Love_at_1st_sight ??? Part : 13

0
458

Love_at_1st_sight ???
Part : 13

writer-Jubaida Sobti
স্নেহা পিছনের সিটে বসে তার আলিসেমি কাটাচ্ছিলো… হঠাৎ মনে পড়লো তারা যাচ্ছে কই… এতোক্ষনে তো তাদের ট্রেনে থাকার কথা..?
স্নেহা : রাহুল ? কই যাচ্ছি আমরা?..
রাহুল : তোমার বাসায়।
স্নেহা : আমার বাসায় মানে?…? এটাকি মজা করার সময় রাহুল?..দেখেন একদম ফাইজলামি করবেন না..
রাহুল : স্নেহা আমি ফাইজলামি করছি না সত্যি বলছি..
স্নেহা পিছনের সিট থেকে একলাফে সামনে চলে আসে…
স্নেহা : [ চিৎকার করে ] আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?…রাহুল ?আপনি জানেন এখন বাসায় ফিরে গেলে বাবা আমাকে কি করবে…
রাহুল : (No respons)
স্নেহা : কি হলো কথা বলছেন না কেন?..? রাহুল প্লিজ stop the car..
রাহুল?? প্লিজ…প্লিজ….. প্লিজ…প্লিজ
রাহুল : [একটু ধমক দিয়ে] Just shut-up sneha ?
স্নেহা : [একটু কেপে উঠলো] ??
রাহুল : স্নেহা আমরা পালিয়ে বিয়ে করে কখনো সুখী হতে পারবো না।
তুমিও এখন বলছো পরে এটা মিলিয়ে নিতে পারবে না….এভাবে কতোদিন পালিয়ে থাকবো আমরা…
স্নেহা তুমিতো জানো বাসায় আমার মা আছে…আমি ছাড়া মায়ের আর কেউ নেই…. স্নেহা তুমি হয়তো এখন ভাবছো আমি তোমাকে ভালোবাসি না তাই তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসছি।… but sneha I love u… a lot… তুমি দেখবা তোমার বাবা নিজের হাতে তোমাকে আমার হাতে তুলে দিবে।
স্নেহা : তাহলে এতো দূর এনেছেন কেনো…?
রাহুল : এতোক্ষনে হয়তো তোমার বাবা বুঝে গিয়েছে তুমি পালিয়েছ…
so এতো দূর কেনো এনেছি সেটা না হয় পরে নিজেই বুঝে নিবা।
(রাহুল আর স্নেহা স্নেহাদের বাড়িতে পৌছায়)
স্নেহা গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকে গম্ভীর হয়ে…?
রাহুল : স্নেহা কি করছো চলো ভেতরে..
স্নেহা : বাবা?
রাহুল স্নেহার হাত ধরে স্নেহাকে টেনে নিয়ে যায়…
বাসার বেল দেওয়ার সাথে সাথে স্নেহার মা দরজা খুলে…মনে হচ্ছিলো স্নেহার মা স্নেহার জন্যই অপেক্ষা করে দরজার পাশেই বসে ছিলো…স্নেহার মা স্নেহাকে ঝড়িয়ে ধরলো…
এতো রাত হয়ে গেছে কিন্তু স্নেহার বাসায় কেউ ঘুমায়নি… সবার চেহেরা দেখে মনে হচ্ছে অনেক টেনশনে ছিলো..
আর স্নেহার বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুনি রাহুলকে খুন করে ফেলবে…
রাহুল স্নেহার হাত ধরে স্নেহার বাবার সামনে যায়… স্নেহা ভয়ে যেতে না চাইলেও রাহুল স্নেহাকে টেনে নিয়ে যায়।
রাহুল : আংকেল আপনি হয়তো আমাদের বেপারে সব জানেন?…এবং আপনি স্নেহার জন্য অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করে রেখেছেন…কিন্তু স্নেহা এই বিয়েতে রাজি নয়..তা ও জানেন।
infact স্নেহা আমার সাথে পালিয়ে গিয়েছে সেটা ও বুঝতে পারছেন।আংকেল আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি… ?
এখন আপনি ডিসাইট করুন স্নেহা কাকে বিয়ে করলে সুখী হবে।
আপনি যেটা বলবেন আমরা সেটাই করবো…
বাবা : পালিয়ে গিয়েছো, সেটা আবার প্রাউড করে আমাকে বলছো কিভাবে…
পালিয়ে যাওয়া কোনো মহান কাজ? নয়..যেটা তোমরা করেছো…
রাহুল : ???
বাবা : কিসের এতো পাওয়ার দেখাচ্ছো তুমি..তোমার ঐ নামি দামি বড় গাড়ীর…নাকি দামি বাড়ির…?
রাহুল : আংকেল আমার নামি-দামি বাড়ী -গাড়ির পাওয়ার যদি আমি দেখাতাম তাহলে স্নেহা যেদিন দৌড়ে আমার বুকে এসেছিলো ঐদিনি স্নেহাকে…নিয়ে আমি পালিয়ে যেতাম..আজ স্নেহাকে আপনার কাছে এনে দিতাম না… I m sure আপনি আমার কিছুই করতে পারতেন না।
আমার বাবা নেই…তাই আমি আপনাকে অনেক respect করি..
বাকিটা আপনার উপর…
এই বলে রাহুল স্নেহার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো…
স্নেহা বরফের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে…আর চোখ দিয়ে গড়িয়ে জল পরছে…? [স্নেহা রাহুলের চলে যাওয়া চেয়ে আছে এক দৃষ্টিতে]
রুমে এসে বসে আছে, রাহুলের সাথে কাটানো Moment গুলো মনে পড়ছে স্নেহার?
স্নেহার মা এসে খাবার দিলে স্নেহা খাবার খায় না… পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে আছে স্নেহা…..
After 2 week…
রাহুলের কোনো ফোন আসেনি.. স্নেহা ও ফোন করেনি…
এক একটা নিষ্টুর দিন চলে যাচ্ছে রাহুলকে ছাড়া…
যে রাহুল কি না..স্নেহাকে চোখের আড়াল হতে দিতো না..সে রাহুল আজ স্নেহাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে…
স্নেহা এখন কিছু খায়না রুম থেকে বের হয়না তা দেখে স্নেহার বাবা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না…
বাবা : এতো বড় হয়েগেছিস কবে বুঝতে ও পারিনি, এখন বিয়ে ও দিয়ে দিতে হচ্ছে।
আজ সন্ধ্যায় ছেলে আসবে দেখা করে কথা বলে নিস…
স্নেহা [মনে মনে ] বাবা তুমি এতো কঠোর কেমনি, আমার জন্য একটু ও মায়া হয়না তোমার…???
সন্ধ্যায়,
স্নেহা : তোরা, ?
মার্জান : অবাক হওয়ার কি আছে আমাদের বান্ধুবির বিয়ে আমরা তাকে দেখতে আসবো না..
স্নেহা : ?????? মার্জানকে ঝড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠে,
শায়লা : আচ্ছা হয়েছে এখন কাদিস না,আজ তো আর বিদায় না, জাস্ট দেখা করবি,মন খুলে কথা বলবি। তৈরী হয়ে নে তাড়াতাড়ি,
স্নেহা তৈরী হয়ে আসে,..
মার্জান : চল,
স্নেহা : কোথায়, ?
মার্জান : এতো প্রশ্ন করিস কেনো বলতো..আগে চল।
স্নেহা : কিন্তু বাবা,?
জারিফা : উফফ আংকেলই পারমিশন দিয়েছে..তোকে নিয়ে যেতে, এবার চল।
অনেকদিন পর স্নেহা বাড়ী থেকে বের হলো… সবকিছু দেখে কারো কথা মনে পরছে স্নেহার ?
মার্জান : কি হলো দুলহানের মুখ গোমড়া কেনো দুলা দেখলে কি বলবে বলতো…
জারিফা : বলবে আমার হবু বউ গম্ভুস ??
স্নেহা : ?
স্নেহাকে তার ফ্রেন্ডসরা একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়…
স্নেহা : এইখানে আসবে?..?
মার্জান : হুম
স্নেহা : ঘরে আসলেও তো পারতো…?
স্নেহা ঢুকতেই দেখে রেস্টুরেন্টের একপাশটা খুব সুন্দর করে সাজানো যা চোখ সরানোর মতো নয়।
মার্জান : যা ঐখানেই আসবে, অপেক্ষা কর।
স্নেহা : কিন্তু তোরা ও চল প্লিজ আমি একা কেমন যেন লাগছে… 
মার্জান : আরে তোর চেহেরাটা এমনভাবে বানিয়ে রেখেছিস কেন।তুই একাই যাবি।বিয়ে তো তোর থেকেই করতে হবে তাই না… এবার যা..
স্নেহা : ???
মার্জান : (স্নেহাকে ঠেলে) আরে যা না।
(স্নেহা গেলো আর মনে মনে ভাবছে আজ ছেলেটিকে বলে দিবে সে তাকে বিয়ে করতে পারবে না.. ভালোই হয়েছে বাসায় না দেখা করে এইখানে করছে)
[এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ পেছন থেকে কেউ ডাক দিলো স্নেহা বলে]….
সেই চির চেনা কন্ঠ ? স্নেহা ফিরে তাকালে??????
সে রাহুলকে দেখতে পায়…??.
রাহুল স্নেহার কাছে আসে,… 
স্নেহা : ?????
রাহুল : স্নেহা কেমন হয়েছে ডেকোরেট?
এন্ড সারপ্রাইজ ?
স্নেহা : তার মানে এসব আপনার প্লান ছিলো….?????
রাহুল : স্নেহা ? আমরা যদি ট্রেনে করে ইন্ডিয়া পালিয়ে যেতাম… তাহলে আমি স্টেশনে গাড়ী কেন নিয়ে গিয়েছি…ইন্ডিয়া চলে যাওয়ার পর গাড়ীটা কি.. আমার শশুর সরকারে যত্ন করে আমার বাসায় পৌছে দিতো ? তুমি কি বোকা একটু ও বুঝতে পারলে না।??
আর তোমার বাবার হাতে ঐদিন তোমাকে তুলে দিয়ে যা বলেছি… তোমার বাবা আমাকে রিজেক্ট করার অপশন খুজেই পাচ্ছিলো না.. cz I m rahul ?
রিজেক্ট করার মতো ছেলেই নয়, ?
তাই আজ এসব আরকি,
স্নেহা তোমাকেই ভালো যখন বেসেছি তোমাকেই পেয়ে ছাড়বো এতো সহজে পিছন ছাড়ছি না ??আর তুমি বোকা কিছুই বুঝতে পারলা না…আবারো ঐ মেকানিকের সাথে দেখা করতে চলে এসেছ ???
স্নেহা : স্টুপিড, ইডিয়ট, ?একটা ফোন দিয়ে বললেন ও না…
রাহুল : আচ্ছা নিজে করেছো… ?
ভেবে নিয়েছ আমি ছেড়ে চলে গিয়েছি…
স্নেহা রাহুলকে ঝড়িয়ে ধরতে গেলে??
রাহুল : [একটু পিছিয়ে] No sneha ?
স্নেহা : ?? শয়তান…
তারপর দুজন দুজনকে ঝড়িয়ে ধরলো????????
(চলবে)
[নেক্সট পার্ট : রাহুল এবং স্নেহার ওয়েডিং সবাইকে আমন্ত্রিত করলাম গিফট নিয়ে চলে আসবেন।।
চলবে।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here