My_Mafia_Boss পর্ব-২৮

0
410

My_Mafia_Boss পর্ব-২৮
Writer:Tabassum Riana

রোয়েন বেরিয়ে আসে আফজাল সাহেবের বাসা থেকে।মেজাজ প্রচন্ড রকমের বিগড়ে আছে।আনিলা বেগম কে একেবারেই পছন্দ না ওর।শুধু মাত্র রুহীর জন্য ওনার সাথে কথা বলতে হয়।আর ওনি যা বললেন রুহী কে সেটার পর তো আনিলা বেগমের প্রতি ওর মন বিষিয়ে উঠেছে।ইচ্ছে হচ্ছিলো মেরে ফেলতে আজ। নিজেকে খুব কষ্টে সামলে নিয়েছে রোয়েন।গাড়িতে চেপে বসে ল্যাপটপ অন করলো রোয়েন। রুহী বিছানা শুয়ে কাঁদছে।মেয়েটা এতো ইমোশনাল কেন?ওকে কঠিন হতে হবে রোয়েনের মতো।কারন এখন যদি রোয়েনের কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে রুহী সহজেই ভেঙ্গে পড়বে।রোয়েন নিজে ও এখন সে অবস্থায় নেই যে নিজেকে আর রুহীকে রক্ষা করতে পারবে।গাড়ি স্টার্ট দিলো রোয়েন।

রুহী শুয়ে আছে।চোখের কোনায় অশ্রু জমে আছে।রোয়েন টা কেন এমন করে?ভালোভাবে বললেই তো পারে।সবসময় শুধু রাগ দেখানোর কি হলো?তিতা করলা বজ্জাত একটা হুহ আবার ও কাঁদতে শুরু করলো রুহী।হঠাৎ ওর খেয়াল হলো ও ধীরে ধীরে উপরে উঠে যাচ্ছে।চিৎকার করতে যাবে ঠিক তখনই ওর কোমড় জড়িয়ে ধরলো রোয়েন।রোয়েনের দিকে এক নজর তাকালো রুহী।রোয়েন ওর দিকে তাকিয়ে আছে তবে আজ ওর চোখে কোন রাগ নেই।রুহীকে কোলে নিয়ে রুমে এলো রোয়েন।রুহীকে খাটে বসিয়ে বাথরুম থেকে পানি এনে রুমাল দিয়ে ওর চোখ মুখ মুছে দিলো।রুহীর ঠোঁটের দিকে তাকাতেই মন খারাপ হয়ে গেল রোয়েনের।ঠোঁটের কোনে জমে যাওয়া রক্ত গুলো ভিজা রুমাল দিয়ে ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো রোয়েন।নিচে কল দিয়ে কাজের লোকগুলোকে খাবার পাঠাতে বলে রুহির পাশে এসে বসলো রোয়েন।

রুহী তোমাকে শক্ত হতে হবে।এই দুনিয়ায় ইমোশনাল হলে চলে না।মানুষ খুব সহজেই তোমার উপর চেপে বসবে।তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।তোমাকে আমার জীবনে আনা ঠিক হয়নি।কারন আমার জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই।যেকোন সময় কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।এখন এ মুহূর্তে আমার শারীরিক অবস্থা তোমায় রক্ষা করার মত নেই।তাই অস্ট্রিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।খুব দ্রুত ফিরে আসবো। তোমাকে শুট করা শিখতে হবে আমার জন্য না তোমার জন্য,তোমার সেফটির জন্য।রুহীর দুগালে হাত রেখে বলল রোয়েন।রুহী হা সূচক ভাবে মাথা নাড়লো।কাজের লোকটি খাবার নিয়ে আসতেই রোয়েন উঠে দাঁড়ালো।খাবারের ট্রে নিয়ে রুহীর কাছে এসে বসলো।রুহীকে নিজের হাতে খাইয়ে নিজে ও খেয়ে নিলো রোয়েন।দুজনে হাত মুখ ধুয়ে নিলো।রোয়েন খাটে বসে চোখ বন্ধ করে বসে আছে।রুহী ওর পাশে এসে বসলো।রোয়েনের এক হাত খাটের ওপর রাখা।রুহী খুব ধীরে ধীরে রোয়েনের হাতের ওপর হাত রাখলো।একটি কোমল ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া পেয়ে চোখ খুলে হাতের দিকে তাকালো রোয়েন।রুহীর হাত ওর হাতের ওপর। রুহীর দিকে এবার তাকালো রোয়েন।

রুহীর হাত এবার শক্ত করে ধরে কাছে টেনে নিলো রোয়েন।রুহীর কোমড়ে এক হাত রাখলো তারপর বলতে শুরু করলো আজ ছোট একটা ছেলের গল্প শুনাবো তোমায়।ছোট্ট ছেলের!!!! অবাক হয়ে তাকালো রুহী।বড় একটি নিশ্বাস নিলো রোয়েন হুম ছোট্ট একটি ছেলের।ছেলেটির খুব সুন্দর একটা পরিবার ছিলো সেখানে ছিলো মমতাময়ী একজন মা,পরীর মতো দেখতে ছোট্টবোন।বাবা ছিলোনা?গল্পের মাঝেই জিজ্ঞেস করে বসলো রুহী। কথার মাঝে কথা বলা পছন্দ করিনা রুহী।আর সে লোকটা বাবা হবার যোগ্যতা রাখেনি কঠিন মুখে বলল রোয়েন।ছেলেটার বয়স ৮বছর ছিলো।এ বয়সেই সে অনেক কষ্ট সহ্য করেছিলো।মাকে রাতের পর রাত জেগে জেগে কাঁদতে দেখেছে।বাবা কখনো কখনো রাতে মাকে খুব মারতেন।কারন মা তাকে অন্যান্য মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশায় বাঁধা দিতো। ছোট বোনটাকে আগলে রাখতো ছেলেটা যখন বাবা মাকে মারতেন। ছেলেটা কিছু বলতে পারতোনা কিন্তু মায়ের কষ্ট ও সহ্য হতো না।এভাবেই বেশ কয়েকটাদিন কেঁটে যায়।তারপর বাবা এক মাফিয়া গ্রুপের সাথে মিলে যায়।সেদিন শনিবার রাত ছিলো। বাবা বাসায় ছিলেন না।কিছু লোক জোর করে ছেলেটার বাসায় ঢুকে পড়ে।ছেলেটা সেই মুহূর্তে ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলো।লোকগুলো মা আর বোনকে ধর্ষন করে মেরে ফেলে। ওদের চিৎকারে ছেলেটা উঠে যায়।লোকগুলোকে দেখে ফেলেছিলো ছেলেটা।কথা গুলো বলার সময় রোয়েনের চোখের কোনা বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো।চোখ দুটো ভীষন লাল হয়ে গেছে ওর।

রুহীর চোখে ও ভিজে গেছে।ছেলেটা কই এখন?আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো রুহী।ছেলেটা এখন তোমার পাশে যে তোমার হাত ধরে আছে শক্ত করে।আপনার বাবার জন্য আপনি মাফিয়া হয়েছেন? কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলো রুহী।না মাফিয়া হওয়ার পিছনে কারন আছে।রুহী কিছু বলতে থামিয়ে দিলো রোয়েন।এখন জিজ্ঞেস করোনা কি কারন? আমি তোমায় এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারবোনা।আমি শুধু চাই তুমি আমার সাথে থাকো। তাহলেই হবে।রুহীর চোখের পানি গুলো গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো।একটা মানুষ কতোটা কষ্টের পর এমন একটা অবস্থায় এসেছে ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে রুহীর।পরশু আমরা অস্ট্রিয়া যাচ্ছি।কাল সব প্যাকিং কমপ্লিট করে নিবে।

মাথা ঝাঁকালো রুহী।রোয়েন এবার রুহীকে শুইয়ে ওর ওপর আধশোয়া হলো।প্লিজ চলে যেওনা আমায় ছেড়ে।আমার কেউ নেই তুমি ছাড়া।যাবোনা আমি কোথাও যাবোনা আস্তে করে বলল রুহী।রোয়েন রুহীর গলায় মুখ ঢুকালো।অসংখ্য চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলো রুহীকে।মনের অজান্তেই রুহীর উড়নাটা ফেলে দিলো রোয়েন।রুহীর গালে কপালে উষ্ণ ভালবাসার পরশ দিয়ে রুহীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো রোয়েন।পরম আবেশে চুমো খেতে শুরু করলো রুহীকে।রুহী নিজেকে সামলাতে পারছেনা। রোয়েনের উষ্ণ ভালোবাসায় মাতাল হয়ে যাচ্ছে। রোয়েনের শার্টের বোতাম গুলো খুলে দিতেই রোয়েন এক লাফে উঠে বসলো।রুহী ও উড়না নিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।আ’ম সরি রুহী রোয়েন রুহীর দিকে না তাকিয়ে বলে উঠে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here