গল্প : মিষ্টি ভালোবাসা😍

গল্প : মিষ্টি ভালোবাসা😍

গল্প : মিষ্টি ভালোবাসা😍

লেখিকা :নীল পরী

ছেলে : এই শুনো…

মেয়ে : হুমমম বলো..

ছেলে : তোমার অই মায়াবি চোখে তাকিয়ে মনে চায় আমি পাগল হয়ে যাই🥰

মেয়ে : তাই নাকি

ছেলে : হুমমম

মেয়ে : যা দুষ্ট☺

ছেলে : হে সত্যি বলছি, তোমার অই এলো মেলো কালো চুল ওফফফ আমি যেনো পাগল হয়ে যাবো।😍

মেয়ে : এই চুপ থাকো তো,আমার লজ্জা লাগে..!☺

ছেলে : তাই বুঝি…

মেয়ে : হুমমম😌

ছেলে : তোমার অই লজ্জা ভরা মুখে চোখে চাহনিতে….

মেয়ে : হুমমম কি বলো…

ছেলে : ইসসসস

মেয়ে : কি…

ছেলে : মনে চায় আমি মরে যাই

মেয়ে : যা এমন কথা কেনো,, যাও আড়ি তোমার সাথে🤨

ছেলে : এই পাগলি রাগ করো কেন

মেয়ে : তাহলে কি করবো শুনি,তুমি মরে গেলে আমি কি করবো একা একা😔

ছেলে : না গো না তোমাকে রেখে আমি কোনো দিনও যাবো না…😘

মেয়ে : সত্যি….

ছেলে : হুমমমম সত্যি….

মেয়ে : প্রমিজ..!!

ছেলে : হুমমমম প্রমিজ🥰

মেয়ে : একটু জরিয়ে ধরবে🙂

ছেলে : হুমমম আসো😌

মেয়ে : হুমমম আই লাভ ইউ🙂

ছেলে : আমি না🤭

মেয়ে : কি তুমি না😞

ছেলে : আই লাভ ইউ না

মেয়ে : সত্যি😒

ছেলে : হুমমম

মেয়ে : 😭😭😭😭

ছেলে : এই পাগলি কান্না করো কেনো…😳

মেয়ে : জানি না😡

ছেলে : শোনো

মেয়ে : না…..😔

ছেলে : আরে শুনোই না।

মেয়ে : বলো😔

ছেলে : ভালোবাসি😍

মেয়ে : হুমমম আমি ও

ছেলে : কি…??

মেয়ে : ভালোবাসি

ছেলে : পাগলি একটা🙂

মেয়ে : হুমমম তোমারই তো….☺

ছেলে : হুমমম…

মেয়ে : এখন তো বলো….😟

ছেলে : কি..?

মেয়ে : আই লাভ ইউ☺

ছেলে : হুমমমম আমি তোমাকে ভালোবাসি….😉

মেয়ে : হ্যাঁ, তো অই ভাবে বলো, যে ভাবে আমি বলছি😕

ছেলে : আরে আরে একই তো,,, বললামই তো😋

মেয়ে : কি…😞

ছেলে : আরে মন খারাপ কেনো….

মেয়ে : কিছু না..🙁

ছেলে : শুনো…

মেয়ে : কি….

ছেলে : আই লাভ ইউ😍

মেয়ে : আই লাভ ইউ টু🥰

ছেলে : এই বার হলো🥰

মেয়ে : হুমমমম হলো😌

ছেলে :এই বার বুকে নেও😚

মেয়ে :হুমমম পাগল আমার

ছেলে :হুমমম 🙂

☺সমাপ্ত ☺

[ মিষ্টি ভালোবাসা গুলো
মনে হয় এমনই হয়.. ]

(প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগলো লাইক, কমেন্টস করে জানাবেন সবাই।

গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।)

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া part: 10

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

part: 10

লেখা –সুলতানা ইতি

প্রিন্সিপাল : তা বললে কি আর হয়রে মামুনি,তুই তো এখন আমাদের সবার গৌরব, আচ্ছা অনেক কথা হলো আজ তা হলে আসি,

আনুশার আম্মু: আপনারা এতো দূরর কষ্ট করে এলেন, আপনাদের কে ভালো করে,,

প্রিন্সিপাল : না না আপনি এতো ব্যাস্ত হবেন্না,আমরা এমনিতে ই অনেক খুশি,(আনুশার মায়ের কথা টা প্রিন্সিপাল স্যারর বুঝতে পেরে থামিয়ে দিলেন)আচ্ছা কাল আপনি ও আপনার মেয়ের সাথে যাবেন আপনি ও কিন্তু ইনভাইটেড

আনুশা আম্মু: কিচ্ছু বললেন না,(মনে মনে আল্লাহর কাছে শত কুটি শুকরিয়ে আদায় করলাম)

আনুশা: স্যার রা চলে গেছে,এখন আপুদের এই খবর টা জানাই কি করে,মোবাইলে যে ব্যালেন্স শূন্য, (মন খারাফ করে বসে আছে আনুশা,আজকের এই দিনে ও টাকা নেই হাতে, এই ভেবে মন টা খুব খারাফ)

#
তানভীর : এতো কিছু ভিতরে আনুশার সাথে একটু ও কথা বলতে পারলাম না,,ঠিক আছে কোন ব্যাপার না,আজকের, আর কালকের এক সাথে দুই দিনের কথা ওর সাথে বলবো কাল,, এখন বাসায় যাই

তানভীরের আম্মু: ছেলেটার যে কি হলো ফোনটা ও রিসিভ করছে না, কি এলো রেজাল্ট এ কিছুই জানালো না কি যে করি

তানভীর : খুশি খুশি মনে বাসায় ডুকলাম

তানভীরের আম্মু: কিরে এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো তোকে, বলনা রেজাল্ট কেমন হলো নিশ্চয় অনেক ভালো তাই না

তানভীর : ওহ আম্মু আমার কথা বাধ দাও তো তুমি জানো আজ কি হয়েছে।

তানভীরের আম্মু: তুই না বললে জানবো কি করে

তানভীর : আনুশা সবার প্রথম হয়েছে শুধু তাই নয় পুরো জেলা দিয়ে প্রথম স্থান আনুশা পেয়েছে

তানভীরে আম্মু:সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু তোর রেজাল্ট কি, সেটা তো বলবি,(তানভীর যেনো ওর মায়ের। কথা শুনতেই পাচ্ছে না)

তানভীর : দাড়া আম্মু এতক্ষনে তো টিভি তে খবর টা দেয়ার কথা,টিভি টা অন করি আগে

তানভীরের আম্মু:ছেলেটার যে কি হলো, কি জানতে চাইছি, আর ছেলেটা কি করছে, ওর মাথা ঠিক আছে তো
হ্যারে তানভীর আমি তোর কথা জানতে চাই আনুশার কথা নয়,বল আম্মুকে কি রেজাল্ট আসলো তোর

তানভীর : কিছু বলতে যাবে অমনি বাসার দরজাতে টোকা পড়লো, আম্মু যাই দেখে আসি কে আসছে

তানভীর দরজা খুলে দেখলো তানিম আসছে

তানভীর : কিরে তুই কি মনে করে এলি,

তানিম: এলাম আর কি, না এলে তো আর তোর পাগলামি দেখতে পারতাম না,রেজাল্ট পূরো এফ। তাতে ও তোর মধ্যে কোন এফেক্ট পড়েনি তুই আনুশার জন্য পাগল হয়ে আছিস

তানভীরের আম্মু:কিইইই তানিম তুমি কি বললে

তানিম: কেনো আন্টি তানভীর আপনাকে কিছু বলেনি, ওর তো রেজাল্ট ই আসেনি
তানভীরের আম্মু: স্তব্ধ হয়ে গেলাম ছেলের রেজাল্ট এর কথা শুনে,কিছু বলার ভাষা নেই

তানভীর : ওসব কথা ছাড় তুই কেনো এসেছিস সেটা বল

তানিম: প্রিন্সিপাল স্যারর তোকে ফোনে পাচ্ছে না তা আমাকে বল্লো তোকে বলতে কালকের অনুষঠানের কিছু আয়োজনে তোকে থাকতে বলেছে, তোকে আমি একটা মেসেজ সেন্ট করছি,সেখানে কি কি আনতে হবে সব লিখা আছে,অই গুলা স্যারর কে এনে দিবি

তানভীর : খুশি হয়ে,, ওও তাই দাড়া তো দেখি মোবাইল টা কোথায়,ইসসস চার্জ ই তো নাই দাড়া চার্জ দিচ্ছি

তানিম: আমি তা হলে যাই
তানভীর : মোবাইল টা চার্জে দিয়ে অন করে এক নজর দেখে নিলো লিস্টে কি কি আনতে হবে,তার পর মোবাইল রেখে বের হয়ে গেলো

তানভীরের আম্মু: কি বলবো আমি তানভীরের আব্বুকে কতো স্বপ্ন ওর ছেলেকে নিয়ে এখন,এখন কি হবে

আনুশা: রাত আটটা বাজলো এখন ও আমি কাউকে খবর টা জানাতে পারিনি,
আনুশার আম্মু: আল্লাহর খুশি সব মা, আজকের এমন একটা খুশির দিনে আমরা কাউকে খবর টা দিতে পারছি না,সবই আল্লাহর ইচ্ছে,আয় এশার নামায পড়ে নে

আনুশা: তুমি যাও মা আমি আসছি
রুমের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, রাতের শহরটা খুব ভালো লাগছে বিশেষ করে এই মন খারাফ এর রাতে, আজ তো খুব খুশি হওয়ার কথা আমার,তবু ও কেনো যেনো খুশি হতে পারছি না,মনে হচ্ছে কিছু একটা নেই, (আনুশার ভাবনায় পাটল পড়লো, কেন না মোবাইল টা বেজে উঠলো)
আনুশা: স্কিন এ তাকিয়ে দেখলাম অন্নি,কলটা রিসিভ করলাম

অন্নি:ঐ বান্দুরনি আজকের এমন একটা খুশির খবর আমাকে সবার আগে জানালি না কেনো,আমি একটু আগে খবর টা টিভি তে দেখলাম,তাই আমি এখন তোর উপর রেগে আছি

আনুশা:রাগ করিস না, ইচ্ছে থাকা সত্তেও তোকে জানাতে পারিনি,শুধু তুই কেনো,শিলা আপু, সুমি আপু, কাউকে বলতে পারিনি

অন্নি: যা আন্দাজ করেছি তা ই তো হলো তোর মোবাইলে ব্যালেন্স নাই,ওয়েট এ মিনিট,

আনুশা: যাহ লাইন কেটে দিলো কিছুক্ষন পর আনুশার মোবাইলে মেসেজ টোন বেজে উঠলো,আনুশা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে নিশ্চয় পাগলি টা মোবাইলে টাকা রিসার্চ করছে
এই বার কলটা আমি করি, সে কি কল টা কেটে দিলো,

অন্নি: আনুশা আমাকে কল করেছে কল কেটে দিয়ে নিজে কল করলাম,ঐতোকে কি আমাকে কল করার জন্য রিসার্চ করে দিয়েছি,তুই এই গুলা দিয়ে সুমি এন্ড শিলা আপুর সাথে কথা বলবি

আনুশা: কিন্তু ওদের সাথে কথা বলতে তো এতো টাকা লাগবে না

অন্নি: তো না লাগলে ওগুলা মোবাইলে থাক পরে দরকার হতে পারে, আচ্ছা বাদ দে এগুলা,বল আজ তোর কেমন লাগছে

আনুশা: কেমন লাগবে আবার,অন্যদিন যেমন লাগছে আজ ও তেমন লাগছে
অন্নি: বুদ্ধ অন্য দিন আর আজ এক হলো, তোর এই সাকসেস এ আমি কিন্তু খুব খুশি, কতটা খুশি তোকে বলে বুঝাতে পারবো না
নেক্সট প্ল্যান কি বল

আনুশা: কি আবার হবে কিছুই না,একটা জব খুজবো পেলে ভালো, না পেলে আর কি করার বল

অন্নি: কি যে বলিসনা তুই অনায়াসে যে কোন ভার্সিটিতে সান্স পাবি

আনুশা: এগুলা নিয়ে আমি ভাবি না রে, আমার ভাবনা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যেন মাকে ভালো রাখতে পারি

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

 হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া part:8

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

part:8

লেখা –সুলতানা ইতি

মায়ের সে কি আনন্দ, অনেক দিন পর মাকে এতো খুশি হতে দেখলাম

আম্মু: কিরে শিলা এতো শুকিয়ে গেলি কেনো

শিলা: কই মা আমি তো ঠিকই আছি

আনুশা: আপু বুঝিস না,তুই যদি হাতি ও হয়ে যাস তার পরে মা বলবে না তুই এখন ও চিকন, আরেকটু মোটা হতে হবে,আনুশার কথা শুনে সবাই এক সংগে হেসে উঠলো

তানভীর : যাক বাবা এতো দিনে আনুশা কোথায় থাকে সেটা জানতে পারলাম
তানিম: এবার খুশি তো চল এবার বাসায় যাই

তানভীর : আর একটু থাকি না এখানে

তানিম: থেকে কি করবি,দেখ এখন সন্ধ্যা হতে চল্লো আনুশা এখন আর বের হবে না সো এখানে থেকে ও তোর কোন কাজ হবে না তার ছেয়ে ভালো বাসায় যাই

তানভীর : কি আর করা চল তা হলে, বাসার দিকে ফিরে গেলাম

#আনুশা: আপু তুই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়,আমি খাবার দিচ্ছি,

শিলা:বাবা আনুশা তুই কবে থেকে কাজ করিস কি সুন্দর করে আমাকে ভাত বেড়ে খাওয়াচ্ছিস,আগে তো এক গ্লাস পানি ডেলে ও খাইতিস না

আনুশা: আপু আগে যেমন ছিলাম এখন ও কি তেমন থাকতে হবে, সব কিছুই পরিবর্তন শিল,আমি ও এর ব্যাতীর্কম নই

শিলা: তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো আনুশা আমি তো যাস্ট এমনি বললাম
আনুশা: কথা না বাড়িয়ে খাওয়া শুরু কর,
#
তানভীর : বাসায় এসে পৌছলাম
আম্মু: কিরে কই গেলি, এতো তাড়া তাড়ি চলে আসলি,বলে তো গেলি ফিরতে রাত হবে

তানভীর : আম্মু এতো কথা বলছো কেনো আমি বাসায় আসাতে কি তোমার প্রব্লেম হইছে,তা হলে বলো আমি আবার চলে যাই

আম্মু: যাক বাবা তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো,

তানভীর : তুমি রাগ করার মতো, কথা বললে আমি রাগবো না তো হাসবো,দেখো আম্মু এখন একটু চুপ থাকো, কোন প্রশ্ন করো না
এই বলে চলে এলাম রুমে দরজা লাগিয়ে দিলাম

তানভীরের আম্মু: ছেলেটার যে কি হয়েছে আজকাল কথায় কথায় রাগ দেখায়,সারা দিন কি এতো ভাবে,জিজ্ঞাস করলে ও বলে না ওর বাবাকে ব্যাপার টা জানাতেই হবে,আজকেই ফোন করলে বলবো

*
খাওয়া শেষ করার পর আনুশা বল্লো আপু তুই একটু রেস্ট নে আমি এগুলা পরিষ্কার করে আসছি কেমন

শিলা: বোন টা কে যতো দেখছি ততই যেন অভাক হচ্ছি,এ কি সেই বোন যে কি না কাজ করতে চাইতো না হাত ময়লা হয়ে যাবে সেই ভয়ে

আনুশার আম্মু: কিরে শিলা কি ভাবছিস

শিলা: মা আনুশা?

আনুশার আম্মু: আমার মেয়েটা আর আগের মতো নেই রে শিলা,অনেক পালটে গেছে কতোটা পাল্টেছে তা কেউ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবে না, মেয়েটা আমার বিতরে বিতরে গুমরে গুমরে মরছে,আর আমি মা হয়ে তা দেখছি

শিলা: মা কেদো না তো সব ঠিক হয়ে যাবে
আনুশা: হঠ্যাৎ এসে দেখি মার চোখে পানি,একি মা তুমি কাদছো কেনো

শিলা: মা আসলে ভাবছে উনার দুই মেয়ে উনার কাছে সুমি টা আসলে ভালো হতো ( কথা গুরানোর জন্য বললাম)

আনুশা: মা তুমি কেদো না তো যখন আমার একটা চাকরি হবে তখন বড় একটা বাসা নিবো, তখন তিন মেয়ে কে এক সাথে দেখবে,

আনুশার আম্মু: সুমি কে একটু ফোন কর তো,

আনুশা: আচ্ছা করছি,এই নাও রিং হচ্ছে রিসিভ হলে কথা বলবে

শিলা: চল আনু আমরা একটু কথা বলি দুই বোনের অনেক দিন পর দেখা হলো,
আনুশা: হুম তা যা বলেছো আপু তোমাকে পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি,আর ও খুশি হতাম যদি সুমি আপু ও একসাথে থাকতো।

এই ভাবে গেলো আর ও কিছু দিন

আজ আনুশাদের রেজাল্ট বের হবে আনুশা তো সকাল থেকে টেনশন এ শেষ গতো কাল শিলা আপু ও চলে গেছে, কতো করে বললাম থেকে যেতে থাকলো না দুলা ভাইয়ের খাওয়া দাওয়ার নাকি প্রব্লেম হচ্ছে,এখন যে কি করি রেজাল্ট জানি কেমন হয় উফফ আর ভাবতে পারছি না কান্না পাচ্ছে যদি রেজাল্ট ভালো না হয় তা হলে আমি কি করবো

আনুশার আম্মু: চিন্তা করিস না মা আমি জানি তোর রেজাল্ট ভালো হবে

আনুশা: মা তুমি বলছো ভালো হবে,আল্লাহ তুমি আমার মায়ের কথা টা কবুল করো এই ভাবে হতাসার মধ্যে আনুশার সময় যাচ্ছে,
#
তানভীর :: রেজাল্ট নিয়ে আমার কোন চিন্তা নাই,হয় তো রেজাল্ট আসবে না,নয় তো টেনে টুনে পাশ করা রেজল্ট আসবে,আমি জানি এক্সাম ভালো হয়নি,

তানভীর এর আম্মু: তানভীর জানিস তোর বাবা কাল দেশে আসছে

তানভীর : জানতাম না তো আম্মু তা আব্বু হঠ্যাৎ করে দেশে ফিরছে কেনো
আম্মু: হঠ্যাৎ করে আসতে যাবে কেনো অনেক দিন থেকেই আসার কথা চলছে,তোকে নাকি তোর আব্বু কয়েক দিন কল দিয়েছে,তুই নাকি তোর আব্বুর কল রিসিভ করিস নি,

তানভীর : হুম আম্মু আসলে কথা বলতে ভালো লাগেনি তাই

আম্মু: তুই জানিস তোর পরিক্ষার রেজাল্ট নিয়ে তোর আব্বুর কতো সপ্ন,ওনি আজই আসতে ছেয়ে ছিলো টিকেট পায়নি তাই কাল আসছে

তানভীর : মন খারাফ হয়ে গেলো কেননা আমি আব্বুর সপ্ন পুরন করতে পারবো না,

আম্মু: ভাবিস না বাবা রেজাল্ট ভালোই হবে আল্লার রহমতে
দুপুর ২ টার দিকে রেজাল্ট বের হলো

আনুশা: মা এবার তা হলে একবার কলেজ থেকে ঘুরে আসি,এতোক্ষনে রেজাল্ট বের হয়ে গেছে মনে হয়
আনুশার আম্মু: তা হলে যা,

এইদিকে তানভীর সকাল থেকেই কলেজ এ ওয়েট করতেছে রেজাল্ট এর জন্য,(কি ভাবছেন তানভীর নিজের রেজাল্ট এর জন্য অপেক্ষা করছে,না ও আনুশার রেজাল্ট দেখবে বলে অপেক্ষা করে বসে আছে)

তানভীর : যখন এ শুনলাম,নোটিশ বোর্ড এ রেজাল্ট শিট দিয়ে দিয়েছে তখনই ভোঁ দৌড় লাগালাম,
রেজাল্ট শিট দেখে তো আমি বলার ভাষা হারিয়ে পেলেছি,স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি

তানিম: কিরে এই ভেবে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো তোর তো রেজাল্টই আসেনি

তানভীর : তানিমের কথায় আমার ঘোর কাটলো, ওওও আমার টা আসেনি তা হলে, কোন ব্যাপার না তুই আনুশার রেজাল্ট টা দেখ তো

তানিম: আনুশার রেজাল্ট দেখে আমার কি হবে

তানভীর : ভ্রূ কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে, তুই বুঝবি না সর তো প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছে যাবো এই বলে হাটা ধরলাম অফিস রুমের দিকে
তানভীর : মে আই কামিন

প্রিন্সিপাল স্যারর:ইয়েস

তানভীর : স্যারর আনুশার রেজাল্ট দেখেছেন

স্যার: হুম দেখেছি আমরা কয়েকজন স্যারর মিলে এখন আনুশা দের বাড়িতে যাবো

তানভীর : (খুশি হয়ে) ও তাই নাকি

স্যার: কিন্তু আনুশার রেজাল্ট দেখে তুমি এতো খুশি কেনো তোমার তো রেজাল্ট ই আসেনি

তানভীর : কি যে বলেন স্যার সবাইকে আর ভালো রেজাল্ট করতে পারে,এর মধ্যে ইংলিশ স্যার মানে আমাদের রবিন স্যারর আসলো,
রবিন স্যারর প্রিন্সিপাল স্যারর কে বলছে স্যার গাড়ি রেডী চলুন আনুশাদের বাড়িতে যাওয়া যাক

প্রিন্সিপাল : হুম চলুন,

প্রিন্সিপাল স্যারর কি ভেবে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন তুমি যাবে আমাদের সাথে

তানভীর : স্যারর এর কথা শুনে তো আমার খুশি তে লাফাতে ইচ্ছে করছে, হুম স্যার। যাবো

এর মধ্যে:মেহেদী স্যারর আমাদের বাংলা শিক্ষক উনি এসে প্রিন্সিপাল স্যারর কে বললেন স্যারর একটা কান্ড ঘটে গেছে

প্রিন্সিপাল : আবার কি ঘটলো

মেহেদী স্যার:জার্নালিস্টি রা কি করে যেনো খবর পেয়ে গেছে ওরা আনুশার ইন্টার্ভিউ নিতে যায়

প্রিন্সিপাল : ও তাই চলো ওদের কে নিয়ে আনুশার বাড়িতে যাবো

তানভীর : আমার তো খুশির সিমা নেই আমাকে এতো খুশি হতে দেখে
তানিম বল্লো s,s,c te তোর রেজাল্ট অনেক ভালো ছিলো তখন তো তুই এতো খুশি হসনি

তানভীর : তানিম তুই বুঝবি না প্রিয়ো মানুষটার ভালো কাজে, কতো টা আনন্দ পাওয়া যায় এটা তুই বুঝবি না

তানিম: রাগ দেখিয়ে আমার বুঝার দরকার নেই আমি গেলাম তুই তো আনুশার বাড়িতে যাবি

তানভীর : হুম যাচ্ছি কেনো তুই যাবি না

তানিম: তোর ইচ্ছে হইছে তুই যা আমাকে এর মধ্যে টানছিস কেনো

তানভীর : ওকে আমি যাচ্ছি,সবাই এক সাথে মাইক্রোবাস করেছে আনুশাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য,আমি এ তাদের সাথে উঠে বসলাম

to bee continue
[09:04, 3/15/2019] sultana eity: হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

writer : সুলতানা ইতি
part:9

গাড়ি চলছে নিজের গতিতে,আর তানভীর এর হার্টবিট যেনো তার থেকে দশগুন বেশি গতি নিয়ে চলছে

আনুশার আম্মু: কিরে তোর হলো, যাবি কখন

আনুশা: এই তো মা আর একটু,আসলে মা টেনশন লাগছে খুব,যদি খারাফ কিছু শুনি তা হলে আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না মা

আনুশার আম্মু: দেখো মেয়ের কান্ড এমন অলক্ষনে কথা কেউ বলে,তুই আল্লাহর নাম করে যা তো

আনুশা: ঠিক আছে মা দোয়া করো এই বলে আনুশা বের হলো
গলির মোড়ে এসেই আনুশা থেমে গেলো ওর কলেজ এর স্যার প্রিন্সিপাল স্যার সবাই আসছে তানভীর কে দেখে তো ওর আর ও ভয় লাগতে শুরু করলো, কি জানি ছেলেটা কোন মতলবে এসেছে তা ও আবার স্যার দের নিয়ে
তানভীর : আনুশা এ ভাবে ছেয়ে আছে কেনো ও কি কিছু বুঝতে পারেনি নাকি,উফফ ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে খুশির খবর টা দিতে, কিন্তু তা সম্ভব না এখানে শিক্ষকরা আছেন উনারাই বলবে

আনুশা: কি জানি কি হয় আজ আমার সাথে তবু ও স্যারর দের কে সালাম করি আগে ( আসসালামু আলাইকুম) স্যার। আপনারা

প্রিন্সিপাল স্যার: কেনো আমাদের আশা করিসনি বুঝি,

আনুশা: ইয়ে মানে, না মানে

স্যারর:তুই এতো নার্বাস হচ্ছিস কেনো

প্রিন্সিপাল স্যার: তা আমাদের কে তোর বাসায় নিবি না

আনুশা:হ্যা স্যার আসুন,( স্যার দের কে বসতে দিবো কোথায় একটাই রুম,যেখানে থাকি ও খানেই, খাই ও,পড়ি ও ইসস কি লজ্জা)
ভাবতে ভাবতেই চলে আসলাম বাসার ভিতরে,

আনুশার আম্মু: কিরে আনু তুই না কলেজ এ গেলি ফিরে আসলি কেন

আনুশা: মা আমার কলেজ থেকে প্রিন্সিপাল স্যারর সহ আসছে

আনুশার আম্মু: কলেজ থেকে কেনো,অভাক হয়ে উনি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন
আনুশার মায়ের কথা উত্তর না দিয়ে স্যারর দের বসতে বল্লো,আর আমতা আমতা করে বল্লো আসলে স্যার আমি আর মা থাকি তো তাই বাড়তি রুম নিই নাই,

স্যার: আনুশা কে থামিয়ে না না, মা তোর এতো ব্যাস্ত হতে হবে না আমরা কয়েকটা কথা বলেই চলে যাবো,তোর আম্মুকে ডাক

আনুশা: জি স্যারর ডাকছি( মনে মনে আল্লাহ জানে মা কে কি বলবে স্যারর, উফফ কি যে টেনশন হচ্ছে)মা তোমাকে স্যারর ডাকছেন

আনুশার আম্মু: স্যার দের সালাম দিয়ে পর্দার আড়ালে দাড়ালেন

স্যার: আসলে আমরা আপনাকে একটা কথা বলতে এসেছি

আনুশার আম্মু: জি স্যার বলুন আমার মেয়ে কি কোন ভুল করেছে

স্যারর:না না ভুল করবে কেনো বরং ও যা করেছে তার জন্য আমরা গর্ভিত,আমাদের কলেজের সবাই অহংকার করে

আনুশার আম্মু: আমাকে কি বুঝিয়ে বলবেন কি হয়েছে

স্যারর: হুম কেনো নয় আপনার মেয়ে এই কয় দিন আগে আমাদের কলেজ ভর্তি হয়েছে,আর এই কয়দিনে সে আমাদের কলেজ এর সবাইকে পিছনে পেলে কলেজ স্টপার হয়েছে ( স্যারর অনেক খুশি মনে কথা টা বললেন)

আনুশা: এতক্ষন মায়ের সাথে দাঁড়ানো ছিলো কথা টা শুনে সে ভিতরে গেলো, চোখে চল চল পানি স্যার আপনি সত্যি বলছেন তো, কেনো জানি না আমার কান কে বিশ্বাস করাতে পারছি না

প্রিন্সিপাল স্যারর:হ্যারে মা দেখ আমরা সবাই এসেছি,তোকে খুশি খবর টা দিতে
আনুশার আম্মু: খুশিতে কেদেই দিয়েছেন,আল্লাহ তারকথা শুনেছেন,এর থেকে বেশি আর কি চাই

আনুশা: স্যার আমি কি নিজের চোখে দেখতে পারি,রেজাল্ট টা,

প্রিন্সিপাল স্যারর:কেনো নয় একশোবার দেখবি, আগে দাড়া আমাদের সাথে আর ও কিছু গেস্ট এসেছে তাদের সাথে কথা বলে নে

আনুশা: অভাক হয়ে গেস্ট?

স্যারর:কই আপনারা এবার ভিতরে আসুন, স্যার বলার সাথে সাথে কয়েকজন লোক ভিতরে ডুকে গেলো তাদেত হাতে ক্যামেরা সহ আর ও অনেক কিছু আছে
আনুশা: এরা কারা

স্যার:আনুশা এরা জার্নালিস্ট তোর ইন্টার্ভিউ নিতে এসেছে

আনুশা: আমি তো অভাক হলাম,এতো খুশি আল্লাহ আমার কপালে লিখে রেখেছেন আনুশার ঘোর কাটলো জার্নালিস্ট দেত কথায়

জার্নালিস্ট: ম্যাম আপনার এতো টা সাকসেস এর পিছনে কারন টা জানতে পারি, যে খানে এখন কার ছেলে মেয়েরা পড়া শুনা বাদ দিয়ে খারাফ নেশায় আসক্ত হচ্ছে সেখানে আপনি সব কিছু কে এড়িয়ে চলে এতো ভালো রেজাল্ট করেছেন এর পিছনে কারন টা জানতে পারি

আনুশা: খুভ স্বাভাবিক হয়ে উত্তর দিলো

আমি আমার লাইফে অন্য। কিছুর দিকে খেয়াল করিনি,আমার লখ্য । একটাই ছিলো, লাইফে সাকসেস হওয়া,

জার্নালিস্ট: ম্যাম আপনি এখন কি করবেন বলে আশা করেন,বা আপনি আপনার লাইফে কি হতে চান, কি হওয়ার স্বপ্ন,মানে আমাদের কে যদি একটু বলতেন?

আনুশা:আমি এখন কোন কিছু নিয়ে ভাবছিনা,আর আমি কোন কিছু নিয়েই আশা রাখি না,যে আমি লাইফে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো এমন কোন স্বপ্ন আমার নেই,আমার স্বপ্ন আমার মাকে ভালো রাখা জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত তার পাশে যেন আমি থাকতে পারি,

জার্নালিস্ট: তার মানে আপনি এখন পড়া লিখা বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছেননা?

আনুশা: আমি পড়া লিখা করবো না এই টা আপনাদের কে বলিনি,তবে কতটুকু পর্যন্ত করবো সেটা আমার ভাগ্যের উপরে নির্ভরশিল,

জার্নালিস্ট: ওকে ম্যাম আমরা, আপনার মাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই

আনুশা আম্মু: অদের সামনে গিয়ে দাড়ালেন

জার্নালিস্ট: আপনার মেয়ের এতো ভালো একটা রেজাল্ট করেছে এই নিয়ে আপনার কোন কিছু বলার আছে

আনুশার আম্মু: আমার আর কি বলার থাকবে আমার মেয়েকে নিয়ে গর্ব করি,সে যেন তার লাইফে ভালো একটা পর্যায়ে পৌছাতে পারে আমি সেই দোয়া করি

প্রিন্সিপাল স্যার:আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে আপনারা আর অহেতুক প্রশ্ন করে উনাদের বির্বত করবেন্না,আপনারা তো আনুশার কথা শুনেছেন আর কি
জার্নালিস্ট:আসলে স্যার মেয়ের এতো বড় একটা সাফল্যে মায়ের,মনের অবস্তা টা কেমন সেটা ই জানার ছিলো

প্রিন্সিপাল স্যার: আপনারা প্রশ্ন করা বন্ধ করলে আমরা উনাদের কিছু বলার সুযোগ পেতাম
জার্নালিস্ট : ওকে স্যার তা হলে আমরা আসছি,(জার্নালিস্ট রা চলে গেলো)

প্রিন্সিপাল : আনুশা মা তোকে কিছু বলার ছিলো,একটু শুনবি

আনুশা: জি স্যার বলুন

প্রিন্সিপাল : আমরা সবাই মিলে কাল তোকে একটা সম্ভর্ধনা দেয়ার অনুষঠানের আয়োজন করেছি,আসলে আমরা বললে ভুল হবে শহরের অনেক নামি দামি মানুষেরা এখন তোর সাথে দেখা করতে চাইবে, সেখানে সবাই উপস্থিত থাকবে

আনুশা: স্যারর এই সব না করলেও পারতেন,এমনিতে ও আপনাদের দোয়া আর ভালোবাসা আমার সাথে ছিলো বলেই আজ আমি এখানে দাড়াতে পেরেছি

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া part:8

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

part:8

লেখা –সুলতানা ইতি

মায়ের সে কি আনন্দ, অনেক দিন পর মাকে এতো খুশি হতে দেখলাম

আম্মু: কিরে শিলা এতো শুকিয়ে গেলি কেনো

শিলা: কই মা আমি তো ঠিকই আছি

আনুশা: আপু বুঝিস না,তুই যদি হাতি ও হয়ে যাস তার পরে মা বলবে না তুই এখন ও চিকন, আরেকটু মোটা হতে হবে,আনুশার কথা শুনে সবাই এক সংগে হেসে উঠলো

তানভীর : যাক বাবা এতো দিনে আনুশা কোথায় থাকে সেটা জানতে পারলাম
তানিম: এবার খুশি তো চল এবার বাসায় যাই

তানভীর : আর একটু থাকি না এখানে

তানিম: থেকে কি করবি,দেখ এখন সন্ধ্যা হতে চল্লো আনুশা এখন আর বের হবে না সো এখানে থেকে ও তোর কোন কাজ হবে না তার ছেয়ে ভালো বাসায় যাই

তানভীর : কি আর করা চল তা হলে, বাসার দিকে ফিরে গেলাম

#আনুশা: আপু তুই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়,আমি খাবার দিচ্ছি,

শিলা:বাবা আনুশা তুই কবে থেকে কাজ করিস কি সুন্দর করে আমাকে ভাত বেড়ে খাওয়াচ্ছিস,আগে তো এক গ্লাস পানি ডেলে ও খাইতিস না

আনুশা: আপু আগে যেমন ছিলাম এখন ও কি তেমন থাকতে হবে, সব কিছুই পরিবর্তন শিল,আমি ও এর ব্যাতীর্কম নই

শিলা: তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো আনুশা আমি তো যাস্ট এমনি বললাম
আনুশা: কথা না বাড়িয়ে খাওয়া শুরু কর,
#
তানভীর : বাসায় এসে পৌছলাম
আম্মু: কিরে কই গেলি, এতো তাড়া তাড়ি চলে আসলি,বলে তো গেলি ফিরতে রাত হবে

তানভীর : আম্মু এতো কথা বলছো কেনো আমি বাসায় আসাতে কি তোমার প্রব্লেম হইছে,তা হলে বলো আমি আবার চলে যাই

আম্মু: যাক বাবা তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো,

তানভীর : তুমি রাগ করার মতো, কথা বললে আমি রাগবো না তো হাসবো,দেখো আম্মু এখন একটু চুপ থাকো, কোন প্রশ্ন করো না
এই বলে চলে এলাম রুমে দরজা লাগিয়ে দিলাম

তানভীরের আম্মু: ছেলেটার যে কি হয়েছে আজকাল কথায় কথায় রাগ দেখায়,সারা দিন কি এতো ভাবে,জিজ্ঞাস করলে ও বলে না ওর বাবাকে ব্যাপার টা জানাতেই হবে,আজকেই ফোন করলে বলবো

*
খাওয়া শেষ করার পর আনুশা বল্লো আপু তুই একটু রেস্ট নে আমি এগুলা পরিষ্কার করে আসছি কেমন

শিলা: বোন টা কে যতো দেখছি ততই যেন অভাক হচ্ছি,এ কি সেই বোন যে কি না কাজ করতে চাইতো না হাত ময়লা হয়ে যাবে সেই ভয়ে

আনুশার আম্মু: কিরে শিলা কি ভাবছিস

শিলা: মা আনুশা?

আনুশার আম্মু: আমার মেয়েটা আর আগের মতো নেই রে শিলা,অনেক পালটে গেছে কতোটা পাল্টেছে তা কেউ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবে না, মেয়েটা আমার বিতরে বিতরে গুমরে গুমরে মরছে,আর আমি মা হয়ে তা দেখছি

শিলা: মা কেদো না তো সব ঠিক হয়ে যাবে
আনুশা: হঠ্যাৎ এসে দেখি মার চোখে পানি,একি মা তুমি কাদছো কেনো

শিলা: মা আসলে ভাবছে উনার দুই মেয়ে উনার কাছে সুমি টা আসলে ভালো হতো ( কথা গুরানোর জন্য বললাম)

আনুশা: মা তুমি কেদো না তো যখন আমার একটা চাকরি হবে তখন বড় একটা বাসা নিবো, তখন তিন মেয়ে কে এক সাথে দেখবে,

আনুশার আম্মু: সুমি কে একটু ফোন কর তো,

আনুশা: আচ্ছা করছি,এই নাও রিং হচ্ছে রিসিভ হলে কথা বলবে

শিলা: চল আনু আমরা একটু কথা বলি দুই বোনের অনেক দিন পর দেখা হলো,
আনুশা: হুম তা যা বলেছো আপু তোমাকে পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি,আর ও খুশি হতাম যদি সুমি আপু ও একসাথে থাকতো।

এই ভাবে গেলো আর ও কিছু দিন

আজ আনুশাদের রেজাল্ট বের হবে আনুশা তো সকাল থেকে টেনশন এ শেষ গতো কাল শিলা আপু ও চলে গেছে, কতো করে বললাম থেকে যেতে থাকলো না দুলা ভাইয়ের খাওয়া দাওয়ার নাকি প্রব্লেম হচ্ছে,এখন যে কি করি রেজাল্ট জানি কেমন হয় উফফ আর ভাবতে পারছি না কান্না পাচ্ছে যদি রেজাল্ট ভালো না হয় তা হলে আমি কি করবো

আনুশার আম্মু: চিন্তা করিস না মা আমি জানি তোর রেজাল্ট ভালো হবে

আনুশা: মা তুমি বলছো ভালো হবে,আল্লাহ তুমি আমার মায়ের কথা টা কবুল করো এই ভাবে হতাসার মধ্যে আনুশার সময় যাচ্ছে,
#
তানভীর :: রেজাল্ট নিয়ে আমার কোন চিন্তা নাই,হয় তো রেজাল্ট আসবে না,নয় তো টেনে টুনে পাশ করা রেজল্ট আসবে,আমি জানি এক্সাম ভালো হয়নি,

তানভীর এর আম্মু: তানভীর জানিস তোর বাবা কাল দেশে আসছে

তানভীর : জানতাম না তো আম্মু তা আব্বু হঠ্যাৎ করে দেশে ফিরছে কেনো
আম্মু: হঠ্যাৎ করে আসতে যাবে কেনো অনেক দিন থেকেই আসার কথা চলছে,তোকে নাকি তোর আব্বু কয়েক দিন কল দিয়েছে,তুই নাকি তোর আব্বুর কল রিসিভ করিস নি,

তানভীর : হুম আম্মু আসলে কথা বলতে ভালো লাগেনি তাই

আম্মু: তুই জানিস তোর পরিক্ষার রেজাল্ট নিয়ে তোর আব্বুর কতো সপ্ন,ওনি আজই আসতে ছেয়ে ছিলো টিকেট পায়নি তাই কাল আসছে

তানভীর : মন খারাফ হয়ে গেলো কেননা আমি আব্বুর সপ্ন পুরন করতে পারবো না,

আম্মু: ভাবিস না বাবা রেজাল্ট ভালোই হবে আল্লার রহমতে
দুপুর ২ টার দিকে রেজাল্ট বের হলো

আনুশা: মা এবার তা হলে একবার কলেজ থেকে ঘুরে আসি,এতোক্ষনে রেজাল্ট বের হয়ে গেছে মনে হয়
আনুশার আম্মু: তা হলে যা,

এইদিকে তানভীর সকাল থেকেই কলেজ এ ওয়েট করতেছে রেজাল্ট এর জন্য,(কি ভাবছেন তানভীর নিজের রেজাল্ট এর জন্য অপেক্ষা করছে,না ও আনুশার রেজাল্ট দেখবে বলে অপেক্ষা করে বসে আছে)

তানভীর : যখন এ শুনলাম,নোটিশ বোর্ড এ রেজাল্ট শিট দিয়ে দিয়েছে তখনই ভোঁ দৌড় লাগালাম,
রেজাল্ট শিট দেখে তো আমি বলার ভাষা হারিয়ে পেলেছি,স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি

তানিম: কিরে এই ভেবে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো তোর তো রেজাল্টই আসেনি

তানভীর : তানিমের কথায় আমার ঘোর কাটলো, ওওও আমার টা আসেনি তা হলে, কোন ব্যাপার না তুই আনুশার রেজাল্ট টা দেখ তো

তানিম: আনুশার রেজাল্ট দেখে আমার কি হবে

তানভীর : ভ্রূ কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে, তুই বুঝবি না সর তো প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছে যাবো এই বলে হাটা ধরলাম অফিস রুমের দিকে
তানভীর : মে আই কামিন

প্রিন্সিপাল স্যারর:ইয়েস

তানভীর : স্যারর আনুশার রেজাল্ট দেখেছেন

স্যার: হুম দেখেছি আমরা কয়েকজন স্যারর মিলে এখন আনুশা দের বাড়িতে যাবো

তানভীর : (খুশি হয়ে) ও তাই নাকি

স্যার: কিন্তু আনুশার রেজাল্ট দেখে তুমি এতো খুশি কেনো তোমার তো রেজাল্ট ই আসেনি

তানভীর : কি যে বলেন স্যার সবাইকে আর ভালো রেজাল্ট করতে পারে,এর মধ্যে ইংলিশ স্যার মানে আমাদের রবিন স্যারর আসলো,
রবিন স্যারর প্রিন্সিপাল স্যারর কে বলছে স্যার গাড়ি রেডী চলুন আনুশাদের বাড়িতে যাওয়া যাক

প্রিন্সিপাল : হুম চলুন,

প্রিন্সিপাল স্যারর কি ভেবে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন তুমি যাবে আমাদের সাথে

তানভীর : স্যারর এর কথা শুনে তো আমার খুশি তে লাফাতে ইচ্ছে করছে, হুম স্যার। যাবো

এর মধ্যে:মেহেদী স্যারর আমাদের বাংলা শিক্ষক উনি এসে প্রিন্সিপাল স্যারর কে বললেন স্যারর একটা কান্ড ঘটে গেছে

প্রিন্সিপাল : আবার কি ঘটলো

মেহেদী স্যার:জার্নালিস্টি রা কি করে যেনো খবর পেয়ে গেছে ওরা আনুশার ইন্টার্ভিউ নিতে যায়

প্রিন্সিপাল : ও তাই চলো ওদের কে নিয়ে আনুশার বাড়িতে যাবো

তানভীর : আমার তো খুশির সিমা নেই আমাকে এতো খুশি হতে দেখে
তানিম বল্লো s,s,c te তোর রেজাল্ট অনেক ভালো ছিলো তখন তো তুই এতো খুশি হসনি

তানভীর : তানিম তুই বুঝবি না প্রিয়ো মানুষটার ভালো কাজে, কতো টা আনন্দ পাওয়া যায় এটা তুই বুঝবি না

তানিম: রাগ দেখিয়ে আমার বুঝার দরকার নেই আমি গেলাম তুই তো আনুশার বাড়িতে যাবি

তানভীর : হুম যাচ্ছি কেনো তুই যাবি না

তানিম: তোর ইচ্ছে হইছে তুই যা আমাকে এর মধ্যে টানছিস কেনো

তানভীর : ওকে আমি যাচ্ছি,সবাই এক সাথে মাইক্রোবাস করেছে আনুশাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য,আমি এ তাদের সাথে উঠে বসলাম

to bee continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া part: 7

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া part: 7

লেখা –সুলতানা ইতি

 

এই ভাবেই গেলো কিছু দিন,

আগামি কাল আনুশার এক্সাম তাই পড়া শুনা করছে,, টিউশনির স্টুডেন্টদের ও বলে দিয়েছি কয়েক দিন পড়াতে পারবে না, আনুশা চায় না তার পড়ার কোন।ক্ষতি হোক

আনুশার আম্মু: হ্যারে আনু শিলা চায় তোর পরিক্ষার পরে এসে কয়েক দিন থাকতে তুই কি বলিস

আনুশা: মা এটা তুমি কি বলছো বড় আপুর আসতে ইচ্ছে হয়েছে সে আসবে এতে এক্সাম এর সাথে সম্পর্ক কি,আপু কে তুমি কাল ই আসতে বলে দাও

আনুশার আম্মু: না মানে এখানে তো থাকার তেমন জায়গা নেই, একটা রুম আমরা মা মেয়ে থাকি,আর ওর ছেলে মেয়ে আসলে ওরা দুষ্টামি করবে তোর পড়া শুনার ডিস্টার্ব হবে ভেবে আমি নিষেধ করেছি

আনুশা: তা ঠিক বলেছো আমি ও তো কিছু ভেবে দেখিনি,টেনশন করো না মা এক্সাম টা ভালো ভাবে হয়ে গেলে যদি ভালো রেজাল্ট করতে পারি তো একটা জব পেলে এই বাসা টা ছেড়ে দিবো

আনুশার আম্মু: আল্লাহহ যেন তোর মনের আশা পূর্ন করে
আনুশা রাত একটা পর্যন্ত পড়লো এক্সাম এর চিন্তায় ওর ঘুম আসতেই চাইছে না

তানভীর : কাল এক্সাম আর আজ ও ঠিক করে পড়তে পারছি না কি যে করি,আচ্ছা আনুশা কি আমার কথা এমন করে ভাবে, কি জানি হয়তো ভাবে না,
আচ্ছা আনুশা কি পড়তে পড়তে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে,হবে হয় তো,
মেয়েটা যে গ্রন্থ কীট, পড়তে পড়তে হয় তো পড়ার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়েছে, আচ্ছা আনুশা ঘুমালে কি ওর মুখে চুল এলো মেলো হয়ে এসে পড়ে,ইসস যদি ওর ঘুমন্ত মুখ টা একবার ছুঁয়ে দিতে পারতাম

তানভীর এর আম্মু: অনেক রাত হয়েছে দেখে আসি ছেলেটা ঘুমিয়েছে কি না,
সে কি ছেলেটা তো আমার পড়া শুনা বাদ দিয়ে ভাবনায় ডুবে আছে তানভীর এই তানভীর, কিরে পড়ছিস না কেনো

তানভীর ; আম্মু পড়ছি তো

আম্মু: আর পড়তে হবে না অনেক রাত হয়েছে এই বার ঘুমা,

তানভীর : ঠিক আছে আম্মু, তুমি আমাকে একটু তাড়া তাড়ি ডেকে দিও, এখন লাইট অফ করে দাও

আম্মু:হুম দিচ্ছি

তানভীর : আম্মু চলে গেছে, অন্ধকারে ও যেন আনুশা কে দেখতে পাচ্ছি অনেক দিন হলো ঠিক করে ঘুমাই না,ঘুম যে আনুশার ঐ মায়াবী চাহনিতে আটকে গেছে,

সকাল বেলা,আনুশা তাড়া তাড়ি ফ্রেশ হয়ে এক্সাম দিতে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে
আনুশার আম্মু: আনু সব কিছু মনে করে নিয়েছিস তো ভুলে কিছু পেলে রাখিসনি তো
আনুশা: না মা তুমি দেখো সব নিয়েছি আর তোমার মেয়ে এতো টা ও মন ভুলো নয় যে প্রয়োজনীয় জিনিশ পেলে যাবে
#
এদিকে তানভীর ভাবছে কিছুই তো পড়েনি কি লিখবো,আল্লাহ কপালে যা রাখছে তা ই হবে ভেবে লাব নাই,

তানভীর আম্মু:তানভীর এই নে তোর সব রেডি করে দিয়েছি এই বার আল্লাহর নাম করে বের হও
তানভীর মায়ের দোয়া নিয়ে বেরিয়ে গেলো,

এ ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম এর পর আজ ওদের এক্সাম শেষ হলো,

আনুশা :মা বড্ড ক্লান্ত লাগছে,আজ আর কোথায় যাবো ণা, সারা দিন ঘুমাবো

আনুশার আম্মু: তুই ভুলে গেছিস আজকে যে শিলা আসবে আর তোকে কিন্তু স্টেশন এ আনতে যেতে হবে,আমার বড় মেয়েটা একদম বোকা, ও আসতে পারবে না এতো দূর

আনুশা: হুম তা যা বলেছো আপু এমন দেখেই দুলা ভাই ওর সাথে চালাকি করে পার পেয়ে যায়

আনুশার আম্মু: হুম তা ঠিক,আচ্ছা এখন আর কথা বলিস না ঘুমা,আমি বিকেল ও জাগিয়ে দিবো তোকে,
আনুশা কিছু না বলেই ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে

তানভীর : এক্সাম তেমন একটা ভালো হয়নি কোন ভাবে টেনে টুনে পাশ করবো,কিন্তু আমি এতো দিন থাকবো কি করে আনুশা কে না দেখে, আল্লাহ প্লিজ তুমি আনুশা কে খুঁজে দাও, এক্সাম এর জন্য ওর সাথে কথা বলতে পারিনি,সেদিন সবার আগে স্যার কে অনেক রিকুয়েস্ট করে সময়ের আগে কাগজ জমা দিয়ে হল থেকে বের হই, শুধু আনুশার সাথে একটু কথা বলবো এই ভেবে,

তানভীর : ঐ তো আনুশা হল থেকে বের হয়েছে এই আনুশা দাড়া ও প্লিজ যেও না
আনুশা: তানভীর আবার ডাকছে উফফ কি করলে যে এই ছেলেটা আমার পিছু ছাড়বে আমি নিজে ও জানি না,দাঁড়িয়ে পড়লাম

তানভীর : কেমন আছো আনুশা

আনুশা: আপনি আমি কেমন আছি এটা জানার জন্য আমাকে ডেকেছেন,
তানভীর : কেনো আমি জানতে পারি না

আনুশা: (এই ছেলের সাথে কথা না বাড়ানো ই ভালো) হুম ভাল আছি আর কিছু

তানভীর : আমি কেমন আছি জানতে চাইবে না
আনুশা: জানার প্র‍য়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না,, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে ভালোইই আছেন (অন্য দিকে ফিরে কথা টা বললাম,)

তানভীর : তুমি আমার চোখের দিকে একবার তাকাও আনুশা,দেখবে সে চোখে তোমার ভালোবাসা পাওয়ার আকুলতা কতো টা

আনুশা: অনেক কস্টে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করে বললাম,আপনার কথা শেষ হয়েছে এবার তা হলে আমি আসতে পারি, এই বলে তানভীর কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলো

তানভীর : সেদিন যাওয়ার পথে চেয়ে রইলাম এই আশায় যদি আনুশা একবার পিছনে ফিরে তাকায়,কিন্তু ওর মনে যে অনেক ঘৃনা একটি বার ও তাকালো না
একা একা ভালো লাগছে না, যাই ফ্রেন্ডস দের সাথে একটু আড্ডা দিই,
তানিম কে একটা ফোন করি, তানিম হলো তানভীর এর বেষ্ট ফ্রেন্ড,

তানভীরের আম্মু: কিরে কোথায় ও যাচ্ছিস নাকি

তানভীর : হুম আম্মু তানিমের সাথে দেখা করতে, আমার ফিরতে রাত হবে তুমি খেয়ে শুয়ে পড়বে কেমন

আম্মু: বেশি রাত করিস না,

তানভীর : বললাম তো ফিরতে রাত হবে, এই বলে তানভীর বেরিয়ে পড়লো

আনুশা : বড় আপুর জন্য স্টেশন এ দাঁড়িয়ে আছি এখন বাস আসেনি

তানভীর : তানিমের সাথে কথা বলতে বলতে স্টেশন এ চলে আসলাম,(আসার কোন কারন ছিলো না,এমনি হাটতে হাটতে মনের অজান্তে চলে এলাম)
আরে এ আনুশা না, খুশিতে তানভীরের চোখ চক চক করে উঠলো ভাবতেই পারিনি ওকে এই ভাবে দেখবো

তানিম; আচ্ছা তানভীর তুই আনুশার মাঝে কি এমন খুজে পেলি বলতো শুধু দেখতে একটু সুন্দর আর কি,দেমাগে ভর পুর কারো সাথে কথা বলে না,
তানভীর : তুই এমন করে বলছিস কেনো ও এমনি তে কথা বলা পছন্দ করে না
তানিম: বুঝলাম ও ছেলেদের সাথে কথা বলা পছন্দ করে না,কিন্তু মেয়েরা কি দোষ করলো,কোন দিন আনুশাকে দেখেছিস কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে

তানভীর : তানিম তুই থামবি,( তানিমের মুখে আনুশা সম্পর্কে এগুলা শুনতে আমার মোটেই ভালো লাগছে না তাই ওকে থামিয়ে দিলাম) অনেক্ষন। আনুশাকে দূর থেকে দেখছি, ভাবলাম আজ আনুশা কে follow করে ওর বাড়ি পর্যন্ত যাবো, তাই ওর সামনে গেলাম না, সামনে গেলে হয় তো সে আমার চোখ পাকি দিতে পারে

আনুশা: উফফ আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবো, পা ব্যাথা হয়ে গেলো তো
প্রায় ৩০ মিনিট পর শিলা বাস থেকে নামলো আনুশা তার ছোট্ট ভাগ্নি টাকে কলে নিয়ে আদর করতে থাকে,

আনুশা: আপু এবার কিন্তু অনেক দিন থাকবে তুমি এই বলে দিলাম

শিলা: আচ্ছা থাকবো এখন টেক্সি ডাক,আনুশা টেক্সি ডেকে উঠে পড়লো

তানভীর : আগেই C.N.G ঠিক করে রেখেছিল আনুশার টেক্সি তে উঠার সাথে সাথে অদের পিছু পিছু যেতে লাগলো,তানিমের মুখ দেখে মনে হচ্ছে আনুশাকে follow করাতে ও একদম খুশি নয়, তাতে তানভীর এর কিছু যায় আসে না ওর ভাবনা আনুশার বাসা অব্দি পৌছানো

আনুশা: আপু দুলা ভাই আসেনি কেনো

শিলা: ওর কাজ আছে তাই,আর বলে আসলে থাকবে কোথায় তাই আসেনি

আনুশা: কিচ্ছু বললাম না আপুকে,শুধু নিজের মনকে বললাম ধৈয্য ধরার শক্তি দিতে আপুকে নিয়ে বাসায় পৌছালাম

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া পর্ব:6

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

পর্ব:6

লেখা –সুলতানা ইতি

আনুশা: ইচ্ছে করে এখন এই কলেজ থেকে চলে যাই,এই ছেলেটা যে ভাবে আমার পিচনে লেগেছে, তাতে বুঝতে পারছি এই কলেজ এ থাকলে শান্তি পাবো না, কিন্তু যাবো কোথায়?
অহ এই সময় আবার কে ফোন দিলো, ওও অন্নি
হ্যালো অন্নি কি খবর তোর

অন্নি: হুম আমি ফোন দিলেই খবর জানতে চাস,নিজে থেকে কখন ও ফোন করেছিস

আনুশা: প্লিজ অন্নি রাগ করিস না সময় পাই না আর আজ থেকে তো মোটে ও পাবো না জানিস প্রিন্সিপাল স্যার আর দুটো টিউশনি খুজে দিয়েছে আমায়

অন্নি: জানি আমি,এখন বল নতুন কলেজ নতুন ফ্রেন্ডস কেমন লাগছে

আনুশা: নতুন ফ্রেন্ডস মাই ফুট

অন্নি : রেগে যাচ্ছিস কেনো কি হইছে বল

আনুশা: কি হয়নি সেটা বল,তার পর অন্নিকে প্রথম থেকে সব কথা বললাম

অন্নি: 😃😃😃😃😃😃😃বলিস কিরে হুহুহুহুহুহুহুহুহু হা হা হা হা

আনুশা: অন্নি😡😡😡😡😡😡😡

অন্নি: ওকে ওকে আর হাসবো না,তবে ছেলেটি মনে হয় তোকে সত্যি লাভ করে রে

আনুশা: অন্নি তুই সব জেনে ও এই কথা বলছিস,ভালোবাসা সম্পর্ক। এই সবের প্রতি আমার বিশ্বাস নেই,ভালো বাসা বলতে পৃথিবীতে কিছু আছে বলে ও আমার মনে হয় না

অন্নি: তুই থাম, পৃথিবীর সবাই কি এক রকম

আনুশা: প্লিজ অন্নি এখন তুই এটা বলিস না,যে আনু তুই ছেলেটার সাথে কথা বল

অন্নি: আমি ওটা বলছি না ছেলেটা তোকে পছন্দ করে এটা ছেলেটার প্রব্লেম তোর না, তুই এই সব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিস কেনো

আনুশা: অন্নি তুই কি বলছিস ঐ ছেলের জ্বালায় আমি ঠিক মতো ক্লাস করতে পারছি না, আর তুই বলছিস আমি😡😡😡😡,উফফগ অন্নি তুই ফোন রাখ তো আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে

অন্নি: ওকে রাখছি মাথা ঠান্ডা হলে ফোন করিস, আল্লাহ হাফেয,

আনুশা : মনে মনে অন্নি কে বকতে লাগলো
বাসায় এসে ও মুড অফ করে বসে আছে

আনুশার আম্মু: ভেবে ছিলাম মেয়েটা পড়া শুনা করলে সবার সাথে মিসবে আবার আগের মতো হয়ে উঠবে,এই তো দেখছি পুরোই উল্টা ও আর ও গম্ভির হয়ে যাচ্ছে কিছু জিজ্ঞাস করলে ও বলবে না

আনুশা: জীবন টা কেনো আমার এমন, যখন ই ভাবলাম এখন থেকে ভালো থাকবো ঠিক তখন ই একটা ঝড়ের পূর্বাশ দেখতে পাই,
না এই সব ভাবলে হবে না আমাকে পড়া শুনা করতে হবে আমাকে অনেক বড় হতে হবে কিছু কিছু মানুষ কে বুঝিয়ে দিতে হবে,তারা না থাকলে ও আমরা ভালো থাকতে পারি

এই ভাবেই কাটছে আনুশার দিন রাত,একটু আশার আলো আর অনেক হতাশা, কলেজ টিউশনি আর পড়া শুনা,আর তানভীর এর জ্বালাতন তো আছে ই★

আনুশা : রাতের শহর টা খুব ভালো লাগে বিশেষ করে যখন জানালা দিয়ে বাইরে দেখি, তখন বড় বড় দালান গুলোর জানালা দিয়ে জোনাকির আলোর মতো লাইটের আলো বের হয়ে আসে, চার দিকে অন্ধকার, আর জোনাকির আলোর মতো এই সামান্য আলোটা মন টা একদম মাতাল করে দেয়

আনুশার আম্মু: কিরে ঘর অন্ধকার করে বসে আছিস যে

আনুশা: মা ভালো লাগছে অন্ধকার, লাইট জালিয়ে ও না তো

আনুশা আম্মু: তা বললে কি আর হয়, আনু পড়তে বসবি না আজকে

আনুশা: আজ ভালো লাগছে না মা

আনুশার আম্মু: শুনো মেয়ের কথা, আর মত্র কয়েকটা দিন আছে পরিক্ষার আর মেয়ে বলে কি,আমি অতো কিছু বুঝি না লাইট জালিয়ে দিলাম পড়তে বস

আনুশা: উফফ মা একদম কিচ্ছু বুঝে না, কি আর করা যাই পড়তে বসি,পড়তে ও তো মন চায় না কি করি

হুম ঐ দিন যে ডায়েরী কিনেছি তাতে তো কিছু ই লিখিনি, আজ লিখবো,যেই ভাবে সেই কাজ ডায়েরী নিয়ে বসে পড়লাম,

😱😱😱😱😱ডায়েরি পাতা উল্টিয়ে মাথায় বাঁজ পড়লো,আমি তো এই টা কিনার পর থেকে সময়ের অভাবে কিছুই লিখিনি,তা হলে লিখা টা লিখলো কে,পড়ে দেখি তো কি লিখেছে

” আড়ালে যত দূরে হোক ঐ আকাশ
তবুও আমি তার নিচেই হাটি প্রতিদিন
যতো টা গভীরে আছে চোখের জ্বল,

তবুও আমি করি সেখানে নিজেকে ভিলিন
রাত শেষ যখন ট্রেনের শব্দে ভোর
কাটে না তখন হাজার সপ্নের ঘোর

খুজেছি তখন অজনা সুখ ঐ চোখে
কি যেন দেখি আমি ভিশন ও ভিবর “”

বাহ কবিতা টা তো খুব সুন্দর । কিন্তু এটা লিখলো কে,,কবিতা টা একদম সেই রকম,,,
না না না কি ভাবছি এই সব আমি, এই সব সুন্দর জিনিশ গুলো উপভোগ করা আমার জন্য নয়,😡😡😡😡😡 রাগে ডায়েরী টা চুড়ে মারলাম,কোন ভাবে তানভীর এই লিখাটা লিখেনি তো, ও যদি লিখে থাকে, তা হলে ওর সাহস কি করে হয় আমার অনুমতি ছাড়া আমার ডায়েরী তে কিছু লিখার😡😡😡😡
আনুশার আম্মু’ কিরে ডায়েরী টা পেলে দিলি কেনো

আনুশা:মা তুমি এখানে,?

আনুশার আম্মু : দেখতে এলাম তুই পড়ছিস কি না

আনুশা: দেখা হয়ে গেছে,এখন যাও তো আমাকে একা থাকতে দাও

আনুশার আম্মু: তোর কি হয়েছে বলবি আমাকে

আনুশা: কিছু হয়নি।আমি ঠিক আছি,এখন পড়বো তুমি যাও তো মা

আনুশার আম্মু: যাচ্ছি তুই রাগ করিস না
চলে এলাম মেয়েটার যে কি হয়েছে বুঝিনা,কতো হাসি খুশি চট পটে মেয়ে ছিলো আমার,আর এখন তো হাসতে ও ভুলে গেছে

আনুশা: খুব কান্না পাচ্ছে যতো এই সব ফালতু জিনিশ থেকে নিজে কে দূরে রাখতে চাই ততই কেনো কাছে চলে আসে এই সব, আর না,আর কয়েকটা দিনই তো, এক্সাম এর পর অন্য কোথায় ও চলে যাবো,তার আগে আমাকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে,
কিন্তু আজ কিছুতেই পড়াতে মন দিতে পারছি না,খুব রাগ হচ্ছে ইচ্ছে করে সব ভেঙে পেলে দি

তানভীর : কয়েক দিন পরে এক্সাম,কিন্তু কিছু তে ই পড়তে পারছি না, সারাক্ষন মনে হয় আনুশা আমার আসে পাশে আছে কেনো এমন হচ্ছে,আনুশা কে তো আমার ফিলিংস টা বুঝাতে ই পারছি না।মেয়েটা এমন কেনো বুঝি না,ইসস ও যদি আর ও আট দশটা মেয়ের মতো হতো,তানভীর না না আমাকে ভেংগে পড়লে চলবে না,আর ও কেন অন্য মেয়েদের মতো হবে, ওর এমন ভাব দেখেই তো ওর প্রেমে পড়েছি আমি

তানভীর এর আম্মু: কিরে তানভীর কি ভাবছিস এই পড়ন্ত বিকেল এ

তানভীর : আম্মু কিছু না তো ( শুনেছি আব্বু আম্মুর নাকি লাব ম্যারেজ, আর মা বাবা যেমন হয় ছেলে মেয়ে ও নাকি তাদের মতো হয়)

তানভীর এর আম্মু: তুই যতোই বলিস কিছু হয়নি আমি বুঝি কি লুকাচ্ছিস, বল।

আম্মু তুমি ও না কি লুকাতে যাবো বলো

তানভীরের আম্মু: দেখ বাবা তুই এখন ও এতো টা বড় হয়ে যাসনি যে আমি তোর না বলা কথা গুলো বুঝতে পারবো না

তানভীর : আমি আম্মুর দিকে অভাক চোখে তাকিয়ে আছি,আর ভাবছি মেয়েদের মনটা কতো কমল তা আমার আম্মু কে না দেখলে বুঝতে পারতাম না আব্বুকে তো বুঝার মতো সময় পাইনি,উনি থাকে দেশের বাইরে দুই তিন বছর পরে একবার আসে কয়েক মাস থেকে আবার চলে যায়,এই আম্মু ই আমার সব

তানভীরের আম্মু : কিরে বলবি না মায়ের কাছে

আম্মু আমার কাছে এসে মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতস জিজ্ঞেস করলো, আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে রাখলাম

আম্মু: জানিস তোর আব্বু যেদিন আমাকে প্রথম দেখে অনি নাকি আমাকে প্রথম দেখেই ভালোবেসে পেলে,কিন্তু আম্মু প্রথম প্রথম পাত্তা দিতাম না

তানভীর : কেনো দিতে না আম্মু

আম্মু: তোর বড় আন্টির যখন বিয়ে হয় তখন দেখলাম তোর আংকেল তোর আন্টিকে কারনে, অকারনে বকতো মারতো সেই থেকে ছেলে দের আমার ভয় হতো,কিন্তু তোর আব্বু কে দেখে আর তোর আব্বুর ভালোবাসা দেখে, আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে পৃথিবীতে সব মানুষ এক নয়

তানভীর : তার মানে আনুশার জীবনে কি এমন কিছু আছে? যে জন্য ও আমাকে বিশ্বাস করতে পারছে না

আম্মু: কিরে কি ভাবছিস,মেয়েটার নাম কি,?

তানভীর : অবাক হয়ে কোন মেয়ে আম্মু

আম্মু: এতো অবুঝ সাজছিস কেনো,এখন যে মেয়েটার কথা ভাবছিস আমি তার কথা ই জিজ্ঞেস করছি

তানভীর : তুমি কি করে বুঝলে আম্মু আমি এখন কারো কথা ভাবছি

আম্মু: বুঝবো না,আমি যে মা সন্তানের মনে কি চলছে আমি তো বুঝতে পারছি,

তানভীর : সত্যি আম্মু তুমি পৃথিবীর সেরা মা,আমার লক্ষি আম্মু

হয়েছে হয়েছে আর পাম মারতে হবেনা,আমার বউ মার নামটা তো বল

তানভীর : আম্মু ওর নাম আনুশা,ও সবার থেকে আলাদা আম্মু,সারাক্ষন পড়াশুনা করে,আর চুপ চাপ থাকে,

আম্মু: কোথায় থাকে বল আমাকে আমি ওর আম্মুর সাথে কথা বলবো

তানভীর : কোথায় থাকে জানি না কথা বলতে গেলে,কিছু বলার সান্স এ দেয়না এটা ওটার বাহানা করে চলে যায়

আম্মু: ভাবিস না সব ঠিক হয়ে যাবে,অনেক দেরি হয়ে গেছে আমি নাস্তা দিচ্ছি খেয়ে পড়তে বস,আর এখন এসব ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে পেল

তানভীর : হুম
কি হুম আয় খাবি চল,আম্মু আমাকে টেনে নিয়ে গেলো

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া পর্ব:5

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

পর্ব:5

লেখা –সুলতানা ইতি

 

পরদিন সকাল বেলা আনুশা তাড়া তাড়ি রেডি হচ্ছে কলেজ এ যাওয়ার জন্য
আনুশার মা: কিরে কই যাচ্ছিস তুই এতো সকাল সকাল?

আনুশা: কোথায় সকাল মা আটটা বাজে,আর আমি কলেজ এ যাচ্ছি আর একটা দিন ও নস্ট করতে চাই না

মা: তাই বলে এতো তাড়া তাড়ি

আনুশা: মা রাস্তায় জ্যাম থাকে তো অনেক

আনুশার আম্মু: ওকে যা মন দিয়ে পড়া শুনা কর

আমি মায়ের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে কলেজ এর পথে রওনা হলো
এ যেন আমার নতুন জীবনে পা রাখলাম আমি, কখন ও কি ভেবেছি আবার পড়া শুনা করবো আগের মতো, আল্লাহ সব কিছু তোমার রহমতেই সম্ভব হয়েছে,তুমি না চাইলে কিচ্ছু হতো না, শুকরিয়া আল্লাহ তোমার দরবারে, কলেজ এসে পৌঁচলাম দেখলাম ক্যাম্পাসে বসে অনেকই আড্ডা দিচ্ছে,যাই হোক আমি ঐ সব আড্ডা টাড্ডার মধ্যে নাই সোজা চলে গেলাম ক্লাস এ

পুরো ক্লাস টা পাকা কেউ নেই তবে সবার বই গুলো ঠিক আছে যাই হোক গিয়ে বসলাম একটা ব্যান্সে , পাশে একটা বইয়ের ব্যাগ রাখা আছে এটা কার ছেলের না মেয়ের দূর আমার এতো কিছু জানার দরকার নাই,ক্লাস শুরু হতে এখন ও লেট তার ছেয়ে বরং বই খুলে একটু পড়ি
কিছুক্ষন পর

ক্লাস সব স্টুডেন্ট রা আসা শুরু করছে শুধু আমার পাশের টা আসেনি
স্যার চলে আসছে ক্লাস এ

হঠ্যাৎ একটা ছেলে বল্লো আসবো স্যার

(আসো)

স্যার: সবাই শুনো তোমাদের এক্সাম অতি সন্নি নিকটে সো তোমরা মন দিয়ে পড়া শুনা করো এই কয়টা দিন আউট সব প্লেন বাদ দিয়ে পড়া শুনাতে মন দাও
স্টুডেন্ট : ইয়েস স্যার
স্যার আর ও কিছুক্ষন লেকচার দিয়ে চলে গেলো, আমি স্যার পড়াটা নিজে নিজে আবার করে বুঝবার চেস্টা করছি

😱😱😱😲😲আরেএএএএ miss attitude তুমি এখানে?

কথাটা শুনে তাকালাম,হুম আমার পাশে সেই ছেলেটা, যার সাথে প্রথম দিন ধাক্কা খেয়েছিলাম, সেই ছেলেটা বসেছে আর আমি খেয়াল ই করিনি,ওহ নো এতো বড় blunder আমি কি করে করতে পারি,

ছেলেটি: এই যে mis attitude এতো কি ভাবছো?বাই দা য়ে নাম কি তোমার?

আনুশা: আমার নাম যাই হোক না কেনো আপনাকে বলবো কেনো আর আমি মটেই Attitude দেখাচ্ছিনা সো আমাকে ঐ নামে ডাকবেন্না, আর আপনি আমার পাশে কি করছেন? (ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস কিরলো আনুশা)

ছেলেটি: এই যে হ্যালো, আমি আপনার পাশে না আপনি আমার পাশে এসে বসেছেন,কেনোনা আপনার আগে আমি এসেছি

আনুশা: ওকে ফাইন আপনার জায়গাতে আপনি থাকুন আমি গেলাম এই বলে আমি একদম পিচনে গিয়ে বসলাম,এই ছেলেটার গায় পড়ে কথা বলার ভাবটা আমার একদম ভালো লাগছে না কি যে করি

ছেলেটি: সেই প্রথম ধাক্কা খেয়ে এই মেয়ের চোখের দিকে নজর পড়েছিলো উদ্ভট মায়াবি চোখ, যেন চোখেই তার কথা বলে,আচ্ছা ওর চোখ গুলো কি ওর নাম টা আমায় বলে দিতে পারে না নাকি, দূর কি সব ভাবছি আমি

আনুশা: ক্লাস শেষ তাই চলে যাচ্ছিলাম হঠ্যাৎ

এই যে miss Attitude, একটু শুনবেন,

আনুশা: আসে পাশে তাকালাম দেখলাম ছেলেটা আমাকেattitude বলে ডাকাতে সবাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে, আমার তো রাগ চরমে উঠে যাচ্ছে, অনেক কস্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে বললাম

হাই আমি আনুশা আর ভুল করে ও আমাকে ঐ সব নামে ডাকবেন্না, এই বলে চলে যাচ্ছিলাম

ছেলেটি: আনুশা শুধু নিজের নাম টা ই বললে আমার নামটা শুনবে না,

আনুশা: আমি না শুনার মতো করে হাটছি
ছেলেটি চিৎকার করে বলল, হেই মিস আনুশা আমার নাম তানভির, তানভির মাহমুদ

আনুশা,; আমি আমার মতো করে চলে এলাম বাসায় এই সব ফালতু ছেলেদের কথা ভাবার সময় আমার হাতে নেই

আনুশার আম্মু: কিরে নতুন কলেজ নতুন সব কিছু কেমন লাগলো তোর,

আনুশা: ভালো
আনুশার আম্মু: ভালো হলে মুখটা এই রকম পেচার মতো করে রাখছিস কেনো

আনুশা: তুমি ও না মা,মানুষ এর মুখ কখন ও পেচার মতো হয়,আচ্ছা যাও খেতে দাও খিদে পেয়েছে( কথা গুরানোর জন্য)

আনুশার আম্মু: কথা গুরাচ্ছে মেয়ে আমার খুব বড় বড় ভাব নিচ্ছে সত্যি কি বড় হয়েছে

আনুশা: মা যাও তো খাবার দাও,

আনুশার আম্মু: দিচ্ছি আয়
খেয়ে দেয়ে একটু শুতে যাবো অমনি মনে হলো আজ ডায়েরী টা তে কিছু লিখবো অনেক দিন হয় তেমন করে ডায়েরী লিখা হয় না
ডায়েরী খুলে লিখতে বসলাম
ইসস যা সেই কবে যে ডায়েরীর পেজ গুলো শেষ হয়েছে মনে নেই
ঠিক আছে কোন ব্যাপার না,কাল কলেজ এ যাওয়ার সময় একটা কিনে নিবো
আনুশার আম্মু: কিরে কি এতো বিড় বিড় করছিস বল তো,

আনুশা: না আম্মু তেমন কিছু ই না

আনুশার আম্মু: তা হলে যা ঘুমা একটু,বিকেল এ তো আবার টিউশনি করতে বের হবি,

আনুশা: হুম,ইসস কি যে করি, চাকরি টা ও ছেড়ে দিয়েছি নতুন টিউশনি ও তো পাইনি,এই দুই টা দিয়ে তো আর সব খরচ চলবে না, কি করি,?

পরদিন আনুশা কলেজ এ যাওয়ার পথে ডায়েরী কিনবে কি না ভাবছে,যদি ডায়েরি না কিনি তা হলে কিছু টাকা বেছে যাবে, এখন কি করি? দেখি তো ব্যাগের মধ্যে জমিয়ে রাখা কোন টাকা পাই কি না,আরেবাস এই তো পেয়ে গেছি এই দিয়ে হয়ে যাবে যাই কিনে নিয়ে আসি, ডায়েরী কিনে সোজা কলেজ এ চলে গেলাম, গিয়ে ক্লাস বসলাম,

প্রিন্সিপাল স্যার: আনুশা একটু এই দিকে আয় তো
আনুশা: স্যার কেনো ডাকছে শুনে আসি

তানভীর ক্লাস এ এসে আরে এই টা miss attitude na কিন্তু কই গেলো ও তো ক্লাস ছাড়া অন্য কোথায় যায় না

এমন সময় অন্য আরেক টা ছেলে যাওয়ার সময় তার ধাক্কা খেয়ে আনুশার বই পড়ে যায়,তানভীর ছেলেটা কে কিছু বলতে গিয়ে ও বল্লো না,তানভীর এর চোখ আটকে গেলো একটা ডায়েরীর উপর

তানভীর ; আরে mis.attitude আবার ডায়েরী ও লিখে দেখিতো ডায়েরি তে কি আছে,( যদি ও অন্যের ডায়েরী পড়া ঠিক নয়) তবু ও এই ডায়েরী টা খুলে দেখি,সে কি কিছুই তো লিখা নেই,তার মানে এটা miss Attitude আজ কিনেছে, আচ্ছা যদি এই ডায়েরী টার প্রথম লিখা আমার হয়,,তা হলে ত বেশ ভালো হবে, miss attitude, একটু চমকে যাবে যেই ভাবা সেই কাজ, কাজ শেষ করে সব কিছু আগের মতো করেই রেখে দিলো

আনুশা: উফফ স্যারর কে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না,আমাকে আর ও দুটো টিউশনি পাইয়ে দিলো, যদি ও যাতায়াত করা টা একটু কঠিন তবু ও ভালো

তানভীর : হেই মিস a,সরি আনুশা, কেমন আছো

আনুশা: এ আবার এখানে হায় আল্লাহ আজ আবার আমার সাথে বসে নি তো

তানভীর; হেই মিস সারা দিন কি এতো ভাবো,

আনুশা: সেটা আপনাকে বলবো কেনো?

তানভীর : না বলতে চাইলে তো আর ঝোড় করে শুনতে পারবো না

আনুশা: তাই তো,এতো যাতে বুঝেন তা হলে আমার সাথে সেধে সেধে কথা বলতে আসেন কেনো

তানভীর : আচ্ছা ও কোথায় থাকে কিছুই তো জানি না, একবার জিজ্ঞাস করবো।
এমন সময় স্যার এন্ট্রি
তানভীর : উফফ এই স্যার টা একটু পরে আসলে কি হতো মনে মনে স্যার এর চৌদ্দ গুস্টি উদ্ধার করলো তানভীর
তার পর গিয়ে নিজের জায়গাতে বসলো

ক্লাস শেষ এ আনুশা চলে যাচ্ছিলো

তানভীর : আরে ও তো চলে যাচ্ছে এই মিস এ,,না না আনুশা প্লিজ দাড়াও

আনুশা: না শুনার মতো করে হাটছে,

তানভীর : দৌড়ে গিয়ে হাফাতে হাফাতে, হেই ললনা কোথায় থাকো বলো না
আনুশা: ( কি পাগল ছেলেরে এই কথা বলার জন্য এতো দূর দৌড়ে আসে কেউ)

তানভীর : বলো না..?

আনুশা: আমার নাম পাকি অই আকাশে থাকি,( আমি কি কম জানি নাকি,দিলাম বলে, এইই বার বুঝো ঠেলা)এই বলে চলে গেলো

তানভীর : যাক বাবা কি জিজ্ঞাস করলাম আর কি বলে গেলো, তবে যাই বলো না কেনো ললনা আমি তোমার পিছু ছারছি না,এই তানভীর যাকে মন থেকে চায় তাকে পেয়ে তার পর শান্ত হয়

to be continue

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া পর্ব:4

হারিয়ে যাওয়া পথ খুজে পাওয়া

পর্ব:4

লেখা –সুলতানা ইতি

হঠ্যাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম আমার তো মেজাজ গরম হয়ে গেলো

আনুশা: চোখে দেখতে পাননা চোখ কি হাতে নিয়ে হাটছিলেন😡😡😡

ছেলেটি:😱😱😱😱😱

আনুশা: কি হলো এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো,জীবনে কি মেয়ে মানুষ দেখেননি নাকি

ছেলেটি: আমি না হয় চোখ হাতে নিয়ে হাটছিলাম তাই দেখতে পাইনি,তাই বলে আপনি কি নাকের জন্য চোখে দেখান না নাকি,আর দেখবেন কি করে নাক এই ভাবে উচো করে রাখলে চোখে দেখবেন কি করে

আনুশা:😡😡😡😡😡😡

ছেলেটি: বাই দ্যা য়ে আপনাকে তো কখন ও এই কলেজ এ দেখিনি,নতুন নাকি
আনুশা: আপনাকে আমার পরিচর দিতে আমি বাধ্য নই, এই বলে আনুশা হন হন করে হাটা শুরু করলো

ছেলেটি: ওয়াও I like attitude

আনুশা: উফ কথায় থেকে যে আসে এরা বুঝি না গায়ে পড়ে ঝগড়া করা এদের স্বভাব
এখন প্রিন্সিপাল এর রুম টা খুজে পেলেই হলো ঐ তো একটা মেয়েকে দেখতে পাচ্ছি গিয়ে জিজ্ঞেস করি প্রিন্সিপাল এর রুম কোন দিকে

এই যে একটু শুনবেন প্লিজ

মেয়েটি: আমাকে ডাকছেন

আনুশা: হুম আপনাকে প্রিন্সিপাল এর রুম টা কোন দিকে বলতে পারবেন

মেয়েটি: আসুন আমার সাথে

আনুশা: হুম চলুন আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,

মেয়েটি : ইটস ওকে এই টা ই প্রিন্সিপাল স্যার এর রুম আপনি ভিতরে যান,আমি আসছি
আনুশা: ওকে ধন্যবাদ:
মেয়েটি মুছকি একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো

আনুশা: আসসালামু আলাইকুম,স্যার আসবো

প্রিন্সিপাল স্যার: হুম আসো, তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না,
আনুশা: আমাকে আনিস আংকেল পাঠিয়েছে

প্রিন্সিপাল স্যার : ও ওও তুমি আনুশা,তোমার কথা আনিস আমাকে বলেছিলো,কিন্তু আনিস যত বার না বলেছে তার থেকে বহুবার অন্নি আমাকে বলেছিলো
অন্নির কথা অনুযায়ী তোমার তো আর ও আগে আসার কথা এতো দেরি হলো যে
আনুশা: আসলে স্যারর অনেক জ্যাম ছিলো রাস্তায় তাই

স্যার: ইটস ওকে অন্নি বলেছিলো তুমি পড়া শুনায় খুব ভালো তাই আমি অন্নির কথায় বিশ্বাস করে তোমার কোন পরিক্ষা নিচ্ছি না এমনিতে এখন বছর এর শেষ সময় এখন কোন কলেজই ভর্তি নেয় না, অন্নি আমার মেয়ের মতো তাই ওর রিকুয়েস্ট আমি পেলতে পারিনি,আমি তোমার ভর্তি নিয়ে নিলাম কিন্তু তোমাকে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে

আনুশা: কিন্তু স্যার নিয়মিত ক্লাস করা আমার পক্ষে সম্ভব না আমি একটা জব করি পাশা পাশা রাতে টিউশনি করাই

স্যার: তা হলে তো অনেক প্রব্লেম কি করা যায়,আচ্ছা শুনো তোমাকে পড়া শুনা করে ভালো রেজাল্ট পেতে হলে একটু তো কষ্ট করতে হবে তুমি জব টা ছেড়ে দাও আর ও কয়েকটা টিউশানি খুজে নাও

আনুশা: কিন্তু স্যার পাবো কথায় টিউশনি,

স্যার: টেনশন করো না আমি খুঁজে দিবো তুমি শুধু মন দিয়ে পড়া শুনা টা করবে,

আনুশা: ওকে স্যার তা হলে আমি আসি

স্যার: সাবধানে যেও
কলেজ থেকে বের হওয়ার পর শুধু ভাবছি
পৃথিবীতে কতো প্রজাতির মানুষ আছে,তা বুঝতেই পারতাম না যদি লাইফে এই ঝড় টা না আসতো,আমার বাবা যাকে আমার বাবা বলতে ও ঘেন্না লাগে যে মানুষ টার মনে তার শন্তানদের জন্য বিন্দু মাত্র ভালোবাসা ছিলো না আচ্ছা বুঝলাম মায়ের প্রতি ভালোবাসা ছিলো না কিন্তু আমরা তিন বোন কি দোষ করেছি আমরা তো তারই মেয়ে, তবুও আমাদের একা করে অন্য। মহিলার সাথে সংসার করছে ছিঃ ছিঃ ধিক্কার জানাই এই সব পুরুষ দের,
আর নিহাল সামান্য একটা ভুলের জন্য আমার লাইফে মস্ত বড় একটা স্পট পেলে দিলো সত্যি এদের কে পুরুষ ভাবা যায় না এরা আসলে কাপুরুষ,
আর কলেজ এর প্রিন্সিপাল স্যার কয়েক ঘন্টার ই তো আলাপ,অথচ মনে হলো উনি আমার কতো আপন কেউ আর ভাবতে পারছি না একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়ি,
রিক্সাতে উঠতেই অন্নির ফোন এই আরেক টা মেয়ে মনে হয় আমাকে জীবনে ও মনের আড়াল করবে না,আমার মা আর অন্নি আমার বেস্ট দুজন মানুষ আল্লাহ তুমি প্লিজ দেখো এরা যেন আমার লাইফ থেকে হারিয়ে না যায়, ইসস কল টা কেটে গেলো আবার কল আসলো বিলম্ব না করেই রিসিভ করলাম

অন্নি: কিরে কোথায় তুই কল রিসিভ করছিলি না কেনো আর সব কিছু ঠিক ঠাক ভাবে হয়েছে তো

আনুশা: যত দিন আমার বোনের মতো বান্ধবি আমার সাথে আছে তত দিন সব ঠিকই থাকবে

অন্নি: তোর পাশে তো থাকতেই ছেয়েছি তুই তো রাখলি না

আনুশা: রাখলাম না মানে তুই সব সময় আমার মনের মধ্যেই থাকিস

অন্নি: এখন বল প্রিন্সিপাল আংকেল কে কেমন লাগলো

আনুশা: উনার কথা আর বলতে, কেমন বাবা বাবা গন্ধ উনার মধ্যে, মনে হয় না যে উনি স্যার

অন্নি: বলেছিলাম না তোকে আরে আমার বাবার বন্ধু বলে কথা

আনুশা: হুম আংকেল এর মতোই প্রিন্সিপাল স্যার

অন্নি: এখন কোথায় তুই?

আনুশা: রিক্সাতে বাসায় যাচ্ছি

অন্নি: ও যা তাইলে আর কাল থেকে ক্লাস শুরু করবি আর মন দিয়ে পড়া শুনা করবি s,s,c তে যেমন রেজাল্ট করলি তার থেকে ও ভালো কিছু চাই

আনুশা: এতো কিছু ঘটে যাওয়ার পরে ভালো রেজাল্ট করতে পারবো কি না জানি না

অন্নি: তুই পারবি আমি জানি তোর মনের ঝোর কতো টা এখন রাখিরে ভালো থাকিস

লাইন কেটে দিলো অন্নি, ওর গুড ফ্রেন্ড পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার রিক্সা এসে পৌছলো বাড়া মিটিয়ে বাসায় ডুকলাম

মা আমাকে দেখে মনে হলো শস্তি পেলো, মাকে দেখে মনে হলো আমি হারিয়ে গেছি আর এখন আমায় ফিরে পেয়েছে

আনুশা: মা তুমি এমন করে তাকিয়ে আছো যেন কতো যুগ পর আমাকে দেখেছো
মা: তাকাবো না সকালে তো না খেয়ে বেরিয়ে গেলি আমার বুঝি চিন্তা হয় না
আনুশা: উফফ মা আমি এখন আর ছোট নেই দেখো কতো বড় হয়েছি

মা: সে তো দেখতেই পাচ্ছি,বড় হয়েছিস দেখেই তো এখন আর মায়ের কথা শুনিস না
আনুশা: মা তুমি ও না, খিদা পেয়েছে খেতে দাও
হুম আয় দিচ্ছি,মা মেয়ে খেয়ে
দেয়ে, যোহর এর নামাজ পড়ে শুয়ে গল্প করছে প্রিন্সিপাল স্যার এর কথা বল্লাম

মা: প্রিন্সিপাল স্যার ঠিক ই বলেছে তোর এখন জব করা টা ঠিক হবে না, আগে ভালো করে পড়া শুনা করে ভালো রেজাল্ট করে তার পর না হয় জব করবি

চলবে

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া,,,, পর্ব-3

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া,,,,

পর্ব-3
লেখা –সুলতানা ইতি

 

এখন ও s,h,c exam দেয়া হয়নি এই পড়া দিয়ে জব পাওয়া টা খুব কঠিন, পাশের বস্তির এক আন্টি কে গিয়ে বললাম আমাকে কয়েক টা বাচ্ছা খুজে দিতে, আমি পড়াবো তাদের কে,
আন্টি বল্লো উনি যে বাসায় কাজ করে ঐ বাসার বাচ্চার জন্য টিচার লাগবে আমি বললাম আন্টি প্লিজ আপনি ওদের কে আমার কথা বলুন আমি পড়াবো,
আন্টি বল্লো কাল সকালে তুমি আমার সাথে যেও,আমি অনেক টা খুশি হলাম
পরদিন সকালে আন্টির সাথে গেলাম ঠিক হলো প্রতিদিন সন্ধার পরে পড়াতে হবে ২০০০ টাকা করে দিবে আমি ও রাজি হয়ে গেলাম, রোজ টিউশনি করে এসে মায়ের সাথে কাজে হেল্প করি,এর মধ্যে মা ও একটা বাসায় কাজ পেয়ে যায়
আমি আর ও কয়েকটা টিউশনি যোগাড় করে ফেলি,
এর মধ্যে এক স্টুডেন্ট এর বাবা ধরে, একটা প্রাইভেট কম্পানিতে জব নিই,বলতে গেলে আংকেল অনেক জরা জরি করে কাজ টা আমায় পাইয়ে দেয়,
সেদিন যে আমি কতো খুশি হয়েছি বলে বুঝাতে পারবো না মাকে নিষেধ করি উনি যেন অন্যের বাসায় কাজ না করে, আমার ৪ টিউশনি আর জব এর টাকাতে মা মেয়ে দুজনের খুব ভালো কেটে যাবে এর মধ্যে বড় আপু ছোট আপুর সাথে যোগা যোগ করি, আমরা ভালো আছি শুনে আপুরা খুব খুশি হলো,
এই ভাবে কয়েকটা দিন কেটে গেলো বস্তির ঐ ভাংগা বাসা টা ছেড়ে দিয়ে ভালো একটা রুম বাড়া করেছি,পড়ন্ত বিকেল এ বসে আছি একটু পরে টিউশিনিতে যাবো ভাবছি কয়েক দিন আগের কথা কি ছিলাম, আর কি হয়ে গেলাম,
অবশ্য এখন ভালো ই আছি আল্লাহর কাছে শত কুটি শুকরিয়া
হঠাৎ মোবাইল এর রিং টনে আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো অছেনা একটা নাম্বার কিছু না ভেবেই কল টা রিসিভ করি,কন্ঠ শুনে বুঝতে বাকি রইলো না ফোনের ঐ পাশে কে আছে, হুম আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড অন্নির কথা বলছি

অন্নি: কিরে কেমন আছিস আমার কথা কি মনে আছে তোর

আমি: তোর কথা কি কখন ও ভুলতে পারি,আসলে তোর নাম্বার টা হারিয়ে পেলেছিলাম তাই আর কি,তুই আমার নাম্বার কই পেলি,

অন্নি: সুমি আপুর কাছে থেকে নিয়েছি,আন্টি কেমন আছে রে

আনুশা: ভালো, সেদিন অনেক কথা হলো অন্নির সাথে,টিউশনির সময় হয়ে গেছে তাই অন্নিকে বলে লাইন কেটে দিই,,
পরদিন একি সময়ে অন্নির ফোন

অন্নি: আনুশা তোকে একটা কথা বলতে ফোন করেছি

বল কি কথা?

অন্নি: তুই তো এখন ভালো একটা পর্যায় আছিস,পড়া শুনা টা আবার শুরু কর,তুই অনেক ভালো স্টুডেন্ট ছিলি
কথা টা শুনে খুশিতে আমার চোখ জল জল করছিলো, অন্নি তুই তো খুব ভালো কথা বলেছিস। দাড়া আমি কালকেই ট্রাই করবো, এই কথা টা কথা আমার মাথায় আসেনি আর কেউ আমায় বলে ও দেয়নি,

অন্নি: আমি তো বলেছি, এতেই হবে,

আনুশা: এখন এই সময়ে কি ভর্তি নিবে

অন্নি: নিতে ও পারে রিকুয়েস্ট করে দেখ

আনুশা: আচ্ছা দেখছি,

অন্নি: এখন রাখিরে পরে কথা হবে

আনুশা; ওকে রাখ

মোবাইল রেখে রেডী হয়ে টিউশনি করাতে গেলাম ওখান থেকে রাত ১০ টায় ফিরলাম।

মা: আনু খাবি চল

আনুশা: মা খেতে ইচ্ছে করছে না আমার তুমি খেয়ে নাও

মা:তুই কি কোন ব্যাপার নিয়ে টেনশন এ আছিস?

আনুশা: মা বিকেলবেলা অন্নি কল দিয়েছিলো বল্লো আবার পড়া লিখা স্ট্রাট করতে এখন এই সময়ে কলেজে কি ভর্তি নিবে তাই ভাবছি

মা: এতো ভাবিস না তো আল্লাহ রাজি থাকলে সব হবে চল খেয়ে নিবি,

মা জোর করে খেতে নিয়ে গেলো খেয়ে এসে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম,আর আল্লাহ কে বললাম আল্লাহ যাতে কলেজ এ ভর্তি হওয়া নিয়ে কোন প্রব্লেম না হয়, রাতে দু চোখের পাতা এক করতে পারিনি

ফজর এর আযান এর সাথে সাথে ওযু করে নামায পড়তে গেলাম নামায শেষ এ আল্লাহর কাছে দুই হাত উঠালাম হে আল্লাহ হে ফারও আরদেগার সবমস্ত সৃস্টির মালিক তুমি, আল্লাহ আমি কোথায় ছিলাম কোথায় এসে দাড়ালাম সব তোমার দয়ায়,হে দয়াময় পরম করুনাময়, দয়া করো গো আমি যেন কলেজ এ ভর্তি হতে পারি কোন জামেলা যেন না হয় আল্লাহ আমার মনের আশা টা তুমি পূর্ন করো আমিন

নামায শেষ এ একটু শুতে গেলাম যদি একটু ঘুমাতে পারি এই আশায়

মা: কিরে উঠ অনেক বেলা হলো

আনুশা: মায়ের কথায় চট করে উঠে বসলাম মা কখন যে চোখ টা লেগে এসেছিলো বুঝতে পারিনি

মা: হুম সেটাই তো কতোইই বা বয়স হলো এই বয়সে কতো পরিশ্রম করিস,আমি মা হয়ে সেটা কি করে সয্য করি বল

আনুশা: উফফ মা তুমি না একটু বেশিই বলছো আমি একদম ঠিক আছি, এর মাঝে মোবাইল বেজে উঠলো,

মা: তুই কথা বল আমি তোর খাবার রেডি করছি

আনুশা: অন্নি বল

অন্নি: কোথায় ভর্তি হবি ভেবেছিস কিছু

আনুশা: নারে ভাবেনি দেখি এখানে কোন কলেজে এডমিশন নিতে পারি কি না

অন্নি: তোকে আর কষ্ট করতে হবে না, আমি তোর কথা বাবা কে বলেছি মতিঝিল একটা কলেজ আছে বুঝলি অই কলেজ এর প্রিন্সিপাল বাবার বন্ধু, তুই সেখানে গিয়ে বলবি আনিস আংকেল পাঠিয়েছে, ব্যাস আর কিছু করতে হবে না তোকে যা করার প্রিন্সিপাল স্যার করবে

আনুশা: কিন্তু অন্নি কলেজ টার নাম।কি,

অন্নি : মোশারফ হোসেন কলেজ

আনুশা : ওকে আমি রেডি হয়ে বের হচ্ছি

অন্নি: তা হলে রাখি টেক কেয়ার,,

ফোন রেখে আনুশা রেডি হয়ে নিলো

মা: কোন কলেজ এ ভর্তি হবি ভেবেছিস কিছু

আনুশা: মা অন্নি ফোন করেছিলো তার পর অন্নি যা যা বলেছিলো সব কথা মাকে বলে
মা: যাক আমি একটু নিশ্চিন্ত হলাম, অন্নি মেয়ে টা খুব ভালো

আনুশা: তা ঠিক বলেছো মা,আমি তো পুরোনো সবার সাথে যোগা যোগ বন্ধ করেই দিয়েছি,তার পরে দেখো অন্নি কেমন আমাকে খুঁজে বের করে পেল্লো

মা: হুম আমাদের এই অসময় ভাবি যে এমন করবে আমি ভাবতে ও পারিনি,আর অই নিহাল কতো বিশ্বাস করে ওর হাতে তোকে উঠিয়ে দিয়েছিলাম

অন্নি: অহ মা তোমাকে না কতো বার বলেছি আমার সামনে ঐ নাম টা উচ্ছারন করবে না,ভুলে থাকতে চাই আমি সব কিছু,তুমি কেনো বার বার ঐখারাপ সময় গুলো আমার মনে করিয়ে দিচ্ছো তুমি কি চাও আমি মরে যাই
মা: এমন করে বলিস না মা,তোর কিছু হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁঁচবো ঠিক আছে আমি আর কোন দিন ঐ সব নাম তোর সামনে বলবো না

আনুশা; ঠিক আছে আমি বের হচ্ছি

মা: কিন্তু তুই তো কিছুই খেলি না

আনুশা: খেতে ইচ্ছে করছে না মা, দোয়া করো আমি আসছি আনুশা বের হয়ে গেলো

মা: আমি জানি মেয়েটার মন আমি খারাফ করে দিয়েছি, কিন্তু টাকা নষ্ট হবে, এই ভয়ে পথে কিচ্ছু খাবে না, এখন কি করি

আনুশা ঠিকানা অনুযায়ী কলেজ এ গিয়ে পৌছলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ১১:৩৯ উফফ জ্যাম এ পড়ে দেরি হয়ে গেলো,এখন প্রিন্সিপাল এর রুম কোন দিকে এই সব ভাবছে আর আনমনে হাটতে হাটতে কলেজ এর ভিতরে চলে গেলো

হারিয়ে যাওয়া,পথ খুঁজে পাওয়া পর্ব:2

হারিয়ে যাওয়া,পথ খুঁজে পাওয়া পর্ব:2

লেখা –সুলতানা ইতি

 

আমি লাফ দিয়ে উঠে মামি কে জড়িয়ে ধরে বললাম, মামি সব শেষ হয়ে গেছে
মামি আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বল্লো, কি হয়েছে বল?
মামির চিৎকারে মা,আর মামা উঠে আসে, মা তো আমাকে দেখেই অবাক, দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বল্লো কি হয়েছে রে মা, আমাকে বল,বল আমাকে,আমি মাকে সব কথা খুলে বলি,মামি তো কথা টা শুনেই রেগে আগুন

মামি: মুখ পুড়ি এতো কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে বিয়ে দিলাম,ওতো গুলো টাকা খরচ করলাম,আর উনি কি না তার পরদিন এসে বলছে সব শেষ হয়ে গেছে,
অলক্ষুণে মেয়ে বের হো আমার বাড়ি থেকে, তোকে এই বাসায় রাখলে আমার মেয়েকে ভালো জায়গাতে বিয়ে দিতে পারবো না,

মামা: তুমি এমন বলছো কেনো কপালে যা ছিলো তা ই তো হয়েছে

মামি: তুমি চুপ করো সব কাজেই তোমার একটু বেশি বেশি

আমি: মামি এখন আমি কোথায় যাবো

মা: ভাবি আমার মেয়েটা কে একটু ঠায় দাও

মামি: এই মেয়ে তুই তোর মাকে নিয়ে এক্ষুনি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি

জানি মামিকে এখন কোন কিছু বুঝিয়ে লাব হবে না তাই নিশ্চুপ মাকে নিয়ে বেরিয়ে যাই বাড়ি থেকে, কোথায় যাবো মা মেয়ে কেউই জানি না দুজনই কাদছি

মা: আনু এখন আমি তোকে নিয়ে কোথায় যাবো

আনুশা: মা তুমি বড় আপু না হয় ছোট আপুদের বাসায় গিয়ে থাকো, আমার জন্য ভেবো না

মা: নারে তা হয় না, আমি মেয়েদের বাসায় গিয়ে থাকলে শশুর বাড়িতে তাদের মুখ ছোট হয়ে যাবে, আর তা ছাড়া শিলার স্বামি টা ও তো তেমন ভালো না, আমার মেয়ে কে খোটা দিবে।আর সুমির জামাই কিছু বলবে না কিন্তু ওর শাশুড়ি এই টা ভালো চোখে দেখবে না
তার ছেয়ে বরং, আমাদের মা মেয়ের অনিশ্চিত জীবনে ওদের সাথে যোগা যোগ না রাখাই ভালো

মাকে নিয়ে একটা গাছের নিচে বলসলাম
ভাবছি জীবন টাকে কি ভাবে সাঝাতে ছেয়ে ছিলাম, আর চোখের পলক এ এই জীবন টা এলো মেলো হয়ে গেলো, এই সব কিছু ভাবতে ভাবতেই চোখের সামনে সব কিছু ঝাপ্সা দেখতে পাচ্ছি হঠ্যাৎ সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেলাম
মা: একি আনু তোর কি হলো আনু মা চোখ খোল কেউ একটু সাহায্য। করবেন আমার মেয়েটা কে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে,

কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এলো না, আল্লাহ আমি এখন কি করবো আমার মেয়েটা কি এই ভাবে শেষ হয়ে যাবে আনুশার মায়ের কান্নাতে প্রকৃতি নিস্তব্ধ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে আর একটু পর ই আকাশ এর বুক ছিরে কান্না বেরিয়ে আসবে,ঝুম বৃস্টি শুরু হয়ে গেলো, বৃস্টির পানি চোখে পড়ে আনুশার জ্ঞান ফিরে আসে

আনুশা: মা তুমি কাঁদছ কেনো দেখো আমার কিচ্ছু হয়নি আমি ঠিক আছি,

মা: তুই সত্যি ঠিক আছিস তো?

আনুশা: হুম একদম
আচ্ছা মা এই ভাবে তো পথে বসে দিন কাটানো যাবে না আমরা কোথায় যাবো বলো তো

মা: শুনেছি তোর হোসেন মামা ঢাকাতে থাকে অনেক বড় লোক, উনার কাছে যেয়ে দেখি আমাদের মা মেয়ের কোন থাকার যায়গা হয় কি না(হোসেন মামা মায়ের দূর সমর্পকের চাচাতো ভাই)

আনুশা: যখন আপন মানুষ গুলো মুখ ফিরিয়ে নিলো তখন উনি কি আমাদের থাকতে দিবে ( মনে মনে বললাম) মুখে মাকে বললাম চলো তা হলে গিয়ে দেখি, এইখান থেকে একটু হাটলে তার পর ট্রেন পাওয়া যাবে

মা: কিন্তু আমাদের কাছে তো টাকা নেই টিকেট কাটবো কি করে

আনুশা: মা শুনেছি ট্রেন এর শেষ ডিকিতে করে গেলে টাকা লাগে না,
মা মেয়ে হাটতে শুরু করলাম কতো জনের লোলুপ দৃস্টি দিয়ে আমাকে যে গিলে খাচ্ছে তার কোন ইয়াত্তা নেই

অবশেষ এ ট্রেন এর শেষ ডিকিতে আমাদের যাওয়ার যায়গা হলো লম্বা সময়ের পর কমলা পুর গিয়ে পৌছলাম, সেখান থেকে রাত দিন একা কার করে ডাকার সিটি তে আসলাম, এখন হোসেন মামা কে খুজে পাওয়া বড় দায়, অনেক ঘেটে ঘুটে তার পর মামার ঠিকানা পাওয়া গেলো হোসেন চৌধুরী,

এই দিকে খুব খিদে পেয়েছে,মায়ের ও এক ই অবস্তা মা যে মুখ পুঁটে বলছে না, সেটা আমি ঠিক ই বুঝেছি, কতো বার কতো মানুষ এর মুখে শুনেছি ডাস্টবিন এ নাকি বড় লোকে দের বাশি খাবার পাওয়া যায় তাই মাকে নিয়ে আগে ডাস্টবিন খুজতে লাগলাম,অবশেষ এ কিছু খাবার পেয়ে আমি আর মা খেয়ে নিলাম

তার পর ঠিকানা মতে হোসেন মামার বাসায় গেলাম দারওয়ান ভিতরে ডুকতে দিচ্ছে না অনেক্ষন অপেক্ষা করার পর মামা এলো ইয়া বড় একটা গাড়ি হাকিয়ে মা ভাইজান ভাইজান বলে ডাকতে ডাকতে গাড়ির পিছন পিছন ভিতরে গেলো সব ছেয়ে বেশি অবাক তো আমি তোখন হলাম যখন মামা বল্লো মাকে নাকি উনি চিনেই না,
আমি মাকে বললাম মা চলো এখান থেকে ইট পাথরে গড়া মানুষ এর মাঝে তুমি মনুষ্যত্ব খুজে পাবে না মাকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম
কোথায় যাবো ভাবছি,হঠ্যাৎ মনে হলো এখানে কম দামে বস্তির ঘর পাওয়া যাবে লোক জন কে জিজ্ঞেস করে করে মির পুর একটা বস্তিতে গিয়ে উঠলাম,বস্তির মালিক কিছুতেই ঘর বাড়া দিতে ছাইছে না,বাড়া পরিশোধ করতে পারবো না এই ভয়ে,
মা উনার হাতে পায়ে ধরে,উনার দয়া হলো অবশেষ এ একটা ঘর দিলেন উনি আমাদের কে,ঠিক ঘর কি না বুঝতে পারছি না বৃস্টি হলে ঘরটাতে পানি পড়বে সে দিকে আমি একশো ভাগ সিয়ুর,তবুও থাকার মতো একটু জায়গা তো হলো আমি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি,কি করবো ভাবছি,আমাকে ভেংগে পড়লে চলবে না, কারো জন্য জীবন থেমে থাকতে পারে না,আমি তো পারবো না থামিয়ে রাখতে, আমাকে রুখে দাড়াতেই হবে,
মা: কিরে আনু কি ভাবছিস এতো
আনুশা: কিছু না মা
মা: আমি কিন্তু অনেক কিছু ভেবেছি,
আমি: কি ভাবলে মা,
মা: বড় লোকেদের বাসায় গিয়ে কাজ চাইবো
আমি কিছু বললাম না,বলার মতো কোন ভাষা আমার নেই,এই ভাবে ৩-৪ দিন পার হয়ে গেলো কোন কাজ এখন ও পাইনি

to be continue