My_Mafia_Boss_Husband Part: 29

0
205

My_Mafia_Boss_Husband Part: 29
Mafia_Boss_Season2

Writer:Tabassum Riana

,,,,,,,,,,,বুকটা বড়ই খালি খালি লাগছে রুমুর।কারনটা অজানা নয়।আনাম টা যাও খবর নিতো ওর কাছে আসতো।এখন তাও আসেনা।বড়ই নিঃশ্ব লাগছে রুমুর নিজেকে।আনামকে বারবার তাড়িয়ে কোন ভুল করেনি তো ও?কিছুই ভালো লাগছেনা উফ।খাটে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে রুমু।বারবার ফোনটা হাতে নিয়ে চেক করছে।এই যেন আনাম কল দিলো।কিন্তু আনাম কল করছেনা কেন?ভাবতেই অস্থির লাগছে রুমুর।রাত একটায় আনিলা বেগম আজমল খান ঘরে ফিরে এলো।দুজনে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে পড়লো।আনিলা বেগম আড় চোখে আজমল খানকে দেখে নিলেন।লোকটার হঠাৎ এতো পাল্টে যাবার কারন বড়ই অদ্ভুত লাগছে আনিলা বেগমের।আজমল খান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।শরীরটা বারবার উঠানামা করছে আজমল খানের।আনিলা বেগম অপর পাশ ফিরে চোখ বন্ধ করলো।কিছুক্ষনের মাঝেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন আনিলা বেগম।
,,,,,,,,,,,,,,,পানির পিপাসায় ঘুম ভেঙ্গে গেলো আনিলা বেগমের।ঘড়িতে তিনটা বেজে ত্রিশ মিনিট।জগে একটু পানি ও নেই।জগ হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই বিছানায় চোখ পড়লো আনিলা বেগমের।আজমল খান বিছানায় নেই।সচরাচর ঘুম থেকে উঠেননা আজমল সকাল হবার আগে।বাথরুমের দিকে তাকালেন আনিলা বেগম।দরজা তো খোলা লাইট ও অফ।জগ হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন আনিলা বেগম।সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন আনিলা বেগম।পাকঘরের দিকে এগোতেই কাজের মেয়ের রুম থেকে বেরিয়ে এলেন আজমল খান।চুলো আউলা ঝাউলা হয়ে আছে,গায়ে পাঞ্জাবী জড়াতে জড়াতে আনিলাবেগমের সামনে এসে পড়লেন আজমল খান।কিছুটা কেঁপে উঠলেন আজমল খান।আ আনিলা ত তুমি এখানে কেন?তোঁতলিয়ে উঠলেন আজমল খান।হাতের জগ দেখালেন আনিলা বেগম।পানি নিতে এসেছিলাম। শান্ত গলায় বললেন আনিলা বেগম।ওহ, পানি নিয়ে উপরে এসে ঘুমিয়ে পড়ো।বলে আর না অপেক্ষা করে সিড়ির দিকে পা বাঁড়ালেন আজমল খান।কাজের মেয়েটার রুমের লাইট অন হলো।আনিলা বেগম দরজায় উঁকি দিলেন।মেয়েটা গায়ে চাদর জড়িয়ে ওয়াশ রুমে যাচ্ছে।সরে এলেন আনিলা বেগম।দৃশ্যটা ওনার বুকের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।তার স্বামী কাজের মেয়ের সাথে!!!!!ছিহ!!!!! অবশ্য এ লোকটার ওপর ভালো কিছু আশাও তো করা যায়না।জগে পানি ভরিয়ে দুগ্লাস পানি ঢকঢক করে গিলে নিলেন আনিলা বেগম।চোখ বেয়ে অশ্রু বন্যা গড়িয়ে পড়ছে।চোখ জোড়া মুছে রুমে যাওয়ার জন্য এগুলেন আনিলা বেগম।

,,,,,,,,,,নাস্তা নিয়ে বসে আছে রোয়েন রুহীর সামনে।মেয়েটা বড় আহ্লাদী হয়ে গেছে।কিছু খেতে চায়না।কথায় কথায় মাকে ফোন দিতে যায়।রুহী খেয়ে নাও। রুহীর দিকে রুটি ধরলো রোয়েন।মাথা বাঁকিয়ে নিলো রুহী।উহু খাবোনা।বলে উঠলো রুহী।একটু তো খেয়ে নাও।বাবুর জন্য একটু খাও।বলে উঠলো রোয়েন।মাথা নাড়লো রুহী।ভালো লাগছেনা।বললাম তো খাবোনা।নিয়ে যান বলে উঠে যেতে চাইলো রুহী।রুহীর হাত টেনে খাটে বসিয়ে দিলো রোয়েন।এতক্ষণ ভালো মতো বলছি তাই গায়ে লাগছেনা?খেতে হবে।খেয়ে নাও।ধমক দিয়ে উঠলো রোয়েন।লাল চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলালো রুহী।জামাই ভাইয়া এতো বকছেন কেন?আপনি একটা জামাই ভাইয়া।দাঁড়ান মা কে কল দিচ্ছি বলবো জামাই ভাইয়া বকছে আমাকে।বলেই ফোন হাতে নিলো রুহী।What the,,,,,,,,,রুহীর মুখে জামাই ভাইয়া শুনে মেজাজ খারাপ হলে ও খানিকটা সামলে নিলো নিজেকে রোয়েন।ততক্ষনে আনিলা বেগমকে কল দিয়েছে রুহী।
,,,,,,,,,,,হ্যালো মা!!!!কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে উঠলো রুহী।
,,,,,,,,,,, কিরে মা কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন?কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়লো আনিলা বেগম।এমনিতেই মনটা ভালো নেই তারওপর মেয়ের কান্না আরো ভয় পেলো আনিলা বেগম।
,,,,,,,,,,,জামাই ভাইয়া বকেছে।রোয়েনের দিকে অভিমানী চোখে তাকিয়ে বলল রুহী।রুহীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রোয়েন।বৌয়ের এমন আহ্লাদী পনায় হাসবে না কাঁদবে?বুঝতে পারছেনা রোয়েন।
,,,,,,,,,,,জাম,,,,,,,জামাই ভাইয়া!!!!এটা আবার কি রে মা।এই জামাই ভাইয়াটা কে?অবাক হয়ে প্রশ্ন করে বসলেন আনিলা বেগম।
,,,,,,,,,,,,,,লুচু মাফিয়াটা।মুখ ভোঁতা করে বলল রুহী।
রোয়েনের এবার রাগ চরম মাত্রায় পৌছে গেছে।
,,,,,,,,মেয়ের এমন বাচ্চাপনা কথায় হো হো করে হেসে দিলেন আনিলা বেগম।কিছুটা নিজেকে সামলিয়ে নিলেন আনিলা বেগম।তা রোয়েন বকলো কেন?হাসি থামিয়ে প্রশ্ন করলেন আনিলা বেগম।
,,,,,,,খালি খেতে বলে।না খেলে বকে শুধু।কাঁদো গলায় বলল রুহী।রোয়েন এবার রুহীর হাত থেকে ফোন কেঁড়ে নিয়ে কানে রাখলো ফোন।মা সব ঠিক আছে।ওর কথায় কান দেবেন না।ফোন রাখলো রোয়েন।রুহী ওর দিকে ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে।এসব কোন ভদ্রতা?কান থেকে ফোন নিলেন কেন?অভিমানী কন্ঠে বলে উঠলো রুহী।
,,,,,,,,,,,,,,,,আগে খেয়ে নাও।তারপর যতো ইচ্ছে কথা বলো।বলে রুহীর মুখে রুটি গুঁজে দিলো রোয়েন।খুব কষ্টে নাস্তা করালো রুহীকে।দিন যতো এগুচ্ছে রুহীর দুষ্টমি আহ্লাদীপনা বেড়ে চলছে আর তার সাথে বেড়ে চলছে রোয়েন আর রুহীর ভালোবাসা।খাওয়াতে নিলেই বাহানা শুরু হয়ে যায় রুহীর।কিন্তু নিজের ইচ্ছাতেই রোয়েনকে জড়িয়ে ধরে ঘুমের সময়ে।
,,,,,,,,,,,,আনামের সাথে কথা হয়না তিনদিন গড়িয়ে চারদিন হলো।আনামের কোন হদিস পাচ্ছেনা রুমু।রাগে দুঃখে নিজের চুল টেনে টেনে ছিড়লো এতক্ষন।উঠে জামা কাপড় চেঞ্জ করে রেডি হয়ে নিলো রুমু।বাহিরে বের হবে পরিষ্কার বাতাস লাগবে ওর।বাহিরে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করলো রুমু।হঠাৎ একটা মাইক্রো এসে ওর সামনে দাঁড়ালো।রুমু সামনে ও এগোতে পারছেনা পিছে ও যেতে পারছেনা।দুজন লোক ওর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।ঠিক সে সময় কে যেন রুমুর মুখ চেপে মাইক্রোবাসে ঢুকিয়ে দিলো।গাড়ি চলছে। রুমু হাত পা ঝাপটাচ্ছে।কারোর মুখ দেখা যায়না।লোকটার হাতে অনেক গুলো খামচি দিলো রুমু।কিন্তু ছাড়ার নাম নিচ্ছেনা।
,,,,,,,,,,কিছুক্ষন পর গাড়িটা কাজী অফিসের সামনে থামলো।রুমুকে লোকটা ঠেঁলতে ঠেঁলতে কাজী অফিসের ভিতরে নিয়ে এলো।কি হতে যাচ্ছে এসব?এখানে নিয়ে এলো ওকে এ লোকগুলো?ওর পাশে বসে থাকা লোকটা কাজীর কক্ষের ভিতর ঢুকে গেলো।আশেপাশে তাকাচ্ছে রুমু।সবাই যে যার কাজে ব্যাস্ত।
রুমু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। দরজা দিয়ে খুব গোপনীয়তার সাথে বেরিয়ে আসতেই দুইজন মেয়ে ওর সামনে দাঁড়ালো।
,,,,,,কই যাচ্ছেন আপনি?একজন মেয়ে জিজ্ঞেস করে উঠলো।
,,,,,,,,চলে যাচ্ছি আমি।কেন এনেছেন এখানে আমাকে?কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলো রুমু।
,,,,,,,,,,,বিয়ে করতে বলেই মেয়ে দুটো রুমুর হাত ধরে ফেললো।চলুন স্যার অপেক্ষা করছে আপনার।মেয়ে দুটো বলতে লাগলো।
,,,,,,,,কিসের বিয়ে কাকে বিয়ে!!!বিয়ে আমি করবোনা।প্লিজ ছেড়ে দিন।
,,,,,,,একদম চুপ।বলে উঠলো মেয়েগুলো।রুমুর হাত টানতে টানতে একটা খালি রুমে নিয়ে এলো মেয়ে গুলো।রুমু কে খাটে বসিয়ে সাজাতে লাগলো ওরা।রুমুর চোখজোড়া বারবার ভিজে আসছে।আনাম কোথায় কেন আসছেনা?কাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে ও?ভাবতে থাকে রুমু।কিছুক্ষণ পর রুমুকে সাজিয়ে বেরিয়ে আসে ওরা।লাল লেহেঙ্গা আর বেশ কিছু গহনা পরানো হয়েছে ওকে।একজন ফুলের পাগড়ি ওয়ালা লোক ওর হাত ধরে সামনের দিকে এগোতে লাগলো।
,,,,,,,,,আমি বিয়ে করবোনা আচমকাই বলে উঠলো রুমু।তখনই লোকটা দাঁড়িয়ে গেলো।কিছু বলছে না লোকটা।কিছুক্ষন পরে লোকটা পকেট থেকে ফোন বের করে রুমুর সামবেসামনে ধরলো।ভিডিও অন করা ফোনে।আনামকে বেঁধে অনেক গুলো লোক মারছে।ফোনটা হাতে নিলো রুমু।ওকে মারছেন কেন?প্লিজ ছেড়ে দিন।আগে বিয়ে করো।নাহলে আনাম বাঁচবেনা। লোকটা গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো।প্লিজ ওকে কিছু করবেন না।ওকে ভালোবাসি আমি।কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো রুমু।
তাহলে বিয়ে করতে হবে আমায়।সিদ্ধান্ত তোমার হাতে।বলে রুমুর হাত ধরে হাঁটতে লাগলো লোকটা।
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here