My_Mafia_Boss_Husband Part:31

0
284

My_Mafia_Boss_Husband Part:31
#Mafia_Boss_Season2

Writer:Tabassum Riana

,,,,,,,দরজায় একদলা থুথু ছিটিয়ে দিলো আনাম।চোখ জোড়া পানিতে ভরে এসেছে ওর।আপনাকে বাবা বলতে ঘৃনা হচ্ছে।ছি!!আদর্শ মানতাম আপনাকে।আপনার জন্য বোনকে কতোটা কষ্ট দিয়েছি,কতো অপরাধ করেছি,শুধু আপনার জন্য বাবা।ছি!!লজ্জা হচ্ছে আপনি আমার বাবা।আই হেট ইউ!!!কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলো বলে সিড়ির দিকে পা বাঁড়ালো আনাম।,,,,,,,খাটে এসে শরীর এলিয়ে দিলো রুমু।আজ বিয়েটা যেভাবে হলো স্বপ্নের মতোই ছিলো।এভাবে আনামকে পেয়ে যাবে ভাবতেই পারেনি রুমু।বদটা কই আছে কে জানে।যখন বলছিলো আসবেনা ভীষন রাগ লাগছিলো রুমুর।কাল আসুক খবর নিবে আনামের।নতুন বৌ রেখে এভাবে কেউ বেরিয়ে যায়?কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই জানালার দিকে তাকায় রুমু।চাঁদ পূর্ন আলোয় আলোকিত আজ।কি সুন্দর লাগছে।চাঁদ দেখতে দেখতেই চোখে একরাশ ঘুম এসে ভর করে রুমুর।রুহীকে বুকে নিয়ে শুয়ে আছে রোয়েন।দুষ্টু পুতুলটা এখনো ঘুমা ও নি কেন?রুহীর কপালে ঠোঁট বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো রোয়েন।কিছু না বলে রোয়েনের ওপর চড়ে বসলো রুহী।ঐ কি হলো?ঘুমাবানা?ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো রোয়েন।আপনাকে আজ আদর দিবো।বলেই রোয়েনের গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো রুহী।রুহী!!!ঘুমাতে হবে তো।বলে উঠলো রোয়েন।উফ আপনি একটা তিতা করলা একটু আদর করবেন কোথায় ঘুমাতে বলছেন।রোয়েনের গলায় চুমো খেতে খেতে বলল রুহী।একটানে রুহীকে নিচে শুইয়ে ওর ওপর হালকা ভাবে শুয়ে পড়লো রোয়েন।কি বললে?আমি কি?রুহীর দিকে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল রোয়েন।তিতা করলা আপনি শুনেছেন তিতা করলা জোরে চিৎকার করে বলল রুহী।রুহীর ঠোঁটে জোরে শব্দ করে চুমো খেলো রোয়েন।এখন বলো তিতা করলা আমি।বাঁকা হেসে বলল রোয়েন।রোয়েনের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে রুহী।আজ তোমাকে না আমার বাবাটাকে আদর দিবো।বলেই রুহীর পেটের ওপর থেকে নাইটিটাকে একটু উঠালো রোয়েন।রুহী রোয়েনকে দেখছে।কি করতে চাইছে এ লুচুটা?রুহীর নরম তুলতুলে পেটে চুমু দিচ্ছে রোয়েন।প্রত্যেকটা স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে রুহী।শিউরে উঠছে ওর পুরো শরীর।
খাটে শুয়ে চোখের পানিতে বালিশ ভিজাচ্ছেন আনিলা বেগম।পাশে স্বামী নামক পুরুষটা নেই।কই আছেন জেনে ও কিছুই করতে পারছেননা আনিলা বেগম।বুকের ভেতর টা হুঁ হুঁ করে উঠছে তার।হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে চমকে উঠলেন আনিলা বেগম।অর্ধনগ্ন অবস্থায় রুমে প্রবেশ করলেন আজমল খান।টলতে টলতে আলমারির দিকে এগিয়ে এলেন।আলমারি খুলে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাঁড়ালেন আজমল খান।বাথরুমে কর্কশ কন্ঠে গান গেয়ে চলছেন আজমল খান।কিছুক্ষন পর বেরিয়ে এলেন আজমল খান।আনিলাকে দেখার চেষ্টা করলেন।
আনিলা ঘুমিয়েছো জানু?জিজ্ঞেস করে উঠলেন আজমল খান।
কোন কথাই বলছেননা আনিলা বেগম।চুপচাপ অানিলা বেগমের পাশে শুয়ে পড়লেন আজমল খান।

সকালে আনিলা বেগমের সামনে বসে আছে আনাম।রু
রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো আনাম।মাকে কাঁদতে দেখে বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো আনামের।দৌড়ে মায়ের সামনে এসে বসলো আনাম।মা কি হয়েছে? কাঁদছো কেন?প্রশ্ন করে উঠলো আনাম।
মেয়েটাকে বড্ড মিস করছিলাম আনাম।এসময়ে আমাকে ওর দরকার সবচেয়ে বেশি।ছোট মানুষ কিভাবে সব সামলাচ্ছে?রোয়েন কিছু বললেই আমাকে বিচার দিবে।রোয়েনকে কি যেন বলে জামাই ভাইয়া।
মা তোমার মেয়েকে খুব ভালোবাসে রোয়েন ভাই।পাগলীটা খুব ভালো আছে,খুব সুখে আছে।একনাগাড়ে বলে দিলো আনাম।তুই নিজে ও ওর খেয়াল রাখবি ঠিক আছে?রুহীর বড় ভাই তুই।চোখ মুছতে মুছতে বললেন আনিলা বেগম।আর তুই আসিস না কেন বাসায়?আর চেহারার এই হাল কেন করেছিস?ছেলের গালে আস্তে করে চাপড় মেরে বললেন আনিলা বেগম।মা কাজে একটু ব্যাস্ত ছিলাম তো।এখন থেকে আসবো বাাসায়।বলে মাকে জড়িয়ে ধরলো আনাম।চোখ জোড়া জ্বলজ্বল করে উঠলো আনামের।মায়ের পিছনেই চোখ মুছে নিলো আনাম।
রুহীকে নাস্তা করিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয় করলো রোয়েন।নিজ হাতেই দুষ্টু পুতুলের মুখ মুছিয়ে দিয়ে রেডি হতে লাগলো রোয়েন।কখন আসবেন আপনি?পিছন থেকে রোয়েনকে কোট পরিয়ে দিতে দিতে বলল রুহী।চলে আসবো।তুমি নিচে নেমোনা ওকে?এখানেই সব রেখে দিয়েছি যা লাগবে তোমার।রুহীর দিকে ফিরে বলে উঠলো রোয়েন।ঠিক আছে। বলে উঠলো রুহী।রুহীর কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে পড়লো রোয়েন।
রফিক আর শামীমের সাথে মিটিং করছিলো রোয়েন।আজমল খান খুব ডেঞ্জারাস চাল চালতে পারে।তার লক্ষ্য আমার শাশুড়ী।তার প্রত্যেক পদচারনা আমাদের গভীর ভাবে লক্ষ্য করতে হবে।বলে উঠলো রোয়েন।জি স্যার।আমাদের যে লোকরা ওনার দলে মিশে আছে।তাদের সাথে প্রতিনিয়ত আমাদের কনটাক্ট হচ্ছে।রফিক বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে বলল।
স্যার আনাম ভাই আসছে।একজন লোক বলে উঠলো।ভ্রু কুঁচকালো রোয়েন।আনামের এসময় এখানে আসার কথা না।
আধাঘন্টা আগে
রুহী কি খবর তোর?আনাম রুহীর সামনে খাটে বসে পড়লো।জি ভাইয়া এইতো ভালো।সোজা হয়ে বসলো রুহী।এই দেখ তোর জন্য কি এনেছি। একটা প্যাকেট দেখিয়ে বলল আনাম।উৎসুক হয়ে উঠলো রুহী।কই দেখি তো কি এনেছিস?তেতুল বের করলো আনাম।তোর খেতে ইচ্ছে করে তাইনা?হেসে বলল আনাম।জি ভাইয়া।এক থাবা দিয়ে আনামের হাত থেকে তেঁতুল নিয়ে নিলো রুহী।তুই কেমন করে জানলি? তেঁতুল কামড় বসিয়ে প্রশ্ন করে উঠলো রুহী।মা বলছিলেন তাই নিয়ে এলাম।বলে উঠলো আনাম।রুহী এক গাল হেসে তেঁতুল খাওয়ায় মন দিলো।রোয়েন ভাই কই?প্রশ্ন করে উঠলো আনাম।ওনার কাজের জায়গায় কেন?রুহী প্রশ্ন করলো।এমনি।আচ্ছা যাই।নিজের খেয়াল রাখিস।রুহীর মাথায় চুমো খেয়ে বেরিয়ে গেলো আনাম।আনামের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে খেতে লাগলো রুহী।
,,,,,,,,,হঠাৎ করে এখানে কেন আনাম?ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো রোয়েন।চোখ ভারি হয়ে আসছে আনামের। গলার স্বর বেরুচ্ছেনা।কি হলো?কিছু বলো আনাম।রাগী গলায় বলল রোয়েন।বাবা!!বলে উঠলো আনাম।কি করেছে ওনি?রক্তচক্ষু দিয়ে প্রশ্ন করলো রোয়েন।কাল যা দেখলো যা শুনলো সব একে একে বলতে লাগলো রোয়েনকে।হাত মুঠ করলো রোয়েন।কপালের রগ শক্ত হয়ে আসছে ওর।কান গরম হয়ে গেছে রোয়েনের।লোকটা পেলে মাটিতে গেড়ে দিতো রোয়েন।কথা গুলো শেষ হতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো আনাম।তুমি ভেঙ্গে পড়লে মাকে সামলাবে কে আনাম?পার্টির কথা বাদ রাখো।তোমার বাবার প্রত্যেকটা পদচারনা ক্ষতিকর মায়ের জন্য।মাকে আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে আনাম।মাথা ঝাঁকালো আনাম।আর একটা কাজ করো তোমাদের কাজের মেয়েটাকে আমার বাসায় পাঠাও।আমি ও তো দেখি কি করতে চায় এই মেয়ে?আচ্ছা উঠতে উঠতে বলল আনাম।রোয়েন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো।
আনিলা আনাম এসেছিলো। কই এখন?জিজ্ঞেস করে উঠলেন আজমল খান।চলে গেছে কি কাজ আছে জানি?বলে উঠলেন আনিলা বেগম।আমার সাথে কথা কেন বলেনি ও?প্রশ্ন করে উঠলেন আজমল খান।
জানিনা হয়ত ব্যাস্ত ছিলো তাই।আজমল খানের দিকে না তাকিয়ে বললেন আনিলা বেগম।কি জানি?কিছু জেনে গেলো নাকি এই ছেলে?খুব সতর্ক থাকতে হবে।ভাবতে লাগলেন আজমল খান।আনিলা পরশু আমাদের বিবাহ বার্ষিকী মনে আছে তো?হেসে বলে উঠলেন আজমল খান।হুম আছে তো। বলে উঠলেন আনিলা বেগম।একটা পার্টি দিবো বড় করে।রুহী আর রোয়েনকে ও জানিয়ে দিও।বললেন আজমল খান।হুম মাথা নিচু করে বললেন আনিলা বেগম।রুসমীকে রুহীর কাছে পাঠাতে বলল আনাম।রোয়েন বাসায় থাকেনা বেশিক্ষন। মেয়েটার খেয়াল রাখার মতো কেউ তো থাকার দরকার।বলে উঠলেন আনিলা বেগম।আজমল খান কিছুটা ঘাবড়ে গেলে ও কিছুটা সামলে নিলেন নিজেকে।অবশ্যই কেন না?বিকেলেই পাঠিয়ে দিও।বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন আজমল খান।আজমল খানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলেন আনিলা বেগম।জানিনা কি চলছে তোমার মনে?তবু ও জানি তোর পতন রোয়েনের হাতেই হবে।এবং সেটা খুব শীঘ্রই। বিড় বিড় করে বললেন আনিলা বেগম।রুমু ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কথা বলবেনা আজ আনামের সাথে।রুমুকে পিছন থেকে জড়িয়ে নিলো আনাম।বৌটা রাগ করেছে বুঝি?কথা বলবানা আনাম।রাগী গলায় বলল রুমু।সরি জানু আর কখনো হবেনা।
বলে উঠলো আনাম।হুহ মাথা বাঁকালো রুমু।এই রাগ ভাঙ্গাতে কি লাগবে বৌটার?হালকা হেসে বলল আনাম।অনেক ভালোবাসা চাই।মুচকি হেসে আনামের বুকে মুখ লুকালো রুমু।
রুহীকে গোসল করিয়ে বের করলো রোয়েন।ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসিয়ে রুহীর চুল মুছে দিচ্ছে রোয়েন।রোয়েনের পেটে মাথা দিয়ে আছে রুহী।হঠাৎ রুসমী রোয়েন রুহীর রুমে ঢুকে পড়লো। আরে রুসমী তুই?কিছুটা অবাক হলো রুহী।রুহী ও আসছে তোমার খেয়াল রাখবে।আমি তো আর সবসময় ঘরে থাকতে পারবোনা।বলে উঠলো রোয়েন।ওহ আচ্ছা। রুহী বলে উঠলো।রুহীর চুল মুছে রোয়েন আলমারির দিকে এগোতেই রুসমী রোয়েনের সাথে ধাক্কা খেলো।সর ভাইয়া দেখিনাই।বলে উঠলো রুসমী।ইটস ওকে।নিচে যা ভ্রু কুঁচকে বলল রোয়েন।আচ্ছা।বলে রুসমী নিচে চলে গেলো।
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here