My_Mafia_Boss_Husband Part:37

0
292

My_Mafia_Boss_Husband Part:37
Mafia_Boss_Season2

Writer:Tabassum Riana
রুহীকে জোর করে দুই তিন লোকমা খাইয়ে দিয়ে রুহীকে ধরে রুমে নিয়ে এলো রুমু।রুহীর কান্না থামছেইনা।খুব কষ্টে রুহীকে ঘুম পাড়ালো রুমু।ঘুমের মাঝেও চোখের কোনা বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো আর রুহী নিজে ও কেঁপে কেঁপে উঠছিলো।রুমু রুহীকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো সারারাত। চোখের সামনে রুহীকে এমন অবস্থায় দেখতে পারছেনা রুমু।রুমুর ও ভীষন কষ্ট হচ্ছে রুহীর জন্য।চোখ জোড়া ভিজে গেছে রুমুর।কিছুক্ষন পর রুহীর চোখে ঘুম নেমে এলো।রুমু ও ঘুমিয়ে গেলো।ঘুম ভাঙ্গার পর ও পাঁচ মিনিট চোখ বুজে শুয়ে ছিলো রুহী। রুহী উঠো!!!নাস্তা করতে হবে অতিপরিচিত কন্ঠে কথাটা শুনে চোখ খুলে রুহী।চারপাশে তাকিয়ে রোয়েনকে খুঁজতে লাগলো রুহী।কোথা ও নেই রোয়েন।ফুঁপাতে লাগলো রুহী।খাট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সব খানে খুঁজতে লাগলো রোয়েনকে।আপনি কই?প্লিজ সামনে আসেন।কোথায় আপনি!!!!!ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলল রুহী।রুহীর মাথাটা কেমন যেন ঘুরে আসে।চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসছে।হাতড়ে হাতড়ে খাটে বসে পড়ে রুহী।পরে আর কিছু মনে নেই।
আজ নতুন বুয়া এসেছে রুহীর খেয়াল রাখার জন্য।বয়স্ক মহিলা।বড় ঘোমটা টেনে মুখ ঢেকে রেখেছেন ওনি।মহিলা বিধবা।আনিলা বেগমের উকিল বোন শাহরিনা রহমান পাঠিয়েছেন ভাগনির জন্য।বুয়াকে নিয়ে রুহীর রুমে এলো রুমু।খাটে পড়ে আছে রুহী।রুমু দৌড়ে রুহীর কাছে এসে বসলো।রুহী!!!রুহী!!!!!।ম্যাডাম মনে অয় জ্ঞান হারাইয়া ফালাইছে।বুয়া বলে উঠলো।রুমু দৌড়ে পানি এনে রুহীর মুখে ঝাপটা দিলো।

রুহী চোখ বন্ধ করেই নড়ে উঠলো।রুহীর মাথাটা আস্তে করে রুমু নিজের হাতে নিলো।কি হয়েছে তোর রুহী?কাঁদতে কাঁদতে প্রশ্ন করলো রুমু।ওনি এখানে আছেন রুমু।কেন সামনে আসছেননা?ওনাকে আসতে বল সামনে।বাঁচবোনা আমি ওনাকে ছাড়া।আমার পরিচয় ওনি।ওনিই তো সব।চোখ বুজে বলতে রুমু বলনা ওনাকে আসতে। কেঁদে উঠলো রুহী।এমন করছিস কেন রুহী?মরে যাবি তুই।কেঁদে দিলো রুমু।এই কয়দিনে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়ে গেছে রুহীর।চেহারার কমনীয়তা হারিয়ে গেছে।এ কয়দিনে যেন বয়স টা চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে।বুয়া আপনি ওর পাশে বসেন আমি নাস্তা নিয়ে আসছি।রুমু খাট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো।মাথা নাড়লো বুয়া।রুমু চলে গেলো।বাথরুম থেকে পানি এনে রুহীকে মুখ ধুইয়ে দিলো বুয়া।ঢলছে রুহী।বসে থাকার শক্তিটা ও যেন নেই।খুব খারাপ লাগতাছে আপনার?প্রশ্ন করে উঠলেন বুয়া।ওনাকে এনে দাও কেউ।আমি আর কিছু চাইনা।আমার কিছুই লাগবেনা।আমার বাচ্চাটার জন্য হলে ও ওনাকে দাও কেউ প্লিজ।অসুস্থ গলায় বলতে লাগলো রুহী।বুয়া রুহীর চোখ মুছে দিচ্ছে।জানো কে পাঠাইছে আমারে?বলে উঠলেন বুয়া।চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়িয়ে ইশারা করে প্রশ্ন করলো রুহী।কে পাঠিয়েছে?তোমার খালা শাহরিনা রহমান।রুহী কিছুই বলছেনা।রুমু এসে রুহীর সামনে বসলো।জোর করে ও রুহীকে একটু রুটি ও খাওয়ানো গেলো না।মামনি আপনি চাইলে আমি চেষ্টা করতে পারি।আমাগোর বস্তিতে এক মাইয়ার জামাই মইরা গেছিলো।সেসময় ঐ মাইয়া সাত মাসের বাইচ্চা পেডে আছিলো।মাইয়া কিছু খাইতোনা।কেউ ঐ মাইয়ারে খাওয়াইতে ফারতোনা।আমিই খাওয়াইছি মাইয়ারে।এক নাগাড়ে বলে উঠলো বুয়া।রুমু কিছুক্ষন বুয়ার দিকে তাকিয়ে বলল আচ্ছা আপনি চেষ্টা করুন।বুয়া রুহীর পাশে বসে মায়ের মতো আদর করে রুটি খাইয়ে দিলো।বেশ জোরাজুরি করতে হয়ছিলো তবে একটা রুটি খুব কষ্টে খাওয়ানো হয়েছে রুহীকে।
খাবার শেষ করে রুহীকে বালিশে শুইয়ে দেয়া হলো।বুয়া রুহীর রুমে ফ্লোরে ঘুমিয়ে আছে।রুমু কোন এক কাজে আনামের সাথে বাহিরে গেছে।রুহীর হাতে কেমন যেন টান অনুভব হচ্ছে।চোখ বন্ধ করেই হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে রুহী।হাতটা রুহীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করছে।কিছুটা বিরক্ত হয়ে চোখ খুলল রুহী।রাহিন রুহীর ওপর উঠার চেষ্টা করছে।কি করছেন কি?ছাড়ুন।চিৎকার করবো আমি!!!চিল্লিয়ে বলতে লাগলো রুহী।হঠাৎ বুয়া উঠে রাহিনকে লাঠি দিয়ে পিটাতে লাগলো।আর অশ্রাব্য গালি দিতে লাগলো।রাহিন বুয়ার সাথে না পেরে দৌড়ে পালালো।রুহীকে বুয়া জড়িয়ে রাখলো।রুহী কাঁদছে।কেমুন অসভ্য বেডা।লুইচ্চা বেডা কহন যাইবো কে জানে?রাহিনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বকতে লাগলো বুয়া।থাক মামনি তুমি ঘুমাও আমি আছি তোমার সাথে।রুহীকে বালিশে শুইয়ে দিতে দিতে বলল বুয়া।কিছুক্ষন পর রুমু ফিরে রুহীর রুমে এলো।বুয়া রুহীর ফুলে যাওয়া পায়ে তেল লাগাচ্ছে।রুহী অনেকবার পা সরাতে চেয়েছিলো।কারন মুরব্বি মানুষ বুয়া।রুহীর খুব খারাপ লাগছিলো বুয়া ওর পা ধরায়।রাহিন এসেছিলো রুহীকে জিজ্ঞেস করলো রুমু।হ আইছিলো। আমি পিডাইয়া রুম থেকে তাড়াইছি হারামিডারে।বুয়া বলে উঠলো।রুহীর সেদিকে মনযোগ নেই।চোখ জোড়া ভিজে আছে।যেদিকে তাকায় রোয়েনকে দেখতে পায় রুহী।
খালি রোয়েনের উপস্থিতি অনুভব হয় রুহীর।সবাই ঘুমুচ্ছে।চারিদিক অন্ধকার ডাইনিং রুমের লাইট জ্বালানো দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যায় রুহী।নিচে নেমে আসে সিড়ি বেয়ে।সার্ভেন্ট রুম থেকে ফিসফিস শব্দ ভেসে আসছে।রুহী দরজার ফাঁকা দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো।রুসমী আজমল খানের বুকে শুয়ে আছে।দুজনে মাতাল গলায় রোমান্টিক কথা বার্তা বলছে।রুহীর চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসছে।হঠাৎ সরে আসতেই রুহীর চুড়ির শব্দ হয়।রুহী দরজা থেকে সরে আসে।চুড়ির শব্দে আজমল খান রুসমীকে ছেড়ে উঠে বসে।রুসমী কে যেন আমাদের কথা শুনে ফেলেছে।রুসমী গায়ে কাঁথা জড়িয়ে বেরিয়ে রুহীকে দেখতে পায়।ওহ আপনি?মানুষের প্রাইভেট মোমেন্ট দেখতে এসেছেন?লজ্জা করেনা?নিজের বর কে তো খুন করে এসেছেন।এখন আমাদের জ্বালাতে এসেছেন।জানেন ভিতরে কে আছে এখন আপনার বাপ।রুসমীর কথা গুলো রুহীর শরীরে আগুন লেগে যাওয়ার মতো জ্বলছিলো।কষিয়ে চড় বসিয়ে দিলো রুহী রুসমীর গালে।লজ্জা করেনা বাপের বয়সী এক লোকের সাথে রাত কাঁটাতে?সে তোর বাপের বয়সী।কি করে পারলি?ছি!!!চিৎকার করে বলল রুহী।রুহীর গালে ও এক চড় বসিয়ে দিলো রুসমী।আমার গায়ে হাত তুলার সাহস দিলো কে?অবশ্য যা করার করেই ফেলেছি আমি আর তোর বুড়ো বাপ।বলে উঠলো রুসমী।রুহী ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে রুসমীর দিকে।প্রথম থেকে সব কাহিনী বলতে লাগলো রুসমী।আনিলা বেগমকে মারা থেকে রোয়েনের সাথে রাত কাঁটনোর দিনটি।জানিস সেদিন তোর বর রোয়েন নির্দোষ ছিলো।সে কিছুই করেনি।তাকে নেশা ধরানো ঔষধ খাইয়ে মাতাল করে রেখেছিলাম।তারপর তার কাপড় চোপড় খুলে তার বুকে আমি শুয়ে ছিলাম আমি।আর তুই সেটাকে সত্যি ভেবে তোর বর রোয়েনকে মেরেছিস।তোর মাকে রোয়েন না তোর বাপ খুন করেছে।চিৎকার করে বলল রুসমী।রুহী শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কি শুনছে? বিশ্বাস হচ্ছেনা রুহীর।এ কি করলো ও?নিজ হাতে রোয়েনকে মেরে দিলো?যার কোন দোষই ছিলোনা।রুহীর চোখ জোড়া বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।রোয়েনের কোন কথা না শুনে কতো বড় ভুল করেছে রুহী।হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রুহী।মুখে হাত চেপে ধরলো রুহী।রুসমী রুহীর সামনে থেকে রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো।ভিতর থেকে শব্দ আসছে গভীর সম্পর্কের। রুহী হাঁটু ভেঙ্গে নিচে বসে কাঁদতে লাগলো।চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলো রুহী।হঠাৎ মাথায় কারোর হাতের ছোঁয়া পেয়ে মাথা উঠালো রুহী।রোয়েন ওর মাথায় হাত রেখে মাথা নাড়িয়ে কাঁদতে না করছে।রুহী রোয়েনের গলা জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো।আপনি এসেছেন?কেন বারবার চলে যান?খুব কষ্ট হয় আমার রোয়েন।মাফ করে দিন প্লিজ।হঠাৎ রুহীর মনে হলো ও একেবারেই একা কেউ নেই।রুহী সরে এলো।আসলেই রোয়েন আসেনি।রুহী উঠে দাঁড়িয়ে রোয়েন বলে চিৎকার করতে লাগলো।
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here