সতীনের_সংসার পর্ব_২০_শেষ

সতীনের_সংসার পর্ব_২০_শেষ

Writer: তানজিন সুইটি
কিন্তু আজ এমন একটা কাজের জন্য নিকৃষ্ট লাগছে তোমাদের দুজনকে?বেশি লাগছে রিয়াকে।কোনো ভালো ঘরের মেয়ে বউ সন্তান দেখে এমন কাজ করবে না।আমার তো রিয়ার জন্ম নিয়ে সন্দেহ আছে।

এই কথাতে রিয়া ফুস ফুস করে উঠে সাপের মতো করে।

অন্যপাশে জীতুর মা আনিকাকে জ্ঞান ফিরানোর জন্য চোখে মুখে পানি দিয়েই চলেছে নিজের কোলে শুইয়ে।

অনেকখন পর আনিকার জ্ঞান ফিরে।জ্ঞান ফিরেই বুক ফাটা কান্না জড়িত চিৎকার করে বলতে থাকে…

-হে আল্লাহ কি দোষ করেছিলাম আমি যে এমন ফাটা কপাল দিয়েছো আমারে?এতোটাই নিকৃষ্ট ছিলাম তোমার কাছে গর্ভবতী হয়ে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে হয়।যে স্বামীকে মন প্রাণ সবই দিলাম সব হারিয়ে।এখন কেনো সে ই অবহেলা অপমান করে
চলে সবার সামনে।ঘৃণা হচ্ছে নিজের প্রতি।ওর প্রতি তো করুনা হচ্ছে।সময় থাকতে বুঝছে না আমায়।
চলে গেলে পাগলের মতো খুজবে।

পাশ থেকে রিয়ার মুখটা একটু বাকিয়ে আস্তে করে বলে উঠে..

-ভাবের কান্না আর জীবনেও শেষ হবে না ওর।যা দেখলে গা জ্বলে উঠে!!!!?

সেটা আবার জীতুর বোন শুনে ফেলে…

-ভাব আনিকা দেখায় না বুঝলা।ভাব তো তুমি দেখাও।
আমার তো মনে হয়,এমন ভাব তোমার পরিবারও প্রশিক্ষণ দিয়ে রয়।তোমার মতো রাস্তার মেইয়াদের
যে কিনা টাকার বিনিময়ে সব কিছু করতে পারে।

এমন কথাতে রিয়া তো ৪২০ডিগ্রী ভোল্টে জ্বলে উঠলো
পাশে রায়হানকে ঝাকিয়ে বলতে লাগলো…

-ঐ বেজন্মা..তোর সামনে, তোর বউরে এসব কথা বলে আর তুই সেটা মনের সুখে গিলে গিলে খেয়ে যাস রে।

এতোখন রায়হান চুপ করে ছিলো।এখন মনসার কথায় তেরে উঠলো….

-মিতু(জীতুর বোন)তুই চুপ করবি বোন?

এখন তো জীতুর বোন রেগে গিয়ে বলে..

-মাইগা মানুষ দেখছি কিন্তু তোমার মতো আমার বয়সে দেখি নি একজনও।

আহা রিয়া রায়হানের কোলার ধরে বলে..

-এইটুকু বলেই তোর কথা শেষ আর কিছু বলার নেই তোর…

-আর কি বলবো?

-আর কি বলবি মানে??ভাত কি ওরা খাওয়ায় না তুই খাওয়াস সয়া**বাচ্চা?

জীতুর বোন বড় বড় করে হাত তালি দিয়ে বলে??
এই সব মেয়ে যেনো আর এক মূহুর্ত এবাড়িতে না দেখি। এখনই বেড়িয়ে গেলে দুজনের জন্যেই ভালো হবে।না হলে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেবো পতিতার মানুষ হিসেবে।?

এসব কথা সবাই ঠিকই শুনছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না মিতুকে?কারণ,ওকে এখন কিছু বললে আরও রেগে লাঠি দিয়ে পিটাতে পারে, যেই ঠেকাতে আসবে।

পাশ থেকে রায়হান মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
আর রিয়া ফুস ফুস করতেই আছে।কিছুখন পর রায়হান বলে উঠে…

-রিয়া সব গুছিয়ে বের হও।

এটা বলে চলে গেলো রায়হান।আর আনিকাকে ধরে নিয়ে গেলো জীতুদের বাসায়।একটু সুস্থ হওয়ার পর
আনিকাও চলে গেলো বাসায়।

রায়হান আর রিয়াও চলে যায় জীতুদের বাসা থেকে।
কোথায় গেছে এখনও সঠিক ভাবে কেউ জানে না।
সুখের দরিয়া রেখে,অকুল সমুদ্রে সাঁতার কেটে মরার জন্য এমন কাজ করে চলেছে রায়হান।
মানুষ যেনো সেই সুখের স্থানটা ঠিকই বুঝে।যখন সে সব হারিয়ে পথে পথে ঘুরে।রায়হানেরও ভাগ্যে সেটাই অপেক্ষা করছে।

কয়েকদিন অতিক্রম হয়ে গেলো আনিকার মাঝে।
শরীরটাও আগের মতো নেই চলাফেরার জন্যে। একে তো প্রেগনেন্ট দ্বিতীয়ত যা মার খেয়েছে,সেটার জন্য
মেয়েটা বিছানায় পরে গেছে।আরিয়াকে আর আগের মতো কাছে আসতে দেয় না তার শ্বাশুড়ী মিসেস সালেহা বেগম।আনিকার দোষ সে কেনো আগ বাড়িয়ে গিয়ে ঝগড়া করে মার খেয়ে এলো এমন অবস্থাতে।
যদি তার বংশের কোনো ক্ষতি করতে হতো।

সবাই সবার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।শুধু পরে রয় এক কোণায় আনিকা।তারও যে একটা মন আছে।মনের ভিতরে হাজারও ইচ্ছা আছে।সেটা দেখার মতো কেউ নেই এখন তার পাশে।অনেক কান্না করেছে।তাই সে আর কান্না করতে রাজি নয়।আরিয়ানকে তো দেখার সবাই আছে।এখন আনিকা না থাকলেও তার অপূর্ণতা হবে না তিল পরিমাণে।তাই সে ডিসিশন নিয়ে ফেলে।সকাল হলে অজানা পথে পারি দিবে।

রাতের তারা মিটি মিটি করে জ্বলে উঠে দূর পর্বতে।
আনিকার হৃদয় জমিনে প্রদীপ জ্বালোর মতো কেউ
নেই সেটা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে ।ঘুম ঘুম চোখের পাতাতে দেখে দেখে বলে..

-একদিন ঐ আকাশের তারা হবো।তখন শত চেষ্টা করলেও তারা ছোয়ার সাহস হবে না তোমার।শুধু কাঁদবে আর বলবে…আনু অনেক মিস করছি গো তোমায়। চিৎকার করে বলবে…একবার বুকের পাজরে এসে লুঠিয়ে পরো তৃপ্তি মিটাই। শত চাইলেও পারবে না,যদি আনুর অস্থিত না পাও কোথাও।যদি বেঁচে থাকি তো তোমার হৃদয় জমিনে চাইলে পাবে সব কিছু আগের মতো করে। অন্য কাউকে তখন দিবো না তিল পরিমাণে ঠায় করে।একা রাজত্ব করতে চাই তোমার মন জমিনে।তখন কি দিবে তোমার আনুকে সেই স্থানটা করে দিতে?

এসব কথা বলে চলে গেলো ঘুমের রাজ্যে।ভোর হওয়ার সাথে সাথে নামাজ পড়ে চলে গেলো অজানা পথে। যাওয়ার আগে জীতুর ফোনে কল করে বলে গেলো।

-ভাইয়া দেখে রাখবেন সবাইকে।আর পারলাম না থাকতে।তাই চলে যাচ্ছি অজানাতে।যদি বেঁচে থাকি তো দেখা হবে কোনো একদিন আমাদের।পারলে মাফ করে দিবেন যদি কখনো ভুল করে থাকি আপনাদের কাছে।

জীতুকে বলার কোনো চান্স ই দিলো না।তার আগেই কথা শেষ করে, রেখে দিলো আস্তে করে কলটা।

জীতুও অবাক হয়ে যায়।কি করবে বুঝতে না পেরে রায়হানকে কল করে সব কিছু খুলে বলে?

রায়হানও ছুটে যায় বাসাতে।যতখনে যায়, তখন কি আর লাভ হয় গিয়ে?হারিয়ে ফেলেছে আনিকাকে কোনো এক দিগন্তের আঙিনায়।পুরো বাড়ি হাহা
করছে আনিকার বিহনে।এখন কাঁদলে কি কাজ হবে?
.
.
.
দিন চলে যায়,সপ্তাহ চলে যায়,মাস চলে যায় আনিকার খোজ খবর পাচ্ছে না কোথাও।

অন্য পাশে রিয়ার চরিত্র আরও ফুটে উঠেছে সবার সামনে।জীতুদের বাসা থেকে চলে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পার হতেও দেয় নি রিয়া।তার আগেই যেনো
ধরা খেয়েছে পরকীয়া করতে গিয়ে।সমাজের মান্য
গন্য মানুষজন এটা নিয়ে বিচার পর্যন্ত বসিয়েছে।এতে রায়হান আর ওর মা মিসেস সালেহার মরার মতো পথ তৈরি করে দিয়েছে।ভাগ্যিস ভালো রায়হানের আব্বু বিদেশ থেকে এসে স্ট্রোক করে মারা গিয়েছে।আনিকার শোকে।কিন্তু সে যে মরে গেছে অপর পাশে রায়হান আর মিসেস সালেহা বেগমকে ফকির করে দিয়ে গেছে।
সব সম্পত্তি যে আরিয়ান আর আনিকার নামে লেখে দিয়ে গেছে।এটা শুনার পর থেকে রায়হান আর মিসেস সালেহা বেগম হায় হায় করে মাথা ফাটিয়ে ফেলে।
অন্য দিকে রিয়াকে অপয়া অলক্ষী বলতেই থাকে।

এখন শুধু আনিকার অপেক্ষা করে রয়।কবে আসবে তাদের জীবনে ফিরে সেটা কি মিসেস সালেহা বেগম দেখে যেতে পারবে।কারণ তার পাপের বোঝা অনেক মনে করছে।তাই মরার আগে ক্ষমা চেয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চায়।

#সমাপ্ত…..

(বিঃদ্রঃ সব সতীনের সংসার এক হয় না।তার জন্য আনিকার সংসারটাও সুখের হলো না।যদি কখনো ফিরে আসা হয় আনিকার।তাহলে হয় তো সতীনের সংসার শেষ হবে তার।কারণ,সবাই এখন অপেক্ষা করে চলেছে রিয়ার শাস্তি চায় আনিকার সার্পোট অনুযায়।তাই আনিকার আসাতে #সিজন_২ লেখবো।সেই পর্যন্ত কষ্ট করে অপেক্ষা করে যান। জানি না কার কেমন মন রক্ষা করতে পারলাম তবুও বলছি যদি কারো মনের মতো না হয় তো,তাহলে ক্ষমা করে দিবেন বোন হিসেবে।ধন্যবাদ সবাইকে এতোদিন ধর্য্য সহকারে
পড়ার জন্যে।ভালো থাকবেন আর পরবর্তী গল্পের জন্য অপেক্ষা করবেন।?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here