স্বামীর ভালোবাসা part : 18

13
943

স্বামীর ভালোবাসা part : 18

লেখিকা সুরিয়া মিম

!
ময়না চুপ কর তুই,
হা হা হা,
!
সেই কখন থেকে তোমরা ফিসফিস করে কথা বলে যাচ্ছ,
কি এতো বলছ তোমরা?
আমি তো সেই কখন থেকে না খেয়ে বসে আছি চোখে পরেছে তোমাদের?
!
আমরা বলে পড়েনি বৌ রানী হলে পরত সাহেব,
আর সে আপনাকে না খাইয়ে বসিয়ে রাখতো না,
পারলে নিজের হাতে খাইয়ে দিতো,
!
ময়না পাখির কথা শুনে ইমানের মন খারাপ হয়ে যায়,
আর ও শওয়ার নিতে রুমে চলে যায়,
!
শাওয়ার নিয়ে ডায়নিং এ খাবার খেতে এসে খাবার মুখে দিতেই ইমানের চোখে জল চলে আসে,
!
কি হলো সাহেব কাঁদছেন কেন?
!
এই খাবার কোথায় পেয়েছ তোমরা?
!
সাহেব,
!
মিথ্যে বললে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না ময়না পাখি,
!
আসলে সাহেব আমরা বৌ রানী ও বাবুদের দেখতে তার বাপের বাড়ি গেছিলাম,
তখন বৌ রানী আমাদের জন্যে খাবার প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিয়েছে,
!
আসলে বৌ রানীর রান্নাকরা খাবার আমরা আপনাকে দিতাম না,
কিন্তু দিতে বাধ্য হয়েছি কারন আমরা আজকে রান্না করিনি সাহেব,
!
কেমন আছে ও আর বাবুরা কেমন আছে?
ওরা কেমন দেখতে হয়েছে?
আমার মতো হয়েছে ওরা?
!
না সাহেব শুধু আপনার মতো ফর্সা হয়েছে বাদবাকি সব বৌ রানীর মতো হয়েছে ওদের,
!
আমার মতো হবে কি করে?
দশ মাসে একবারো আমার দেখা পেয়েছে ওরা?
দেখা তো দূরের কথা ছোয়া ও তো পায়নি ওরা,
!
কি হলো সাহেব?
কি ভাবছেন আপনি?
!
বাবুদের ছবি আছে তোমাদের কাছে?
!
না সাহেব,
!
কি হলো বাবু তুমি কখন এলে?
!
এসেছি আমি আমার সময় মতো,
ইউ হ্যাভ অ্যানি প্রবলেম?
!
না তবে তুমি আমায় বলো নি কেন?
!
তোমাকে বলে লাভ কি বলো?
তুমি তো আর আমার যত্ন নিতে পারেনা,
!
মানে কি কে বলেছে আমি তোমার যত্ন করিনা?
…..
প্রতি রাতে আমি আমাকে তোমার বিছানায় বিলিয়ে দেই আর তুমি আমাকে ভোগ করো এটা তোমার যত্ন নেওয়া নয়,
!
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কখনওই ভোগের সম্পর্ক হয় না ইশা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক হয়,
!
তাই বলে তো তুমি বিয়ের আগে আমাকে ভোগ করেছ,
!
ইশার কথা শেষ হতে না হতেই ইমান ইশার গালে চড় বসিয়ে দেয়,
তখন ইশা রাগে গজগজ করতে করতে আরিয়ানের কাছে চলে যায়,
!
আর ইমান সোনা মুখ করে মিশকার রান্না করা খাবার গুলো খেয়ে নেয়,
!
পরেরদিন বেবিদের ঠান্ডা লেগে যাওয়ায় মিশকা বেবিদের নিয়ে ডক্টরের কাছে যায়,
ডক্টর ওদের প্রপার ট্রিটমেন্ট করে ঔষধ লিখে দেয়,
!
তখন হঠাৎ করে মিশকার ইমানের সাথে দেখা হয়ে যায়,
তখন ও বেশ ভয় পেয়ে যায়,
!
তুমি ভয় পাচ্ছ কেন?
আমি তোমাদের খেয়ে ফলবো না,
তুমি ও আমার বেবি দুটো ও আমার,
আমি কখনো ওদের ক্ষতি চাইবো না,
শুধু একবার একটু ওদের মুখ খানি দেখতে দিবে প্লিজ?
!
নাহহহ কখনওই না,
হয় আপনি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন নয় আমার থেকে দূরে দূরে থাকুন প্লিজ,
!
মিশকার কথা শুনে ইমানের বুকের মাঝখান টায় মোচড় দিয়ে ওঠে,
আর ও ঠায় ওখানে দাঁড়িয়ে চোখেরজল ফেলতে থাকে,
!
ততক্ষণে মিশকা ওখান থেকে বেবিদের নিয়ে চলে যায়,
!
রাতে ইমান বাসায় ফিরে দেখে,
!
পুরো বাড়ি অন্ধকার আচ্ছন্ন হয়ে আছে,
শুধু ইমানের রুমে লাইট জ্বলছে,
আর কারো হাসাহাসির শব্দ ওর কানে ভেসে আসছে,
!
হাসাহাসির শব্দে বিরক্ত হয়ে ইমান রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে যা দেখে তার জন্যে মোটে ও প্রস্ত ছিলো না ও,
!
কারন ও দেখে ইশা আরিয়ান উলঙ্গ অবস্থায় ফ্লোরে শুয়ে জঘন্য ভাবে শারীরিক সম্পর্ক করছে,
………
আরিয়ান হিংস্র পশুর মতো ইশার শরীর টাকে উপভোগ করছে,
…..
আর ইশা স্বইচ্ছায় নিজের শরীর টাকে আরিয়ানের কাছে বিলিয়ে দিচ্ছে,
!
হঠাৎ ইশা বলে,
!
বেবি আমি ভেবেছিলাম আমার গর্ভে ইমানের সন্তান পরে বুঝালাম ওটা ইমানের নয় আমাদের সন্তান ছিলো,
………
কারন পিরিয়ডের আগে ও পরে ইমানের সাথে আমার কোনো ফিজিক্যাল রিলেশন হয় নি কারন ওর মনে হয় পিরিয়ডের সাতদিন আগে ও সাতদিন পরে আমার নিজের যত্ন নেওয়া উচিত,
কিন্তু এই চৌদ্দদিন ধরে থাকবে কে বলো?
…….
আমারো কিছু চাহিদা আছে চাওয়া আছে,
……
আই মিন ইমান কত ব্যাকডেটেড বলো এই যুগে কে এতো সাতপাঁচ ভাবে?
……..
আর মিসক্যারেজ কি হয়েছে বলো?
ওটা তো আমরা ইমান কে বোকা বানাতে করেছি,
না হলে ও তোমার বাচ্চা কে নিজের বাচ্চা বলে লাফালাফি করত,
!
এটা তুমি ঠিক বলেছ জান,
হা হা হা,
!
ইমান নিজেকে কি যে ভাবে ওই জানে?
!
আমার তো ওকে ভালোই লাগে না ওর চাহিদা খুবি কম একটু সময় আমার সাথে মেলামেশা করে আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়,
!
জানিনা মিশকা ওকে নিয়ে কেমন সুখে ছিল?
ওর গায়ে তো তেমন জোড় নেই,
………..
অক্ষম একটা জানি কোথাকার,
আমি একদিন ও ওর সাথে মেলামেশা করে মনের মতো শান্তি পাইনি বেবি,
!
কিন্তু তোমাকে পেয়ে এখন আমি পরিপূর্ণ,
!
আই অল সো বেবি,
তাই তো ইমান তোমাকে যখন পছন্দ করা শুরু করল,
………
আমি ওর পছন্দ কে ভালোবাসার ট্যাগ লাগিয়ে,
ওকে তোমার সাথে রুম ডেট করতে পাঠালাম,
!
আর ইমানো নিজের পছন্দ কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে তোমাতে এতো টাই মজে গেল যে,
……
মিশকার থেকে দূরে সরে গেল ও বেচারা বুঝতেই পারলো না হা হা হা,
!
তবে যাই বলো মিশকা ইজ ব্রিলিয়ান্ট ও নিজের হাতে আমাদের বাসর সাজালো,
নিজ দায়িত্বে দূরে সরে গেল,
তুমি বলো নিজের স্বামীর ভাগ কে দিতে চায় হুমম,
!
ইয়েস বাট আমি তোমাদের বিয়ের খবর মিশকা বেবির কানে তুলেছি,
!
এই তুমি ওকে বেবি বললে কেন?
!
এমনি বেবি,
!
আরিয়ান ইশার কথা শুনে শকর্ড হয়ে যায় ইমান,
আর ও কাঁদতে কাঁদতে বাসার কাছের মসজিদে গিয়ে শুয়ে পরে,
নিজেকে বলে,
!
কেন?
কেন আমি আমার বন্ধুবেশি শত্রুদের বুঝতে পারিনি,
কেন আমি ওদের কথা শুনে আমার সাজানো সংসার টা ভেঙে ফেললাম,
যার কাছে আমার সুখের আসল ঠিকানা ছিল তাকে হাড়িয়ে ফেললাম?
অন্যের কাছে সুখ খুঁজতে দিয়ে নিজের সুখটাই হাড়িয়ে ফেলেছি আমি,
!
যার গড়া সাম্রাজ্য তাকে তাড়িয়ে আমি তো বুকভরা কষ্ট নিয়ে এলাম,
!
নিজের জীবন রঙিন করতে গিয়ে জীবনের সব রং হাড়িয়ে ফেললাম আমি,
!
তোমাকে বোরিং ভাবতে ভাবতে আমি নিজেই বোরিং হয়ে গেলাম,
!
ইশা কে তোমার জায়গায় বসাতে গিয়ে আমি ভুলে গেছি যে,
“পায়ের জুতো কখনো মাথায় তুলতে নেই ”
!
পায়ের জুতো টাকে মাথায় তুলতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ আমি নিজেই ডেকে আনলাম,
!
এখন আমি বুঝতে পারছি যে,
নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ কে অন্যের বুকে দেখলে বুকটা কষ্টে ফেটে যায়,
!
আমি কতো চিপ আরিয়ান ইশা কে আমার পেছনে লেলিয়ে দিল আর আমি সেটা কে সম্মানের সাথে সম্মিত গ্রহণ করলাম?
!
আমি নিজেই নিজেট সবকিছু কেরে নিলাম?
!
মিশকা আমাকে কখনো ক্ষমা করবে না আমার কাছে ফিরে ও আসবেনা,
!
কারন আমি নিজেই এ অবস্থার জন্যে দায়ী,
চলবে

Comments are closed.