আমি কেনো জানি অন্য কাউকেই মেনে নিতে পারছিনা।  ”

__ “ যাই করো,  ভুল বুঝোনা আমায়,  কষ্ট হলেও বিয়েটা করেই নাও।  কারণ জীবনে সুখী হতে হবে রিমি।  একা একা শুধুই কষ্ট ই পাবে।  কাউকে জীবন সাথী হিসেবে পেলে আরোও ভালো লাগবে দেখিও।  অতীত ভুলিয়ে দিবে তোমার বর। ”

__ “ হুমম”

সবার হৈচৈ শুরু হয়ে যায়,  একে একে সবাই রিমির গায়ে হলুদ দেয়,  মিষ্টি খাওয়ায় রিমিকে।  সবার খাওয়ানো হয়ে গেলে সাগর শুভকে ভিডিও কল দেয়।  সেখানে রিমি আর সাগর দুজনেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।  নিরুর কাঁধে মাথা দিয়ে রিমি বসে আছে।  রাতে রিমির হাতে মেহেদী দিয়ে দেওয়া হয়।  রাত দুটো তে সবাই কফি পান করে।

মজার ছলে রিমি শুভ কে বলে,

__ “ ভাইয়া আমার বিয়ের গিফট চাই এখুনি।  ”

__ “ কি বল! ”

__ “ ভাবীর সাথে ডান্স করবে তুমি আজ।  ”

সবাই হাত তালি দিতে থাকে,  নিরুও রিমির মন রক্ষার্থে রাজি হয়ে যায়,  কিন্তু বলে,

__ “ আমি নাচবো ঠিক আছে,  যদি আমার সাথে এখানে যতো  কাপল আছে সবাই নাচে। এমনকি আব্বু আম্মু কেও নাচতে হবে ।  ”

সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়,  মেয়েকে সুখী দেখতে সবাই রাজী হয়ে যায়।

শুভ একটা গান প্লে করে, আর গানের তালে যে যেমন পারে ডান্স দেয়।

এখন তো সময় ভালোবাসার

এ দুটি হৃদয় কাছে আসার

তুমি যে একা আমিও যে একা

লাগে যে ভালো ও প্রিয় ও প্রিয়।।

পেয়েছি তোমাকে এতদিনে

যেও না সরে গো আভিমানে।

আমি তোমারই ও বুকের **।।

কী ছোয়া আমাকে দিলে তুমি

রাত দিন তোমাকে ভাবি আমি।

কেন বোঝ না প্রেমেরও পাগলামি।।

পরদিন বিয়েতে বরযাত্রী আসে, কেউ গেট আটকায় নি।  বর‍যাত্রী বেশ অবাক হয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। অন্যরা আপ্যায়ন করলো বরযাত্রী দের কে।  বরের বোন বলে,

__ “ বর তো এলো,  বউ কোথায়।  একটু দেখি তাকে।  “

রিমির ফুপাতো বোন বলে,

__ “ বউ দেখা মুখের কথা না,  দেখতে হলে শর্ত আছে।  ”

__ “ ওকে ডান,  চলো নিয়ে যাও বউয়ের কাছে।  ”

পাশের রুমে সবাই কে নিয়ে যাওয়া হয়।  সবার চক্ষু চড়কগাছ হবার দশা।  একই পোশাক একই সাজসজ্জার দুইটা মেয়ে বউ সেজে বসে আছে।

__ “আসল বউ কোনটা!” বরের ভাই জিজ্ঞেস করে।

__ “ আসল বউ কোনটা সেটা বলবেন আপনারা!  যদি আসল বউ চিনতে না পারেন তাহলে কিন্তু ১ লক্ষ টাকা আমাদের গচ্চা দিয়ে বিয়ে বসতে হবে। ” রিমির ফুপাতো বোন রোজী বলে।

__ “ আমার বউ আমি খেয়াল করলেই চিনতে পারবো। ” একটু ওভার কনফিডেন্সের সাথে বলে রিমির হবু বর।  ”

চয়ন খেয়াল করে ভালো ভাবে,

দুই টা মেয়েই লাল লেহেঙ্গা পড়ে বসে আছে,  গলা ভর্তি সেম গয়না দুজনের ই।  হাত ভর্তি সেম চুরি,  আংটি।  মেহেদীর ডিজাইন টা একটু আলাদা মনে হচ্ছে চয়নের।  কিন্তু বুঝতে পারছেনা, কারণ দুজনের মাথার উপর শাড়ি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে এমন ভাবে শুধু থুতনি দেখা যাচ্ছে।

__ “ আর পর্যবেক্ষণ করার টাইম নেই,  এখুনি বলে দিন কোনটা আপনার বউ! ” রোজী বলে,

ডান পাশের বউ টা একটা আঙুল তুলে,  এতে চয়ন ভাবে যে বউ মনে হয় তাকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য ইশারা করছে।  হুট করেই বলে দেয়,

__ “ ডান পাশের টা আমার বউ।  ”

সবাই হো হো করে হেসে উঠে,  মাথার উপর থেকে ঘোমটা সরিয়ে ফেলা হয়।  চয়ন এবার নিজেই লজ্জা পাচ্ছে।  শুভ পাশ থেকে এসে বলে,

__ “ ভায়া ডান পাশের টা আমার বউ,  বাম দিকের টা তোমার। হাহাহা ”

নিরু আর রিমি দুজনে ই মুচকি হাসে,  অতঃপর চয়নের কাছে এক লক্ষ টাকা আদায় করে ছাড়ে রিমির ভাই বোনেরা।

ভালো ভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে,  রিমি কে নিয়ে যাওয়া হয় শ্বশুর বাড়ি।

দুইদিন পর রিমির শ্বশুর বাড়ি তে অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। নিরু শুভ সহ অনেক আত্মীয় আসে রিমি আর চয়ন কে নিয়ে যেতে।

রিমি চেয়ারে বসে আছে,  নীল রঙ এর বেনারসি পড়ে। চয়ন নীল শেরওয়ানি পড়েছে।  দুজন কে বেশ মানিয়েছে।  ফটোগ্রাফার ডাকা হয়েছে,  ছবি তুলার জন্য।  রিমি কিছুক্ষণ পর উঠে গিয়ে একজনের কলার চেপে ধরে।

নতুন বউয়ের এমন কীর্তি দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়।  রিমি চিৎকার দিয়ে উঠে,

__ “ ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া! ”

সবাই দৌড়ে আসে,  নিরুও অবাক হয়ে যায়।  শুভ গিয়ে লোকটা কে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে।

চয়ন শুভ কে সরিয়ে ধরলেও রাকিবের অবস্থা মার খেয়ে কাহিল হয়ে যায়।  নাক,  মুখে রক্ত ফুটে উঠেছে।

__ “ ভাইয়া,  আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন নাকি!  ফটোগ্রাফার কে মারছেন কেনো? ”

__ “ এই লোক একটা ক্রিমিনাল,  এতোদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিলো।  আজ পেয়েছি ওকে,  আমরা কি ছেড়ে দিবো নাকি?”

বিয়ে বাড়ির সব লোকে জটলা পাকিয়ে ফেলে।

শুভ পুলিশ কে ফোন দেয়,  সবাইকে সব ঘটনা খুলে বলে।  রাকিবের মাধ্যমে ওর মা কেও ধরে ফেলে।

রাকিবের স্বীকারোক্তি  নেওয়ার সময় শুভ উপস্থিত থাকে। প্রচুর টর্চার করার পর রাকিব স্বীকার করে সব।

রাকিব বলে,

__ “ রুবিকে ভালোবেসেছিলাম সত্যিই সম্পত্তির মালিক ভেবে  কিন্তু যখন আম্মা বলে রুবির নামে কোন সম্পত্তি নেই তখন রুবিকে ত্যাগ করি। এরপর জানতে পারি সব কিছু নিরুর নামে।  ওকে ইউজ করার চেষ্টা করেও পারিনি।  কোনভাবে বেঁচে যায়।  পরে বড়লোক মেয়ে দেখে রিমির বান্ধবী কে পটিয়ে ওর নাম্বার নিয়ে ওর সাথে প্রেম করি।  পরে জানতে পারি নিরুর ননদ রিমি।  এক সাথে বড়লোক হবার স্বপ্নে আমি বিভোর হয়ে পাপের পর পাপ করতে থাকি।  ”

রাকিব এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কোর্ট এ ওর ফাঁসির আদেশ হয়ে যায়,  ওর মা খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এতো কিছু জানার পর চয়ন একটু রাগ করলেও চয়ন কে নিরু বোঝানোর পর চয়ন ভুল বুঝতে পারে।  রিমি কে মেনে নেয় চয়ন।

সাগর তুরস্কের কোন মেয়েকে যদি পছন্দ হয় তাহলে বিয়ে করবে না ইচ্ছে হলে বিয়ে করবেনা এটা সম্পুর্ণ সাগরের ইচ্ছের উপর নির্ভর করছে।

শুভ কাজের চাপ সামলাতে না পেরে রিমির অংশ টুকু রিমির নামে করিয়ে দেয়,  এতে চয়ন দেখবে বিজনেস।

শুভ এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারলো।

নিরু শায়ান কে খাওয়াচ্ছে,  এমন সময় শুভ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিরুকে,

__ “ আরে করছো টা কি?  বাবুর ক্ষিদে পেয়েছে তো। ”

__ “আমার ও খুদা পেয়েছে!  আমি কখন খাবো।  ”

__ “ হিংসুটে! ”

শায়ান কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয় নিরু,  উল্টো দিকে ঘুরে শুতেই শুভ হ্যাচকা টানে নিরু কে শুভর উপর নিয়ে নেয়।

__ “ কি মহাশয়,  এতো দিন পর কি রোমান্স উথলে উঠেছে নাকি!”

__ “ হুমম ”

শুভ নিরুর কপালে চুমু দিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

( সমাপ্ত)

#বিঃদ্রঃ জানিনা কেমন হলো ,  এটা আমার লিখা তৃতীয় উপন্যাস। আসলে আমি লিখালিখি শুরু করেছি শখের বসে। কেমন করে লিখতে হয় নিজেও জানিনা। এই লিখা শুরুর পর অনেকের কটু কথা শুনেছি।  সেগুলো উহ্য করে আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে লিখায় মন দিতাম।  লিখালিখি শুরুর পর আপনাদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।  খুব ভালো লাগতো তখন।  কিন্তু কাজের চাপে নিয়মিত ভাবে পর্ব গুলো দিতে পারিনি। তাই খুব খুব দুঃখিত।  তাছাড়া এগুলো প্রথম প্রথম লিখা তাই ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে।  সেইজন্য ক্ষমা করে দিবেন।  আর এই উপন্যাস টা কেমন হলো অবশ্যই জানাবেন।

প্রেমেরপরশ  পার্ট_30

প্রেমেরপরশ 

পার্ট_30

জামিয়া_পারভীন

ডক্টর এর কথা শুনে শুভর মাথা খারাপ হয়ে যায়,  মাথায় হাত দিয়ে কিছুক্ষণ বসে পড়ে।  এতো কেয়ার করার পরও কিভাবে বেবির ঠান্ডা লাগতে পারে শুভর মাথায় আসে না।  হটাৎ করে শুভর মাথা কাজ করে,  কাছে থাকা ল্যাপটপ অন করে।  যা দেখে শুভর রাগ আরোও বেড়ে যায়।  মানুষ খারাপ হলে যে এতো খারাপ হতে পারে শুভর তা জানা ছিলো না।

বেবির ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হয়েছে শুনে নিরু ফুঁপিয়ে কাঁদছে।  শুভ নিরুর  মাথায়  হাত দিয়ে বলে,

__ “ যা হয়েছে হয়েছে,  এখন আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেনো আমাদের বাচ্চা সুস্থ হয়ে উঠে।  ”

__ “ এমন পরিস্থিতি তে তুমি কিভাবে এতো শান্ত আছো শুভ।  ”

__ “ কারণ সন্তান আল্লাহ দিয়েছে,  বাবুর যদি কিছু হয় সেটাও হবে উনার ইচ্ছে।  আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না নিরু।  ”

শুভ ভিডিও ফুটেজ সবার সামনে ওপেন করে,  ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে,

গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে আছে,  সামিহা ওয়াশরুমে যায়।  তাও পা টিপে টিপে।  সামিহার বুক ধক করে উঠে।  সামিহা ভাবতেও পারেনি এই ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।  হার্টবিট বেড়ে গেছে সামিহার।  এরপর দেখা যাচ্ছে,  সামিহা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কেবিনে এসে বেবির বুকের উপর পানি দিয়ে দেয়।  শুভ ঘুমিয়ে থাকা তে কিছুই বুঝতে পারেনি।  এরপর খুব আস্তে আস্তে সামিহা বেবির উপর বাতাস করতে থাকে।  বাতাস যেনো শুভ বা নিরুর কাছে না যায় সেভাবেই করছে।

আর এই জন্যই সদ্যোজাত শিশুর এক রাতে বুকে ঠান্ডা জমে নিউমোনিয়া হয়ে গেল।  সাগর আর ওর বাবা মা বোন এই দৃশ্য দেখার পর সাগর সাথে সাথেই সামিহা কে মুখে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।  হসপিটালে দায়িত্ব রত মহিলা পুলিশের কাছে দিয়ে দেয় সামিহা কে।  সদ্যোজাত বাচ্চা কে মারতে চাওয়ার অপরাধে সামিহার শাস্তি হয়ে যাবে।

এদিকে শায়ান কে ডক্টর রা NICU তে দিয়ে দেয়।  সেখানে হিট দিয়ে রাখা হয়েছে বাচ্চা কে।  আর বাসার সবাই বাচ্চার জন্য পেরেশানি হয়ে হাটাহাটি করছে,  দোয়া করছে।

দুইদিন পর শায়ানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সুখবর শুনার পর নিরুর বাবা আসে মেয়ের কাছে,

__ “ আজ আমি খুব খুশি হয়েছি রে মা,  হোক তোর সৎ মা তবুও তার জ্ঞান ফিরেছে।  তোকে দেখতে চেয়েছে,  প্লিজ না করিস না আর।  ”

__ “ হ্যাঁ বাবা,  আমি যাবো,  আপুর মৃত্যুর পর আমিই তো তোমাদের সন্তান।  মা তো মা ই হয়।  আমি অবশ্যই যাবো।  ”

শুভর দিকে তাকিয়ে নিরু বলে,

__ “ আমাকে একটু উনার কাছে নিয়ে যাবে প্লিজ,  উনার কাছে অনেক কিছুই জানার আছে।  ”

__ “ হুম,  আমারও মনে অনেক প্রশ্ন আছে। ”

খুব সাবধানে নিরুকে বেড থেকে উঠিয়ে লুতফা বেগমের কেবিনে নিয়ে গেলো শুভ।  নিরু গিয়ে দেখে লুতফা বেগম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে নিরুর দিকে।  হয়তো তার চোখ দুটো নিরুকেই খুঁজছিলো এতক্ষণ।  এখন যেনো নিরুকে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে লুতফা বেগম।

নিরু পাশে গিয়ে বসতেই লুতফা বেগম বলেন,

__ “ তোর বাবা বলেছে,  আমার মেয়েটা আর বেঁচে নেই রে। তখন থেকেই তোর সাথে কথা বলার জন্য খুব ছটফট করেছি। তোকে অনেক কিছু বলার আছে।  মন দিয়ে শুনবি আর কিছুই বলবি না।  ”

__ “ হ্যাঁ আম্মু বলো,  তোমার কাছে এই কথা শুনার জন্যই এসেছি।  ”

লুতফা চোখ বন্ধ করে দুই মিনিট থাকলেন এরপর বলতে লাগলেন,

__ “ জানিস মা,  প্রত্যেক মেয়েই চাই তার হাজবেন্ড তাকে ভালোবাসুক।  স্বভাবতই আমিও চেয়েছিলাম আমার হাজবেন্ড এর কাছে ভালোবাসা।  বুঝতে পারিনি কখনো যে উনি আমার না।  উনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন কিন্তু আমাকে ঠকিয়েছেন উনি।  ”

লুতফা বেগম কাঁদছেন,  নিরু তখন বলে

__ “ হ্যাঁ আম্মু আমি জানি,  এরপর কি বলবেন বলেন। ”

লুতফা বেগম আবার বলতে লাগলেন,

__ “ যখন তোর মা কে নিয়ে উনি খুব সুখে থাকতে শুরু করেন,  আমি খুব জ্বলতাম। উনি আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা যদি নাই দিতে পারবে কেনো বিয়ে করেছিলো,  কেনোই বা আমার কাছে এসেছিলো।  এসব ভাবতাম আর কান্না করতাম সব সময়।  যখন শুনলাম তুই পৃথিবী তে আসতে চলেছিস,  আমার মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।  আর ক্ষোভে বাতাস দিতে থাকে আমার ননদ।  সে সব সময় উল্টো পাল্টা বুঝাতো আমাকে।  আমিও ওর কথাতে রাজি হয়ে যায়।  ও আমাকে বুঝায়,  তোকে আর তোর মাকে মেরে ফেলতে পারলে সব সম্পত্তি হবে আমাদের। আর তোর বাবা তো আমাকে ভালোই বাসে না।  তাই উনার জন্য কোন আক্ষেপ হতো না। ”

লুতফা বেগম একটু থামলেন,  তখন নিরু বললো,

__ “ আচ্ছা আম্মু,  বুঝলাম আব্বু তোমায় ভালোবাসে না। কিন্তু এটা কি ভেবে দেখেছিলে,  সে তোমার প্রতি দায়িত্ব বোধ করেই কিন্তু তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো।  আব্বু চাইলে তোমাকে ডিভোর্স দিতেও পারতো।  তা করেনি,  তোমাকে পরিচয় হয়তো দিতে পারেনি আমার মায়ের সামনে।  কিন্তু তোমার থাকা খাওয়া সব ব্যবস্থা ই কিন্তু করে দিয়েছিলো।  এগুলো তুমি ভাবোই নি,  শুধুমাত্র লোভে পড়ে আজ…. ”

নিরু থেমে যেতেই লুতফা বেগম বলেন,

__ “ ভুল করেছি রে মা, লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু।  এই কথা টা ভুলেই গিয়েছিলাম।  তাই আজ এই অবস্থা।  সেদিন তোর মায়ের কেবিনে আপা ঢুকে বালিশ চাপা দেয় তোর মাকে।  তোকেও হয়তো মেরে ফেলতো।  কিন্তু তোর বাবা চলে আসে,  যখন তোর মায়ের মুখ থেকে বালিশ সরাতে যায় তখন আমি ছবি তুলে নিই। পুরো কাজ দুজন মিলে করেছিলাম।  এর শাস্তি আমি পেয়েছি,  আমার মেয়েটা কে হারিয়ে। আমি জানতাম রাকিব ওর ক্ষতি করেছে,  কিন্তু কিছুই বলতে পারিনি।  নিজ মেয়ের এতো বড় ক্ষতির পরও আমি রাকিব বা ওর মায়ের সাথে মিশেছি।  কারণ লোভ ছিলো নিরু কে যেখান থেকে পারি খুঁজে বের করা।  আর হত্যা করা। এতে সব সম্পত্তি আসবে আমাদের হাতে।  লোভে লোভে এতো নিচে নেমে গিয়েছিলাম।  আমার মেয়েটাকে তোর বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিলাম।  দেখ মা আমি যতো অন্যায় করেছি তার শাস্তি পৃথিবী তে পেয়ে গেছি৷   রাকিব আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো।  জানিনা কতদিন এখানে শুয়ে আছি।  ”

খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে লুতফা বেগমের।  জ্ঞান ফিরে এই কথা গুলো বলে এক ঘন্টার মধ্যে আবার ও জ্ঞান হারান। নিরু সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে ।এখন শুধু রাকিব কে পেয়ে গেলেই হয়।  নিরু উঠে যায়,  শুভ ধরে ধরে নিয়ে আসে নিরুর কেবিনে।

কয়েকদিন হসপিটাল এ থেকে শায়ান কে পুরো পুরি সুস্থ করে বাসায় ফিরে আসে নিরু আর শুভ। বাসায় এসেই দেখে সাগর বের হচ্ছে লাগেজ নিয়ে। সাগর কে শুভ জিজ্ঞেস করে,

__ “ আমরা বাসায় আসতেই কোথায় চলে যাচ্ছিস! ”

__ “ তোরা ভালো থাকিস,  আমি তুরস্ক চলে যাচ্ছি।  সেখানে নতুন যে বিজনেস টা ওপেন করেছি সেটা হ্যান্ডেল করতে চাই।  তাছাড়া লাইফ নতুন করে আবারো শুরু করতে চাই। ”

শুভ কে জড়িয়ে ধরে সাগর কাঁদে অনেক্ষণ।  এরপর শায়ান কে কোলে নেয় সাগর।  কপালে চুমু দিয়ে নিরুর থেকে বিদায় নেয়।  রিমি  এসে সাগর কে জড়িয়ে ধরে,

__ “ ভাইয়া,  আবার কবে আসবে!  খুব মিস করবো তোমায়।  ”

__ “ পাগলী বোন আমার,  আমি ওখানে সেটেল হয়ে যাবো।  চিন্তা করিস না,  ভিডিও কলে প্রায়ই কথা বলবো।  ”

বোনের কাছে বিদায় নিয়ে বাবা মা সবাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে অনেক্ষণ।  এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।  শুভ আর রিমি এয়ারপোর্টে গিয়ে বিদায় দিতে আসে সাগর কে।

সাগর চলে যাবার পর রিমির মনে হয় রাকিবের মতো কাউকে দেখলো।  রিমি শুভ কে আস্তে করে বলে,  ফলো করতে থাকে দুজনে।

প্রেমের_পরশ পার্ট_29

প্রেমের_পরশ
পার্ট_29
জামিয়া_পারভীন

নিরুর প্রেগন্যান্সির ৯ মাস চলছে, সে শারীরিক ভাবে সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিরুকে নিয়ে শুভ বড়ই দুশ্চিন্তায় আছে। পরিবারের এই রকম অবস্থা, এর উপর নিরুর মানসিক ভেঙে পড়া শুভর মনে প্রচুর আঘাত আনছে। সিড়ি বেয়ে বারবার উঠানামা করা নিরুর জন্য কষ্ট সাধ্য বলে নিচতলায় থাকছে নিরু আর শুভ। সেইদিন সকালে নিরু মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলে শুভ ধরে নেয়।
শুভ নিরু কে জিজ্ঞেস করে,

__ “ কি হয়েছে, খারাপ লাগছে নাকি? ”
__ “ নাহহ মাথা টা এমনিতেই কেনো জানি চক্কর দিয়ে উঠলো, বেডে শুইয়ে দাও, ভালো লাগবে হয়তো। ”

নিরুকে শুইয়ে দিয়ে শুভ নিরুর জন্য স্যুপ নিয়ে আসে। মানসিক দুর্বলতা কাটতে শুভ নিরুর সাথে গল্প করে বেশি। রাজা রাণীর রুপকথার গল্প শুনায় নিরুকে। নিরু এগুলো আগে কখনো শুনেছি, এতিমখানা তে কেই বা গল্প শুনাবে। শুভর কাছে গল্প শুনে আর রুপকথার রাজ্যে ভাসে নিরু। একদিন গল্প শেষ করতেই নিরু শুভকে জিজ্ঞেস করে,

__ “ আচ্ছা শুভ আমাদের রাজকুমার এর নাম কি হবে শুনি? ”
__ “ রাজকুমার চাই না রাজকুমারী হবে, চাঁদের মতো সুন্দরী রাজকুমারী। অবশ্য তোমার থেকে অল্প কম সুন্দরী হলেও হবে। ”
__ “ কেনো, আমার রাজকুমারী হবে আমার চেয়েও সুন্দরী। আমার মেয়ে বলে কথা। ”
__ “ তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী হলে আবার তোমার আদর কমে যাবে। হাহা,, ”

নিরু রেগে কয়েকটা আস্তে করে কিল দেয় শুভর হাতে। শুভ নিরুকে জড়িয়ে নেয় আলতো করে।
,,,

বাইরে সাগর বসে ছিলো, ওর সাথে ওর বাবা মা কি নিয়ে যেনো তর্ক করছে। শুভ যেতেই থেমে যায় সবাই। শুভ গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

__ “ আমি কি আজকাল বাড়িতে নগন্য নাকি , যে আমায় দেখলে কথা বলা থেমে যায়। ”

শুভর মা আমতা আমতা করে বলে,

__ “ ন মানে! তেমন কিছুই না বাবা, ভুল বুঝিস না দয়া করে। ”
__ “ তো কি এমন কথা যে আমায় দেখে থেমে যাওয়া লাগে। ”
__ “ আসলে, বলছিলাম যে, রুবি মারা যাওয়া একমাস পার হয়ে গেলো। বাসায় আসলেই একা একা বসে থাকে, ও যদি আবার বিয়ে করে সংসার করে। মায়ের মন বলে কথা, তোরা ছেলেরা কেনো যে বুঝিস না। ”

তখন সাগর মায়ের কথার প্রতিউত্তরে বলে,

__ “ আম্মু, বিয়ে যদি করার ই হতো, আগেই করে নিতাম। আমি রুবির স্মৃতি ভুলতে চাইনা। ”
__ “ রুবি তোকে বিয়ের জন্য বলতো, কারণ ও চাইছিলো তুই বাবা হতে পারিস। এখন যদি তুই বিয়ে না করিস রুবির আত্মা শান্তি পাবেনা। ”
__ “ ওকে ফাইন, আমি বিয়ে করবো। কিন্তু রুবির সাথে স্মৃতি ঘেরা শহরে আমি থাকতে পারবোনা। বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিও তাহলে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার নিউজ যেনো ফাঁস না হয়। ”

শুভ জিজ্ঞেস করে,

__ “ মেয়েটা কে? যার সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছো! ”

শুভর আম্মু চাই সাগর সামিহা কে বিয়ে করুক, কারণ ছোট বোন আবদার করেছে বোনের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিবে। শুভ এই কথা শুনে রাগ করে চলে যায় নিজের ঘরে।

দুইদিন এর মাঝেই সাগরের সাথে সামিহার বিয়ে দিয়ে দেয় ঘরোয়া ভাবেই, আর বিয়ের দিন রাতেই নিরুর পেইন উঠে। নিরুর চিৎকারে বিয়ে বাড়ির সবাই নিরুকে নিয়ে হসপিটালে পৌঁছে। চার ঘন্টা পর নিরুর নরমাল ডেলিভারী তে ছেলে হয়। শুভ পুরো সময় টা নিরুকে পাহারা দিচ্ছে, যেনো ভুলেও কেউ নিরুর বা বেবির ক্ষতি করতে না পারে। একজন নার্স বেবি কে এনে প্রথমে শুভর কোলে দেয়, শুভ প্রথমে বেবি কে কোলে নিয়ে জোরে করে আযান দেয়। এরপর বাচ্চাকে মায়ের হাতে দিয়ে কেয়ার করতে বলে। নিরু অজ্ঞান ছিলো, তাও শুভ নিরুর পাশে গিয়ে বসে। নিরুর পেটে হাত বুলিয়ে দেয় আলতো করে । কপালে চুমু দিয়ে কেবিনের বাইরে আসে। বেবি কে শুভর আম্মু কোলে নিয়ে বসে ছিলো।

শুভ মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
__ “ আম্মু দোয়া করো, মা আর ছেলে দুজনেই যেনো ভালো থাকে। আমি যেনো আমার সন্তান কে তোমাদের মতো করে যত্ন নিয়ে বড় করতে পারি। ”
__ “ সব সময় দোয়া করি বাবা। ” শুভর মা শুভর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

সাগর সামিহা কে নিয়ে শুভর সামনে আসে। খুব নরমাল ভাবেই সাগর শুভর ছেলে কে কোলে নিয়ে কাঁদতে থাকে। এটা যদিও খুশির কান্না কিন্তু সাগরের খুব মনে পড়ছিলো রুবির কথা। সাগর শুভ কে বলেই ফেলে,

__ “ জানিস শুভ, আজ যদি রুবির এক্সিডেন্ট না হতো, তাহলে আমারও সংসার টা হয়তো ভেঙে যেতো না। ”
__ “ মন খারাপ করিস না ভাই, অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমান নিয়ে নতুন ভাবে শুরু কর। দেখ খুব সুখে থাকবি, আর তোর ও আবার সুখের সংসার হবে দেখিস। সামিহা আছে তো, ওকে নিয়ে সুখেই থাকবি তুই। ”

বেবি কে শুভর বাবা কোলে নেয়। সবার মুখেই আনন্দর ছোঁয়া কিন্তু একজন এর মুখে ভার, সেটা সামিহা!। খুব শখ ছিলো শুভর স্ত্রী হবে কিন্তু কিনা ওর মা ওকে সাগরের সাথে বিয়েতে বাধ্য করে। সামিহা ওর মায়ের কথায় বাধ্য মেয়ের মতো বিয়ে করে নেয়। শুভর ছেলেকে দেখে হিংসা হচ্ছে খুব ওর। তারপরও সবার সাথে ভালো বিহেভ করতে হচ্ছে তার।

শুভ নিরুর জ্ঞান ফেরার পর নিরুর পাশে গিয়ে বসে, নিরু বলে,
__ “ দেখেছো আমার ছেলেকে। ”

__ “ হুমম ”

__ “ তোমার মতো হয়েছে তাইনা! ”

__ “ আব্বু তো বলছে আমার মতো আর আম্মু বলছে তোমার মতো। আমি তো ভাবি আমাদের ছেলে দুজনের মতই হয়েছে। ”

নিরু তখন বলে,
__ “ এই! শোনোনা! আমাদের ছেলের নাম কি রাখবে গো? ”

__ “ চাঁদের মত সুন্দর ছেলের নাম ঠিক করবে আমার বউ, কারণ এই অধিকার তার আছে। ”
__ “ তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাইনা! আমি জানি! আমরা দুজনে ওর নাম ঠিক করবো। কারণ ও আমাদের দুজনের সন্তান। ”

__ “ শুভর শ আর নিরুর ন দিয়ে আমাদের ছেলের নাম হবে শায়ানুজ্জামান শায়ন। কেমন হবে! ”

__ “ খুব ভালো হবে, আমি শায়ান বলেই ডাকবো আজ থেকে।”

শায়ান, শায়ান আর শায়ান! নাম শুনতে শুনতে সামিহার মনে বিষ উঠে গেছে। সবাইকে শুভ মিষ্টি খাওয়াচ্ছে আর ফোন দিয়ে শায়ান নাম বলছে শুভ। সে মনে মনে ঠিক করেছিলো শুভর সাথে সংসার হবে, ছেলের নাম রাখবে স্নিগ্ধ। সব গুড়েবালি, শুভর ছেলের নাম নাকি শায়ান। এইটা আবার নাম হলো নাকি। একা একাই বিড়বিড় করতে থাকে সামিহা।

রাতে বেবিকে নার্স দের দায়িত্বে নিতে দেয়না শুভ।

বাচ্চা তার মায়ের পাশেই থাকবে, শুভ নিজেই থাকবে নিরুর কাছে। শুভর মায়ের বয়স অনেক হয়ে গিয়েছে বলে সাগর সামিহা কে থাকতে বলে। শুভ সামিহা কে পছন্দ না করলেও আর নিষেধ করতে পারেনা সবার সামনে। আর রিমি তো থাকবেই নিরুর পাশে।

শুভ নিরুর পাশে শায়ান কে শুইয়ে পাশে বসে থাকে। আর সামিহা আর রিমি পাশের বেডে শুয়ে পড়ে। রিমি ঘুমিয়ে গেলেও সামিহা জেগেই থাকে।

গভীর রাতে শুভ ও নিরু পাশে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে। পরদিন বাচ্চার কান্না তে শুভর ঘুম ভাঙে। বেবি খুব কান্নাকাটি করতে থাকে। শুভ থামানোর অনেক চেষ্টা করেও পারেনা। নার্স দের ডেকে বাচ্চা কে দিয়ে দেয়। নার্স রা বলে,

__ “ বাচ্চার ঠান্ডা লেগেছে, নিউমোনিয়া হয়ে গেছে। ”

চলবে……….

প্রেমের_পরশ পার্ট_28

প্রেমের_পরশ
পার্ট_28
জামিয়া_পারভীন

সাগর নিরুর হাতে একটা ডায়েরি দেয়। কালো মলাটে বাধানো একটা ডায়েরি। নিরু কে ডায়েরি টা দিয়ে বলে,
__ “ এতে যা লিখা আছে সেটা শুধু পড়বে, এরপর যা মনে হবে আগে আমার সাথে শেয়ার করবে। তারপর তোমার ডিশিসন নিবে। এখন নিজের ঘরে যাও। ”

নিরু চুপচাপ কথা গুলো শুনে নিজের ঘরে চলে আসে। ডায়েরি টা খোলে নিরু, প্রথম পেজে লিখা আছে,

__ “ আমার কৈশোর শুরু ই হয় অন্ধকার দিয়ে, তাই কালো মলাটেই বেঁধে দিলাম ডায়েরি টা। ”

নিরু হোস্টেলে বা এতিমখানা তে থাকার জন্য কিছুই জানতে পারেনি। লিখাটা পড়ে বেশ হতাশ হয়ে মনে মনে বলে, “ কি এমন হয়েছিলো আপুর! এসব কি চিন্তা করছি! ডায়েরি টা পড়েই জেনে নিই। ”

পরের পেজ উল্টায় নিরু, সেখানে লিখা আছে,
“ ছোট বেলা থেকেই আমার একমাত্র খেলার সাথী ছিলো রাকিব, সব সময় দুজনে মিলে দুষ্টুমি তে মাতিয়ে রাখতাম পুরো বাড়ি। তখন কেবল ১৫ তে পা দিয়েছি, আর রাকিব এর ২০। একদিন রাকিব এসে বলে, সে নাকি আমার ভালোবেসে ফেলেছে। আমি বলি, ভালোবাসা আবার কি জিনিস!। এরপর একেক দিন একেক রকম করে বুঝাতো। একদিন একটা গোলাপ দেয়, আমি নিয়ে নিই। তখন সে বলে, অবশেষে আমার প্রপোজাল গ্রহণ করলে। আমি তখন ও বুঝিনি, এসবের মানে কি? তারপরও বেশ ভালোই কথা বলতাম ওর সাথে। জানিনা এটা প্রেম কিনা ওর সাথে রাগ করে থাকতে পারতাম না। সে যেনো আমার নেশার মতো হয়ে গিয়েছিলো। আম্মু ওকে খুব একটা পছন্দ করতো না, কেনো জানিনা। ”

নিরু খুব অবাক হয়ে যায়, পরের পেজে আবার লিখা আছে,

“ একদিন সন্ধ্যেবেলা টিভি দেখছিলাম পাশাপাশি বসে, মাঝে কিছুটা গ্যাপ ছিলো। আমার সিরিয়াল খুব ভালো লাগতো, সিরিয়ালে একটা সিন এ নায়ক হটাৎ করে নায়িকা কে কিস করে। এই সিন দেখে আমার যেনো একটু লজ্জা লাগে। পরে রাকিব হটাৎ করে আমার ঠোঁট যুগল তার আয়ত্ত্বে হয়ে নেয়। আমি প্রথমে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে আর করিনি। অসম্ভব ভালোলাগা কাজ করছিলো আমার ভিতর। ”

ডায়েরি তে এমন কিছু লিখা থাকবে নিরু সত্যিই আশা করে নি। নিরুর দুই চোখ দিয়ে পানি পড়ছে । তাও পরে পেজ উল্টায় নিরু,

“ একই বাসায় থাকতাম বিধায় ওর সাথে প্রায়ই দেখা হতো, সে যখনই সুযোগ পেতো আমার শরীর স্পর্শ করতো। ধীরে ধীরে সে আমার কাছে অনেক কিছু চাইতে থাকে ।আমি তাকে দিতে নারাজ হই। আমি বুঝে গিয়েছিলাম সে আমার শরীর টা কেই চায় শুধু। সেদিন থেকে একটু দুরত্ব বজায় রেখে চলতাম। সে হয়তো বুঝে গিয়েছিলো আমি তাকে এভয়েড করছি। একদিন আমি আমার রুমে বসে ছিলাম, এস এস সি সামনে। খুব পড়াশোনা ছিলো। পড়ার মাঝে ব্রেক নিচ্ছিলাম। দরজায় নক করে কেও, বাসায় সবাই আছে তাই খুলে দিই৷ দরজা খুলেই রাকিব কে দেখে বলি, সে যেনো চলে যায়। কিন্তু না সে আমাকে জোর করে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। দরজা লাগিয়ে দেয়! এরপর বলে, তোমাকে একটা জিনিস দেখিয়েই আমি চলে যাবো। আমি ওর সাথে আর ঝামেলা না করে ওর কাছে যা দেখাতে চাচ্ছে তা দেখতে চাই। ও ওর ল্যাপটপ অন করে, একটা ভিডিও প্লে করে। সেখানে আমার নগ্ন দেহ দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। চিৎকার করতে গেলে সে আমার মুখ চেপে ধরে। এরপর বলে, যদি চিল্লাই তাহলে এগুলো ছবি সবাইকে দেখিয়ে দিবে। এরপর বলে, আমি যখন স্কুলে গিয়েছিলাম তখন সে আমার ওয়াশরুমে আর রুমে গোপন ক্যামেরা সেট করে এইসব ভিডিও করেছে। ওর গালে একটা চড় বসিয়ে দিই। ”

নিরুর চোখের পানি তে ডায়েরি অনেকটা ভিজে গেছে, কোনরকম চোখের পানি মুছে ফেলে।
পরের পেজে যায়,

__ “ রাকিব আমায় বলে, যদি চিললাই বা কাউকে বলি তাহলে এই সব ভিডিও ওর ফ্রেন্ড ফাঁস করে দিবে। এরপর আমি কুকড়িয়ে যায় ভয়ে, সে আমার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। আমার জীবনের সব চেয়ে অন্ধকার ময় রাত ছিলো সেদিন। ওর অত্যাচার এ আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর থেকে প্রায়ই প্রতিদিন রাতে আমার উপর তার চাহিদা পূরন করতো । ২ মাস এভাবে চলার পর আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমি এই যন্ত্রনা থেকে না পারছিলাম বাঁচতে না পারছিলাম মরতে। আমার অসুস্থতা নিয়ে আম্মু ডক্টর এর কাছে নিয়ে যায় ।অনেক গুলো পরীক্ষায় জানতে পারে আমি প্রেগন্যান্ট। সেদিন আম্মু আমায় অনেক মারে। আমার কাছে জানতেও চায়নি কি হয়েছিলো। ”

নিরু মনে মনে বলে, “এতো অন্যায় হয়েছে তোমার সাথে আপু। এই সব কিছুর বদলা আমি নিবো। ”
ডায়েরির কয়েক পেজ ফাঁকা, এরপর আবার লিখা,

“ আমি মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলাম, পরে আম্মু আমায় জড়িয়ে ধরে কাঁদে অনেক। আমি রেপ এর কথা বলতে পারলেও রাকিবের ভয়ে ওর নাম নিতে পারিনি। পরের দিন সুযোগ পেয়ে রাকিবের কাছে ওর সন্তানের স্বীকৃতি চাই, তখন সে বলে, এই সন্তান তার হতেই পারেনা। আমি বাজে মেয়ে তাই এই সন্তান এসেছে। এই দুই মাসে কম পক্ষে ২০ টা ভিডিও সে করেছে, সব গুলো সব আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। আমি চুপসে যায়, খুব ইচ্ছে করছিলো আত্মহত্যা করতে। আম্মু এসে বাঁচিয়ে দেয়। একটা হসপিটাল এ নিয়ে যায়, শহরের বাইরের হসপিটাল। কারণ শহরের ভিতর আমাদের পরিচিতি আছে অনেক। এবোরশন করানোর সময় ডক্টর ভুল করে ফেলে। খোঁচা লাগে ইউটেরাস ওয়ালে । প্রচুর ব্লিডিং শুরু হয়, তখন আম্মুর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ডক্টর আমার ইউটেরাস কেটে ফেলে। পরে ঘটনা আব্বু ও জেনে যায়। আমি পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসার পর আমি সুস্থ হই। এরপর এক বছর ইয়ার লস দিয়ে এস এস সি দিই। আম্মুর অনুপ্রেরণা তে আমি আবারও হয়তো আরো সুস্থ হয়েছিলাম কিন্তু ইউটেরাস কেটে ফেলার ঘটনা জানতে পারিনি। ”

বোনের জীবনে এতো ঘটনা দেখে নিরু হতবাক হয়ে গেছে এক প্রকার, ডায়েরি অফ করে দিয়ে সাগরের ঘরে ছুটে আসে। মেঝেতে বসে পড়ে,

“ ভাইয়া,,,,,,,,” বলে সাউন্ড করে কাঁদতে শুরু করে। সাগর বলে নিরু কে,

__ “ তুমি প্লিজ শান্ত হও, ডায়েরি তে কতো টুকু পড়েছো আমি জানিনা, কিন্তু এখন তুমি বেশি কান্নাকাটি করলে নতুন অতিথি এর ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ”

নিরু নিজেকে শান্ত করে প্রথমে, এরপর বলে,

__ “ তাহলে আপনি ওই খুনী কে শাস্তি দিবেন কথা দিন, তাহলেই শান্ত হতে পারবো আমি। ”

__ “ হুমম দিবো শাস্তি, ওর ঘটনা আমি কিছুদিন আগেই জেনেছি। কিন্তু কিছু করার আগেই মেয়েটা অভিমান করে আমায় ছেড়ে চলে গেল। আর চুপ করে থাকতে পারিনা আমি। সব কিছুর শাস্তি পাবে তোমার ফুপু আর তার ছেলে। ”

__ “ মানে, ফুপিও এর সাথে জড়িত! ”

__ “ হুমম”

এরপর সাগর বলে,

__ “ রুবি কে আমি কলেজে প্রথম দেখি, আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার আর সে ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়। খুব সুন্দরী, মায়াবতী ছিলো। কিন্তু সব সময় বিষন্ন থাকতো। এই বিষন্নতার কারণ জানার আগ্রহ আমার মাঝে চেপে বসেছিলো। সাহস পাইনি কিছু বলার, প্রতিদিন ওকে দেখার জন্যই শুধুমাত্র কলেজে যেতাম। এভাবে একটা বছর পেরিয়ে যায়, আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে অই কলেজে অনার্স ভর্তি হয়ে যায় শুধুমাত্র রুবির টানে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম আর বাসায় এসে ওকে কল্পনা করে সুখের রাজ্যে ভাসতাম। একদিন কলেজে রুবি আমার সামনে এসে দাঁড়ায়,

এরপর বলে,

“ আপনি যা করছেন সেটা ভুলেও আর করবেন না, আমি জানি আপনি আমাকে অনেক পছন্দ করেন কিন্তু আমার অতীত খুব ভয়ংকর, তাই প্লিজ আমার পিছু ছেড়ে দিন। ” কথাটা বলেই চলে যায়।

মেয়েদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তুখোড় হয় সেদিন বুঝেছিলাম, এরপরও রুবির পিছন আমি ছাড়িনি। সে খুব বিরক্ত হয়ে গেছিলো আমার প্রতি। একদিন একটা খাম আমার হাতে ধরিয়ে দেয়, এরপর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায় আবারও। বাসায় এসে ওর চিঠি দেখি। ওর জীবনের করুণ কাহিনী বর্ননা করা। শুধুমাত্র ছেলেটার নাম উল্লেখ ছিলো না। আর ওর মা না হতে পারার কথা ও লিখা ছিলো না । সে অবশ্য তখন জানতো না । তার অতীত মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়েছিলো, তাও আমার মনে তার জন্য ভালোবাসা কমে যায়নি। সে শতভাবে বুঝাতো আর আমি তার বিপরীতে যুক্তি দিতাম। পরে বুঝতাম আমার উপস্থিতি ওর জন্য বিরক্তিকর নয়। বুঝলাম সেও হয়তো ভালোবেসে ফেলেছে। ”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সাগর, নিরু তখন বলে,

__ “ এরপর কি হয়েছিলো! ”

__ “ সেও ওই কলেজে ই অনার্স ভর্তি হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন বছর পর সে আমার প্রেমে পড়ে। এরপর এক বছর চুটিয়ে প্রেম করে ওর বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দিই। প্রথমে ওর মা রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যায়। এরপর তো সব কিছুই জানো। ওর মা অসুস্থ হবার পর ওর মায়ের ঘরে ওর পুরনো রিপোর্ট গুলো দেখে, ওর সন্তান হবে না। এরপর যখন তোমার সুসংবাদ পায়। ও খুব ভেঙে পড়ে। এরপর রোজ কান্নাকাটি করতে থাকে। ওকে বুঝাতে বুঝাতে আমি ক্লান্ত হয়ে যায়, মাস খানেক আগে আবদার করে আরেকটি বিয়ে করার জন্য। আমি নারাজ হই। এরপর এই নিয়ে প্রতিদিন ঝগড়া করতো আমার সাথে। আর সেদিন ঝগড়া করে কথা বলিনি। পরে দেখি ও আর নেই।

খুব ভালোবাসতাম ওকে আমি, বাচ্চা হবেনা তো কি হয়েছে, তোমার তো আছে নিরু। তোমার সন্তান কেই না হয় আদর করতাম। পারিনি ওকে বুঝাতে আমি। নিজেকে শেষ করে দিলো। আমাকে একা কষ্টের সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে চলে গেলো৷ ”

__ “ আসলে মেয়েদের জীবনের সুখ টা ই হয়তো মাতৃত্ব তে, আপু যখন জেনেছে তার অতীত তখন মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু যা করেছে খুব ভুল করে ফেলেছে। আমি অই ভন্ড টাকে শাস্তি দিবোই। নইলে শান্তি পাবোনা কখনো। ”

চলবে……..

প্রেমের_পরশ পার্ট_27

প্রেমের_পরশ
পার্ট_27
জামিয়া_পারভীন

নিরু বেডে শুয়ে আছে , তখন শুভ নিরুর পেটে কান পাতে, বেবির হাত পা ছোড়া গুলো অনুভব করে। এরপর নিরুকে বলে,
__ “ দেখিও মেয়ে বেবি হবে! হাত পা বেশি ছুড়ছে না , মেয়েরা খুব শান্ত হয় তো তাই। ”

__ “ দেখিও ছেলে বাবু হবে, আমার বেবি আমার মতোই শান্ত হবে। তাই জ্বালাচ্ছে কম, বুঝলে বুদ্ধু!! ”

__ “ মনে হচ্ছে আমি খুব জ্বালিয়েছি, আমি কি শান্ত নই!!”

__ “ তুমি তো রাগী, বদমেজাজি, দুষ্টু, ” এরপর খিলখিলিয়ে হাসে নিরু।

শুভ শুধু নিরুর মাথায় একটা টোকা দেয়, এরপর বলে,

__ “ পাজি মেয়ে, লক্ষ্মী বউ। ”
দুজনেই হেসে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠে নিরু, ফ্রেশ হয়ে বাইরে যাবার সময় রুবির ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ পায় নিরু। ঘরে উঁকি দিয়ে দেখে রুবি বেডে উল্টো দিকে শুয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে । শুভর ডাকে নিরু নিচে নেমে আসে, কারণ শুভ ব্রেকফাস্ট এর টেবিলে, নিরুকে ছাড়া খাবে না সেই জন্য। নিরু নিচে এসে নাস্তা করে নেয়, ঔষধ ঠিক মতো খাইয়ে শুভ অফিসে যায়। খুব যত্ন করে নিরুকে, যেনো নিরুর বা বেবির কোনরকম ক্ষতি না হয়।

শুভ অফিসে বেরিয়ে গেলে নিরু আবারও রুবির রুমের সামনে যায়, রুবি এখনও আগের মত করে কাঁদছে। নিরুর অবুঝমন রুবির জন্য কেঁদে উঠে। রুমে গিয়ে রুবির মাথায় হাত রাখতে রুবি চমকে উঠে। উঠে বসে বলে,

__ “ তুই কখন এলি হটাৎ!”
__ “ কাঁদছো কেনো? সাগর ভাই কিছু বলেছে নাকি? ”

__ “ তোকে বলতে পারবোনা এর কারণ, আমি কিছুতেই বলতে পারবোনা। তুই দয়া করে এখন যা, আমাকে একা থাকতে দে প্লিজ। ”

নিরু বুঝতে পারেনা কি হয়েছে, রুবি কে দেখতে কেমন যেনো লাগে ইদানিং। আগের মতো নেই, শুকিয়ে যাচ্ছে। ফেস খারাপ হয়ে যাচ্ছে, চোখের নিচে কালি পড়েছে। নিরু ঠিক করে এই ব্যাপারে সাগরের সাথে কথা বলবে।

নিরু সন্ধ্যা থেকেই সাগর কখন আসবে তার অপেক্ষা করছিলো, শুভ কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পরও নিরু কিছুই বলেনি শুভ কে। নিরু প্রায়ই কয়েক মাস থেকে খেয়াল করেছে রুবির একা একা ফুঁপিয়ে কাঁদা কিন্তু কখনো কাউকে কিছুই বলেনি। আজ সাগর রাত প্রায়ই ১০ টাই বাসায় আসে। ইদানিং সাগর বেশ দেরি করে বাসায় আসে। কারণ নিরু জানে না, কেউই জানে না। সাগর রুমে আসতেই নিরু বলে,

__ “ ভাইয়া, যদি আপনার একটু সময় হতো! তাহলে কিছু কথা বলতাম। ”

__ “ হ্যাঁ বলো, তাড়াতাড়ি। ”

__ “ আসলে রুবি আপা…”

সাগর নিরুকে থামিয়ে দিয়ে বলে,

__ “ এই ব্যাপারে আমি তোমায় কিছুই বলতে চাচ্ছিনা, এখন তুমি আসতে পারো। ”

বলেই সাগর চলে যায় নিজের ঘরে। সাগর নিজের ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে ডিনার সেরে নেয় প্রথমে। এরপর আবারও ঘরে যায়, গিয়ে দেখে রুবি শুয়ে আছে। বালিশ নিয়ে সোফায় গিয়ে শোয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে রুবির একইভাবে শোয়া দেখে সন্দেহ হয়। গিয়ে ধাক্কা দিতেই রুবি গড়িয়ে পড়ে যায়। হাত শীতল হয়ে গেছে। সাগর কিছুক্ষণ রুবির দিকে তাকিয়ে থাকে, এরপর রুবির পাশে গিয়ে বসে শক্ত করে ধরে। বিকট চিৎকার দেয় সাগর।

সবাই হটাৎ চিৎকারে সাগরের ঘরে গিয়ে দেখে সাগর রুবি কে জড়িয়ে থ হয়ে বসে আছে। রুবির মুখ থেকে ফেনা বেরিয়ে এসেছে। নিরু কিছুক্ষণ রুবির দিকে তাকিয়ে থেকে রুবির পাশে গিয়ে বসে আপু বলে ডুকরে কেঁদে উঠে। বাসার সবাই এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছে।

শুভর মা সাগরের মাথায় হাত রেখে বলেন,
__ “ জানিনা বাবা কেনো এমন হলো, এবার উঠে আয়! ওভাবে ধরে রাখলে যে লাশ কষ্ট পাবে। ”

সাগর কোন কথা বলেনা আর, সবাইকে খবর দেয়া হয়। আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি তে বাসা ভরে যায়। আত্মহত্যা পুলিশ কেশ হলেও রুবির বাবা লাশ পুলিশের হাতে দেয় না। কোন কেশ না করেই দাফন করে দেয়া হয় রুবিকে সেদিন সন্ধ্যায়।

সাগর অনেকটা পাথর হয়ে যায়, রুবির সব কিছু জেনেই বিয়ে করেছিলো রুবি কে। তাও কেনো রুবি এমন করলো। রুবির ভয়ানক অতীত জেনেও রুবির সাথে খারাপ বিহেভ করা উচিৎ হয়নি সাগরের। অনুশোচনার দহনে সাগর জ্বলছে অনেক।
হারিয়ে বুঝেছি আমি কতো ভালোবাসি,
বুকের বাঁ পাশে বাজে বিশের বাঁশি।
প্রেমের দাবানলে জ্বলছি দিবারাতি,
কেনো চলে গেলে তুমি ওগো প্রিয় সাথী।

জামিয়া

সাগর ঘরের কোণে বসে বিড়বিড় করছিলো এগুলো বলে, ওর মা স্পষ্ট শুনতে পায়। সাগর হটাৎ মা কে দেখে থতমত খেয়ে পড়ে। মা কে জিজ্ঞেস করে,

__ “ ও কেনো এমন করলো আম্মু, আমাকে কি ক্ষমা করা যেতো না। আমি না হয় ভুল করেই ফেলেছি , তাই বলে এভাবে শাস্তি কেনো দিলো ও আমাকে বলোনা!”

সাগরের মা সাবিহা ছেলের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ছেলের কাঁধে মাথা রেখে কেঁদেই ফেললেন।

__ “ আর কতো কষ্ট পাবি বাবা, তোর মানষিক অশান্তি যে আর সহ্য হয়না রে। অনেক হয়েছে, তুই আরেকটা বিয়ে কর। নিজের জীবন টা নতুন করে শুরু কর। ”

__ “ এমন মুহুর্তে এসব কথা কেমন করে বলছো আম্মু, প্লিজ এসব বলবে না। যদি বিয়ে করতে রাজি হতাম তাহলে রুবি সুইসাইড করতোনা। তাহলে তো বিয়েটা আগে করে নিলেই পারতাম, রুবিও বেঁচে থাকতো, আর আমিও। ”

__ “ কি বলতে চাস তুই? রুবি বেঁচে থাকতে তুই বিয়ে করতিস কেমন করে। ”

__ “ এসব থাক আম্মু, এখন প্লিজ একা ছেড়ে দাও। ”

ওর মা ঘরে থেকে বেরিয়ে যায়।

নিরু ঘরে বসে আছে, ওর বাবার কাঁধে মাথা রেখে। শুভও পাশে আছে, শুভ একটু বাইরে যেতেই নিরু ওর বাবা কে জিজ্ঞেস করে,

__ “ আব্বু, আপু কেনো এমন করলো, বলোনা প্লিজ। ”

__ “ আ আ আ মি কিছু জানি ই ই না আ আ। ” খানিকট তোতলিয়ে বলে নিরুর বাবা।

__ “ তুমি সব জানো, শুধু আমাকে লুকাতে চাচ্ছো এটাই। জানো, আপু আমাকে মেনে নেওয়ার পর থেকে আমরা তিনজন কতো আনন্দ করেছি। রিমি আমি আপু তিনজন এ এই বাসা টা কে মাতিয়ে রাখতাম সব সময়। অনাথ হয়ে বড় হলেও, আমি সবাই কে পেয়ে খুব আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু আপুর এভাবে সুইসাইড করাটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা। ”

__ “ ভুলে যা মা, অতীত মনে করে কষ্ট পেতে হয়না। ভবিষ্যৎ যেনো তোর সুন্দর হয় এই কামনা করি সব সময়। ” নিরুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে নিরুর বাবা।

হটাৎ নিরুর মাথায় প্লান আসে, বলতে গেলে কোন রকম দৌড়ে সাগরের ঘরে যায় নিরু। এরপর সাগর তাকালেই নিরু বলে ওঠে,

__ “ ভাইয়া, আপনি না আপুকে ভালোবাসেন। কেমন ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন যে আপু মরে গেলো। মরেই যদি গেলো তার মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তাকে শাস্তি দিবেন না। ”

সাগর একটু রেগে গেলো, রাগের বশে বললো

__ “ রুবির মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী, যাও গিয়ে থানায় ডায়েরি করে আসো। আমি শাস্তি পেতে চাই। ”

__ “ কি বলছেন এসব, বিশ্বাস করিনা আমি। আমি চাই আপনি আসল খুনী কে শাস্তি দিবেন। আপু কষ্ট পেয়ে মরে গেলো, আপনি কষ্ট পাচ্ছেন আর আসল খুনী মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে। তার কি বিচার হবে না। ”

চলবে……..