My_Mafia_Boss পর্ব-১৩

0
397

My_Mafia_Boss পর্ব-১৩
Writer:Tabassumক Riana

রোয়েন কাজে চলে গেল রুহীকে রেখেই।আজ দুটো লোককে নিজ হাতে গলায় ছুড়ি চালিয়ে মেরেছে রোয়েন বাসার বাগানটিতে।তারা হাত পা ঝাপটাচ্ছিলো, বাঁচার জন্য অনুনয় বিনয় করছিলো তবে শেষ রক্ষা হয়নি।লোক গুলো ডার্ক গ্রুপের গোপন খবরা খবর জানতে এসে ধরা পড়ে গেছে।রোয়েন ভাবছিলো এতো অল্প শাস্তি দেয়া ঠিক হয়নি।হঠাৎ কারোর চিৎকার শুনে পিছনে তাকায় রোয়েন।রুহী ঘাসের ওপর বসে পড়েছে।ওর চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে।

রোয়েনের দিকে তাকাতে পারছেনা রুহী।চোখ জোড়া দিয়ে যেন আগুন ঝরছে।হাত দুটো রক্তে মাখামাখি হয়ে আছে ওনার।রোয়েনের আগানো দেখে রুহী বসে থাকতে পারলো না উঠে কোনমতে দাঁড়িয়ে দৌড়ে উপরে চলে গেল।

Oh Damn!!!! কি হয়ে গেল?রোয়েন মাথায় হাত দিয়ে রুহীর যাওয়ার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে রইলো।তারপর আর কিছু না ভেবে রুহীর পিছন পিছন উপরে যেতে শুরু করলো।

রুহী রোয়েনের রুমে ঢুকে দরজা লাগাতে গিয়ে বাঁধা অনূভব করলো।রোয়েন দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঢুকে গেছে।ভিতর থেকে ফোঁস ফোঁস আওয়াজ বের হচ্ছে তার।রুহী দুহাতে চোখ মুছে নিচে তাকিয়ে পিছাতে শুরু করলো।রোয়েন ক্রমশ ওর কাছে এগুচ্ছে।”আমি কিছু দেখিনি প্লিজ মারবেননা আমায়।কাউকে কিছু বলবোনা আমি”পিছতে পিছাতে বলছিলো রুহী।

রোয়েন রুহীর কোন কথা কানেই নিচ্ছেনা।রুহীকে দেয়ালের সাথে জাপটে ধরলো কাউকে কিছু বলো বা না বলো I don’t care.বাট তোমার ওপর কোন আঘাত কখনো সহ্য করবোনা never.

রুহী অবাক চোখে রোয়েনের দিকে তাকালো। চোখ জোড়া ভীষন লাল হয়ে আছে ওনার। রক্তমাখা হাত টি রুহী নিজের পেটে অনুভব করলো।হাত টি যেন ওর পেটের নাভির চারদিকে ঘুরছে।

রোয়েন আস্তে করে নিচে বসে পড়লো।রুহীর পেটের কাপড় সরিয়ে নাভী বরাবর উষ্ঞ ভালোবাসা বুলিয়ে দিচ্ছে।রুহীর পেটের কাঁপুনি রোয়েনকে আরো মাতাল করে দিচ্ছে।হঠাৎ রুহীর বলা একটি কথা রোয়েনকে থামিয়ে দিলো।

আমি চলে যাবো কাঁপা কাঁপা গলায় বলল রুহী।রোয়েন রক্ত চক্ষু দিয়ে রুহীর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। কি বললি??রোয়েন চিৎকার করে উঠলো।রুহীর কথা আটকে গেছে কিছু বলতে পারছেনা।রোয়েন রুহীর একটি হাত মুচড়ে ধরলো এতো সাহস কি করে হলো তোর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলার?এখান থেকে যেতে হলে লাশ হয়ে যাবি।রুহী ব্যাথায় কাতরিয়ে উঠলো “প্লিজ ছাড়েন ব্যাথা লাগছে”। এতো টুকুতে ব্যাথা লাগছে আরেকটু আগে যে আমায় দিলি সেটার কি হ্যা??ক্ষতিপূরণ কিভাবে সেটার?রুহীকে খাটে ধাক্কা দিয়ে ফেলে বেরিয়ে গেল রোয়েন।এখন কাউকে লাগবে যার দ্বারা ও নিজের চাহিদা মেটাতে পারবে।কিন্তু আগের মতো কোন মেয়ের প্রতি আসক্তি নেই ওর যেদিন মায়াবতীর মায়ায় জড়িয়ে গেছে ও।মায়াবতীর ভালবাসা তাকে এতোটাই মাতাল করেছে যে অন্যকারোর কথা ভাবতেই পারেনা ও।তবে রুহীর কাছে এমন আবদার করাটা অপরাধ ব্যাতীত আর কিছু নয়। রুহীকে কিছুটা সময় দিতে চায় ও।রুহীর সম্মতিতেই আপন করে নেবে ওকে। ভাবতে নিচে নেমে এলো রোয়েন।হাতের কাছের ফ্লাওয়ার ভাসটাকে আছাড় দিলো সে।রুহীর কথায় এতো টা রাগ হচ্ছে মেয়েটাকে দুটো লাগিয়ে দিতে পারলে ভালো হতো।ভাঙ্গার শব্দে দুজন কাজের লোক জায়গাটিকে পরিষ্কার করতে শুরু করলো।রোয়েন বাহিরে বেরিয়ে গেল।

রুহী ঐভাবেই শুয়ে ছিলো। নড়ার শক্তি পাচ্ছে না ও।খাট থেকে উঠে দাঁড়ালো রুহী।পুরো রুম অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে বের হতেই রোয়েন এসে বাঁধা দিলো কই যাও? রোয়েন বলে উঠলো।রুহী একহাত দিয়ে আরেক হাতের কবজি ডলতে ডলতে বলল পানি লাগবে।খাট দেখিয়ে রোয়েন বলল বসো।কি হলো কানে যাচ্ছেনা কথা বসো বলছি ধমক দিয়ে।রুহী দৌড়ে খাটে বসে পড়লো।

রোয়েন চিৎকার করে কাকে যেন ডিনার রুমে পাঠিয়ে দিতে বলল।রুহী দুহাত দিয়ে কান চেপে ধরে আছে।রোয়েন রুমে এসে ফ্রেশ হতে চলে গেল।কিছুক্ষন পর দুজন লোক ডিনার এনে বড় টেবিলটার ওের রেখে চলে গেল।রুহী সেখান থেকে এক গ্লাস পানি একটানে খেয়ে আবার আগের জায়গায় বসে পড়লো।

ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো রোয়েন।রুহীর দিকে এক নজর তাকিয়ে টেবিলের ওপর রাখা খাবার গুলোর দিকে তাকালো।কালো একটি শার্ট বের করে খাটের ওপর রেখে কাকে যেন কল দিলো ও।

এভাবে উন্মুক্ত বুকে কোন পুরুষকে দেখেনি রুহী আজ পর্যন্ত।কালো লোমে ভরা বুক রোয়েনের।লোম গুলোয় ফোটা ফোটা পানি জমে আছে।রুহী একনজরে রোয়েনের উন্মুক্ত বুকের দিকে চেয়ে আছে।কি আছে এতে?এতোটা আকর্ষন কেন করছে ওকে?ওরতো লজ্জা পাওয়ার কথা তা না পেয়ে বেশরমের মতো রোয়েনের বুকের দিকে চেয়ে আছে ও।
রোয়েন ফোনে কথা বলা শেষ করে শার্ট পরে নিলো। বোতাম না লাগিয়ে খাবার গুলোর দিকে আগায়।একটি প্লেটে কিছু খাবার বেড়ে রুহীর কাছে এসে বসে।হঠাৎ রোয়েনের খেয়াল হলো রুহী ওর বুকের দিকে চেয়ে আছে।রোয়েন চোখ ছোট ছোট করে রুহীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো কি দেখ এমন করে?

হঠাৎ রোয়েনের কথায় ঘোর ভাঙ্গে রুহীর।ক ক কই কিছু ন ন না ত ত তো।কিছু তো দেখছিলে রুহীর দিকে আরেকটু এগিয়ে এসে বলল রোয়েন।রুহী কিছুটা সরে গিয়ে বলল সত্যি দেখিনি। ওকে আর কোন কথা নয় এক লোকমা ভাত রুহীর দিকে ধরলো রোয়েন খাও।রুহীর রেসপন্স না পেয়ে রোয়েন ধমক দিয়ে উঠলো খাও।রুহী এবার খেতে বাধ্য হলো।মাঝে মাঝে ভীষন রাগ হয় ওর রোয়েনের ওপর।কথায় কথা ঝাড়ি দেয় ওকে।খাওয়া শেষে রুহী উঠে যেতে নিলে রোয়েন ওর হাত ধরে ফেলে কই যাও? রাগী গলায় বলল রোয়েন।
ঘুমোতে যাই রুহী আস্তে করে বলল।এখানে ঘুমোবে তুমি রোয়েন বলে উঠলো।রুহী আৎকে উঠে রোয়েনের কথায়”এই ছি ছি না কি বলছেন এসব “কোন তর্ক চাইনা রুহী এখানেই ঘুমোবে রোয়েন বলল।তাহলে আপনি কই ঘুমোবেন নিচে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো রুহী।রুমটা যেহেতু আমার তাহলে আমিই ঘুমোবো এখানে।ফালতু প্রশ্ন ছাড়ো একপাশে শুয়ে পড়ো (ধমক দিয়ে বলল রোয়েন।

এটা তো আমার রুম না রুহী আস্তে আস্তে বলল।এই মেয়ে শুনো আজ থেকে এটাই আমাদের রুম।এটা তোমার সংসার সব কিছু দেখে শুনে নেয়ার দায়িত্ব তোমার। কথা বাদ দিয়ে যাও শুয়ে পড়ো।
রোয়েনের মুখে সংসার কথাটি শুনে বুক কেমন জানি করে উঠলো রুহীর।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here