সতীনের সংসার পর্ব_৪

সতীনের সংসার পর্ব_৪

Writer: তানজিন সুইটি
আনিকা তুই কিন্তু সেখানে গিয়ে বক বক করবি না।
কম কথা বলবি।আর পারলে তোর দুলাভাইয়ের প্রস্তাবটা ভেবে দেখতে পারিস।

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গন্তব্যের স্থানে রওনা হলো।গাড়ির জন্য পথের পাশে দাড়িয়ে আছে কিন্তু
গাড়ি হয় তো তার সাথে সময়ে মতো বেইমানি করছে?
অবশেষে একটা গাড়ি এলো ঠিকিই,বসার জন্য সিট খালি নেই তিল পরিমানে।

বাসের এ পাশে রেলিং ধরে ঝুলে ঝুলে যাওয়া ওর জীবনে প্রথম বলেই, অনেকটা অসত্থি লাগছে চারপাশে লোকগুলো দেখে।নিজেকে গুটিশুটি করে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে।হঠাৎ পাশ থেকে..

-হ্যালো মিস..

কণ্ঠটা অনেকটা মিষ্টি।কাকে ডাকছে বুঝার চেষ্টা করছে?হালকা আড় চোখে তাকালো লোকটির দিকে।
না দেখতেও অনেক মিষ্টি।কণ্ঠের সাথে একদম মিল আছে দেখতে।চোখ দুটো হালকা ঘোলা।মায়া মায়া চোখে যে কোনো মেয়েই নেশা ধরে যাবে তাতে সন্দেহ নেই তার।তাড়াহুড়ো করে চোখ দুটো সরিয়ে নেয়। না হলে যে কোনো একটা accident হতে পারে তার দু নয়নে তাকিয়ে থেকে।

-আপনি এখানে বসুন।(একটু কাশি দিয়ে)

আনিকা মুখ দিয়ে কিছু বললো না।কারণ বার বার তার বড় বোন বারন করে দিয়েছে বক বক না করতে?
তাই তো ঠোঁট একটু বাকিয়ে,মুচকি একটু হেসে,বসে পড়লো লোকটির সিটে।খনিকের মধ্যে চলে এলো গন্তব্যে।

আজ সে জীবন তৈরি করার প্রথম ধাপে পা দিলো আল্লাহর নাম নিয়ে।কোম্পানিটাও অনেক নাম করা
আর সেখানে যে চাকরি পেয়েছে সেটাই তার কাছে অনেক পাওয়া।কম শিক্ষিত।তবুও তো তার ভাগ্যে জুটেছে এতেই অনেক খুশি।

জয়েন্ট লেটার নিয়ে স্যারের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে।
কর্মষ্ঠ জীবন শুরু করার জন্য ম্যানেজারে সাথে এক এক করে সবার সঙ্গে পরিচয় বিনিময় করে ফেললো।

হঠাৎ করে সেই একই লোকের সাথে তার দেখা হয়ে গেলো অফিসের ভিতরে।আনিকা এতোটাই বোকা যে,
তাড়াহুড়ো করে নেমে পরলো কিন্তু ধন্যবাদ জানানোর বোধটুকু ভুলে খেয়েছে।তাকে দেখে অনেকটা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে সরি বলে ফেলে।

এমন অবস্থা দেখে ম্যানেজার সাহেব প্রশ্ন করে বসে?

-কি ব্যপার আনিকা?ওকে সরি বলছো কেনো?

বাসস হয়ে গেলো কল রেকর্ডিং কে খেপিয়ে।এমনিতেই কথা বলার জন্য বেচারির মুখটা উশু উশু করছে। ম্যানেজার সাহেব দিলো তো তার মুখটা ছুটিয়ে।
A to Z দিলো বলে একদমে।😂এটা দেখে লোকটি তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কারণ, ধন্যবাদ বলতে পারে নি বলেই অনুসূচনায় মুখটা মলিন হয়ে গেছে তাকে দেখে।

ম্যানেজার সাহেব আর কোনো কথা না বাড়িয়ে
লোকটিকে বললো কথাবার্তা সেরে তাকে যেনো কাজকর্ম বুঝিয়ে দিতে।বলে চলে গেলো তার নিজ কাজে।

-হ্যালো মিসসসসসসসস(নাম না জানলে যা হয় আর)

-😒আমি আনিকা

-ওওও..আমি রাজ আহমেদ😊

-সরি আসলে তখন অনেক তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিলাম
তো ধন্যবাদ টুকু বলতে পারি নি। বাই দ্যা ওয়ে
অনেক অনেক ধন্যবাদ।😇

-হয়েছে আর এতো ধন্যবাদ দিতে হবে না।এখন কাজে মন দাও।আমার ডান পাশে তোমার কেবিন আর তোমার পাশেরটা আদিরার।তো শুরু হয়ে যাও পথ চলা। না পারলে এই রাজকে বলবে সব বুঝিয়ে দিবো।
তার মধ্যে তো আদিরা আছেই কোনো চিন্তা করো না।

পরিচয় পর্ব শেষ করে। চলে গেলো নিজ কাজে।
ভালোই কাজকর্ম চলছে আনিকার।এর’ই মধ্যে আদিরার সাথে তার বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলো।ধরতে গেলে তারা একে অপরের প্রান।কথায় আছে না।যার মধ্যে চঞ্চলতা আছে,তার বন্ধুত্ব সবাই হয়ে যায় অল্প সময়ের মাঝে।আদিরার ছাড়াও যে রাজের সাথে বন্ধুত্ব ঘণত্ব হয়ে গেছে অনেক দূর পর্যন্ত সেটা তারা ছাড়া সবাই দেখে দেখে হিংসে করে মরে।

ভালোই দিনকাল কাঁটছে আনিকার ওদের মতো বন্ধু হিসেবে পেয়ে।এতোটাই বন্ধুত্ব হয়ে গেছে যে। একজন আরেকজনকে ছাড়া পেটের ভাত হজমই হয় না তাদের মধ্যে।

রাজ যে আনিকার প্রতি অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে।
অন্যদিকে আদিরা অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে
রাজকে।

রাজ চিন্তা করে এই দুর্বলতা কি ভালোবাসা নাকি বন্ধুত্ব?সেটা সিউর হতে ওর বেস্ট ফ্রেন্ডকে সব বলে।
সে রাজকে জানায়। হ্যাঁ সে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু মেয়েটা কে এখনও জানে না সে।হয় তো আদিরা।এতোদিন ধরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব।সেই প্রেক্ষিতে প্রেম নামক তীর কেনো লাগবে না তার বুকে।

রাজ আর দেরি না করে প্রপোজ করেই ফেলে আনিকাকে।আনিকাও অবাক হয়ে যায় তার কান্ড দেখে।

-😒আমি তো কখনো এমনটা ভেবে দেখি নি।

-ভেবে দেখো এখন। সময় আছে,কোনো তাড়া নেই আমার?

আনিকা চুপ হয়ে চলে গেলো বাসাতে।সারা রাত চিন্তা করলো শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলে কি বলবে তাকে?

চলবে…….

(পড়াশোনার অনেক চাপ তার উপরে বড় করে লেখা হয়ে উঠছে না নিয়মিত করে😞।মেয়েদের কষ্ট মেয়েরাই বুঝে ঠিক না আপুরা।সবাই দোয়া করবেন।আর ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।সবাইকে ধন্যবাদ।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here