বসের সাথে প্রেম পর্ব-১৮

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১৮

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

সিয়াম-মায়া অফিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। দু’জনেই গাড়িতে বেশ চুপচাপ বসে আছে…
কেউ কোনো কথা বলছে না। সিয়াম’ই নিরবতা ভেঙে মায়াকে প্রশ্ন করল__
” কিছু খাবে?!!!”
মায়া বেশ চুপচাপ। সিয়াম আবারো জিজ্ঞেস করল, কিছু খাবে?!!! মায়া এবারো বেশ চুপচাপ। সিয়াম এবার গাড়ি থামিয়ে প্রশ্ন করে, শুনতে পাচ্ছো কি?!!!
মায়ার ঘোর কাটে। জি,স্যার! আমাকে কিছু বলছেন?

সিয়াম রাগী লুক নিয়ে বলল, তারমানে তুমি কিচ্ছু শুনতে পাওনি?!!!

-‘আসলে আমি…..(….)….

~হয়ছে। আর অজুহাত দিতে হবে না….(সিয়াম)
,
,
,
-‘ গাড়ি এসে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে থামলো।মায়া এতক্ষণে ভাবনা জগত থেকে বাস্তবে ফিরে এলো। আর ওর দৃষ্টি এতক্ষণে বাহিরে গেল।
অবাক বিস্ময়ে মায়া সিয়ামের দিকে তাকাই। সিয়াম মায়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন_
” কি হলো? এভাবে হা করে তাকিয়ে আছ কেন? নামো…”

-‘ ইয়ে মানে স্যার! গাড়ি এখানে…কিছু বুঝলাম না…(মায়া)

~’ তোমার কিছু বুঝতে হবে না। আমি যা বলি তুমি বরং সেটাই করো। তুমি আগে গাড়ি থেকে নামো।(সিয়াম)

-‘ মায়া কিছু না বুঝেই গাড়ি থেকে নামল। তারপর সিয়ামের পিছুপিছু চলতে লাগল। সিয়াম রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকার সাথে সাথেই সিয়ামের তিনজন বন্ধু বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। মায়ার দিকে তাকিয়ে তারপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আতিক বলে উঠল,
এসেছিস তাহলে?!!! আমরা তো ভাবছি আসবি’ই না…
সিয়াম মুচকি হেসে বলল, তা কি হয় ইয়ার?!!! বিশেষ দিন বলে কথা…
সিয়াম মায়াকে পরিচয় করিয়ে দেয় বন্ধুদের সাথে। মায়া কুশল বিনিময় করে ওদের এবং সিয়ামের আহ্বানে খেতে বসে পরে। মায়া এমনিতেই খুব লাজুক স্বভাবের, তারউপর আবার আজকে এতগুলো মানুষের সামনে খেতে বসছে। মায়ার গলা দিয়ে যেন কিছু ঢুকছে না। খাবার সামনে নিয়ে শুধু হাতড়াচ্ছে। আতিক সিয়ামকে ইশারা দিয়ে সেটা দেখালো। সিয়াম আড়চোখে তাকিয়ে সে দৃশ্য দেখে শুধু হাসছে। মায়ার কিছু’ই মুখে পরেনি তার আগেই সবার খাওয়া শেষ। সিয়াম মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তোমার মনে হয় ক্ষিদে নেই, তুমি বরং হাত ধূয়ে নাও…’
মায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে সিয়ামের মুখের দিকে তাকালো, তারপর হাতটা ধূয়ে খাবার টেবিল সেরে উঠে পরল।

সেদিন সিয়াম রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে মায়াকে নিয়ে শপিংয়ে যায়। সাথে বন্ধুরারা তো আছে’ই। মায়া অবশ্য প্রথমে ইতস্তত বোধ করছিল যেতে, পরে সিয়ামের রাগী লুক দেখে রাজি হয়ে গেল। অবাক হলো মায়া যখন দেখল সিয়াম বিয়ের সব কেনাকাটা করছে। মায়া সিয়ামের সাথে থেকে থেকে সবকিছু চয়েজ করে দিচ্ছে আর সিয়াম সেগুলোতে লাইক দিচ্ছে। হাসিমুখে শাড়ি গহনা সব বাছাই করে দিলেও মায়ার ভিতরটা তখন ফেটে যাচ্ছিল। বুকফেটে কান্না আসছিল। মায়া জানে, এগুলো সিয়াম ওর হবু বউয়ের জন্য কিনছে। মায়া আর পারছিল না। আসছি বলে দৌঁড় দিল দোকান থেকে। একদৌঁড়ে নিচে গাড়ির কাছে এসে হাপাচ্ছে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে। ঠিক তখন’ই কারো হাতের স্পর্শ টের পাই মায়া। ফিরে তাকাই সে। সিয়াম দাঁড়িয়ে আছে ওর পিছনেই। ঘাবড়ে যায় মায়া। অশ্রু লুকিয়ে বলে, শপিং করা শেষ?!!!
-আর কান্না লুকাতে হবে না, আমি বুঝে গেছি। গাড়িতে উঠ।
-‘কি বুঝে গেছেন?'(মায়া)

~সিয়াম গম্ভীর হয়ে বলে, কিছু না। গাড়িতে উঠো। মায়া চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসে। পিছনে সিয়ামের তিনজন বন্ধুও আছে। গাড়ি গিয়ে একটা বিরাট বাসার সামনে গিয়ে থামে। অবাক বিস্ময় চোখে এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে গাড়ি থেকে নামে মায়া। গাড়ি গেইটে থামার সাথে সাথে’ই তিনটা মেয়ে ছুটে আসে। এর মধ্যে একটা মেয়ে সিয়ামকে যখন তুই বলে হাসাহাসি করে কথা বলছে, তখন সিয়াম লক্ষ্য করে মায়ার চোখে অবাক বিস্ময়। হওয়ার’ই কথা। কারন, ও তো আর লিজাকে কখনো দেখে নি। যাকগে, লিজা মায়ার দিকে তাকিয়ে আঙুল বাকা করে মুচকি হাসি দিয়ে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে যখন বলছে পারফেক্ট, তখন মায়া থ হয়ে যায়। কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারে সিয়ামের চেনাজানা কেউ ওরা। যারা ওদের রিলেশন সম্পর্কে জানে। যায় হোক!!!

এদিকে মায়ার ঘোর কাটতে না কাটতেই সিয়াম লিজাকে ইশারা করে কি যেন বলে…
মায়া কিছু বুঝে উঠার আগে’ই লিজা মায়াকে নিয়ে ভেতরে চলে যায়…..

কিছুক্ষণ পর মায়াকে সদ্য কেনা শাড়ি আর গহনাগুলো পরিয়ে বিছানায় বসিয়ে বাইরে চলে যায় লিজা। মায়া থ হয়ে বসে আছে। ও বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এসব? স্যার কেন এমন করছেন? আর কেন’ই বা এই শাড়ি গহনা কিনে জোর করে আমাকে পরালেন। আচ্ছা, এগুলো কি বসের কার্য ক্ষমতার মধ্যে পরে?!!!
হয়তো বা….
তাই মায়া আর জুরাজুরি করে নি। ক্ষাণিক বাদে’ই একটা কাশি দিয়ে রুমে সিয়াম প্রবেশ করে। মায়া তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিল। সিয়াম আসছে সেটা মায়া আয়নার ভেতর দিয়েই দেখতে পায়। জীবনে প্রথম শাড়ি পরিহিত অবস্থায় মায়া দাঁড়িয়ে, তার ঠিক একটু পিছনেই সিয়াম দাঁড়িয়ে। আয়নার ভিতর দিয়েই সিয়াম মুগ্ধ চোখে তার মায়াপরিটাকে দেখছে। নরমাল সাজ অথচ কি দারুণ লাগছে বলে বুঝানো যাবে না। মায়া লজ্জায় শাড়ির আঁচল টানছে আর পুরো শরীর ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু মেয়েটি এমন ভাবে শাড়ি পরিয়েছে যে এতটুকুন আঁচল দিয়ে পুরো শরীর ঢাকা সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে মায়ার খুব রাগ হচ্ছে মেয়েটির প্রতি। এভাবে কেউ শাড়ি পরায়? পেট ঢাকলে পিঠ খালি, পিঠ ঢাকতে গেলে পেট খালি…!!!😒😒

মায়া আঁচল দিয়ে পেট ঢাকার বৃথা চেষ্টা করছে আর সিয়াম ওর দিকে’ই এগিয়ে আসছে। মায়া একবার আয়নায় তাকাচ্ছে আরেকবার পেট ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সিয়াম গিয়ে পিছন থেকে মায়াকে ধরে ওর দিকে ফিরিয়ে দেই। মায়া লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে…..
সিয়াম মুগ্ধ দৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,
অপূর্ব!অপূর্ব….
ইচ্ছে করছে আমার মায়াপরিটাকে একবার ছুঁয়ে দিতে….

-‘ ছুয়াছুয়ি পরে হবে, আগে তো বিয়েটা করে নে….
কথাটা বলতে বলতে লিজা রুমে প্রবেশ করে,তার সাথে অন্যরাও। মায়া হতবাক।
অবাক বিস্ময়ে লিজার দিকে তাকিয়ে বলল,
বিয়ে?!!!
-‘ হুম বিয়ে। আজকে তোমার আর এই বুদ্ধুটার বিয়ে। কেন? ও তোমায় কিছু বলে নি?!!! (কথাটা বলেই লিজা সিয়ামের দিকে তাকাই)
সিয়াম নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মায়া সিয়ামের দিকে জিজ্ঞাসো দৃষ্টি নিয়ে তাকালো। সিয়ামও মায়ার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে। কারো মুখেই কোনো কথা নেই….

আতিক এসে সিয়ামের চোখের সামনে হাত ঘুরিয়ে বলল, আর কত?!!!
আর কত দেখবি? চল না এবার। অনেক বেলা হয়ে যাচ্ছে যে….
পরে গিয়ে যে কাজিকে পাবো না….
কথাটা বলতে বলতেই বাকি দু’জন এসে সিয়ামের হাত ধরে ওকে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে আর মায়াকে নিয়ে গাড়িতে করে চলে যাওয়ার জন্য বলছে….

লিজা মায়ার হাত’টা ধরে বলে, চলো…..

মায়া লিজার হাতের মুঠো’ই থেকে ওর হাতটা হ্যাচকা টানে বের করে চিৎকার করে বলে উঠে_
” না…..”
সবাই স্তব্ধ হয়ে যায় মায়ার চিৎকার শুনে। ওর দিকে ফিরে তাকাই সিয়ামসহ বাকিরা….

মায়ার আর বুঝতে বাকি নেই কি হতে যাচ্ছিল এখন। মায়া নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না ওর সামনে সিয়াম দাঁড়িয়ে। আর সিয়াম ওর সাথে এমন করবে তা কল্পনাও করেনি মায়া। মায়া ভাবছে, শুধু ভাবছে, কি করে পারল সিয়াম ওর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে…?!!!
মায়ার ইচ্ছে হচ্ছে এই মুহূর্তে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে কিন্তু সেটা পারছে না….

আতিক মায়ার সামনে এসে বলল, ‘না মানে?’
কি বলছ তুমি এসব মায়া?
তোমার মাথা ঠিক আছে?
কত কষ্ট করে আমরা এই প্ল্যান করলাম তোমাদের সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আর তুমি?!!!
কি বলছ এসব?!!!

মায়া চিৎকার করে__
আমি এ বিয়ে করতে চাই না ভাইয়া….
আমি এ বিয়ে করতে চাই না।

-লিজা মায়ার সামনে এসে বলে,
Are you crazy,Maya?
তুমি কি বলছ এসব?
বিয়ে করবে না মানে?!!!!

মায়া এবার আরো জোড়ে চেঁচিয়ে উঠে বলল,
করব না, মানে করব না।
আমি বিয়ে করব না।

সিয়াম এতক্ষণ চুপ থেকে সবটা শুনছিল, অবস্থা বেগতিক দেখে এখন মায়ার সামনে এসে দাঁড়াল। মায়া কিছু বলতে গিয়েও চুপ হয়ে গেল সিয়ামের দিকে তাকিয়ে। সিয়াম মায়ার হাত’টা ধরে ফেলে সবার সামনে। মায়া এখন একদম শান্ত….
সিয়াম মায়ার একটা হাত ওর দু’হাতের মুঠো’ই এনে বন্দি করে।

তারপর দু’জন দু’জনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এভাবে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সিয়াম বলে উঠে_
” এমন করো না তুমি প্লিজ…
শান্ত হও আর ওরা যা বলছে তাতে রাজি হয়ে যাও….
যাও গাড়িতে গিয়ে বসো…

-‘ গাড়িতে যাব মানে?!!!(মায়া)

~’ মানে মানে করো না তো! গাড়িতে গিয়ে বসো। আমি রেডি হয়ে আসছি।(সিয়াম)

-‘ মায়া এবার প্রচন্ড রেগে গেছে। রেগে গেলে ওর মাথা একদম ঠিক থাকে না। আজও তাই হলো….
চেঁচিয়ে বলে উঠল,
আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না….
হাতটা ছেড়ে চলে যাচ্ছিল সিয়াম, মায়ার চেঁচিয়ে উঠা দেখে পিছু ফিরে তাকালো….
কি বলছ তুমি?!!!
আবার বলো…..

-‘ আমি আপনাকে বিয়ে করব না, করতে চাই না।।(মায়া)

সিয়াম আবারও এসে মায়ার হাতটা ধরল….
মায়া চোখ তুলে তাকাল সিয়ামের দিকে। সিয়াম শান্ত গলায় বলল,
আবার বলো কি যেন বলছিলা?!!!
মায়ার এবার রাগ হলো। জোরে, আরো জোর গলায় মায়া বলে উঠল….
বুঝতে পারছেন না আপনি? সত্যি’ই কি বুঝতে পারছেন না আপনি?!!! আমি পরিষ্কার বাংলায় বলছি, আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না….
– কারনটা কী?(সিয়াম)

~অকারন’ই কারন। আর সবকিছুর এত কারন খুঁজতে যাবেন না তো….

-‘ মায়া! সত্যি’ই কি তুমি আমায় বিয়ে করতে চাও না?!!!(সিয়াম)

~না, না, না….
আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না আর কতবার বলব….?!!!(মায়া)

–ওহ…..(সিয়াম)
,
,
,
,
-‘ এবার হাতটা ছাড়েন, প্লিজ?!!!'(মায়া)

-‘ মায়া! তুমি কি আমায় ভালোবাসো?!!!(সিয়াম)
,
~’ না…(মায়া)
,
-‘ কি?!!! কি বলছ? আবার বলো তো….(সিয়াম)
,
– আমি……আপনাকে…..
ভালো…..বাসি…..না…..(মায়া)
,
,
– ‘ মজা করতেছ না?😊😊(সিয়াম)
,
,
-আমি মজা করতেছি না।
আর যায় হোক মায়া কখনো ভালোবাসা নিয়ে মজা করে না….(মায়া)
,
,
-‘ তারমানে তুমি???(সিয়াম)
,
,
– আমি সত্যি’ই আপনাকে ভালোবাসি না….
,
ঘৃণা করি আমি আপনাকে
,
ঘৃণা করতেও আমার বড্ড ঘৃণা হয়
,
আপনি তো ঘৃণার অযোগ্য….(মায়া)

~সিয়াম ঠাস করে হাতটা ছেড়ে দিল….
তারপর দাঁড়ানো থেকে বসে পরল….
আর মায়া?!!!
মায়া দৌঁড়ে সেখান থেকে চলে গেল….

চলবে…..

বসের সাথে প্রেম পর্ব- ১৭

বসের সাথে প্রেম
পর্ব- ১৭

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

মায়া চক্ষু দুইটা বন্ধ করলে সিয়াম মায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। মায়া চক্ষু বন্ধ করে’ই সিয়ামকে সরানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষে না পেরে সিয়ামের বুকে এলোপাথাড়ি ভাবে কিলঘুসি দিতে থাকে আর আস্তে আস্তে কিসব বলে বকতে থাকে সিয়ামকে। সিয়াম মায়ার উপর থেকে সরে যায়। এই মুহূর্তে মায়ার মনে হচ্ছে ওর শরীর থেকে কয়েকশ মণ ওজনের বস্তা সরাতে পেরেছে। মায়া একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে ক্ষাণিকবাদেই চোখ খুলে। চোখ খুলে দেখে তার ঠিক পাশেই বিপরীতমুখী হয়ে সিয়াম শুয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ সরিয়ে নেয় মায়া। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে মুখ খুলে সিয়াম….
~ভয় পেয়েছিলা?!!!
-‘ অস্ফুট স্বরে মায়া উহু বলে উঠে। সিয়াম অবাক চোখে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘বলো কি? এমন একটা ঘটনার পরও বলছ তুমি একটুও ভয় পাওনি?’
মায়া এবার বলে__
” না, ভয় পাই নি।”
সিয়াম:- বাব্বাহ! আমার মায়াপরিটার এত্ত সাহস?এতকিছুর পরও ভয় পেল না?!!🙊
মায়া:- সাহস নয় বিশ্বাস….
আমার বিশ্বাস ছিল আপনি আমার কোনো ক্ষতি করবেন না, করতে পারেন না….♥♥♥
সিয়াম:- 😒😒😒
মায়া:- কি হলো আবার?
সিয়াম:- একদিনেই পর করে দিলে আমায়? আমি আপনি হয়ে গেলাম?
মায়া:- স্যারকে আপনি ডাকব না তো কি ডাকব? আর তাছাড়া আপনি আমার বস। সেই হিসেবে আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা প্রর্দশন করা উচিৎ, আর সেটাই আমি করছি….✌
সিয়াম:- আমি তোমার বস! তাই নাহ?!!!😎
মায়া:- জি, বস…
আপনি আমার বস….
সিয়াম:- আর কিছু’ই না?!!!
মায়া:- না….
সিয়াম:- সত্যি’ই আর কিছু’ই না। এর বাহিরে আর কিছুই না?!!!
মায়ার ভিতরে কথা আটকে যাচ্ছিল, তবুও ঢোক গিলে স্বাভাবিক ভঙিতে বলার চেষ্টা করল__
” না, এর বাহিরে আপনি আমার কেউ না স্যার।”
কথাটা শুনে সিয়াম নিশ্চুপ…
-মায়া আবারো দৃঢ় গলায় বলল, “লিজা ম্যাম ভালো মেয়ে। আপনি লিজাকে বিয়ে করেন। সুখী হবেন, বাবা-মাও খুশি হবেন….”
সিয়াম এবার রেগে গিয়ে মুখ খুলল__
” লিজা নয়, আমি তোকে বিয়ে করব। তোকে, তোকে, তোকে।শুনতে পাচ্ছিস?!!! আমি তোকে বিয়ে করব। বিয়ে করলে আমি তোকে’ই করব…”
মায়া:- স্যার, আপনি লিজাকে বিয়ে করেন….
সিয়াম এবার আরো বেশী রেগে গেল।

~কেন? লিজাকে কেন? তুই থাকতে আমার লিজাকে বিয়ে করতে হবে কেন?

-মায়া ভীরু গলায় বলল,
আপনার বাবা-মা সেটাই চান….

~কিন্তু আমি তো চাই না। আমি শুধু তোকে’ই চাই। আর বিয়ে করলে তোকে’ই করব….

-‘ কিন্তু আপনার বাবা-মা আমাকে নয়, লিজা ম্যামকে চান। সন্তান হিসেবে আপনার উচিৎ ওনাদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্য দেওয়া…(মায়া)

~’ আর সন্তান হয়ে আমি কি দোষ করলাম? ওনাদের কি উচিৎ নয়- বাবা-মা হিসেবে সন্তানের ইচ্ছে-অনিচ্ছের প্রাধান্য দেওয়া….???’

-‘সব ইচ্ছের প্রশ্রয় দিতে নেই। সন্তানের সব ইচ্ছের প্রশ্রয় দিতে নেই,স্যার….
আর মানুষের সব চাওয়াও পূর্ণ হয় না। আপনি ওনাদের কথা মেনে নেন, সুখী হবেন…
অনেক সুখী হবেন…
কান্নাভেঁজা কন্ঠে কথাগুলো মায়া বলেছিল….’

~`আমি পারব না। পারব না আমি বাবা-মায়ের এই কথাটা শুনতে…মানতে…
এর জন্য যদি বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান বলেও গন্য হই, তাহলেও পারব না মানতে, পারব না তোমায় ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে….’

-‘ আপনি আমায় ভালোবাসেন না, স্যার?!!!(মায়া)

~হুম,বাসি।(সিয়াম)
-কতটুকু বাসেন?!!!(মায়া)

~অনেক ভালোবাসি, অনেক।অনেক….(সিয়াম)

-‘সেই ভালোবাসার কসম রইল, আপনি আপনার বাবা-মায়ের কথার অবাধ্য হবেন না। ওরা যা বলে যায় করবেন, শুনবেন। যদি এর ব্যতিক্রম করেন, তাহলে যেন আমাদের ভালোবাসাকেই অসম্মান করলেন….
মনে রাখবেন, আমাদের ভালোবাসার কসম দিয়েছি। আমি জানি, আপনি আমাদের ভালোবাসার অসম্মান কখনো করবেন না। যদি কখনো করেন, তাহলে সেদিন থেকে মায়া আপনার জন্য মৃত ভেবে নিবেন….(মায়া)

~’সিয়াম শুয়া থেকে উঠে বসে পরল মায়ার কথা শুনে।তারপর মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল, একি শুনালে তুমি?!!!

-মায়াও শুয়া থেকে উঠে বসল। তারপর আচমকা সিয়ামের পা ধরে বসল। সিয়াম তো হতবাক। সিয়াম বার বার মায়াকে বলছে__
‘কি করছ? ছাড়ো মায়া। ছাড়ো…..’
মায়া পা জড়িয়েই বলল,
প্লিজ, আপনি আমাদের ভালোবাসার অসম্মান করবেন না। প্লিজ, আমার কথাটা রাখেন। আপনার কাছে আমার শেষ অনুরোধ এটা….
সিয়াম মায়ার হাতটা ওর পা থেকে সরিয়ে কাঁপা গলায় বলল, “ঠিক আছে, আমি তোমার কথায় রাখব। তোমার কথায় রাখব…আমি বাবা-মায়ের সব কথা শুনব, মেনে নিব। আমি বাবা-মায়ের পছন্দের যেকোনো পাত্রীকেই চোখ বোজে বিয়ে করব, তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি হতে দিব না আমাদের ভালোবাসার কোনো অসম্মান….

-‘ মায়ার চোখে জল, ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটে উঠে। চোখের জল মুছে কাঁপা গলায় মায়া বলে উঠে__
‘আপনি সুখী হবেন। দেখে নিয়েন আপনি সুখী হবেন। স্বয়ং আল্লাহ আপনার সাথে আছেন। আপনি খুব সুখী হবেন…’
কথাগুলো বলেই মায়া দৌঁড়ে সেখান থেকে রুমে চলে যায়, আর সিয়াম?!!!
চোখের জল মুছে বলে,
হুম, আমি সুখী হবো…
তুমি বলছ না মায়া?!!!
আমি না সুখী হয়ে যাব কোথায়?!!!
আমার যে সুখী হতেই হবে। জোর করে হলেও সুখী হতে হবে….আমায় সুখী হতে হবে। আমার মায়াপরি বলছে….
আমি কি সুখী না হয়ে পারি? অবশ্যই আমি সুখী হব। সুখ আমার ঘরে উপচে পরবে….যেন এক সুখের সাগরে আমি বসত করব…. কথাগুলো বলে সিয়াম উঠে দাঁড়ায়। ছাদের রেলিং ধরে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে, আর চোখ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে জল পরছে….
সিয়াম আনমনেই বলে চলছে,
‘লিজা তো আতিককে ভালোবাসে, আর আতিকও লিজাকে ছাড়া বাঁচবে না। একজন প্রেমিক হয়ে কি করে আমি ওদের ভালোবাসাকে ব্যর্থ করে দেই? তার চেয়ে বরং ওদের ভালোবাসা সফল হোক, আর আমি?!!! বাবা-মায়ের অন্য কোনো এক বন্ধুর মেয়ে কিংবা ব্যবসায়ের পার্টনারের মেয়ে কিংবা বাবা-মায়ের নির্বাচিতা পাত্রীকে বিয়ে করে নিব। তুমি চিন্তা করো না মায়া। আমি তোমার কথা রাখব।বাবা-মায়ের অবাধ্য আমি হবো না।আমি আর কখনো তোমাকে চাইব না…..
কথাগুলো বলে সিয়াম হু হু করে কাঁদতে শুরু করে।

পরদিন পরিস্থিতি আগের চেয়েও বেশী স্বাভাবিক হয়ে আসে। ব্রেকফাস্ট করে সিয়াম-মায়া দু’জনেই বিদায় নেই সাইমার শ্বশুরবাড়ি থেকে….

কর্মচক্র আগের মতই নিজ গতিতে চলতে থাকে। মায়া সিয়ামের পি.এ হয়েই থেকে যায়। এমডি এবং পি.এর মধ্যকার কথাগুলো ও কাজগুলোই ওদের মধ্যে হতো। এর থেকে বেশী কিছু ওদের মধ্যে ছিল না। বেশী কথাও হতো না। দেখতে দেখতে ৬মাস কেটে যায়। সিয়াম অবাক হলো এখনো ওর বাবা ওর বিয়ের ব্যাপারে কিছু বলছে না দেখে। সেদিন সিয়ামদের বাসায় সাইমার শ্বশুরবাড়ির সবাই ছিল। সেদিন সবাই একসাথে খেতে বসলে ওর বাবা সাইমার শ্বশুরকে বলে__
” বেয়াই সাহেব!!!
লিজার তো বিয়ে হয়েই গেল আতিকের সাথে। এখন আমার ছেলের কি হবে? ওরা তো রিলেশন করে বিয়ে করেছে, আমার ছেলের তো মনে হয় কোথাও রিলেশনও নেই। থাকলে তো অবশ্যই বলত। এখন যা করার আমাদের’ই করতে হবে। কি বলছি বুঝতে পারছেন তো?!!!

-‘ হুম, বুঝতে পারছি বেয়াই….(সিয়ামের দিকে তাকিয়ে হেসে সাইমার শ্বশুর জবাব দিল)

সিয়ামের বাবা আবার বলল,
-‘ আপনি ঐদিন যে মেয়ের কথা বলছিলেন, সে মেয়েকে আমার ভিষন পছন্দ হয়েছে। বিয়ে করালে ঐ লক্ষ্মী মেয়েকেই করাব। ঐ লক্ষ্মী মেয়েই হবে আমার পুত্রবধূ। কি বলেন?'(বাবা)

~’ আপনার উক্তি ঠিক আছে, কিন্তু সিয়ামের মতামতের মূল্য দেওয়ারও তো দরকার। মেয়েকে একবার দেখানো দরকার….(সাইমার শ্বশুর)

-‘ হুম….
সিয়াম…..
আজকে অফিসে যাবি না।তোরা একবার সামনাসামনি কথা বলে দেখ।(বাবা)

-‘ বাবা….
তোমাদের পছন্দ’ই আমার পছন্দ। আমি আলাদা করে আর কথা বলতে কিংবা দেখতে চাই না। তোমরা সব ঠিক করো। আর বিয়ের দিন শুধু মনে করিয়ে দিও যে আমার বিয়ে ঐদিন….(সিয়াম)

-‘ সেকি?!!! বিয়ের দিন মনে করিয়ে দিতে হবে মানে? আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে, তুই কি ভাবছিস? কোনো অনুষ্ঠান হবে না? পুরো বাংলাদেশের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিব। আমার ছেলের বিয়ে বলে কথা…(মা)

-‘ ঠিক বলছেন, মা….(আবির)

-‘ ইস! কি যে মজা হচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছে ডান্স দেই…. (সাইমা)

-‘ বৌমা। এখানে কিন্তু মুরুব্বিরাও আছে….😊😊(সাইমার শাশুড়ি)

-‘ স্যরি, মা….😒😒
বিয়ের কথা শুনে ভুলেই গেছিলাম আপনারা আছেন….😊(সাইমা)

সবাই হা,হা,হা করে হেসে দিল…..
সবাই বেশ খোশ মেজাজে আছে, শুধু মায়া ছাড়া….
মায়ায় বেশ চুপচাপ বসে খাচ্ছে….
একটা কথাও বলে নি….
সিয়াম মনে মনে বলছে_
” মায়া!তোমায় আমি সেদিন বলেছিলাম কিন্তু তুমি আটকে দিলে। আমাদের ভালোবাসার দোহাই দিয়ে আটকে দিলে। সেদিন’ই প্রতিজ্ঞা করেছি, আর নয়..
আমি বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করব। আর ক্ষমার কথা বলছিলা না?!!!
ক্ষমা আমি তোমাকে কখনো করব না। তুমি শেষ হবে। আমার মত করে একটু একটু জ্বলে পুড়ে শেষ হবে…
তুমি কাঁদবে, আমার মতই কাঁদবে, নিরবে কাঁদবে। সে কান্নার আওয়াজ কেউ শুনবে না…..
আমিও দেখতে চাই,
আর কত…
আর কতদিন তুমি এভাবে চুপ থাকতে পারো…..

সিয়াম-মায়া দু’জনেই চুপচাপ খাওয়া সেরে উঠে গেল।

এদিকে বাকি মানুষগুলো যারা খাবার টেবিলে বসে খাচ্ছিল তারা হি হা হা হা করে হেসে দিল…..
সাইমা তো বলেই দিয়েছে_
” আহারে বেচারা-বেচারি…”

[সম্মানীত পাঠক/পাঠিকা আপু ও ভাইয়ারা…..
আপনারা হতাশ হবেন না। সিয়ামের পরিবার মায়ার কথায় এতক্ষণ ধরে বলছে। সেদিন রাত্রে ছাদে যা হয়েছে পুরো ঘটনা অন্তরালে থেকে একজন খেয়াল করেছিলেন, তিনি ছিলেন সাইমার শ্বশুর। গভীর রাত্রে ছাদে কারো কথার আওয়াজ শুনে ধীরপায়ে এগিয়ে এসে তিনি একজোড়া কপোত-কপোতীর প্রেমের শেষ দৃশ্যপটের সাক্ষী হয়েছিলেন। সেদিন তিনি আবিভূত হয়ে গিয়েছিলেন ছোট্ট একজোড়া কপোত-কপোতীর নিরব ভালোবাসা আর পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখে। শেষ কথাগুলো একদম মেনে নিতে পারেন নি। চোখের পানি ছেড়ে দিলেন সাইমার শ্বশুর। তবে ব্যর্থ হতে দিলেন না ওদের ভালোবাসাকে। ঝরে যেতে দেননি স্বর্গীয় এক প্রেমের বন্ধনকে। এ বন্ধন আরো অটুট এবং চিরস্থায়ী করার জন্য সেদিন’ই পুরো ঘটনা সাইমার বাবাকে খুলে বলেন। আনন্দে সে দিন সাইমার বাবার চোখ থেকে দু’ফোঁটা অশ্রু ঝরে পরে। ছোট্ট অবুঝ দুটি প্রাণের থেকে সেদিন তিনি ত্যাগের এক দারুণ শিক্ষা পায়। যা মুহূর্তেই কঠোর হৃদয়ের শিল্পপতিকে কোমল হৃদয়ের অধিকারী একজন বাবা, আদর্শ বাবা তৈরি করে দেয়। এর কয়েকদিন পর’ই বন্ধু আশরাফের মেয়েকে সিয়ামের বন্ধু আতিকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেই…..
আর মায়ার জন্য প্রাণভরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। প্রার্থনা করে এমন মেয়ে যেন ঘরে ঘরে জন্মায়। আজ সত্যি’ই শিল্পপতি আশিকুর রহমান জীবন ধন্য। এমন এক আদর্শ মেয়ের আশ্রয়দাতা হতে পেরে তিনি সত্যি’ই ধন্য…..]

চলবে……

বসের সাথে প্রেম পর্ব-১৬

বসের সাথে প্রেম

পর্ব-১৬

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

সেদিন রাত্রে সিয়াম গিয়ে হাজির হয় সাইমার শ্বশুরবাড়িতে। মায়া তখনো ঘুমুচ্ছে। রাত্রে খাওয়ার সময় সাইমা গিয়ে মায়াকে ডাকে। বার বার ডাকার পরও মায়ার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মায়া গভীর ঘুমে মগ্ন। এবার সাইমার শাশুড়ি তারপর আবির এসে ডাকলেন। মায়ার কোনো হুশ নেই। ও ঘুমুচ্ছে তো ঘুমুচ্ছে। শেষে সিয়াম আসে মায়াকে জাগাতে। মায়া তখনও অঘোরে ঘুমুচ্ছে। আবির ওর মা আর সাইমাকে নিয়ে রুম থেকে চলে গেল। সিয়াম ধীরে ধীরে গিয়ে মায়ার পাশে বসল। কিছুক্ষণ মায়ার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে মায়ার হাত’টা ধরল।শক্ত করে হাতটা কিছুক্ষণ ধরে রেখে সিয়াম মায়ার কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুলগুলো কানের একপাশে গুজে দিয়ে মায়ার কপালে আলতু করে একটা চুমু খেল। তারপর মায়ার শরীরে চাদর টেনে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে এলো সিয়াম। বাইরে বেরিয়ে এলে সাইমা এবং আবির দু’জনে একসাথেই জিজ্ঞেস করে- মায়া জেগেছে কি না….
সিয়াম মাথা নেড়ে না বলে। আবিরের মা মানে সাইমার শাশুড়ি সিয়ামকে খেতে ডাকলে সিয়াম বলে__
” আন্টি, আমার ক্ষুদা নেই একদম। আমি খাব না।আপনারা খেয়ে নিন।”

সে’রাত্রে সিয়ামকে কোনো ভাবে’ই খাওয়ানো যায় নি। মন খারাপ করে সিয়াম বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আর কেউ না বুঝলে সিয়াম বুঝে গেছে মায়াকে এখন জাগানো যাবে না। দুপুরে মায়া অফিসে যে ট্যাবলেট খেয়েছিল সেটা ঘুমের ট্যাবলেট…

রাত ১২টা…
ভালো লাগছিল না সিয়ামের। বারান্দা ছেড়ে ছাদে চলে যায় সিয়াম। বিষণ্ন মন নিয়ে ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকে সিয়াম। হঠাৎ’ই হাতের মধ্যে একটা কোমল পরশ অনুভূত হয় সিয়ামের। অশ্রুভেঁজা চোখ সেদিকে তাকালো। চমকে উঠে সিয়াম। মায়া তার’ই পাশে দাঁড়িয়ে। সিয়াম একদৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মায়াও সিয়ামের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে।
মায়ার চোখে নিচে কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে এই কয়দিনে এই দাগ পরেছে চোখের নিচে। মায়াকে খুব ক্লান্তও দেখাচ্ছে। সিয়াম ভাবছে “শুধু আমার জন্য মায়া পরিটার আজকের এই অবস্থা। ২বছর আগেই যদি মায়ার কথাটা ফ্যামেলিতে বলে দিতাম তাহলে আজকের এই দিনটি দেখতে হতো না। আমার মায়া-পরিটাকে তিলেতিলে এভাবে কষ্ট পেতে হতো না।”

সিয়াম আর পারছিল না।
চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষটির এই অবস্থা কেন জানি সে মেনে নিতে পারছিল না। আর কান্না আটকিয়েও রাখতে পারছিল না। তাই চোখের জল ছেড়ে’ই দিল সিয়াম। গড়িয়ে গড়িয়ে সিয়ামের চোখ থেকে জল পরছে আর মায়া সেদিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর_
মায়া সিয়ামের দিকে এগিয়ে যায় ধীরপায়ে। তারপর হাত দিয়ে চোখের জল মুছে দেয় মায়া। চোখের জল মুছে মায়া ছাদের রেলিং ধরে দুরে কোথাও দৃষ্টি মেলে দিয়েছে। সিয়াম গিয়ে মায়ার ঠিক পাশে রেলিং ধরে দাঁড়ায়। দুজনেই বেশ চুপচাপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই।

এভাবে অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর মায়া’য় নিরবতা ভাঙে। নিরবতা ভেঙে কথা বলে মায়া। বলে উঠে__
স্যার….
সিয়াম মায়ার মুখে হঠাৎ স্যার কথাটা শুনে চমকে তাকায়। আর যায় হোক, মায়া ওকে একান্তে, নিভৃত্তে স্যার নয় অন্যকিছু ডাকত। আর সেটা মায়ার পছন্দের’ই। আজ ২টা দিন এইভাবে এড়িয়ে চলার পর আজ আসছে স্যার বলতে?!!!
সিয়ামের ভেতরটা অজানা অভিমানে কেঁদে উঠে। মায়ার ডাকে সাড়া না দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে সিয়াম। মায়া আবারো ডেকে উঠে__
“স্যার,একটা কথা বলব?”
সিয়াম এবারো কোনো জবাব দিল না। মায়া একটু অপেক্ষা করে আবারো বলল, “একটা কথা বলতে চাইছিলাম, যদি অনুমতি দিতেন?”
সিয়াম যেন শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে স্যার তারপর আপনি সম্বোধনে….

প্রথমে কান্না আসলেও পরে মনটাকে শক্ত করে ফেলে। চোখের জল মুছে মায়ার বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ করে মনে মনে।
~আমাকে কষ্ট দেওয়া, না?!!!
~আমাকে এড়িয়ে চলা, নাহ?!!!
~আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়া, নাহ?!!!
~আমায় কাঁদাতে খুব ভালো লাগে,তাই না?!!!
আজ এর উপর্যুক্ত জবাব তোমায় দিতে হবে মিস মায়া…
মনে মনে এসব’ই বলতে থাকে সিয়াম……..
আর মায়া?!!!
সিয়ামের কোনো সাড়া না পেয়ে ছাদ থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়….

এদিকে সিয়াম ইচ্ছেকৃতভাবে মায়ার পায়ের সাথে ওর পা ঠেকিয়ে দিলে মায়া ধপাস করে পরে যায় আর সিয়াম?!!!
সিয়াম নিচ ইচ্ছেতেই মায়াকে আটকানোর অভিনয় করে ওর উপর গিয়ে পরে যায়….☺☺
মায়া নিচে আর সিয়াম তার উপর…😊😊
সিয়াম এবং মায়া দু’জন দু’জনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও যখন মায়া ওর শরীরে চাপ অনুভব করে তখন ঘোর কেটে যায়। মায়া হাত দিয়ে সিয়ামকে দুরে সরে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে নি। আস্তে আস্তে চাপটা পেট থেকে বুকে চলে আসে। মানে সিয়াম সবটুকু ভর মায়ার উপর ছেড়ে দিয়ে ওর মুখটা মায়ার মুখের দিকে নিয়ে যায়। মায়া ভীরু এবং কাঁপা কাঁপা চোখে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে।
মায়া কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারছে না।
ওর গলা থেকে আটকে গেছে। এদিকে সিয়ামের মুখ যখন মায়ার খুব কাছে চলে আসে তখন মায়া অন্যদিকে মুখটা ঘুরিয়ে ফেলে। সিয়াম এত দ্রুত মায়ার দিকে এগিয়ে এসেছিল যে মুখটা মায়ার ঘাড়ে লেগে যায়।

এদিকে মায়া?!!!
ওর ঘাড়ে সিয়ামের ঠোঁটের শীতল পরশ পেয়ে কেঁপে উঠে। মায়ার পুরো শরীর শিহরণ দিয়ে উঠে….
কোনো রকম নিজেকে কন্ট্রোল করে মায়া সিয়ামকে বলে_
“লাগছে তো! উঠেন…”
সিয়াম কোনো কথা না বলে মায়ার ঘাড়ে নাকের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। মায়া এবার চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। চোখ বন্ধ করেই বলল,
কি করছেন?! উঠুন প্লিজ…
সিয়াম এবারো কোনো কথা না বলে মায়ার ঘাড়ের চুলগুলো দুরে সরাচ্ছে। মায়ার অবস্থা জটিল থেকে জটিলটর হচ্ছে তখন। মায়া আবারো বলছে,
” স্যার,
প্লিজ এমন করবেন না। ছাড়েন প্লিজ….”
সিয়াম মায়ার ঘাড়ের চুলগুলো সরিয়ে এবার ওর ঘাড়ে আঙুল দিয়ে রেখার মত টানতে থাকে। সে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। মায়া যেন আর পারছিল না। বহুকষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল,
” স্যার, দোহায় লাগে ছাড়েন প্লিজ…”
সিয়াম এবার মায়ার ঘাড়ে চুম্বন দেওয়া শুরু করে দেয়। মায়ার ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে যায় এবার। এবার ও ঘন ঘন শ্বাস নিতে নিতে বলেই ফেলে…
” প্লিজ, ছাড়ো না বাবুর আব্বু….”

কথাটা বলার সাথে সাথে মায়া জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলল, ইস! কি বলে ফেললাম। এদিকে সিয়াম?!!! মায়ার মুখ থেকে ঠিক এই কথাটা শুনার জন্য’ই এমন করছিল। মায়া কথাটা বলে সিয়ামের দিকে ঘুরে তাকালো। সিয়াম তখন ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে আর চোখ দিয়ে ইশারা করে বলছে__
কি?!!!……
মায়া লজ্জায় চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল…..

চলবে…..

বসের সাথে প্রেম পর্ব-১৫

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১৫

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

মায়া ভেতর থেকে রুমের দরজায় হেলায় দিয়ে কান্না করছে আর সিয়াম দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে মায়াকে ডাকছে। কতবার করে বলতেছে দরজা’টা খুলতে মায়া কিছুতেই দরজা খুলছে না। মায়া দরজা খুলে ১ঘন্টা পর যখন দরজার ওপাশ থেকে আর কোনো আওয়াজ না আসে। দরজা খুলে সে আর সিয়ামকে দেখতে পায়নি। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মায়া ওর রুমে চলে যায় আবার…
রাতে মায়া এবং সিয়াম কেউ কারো সাথে একটা কথাও বলেনি। সিয়াম অবশ্য অনেক বার কথা বলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মায়া কথা বলার কোনো সুযোগ’ই দেইনি। সে রাতে মায়া একটুও ঘুমাতে পারে নি। সারা রাত কেঁদে কেঁদে রাতটা পার করে দেয় মায়া। ও জানে, ও সিয়ামকে কখনো’ই পাবে না, পাওয়ার আশাও করবে না। ও চাই না সিয়াম ওর হোক। ও চাই সিয়াম ওর বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করোক, ওনাদের ইচ্ছের মূল্য দিক, বিশ্বাসের মূল্য দিক। আর তাই সিয়ামকে এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিল। যতকিছুই হোক সিয়ামকে এড়িয়ে যেতে’ই হবে, ওকে রাজি করাতেই হবে…

পরদিন সকাল বেলা সিয়াম অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে, তখন’ই সিয়ামের বাবা সিয়ামের রুমে প্রবেশ করে কাশি দিয়ে।
সিয়াম- বাবা! দাঁড়িয়ে কেন আসো…
*বাবা- (হালকা কাশি)
★সিয়াম- বাবা কিছু বলবে?
*বাবা- তুই কি অফিসে যাচ্ছিস নাকি???!!!
★সিয়াম- জি, বাবা। অফিসে যাচ্ছি….
*বাবা- আজকে অফিসে যাওয়ার দরকার নেই। কি করতে হবে, না করতে হবে তোর ম্যানেজার আংকেলকে বুঝিয়ে দে, ওনি আজকের দিন’টা সব দেখাশুনা করবে…
★সিয়াম- কিন্তু বাবা….
*বাবা- কোনো কিন্তু নাই। তুই ওনাকে ফোন দিয়ে ডেকে সবটা বুঝিয়ে দে, আজ তোর অফিসে যাওয়ার দরকার নাই।
★সিয়াম- আচ্ছা, বাবা…
*বাবা- হুম, আর শুন…
আজ আশরাফ চৌধূরী ও তার স্ত্রী আসছে। তুই বাসাতেই থাকিস…
আর ওদের একমাত্র মেয়ে আরশিও আসছে। আমি চাই ঐ মেয়েকে এই বাড়ির বউ করে আনতে। আশা করি, এ ব্যপারে তোর কোনো আপত্তি থাকবে না…
★সিয়াম- বাবা! আমার একটা কথা আছে…
*বাবা- তোর যা বলার পরে বলিস, এখন আমি আসি। ওরা আসলে যাতে তোকে খুঁজতে না হয়…

চলে গেল সিয়ামের বাবা।
সিয়ামের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরল।একে তো মায়াকে কাছে পাচ্ছে না, তারউপর আবার বাসায় মেহমান। ওরা আসলে মেয়েটির কি অবস্থা হবে,ভাবতেই সিয়াম ঘেমে একাকার। না, না। এ হতে পারে না। আমাকে যে করেই হোক আজকে মায়ার সাথে কথা বলতেই হবে। আমি শুধু ওকে চাই, আর কাউকে না। বিয়ে করলে আমি ওকেই করব। আর যদি তার জন্য বাবার এই বিশাল সম্পত্তি থেকে আমায় বঞ্চিত করা হয়, তবুও করব। ওকে ছাড়া আমি কাউকেই বিয়ে করতে পারব না।
কিন্তু মায়া’কে পাবো কোথায়? ও যে মেহমান আসার কথা শুনে সকাল থেকেই মায়ের পাশে ঘুরঘুর করছে। এটা করছে, সেটা করছে। কখনো বা বুয়ার সাথে রান্নায় হেল্প করছে। কি করব আমি?!!!
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে মাথা ব্যথা শুরু হয়ছে…
মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে পরলাম বিছানায়। ক্ষাণিক বাদে’ই রোকসানা ডাক দিল। সাহেব, উঠেন…
শুয়া থেকে উঠে বসে ধমক দিয়ে__
তোকে না কতবার বলছি, আমায় সাহেব ডাকবি না!
আমায় ভাইয়া ডাকবি, ভাইয়া….
তুই আমার ছোট বোন সাইমার মত’ই আরেকটা বোন….
স্যরি, ভাইয়া আর এমন হবেনা।
★হুম, তাই যেন হয়….
~আচ্ছা, ভাইয়া আপনি আসেন, আমি গেলাম…
*এই শোন?!!!
~জি, ভাইয়া….
* মায়া কইরে?!!!
~ মায়া আপু ঘুমুচ্ছে….
*(মনে মনে বলছে সিয়াম, এই অবেলায় ঘুমুচ্ছে?!!!)
ওহ, আচ্ছা। যা তুই…..
~ভাইয়া, একটা কথা বলব?!!!
*বল….
~’ মায়া আপমণিটা না খুব ভালো একটা মেয়ে…
খুব ভালো…
ওর মত মেয়ে’ই হয় না…
প্লিজ, ভাইয়া ওকে আর কাঁদাবেন না….
*রোকসানা…
তুই,
আমার,,
মায়ার….
~সব জানি ভাইয়া…
আপনাদের প্রেমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা জানি ভাইয়া….
মায়া’পু এ বাসায় আসার আগে যখন ঐ বাসায় থাকত, তখন ও আমার থেকে আপনার খবর নিত…
ওর কখনো ছাদে, কখনো বা জানালায় লুকিয়ে আপনাকে দেখা পুরোটা’ই আমি খেয়াল করতাম। তখন থেকেই বুঝতে পারি, ও আপনাকে কতটা ভালোবাসে। আর তাছাড়া মায়া আপুমনি এ বাড়িতে আসার পর আপনাদের চোখাচোখি দেখেও সম্পূর্ণ বুঝে গেছি। জানেন, কাল থেকে কেঁদে কেঁদে চোখের কি অবস্থা করেছে? আজও কেঁদে কেঁদে’ই ঘুমিয়ে পরেছে…. সকালে ব্রেকফাস্টও করেনি….
এত করে বললাম তবুও কিছুই খাওয়াতে পারিনি…..

রোকসানার কথা শুনে সিয়ামের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে। রোকসানা’কে কোনো রকম নিচে যা বললাম। তার আগেই নিচ থেকে ডাক পরল। রোকসানা দৌঁড়ে নিচে চলে গেল।
-নাহ, আজ আর চুপ করে থাকব না। আজ বাবা’কে সবটা খুলে বলব…
বাবাকে না বলতে পারি লিজাকে বলব সবটা…
আশা করি, ও আমার কষ্ট’টা বুঝবে। হাজার হোক শৈশবের খেলার সাথি বলে কথা…
চোখের জল মুছে নিচে গেলাম। আংকেল-আন্টিকে সালাম দিয়ে, সোফায় গিয়ে বসলাম।
একি?!!!
লিজা কোথায়?!!!
ও আসে নি তাহলে?!!!
এখন আমি কিভাবে সমস্যার সমাধান করব?
এদিকে বাবা-মা’ও ওনাদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিতেছে। আলোচনার এক পর্যায়ে বাবা আংকেলকে বললেন_
” তো এই কথায় রইল…
লিজা ভ্রমন থেকে আসলে ওকে নিয়ে এ বাড়িতে আসবেন। ওরা দু’জন দু’জনকে আগে ভালো ভাবে বুঝুক, চিনোক….”
আংকেল হেসে হেসে সে কথার সম্মতি দিয়ে বললেন,
তাই হবে…
আমি ওদের থেকে বিদায় নিয়ে উপরে চলে গেলাম। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম। ওনারা কখন গেছে কিচ্ছু জানি না….
ঘুম ভাঙে কলের আওয়াজে….এই সন্ধ্যায় আবার কে কল দিল?!!! ফোন হাতে নিয়ে দেখি আননোন নাম্বার। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নারী কন্ঠ ভেসে উঠল। সুরেলা কন্ঠে এক নারী বলে উঠল__
” হ্যালো! সিয়াম বলছেন?!!!
* হ্যাঁ, আমি সিয়াম। আপনি কে?!!!
~আমি লিজা…
* ঐ তুই কোন লিজা? আমার ছোট্ট কালের খেলার সাথী নয়তো…?!!!
~হয়ত ছিলাম একসময়ের সাথী…
*মেডাম, আপনার কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন?!!!
~সে কিছু না…
দেখা করতে পারবি কালকে…?!!!
* হঠাৎ দেখা?!!! কেন? কোনো সমস্যা?!!!
~সব তোকে পরে বলব। প্লিজ, আগে বল দেখা করতে পারবি কি না….
*হুম, পারব।পারতে যে আমায় হবে’ই। আমার যে তোর সাথে অনেক কথা বলার আছে….
বল কোথায়, কখন দেখা করতে হবে?!!!
~’ আমি একটু পর জানাচ্ছি তোকে।এখন রাখছি….
*এই শুন….
এইরে!!! রেখে দিল….

পরদিন দুপুর দেড়টা_
মায়া ওর চেম্বারে চুপটি করে বসে ল্যাপটপ টিপাটিপি করছে। ঠিক তখন’ই আমি গিয়ে হাজির সেখানে….
‘ স্যার, কি কাজ করতে হবে?’
~তোমার সাথে কি আমার শুধু’ই কাজের সম্পর্ক?!!! কোনো কিছুর দরকার হলেই তোমার কাছে আসব? এর ছাড়া আসতে পারিনা?!!! কথা বলতে পারি না তোমার সাথে…???”
★স্যার, আসতে বলুন।সবাই শুনছে তো…
~শুনোক।😐
– – – – – – –
~কোথায় যাচ্ছ?!!!(হাতটা ধরে ফেলে)
★ স্যার, আমার কাজ আছে।
~আমি ছাড়া তোমার আর কোনো কাজ থাকতে পারে না….
★স্যার, সবাই দেখছে….
~দেখুক, দেখার জন্য’ই বলছি এসব….
আচ্ছা, কেন তুমি আমায় এমন ইগ্নোর করতেছ?
কি করেছি আমি?
কেন তুমি আমায় অবহেলা করছ? আমার থেকে দুরে দুরে থাকছ? কোন অপরাধের সাজা তুমি আমায় এভাবে দিচ্ছ?!!!
-‘ মায়া নিশ্চুপ…..
~আচ্ছা, যাও তোমার কিচ্ছু বলতে হবে না।

মায়াকে ছেড়ে দিয়ে সিয়াম কথা’টা বলল।
তারপর ওখান থেকে চলে গেল। মায়া জল চলছল চোখে সিয়ামের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। একটু পর’ই সিয়াম বার্তা পাঠালো মায়াকে_
” মায়া! আজকে আমায় একটু বাইরে যেতে হবে দরকারি কাজে। তোমাকেও আমার সাথে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।”

-‘ মায়া নিঃশব্দে রেডি হয়ে বসে রইল ওর চেম্বারে…
একটু পর’ই সিয়াম মায়ার চেম্বারে এসে বলল,
চলো….
সিয়াম আগে আগে যাচ্ছে,
মায়া সিয়ামের পিছুপিছু যাচ্ছে….
~কি হলো? হাঁটছ না কেন?
★মায়া ঘুমে দুলুদুলু….
~মায়া! তোমার কি খুব ঘুম পাচ্ছে?
★হুম….
~দাঁড়াও,তাইলে হাঁটতে হবে না। কথাটা বলেই সিয়াম মায়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে…
মায়া ঘুম ঘুম চোখে’ই বলল,
কি করছেন?
এদিকে আসছেন কেন?!!
সিয়াম মায়াকে কোলে নিতে নিতে বলল,
ঘুম পাচ্ছে তো তোমার। তাই কোলে নিলাম….
– মায়া ঘুম ঘুম চোখে’ই বলল, ছাড়েন! প্লিজ, নামিয়ে দিন আমায়….
সিয়াম গাড়ির কাছে চলে গেল। মায়াকে আস্তে করে নামিয়ে গাড়ির দরজাটা খুলে ওকে ভেতরে বসিয়ে, সিয়ামও উঠে পরল। গাড়ি গিয়ে একটা পার্কের সামনে থামল। সিয়াম আর মায়াকে ডাকে নি। মায়াকে ঐভাবেই রেখে সাইমাকে ফোন করল। কাছেই সাইমার বাসা ছিল, তাই আসতে দেরী হয়নি। সাইমা ১০মিনিটের ভিতর চলে আসে। সাইমাকে মায়ার পাশে বসিয়ে সিয়াম ক্ষাণিকটা দুরেই লিজার সাথে কথা বলতে যায়। লিজা গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে….
~হ্যাঁলো ম্যাম…..
★Hi! সিয়াম…
কেমন আছিস?!!!
~ আল্লাহ রাখছে….
তুই?!!!
★সেটা কেমন কথা?
আল্লাহ রাখছে মানে?!!!
~সে কিছু না…
তুই না কি বলবি….?!!!
★সিয়াম!
তোর শরীর খারাপ?
তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
চোখের নিচে কালো দাগ?!!!
সেটা কবে থেকে হলো?!!!
~ সে কিছু না।
আচ্ছা, তুই জানি কি বলবি?
★ হঠাৎ করে নাটকীয় ভঙিতে লিজা সিয়ামের হাতটা চেপে ধরল।
– তারপর কান্না করে দিল।
সিয়াম তো অবাক….
একি?!!!
এসব কি করছে লিজা…
আর ও কি বলতে চাচ্ছে?!!!
সিয়াম জোর করে হাতটা ছাড়িয়ে বলল,
-এই বোকা মেয়ে?!!!
তোর কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন? লিজা আবারো সিয়ামের হাত চেপে ধরে কান্না শুরু করে দিল। সিয়াম হা করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর__
লিজা নিজে নিজেই হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চোখের জল মুছল। তারপর বলল,
আমার একটা কথা রাখবি?
★হুম,বল কি কথা?
~আগে বল রাখবি….
★তুই আগে আমায় ছুঁয়ে প্রমিজ কর কথাটা রাখবি…
~আগে, বল না….
★না, তুই আগে প্রমিজ কর আমায় ছুঁয়ে…..
~ওকে, প্রমিজ করলাম তুই যা বলবি সাধ্যের মধ্যে হলে তা করব। এবার হলো তো?
★ হুম…
~এবার বলে ফেল….
★………
~কি হলো বল…..
★………
~এই মেয়ে! হলোটা কি? বল…..
————————————

★সিয়াম! আমি একজনকে ভালোবাসি….. খুউব ভালোবাসি। প্লিজ, তুই আমাদের বিয়েটা ভেঙে দে। কারন, ওকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না। কাউকে না….
~ এই কথা’টা তুই…….
★পুরো কথা বলতে পারল না সিয়াম। তার আগেই লিজা আচমকা সিয়ামের পায়ে গিয়ে ধরল। সিয়াম চমকে গেল….
এসব কি করছিস?
উঠ, উঠ…..
ছাড় পা……
– না আমি ছাড়ব না পা। আগে বল, তুই আমার কথা’টা রাখবি…. আমার আতিককে আমার থেকে কেড়ে নিবি না?(আতিক নাম শুনে এবং পিছনে আতিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সিয়াম চমকে উঠল।মনে পড়ে গেল, ঐ সেই লিজা! যার ছবি আতিক ওকে দেখিয়েছে।এই সেই মেয়ে!যার সাথে বন্ধু আতিক রাতের পর রাত কথা বলত।]
~তুই আগে পা ছাড়, তারপর বলছি…..
★লিজা পা ছেড়ে দিল। ওকে মাটি থেকে উঠালো সিয়াম। এখনো বেচারির গাল গড়িয়ে অশ্রু পরছে। পকেট থেকে রুমাল বের করে দিয়ে সিয়াম বলল__

যা কাঁদছিস, এটুকু’ই এনাফ। আর কাঁদিস না…
এই নে রুমাল। চোখ’টা মুছে নে। সব লবন যদি এখন’ই শেষ করে ফেলিছ, তাহলে বিয়ের পর ঘাটতি হতে পারে। তাই এখন থেকে’ই সাশ্রয়ী কর….
আর বিয়ে করার কথা বলছিস না?
বিয়ে আমি করব,
তবে তোকে নয়, আমার মায়া পরিকে….
★তোর মায়া পরি মানে?!!!
~সে পরে বলা যাবে। আগে তো তোর আতিক’কে শান্ত কর….
আমার পায়ে ধরেছিস ওর জন্য, এটা দেখে ও চলে গেছে….
★তুই আতিককে চিনিস?
~লিজা! তোকে আমি সাত বছর ধরে চিনি….
★মানে?!!! তুই তো কেবলি আমায় দেখলি। সেই শৈশব কালের পর তুই তো আজ’ই প্রথম আমায় দেখলি…?!!তাহলে ৭বছর ধরে মানে…
~মানে বুঝতে পারছিস না?!!!
সিয়াম পকেট থেকে ওর ফোনটা বের করে ওর আর আতিকের অনেকগুলো ছবি দেখালো। লাস্ট একটা ছবি দেখালো যেটাতে আতিকের সাথে লিজা দাঁড়িয়ে আছে।
লিজা চোখ বড় বড় করে বলল,
তুই আতিককে…
★সিয়াম মাথা নেড়ে বলল, জি, আমি আতিককে চিনি। আর ও আমার একমাত্র বন্ধ।বেস্ট ফ্রেন্ড। আতিক তোর ছবি আমায় দেখায়। প্রতিদিন আমি তোকে দেখি। ওর ফোনে দেখি। ও যখন চুমু খায়, তখন দেখি, ও যখন তোর ছবিতে হাত বোলায় তখনও দেখতাম। ও যখন তোর দেওয়া কষ্টের পর তোর ছবি বুকে নিয়ে ঘুমাতো, তখনও তোকে দেখতাম।বকা দিতাম। কিন্তু কে জানত ঐ বজ্জাত মেয়েটাই তুই….😊
★ঐ কি বললি তুই…(?)…
আমি বজ্জাত?!!!
~না, তুমি লক্ষ্মী মেয়ে!
এবার যাও তোমার আতিকের রাগ ভাঙাও ভালোবাসা দিয়ে….😊😊
~ওহ, আমি আসিরে….
★আচ্ছা, যা। বিয়ের দিন কথা হবে।
~ঐ কি বলছিস?😎😎
★ঐ কান ছাড়, আমি ব্যথা পাচ্ছি…
~তাহলে বিয়ের দিন দেখা হবে বললি কেন?
★আরে বাবা মজা করলাম….
~ওকে, আমি আসি। ঐ হাদারামটাকে ধরি গিয়ে আগে….
★ওকে, অল দ্যা বেস্ট….

লিজার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। তাড়াতাড়ি গাড়ি যেখানে আছে সেখানে গেলাম।
কিন্তু একি?!!!
গাড়ি কোথায়?!!!
আর মায়া?!!!
সাইমা’ই বা গেল কই?!!!
মাথার মধ্যে যেন আকাশ ভেঙে পরল। তাড়াতাড়ি সাইমাকে কল দিলাম…
– হ্যালো…..
★রাখ তোর হ্যালো….
তোরা গাড়ি নিয়ে কই গেছিস?
~ স্যরি, ভাইয়া! তোকে না জানিয়েই চলে এলাম….
আসলে মায়া জেগে থাকলে কখনো আমার শ্বশুরবাড়িতে আসতে চাইত না, তাই ঘুমের মধ্যেই ওকে নিয়ে এলাম….
রাগ করিস না, প্লিজ…..
★সিয়াম একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল….
~ভাইয়া, তোর এই দীর্ঘশ্বাসের কারন কিন্তু আমি জানি…..
★কি জা….নো…স…???
তোতলাতে তোতলাতে সিয়াম প্রশ্ন করল….
~মায়া……..
★কি?!!!!
~মায়া……….
★স্যরি…কি বলছিস?
বুঝিনি। আবার বল….
~মায়া……
★ওহ, হ্যালো,
হ্যালো,
হ্যালো…..
সাইমা নেট প্রবলেমে কিছু’ই বুঝা যাচ্ছে না, আমি রাখি এখন… (কান থেকে ফোনটা দুরে নিয়ে)😊😊😊
~ফাইজলামি হচ্ছে?
মায়া ছাড়া অন্য কথার বেলায় নেট ফুল, আর মায়া বললে নেট প্রবলেম, তাই নাহ?!!!😐😐😐
★হ্যালো,
হ্যালো, হ্যালো….(মুখে ঠাপাতে ঠাপাতে সিয়াম বলছে)☺☺
~ঐ ব্যাটা কল রাখ…..
এত নেট প্রবলেম নিয়ে কথা বলতে হবে না…..😜😜
★আচ্ছা…
এই শুন না। আমি কি আসব তোর শ্বশুরবাড়িতে?!!!☺
~হ্যালো, কি বলছিস ভাইয়া…
★বলছি, আমি কি আসব তোর জামাইয়ের বাড়িতে…😒😒
~হ্যালো, ভাইয়া।
কোথায় আসবি বলছিস?🙊🙊
★আরে বাববা শুনতে পাচ্ছিস না?!!! আমি তোর শ্বশুরবাড়িতে আসার কথা বলছি….😞😞
~কোথায়? হ্যালো, কোথায়।
ভাইয়া, নেট’টা খুব জ্বালাচ্ছেরে… আবার বল…😉😉
★আরে বইন, আমি তোর শ্বশুরবাড়ি আসতে চাচ্ছি।😆😆
~কি, বলছিস?
হ্যালো…
কিচ্ছু শুনা যাচ্ছে না। জোরে বল…
নেট কেমন যেন করছে….😊😊😊
★ সাইমা….
তুই কিন্তু খুব ফাজলামু করছিস….😎
সত্যি কি নেট প্রবলেম নাকি এটা শোধ…👿
~Omg! শোধ হবে কেন ভাইয়া….🙊
নেট তো সত্যি’ই স্লু…
আচ্ছা,তুই বাসায় চলে যা।
ওখানে গিয়ে কল দিস।☺
নেট ফুল পাবি তখন….

চলবে…..

বসের সাথে প্রেম পর্ব- ১৪

বসের সাথে প্রেম
পর্ব- ১৪

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ছেলেটির ডায়েরী_
শার্ট পেয়ে কিছুটা কনফিউশনে থাকলেও প্রকাশ করিনি মায়া’কে। রাত্রে খেয়ে আসার পর শার্ট’টা গায়ে দিলাম।হঠাৎ’ই গলার কাছের বড় ছাপ’টার দিকে চোখ যায়। মনে হয়ে যায় দুপুরে ওর মার্কেটে যাওয়ার কথা। মুহূর্তেই সব ক্লিয়ার হয়ে গেল। সেদিন রাত্রে ঘুমানোর আগে ওকে দেখে আসার জন্য ওর রুমের জানালা দিয়ে তাকাইলাম। তারপর যা দেখলাম তাতে আমি পুরো ‘থ’। মায়া একটা শার্ট ঝাপটে ধরে শুয়ে আছে। চোরকে হাতেনাতে ধরার জন্য দরজায় নক করতে গেলাম। কিন্তু একি!!!
দরজা যে খুলে গেল…
তবে কি ও দরজা খুলা রেখেই ঘুমিয়েছিল?!!!
যাক….
দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম। তারপর শার্ট’টা ধরে টান দিলাম। ওর কোনো সাড়া নেই। ওহ, ওনি তাহলে শার্ট বুকে নিয়েই ঘুমিয়ে পরেছিল?!!!
মনে মনে রাগ হচ্ছিল ভিষণ,
এত ভালোবাসে তবুও বলেনি না, সেই জন্য।
সে রাতে আমি ওর রুমের সোফায় বসে ছিলাম।
মাঝরাত্রে ওর ঘুম ভেঙে যায়। চমকে উঠে ও আমায় দেখে। তারপর কাছে যাওয়া, হাত ধরা, এক সাথে বিছানায় হুমড়ি খেয়ে পরে যাওয়া অনেক কিছু’ই হয়। সবশেষে ও আমায় ঘুমানোর কথা বলে। বলে যে__
“ঘুমাবেন না?”
প্রতিউত্তরে আমি বলেছিলাম, ঘুমাবো।
আমি ঘুমাবো ওর রুমে, ওর বুকে। ও থমকে গিয়েছিল সেদিন। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে ফিরে তাকিয়েছিল।
তারপর আমাদের দু’জনের মধ্যে যা কথা হয়_
~এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?(আমি)
★……..(….)…..(মায়া)
~চলো, ঘুমাতে যায়।সারারাত একটুও চোখের পাতা এক করতে পারিনি (আমি)
★ভাইয়া, আপনি সারারাত এখানে বসে ছিলেন?(মায়া)
~জি, এখন চলো তো। ঘুমাবো….😊😊(ওকে টান দিয়ে বুকের কাছে এনে আমি)
★আমি শরীর’টা বেশী ভালো লাগছে না, আমি মায়ের সাথে ঘুমাবো।😒😒(কাঁপা কন্ঠে মায়া)
~ এত রাত্রে আম্মুকে পাইবা কই? আর তাছাড়া ওনি এখন ঘুমিয়ে আছেন।(আমি)
★আমার শরীর’টা বেশী ভালো লাগছে না। আমি ঘুমাবো। অন্য রুমে গিয়ে ঘুমাবো।প্লিজ ছাড়েন আমায়.. (ছাড়ানোর চেষ্টা মায়া)
~ছাড়ার জন্য তো ধরিনি মায়া পরি! ওকে টান দিয়ে আরো কাছে নিয়ে এলাম। তারপর ওর ঘাড়ের এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত হাত দিয়ে রেখা টেনে নিচ্ছি। ও চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। ওর ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে গেলাম। ও ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেওয়া শুরু করে দিল। যেহেতু আমার বুকের সাথে ও মিশে ছিল, তাই ওর প্রতিটা নিশ্বাসের শব্দ আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। আর কম্পনগুলোও যেন মনে হচ্ছিল আমি গুনতে পারব। ওর নিঃশ্বাস ক্রমাগত বেড়ে’ই চলছে, আর আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। ক্ষাণিকবাদেই ও চোখ খুলে….
~কি?!!! ভয় পেয়েছ???
★…….(মায়া)
~আচ্ছা, চলো। ঘুমাই এখন। ওকে নিয়ে বিছানায় বসাইলাম। তারপর বালিশ’টা ঠিক করে ওকে জোর করে শুইয়ে দিলাম। তারপর জানালাগুলো ভালো ভাবে আটকিয়ে, রুমের লাইট’টা নিভিয়ে দিলাম। ও স্তব্ধ হয়ে আছে। কোনো কথায় বলেনি। কিছুক্ষণ পর_
‘ আমি কিন্তু বালিশ আনিনি, তোমাকেই বালিশ বানিয়ে ঘুমাবো কিন্তু আজকে….’
★মায়া নিশ্চুপ। আমি আবারো বললাম, আজ কিন্তু তুমি আমার বালিশ…
~নিশ্চুপ মায়া….
★এবার ওর চোখে মোবাইলের আলো ফেললাম। একি?!!! ও যে কান্না করছে, আর ভয়ে কুকড়ে আছে….
ঐ কান্না করছ কেন?
ও কেঁদেই চলেছে। যতই বলি, কান্নার মাত্রা’টা যেন তত’ই বেড়ে যাচ্ছে…..
~ওহ, ভয় পাচ্ছ?!!!🙊
যাও। শুইব না তোমার বুকে… 😒তুমি আমায় জায়গা দাও। আমি ঘুমাবো বালিশে…😫
★যেই না কথা’টা বললাম, কান্না থামিয়ে ও লাফ দিয়ে উঠে বসল। আমি ওর বালিশে শুইলে ও লাফ দিয়েই চলে যেতে চাচ্ছিল। তখনি ওর হাত’টা ধরে ফেললাম। ও ভয়ে ভয়ে আমার দিকে তাকালো। ওকে টান দিয়ে বুকের মধ্যে নিয়ে এলাম__
~কি করছেন, এসব?(মায়া)
★করিনি, করব…😊😊
~ও কাঁপা কন্ঠে বলল, কি?
★অনেক কিছু।☺☺
~আমার কথা শুনে এবার আর ও ভয় পেল না। স্ট্রংলি জবাব দিল,
করেন… তাড়াতাড়ি করা শুরু করেন। তারপর আমি ঘুমাবো।
★ এই!!!😒 তুমি আমায় কি ভাবো বলো’তো?!!🙊
আমি লুইচ্ছা, ইতর, বদমাইশ..???🙈🙈
আমাকে কি তোমার তাই মনে হয়?!!!😞😞
এটুকু’ই চিনলা তুমি আমাকে?!!!😖😖
যাক!!!
ভালোই চিনছ…👏👏
কথাগুলো বলে অভিমান করে রুম থেকে বের হয়ে চলে যায়। ও সাথে সাথে দরজা আটকিয়ে দিল।

পরদিন ঘুম ভাঙে ৯টায়। তাড়াতাড়ি করে উঠে রেডি হয়ে না খেয়েই চলে গেলাম অফিসে। রাতের রাগ’টা এখনো যায়নি। ও আমায় এমন ভাবতে পারল?😒😒
আজ আর অফিসে এসে ওর খুঁজ নিলাম না। সোজা গিয়ে আমার রুমে বসে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর কি মনে করে যেন বাইরে গেলাম। বাইরে গিয়ে দেখি,মায়া নাই…
কনাকে জিজ্ঞেস করলে ও বলে, ‘মায়া আসেনি…’
ওহ, ভালো বলে রুমে চলে গেলাম। খুব ঘুম পাচ্ছিল। কনাকে বললাম, আমাকে যাতে তিনটার আগে ডাক না দেই। যদি আমার বাবাও আসে তাতেও যেন ডাক না দেয়…”
ঘুমিয়ে পরলাম….
ঘুম ভাঙে বাইরে কারো তর্কাতর্কির আওয়াজে। বিরক্তি নিয়ে চোখ মেলে তাকালাম। কনাকে ডাক দিয়ে জানতে চাইলাম কি হয়েছে?!!!
কনা মায়ার কথা বলল।
বলল যে, মায়াকে না করা সত্ত্বেও নাকি ও আমায় ডাকতেছিল।
আমি জোর গলায় বললাম_
কনা! মিস মায়াকে বলে দিন আমি এখন ঘুমোব…
মায়া কিছুতেই কনার কথা শুনতে রাজি নয়। ও কোর করেই রুমে ঢুকল। তারপর আমার কাছে এসে__
ভাইয়া! আপনার খাবার….
চোখ তুলে তাকালাম ওর দিকে। তারপর….
” আপনাকে মানা করেছি, তারপরও চলে এসেছেন?আর কিসের খাবার?!!!😎”
★ভাইয়া! আপনি খেয়ে আসেন নি, তাই নিয়ে এসেছি….
~রাখেন আপনার খাওয়া। আমি আপনাকে মানা করার পরও আপনি রুমে ঢুকে গেলেন? কোথায় পেলেন এত স্পর্ধা? অফিসের নিয়ম কানুন কি কিচ্ছু মানবেন না বলে ঠিক করছেন আপনি?
★ভাইয়া! আমি তো আপনার….(……..)….
~স্টুপিড! আর কোনো কথা বলবেন না। আর এটা অফিস, বাসা নয়। এখানে সবাইকে রেসপক্ট দিয়ে চলবেন। কনা আপনার সিনিয়র, ওকে আপু ডাকবেন, আপু। আর আমি আপনার স্যার…
আজ থেকে স্যার ডাকার চেষ্টা করবেন। আর পি.এ পি.এ হয়েই থাকবেন। কারো পার্সোনাল মেটার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন না।😎
★ওকে, স্যার….😞
~Ohh, hlw!
কোথায় যাচ্ছেন ওকে বলে। বক্সটা নিয়ে যান। এটা ফেলে যাচ্ছেন কেন?
★স্যার, আপনার খাবার…
আপনি দুপুরে খাননি মনে হয়, সকালেও না খেয়ে এসেছেন।তাই বাসা থেকে আমি …….
~আমি বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে খেয়ে নিব। আপনি খাবারগুলো নিয়ে যান এখান থেকে।
★স্যার, আপনি বাইরে থেকে খাবেন কেন? আমি’তো নিজ হাতে…….
~’ এনাফ!
অনেক হয়েছে। এবার যান এখান থেকে….
আমায় একটু একা থাকতে দিন।
★স্যার, স্যরি। কালকে আমি ঐভাবে বলতে চাইনি আপনাকে। আমি জাস্ট একটু মজা করছিলাম….
~মায়া! আমাদের সম্পর্ক’টা মজার ছিল না। তোমার মনে রাখা উচিৎ ছিল তুমি আমার বোনের বান্ধবি, আর আমি তার’ই ভাই….
★স্যার, আপনি আমার সাথে রাগ….. (…)…..
~এনাফ! আর এগুবে না! আশা করি তোমার অবস্থান’টা বুঝে গেছ। এখন রুম থেকে চলে যাও..
★নিশ্চুপ হয়ে মায়া মাথা নিচু করে রুম থেকে চলে গেল বক্স নিয়ে।

মেয়েটির ডায়েরী_
সামান্য কারনে ওনি এতটা রেগে যাবেন বুঝতে পারিনি। আর রেগে গিয়ে ওনি আমায় এত কথা শুনিয়ে দিবেন ভাবতেও পারিনি। যাক!!!
ভালো’ই হয়ছে।
আমার অবস্থানটা চিনিয়ে দিলেন ওনি। বুঝিয়ে দিলেন, আমার জন্য ওনি নয়…
২দিন ধরে ওনার সাথে কথা হয়না। কথা হয় না বলতে, আমি’ই কথা বলি না। কেন জানি, কথা বলার সাহস পাইনি….
২দিন পর_
প্রচন্ড জ্বর আর মাথা ব্যথায় মরে যাচ্ছি। কিছুতেই চোখ খুলতে পারছি না। ইচ্ছে হচ্ছে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলি। মাথা ব্যথার এত যন্ত্রনা সেটা না হলে বুঝতে পারতাম না। তখন ছিল মাঝরাত। উঠে গিয়ে যে ঔষধ খাবো সে সাহসটুকুও পাচ্ছি না।
চোখ বন্ধ করে বিলাপ করছি। হঠাৎ’ই কপালে কারো উষ্ম পরশ টের পাচ্ছি। মনে হচ্ছে, কেউ কপালে হাত রাখছে। চোখ না মেলে’ই বলে দিতে পারি এ হাতের পরশ কার…?!!!
এ সিয়াম স্যারের। গত দু’রাত ভরেই ওনার এই পরশটা পায়। তখন হয়তো আধঘুমে থাকি, কিন্তু ওনার উপস্থিতি আমি ঠিক টের পায়। চোখ বন্ধ করে গন্ধ শুকেই বলে দিতে পারি এ আমার বস। আমার স্যার। সিয়াম স্যার। আজকে ওনি আমার কপালে মলম দিয়ে মালিশ করে দিয়েছে। আমার কপালে চুমুও খেয়েছে। যাওয়ার সময় কান্না করে বলেও গেছে__
আমি স্যরি মায়া পরি। আমি আসলে তোমায় রাগানোর জন্য এমন করছি সেদিন। তুমি এতটা কষ্ট পাবে বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারিনি ভুল বুঝে দুরে সরে যাবে। আমাকে এত বড় সাজা হবে। কষ্ট দিবে নিজেকে….
আমায় মাফ করে দিও মায়া পরি….!!!
কথা’টা বলে ওনি চলে যাচ্ছিল। ঘোরের মধ্যেই ওনার হাতটা টেনে ধরি। জ্বরের ঘোরেই সেদিন ওনাকে মনের না বলা কথা গুলো বলে দেই…
ওনি আবেগে আমায় জড়িয়ে ধরেছিলেন। কেঁদেছিলেন খুব…..
সেদিন ওনার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলাম। সেদিন থেকেই শুরু হয় প্রেম। বসের সাথে প্রেম। ওনাকে কখনো আর ভাইয়া বলে ডাকিনি। এই জন্য রাগারাগি করলেও ডাকিনি ভাইয়া বলে। স্যার বলেই ডাকতাম, এই ডাকের মধ্যেই ভালো লাগা খুঁজে পেতাম।
খুঁজে পেতাম ওনার প্রতি শ্রদ্ধা…. সারাদিন অফিসে চোখাচোখি, বাকিটা সময় বাসায়। কখনো বাসায় অভিমান, অফিসে চোখাচোখি। কাজের চ্ছলে ওনি আমায় ডেকে নিতেন, কখনো বা ফাইল আদান-প্রধানের সময় একটু খানি স্পর্শ। এটুকুই….
আধুনিক প্রেমের মত আমরা কখনো একে অপরকে কিস কিংবা অন্য কিছু করিনি। যদিও আমরা একই ছাদের নিচে থাকতাম। আমাদের প্রেমটা ছিল চোখে চোখে। অনেকে আবার বলবে, আমাদের প্রেমটা বড্ড সেকেলে। আবার অনেকে বা বলবে একে কি প্রেম বলে?!!!
আমি বলব এটাই প্রেম।
এটাই ভালোবাসা।
পবিত্র ভালোবাসা।
আমরা একই ছাদের তলায় থাকলেও আমাদের ছিল লোকলজ্জা, ছিল আল্লাহ ভয়। আমরা মানতাম, প্রেম কেবলি পবিত্র বন্ধন।
আধুনিকতার নামে আমরা প্রেমকে অপবিত্র করিনি।
হোক না চোখে চোখে কথা…
ক্ষতি কি?!!!
আমরা তো একে অপরের আছি’ই….

সবমিলিয়ে সুখেই চলছিল আমাদের দিনগুলো…
কিন্তু সেই সুখ আর বেশীদিন আমার কপালে সইলো না। একদিন__
~সিড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় লক্ষ্য করলাম আব্বু-আম্মু(আংকেল ও আন্টি)
ড্রয়িংরুমে বিয়ে নিয়ে কি যেন বলছিল। মাঝ সিড়িতে দাঁড়িয়ে কান পেতে রই।
শুনতে পেলাম__
আন্টি:- যায় বলো! তোমার কিন্তু সিয়ামের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলার দরকার। ওর নিজেরও তো পছন্দ থাকতে পারে…
আংকেল:- ওকে জিজ্ঞেস করার কিছুই নাই। সিয়ামের প্রতি আমার এ বিশ্বাস আছে, ও আর যায় হোক আমার কথার অমান্য হবে না। আর তাছাড়া আশরাফের মেয়ের মত এমন সুন্দরী-সুশ্রী,শিক্ষিত মেয়ে ও কোথায় পাবে? এটাই ফাইনাল…
ও বিয়ে করলে ঐ মেয়েকেই করতে হবে….
আন্টি:- বিশ্বাসের মর্যাদা যাতে টিকে থাকে…
আংকেল:- টিকে থাকে মানে? ওকে বিয়ে করতেই হবে। আর ঐ মেয়েকেই…
আমার দৃঢ বিশ্বাস আমাকে ও ছোট করবে না…..
আন্টি:- যদি অন্য কাউকে ভালোবেসে থাকে…???
তখন?!!!
আংকেল:- ঐসব ভালোবাসা’টাসা আমি বরদাস্ত করব না। আমার পছন্দ’ই পছন্দ। তবুও যদি ও আমার কথার বাহিরে যায় তাহলে ওকে ভুলে যেতে বলিও আমায়। বলে দিও, সেদিন থেকে আমি ওর জন্য মৃত থাকবো।
আন্টি:- এসব কি বলছ? চুপ করো…
ও রাজি হবে…..
আর মেয়ে তো আজকে আসবে। ও দেখে নিক…
আংকেল:- তাই যেন হয়…
——–+++++++++++++++++++————
আর নিতে পারছিলাম না…
মাঝ সিড়ি থেকেই দৌঁড়ে উপরে উঠে গেলাম। উপরেই সিয়াম স্যার দাঁড়িয়ে ছিল।ওনিও হয়তো এতক্ষণে সব শুনে গেছে। তাই আমার কান্নাভেঁজা চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে চেয়েছিল। ওনাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দৌঁড়ে কান্না করতে করতে রুমে চলে গেলাম।

মায়া রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিয়েছে।সিয়াম মায়ার পিছুপিছু দৌঁড়ে গিয়েছিল।সিয়াম দরজায় নক করছে, আর মায়া!!!
ভিতরে দরজায় হেলান দিয়ে কান্না করছে….

[সামনেই আসছে দারুণ পর্ব…মহা পর্ব]আর নিতে পারছিলাম না…
মাঝ সিড়ি থেকেই দৌঁড়ে উপরে উঠে গেলাম। উপরেই সিয়াম স্যার দাঁড়িয়ে ছিল।ওনিও হয়তো এতক্ষণে সব শুনে গেছে। তাই আমার কান্নাভেঁজা চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে চেয়েছিল। ওনাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দৌঁড়ে কান্না করতে করতে রুমে চলে গেলাম।

মায়া রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিয়েছে।সিয়াম মায়ার পিছুপিছু দৌঁড়ে গিয়েছিল।সিয়াম দরজায় নক করছে, আর মায়া!!!
দরজার ওপাশে হেলান দিয়ে কান্না করছে….

[সামনেই আসছে দারুণ পর্ব…মহা পর্ব]

চলবে………

বসের সাথে প্রেম পর্ব-১৩

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১৩

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

এই মেয়ে এই দাঁড়াও….
উপস্থিত সকলে সিয়ামের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে, মায়াও হা করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে। শুধু সাইমা মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর প্রাণের বান্ধবির সাথে ওর ভাইয়ার এ হেন আচরণ দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে ও।
~ও হ্যালো! কি বলছি?
কথা কি কানে গেছে?!!! সিয়াম মায়াকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলছে। মায়া আসছি বলে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে সিয়ামের দিকে। এদিকে সাইমার এটা সহ্য হচ্ছে না। মায়া যখন সিয়ামের শার্ট’টা পরিষ্কার করার জন্য ওর পাশে গিয়ে বসল, ঠিক তখনই সাইমা দৌঁড়ে গিয়ে মায়াকে বসা থেকে উঠিয়ে ফেলে।
-‘ একদম তুই এসব করবি না….(সাইমা)
~’ কিন্তু ওনার তো শার্টে…..(মায়া)
-‘ থাকুক লেগে, তাতে তোর কি? তোর কি ইচ্ছে করে ফেলছিস নাকি???😎(সাইমা)
* মানলাম ও ইচ্ছে করে ফেলে দেয়নি, কিন্তু যেভাবেই হোক ওর হাত থেকে তো পরেছে। যেহেতু ওর হাত থেকে পরে শার্ট’টা নষ্ট হয়েছে সেহেতু এটা ও পরিষ্কার করে দিবে..☺(সিয়াম)
★ভাইয়া, অসাবধানতায় হাত থেকে পরে গেছে, এতে মায়ার কোনো দোষ নেই। আর তাছাড়া বাসায় কাজের লোক থাকতে ও পরিষ্কার করবে কেন? 😫(সাইমা)
* ও পরিষ্কার করবে কারন যেভাবেই হোক এটা ওর হাত থেকে পরেছে…😜(সিয়াম)
★না, ও পরিষ্কার করবে না….😎(সাইমা)
*ওকেই করতে হবে…(সিয়াম)
★ও করবে না। 😰(সাইমা)
* ও করবে, করতে বাধ্য….😂(সিয়াম)
★বললাম তো ও করবে না।👿(সাইমা)
* ও করবে…..
করতেই হবে……(সিয়াম)
★তোর সাথে আজাইরা ঝগড়া করার মত এনার্জি আমার নেই। মায়া চলতো….

মায়া ওর হাতটা ছাড়িয়ে নিল সাইমার হাত থেকে….
~`মায়া, কি হলো?😱(সাইমা)
★ আমি ভাইয়ার শার্ট’টা নষ্ট করে দিলাম। আমার মনে হয় শার্ট’টা পরিষ্কার করাটা আমার অবশ্য করনীয়…(মাথ নিচু করে মায়া)
~`মানে কি? তুই..(…?..)…(সাইমা)
★হুম, আমি পরিষ্কার করব…..
ভাইয়া দিন। আমার পাশে গিয়ে বসে হাত বাড়িয়ে কথা’টা বলল। আমি তো হতবাক। এ হাত বাড়িয়ে আবার কি চাচ্ছে….
জিজ্ঞেস করলাম-
কি দিব?!!!
উত্তরে বলল- শার্ট’টা…
★মানে কি? আমি তোমাকে গায়ে থেকে শার্ট খুলে দিব?🙊🙊
~`হুম, দিবেন….
★ না, না আমি পারব না।☺☺
~`কেন পারবেন না`? আর না পারলেও পারতে হবে।
★ এই!! ছেলে বলে আমাদের কি লজ্জা নেই?😒… লজ্জা শুধু নারীদের’ই আছে নাকি?!!!😊
~আপনি না একটু বেশী’ই কথা বলেন ভাইয়া….
★ কম কথা বললে যে চলে না। ভেবে দেখছি কম কথা বললে আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমার বাবা মা কে নাতি-নাতনীর মুখ দেখাতে হলে বেশী কথা আমার বলতেই হবে…।না হলে এগিয়ে যেতে পারছি না সামনে। ☺☺
~`……..
★………..???
~`আচ্ছা, দিতে হবে না…
★দিতে হবে না এটা তো আমি বলিনি। এত বেশী বুঝ কেন?
~আমি তাহলে কি করতে পারি আপনার জন্য,স্যার?আমার সাথে আসো, বলছি কি করতে হবে….
~ঠিক আছে বলে মায়া সিয়ামের পিছু পিছু চলছে…

যেতে যেতে সিয়ামের পিছু পিছু সিয়ামের রুমের সামনে গিয়ে হাজির হলো মায়া…
-‘ কি হলো? এখানে এসে আটকে গেলে যে? ভিতরে এসো….
★না, মানে আপনি….
-‘ এবার তো অনুমতি দিলাম আসো….
মায়া আমার কথায় মাথা নিচু করে আমার রুমে আসলো।
তারপর গায়ের শার্ট’টা খুলে মায়া যেখানে বসে আছে সেখানে এগিয়ে গেলাম। পাগলী আমার লজ্জায় আমার দিকে তাকাতে পারছে না। ওর হাতে শার্ট’টা দিয়ে বললাম, এই নাও! এই শার্ট ধূয়ে দিবা….
মাথা নিচু করে কি যেন বলে সেখান থেকে দৌঁড়ে পালালো মায়া….
দু’দিন পর অফিসে যাওয়ার প্রাক্কালে মায়া’কে ডেকে প্রশ্ন করলাম-
শার্ট’টা শুকিয়েছে কি না?
গত দু’দিন ধরে শুধু একটা কথায় বলে আসছ, শার্ট শুকাইনি। আজ নিশ্চয় বলতে পারবা না শুকাইনি…
কি?!!!
শুকাইতে পারছ তো শার্ট?
★ভাইয়া…
~জি, ভাইয়া বলো….
★আসলে শার্ট’টা এখনো ধুইনি, আজকে ধূয়ে দিব, কালকে শার্টটা আপনাকে দিয়ে দিব….
~`মানে? শার্ট না ধূয়েই তুমি এতদিন আমার সাথে মিথ্যে কথা বলে আসছ? তুমি মিথ্যে কথা বলতে পারলে আমার সাথে..???
অবাক লাগছে তুমিও মিথ্যে কথা বলতে পারলে?!!!
★স্যরি,ভাইয়া….
~`কিছু না বলে চুপ করে অফিসে চলে গেলাম। এদিকে দুপুর হয়ে আসছে, মায়া এখনো অফিসে এসে আমার সাথে দেখা করেনি একবারও…
ও কি অফিসে আদৌ আসছে? দেখার জন্য ও যেখানে বসে সেখানটাই আসলাম। এসে দেখি, ওর আসন শূন্য পরে আছে। কনার থেকে জানতে পারলাম,
ও অফিসে আসছিল।
কিন্তু বিশেষ দরকারে আবার চলেও গেছে….
বাসায় ফোন দিয়ে জানতে পারলাম ও বাসায় নেই….
বাসায়ও যায়নি, অফিসেওও নেই…
তার মানে ও কি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছে? আচ্ছা, ও ঐ পার্কে যায় নি তো?
ছুটে চললাম ঐ পার্কের দিকে। পার্কে গিয়েও ওকে পেলাম। এবার ভিতরটা কেমন যেন লাগছে। গাড়িতে উঠে বাসার ড্রাইভারকে ফোন দিলাম। ড্রাইভার কোথায় আছে জিজ্ঞেস করতেই বলল, স্যার! আমি তো এখন মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি…
-‘ মার্কেটের সামনে মানে? কিসের জন্য গিয়েছিস?
★স্যার, মায়া আপুমণির নাকি কিছু কেনাকাটা দরকার আর্জেন্ট। তাই ওকে নিয়ে আসছি…
-‘ ড্রাইভারের থেকে মার্কেটের নামটা জেনে ছুটে চললাম সেখানে। ১৫মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হলাম সেখানে।
ড্রাইভারের কথা মত উপরের তলায় গিয়ে গেলাম। ও কেনাকাটা করছে আর আমি তার ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে জিনিস দেখার নাম করে ওকে ফলো করছি….
ও কেনাকাটা করে চলে গেলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েটা কি কিনেছে? বিক্রেতা বলল, একটা শার্ট….
ক্ষাণিকটা অবাক হলাম।
ও শার্ট দিয়ে কি করবে?
রাত্রে খাওয়া-দাওয়া শেষে ও যখন মায়ের সাথে গল্প করছিল তখন ওকে ডেকে এনে বললাম,
আমার শার্ট’টা দাও। আমার শার্ট আমি’ই ধূয়ে নিতে পারব। ও দাঁড়ান এখানে আমি আসছি বলে রুমের দিকে ছুটলো।
আমি আমার রুমে চলে গেলাম।কিছুক্ষণ পর আমার কাছে এসে বলল__
এই নিন ভাইয়া….
আপনার শার্ট……
শার্টের দিকে তাকিয়ে আমি অবাক। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল এ আমার দুইদিনের পুরনো শার্ট…
মনে হচ্ছে সদ্য মার্কেট থেকে কিনে আনা শার্ট….
এত সুন্দর করে কেউ শার্ট ভাজ করতে পারে ওকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না….

মেয়েটির ডায়েরী_
ওনি এখন আগের মত আমাকে আর ইগ্নোর করেন না। আর আমার সাথে একটু একটু কথাও বলেন।
যাক! আল্লাহ এতদিনে তাহলে ওনাকে সুবুদ্ধি দান করেছেন, এটা ভেবেই আল্লাহর প্রতি মনে মনে অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম।
সেদিন নববর্ষ উপলক্ষ্যে ওনি ওনার সকল বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত করেন। সাইমাও এসেছিল সেদিন শ্বশুরবাড়ি থেকে। আমাদের কলেজেরও কিছু বন্ধুরা এসেছিল সেদিন। যেহেতু অনুষ্ঠানটা রাত্রে উৎযাপন করা হবে, তাই পুরো ছাদ’টা লাল-নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়….

রাত্রে যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হলো। সবাই যখন বিভিন্নভাবে দিনটা সেলিব্রেট করছে, আমি তখন ওদের খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত। সাইমাও আমার সাথে কাজে হেল্প করছিল। সবাই নেচে-গেয়ে হইহুল্লুর করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই সাইমা আর আমি ওদের ক্লান্তভাব দুর করার জন্য একে একে সবার হাতে সরবতের গ্লাস তুলে দিচ্ছি।
সিয়াম ভাইয়ার কাছে চলে এসেছি একদম। তাই ওনাকে সরবত দেওয়ার জন্য যেই না গ্লাসটা এগিয়ে দিলাম ওনার দিকে, ওমনি ওনি আমার হাতটা ধরে ফেললেন। হয়তো ভুল নয়তো ইচ্ছে করে কাজটা ওনি করছে। আমার পুরো শরীর অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। ছেড়ে দিলাম গ্লাসটা। সাথে সাথে সেটা ওনার শরীরে ছিটকে গিয়ে পরল।

ওনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
মনে মনে ভাবছি-
একি করলাম?!!!
ওনার এত সুন্দর শার্ট’টা নষ্ট করে দিলাম?
মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে।
ইস! আরেকটু সাবধানে কাজটা করলে তো এমন হতো না। সাইমার ডাক পরল। ধীর পায়ে সাইমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
ঠিক তখন’ই ওনি পিছন থেকে ডেকে বললেন-
এই মেয়ে,এই?!!!
দাঁড়াও…..
চমকে তাকালাম পিছনে…
সেদিন ওনি আমায় ওনার গায়ে থেকে শার্ট’টা খুলে দিয়েছিলেন, সেটা ধূয়ার জন্য। অবশ্য এ নিয়ে ওরা দুই ভাই-বোন ঝগড়াও করেছে প্রচুর। সাইমার মতে,
আমি ইচ্ছে করে সিয়াম ভাইয়ার শার্ট নষ্ট করিনি, তাই আমার পরিষ্কারের প্রশ্নই উঠে না। সিয়াম ভাইয়ার ভাষ্যমতে,
ইচ্ছে করেই হোক, অনিচ্ছাকৃত ভাবেই হোক,
আমার হাত থেকে সরবতটা পরে যেহেতু ওনার শার্ট নষ্ট হয়েছে তাই পরিষ্কারও আমায়’ই করতে হবে।

সেদিন ওনার শার্ট’টা পেয়ে কি যে খুশি হয়েছিলাম বলার মত না। মনে হয়ছিল রাজ্য জয় করে ফেলেছি।
রাত্রে ঘুমানোর আগে ওনার শার্ট বুকে না জড়িয়ে নিলে ঘুম’ই হতো না।
যখন ওনার কথা মনে হতো, তখন’ই শার্ট’টা নাকের কাছে নিয়ে শুকতাম। মনে হতো যেন ওনার গায়ের চিরচেনা সেই গন্ধ পাচ্ছি। শার্ট’টা ধূতে গিয়েও ধূতে পারিনি, যদি সাবানের সাথে মিশে শার্টে লেগে থাকা ওনার গায়ের গন্ধ’টা চলে যায়?!!!
যদি ওনার গায়ের গন্ধ আর না পাই..!!!
দু’দিন শার্ট শুকানোর মিথ্যে অজুহাত দিয়ে শার্ট আটকিয়ে রাখলেও সেদিন মিথ্যে বলতে পারিনি। ওনাকে বলেছিলাম-
শার্টটা ধূয়া হয়নি।
ওনি যে এতটা রেগে যাবেন বুঝতে পারিনি।
আমার মিথ্যে বলাটা ওনি মনে হয় মানতে পারেন নি, তাই আমাকে রেখে’ই অফিসে চলে গেলেন। আমি পিছন পিছন অফিসে গেলাম। কিন্তু কাজে মন টিকছেনা। না, না! আর আটকে রাখব না ওনার শার্ট…
ম্যানেজার আংকেলকে কাজের ফাইলটা বুঝিয়ে দিয়ে ড্রাইভারকে কল দিলাম। ড্রাইভার এসে আমায় নিয়ে গেলেন। পৌঁছে গেলাম কাছের মার্কেটে। সেখান থেকে অবিকল আরেকটা শার্ট কিনলাম…
Yes, perfect match!
এটাই দিব সিয়াম ভাইয়াকে… ওনি বুঝতেও পারবে না যে এটা ওনার শার্টের মত দেখতে কিন্তু নকল শার্ট…
সেদিন রাত্রে ওনি শার্ট চাইতেই দিয়ে দিলাম। ওনি যখন শার্ট নেড়েচেড়ে দেখছিলেন, তখন আমার কলিজা’টা শুকিয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল-
এই বুঝি ধরা পরে গেলাম…
কিন্তু নাহ!!!
ধরা আমি পরিনি।
প্রতিদিনের মত সেদিন রাত্রেও ঘুমানোর আগে ওনার শার্টটা বুকে জড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ।
সেদিন খুব ক্লান্ত ছিলাম, তাই দরজা খুলা রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পরছি বুঝতে পারিনি। মাঝরাত্রে মনে হলো-
দরজাটা তো লাগানো হয়নি?!!!
তাড়াতাড়ি উঠে দরজা’টা লাগিয়ে বিছানায় উঠতেই চমকে যায়। মনে হচ্ছে-
কেউ একজন আমার রুমের সোফায় বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে লাইট’টা জ্বালালাম।
তারপর যা দেখলাম তা দেখে না চমকে পারলাম না।
সিয়াম স্যার স্যরি ভাইয়া সোফায় বসে আছে। ওনার পরনে আমার দেওয়া সেই শার্ট আর হাতে অবিকল সেই রকম আরেক’টা শার্ট…
Oh, my god!
ওনার কাছে এইরকম আরেকটা শার্ট এলো কি করে? তাহলে কি ওনার এইরকম আরো শার্ট আছে? ওনাকে কিছু না বলে তাড়াহুড়ো করে বিছানায় খুঁজতেছি ওনার সেই শার্ট’টা, যা আমি প্রতি রাত্রে বুকে নিয়ে ঘুমাই….
~’ এটাই সেই শার্ট, যা তুমি রাত্রে জাপটে ধরে ঘুমাও…কথাটা পিছন থেকে সিয়াম ভাইয়া বললেন। আমি পিছন ফিরে তাকালাম। ওনি হাসছে আর আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আর আমার বুকটা ধুরোধুরো করে কাঁপছে….
ওনি আমার দিকে এগিয়ে আসছেন, আর আমি পিছু হাটছি….
যেতে যেতে বিছানার একদম সাথে চলে যায়। ওনিও কাছে চলে আসে। আমি বিছানায় ধপাস করে বসে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলি….
~কয়দিন ধরে চলছে এসব?
অকস্মাৎ এ প্রশ্ন শুনে চোখ দুটো খুললাম। সিয়াম ভাইয়া আমার ঠিক পাশে বসেই আমায় প্রশ্নটা করছে….
বসা থেকে উঠতে যাব, তখন’ই ওনি আমার হাতটা ধরে ফেললেন। ওনার দিকে তাকালে ওনি বলেন-
আমি প্রশ্ন করছি, প্রশ্নের উত্তর দিবা….
তা না করে উঠছ কেন?!!!
না, মানে আপনার সাথে কালকে কথা হবে সকালে, এখন না… কাঁপা কন্ঠে কথাটা বলি। না, না প্রশ্নটা যেহেতু আমি এখন করছি, উত্তরটাও এখনি চাই…
আর জানো তো, আর যা বলি তাই করি।
সো, পালিয়ে লাভ নেই।
বলে ফেলো। জোর গলায় ওনি কথাটা বললেন।
-‘ ভাইয়া, প্লিজ…
দয়া করেন, এখন না।
আপনি যা বলবেন, তারই উত্তর দিব সকালে। আপনি প্লিজ এখন চলে যান। কেউ দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে…
কথাগুলো বলেই আমি বসা থেকে উঠে চলে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনি ওনি আমায় হাত ধরে টান মারলেন।
এমন জোরে টান মারলেন যে আমি ওনার উপর আর ওনি বিছানার উপর শুয়ে পরলেন….

দু’জনেই দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছি। কারো মুখে’ই কোনো কথা নেই….

এভাবে বেশকিছু ক্ষণ থাকার পর আমি যেই না উঠতে যাব, তখনি ওনি আমায় আরো জোরে জাপটে ধরে একটানে ওনার কাছে খুব কাছে নিয়ে গেলেন। আমি কিছু বলতে যাব, তখন’ই ওনি আমার মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন। একদফা টাস্কি খেলাম এটা দেখে।
আমি চুপ করে আছি….
হঠাৎ করেই ওনি আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন-
বলো! এবার বলো!!!
কথাটা ওনি এমনভাবে ফিসফিসিয়ে বললেন যে, আমার হৃদকম্পন বেড়ে গেছে নিমিশেই….
ওনি ফিসফিসিয়ে একের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছেন,আর আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছি….
পারছিলাম না আর…
এমন ভাবে কেউ কাউকে ধরে রাখে?!!!
এমন নিবিড় ভাবে ওনি আমায় জড়িয়ে আছেন যে, আমার হৃদকম্পনটা ক্রমাগত বেড়েই চলছিল….
আর ওনি আমায় এমন ভাবে জড়িয়ে ছিলেন যে, ওনার বুকের সাথে আমার বুকটা সম্পূর্ণ লেপ্টে ছিল…
নাহ! আর মনে হয় পারছি না। এবার বোধ হয় মরেই যাব….
চোখ দুটো ধীরে ধীরে খুললাম। তাকিয়ে দেখি, আমার মুখের কাছে ওনার মুখ….
একদৃষ্টিতে তাকিয়েদু’জনেই দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছি। কারো মুখে’ই কোনো কথা নেই….
এভাবে বেশকিছু ক্ষণ থাকার পর আমি যেই না উঠতে যাব, তখনি ওনি আমায় আরো জোরে জাপটে ধরে একটানে ওনার কাছে খুব কাছে নিয়ে গেলেন। আমি কিছু বলতে যাব, তখন’ই ওনি আমার মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন। একদফা টাস্কি খেলাম এটা দেখে।
আমি চুপ করে আছি….
হঠাৎ করেই ওনি আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন-
বলো! এবার বলো!!!
কথাটা ওনি এমনভাবে ফিসফিসিয়ে বললেন যে, আমার হৃদকম্পন বেড়ে গেছে নিমিশেই….
ওনি ফিসফিসিয়ে একের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছেন,আর আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছি….
পারছিলাম না আর… আছেন….
ছাড়েন বলতেই ছেড়ে দিল আমাকে….
মনে হচ্ছে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। শুয়া থেকে উঠে বসে পরলাম। বসে বসে হাফাচ্ছি।
কিছুক্ষণ পর ওনিও শুয়া থেকে উঠে আমার পাশে বসলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে আচমকা আমার হাতের উপর হাত রাখলেন।
একবার হাতের দিকে তাকিয়ে ওনার দিকে তাকালাম। ওনি তখন অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন।
মুখটা আমি’ই খুললাম__
” ঘুমাবেন না?”
ধীর কন্ঠে ওনার জবাব_
হুম, সেই জন্য’ই তো এসেছি। আমি আবারো জিজ্ঞেস করলাম__
” ঘুমাবেন না?”
ওনি আবারো আগের ভঙ্গিতে বললেন__
ঘুমাবো বলেই তো এসেছি…
~`মানে কি? ঘুমাবেন বলে এসেছেন মানে?
★ এসেছি মানে, এসেছি। আর আমি এই রুমে’ই ঘুমাবো।
~`ওহ, আচ্ছা! আপনি ঘুমান আমি যায় তাহলে….
★কোথায় যাচ্ছ? কোথাও যাবে না। এখানে আমার সাথে ঘুমোবে….(হাত ধরে সিয়াম)
~`এখানে আপনার সাথে ঘুমাবো মানে?(কাঁপা কন্ঠে মায়া)
★ মানে বুঝতে পারছ না?!!!
~`না…
★এখানে এই বিছানায় তোমার বুকে যদি শার্ট ঘুমাতে পারে, তবে আমি কেন নয়?!!! আমি কি অন্যায় করলাম যে আমাকে তোমার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা হবে? আর ঐ শার্টের মধ্যে কি এমন আছে যা আমার মধ্যে নেই….

মায়া সিয়ামের কথা শুনে বড়সড় Shocked খেল….

চলবে……

বসের সাথে প্রেম পর্ব-১২

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১২

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ফোনের ওপাশ থেকে অদ্ভুত শব্দে হাসির আওয়াজ যেন থামছেই না। ক্রমাগত বেড়েই চলছে সে আওয়াজ।
রাগে ফোন’টা রেখে দিলাম। এদিকে সিয়াম ভাইয়া’টাও কেমন গম্ভীর হয়ে গেছে। একই বাসায়, একই ছাদের নিচে থাকলেও ওনাকে কেন জানি দুরের মানুষ মনে হতো। অনেক বেশী দুরের মানুষ। ওনার এই যে এত ইগ্নোর সেটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। আর তাছাড়া ইদানিং ওনার ফোনালাপটা খুব বেশী বেড়ে গেছে। যতবার’ই কাজের জন্য কিংবা একটা না একটা বাহানায় ওনার কাছে গিয়েছি, ততবারই দেখি হেসে হেসে কথা বলছে ফোনে। কেন জানি ব্যপারটা সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছিল। আজ অফিস থেকে ফেরার পথে ইচ্ছে করেই ওনার গাড়ির সামনে গেলাম। ওনি দেখেও গাড়ি থামালেন না, আমায় একটা বারও জিজ্ঞেস করলেন না-
দাঁড়িয়ে কেন মাঝরাস্তায়?
গাড়িতে উঠ কিংবা
বললও না রাস্তার একপাশ দিয়ে যাও….
প্রচন্ড রকম হতাশা আর কষ্ট বুকে চেপে সেখান থেকে চলে আসি রিক্সা দিয়ে…
বাসায় এসে কিচ্ছু খায়নি,
কেন জানি ভেতরটা অজানা এক অভিমানে কেঁদে উঠল।
রাত্রে কিছুতেই ঘুম আসছিল না। জানালার পাশে চুপটি করে চোখ বোজে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ’ই ফোন’টা বেজে উঠল। রিসিভ করতেই সেই কন্ঠ।
~আপনি আমার এই নাম্বারও জানেন?
★জানিই তো। সেই জন্য’ই তো কল দিতে পারলাম। ঘুমাওনি?!!!
~না….
★কার জন্য জেগে আছ?
নিশ্চয় তোমার সিয়াম ভাইয়ার জন্য…..
~ওনি আমার কে?যে ওনার জন্য জাগতে হবে?
★সেকি! কালকেই না বললে তুমি ওনাকে ভালোবাসো….?!!!
~`আমি ওনাকে ভালোবাসি না। এই সম্পর্কে আর কোনো কথায় শুনতে চাই না।
★কিন্তু আমি যে বলতে চাই। বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক বেশী ভালোবাসি।
~কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি না। আমি সিয়াম ভাইয়াকে ভালোবাসি।
★আমি জানি তো। আর সিয়ামও তোমাকে ভালোবাসে।
~এই! আপনি কে বলেন তো? একটু আগে বলছেন আপনি আমাকে ভালোবাসেন, এখন আবার বলছেন সিয়াম ভাইয়াও আমাকে ভালোবাসে। এসবের মানে কি? কে আপনি?
আমার পরিচিত কেউ?
আর সিয়াম ভাইয়াকে কিভাবে চিনেন?
★ভুল তো কিছু বলিনি। সিয়াম তোমাকে ভালোবাসে এটা যেমন সত্যি তেমনি আমিও তোমাকে ভালোবাসি এটা দিনের আলোর মতই সত্যি। আর আমি কে জিজ্ঞেস করছ না?
আমি তোমার শুভাকাঙ্খী….
~ তা শুভাকাঙ্খী সাহেব! আপনি এত কিছু জানেন, এটা জানেন না যে সিয়াম ভাইয়া অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসে..?!!!
★যতটুকু জানার দরকার ঠিক ততটুকুই আমি জানি। আপনার মত এত বেশী আমি জানি না। আমি জানি যে, সিয়ামের জীবনে একটাই ভালোবাসার মানুষ ছিল সে- মায়া! সিয়ামের মায়া-পরি।মানমন্দিরের সিংহাসনে যার বসবাস সে মায়া। মায়া সিয়ামের কল্পরাজ্যের রাজকুমারী। যার মায়া মায়া মুখ দেখে সিয়াম বার বার মরতে রাজি।
~মানে কি? ওনি তো আমায় বলছে…(…)….???
★ভুল বলছে। ও ওর মায়াপরিটাকে ভিষণ ভালোবাসে। এতটাই ভালো যে ওর বিয়ের সমন্ব নিয়ে বাবা যখন মায়ের সাথে কথা বলে তখন ও মুখ লুকিয়ে কাঁদে। কখনো ছাদে আবার কখনো বা বাগানে গিয়ে। ওর মায়া পরির চোখের জল সে সহ্য করতে পারে না, তাই মায়াপরিটা কখন অসুস্থ হয়ে কাঁদে তখন ও ওর রুমের দরজা লাগিয়ে কান্না করে…..
~……..
★কি হলো ম্যাম?
চুপ করে আছেন কেন? এবার বিশ্বাস হলো তো?!!!
~কিসের বিশ্বাস হবে? ওনি কখনো আমায় ভালোবাসেনি, আর বাসতে পারবেনও না। ওনি ভালোবেসে থাকলে আমায় বলত, আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ওনি আমায় বোনের মত দেখে….
★বোন ও কখনো’ই তোমাকে মানতে পারেনি, পারবেও না। আর তোমাকে বলার কথা বলছ না?
ও তোমাকে একবার নয়, শতবার বলতে চেয়েছে। কিন্তু প্রতিবার’ই তোমার ভাইয়া ডাকটার কাছে হেরে গিয়ে চলে এসেছে। ঐতো ১৪ফেব্রয়ারির কথা মনে নেই?!!! সেদিন একগুচ্ছ ফুল হাতে ও যে পার্কে গিয়েছিল সেটা তোমার জন্য’ই। কিন্তু আফসোস!
সেদিনও ও তোমায় মনের কথা বলতেতে পারে নি। পারেনি বুঝাতে কতটা ভালোবাসে। তুমিও কি হুম?
পারলেনা ওর চোখ দেখে বুঝে নিতে ওর না বলা কথাগুলো?!!!
প্রিয় মানুষটির চোখ দেখেই তো তার মনের কথা বুঝে ফেলার কথা। আচ্ছা, আদৌ কি তুমি ওকে ভালোবাসতে পেরেছ? মনে হয়ত না!
না হলে ঠিক’ই ওকে বুঝতে। বুঝতে কতটা যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ছেলেটা বেঁচে আছে।
আচ্ছা, আজ কি মনে করে ওর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলা? মরার শখ জাগছিল নাকি ওকে পুরোটাই মারতে চেয়েছিলস যা ছিল বাকি…

শেষের কথাগুলো মায়া কেন জানি খুব বেশী আপন, খুব বেশী চেনা মনে হচ্ছিল। কে আপনি, কন্ঠটা এমন শুনাচ্ছে কেন? বলতে গিয়ে উত্তরটা আর শুনতে পায়নি। সাথে সাথে ফোনটা কেটে দেয় অচেনা লোকটা….

ছেলেটির ডায়েরী_
দীর্ঘ ৬মাস পর ডায়েরীটা হাতে নিলাম। এই কয়মাস এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে ডায়েরীটা কিছুতেই হাতে নিতে পারিনি। আর নিব’ই বা কিভাবে?!!!
দিনে অফিস, কাজ পাশাপাশি সিসি টিভির ফুটেজে ওকে দেখা নিয়েই ব্যস্ত আর রাত্রে ফোনালাপ। শুভাকাঙ্খী সেজে কন্ঠ পরিবর্তন করে ওর সাথেই যে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকা।
ভালো’ই কাটছিল দিনগুলো, মন্দ না। মন্দ তখন লাগত যখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওকে ইগ্নোর করতে হতো। ওর কথার জবাব না দিয়ে ওকে এড়িয়ে যেতে আমার খুব খুউব কষ্ট হত। তবুও করতে হতো বন্ধুর আদেশে। বন্ধু আতিকের কড়া নির্দেশ ওকে ইগ্নোর করে যেতে আর ফোনে শুভাকাঙ্খী সেজে মিষ্টি আলাপ করতে। আমি বুঝি না ও কেন এমন করতে বলছে? সত্যি’ই কি এটা করলে মায়া আমার হয়ে যাবে? ও আমার কাছে এসে কান্না করে মনের কথা বলবে? কিংবা ফোনে অচেনা লোক সেজে সিয়াম সম্পর্কে কিংবা সিয়াম ওকে কতটা ভালোবাসে এটা বুঝিয়ে বললে ও কি ছুটে আসবে আমার কাছে? জাপটে ধরবে আমায়?!!!!
এসব কিছুর কোনো সঠিক উত্তর আমার কাছে নেই, তবুও একবুক আশা বেঁধে আছি। ও আসবে।
আসতেই হবে ওকে….
ওকে ইগ্নোর করে যখন ওকে ফেলেই একা একা অফিস থেকে চলে আসতাম তখন ও কি করত জানি না, তবে আমি সিয়াম রুমের দরজা আটকে দাতে দাত চেপে কান্না করতাম। কখনও বা গাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে রাস্তায় লুকিয়ে থাকতাম, মায়াপরিটা কি করছে দেখার জন্য। কখনো বা গরমে ভিঁজে ভীর বাসে করে বাসায় যেতাম শুধু ওর কষ্টটা অনুভব করার জন্য।
একটা সময় আসে যখন অনুভব করতে পারি ও কেমন যেন একটা চাপা কষ্ট বুকে চেপে থাকে সবসময়…
– একদিনের কথা মনে হলে এখনও হাসি পায় খুব।সেদিন ও ইচ্ছে করেই আমার রুমে চলে আসে। আমি তাকাতেই ছুটে চলল বাইরের দিকে। পিছন থেকে ডেকে বললাম, কি চাই?!!!
উত্তরে আমতা আমতা করে বলল, চা?!!!
চা খাবেন?!!!
~ মাত্র তো চা রেখে গেলে? এই চা’য় তো খাওয়া শেষ হয়নি? আবার কিসের চা?
আজকে কি তুমি আমায় চা খাইয়েই রাখবে?!!!
মুখ ভার করে পাগলীটা চলে গেল। মনে মনে বলছি-
পাগলী একটা…!!!
বললেই তো হয় আপনাকে দেখতে এসেছি।😊😊
,
সেদিন অফিস ছিল না। দুপুরে রুমে শুয়ে আছি। রাতে ফোনে কিভাবে কি বলব সেটাই ভাবতেছি। হঠাৎ করেই জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমি দেখেও না দেখার ভান করলাম। অনেকক্ষণ ধরে উঁকি ঝুকি মেরে আমায় দেখছিল। আমি মুখ টিপে হাসছিলাম। প্রায় আধঘন্টা হয়ে যাওয়ার পরও ও যখন একই ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তখন আমি ফিরে তাকালাম। ও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। চা নাকি কফি লাগবে সেটাই নাকি জিজ্ঞেস করতে আসছিল?☺
-‘ ভর দুপুরবেলায় সিয়াম ঘুমায়, সেটা কি তুমি জানো না?!!! মাথা নিচু করে চলে গেল…
,
সেদিন সন্ধ্যার আগে ছাদ থেকে ফিরছিলাম। রুমের কাছে এসে দেখি দরজার ফাক দিয়ে উকিঝুকি মারছে। কাছে এসে কি হলো বলতেই লাফ দিয়ে উঠল।
ইয়ে মানে আপনার কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞেস করতে এসেছি।
~মায়া, শুনো! এ বাড়িতে কাজের লোক আছে। ওরাই আমার দেখাশুনা করে। আমার কিছু লাগলে ওদেরকে আমি জানাব। শুধু শুধু তোমার কষ্ট করতে হবে না। যাও, রুমে গিয়ে নামাজ পড়….
মাথা নিচু করে চলে গেল বেচারি… 😒😒
,
পরদিন অফিসে গেলাম।
একটু পরপর রুমের কাছে এসে আমায় দেখে যাচ্ছে, কখনো বা কাজের বাহানায় কাছে আসছে।
-‘ মিস মায়া! আমার আপনাকে দরকার পরলে আমি আপনাকে ডাকব, এভাবে দরজার সামনে এসে উকিঝুকি মারবেন না। কথাটা কর্কশ কন্ঠে বলেছিলাম।
ঠিক আছে, স্যার বলে লজ্জায় মাথা নিচু করে চলে গেল আমার মায়া পরিটা।
-‘ হায়রে!
এতই যখন আমায় ছাড়া থাকতে পারিস না, তখন একটা বার মুখ ফুটে বল না। বাবা-মাকে সেদিন’ই মেনেজ করিয়ে তোকে বিয়ে করে ফেলব। তখন আর উকিঝুকি মেরে দেখতে হবে না।😍😍
,
সেদিন ফোনে আবুলতাবুল কি সব বলছিলাম।
ইচ্ছে করেই বলছি। ওকে জেলাস ফিল করানোর জন্য ফোন কানে নিয়ে মিছেমিছি কথা বলছি। ভেবেছিলাম সিনামার নায়িকাদের মত করে আমার কাছে এসে, হাত থেকে ফোন নিয়ে, কলার চেপে ধরে বলবে!!!
কিসের কথা এত, হুম?
তুই শুধু আমার, অন্য কারো না। আর কখনো যদি ফোনে কথা বলতে দেখি তাহলে মেরেই ফেলব।’
-‘ না, তা আর হলো কই?
স্বপ্ন স্বপ্ন’ই রয়ে গেল….
,
সেদিনও ওকে রেখেই গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরি। বিভিন্ন কারনে মনে প্রচন্ড রাগ ছিল ওর উপর। গাড়ি নিয়ে যখন রাস্তায় চলে আসলাম, তখন দেখি রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাটছে। গাড়ি থেকে নেমে ইচ্ছে হচ্ছিল কয়টা থাপ্পর কিংবা ধমক দেই। কিন্তু দিলাম না। রাগ দেখিয়ে হনহন করে চলে গেলাম। সেদিন বাসায় গিয়ে ওর রুমে ঢুকি। ভেবেছিলাম আমার ডায়েরীটা রেখে আসব ওর বিছানায় কিন্তু রাখতে পারলাম না।
যখন ওর ডায়েরীটা চোখে পরল তখন ডায়েরীটা হাতে নিয়ে রুমের দিকে ছুটে চললাম।
রুমে গিয়ে একের পর এক পৃষ্ঠা পরছিলাম, আর চমকে যাচ্ছিলাম।
-‘ Ohh,my god!
ও আমায় এতটা ভালোবাসে? এতটা?!!!!
অথচ একটাবারের জন্য মুখ ফুটে বলতে পারেনি?!!!
ওর ভালোবাসার কাছে আমার ভালোবাসা যে অতি নগন্য….
দীর্ঘ ৪বছর ধরে নিরবে-নিভৃত্তে, নিঃস্বার্থভাবে ও আমায় ভালোবেসে গেছে। কখনো পাওয়ার আশা করেনি, শুধু দুর থেকেই শুভকামনা করে গেছে….
এতটা ভালোবাসে ও আমাকে?
কোথায় রাখব ওর এত ভালোবাসা?!!!
কাঁদতেছিলাম আর ডায়েরীটা বুকে জড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে মা চলে আসে রুমে। কি হয়েছে জানতে চায়…
ডায়েরীটা লুকিয়ে রেখে বললাম কিছু না….
মা চলে যায় রুম থেকে…
ওর ডায়েরীটা আগের জায়গায় রেখে আসি……
সেদিন আর অচেনা শুভাকাঙ্খী হয়ে ওকে ফোন করার শক্তি পাচ্ছিলাম না। ভেবে নিয়েছিলাম আর ফোন করব না। এবার যা বলার সামনাসামনি বলব। কিন্তু বন্ধুদের অনুরোধে শেষবারের মত ওকে ফোন দিলাম। জানিয়ে দিলাম সিয়াম ওকে কতটা ভালোবাসে….
কথা বলার সময় এতটাই আবেগী হয়ে গিয়েছিলাম যে ভুল করে আমার আসল কন্ঠে কথা বলে ফেললাম। বুদ্ধিমতি মেয়ে বুঝতে না পারলে সেটা টের পায় কিছুটা। তাই জিজ্ঞেস করে,
কে আপনি? আপনার কন্ঠ’টা বলার আগেই লাইনটা কেটে দিয়ে বড়সড় নিঃশ্বাস নিলাম।
ভেবেছিলাম আমার প্রতি ওর ভালোবাসা সবে মাত্র জন্ম নিয়েছে কিন্তু বুঝতে পারিনি ও আমায় এতদিন ধরে ভালোবেসে যাচ্ছে নিরবে….
আর যখন বুঝতে পারলাম তখন আমার ভালোবাসাটাও জানানোর প্রয়োজন মনে করলাম। তাই বলে দিলাম-
সিয়ামের মনের অব্যক্ত কথা….
পরদিন__
নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাসায় বিরাট আয়োজন করা হয়েছে।সাইমার বন্ধুবান্ধব সবাই উপস্থিত হয় বাসায়। আমার বন্ধু-বান্ধবও…..

পুরো ছাদ’টা লাল-নীল ভাতি দিয়ে সাজানো হয়। দিনটি নববর্ষের হলেও বাসায় এই যে এত বন্ধুবান্ধব সব ছিল মায়ার জন্য। মায়াকে যেভাবেই হোক মনের কথাটি বলতে পেরেছি আর ও নিজেও আমায় ভালোবাসে এই জন্য মূলত এই পার্টি…
সবাই যখন নেচে গেয়ে বিভিন্ন ভাবে দিনটি সেলিব্রেট করছে মায়া তখন সাইমার সাথে সবার জন্য খাবার পরিবেশনে বিজি…
মায়া একপাশ থেকে একে একে সবাইকে যখন পানির গ্লাস দিয়ে আসছিল, তখন’ই মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি চাপে। ও কাছে এসে যখন সরবতের গ্লাসটা আমার দিকে এগিয়ে দিচ্ছিল তখন আলতো করে ওর হাতটা স্পর্শ করি। ও কেঁপে উঠে। গ্লাসটা ছাড়তে গিয়ে পুরো সরবতের গ্লাসের পুরো সরবত গায়ে পরে যায়। গায়ের কোর্ট’টা ভিঁজে একাকার হয়ে যায়।সাইমার ডাকে ও যখন মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছিল,
তখন’ই পিছন থেকে ওকে ডাক দেই _
” এই মেয়ে! এই?!!!
দাঁড়াও…..

ও চমকে পিছনে তাকালো…
এগুলো মুছবে কে?
উপস্থিত সকলে আমার দিকে তাকালো…..

চলবে….

বসের সাথে প্রেম পর্ব-১১

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১১

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ভালোবাসা মানে হলো ভালোবাসার মানুষটির সুখের জন্য ত্যাগ,ভালোবাসা মানে দুর থেকে প্রিয় মানুষটির জন্য শুভকামনা…..
ভালোবাসা মানে পাবো না জেনেও তার মঙ্গলের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা….
সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েই না হয় আমি আমার না পাওয়ার বেদনাকে সুখের পরম প্রাপ্তি মনে করে, ওর জন্য মন থেকে দোয়া করব।
সেদিন অফিসে নতুন করে জয়েন করেছিলাম ওর পি.এ হয়ে। অফিস শেষে ওনার সাথে ওনার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝরাস্তায় ওনাকে গাড়ি থামাতে বললাম। ওনি রাস্তার পাশে গিয়ে গাড়ি থামালেন। আমি গাড়ি থেকে নেমে ওনাকে চলে যেতে বলে পাশের পার্কটার বেঞ্চে গিয়ে চুপটি করে বসে রইলাম। ওনি যে কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পারলাম তখন ওনার দিকে তাকালাম। ওনি আমার পাশে নিঃশব্দে বসে পরলেন। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর ওনি’ই মুখ খুললেন-
‘ আগে কখনো এসেছ?’
-‘ একবার নয়, অনেকবার এসেছি। মন খারাপ হলেই আমি এখানে আসি। চারপাশের সতেজ প্রকৃতি আর এই ফুলবাগান দেখলে মনটা আর খারাপ থাকে না। ভালো হয়ে যায়। আমার মন খারাপের সাক্ষী এই পার্ক….
চারপাশে এই যে এত বৃক্ষলতা, ফুলের বাগিচা এই সবকিছুর সাথে আমার অনেক অনেক সখ্যতা।
ওরা আমায় খুব বেশী আপন করে ফেলেছে। এই দেখেন না আসতে না আসতে কেমন বাতাস শুরু করে গেল…..
-‘ অপূর্ব!(সিয়াম)
-‘ কি?!!!
Ufff! দেখেন না ভাইয়া কেমন বাতাস বওয়া শুরু করে দিয়েছে।(চুল সামলাতে সামলাতে মায়া)
-‘ ওয়াও……(সিয়াম)
-‘ কি?(মায়া)
-‘ তোমার চুল……..(সিয়াম)
-‘………
আচ্ছা, চলেন যাওয়া যাক এবার……..(মায়া)
-‘ আরেকটু বসি না?!😍(সিয়াম)
-‘ আচ্ছা…….(মায়া)
-‘ হুম………….(সিয়াম)
-……….(মায়া চুপচাপ)
-‘………(সিয়ামও চুপচাপ)
-‘ ভাইয়া একটা কথা বলব? ওনার দিকে তাকিয়ে আমি কথাটা বলছিলাম…
ওনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল- জি, বলো।
-‘ আপনি কি সত্যি’ই কাউকে ভালোবাসেন?কথাটা বলতে গিয়ে গলা আটকে আসছিল আমার। তবুও বললাম।
ওনার দিকে তাকাতে পারছিলাম না, তাই নিচে তাকিয়ে আছি প্রশ্নটা করেই। ওনি আমার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে বললেন, হুম। বাসি।
-‘ কতটুকু বাসেন?(M)
-‘ যতটুকু ভালোবাসলে বুকে হাত দিয়ে বলা যায়, আমার মত ভালো বোধ হয় পৃথিবীর আর কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বাসতে পারবে না।(S)
-‘ আর বসে থাকতে পারছিলাম না। বসা থেকে উঠে পরলাম। ওনি এখনো বসে আছেন। চোখে জল, মুখে হাসি নিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আবারো জিজ্ঞেস করলাম-
” ম্যাডাম নিশ্চয় আপনাকে খুব ভালোবাসে?!!!
-‘ নির্লিপ্ত কন্ঠে ওনার জবাব-
জানি না, তবে ভালো না বাসলেও ও আমায় ঘৃণা করে না।’
-‘ একতরফা ভালোবাসা?
কিছুটা গম্ভীর হয়ে ও বলল,
আপাতত একতরফা’ই বলতে পার। তবে খুব শিগ্রয় মনের কথা’টা ওকে বলে দিব….(S)
-‘ সেটাই ভালো।
মনের কথা যত তাড়াতাড়ি পারেন বলে দিবেন, ভাইয়া। না হলে পরে প্রস্তাতে হবে….
ও হাসোজ্জল মুখে বলল,
সেটাই করতে হবে।
কেন জানি না চোখ দিয়ে পানি পরতেছে। কন্ঠ আটকে যাচ্ছিল। বহুকষ্টে কান্না থামালা।
আচ্ছা!
ওনি কি অনেক সুন্দর,ভাইয়া?
-‘ সিয়াম জোর গলায় বলল,
হুম, অনেক সুন্দর।
…..দেখতে কেমন? আমার থেকেও বেশী মায়াবী?
– হুম, তোমার থেকেও অনেক সুন্দর সে। তবে সে নিজেও জানে না সে কতটা সুন্দর। ওর ঐ মায়াবী মুখের পানে যতবার’ই তাকাই, ততবার’ই ওর প্রেমে পরে যায়। মায়া জানো, খুব ভালোবাসি আমি আমার ঐ মায়াপরিটাকে।
এতটাই ভালোবাসি যে যা ও কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, পারবেও না…..
কেন জানি এবার আর কান্না আটকাতে পারছিলাম না।
অবস্থা বেগতিক দেখে মুখটা হাত দিয়ে চেপে ধরলাম…..
ছেলেটির ডায়েরী_
সে রাতের পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেল। হাসি-ঠাট্টা, গল্পে-আনন্দে ও কেমন যেন একটু বেশীই মেতে থাকত। আমার সাথেও হেসে হেসে কথা বলত। আগের মত আর চুপ করে থাকত না। পুরো ব্যপারটা’ই আব্বু-আম্মু কিংবা বোনের কাছে স্বাভাবিক হলেও আমার কাছে কেন যেন ব্যপার’টা অস্বাভাবিকের চেয়েও একটু বেশীই মনে হতো। মনে হতো, এই যে ওর এত হাসি-ঠাট্টা, গল্প-আনন্দ সবকিছুই যেন মেকি। কেন জানি মনে হতো- আমি/আমরা যা দেখছি তা সত্যি নয়, আর যা সত্যি তা আমরা দেখছি না। সেদিন ও নতুন করে আমাদের কোম্পানিতে আমার পি.এ হয়ে জয়েন করেছিল। বাবার কড়া নির্দেশ অফিসে নেওয়া এবং আসার সময়ও যাতে ওকে সাথে নিয়ে আসি। সেদিন আসার সময় মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ও গাড়ি থেকে নেমে পরে। তারপর আমাকে চলে যেতে বলে। ওর আসতে দেরী হবে তাই ওকে রেখেই চলে আসতে বলে। আমি সেদিন গাড়িতে রাস্তার পাশে রেখে ওর পিছু নিলাম। যেতে যেতে ও রাস্তা থেকে ক্ষাণিকটা দূরবর্তী স্থানে যে পার্কটা রয়েছে ঐখানে হাজির হলো। পার্কটার এককোণে একটা বেঞ্চ ছিল, ও খুঁজে খুঁজে সেখানটাই গিয়ে বসল। আমি যে পিছনে দাড়িয়ে আছি সেটা বোধ হয় ওর দৃষ্টিগোচর হয়নি এতক্ষণ। আর যখন বুঝতে পারল পিছনে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে, তখন মাথা তুলে একবার পিছনে তাকালো। তারপর চোখ আগের জায়গায় সরিয়ে নিল। আমি ওর সাথে গিয়ে চুপটি করে গিয়ে বসলাম। ও একটা কথাও বলেনি। মৌনতা ভেঙে আমি’ই সেদিন প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম।
-‘ এই পার্কটার সাথে ওর পূর্বপরিচয় আছে সেটা সেদিন’ই জানতে পারলাম। আর এটাও জানতে পারলাম পার্ক’টাতে ও তখনি আসে, যখন ওর মনটা খুউব, খুউউব বেশী খারাপ থাকে। ও সেদিন আমায় অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছিল। বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
– আমার কল্পনার রাজকুমারীকে আমি কতটা ভালোবাসি?! ও দেখতে ওর থেকেও মায়াবী কিনা?!!!
~আমি সহাস্যে বলেছিলাম,
হ্যাঁ, ও তোমার থেকেও সুন্দর! কিন্তু ও নিজেও জানে না ও কতটা সুন্দর…!!!😊😊
-‘ সেদিন মায়াকে আরেকটু বসতে বলেছিলাম, কিন্তু ও নাকি একটু ক্লান্ত ছিল। তাই
ও আমায় রেখে ছুটে গাড়ির কাছে চলে গেল। আমি আসার আগেই গাড়িতে উঠে বসে পরল। আমি গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলাম। পুরো রাস্তা ও চুপচাপ গিয়েছিল, একটা কথাও বলেনি। কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু হ্যাঁ, না জবাবটাই দিয়েছে।
এভাবেই চলে গেল আরো একটা বছর। মায়া এখন আর সেই আগের মায়াটি নেই। দৈহিক ওও মানসিক গঠনে ও হয়ে উঠেছে এখন একজন পরিপূর্ণ মানবী। একজন পরিপূর্ণ নারীতে যা যা বিদ্যমান থাকে সেটাই ওর মধ্যে ফুটে উঠেছে। ওর চলায়-বলায়, ওর আকার-আকৃতিতে পরিপূর্ণ নারী ছাপ স্পষ্ট….
মায়া এখন আর মামার সংসারের অবহেলিত সেই মায়াটি নেই, ও এখন বিশিষ্ট শিল্পপতি খন্দকার মো. আশিকুর রহমান সাগরের মেয়ে। সেই হিসেবে দেশের নামী-দামি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মহলের অনেকেই মায়া’কে পুত্রবধূ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। বাবা দক্ষ ব্যবসায়ীর মত মায়ার বিয়ে দেওয়া নিয়েও দক্ষতার পরিচয় দিবেন, এটাই আমার পরিবারের সবাই নিশ্চিত জানে।
-‘ একটা ভয় সারাক্ষণ আমায় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হলো মায়া’কে হারানোর ভয়। বাবা যখন মায়ার জন্য উপযুক্ত পাত্রনির্বাচন করে ফেলবে তখন আমার কি হবে?!!! আর মুখ থেকে সকালের ঘুম থেকে উঠব, আর কি নিয়ে আমি বাঁচব?!!!
আমি যে নিঃস্ব হয়ে যাব একেবারে….
আর পারছিলাম না।
আবার মনের কথাটি ওকে বলতেও পারছিলাম না। যতবার’ই বলতে চেয়েছি ততবার’ই ওর ভাইয়া ডাকটার কাছে হেরে গিয়েছি। ফিরে এসেছি মনের লুকানো কথাটি না বলেই…..
সেদিন জীবনের প্রথম নেশা করেছিলাম। নেশাটা বোধ হয় একটু বেশী’ই হয়ে গিয়েছিল। নেশার বোতল হাতে নিয়ে মাতলামি করতে করতে কখন যে মেইন রাস্তায় চলে গিয়েছিলাম বুঝতে পারিনি। হুশ হয় তখন যখন মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়। মাথায় হাত দিয়ে উপরের দিকে তাকাতেই দেখি বন্ধু আতিক আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। কি হয়েছল জানতে চাওয়ার আগেই গালে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। ও আমায় রাস্তা থেকে তুলতে তুলতে ৩টা চড় মারল। তারপর বাসায় নিয়ে আমার মাথায় পানি দিল, আমায় টক খাইয়ে। চোখ থেকে নেশা অনেকটাই চলে গেছে। এখন আশেপাশের সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এখন আর মায়াকে দেখতে পাচ্ছি না চারদিকে।
রাত আনুমানিক ১১টা কি সাড়ে ১১টা বাজে। বন্ধু আতিক ও ওর মা-ভাবির জুরাজুরিতে ডিনার’টা ওদের বাড়িতেই করে নিলাম। ও বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, আমি ওদের বাসায় থাকব, তাই টেনশনের কোন কারন নেই। রাত ১২টা_
গালটা ব্যথা করতেছে।
গালে হাত বুলাতে বুলাতে মায়ার কথা ভাবছি। ও কি করছে, খাইছে কি না ইত্যাদি, ইত্যাদি। তখন’ই আতিক প্রবেশ করে রুমে।
-‘ ব্যথা করতেছে?(আতিক)
~’ হুম…😒(আমি)
-‘ শালা, দে আর কয়টা লাগিয়ে দেই।😎(আতিক)
~’ নে…বলে গালটা বাড়িয়ে দিলাম। গাক বাড়াতে দেরী গালে আরেকটা বোনাস পরতে দেরী না….
-‘ শালা! তুই কিরে? মানুষ না গন্ডার?!!! এভাবে আর কত? আর কত কাঁদবি?!!!(আতিক)
~তো, আমি কি করব?😞(আমি)
-‘ কি করব মানে? কাল ভালোবাসা দিবস না?!!!
তুই সরাসরি কাল গিয়ে ওকে প্রপোজ করবি। :/ (আতিক)
~’ আমি কি পারব বলতে? আর ও যদি রিজেক্ট করে দেয়? তখন! তখন কি হবে? ওকে তো হারিয়ে ফেলব আমি। অদৃশ্য যে অধিকারে ওর বিষয়ে খবরদারি করতে পারি, তাও হারিয়ে ফেলব…(আমি)
-‘ একসেপ্ট কিংবা রিজেক্ট সেটা পরে দেখা যাবে। তোর বন্ধু আতিক আছে তোর পাশে। তুই শুধু কাল ওকে আই লাভ ইউ’টা বলে দেখ কি হয়। বাকিটা আমি দেখব।
সেদিন সারারাত ভর একটা নিদারুণ ভয় আর উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম।
তারপর শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম ভাঙলো কারো কলের আওয়াজে। ফোনে তাকিয়ে দেখি ১২টা বাজে। বাবা আরআর সাইমা মিলে ৭৪টা কল দিয়েছে। সর্বনাশ! এত বেলা অবধি ঘুমালাম?!! তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আতিকের ভাবিকে বলে ছুটে চললাম ফুলের দোকানের দিকে। একটা সুন্দর ফুলের তোড়া কিনে বাবাকে কল দিলাম। স্যরি বললাম। জরুরী কাজের কথা বলে গাড়ি পাঠাতে বললাম। বাবা, ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিল। তারপর গাড়ি নিয়ে ছুটে চললাম অফিসের দিকে। সেখানে গিয়ে মায়াকে খুঁজে পায়নি। মেনেজার আংকেলের থেকে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, অসুস্থতার কথা বলে ও নাকি একটু আগেই বাসায় চলে গেছে। বাসায় ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম, মায়া বাসায় পৌঁছালে আমায় জানাতে।
১ঘন্টা,
২ঘন্টা,
৩ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেল। বাসা থেকে রোকসানা ফোন করেনি। আমি আবারো কল দিলাম। জানতে পারলাম,
ও তখনো বাসায় পৌঁছায়নি।
টেনশনে পরে গেলাম।
মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলাম। এই মুহূর্তে নানান বাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
,
মলিন মুখে হাসি ফুটে উঠল।
বসা থেকে উঠে পরলাম।
তারপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। গন্তব্য-
‘ মায়ার মন খারাপের সাথী পার্কটা…..’
আধঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম সেই পার্কটাই। বেঞ্চের এককোণে চুপটি করে বসে একজোড়া দম্পতির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ফুলগুলো হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলাম। ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক ভালোভাবে তাকালাম। ও হাসোজ্জল মুখে বলল__
‘ আরে সিয়াম ভাই আপনি? কাকে খুঁজছেন?’
~’ এই তো আমার মায়া-পরিটাকে…….'(আমি)
-‘ ওহ, আপু কি এখানে আসবেন বলেছিল? (মায়া)
~’ বলেছিল তো আসবে।'(আমি)
-‘ তো কোথায় ওনি, ভাইয়া?(মায়া)
~এদিক ওদিক তাকিয়ে বললাম,
ও মনে হয় আজকে আসেনি মায়া…….
ও আমার হাতে রাখা ফুলের দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘ আপুর জন্য এনেছিলেন বুঝি?’
-‘ হুম, ও তো আসে নি। আমি এ ফুল দিয়ে কি করব? তার চেয়ে বরং এগুলো তুমি’ই নিয়ে যাও মায়া…….(আমি)
মায়া মিষ্টি হেসে ফুল নিতে নিতে বলল-
‘ফুল সৌন্দর্য এবং পবিত্রতার প্রতিক। এ ফুল উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই….’
ও ফুলগুলো হাতে নিয়ে বসা থেকে উঠে পরল। আসি বলে আমাকে রেখে’ই ফুলগুলো নিয়ে চলে গেল……
আমি গাধা হা করে সেদিকে তাকিয়ে আছি।
রাত্রে আতিকের সাথে দেখা।
-‘ কিরে?! বলতে পেরেছিস মনের কথাগুলো?
★আমি:- নারে! আমি পারলাম না। কি করব বল? যতবার’ই বলতে চাই ততবার’ই ওর ভাইয়া ডাকটার কাছে হেরে যায়।
★আতিক:- বুঝতে পারছি তোকে দিয়ে হবে না। যা করার আমাদের করতে হবে।
★আমি:- কি করবি তোরা?
★আতিক:- শুন তাহলে…..(……….)……???
এটাই শেষ।
★আমি:- কিন্তু ও যদি বুঝে যায়?!!!
★আতিক:- বুঝার জন্য তো আমরা এ পরিকল্পনা করিনি। যত বুদ্ধিমতি’ই হোক না কেন, ও তোকে ধরতে পারবে না।তুই শুধু কাজটা শুরু কর…
★আমি:- অতঃপর…
★আতিক:- অতঃপর ওর মনের ঘরে প্রবেশ করে ভালোবাসার বীজ বপন করে বেরিয়ে আসবি। বেরিয়ে আসার সময় ও যদি তোকে চিনতে পারে, বুঝতে পারে তোর ভালোবাসাকে তাহলে ও তোর, সাথে সাথে ভালোবাসার শিকল পরিয়ে দিবি ওর পায়ে…..
★আমি:- আর যদি না বুঝতে পারে?
★আতিক:- আর যদি না বুঝতে পারে তাহলে উড়িয়ে দিবি শূন্যে। মুক্তবিহঙ্গের মত উড়ে যাক দুর অজানায়। তবে, এটা যেন কখনো না হয়……
★আমি:- ওকে, তাহলে তাই হবে………..
মেয়েটির ডায়েরী_
ওর দেওয়া ফুলগুলো যতনে রেখে দিয়েছি আমার বেডরুমে। রাত ১১টা……
ফুলগুলোর দিকে একদৃষ্টিতে সেই সন্ধ্যা থেকে তাকিয়ে আছি। রাত্রি গভীর। চোখ থেকে অঝোরে জল গড়িয়ে পরছে আর বুকের বামপাশটাই অজানা চিনচিনে এক ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। ঠিক তখনি এ রুমের টেলিফোন’টা বেজে উঠল। চোখের জল মুছে রিসিভারটা উঠালাম। হ্যালো! বলতেই ফোনের ওপাশ থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে উঠল।
★মিস মায়া বলছেন?
~হুম, কিন্তু আপনি কে?
★মানুষ…..
~ হুম, জানি আপনি মানুষ। এর ছাড়া তো প্রাণী ফোন করতে পারে না। তো আপনার নাম’টা কি?(কর্কশ কন্ঠে)
★ মিস মায়া!
আপনি বোধ হয় রেগে যাচ্ছেন! আচ্ছা, এখন তাহলে রাখি। আপনার সাথে আমি পরে কথা বলব।
– কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না আমি। তার আগেই ফোনটা কেটে দিল লোকটা…..
কে হতে পারে লোকটা? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম। সারাদিনে একবারও সিয়াম ভাইয়ার সাথে কথা বলতে পারিনি। ও কেমন যেন এড়িয়ে যাচ্ছে আমাকে। সেদিন আর লোকটা কল দেয়নি।
২দিন পর……..
ঠিক একই টাইমে টেলিফোন’টা বেজে উঠে।
ছোঁ মেরে ফোন’টা রিসিভ করলাম। এতরাত্রে সজাগ থাকার একটাই কারন। সে হলো সিয়াম ভাইয়া……
যাকগে!
রিসিভারটা উঠিয়ে হ্যালো বলতেই আবারো সেই কন্ঠ ভেসে আসল।
★কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন বুঝি?
~ না……
★ তাহলে এত রাত্রে জেগে আছেন যে?
~আমার ভালো লাগছে তাই।
★ আমার কিন্তু মোটেও ভালো লাগছে না আপনার ভেঁজা কন্ঠ। আচ্ছা, কেউ কি আপনাকে ছ্যাঁকা-ত্যাকা দিল নাকি?
~ You…….বকতে গিয়েও বকলো না। রেগে রিসিভারটা উপুরমুখী করে রাখল মায়া।
অসহ্য লোকটা…….
ঘুমিয়ে পরে মায়া।
৪,৫দিন পর__
মনটা ভিষন ভিষন খারাপ। আগে কখনো এতটা কাঁদেনি মায়া, যতটা এখন কাঁদে।
– ইদানিং ও আমায় খুব বেশী ইগ্নোর করছে। আগের মতমত কথা বলছে না, অফিসে যতকক্ষণ থাকি, ওনার দিকেই তাকিয়ে থাকি। অথচ ওনি?!!!
একটাবারও চোখ তোলে দেখে না।ডাকে না আমায়। সেরাতে আবারো কল আসে। রিসিভার উঠিয়ে কান্না ভেঁজা কন্ঠে হ্যালো বলতেই ওপাশ লোকটি বলে উঠল-
★ আহারে! বেচারি…..
ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছে।
~’ দেখুন, আমি কোনো ছ্যাকা ত্যাকা খায়নি। ব্যাকা হওয়া তো অনেক দুরের কথা…
★প্রেম করবেন, কিন্তু ছ্যাকা পরুটা খাবেন না, তা কি হয়?
না, না। আর যায় হোক, আমি
আমি অন্তত সেটা বিশ্বাস করি না। এ কথা অন্য কাউকে বলবেন, আমাকে নয়। মিস মায়া পরি।
~ আপনি বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এটাই সত্যি। আমি প্রেম করি না….
★ Hurreh! তাহলে লাইন ক্লিয়ার…….
ওকে, ঘুমাও মায়া-য়া-পরি।
~’ লাইন ক্লিয়ার মানে?
,
হ্যালো, হ্যালো।
নাহ, ফোনটা কেটে দিল।
একসপ্তাহ পর_
হ্যালো মায়া পরি?!!!
~হ্যালো……….
★ সেকি! তোমার গলা তো বসে গেছে ঠান্ডায়। নিশ্চয় ঔষধ খাওনি? এক্ষণি কিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নাও…
~ খাবো না…..
★ একদম ঘাড় ত্যাড়ামি করবা না লক্ষ্মী! যা বলছি তাই করো….
~’ আপনি আমার কে যে আমাকে আপনার কথা শুনতে হবে? আর আপনিই বা কেন আমার কেয়ার করছেন?
★ আমি তোমার কেউ না হতে পারি, কিন্তু তুমি আমার অনেক কিছু………
আর কেয়ারের কথা বলছ?
ভালোবাসি তোমায়, অনেক বেশী ভালোবাসি।তাই কেয়ার করি।
~ কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না।
★ বাসো না,বাসবে।সমস্যা কি?!!!
~কখনো বাসব না। কখনো না।
★ এত গ্যারান্টি দিও না।
আজ না হয় কাল ভালো তোমাকে বাসতেই হবে।
~আপনি ভুল করছেন….
৬মাস পর_
হ্যালো………
মায়া-পরি প্লিজ ফোনটা কেটো না।
~আপনাকে আর কতবার বলব আমি আপনাকে ভালোবাসি না। বাসতে পারব না।
★ কেন বাসো না? কেন বাসতে পারো না?
~ কারন, আমি একজনকে ভালোবাসি।
★বিশ্বাস করি না।তুমি আমায় ছাড়া অন্য কাউকেই ভালোবাসতে পারো না। তুমি শুধু আমায় ভালোবাসো…
~না, আমি আপনাকে ভালোবাসি না।
★না, তুমি আমায় ভালোবাসো।
~না, আমি বাসি না।
★ না, তুমি আমায় ভালোবাসো।
~না, আমি বাসি না।
★জি,তুমি আমায় ভালোবাসো।
~জি, না। বাসি না।
★জি, হ্যা! বাসো। তুমি আমাকেই ভালোবাসো।
~Ufff! বাসি না।
★জি, বাসো।আমায় ভালোবাসো ডেয়ার……..
~আমি আপনাকে ভালোবাসি না। আমি সিয়াম ভাইয়াকে ভালোবাসি। বিশ্বাস করেন আমি সিয়াম ভাইয়াকে…(.?.)
এটুকু বলে মায়া আটকে গেল। একি বলে ফেললাম আমি।
এদিকে ফোনের ওপাশ থেকে লোকটি-
★জানি তো সিয়ামকেই ভালোবাসো।স্যরি, তোমার সিয়াম ভাইয়াকে।
~আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।প্রতিউত্তরে কিছুই বলতে পারিনি। এদিকে ফোনের ওপাশ থেকে অদ্ভুতসব হাসির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে……

চলবে…..

বসের সাথে প্রেম পর্ব- ১০

♦মহাসপ্তাহ♦
বসের সাথে প্রেম
পর্ব- ১০

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ছেলেটির ডায়েরী_
সেদিন আমি ইচ্ছে করে বাথরুমে ঢুকিনি, তবুও ও কেমন যেন হয়ে গেল। সবসময় আমার থেকে দুরে দুরে থাকত, আমি কথা বলতে গেলে আমায় এড়িয়ে চলত, কথা বলত না, আমার দিকে তাকাতো না। যদি ভুল করেও কখনো সামনাসামনি পরে যায় তখন অন্যদিকে তাকিয়ে চলে যায়। আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি কি এমন অন্যায় করলাম যার কারনে ও আমার সাথে এমন করতেছে। সেদিন ভাবতেছিলাম আর ডায়েরী লিখতেছিলাম।
আচ্ছা, ও লজ্জায় এমন করছে না তো?!!!
যদি তাই হয় তাহলে তো ও আর আমার সাথে কথায় বলতে পারবে না, বলবে না।আচ্ছা, ওর দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটি হাসি-আনন্দ যদি আমি আর না দেখতে পাই?!!!
না, না….
যে করেই হোক ওকে কাছে আনতে হবে আর স্যরি বলতে হবে।
সেদিন মাথা ব্যথার অভিনয় করে সারাবিকেল কান্না করছি। আম্মু খবর শুনে আসছিল ঔষধ খাওয়াতে, আমি খাইনি। রাত্রে যখন গিয়ে বলি মাথাটা টিপে দিতে, তখন আম্মু শুয়েছিল। আম্মুর শরীরটা এমনিতেই বেশী ভালো লাগছিল না সেদিন। তাই আমি জানতাম আম্মু আমার মাথাটা টিপে দেওয়ার জন্য মায়াকেই পাঠাবে।
হ্যাঁ, তাই হলো। আমি যখন শুয়ে শুয়ে কানে হেডফোন গুজে দিয়ে গান শুনছি, তখন’ই ওর আগমন ঘটে। রুমের সামনে এসে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে। কান থেকে হেডফোনটা তাড়াতাড়ি খুলে ফোনটা বালিশের নিচে লুকিয়ে রেখে জোরে জোরে কান্না জোড়ে দিলাম। আমার কান্না শুনে মায়া আর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেনি, তাড়াতাড়ি করে রুমে প্রবেশ করে। আমি চোখ’টা মিটমিট করে দেখছি ও দেখছি ও কি করে?!!!😊😊
ও রুমে এসে, আমার দিকে একটু তাকালো। তারপর ধীরপায়ে আমার দিকে’ই এগিয়ে আসতে থাকে। আমি এবার চোখটা পুরো বন্ধ করে দিলাম।☺☺
ও আমার পাশে এসে বসল।
আমার কান্না একটু কমে গেল। ও চুপটি করে বসে আছে ৪,৫ মিনিট হয়ে গেলো তারপরও কিছু করছে না/বলছে না দেখে আমার আর ভালো লাগছিল না। তাই জোরে জোরে কান্না করতে লাগলাম। মনে হচ্ছে, কৌটা জাতীয় কিছু খুলছে, তারই শব্দ হলো। তবুও চোখটা একটু ফাঁক করে দেখে নিলাম। হ্যাঁ, আমার আন্দাজটাই ঠিক। ও কৌটা খুলেছে। মলমের কৌটা। আঙুল দিয়ে একটু মলম নিয়ে কৌটাটা বন্ধ করে আমার কপালের চারিপাশে মলম দিয়ে তা মালিশ করে দিয়েছে। যদিও আমার কিচ্ছু হয়নি তারপরও ও অর্ধেক রাত পর্যন্ত আমার মাথার পাশে বসে থেকে আমার মাথা’টা টিপে দিয়েছে। সেদিন কি যে সুখ পেয়েছিলাম ওর নরম হাতের ছোয়ায় তা বলে বা লিখে বুঝানো যাবে না। বেচারী!
যতবার’ই চেয়েছে উঠে চলে যেতে ততবার’ই আমার কান্না শুনে থমকে গেছে। শেষমেষ যখন বুঝতে পারলাম, ওর চোখ দুটো লাল টকটক হয়ে আছে তখন কান্নাটা থামিয়ে চুপ করে রইলাম। ও তখনো আমার পাশেই বসে আছে। আমি বারবার আড়চোখে ওকে দেখছিলাম। হঠাৎ’ই মনে হলো ও নেই। চোখ যায় নিচে, আমার বিছানায়। হুম, ও আমার বিছানার এককোণে ঘুমিয়ে পরেছে। আধঘন্টার মত আমি শুধু ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়েই বসেছিলাম। তারপর কেন জানি শরীরটা গরম অনুভূত হতে থাকে। আর মাথাটাও একটু একটু করে ব্যথা করতেছে। আর পারছিলাম না। ওকে বিছানার এককোণ থেকে টেনে বিছানায় আনলাম। তারপর বুকের মধ্যে ওর মাথা’টা রেখে শুইয়ে দিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম টের পায়নি। সেদিন স্বপ্নে মায়াকে দেখেছিলাম। ও আমার পাশে বসেছিল। মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে এসেছে কিন্তু বলেনি। কিছু না বলে কি মনে করে যেন উঠে চলে যাচ্ছিল। আমি ওর হাতটা ধরে ফেললাম। ও যতবার উঠতে চেষ্টা করেছে ততবার আমি ওর হাত ধরে ওকে আমার বিছানায় বসিয়ে দিয়েছি। হঠাৎ করে মনে হলো,
কেউ যেন কানের খুব কাছে এসে বলছে,
ভাইয়া, কি করছেন এসব? ছাড়েন….ছাড়েন প্লিজ।
শালার কপাল….
ভাইয়া ভাইয়া শুনতে শুনতে আমার মাথাটা গেল আর সেই ভাইয়া ডাকটাই স্বপ্নে এসে ব্যঘাত ঘটালো?!!
চোখ মেলে তাকালাম।
একি?!
এ যে স্বপ্ন নয়, বাস্তব।
আর আমি ওর হাত নয়, ওর মাথাটা চেপে ধরে আছি বুকের সাথে….
তার মানে আমি এতক্ষণ…. (…..?…….)
ভাবতে পারছিলাম না, উঠে বসলাম বিছানায়। ও ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছে, মনে হয় ভয় পেয়েছে। ওর দিকে তাকালাম, চোখে চোখ পরতেই চোখ ফিরিয়ে নিলাম। তারপর মাথা নিচু করে স্যরি বললাম।
জানি না, ও কি মনে করেছে তবুও স্যরি বললাম। ও যাতে আমায় নিয়ে বাজে কোনো কিছু না ভাবে তাই বলে ফেললাম,
মায়া—
আমি তোমায় ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরিনি। আসলে স্বপ্নে দেখলাম আমার রাজকুমারী পাশে বসে আছে, তাই ওকে মনে করে তোমায় অনেকগুলো কথা বলে ফেলেছি।আমি সত্যি’ই লজ্জিত মায়া। তুমি কিছু মনে করো না প্লিজ। আমি কথাগুলো একনিঃশ্বাসে বলে ওর দিকে ফিরে তাকালাম। ও মনে হচ্ছে এতক্ষণ ধরে আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। চোখে চোখ পরতেই চোখটা সরিয়ে নিল। বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পরল। অন্যদিকে তাকিয়েই বলছে,
মনে করার কি আছে, ভাইয়া? আমি কিচ্ছু মনে করিনি, কিচ্ছুই মনে করিনি। আমি তারপরও কিছু জিজ্ঞেস করছিলাম ও আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি……
মেয়েটির ডায়েরী_
সেরাতে ঘুমুতে পারিনি। সারা রাত গুমড়ে গুমড়ে কেঁদেছি। চোখের জল যেন কিছুতেই বাঁধা মানছিল না। গড়িয়ে গড়িয়ে পরছিল দু’চোখের জল। তারপর মনকে এটা বলে শান্তনা দিলাম যে,
পৃথিবীর সব সুখ তো শুধু পাওয়ার মধ্যে না,
মাঝে মাঝে না পাওয়ার মধ্যেও এক নিদারুণ সুখ নিহিত থাকে। আর ভালোবাসা মানেই কি শুধু কাছে পাওয়া?!
না, তাতো নয়।

বসের সাথে প্রেম পর্ব- ০৯

বসের সাথে প্রেম
পর্ব- ০

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

♦গল্পের নতুন মোড়♦
ছেলেটির ডায়েরী_
সেদিন আমার জন্মদিনে মায়া’কে দেখে যতটা না অবাক হয়েছিলাম তার থেকেও বেশী অবাক হয়েছিলাম মায়া’কে বোন হিসেবে বাবা যখন আমার হাতে সমর্পণ করে দিল। আর অবাক না হয়ে’ই বা যাব কোথায়? মনে মনে যাকে হৃদমাজারে স্থান দিয়ে ফেলেছি, তাকে’ই বোন বানিয়ে দেওয়া হলো..!!!
বাবা যখন কিছু না বলে ওর হাতটা আমার হাতে দেয়, তখন ও নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল আর আমি তাকিয়ে ছিলাম ওর মায়া মায়া মুখের দিকে। সেদিন বাবা যখন বলেছিল,
সিয়াম–
আজ থেকে মায়া এ পরিবারের’ই সদস্য। ও যেখানে যে অবস্থায় থাকুক সবসময় তোর ওর পাশে ছায়ার মত থাকতে হবে, ওর খুঁজ নিতে হবে, যেমন’টা তোর বোনের ক্ষেত্রে এখনো করিস। সেদিন কিছুক্ষণের জন্য মন খারাপ হলেও সেই মন খারাপ’টা বেশীক্ষণ স্থায়ি হতে পারে নি। কারন, একটাই চোখের সামনে আমার মায়া পরিটা হাঁটাচলা করে, হাসি-আনন্দ, গল্পে মেতে থাকে বাবা-মায়ের সাথে। এটা দেখে মনটা শান্ত হয়ে যেত। মনটাকে এই ভেবে শান্তনা দিতাম,
যাক-
ও সবসময় আমার বাড়িতে আমার সামনে থাকবে, এটাই অনেক….😍
বাবা বোন বানিয়ে দিয়েছে, আমি তো আর বোন মানি না, মানব না….😎😎
ও আমার কল্পরাজ্যের রাজকন্যা ছিল, আছে, থাকবে….😊😊
ভালো যখন বেসেছি, বেসে যাব আজীবন।
বসে বসে এই কথা গুলো’ই লিখছিলাম ডায়েরীর পাতায়। হঠাৎ’ই রোকসানা রুমে প্রবেশ করল-
– স্যার-
আপনাকে বেগমসাহেবা ডাকতেছে। সবাই ডাইনিং টেবিলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনি চলেন….
~ঠিক আছে, তুই যা। আমি আসতেছি। কাজের মেয়ে চলে গেল। ডায়েরী’টা রেখে নিচে গেলাম। ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলাম সকালের ব্রেকফাস্ট করার জন্য….
বাবা-মা দু’জনে’ই বসে ছিল।
আমার মায়াপরীটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আশেপাশে তাকালাম। নাহ, আশেপাশেও কোথাও নেই। মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কিরে?!!!
কি দেখছিস?
এবার’তো খাওয়া শুরু কর!!!
হ্যাঁ, খাচ্ছি….
আচ্ছা মা!!!!
ও কোথায়?
কে?কার কথা বলছিস?….
-‘ আমি আসলে ওর…(.?.)….
কথাটা পুরো’টা বলতে পারলাম না, তার আগেই মায়া এসে উপস্থিত হলো। চেয়ার’টা ফাঁক করে মায়ের পাশে বসে পড়ল। মা হাসোজ্জল মুখে জিজ্ঞেস করল,
কিরে?!!!
হয়েছে তোর কাজ?!!
-‘ হুম, মা। হয়েছে।(মায়া)
-‘ মা, বাবার প্লেটে খাবার তুলে দিতে দিতে বলছে__
” এই নাও…
তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও…
তারপর গোসল করে তোমার না কি জরুরী কাজ আছে ঐখানে যাও।”
বাবা তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে পরল।
-‘ আজ আর গোসল? খেয়ে কেউ গোসল করে?”
বাবা চলে গেল মেনেজার আংকেলের সাথে….
মাকে জিজ্ঞেস করলাম__
” মা! বাবাকে গোসল না করিয়ে খেতে দিলে কেন?”
মা হেসে বলল, আমি কি করব বল? তোর বাবাকে তো পাঠাইছিলাম গোসল করতে, এরই ভিতর গিয়ে দেখি তোর বোন একবালতি কাপড় দিয়ে বাথরুমে ঢুকেছে। সেটা দেখে তোর বাবা চলে এসেছে…
-‘ মানে কি মা? ও উপরে বাথরুম রেখে নিচে কেন গেল?😱
-‘ সেটা’ই তো! আমিও বুঝতে পারছি না। কতবার করে বলেছি, তুই সাইমার বাথরুমে যাবি, না।।।
কে শুনে কার কথা….?!!!
-‘ স্যরি, আম্মু….😒
আর কখনো এমন হবে না।(মায়া)
-‘ এই মেয়ে! মন খারাপের কি হলো এতে? চুপ করে খেয়ে নে….মায়ের কথা শুনে আচ্ছা বলে চুপচাপ খেয়ে উঠে পরল মায়া। আমিও খেয়ে-দেয়ে রুমে চলে গেলাম।
-‘ অাজ শুক্রবার,
অফিসে যায় নি। তাই রুমে চুপটি করে শুয়ে আছি। অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে আছি কিন্তু ঘুমাতে পারছি না কিছুতেই।Uff!আর পারছি না। অসহ্য গরম….
এখন’ই গোসল করতে হবে।
শরীর থেকে গেঞ্জী’টা খুলে তাওয়াল হাতে নিয়ে ছুটে চললাম বাথরুমের দিকে। ধাক্কা দিয়ে দরজা’টা খুলে ভিতরে ঢুকলাম। তারপর দরজাটা ক্ষাণিক’টা মিশিয়ে যেই না ঘুরে দাঁড়ালাম ওমনি আমি কুপোকাত…..
‘থ’ হয়ে গেলাম।
এ ঘটনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি….
বুঝতে পারিনি এখানে এসে মায়াকে দেখব।
তাও এইভাবে….
ও লজ্জায় শরীরটা কোনোরকম ঢেকে চোখ’টা বন্ধ করে ফেলল।
আমি ততক্ষণে হাতে রাখা তোয়ালে’টা দিয়ে আমার চোখ দুটো ঢেকে নিয়েছি। তারপর-
স্যরি, আমি রিয়েলি স্যরি….
আসলে বুঝতে পারব তো দুরের কথা কল্পনাও করিনি তুমি আমার বাথরুমে গোসল করছ। বুঝতে পারলে আমি এখানে আসতাম না। বিশ্বাস করো,
আমি সত্যি’ই জানতাম না…
মায়া, চোখ খুলে আমার দিকে তাঁকালো। আমার দিকে কিছুক্ষণ ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে, চোখটা ফিরিয়ে নিল। ও লজ্জা পাবে কি? আমি নিজে’ই লজ্জা পেয়ে বেরিয়ে গেলাম, যখন বুঝতে পারলাম আমি এতক্ষণ উন্মুক্ত শরীর নিয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। লজ্জায় কোনোরকম ইয়ে, মানে স্যরি
বলেই ঐখান থেকে বেরিয়ে এলাম……☺☺

মেয়েটির ডায়েরী_
সেদিন ওনার জন্মদিনে ওনি কতটা সারপ্রাইজড হয়েছিলেন জানিনা, শুধু এটুকু জানি….
সেদিন ভালো আংকেল আমায় খুব বড় সারপ্রাইজ দিয়েছিলেন। আমায় ওনার বাড়িতে ওনার মেয়ের সম্মানে থাকতে দিয়েছিলেন। আর দিয়েছেন সিয়ামের মত একজন ভালো মানুষের বোন হওয়ার সুযোগ। আজ আর আমার মনে কোনো কষ্ট নেই, ওনাকে হয়ত আপন করে পাওয়াটা আমার জন্য অসম্ভবের চেয়ে বেশী, সারাজীবন বোন হয়ে ওনার পাশে ছায়ার মত থাকতে পারব। পারব, ওনাকে প্রতিটা মুহূর্ত দেখতে, সেটাই অনেক বেশী প্রাপ্তি আমার জন্য।
ওনাকে পাশবালিশে পাওয়া কিংবা ঘুম ভাঙলে ওনার মুখটা আগে দেখা সেটা না হয় স্বপ্ন হয়েই থাক….
……..
অনেকদিন পর ডায়েরীটা আবার হাতে নিলাম…..
আজ লিখব….
হ্যাঁ, আজ লিখব…..
আমার প্রিয় ডায়েরী আমি আজ তোমাদের সাথে শেয়ার করব কিভাবে সেদিন দুপুরে ওনি আমার বাহুগুলো দেখেছিলেন, আর আমি দেখেছিলাম আমার স্বপ্নের রাজকুমারের উন্মুক্ত বুক। যা ছিল ঘন লোমে ঘেরা…..
আচ্ছা, শুনো তাহলে কিভাবে কি হলো……
সেদিন ছিল শুক্রবার।
বরাবরের মত সেদিন দুপুরে আর বাবার বাথরুমে যায়নি, যেতে চেয়েছিলাম আমার বাথরুমে। যেটা আগে সাইমা ইউজ করত। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আর সাইমা এবং স্যারের স্যরি ভাইয়ার বাথরুম একসাথে থাকায় ভুল করে সেই বাথরুমেই ঢুকে পরি। তারপর…
তারপর…………
মনে হচ্ছে আম্মু ডাকছে। ডায়েরী’টা হাত থেকে রেখে আম্মুর রুমের দিকে ছুটে চললাম। নিচতলায় আম্মুর রুমে গিয়ে আম্মুর পাশে বসলাম। আম্মু তখন শুয়েছিল, আমাকে দেখে শুয়া থেকে উঠে বসল। তারপর বলল,
ঘুমের ডিস্টার্ব করলাম মা?
আমি আম্মুর হাত’টা ধরে বললাম, এইসব কি বলছো আম্মু?!!! ঘুমের ডিস্টার্ব হবে কেন?? তুমি আমার ‘মা’…..তুমি আমায় ডেকেছ, অন্য কেউ তো নয়। আর তাছাড়া আমি এখনো ঘুমাইনি। এখন বলো কি বলবে?
-‘ তোর ভাইটার না অনেক মাথা। বিকেল থেকেই প্রচন্ড মাথা ব্যথা। ঔষধও খাচ্ছে না, তুই গিয়ে মলম লাগিয়ে ওর কপালের চারপাশটা একটু টিপে দিবি?!!!!
আমার শরীরটা বেশী ভালো লাগছে না তাই তোকে বলছিলাম। না করিস না…….
-‘ মা তোমার মুখের উপর না করব এটা তুমি কল্পনা করলে কিভাবে? তুমি বলবে আর আমি তা শুনব না তা ভাবলে কিভাবে? তুমি নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকো, আমি আসছি। মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে উপরে চলে গেলাম। উপরে গিয়ে ওনার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সেদিনের ঘটনায় এতটাই লজ্জা পেয়েছিলাম যে, ওনার সামনে আর যাওয়া হয়নি। গেলেও ওনার দিকে তাকাতে পারিনি। ওনার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ওনার রুমে ঢুকব কি ঢুকব না সেই দ্বিধা-দ্বন্ধে ছিলাম। হঠাৎ’ই ভেতর থেকে একটা পেলাম। কারো গোঙ্গানির আওয়াজ। আর কিছু না ভেবে’ই ছুটে চললাম ওনার রুমের দিকে। যা ভাবছিলাম তাই……
ওনি চোখ বোজে কান্না করতেছে মাথা ব্যথায়। আমি গিয়ে ওনার কাছে বসলাম। ওনি আরো জোরে কান্না করছে। হাতে রাখা মলমটার কৌটা থেকে কিছু মলম আঙুল দিয়ে নিয়ে ওনার কপালের চারিপাশে লাগিয়ে দিলাম। তারপর আস্তে আস্তে টিপতে শুরু করলাম। ওনি কান্না করতেছে আর আমি ওনার মাথা’টা টিপে দিচ্ছি। আস্তে আস্তে কান্নার মাত্রাটা একটু একটু করে কমে আসে। কপাল থেকে হাত সরিয়ে আমি যখন চলে আসি তখন ওনার কান্নার মাত্রাটা দ্বিগুন বেড়ে যায়।
সাহস হয় না এভাবে রেখে চলে যাওয়ার। আরেকটু টিপে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যায় ওনার দিকে। ওনি কান্না করে আর আমি মাথা টিপে দিচ্ছি। আর ভাবছি-
আহারে! বেচারা মাথা ব্যথার যন্ত্রণায় কত্ত কষ্ট পাচ্ছে। ওনার মাথা টিপতে টিপতে কখন যে সে স্থানেই ঘুমিয়ে পরি, বুঝতে পারিনি। ঘুম ভাঙলে নিজেকে ওনার বুকে আবিষ্কার করি। এত্ত রাত্রে ওনার বুকে এভাবে…….
ভয় পেয়ে গেলাম।
ভয়ে ওনাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য যেই না মাথা উঠাতে গেলাম ওমনি ওনি আমার মাথাটা ওনার বুকে চেপে ধরলেন। আবারো উঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম।
এবার ওনি আমায় আরো শক্ত করে জাপটে ধরলেন-
– কি করছেন এসব? (আমি)
~শুনো, এই বুকে কান পেতে শুনো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস তোমার কথায় বলছে…..
হৃদকম্পন টের পাচ্ছ কি? বুঝতে পারছো কি আমার না বলা কথাগুলো? (সিয়াম)
-‘ ভাইয়া,কি বলছেন এইসব?
মাথা ঠিক আছে আপনার?(আমি)
-‘ ওনি ধপাস করে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর আমার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন। মাথা নিচু করে বললেন, স্যরি…….

চলবে….