My_Mafia_Boss পর্ব-১৫

0
465

My_Mafia_Boss পর্ব-১৫
Writer:Tabassum Riana

রোয়েন রুহীর হাতে ভালবাসার পরশ বুলিয়ে দিতে থাকে।রুহীর যে গালে চড় মেরেছিলো সে গালে আস্তে করে হাত বুলায় রোয়েন।রুহীর আরেকটু কাছে এগিয়ে আসে রোয়েন।রুহীর এক গালে হাত রেখে যে গালে থাপড় দিয়েছিলো সেই গালে ভালোবাসার পরশে ভরিয়ে দিতে থাকে।রুহীর ভিতর তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।চোখের কোনা বেয়ে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে ওর।রোয়েন রুহীকে শুইয়ে দিয়ে ওর ওপর উঠে শোয়।রুহীর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে রোয়েন।রুহী রোয়েন কে সরাতে চেষ্টা করছে।পিঠে ইচ্ছেমতো কিলঘুষি লাগাচ্ছে।রোয়েন রুহীর হাত দুটো খাটের দুপাশে চেপে ধরে। রুহীর ঠোঁট থেকে সরে এসে গলায় চুমোয় ভরিয়ে দিতে থাকে।অজান্তেই রোয়েনের হাত চলে যায় রুহীর জামার হাতায়।কাঁধের কাপড় সরিয়ে চুমো দিতে থাকে রোয়েন।রুহী এতক্ষন ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো এখন জোরে কাঁদতে শুরু করে দিয়েছে।রুহীর কান্নার শব্দ শুনে রোয়েনের ঘোর ভাঙ্গে সরে এসে রুহীর দিকে তাকায় কাঁদছো কেন বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে রোয়েন।আমি থাকবোনা এখানে চলে যাবো আশ্রমে প্লিজ যেতে দিন আমায়।দম বন্ধ হয়ে আসছে এখানে আমার কাঁদতে কাঁদতে বলল রুহী।

রোয়েন উঠে বসে পড়ে।সমস্যা কি তোর? কেন থাকবিনা আমার কাছে?খুব আরামে আছিস তাই সহ্য হচ্ছেনা তাইনা?কিসের অভাব আছে এখানে?আমার শুনে রাখ আমি মরলে ও যেতে পারবিনা এখান থেকে।কারন তুই শুধু আমার।আমার না হতে পারলে কারোর হতে ও দিবোনা।চিৎকার করে কথা গুলো বলছিলো রোয়েন।রুহীর কান্না দেখে আর থাকতে পারলোনা বাহিরে বেরিয়ে গেল রোয়েন।
রুহী কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে এসে দরজা লক করে দেয়। মা কেন নিয়ে গেলানা তোমার সাথে? কেন এতো কিছু সহ্য করতে হচ্ছে আমায়?মরে গেলাম না কেন জন্মের সাথে সাথে?কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে রুহী।দরজায় কাজের লোক গুলো নক করছে”ম্যাম আপনার লাঞ্চ এনেছি করে নিন”কিন্তু সাড়া পায়না।ভিতর থেকে জোরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর ও রুহী দরজা খুলেনা।খাবার নিয়ে নিচে চলে যায় কাজের লোক গুলো।

গাড়ির সিটে হ্যালান দিয়ে শুয়ে আছে রোয়েন।হাতের ছুড়ি টিকে জোরে চিপে ধরে আছে।ছুড়ির দুপাশ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।রোয়েনের হাতটি রক্তে মাখামাখি হয়ে আছে। সেদিকে খেয়াল নেই ওর।মায়াবতীর সাথে এমন টা কিভাবে করতে পারলো ভাবতেই রাগ লাগছে নিজের ওপর রোয়েনের।হঠাৎ ফোন বেজে উঠে ওর।মোবাইল অন করে দেখে রাত ১০টা বেজে গেছে।ফোন রিসিভ করে রোয়েন।হ্যালো!!!

স্যার ম্যাম খাচ্ছেনা।

কই রুহী?(রোয়েন)

ম্যাম রুমে কান্দাতাছে।দরজা ও খুলেনা।

ওকে। আমি আসতেছি।বলে ফোন কেঁটে দেয় রোয়েন।আজ রুহীর খবর আছে।এতো সহজে ছাড়া পাবেনা রোয়েন থেকে।এই পিচ্চি এখন ও রোয়েন কে চিনে নাই।রোয়েন আহমেদ কি জিনিস সেটা ও হাড়ে হাড়ে টের পাবে।রোয়েন গাড়ি স্টার্ট দিলো বাসার উদ্দেশ্যে।
কিছুক্ষনের মধ্যে ঘরে পৌছে গেল রোয়েন।রুমে গিয়ে রুহীকে পেলনা রোয়েন।পাশের রুম থেকে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।দরজায় জোরে জোরে নক করতে লাগলো রোয়েন।রুহী!! দরজা খুলো।রুহী খুব অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে আমি কিন্তু আর সহ্য করবোনা।রুহী দরজা খুলো!!!!! খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।রুহী!!!!!!আরো জোরে হাত দিয়ে বাড়ি দিতেই হাতে ভীষন ব্যাথা পেল রোয়েন।দরজায় খুব জোরে লাথি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলল রোয়েন।রুহি চুপচাপ বসে কাঁদছিলো। রোয়েন দৌড়ে ওর চুলের মুঠি চেঁপে ধরে কি হলো তোর খাস নাই এখনো?(চিৎকার করে)

রুহী রোয়েনের হাত ছাড়াতে চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনভাবেই পেরে উঠছেনা।ছাড়েন প্লিজ খুব লাগছে আমার কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো রুহী। আমি অনাথ আশ্রমে চলে যেতে চাই প্লিজ নিয়ে চলুন।রোয়েন রুহীর গালে আরো এক চড় লাগায় জোরে এখানে কিসের অভাব আছে?কেন এখানে থাকবিনা?রোয়েন চিৎকার করে বলে।

রুহীর কান্না দেখে চুল ছেড়ে দিলো রোয়েন।রুহী শান্ত গলায় বলতে থাকে অনাথ আশ্রমে ভালবাসা আছে যেইটা এখানে নাই রোয়েনের দিকে তাকি বলে রুহী।রোয়েন অবাক হয় একি সেই রুহী যে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতো আজ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে?
অনাথ আশ্রমে হয়ত কাড়িকাড়ি টাকা না থাকলে ও সেখানে আদর ভালবাসার কমতি নাই।ঐখানে কেউ কথায় কথায় গায়ে হাত তুলেনা। ভালভাবে কথা বলে সবাই।মা বাবা যদি থাকতো আজ এই হাল হতো না আমার।কথা গুলো বলার সময় রুহীর দুচোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো।রোয়েনের চোখের কোনা জ্বলজ্বল করে উঠে।রুমে চলে আসে রোয়েন চোখের পানি দুগাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রোয়েনের।বারান্দায় এসে বসে পড়ে রোয়েন।ওরো তো মা নেই।বাবা থেকে ও না থাকার মতোই। ছেলে আছে সে সম্পর্কে কোন খেয়াল নেই ওনার।কখনো এই মেয়ে কখনো সেই মেয়ে এভাবে দিন কাঁটে রোয়েনের বাবা আরমান আহমেদের।রোয়েন গলার লকেটে লুকানো মায়ের ছবিটা বের করে।সেই ছবি অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে।তারপর ও নিজেকে সামলে নেয় রোয়েন।অন্তত রুহীর জন্য স্ট্রং থাকতে হবে ওকে।চোখ মুছে রুহীর রুমে আসে রোয়েন।রুহীর চোখ নাক মুখ ফুলে গেছে একেবারে। বাথরুম থেকে পানি এনে রুহীর মুখ মুছে দেয় রোয়েন।তারপর ফোন বের করে খাবার পাঠাতে বলে রুহীর রুমে।কিছুক্ষন পর একজন কাজের লোক রুমে খাবার নিয়ে আসে।রোয়েন হাতের রক্ত গুলো মুছে নিয়ে রুহীর সামনে খাবারের প্লেট নিয়ে বসে পড়ে।হঠাৎ রুহীর চোখ রোয়েনের হাতে র দিকে পড়ে।হাত টা খুব বাজে ভাবে কাঁটা রোয়েনের।রুহী খাবারের প্লেট নিজ হাতে নিয়ে একলোকমা ভাত রোয়েনের দিকে ধরলো।খান!!!রোয়েন রুহীর হাতে খাবারটুকু খেয়ে নেয়। রুহী নিজে ও খাবার খেয়ে নেয়।রোয়েন রুহীকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে চলে আসে।রুহীকে নামাতেই রুহী আলমারি থেকে ফার্স্টএইড বক্সটা বের করে নেয়। রোয়েন খাটে বসে রুহীকে দেখছিলো।রুহী রোয়েনের সামনে এসে বসে।রোয়েনের কাঁটা হাতটা ধরে নিজের কোলে নেয় রুহী।তারপর ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়।রুহী সরে যেতে নিলে ওর হাত টেনে নিজের বুকে নিয়ে শুয়ে পড়ে রোয়েন। আজ তোমাকে একটা গল্প বলবো।

গল্প!বলবেন আপনি?

হুম।অনেক সুন্দর গল্প বলতে পারি আমি।

ওকে।বলুন।

হুম। রোয়েন গল্প বলতে শুরু করলো।কিছুক্ষন পর খেয়াল করলো রুহী হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।কি হলো হাসো কেন?

রুহী কোনমতে হাসি থামায়।আপনি যেভাবে গল্প বলছেন কাল রাতে ও এই গল্প শেষ হবেনা।এর থেকে আপনি শোন আমি আপনাকে গল্প শুনাবো।

তুমি শুনাবে?

হুম।শুনুন রোয়েনের বুকে শুয়ে গল্প বলতে শুরু করে রুহী।

গল্প শুনতে শুনতে রোয়েন ঘুমিয়ে পড়ে।
পরদিন সকাল ঘুমভাঙ্গে রোয়েনের কাল খুব ভাল ঘুম হয়েছে ওর।কারনটা একমাত্র রুহী।রুহীর তুলতুলে গালে চুমো একেঁ ওয়াশরুমে চলে যায় রোয়েন।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here