স্বামীর ভালোবাসা part : 1

0
1727

স্বামীর ভালোবাসা♥
লেখিকা সুরিয়া মিম
part : 1
!
আজই আমাদের বিয়ের এক বছর পূর্ণ হলো আর আজি আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘরে এলো,
না জানি কার খারাপ নজর এসে আমার সংসারে পরল?
যে আমার এই এক বছরে তিলেতিলে গোড়ে ওঠা সংসার টা এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল,
!
তুমি তো আমাকে বলেছিলে,
তুমি আমার আর তমি শুধু তোমার,
!
তুমি কখনওই আমাকে কষ্ট দিবে না তাহলে তুমি আমার সাথে কেন এমন টা করলে?
!
তোমাকে এমন প্রশ্ন করার সাহস আমার নেই কারন,
!
আমি কালো বলে আমার কোটিপতি বাবা-মা আমাকে অনাথ আশ্রমে ফেলে চোলে গেছিলো,
!
আর সেই অনাথ আশ্রমের মালিক তার আট পুত্র ও এক কন্যা সন্তান থাকা সত্বে ও আমাকে নিজের মেয়ে করে নেয় আমাকে কখনওই তারা জানতে দেয়নি যে আমি অনাথ আমার বাবা-মা আমাকে কালো বলে অনাথ আশ্রমে ফেলে গেছে,
!
সে যাই হোক আমি এ কথা গুলো আমাদের বাড়ির পুরনো কাজের বুওায় মুখে শুনতে পেয়েছিলাম তাও আবার লুকিয়ে লুকিয়ে,
!
তবে সেদিনের পর থেকে পাপা কাজের বুয়া কে তাড়িয়ে দিয়েছিল আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে,
!
আমি জন্ম থেকে কালো ছিলাম বলে যেমন আমার বাবা মা আমাকে ফেলে দিয়েছিল,
!
তুমি ও আমাকে কালো বলে ফেলে দিলে অন্য কারো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে,
!
সেটা তুমি আমাকে না বললে আমি সেটা বুঝি,
!
তাই তো মাঝরাতে ম্যাসেজের টুংটাং শব্দে তুমি আমাদের বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে ছাদে প্রেমালাপ করতে,
!
তুমি তো আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে তাহলে তুমি আমার সাথে এমন কেন করলে?
!
যে মানুষ টা আমি বলতে পাগল ছিল আজ আমি তার দু চোখেরবালি,
!
জানিনা আমার সাথে এমন কেন হলো?
কি দোষ ছিল আমার?
যে তোমার দ্বিতীয় বিয়ের কথা আমার তোমার বন্ধুরর কাছ থেকে শুনতে হলো,
!
তুমি যদি এমনি করবে তাহলে আমাকে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখিয়ে বিয়ে করে ছিলে কেন হুমমম?
আমার মা-বাবার পা ধরে আমাকে ভিক্ষে চেয়েছিলে কেন হুমম?
!
তুমি যদি বলতে তুমি আমার সাথে সুখী নও আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যেতাম,
কখনো তোমাদের মাঝে কাটা হয়ে থাকতাম না,
!
সে যাই হোক মিস্টার স্বামী এসব কথা বলো কখনওই নিজের দূরবলতা জাহির করবোনা,
একি বাড়ি তে তুমি তোমার মতো আমি আমার মতো থাকবো,
!
এখন যাই গিয়ে আল্লাহর কাছে আমাদের বিবাহবার্ষিকে পাওয়া বেষ্ট গিফটের জন্যে শুকুরিয়া আদায় করি,
তারপর নিজের হাতে নিজের ঘরে নিজের বিছানায় তোমাদের বাসর সাজাবো,
!
তাই তখনি মিশকা গিয়ে তাহাজ্জুদের বারো রাকাত সালাত আদায় করে,
পরে নিজের হাতে তাজা তাজা গোলাপ ফুল দিয়ে ওর স্বামী ও সতীনের বাসর সাজায়,
!
আর ভাবতে থাকে আমি হয়তো সেই মহিলা,
যে নিজের বিবাহবার্ষিকী তে স্বামী ও সতীনের বাসর সাজাচ্ছি,
!
আল্লাহ শুনেছি তুমি যা করো ভালোর জন্যে করো,
তাহলে এটা কেমন ভালো?
সে যাই হোক কান্নাকাটি করা যাবে না,
তাহলে ওরা আমার দূরবলতা বুঝে যাবে,
!
তাই আমি গোসল করে সুন্দর করে সাড়ি পরে সাজুগুজু করে একহাত ঘোমটা টেনে আমার স্বামী ও সতীনের আসার অপেক্ষা করতে থাকি,
!
প্রায় ঘন্টা তিনেক পর বাসার কলিং বেল বেজে ওঠে,
!
আর আমি সাথে সাথে গিয়ে দরজা খুলি,
এবং ওনাদের গায়ে তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছুড়তে ছুড়তে বলি,
!
আপনারা একটু ওয়েট করেন আমি শাশুড়ি মায়ের সাড়ি নিয়ে আসছি,
কারন বাড়ির নিয়ম আছে,
নতুন বৌ এলে তাকে শাশুড়ি মায়ের সাড়ি দিয়ে বরন করতে হয়,
তাহলে নতুন বৌ নাকি ঘরের লক্ষি হয়,
!
মিশকার এমন আচরণে ইমা ও তার নতুন বৌ শকর্ড হয়ে যায়,
কারন তাড়া ভেবেছিল মিশকা ইমানের পা ধরো কান্নাকাটি করবে, ওকে ধোকা দেওয়ার জন্যে দোষারোপ করবে,
কিন্তু তার কিছুই হয়নি তাই ওরা শকর্ড হয়ে যায়,
!
ইমানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরে,
!
কারন ও ভালো করেই জানে যে মিশকা ঘোমটা দিয়ে থাকতে পারেনা,
আর সেই সেই ও ওর ৫ ফুট শরীরে ১৪ ফুটের সাড়ি পরে এক হাত ঘোমটা দিয়ে হাসি মুখে ওদের বরন করে নিচ্ছে?
আর ও ওদের কথা জানলো কি করে?
সে টাই ভেবে পাচ্ছেনা ওরা,
তার ওপরে আজকে ওদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী আর সেদিনি ইমান ওর নতুন বৌ ঘরে এনে তুলেছে,
কিন্তু মিশকা কোনো রিএ্যাক্ট করছে না?
!
হঠাৎ ওদের ভাবনায় ছেদ ঘঠিয়ে বলে,
!
এই যে আপনি কি নতুন বৌ নিয়ে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবেন?
!
ইমানের এতক্ষণ খেয়াল না হলে ও এখন খেয়াল করে দেখে,
মিশকা ওকে আপনি করে সম্বোধন করছে আর যেটা ইমান কে একটু হলে ও আঘাত করেছে,
তবুও চুপচাপ নতুন বৌ কে নিয়ে বাসায় ঢুকে পরে,
!
এই মেয়ে তোমার নাম কি?
!
ইশা,
!
বাহহ,
নাম টাতো অনেক সুন্দর ইমান ইশা তাছাড়া আপনাদের অনেক মানিয়েছে,
লাইক মেইড ফর ইচ আদার টাইপ?
!
ইশা বাড়ির নিয়ম অনুসারে নতুন বৌ তার বর কে মিষ্টি খাইয়ে দেয়,
!
তুমি ও তোমার বর কে খাইয়ে দাও,
!
তোমার বর কথা রি শুনে ইমান জিজ্ঞাসু দৃষ্ট তে মিশকার দিকে তাকায়,
!
তখন ইশা ওকে মিষ্টি খাইয়ে দেয়,
!
মিষ্টি যেন ইমানের গলা থেকে নামছেই না,
!
কারন ও মিশকাকে চিনতে পারছেনা,
এই কি সেই মিশকা যে আমাকে অন্যকারে সাথে কথা বলতে দেখলে কাঁদতে কাঁদতে পাগল হয়ে যেত?
!
আচ্ছা আমি এতো কেন ভাবছি?
আমার তো ওর প্রয়োজন ফুরিয়েছে তাহলে কেন ওর কথা গুলো আমাকে এতো টা আঘাত করছে?
!
মিশকা কে যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে তারা,
তবু ও তারা চুপটি মিশকাকে পর্যবেক্ষণ করছে,
!
তারপর মিশকা এমন কিছু বলে যেটা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় ওরা,
কারন মিশকা ওদের বলে,
!
মনে তো হয় ডিনার করে এসেছেন তাই আর আমি হাত পুড়িয়ে কিছু রান্না করিনি,
সকালে করবো,
!
ইসসসস,
আমি কতটা বোকা?
আপনাদের বাসরঘর সাজিয়ে রেখেছি সো টাইম ওয়েস্ট না করে সেখানে যান ওকে,
!
বাই দাঁ ওয়ে আমার কালকে এক্সম আছে সো আমার স্টাডি করতে হবে সো গুড নাইট,
!
তারপর ও স্বাভাবিক ভাবে অন্যরুমে যায় যেটা ইমান কে ভাবিয়ে তোলে,
!
কিছুক্ষণ বসে থাকা পরে বাসরে গিয়ে ওদের স্ট্রোক করার উপক্রম হয়,
!
কারন একটা মেয়ে কিভাবে নিজের বিবাহবার্ষিকী তে তার স্বামী ও সতীনের বাসর সাজাতে পারে?
মেয়ে টাতো একফোঁটা চোখেরজল ফেলেনি ওদের সামনে?
!
তাহলে কি আমি এতদিন একটা?
!
কি ভাবছ বাবু?
আজকে তো আমাদের বাসর তাহলে তুমি?
!
কোই কিছুনা তো?
!
ওদিকে মিশকা ওর ঘরে তাহাজ্জুদের সালাতে বসে নিজের চোখেরজলের বিকর্ষণ দিচ্ছে,
নামাজ শেষে মিশকা নিজেকে ওয়াদা করে বলে,
!
তুই এখানে পরে থাকবি না মিশকা,
তোর অনার্স কম্পিলিট করতে আর মাএ তিন বছর বাকি,
তাই তুই ওনার টাকায় লেখাপড়া করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ওনাকে ফেলে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যাবি আর কখনওই পেছনে ফিরে চাবি না,
কখনওই না,
!
তারপর ও ওর বিছানায় গিয়ে শুয়ে করে,
সারারাত ও ওর চোখেরজলে বালিশ ভিজিয়ে কাটিয়ে দেয়,
!
পরেরদিন ভোরে উঠে রান্নাবাড়া করে আমি আমার ইউনিভারসিটি তে চলে যাই,
বিকজ এখন তো আর তার আমাকে দেওয়ার জন্যে সময় নেই,
সে তো তার নতুন বৌ কে নিয়ে থাক ওসব বাদদ,
আজকে আমার এক্সম,
!
সো নো টেনশন ডু রেলাক্সড,
!
এক্সম শেষে আমি আমার ফোন চেক করে দেখি,
ওই বাজে লোক টার একশো মিসকল,
!
উনি ও ওনার বৌয়ের সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রেখে এসেছি,
তাহলে ওনার এতো মিসকল কিসের?
!
উফফফ,
এসব ভাবার টাইম নেই আমার বাসায় ফিরে টিউশনে যেতে হবে,
তাই আমি তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যাই,
!
বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘোমটা দিয়ে নিচে গিয়ে দেখি,
!
ইশা মিনি স্কার্ট ও ব্যাকলেস গেঞ্জি পরে সোফায় বসে টিভি দেখছে,
!
তাই তো বলি কেন আমি ওনার অসহ্য হয়ে উঠেছি?
আমি তো আনস্মার্ট, ক্ষ্যাত ও ব্যাহেনজি টাইপ তার ওপরে কালো তাই হয় তো আমি ওনার অরুচি তে পরিণত হয়েছি,
!
ওকে ফাইন,
এসব ভাবার সময় নেই,
তাই আমি নিচে গিয়ে আমার খাবার রেডি করতে থাকি,
তখন ইশা আমাকে বলে,
!
তুমি অনেক ভালো আর ইমান ও আমায় অনেক ভালোবাসেন,
!
বাসবেই তো তুমি ওনার নতুন বৌ বলে কথা,
!
না মানে তুমি আমাদের বিয়ের কথা জানলে কি করে?
!
বলে না “যার বিয়ে হুশ নেই পাড়াপড়শির ঘুম নেই ”
সে ভাবেই যেনেছি গো,
!
তখন ও মাথা নিচু করে দরজার কাছে এগিয়ে যায়
আর ওমনি বাড়ির কলিং বেল বেজে ওঠে,
আর আমি ওই বাজে লোক টার গলা শুনতে পাই,
!
তাই আমি আমার খাবার নিয়ে ঘরে চলে যাই,
!
কি হলো বাবু তুমি এসময়ে বাসায়?
!
আসলে তোমায় মিস করছিলাম তার ওপরে আব্বু লন্ডন থেকে মিশকার জন্যে অনেক গিফট পাঠিয়েছে ওগুলো নিয়ে এসেছি,
!
মিশকার জন্যে?
আমার জন্যে পাঠায় নি?
!
তারা তোমার কথা জানেনা জানলে আমাকে তেজ্য পুএ করে দিবেন,
!
ওহহহ আচ্ছা,
দাও আমি মিশকাকে দিয়ে আসি,
!
ওকে দাও,
!
শাওয়ার নিয়ে বাহিরে বেড় হয়ে বেডের ওপরে তাকিয়ে দেখে,
ওর আব্বুর পাঠানো গিফট গুলো ইমা খুলে খুলে দেখছে,
!
এসব দেখলে আমার রাগ উঠে যায় কারন আমি অন্যের জিনিসে মাথা ঘামাতে পছন্দ করিনা,
তাই রাগ দেখিয়ে ইশা কে বলি,
!
তোমাকে না বললাম এগুলো ওকে দিয়ে আসতে?
!
গেছিলাম দিতে ও বললল,
যার জন্যে এগুলো আমাকে দিয়েছে সেই তো আমার না সো তার নামে দেওয়া জিনিশ আমি কেন পড়বো ?
তোমার স্বামী তুমি পরো ফেল যা মন চায় তাই করো,
তাই আমি এগুলো নিয়ে এসেছি,
কিন্তু এগুলো আমার ব্যাবহারের যোগ্য না,
!
কেন?
!
কারন এখানে এতো এতো সাড়ি ও সোনার ওরনামেন্টস,
আমি তো সাড়ি পরিনা আর ডায়মন্ড ছাড়া কোনো গহনা পড়িনা ইউ নো না বাবু,
!
ও হ্যা বুঝেছি,
যাও এক গ্লাস পানি নিয়ে আসো,
!
ওকে বেবি,
!
ইশা আমার জন্যে খাবার পানি আনতে যেতেই আমার নজর একটা সুন্দর কার্ডে আটকে যায়,
!
তাই কার্ড টা খুলে দেখি আব্বু আম্মু ও বোনেরা আমাদের মানে আমাকে ও মিশকা কে হ্যাপি এ্যানিভারসারি উইশ করেছে,
!
কালকে ইশা কে আপন করে নেওয়ার সুখে আমি আমাদের বিবাহবার্ষিকীর কথা
ভুলে গেছিলাম,
এদিন টা নিয়ে আমরা অনেক প্লান করে ছিলাম,
কিন্তু প্লান গুলো প্লানি রয়ে গেছে,
তবে আমার মধ্যে কেন অপরাধবোধ কাজ করছে?
আমি তো ওকে ভালোবাসি না?
!
দেখতে দেখতে কেটে যায় কয়েকসপ্তাহ কিন্তু সে আমার সামনে আসে না,
!
ইশা কে বিয়ে করে বাসায় আনার পর থেকে একদিন ও আমার সামনে পড়েনি,
এবং আমি বা আমার গন্ধ পেলেই সেখান থেকে পালিয়ে যায়,
তবে তাতে আমার কি?
আমি তো ওকে ভালোবাসি না,
!
শুধু আমার প্রথম স্ত্রী বলে ওকে এ ঘরে ঠাই দিয়েছি,
না হলে কবে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিতাম,

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here