Love At 1st Sight Season 3 Part – 44

0
581

Love At 1st Sight
~~~Season 3~~~

Part – 44

writer-Jubaida Sobti

রাহুল : এইবার শিয়র করবাতো বিয়ে? নাকি আবারো কথা না শুনে কিছু একটা করে বসবা [ মুচকি হেসে রাহুলের হাত জড়িয়ে কাধে মাথা রাখলো স্নেহা ]

জারিফা : আরে জিজু! কই যাবে ও, আপনাকে বিয়ে না করে [ স্নেহা ব্লাশিং হয়ে হেসে মাথা তুলে তাকালো রাহুলের দিক ]

রাহুল : যাবে কই? যেতে দিলেই তো যাবে! তাই না?..

জারিফা : [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] ♪♪ মেহেদী লাগাকে রাখনা, ডোলি সাজাকে রাখনা, লেনে তুজে ও গড়ি আইয়েংগে তেরে সাজনা ♪♪ [ লজ্জায় হেসে মাথা নিচু করে ফেললো স্নেহা ]

আসিফ : সবই অ্যারেঞ্জ করে ফেলেছিলাম! এই সামিরের বাচ্চা বাম হাত ঢুকিয়ে, আমার মেহনতে পানি ফেলে দিলো,

মার্জান : [ কিটকিটিয়ে হেসে ] আপনি করেছেন অ্যারেঞ্জ?

আসিফ : হ্যা! আমিই করেছি! এতে হাসার কি আছে?..

মার্জান : না আসলে বিয়েশাদী এগুলো অনেক সেনসিটিভ জিনিষ, যাকে তাকে দিয়ে এসব অ্যারেঞ্জ করালে তো কূনজর লাগারই ছিলো, [ হেসে উঠলো সবাই খিলখিল করে ]

আসিফ : হ্যা! তোমার দিয়েই করানো উচিৎ ছিলো তুমি তো অনেক ভাগ্যশালি তাই না?..

মার্জান : অফকোর্স! এখনি তো দেখলেন আমি আসার পরই সব সলভ হলো!

আসিফ : ওহো, মরিচের গুড়া মেরে নিজেকে দুম ফ্লিমের হিরোইন মনে করছো তাই না?..

মার্জান : [ নাক ফুলিয়ে ] এক্সকিউজ মি! আর আপনি কি দুম ফ্লিমের আমির খান মনে করছেন নিজেকে, আমি মরিচের গুড়া মেরে হলেও তো বাচিয়েছি! তখন যা মারার রাহুলই তো মারছিলো, আর আপনি কি করছিলেন হাতে হাত বটে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলেন,

– হুহহহ! নিজেকে এতো রোমিও মনে করলে, মারলেন না কেনো সবকটাকে,

আসিফ : তোমার সাথে কথা বলায় বেকার!

মার্জান : [ হেসে আসিফের গালে টুকা মেরে ] ইয়াহহ! এখন তো বেকারই মনে হবে, কারণ আপনার কাছে তো আমার কথার জবাবি নেই! তাই না! [ সবাই আবারো হেসে উঠলো মার্জানের কথায়, আসিফ ও মুচকি একটু হেসে জানালার পাশ ফিরে গেলো ]

গাড়ী চলছে নিস্থব্দ চারদিক, বাতাসের শা-শা আওয়াজটাই আসছে শুধু, রাহুলের কাধে মাথা রেখে চুপটি হয়ে আছে স্নেহা, গাড়ীর গ্লাসটা একদমি নামিয়ে দিলো রাহুল,বসে থাকা স্নেহার চুল গুলো মুহূর্তেই বিলিয়ে পড়লো

রাহুল : [ ফিসফিসিয়ে ] স্নেহা!

স্নেহা : হুম!

রাহুল : তুমি বলেছিলে জিকির করার মতো আমার নাম মনে করছিলে, উমম..আই মিন তোমার কনফিডেন্স ছিলো আমি আসবো?

স্নেহা : [ মাথা তুলে রাহুলের দিক তাকিয়ে ] কিছু হয়েও যদি যেতো,তাও আমার মন বলছিলো আপনি আসবেন,

রাহুল : [ মুচকি হেসে ] এমনিতেও আসার তো ছিলোই!

স্নেহা : আম সরি রাহুল! [ বলতেই চোখে পানি এসে জমে যায় ] আমার মোটেও উচিৎ হয়নি যাওয়া, [ কাদো ভাবে ] আমি তো ব্যাস ওদের একবার…

রাহুল : শিসসস! দ্যাটস্ ওকে স্নেহা! আই আন্ডারস্ট্যান্ড, তোমার জায়গায় আমি হলেও হয়তো আমিও এমন করতাম!

স্নেহা : বাট আই প্রমিস রাহুল! আজকের পর থেকে আপনি যেখানে নিষেধ করবেন ঐখানে আর কখনোই যাবো না! [ রাহুল হেসে স্নেহার কাধে হাত রেখে বুকে টেনে নিলো ]

রাহুল : এই বাবা গুলো না স্নেহা! আমাদের ফিলিংসটাই কখনো বুঝবে না, বাট…তুমি দেখিও আমি যখন বাবা হবো না? তখন আমার চাইল্ডরা বলবে ইউ আর দ্যা বেষ্ট বেষ্ট বেষ্ট ফাদার ইন দি ওয়ার্ড! [ হেসে উঠলো স্নেহা ]

রাহুল : [ হেসে ] হোয়াই আর ইউ লাফিং?..আই এম সিরিয়াস!

স্নেহা : আপনিও তো হাসছেন!

রাহুল : হ্যাঁ! আমিও হাসছি…বিকজ নাও আই এম সো্ হ্যাপি! [ স্নেহাকে নাড়িয়ে দিয়ে ] আর তুমি?..

স্নেহা : [ মুচকি হেসে ] আমিও! [ বলতেই রাহুল আরো টাইট করে আগলে ধরলো ]

হঠাৎ পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে, মার্জান জানালার গ্লাস নামাচ্ছে, আর আসিফ উঠাচ্ছে, এভাবেই কন্টিনিউ করছে দু-জন!

রাহুল : তোরা এভাবে টম এন্ড জেরীর মতো ঝগড়া করতে থাকবি?..

মার্জান : দেখেছেন ওনি?..আমি জানালা খুলছি আর ওনি বাধতেই চলছে,

আসিফ : আরে বাতাস আসছে, ঠান্ডা লাগছে তো!

মার্জান : সো্ হোয়াট?..আমার কি?.. আমার গরম লাগছে [ বলেই আবার নামিয়ে দিলো, রাহুল হেসে স্নেহার পাশ ফিরে গেলো, স্নেহা ও হাসতে লাগলো তাদের কান্ডে ]

আসিফ : দেখো তোমার চুল গুলো উড়ে আমার মুখে পড়ছে,

মার্জান : তাহলে কি, ওদের নিষেধ করবো?.. ওকে, [ কিছু চুল হাতে তুলে ] এই চুল, চুল শুনছো! তোমরা উড়োনা কারণ কেউ একজন এতে ডিষ্টার্ব ফিল করছে, [ বলেই হেসে আসিফের দিক তাকিয়ে ] হয়েছে?.. আমি কিন্তু ওদের নিষেধ করে দিয়েছি এরপরও উড়লে এটা ওদের ব্যাপার,ওদের ও একটা ফ্রিডম আছে তো তাই না! হুহহ! [ বলেই সোজা তাকিয়ে থাকে, মুচকি হেসে এখনো তাকিয়ে রইলো আসিফ, চুলগুলো আবারো উড়ে এসে মুখে বারি খেয়ে যাচ্ছে, এতো কিউট করে চুলের সাথে কথা বলাটা যেনো তার মন ছুয়ে গেছে, আর কিছু বললো না চুপ করেই তাকিয়ে রইলো ]

রিদোয়ান : জারিফা!

জারিফা : হুমম?..

রিদোয়ান : আমার মনে হয় আমাদের ও এবার বিয়ে করে ফেলা উচিৎ, আর কতোদিন এভাবে একা একা থাকবা বলোতো, একা থাকার একটা লিমিট আছে তো তাই না? [ হেসে উঠলো বাকিরা ]

জারিফা : কথাটা কি আমার দিক থেকে বলছেন নাকি নিজের ফিলিংসটা আমার দিক করে চাপিয়ে দিচ্ছেন!

রাহুল : [ হেসে ] ইয়াহ! শি ইজ রাইট রিদ! তুই নিজের ফিলিংস বলনা! ওর বলে চাপিয়ে দিচ্ছিস কেনো?..

রিদোয়ান : আহা! আমার ফিলিংস বোঝার মানুষ কই আছে! [ আড়চোখে তাকালো জারিফা ]

রিদোয়াস : [ হেসে ] হোয়াই আর ইউ সো্ সিরিয়াস? আই জাষ্ট কিডিং বেবী!

[ এভাবেই হাসি মজা করে সবাই এসে পৌছালো, রাহুল দরজা খুলে দিলো স্নেহাকে, স্নেহা নেমে দাড়ালো, রাহুল ও পেছন পেছন নেমে আসে, বাকিরা ও বেড়িয়ে এলো ]

রাহুল : স্নেহা! [ বলতেই স্নেহা ফিরে তাকালো, মুচকি হেসে হাটু গেড়ে মাটিতে বসলো রাহুল, সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে হা করে ]

রাহুল : তোমার পা, টা দাও!

স্নেহা : [ অবাক হয়ে ] পা? আ..আপনি কি করছেন রাহুল?..উঠে দাড়ান!

জারিফা : [ মার্জানের কানে ] প্রপোজ করতে তো হাত চাইতে দেখলাম মার্জান, কিন্তু পা?..আমি তো এই ফাষ্ট দেখছি!

মার্জান : চুপ কর! বেশি কথা বলিস!

[ রাহুল স্নেহাকে আর কোনো জবাব না দিয়ে স্নেহার বাম পা টি তার হাটুর উপর তুলে নিলো, স্নেহা আনকমফোর্টেবল ফিল করাই সরিয়ে নিতে চাইলো কিন্তু রাহুল হেসে শক্ত করে ধরেই রইলো স্নেহার পা ]

স্নেহা : কি করছেন রাহুল! ছাড়ুন প্লিজ! লোকজন দেখছে!

রাহুল : দেখুক! [ বলেই স্নেহার পায়ের দিক তাকাতেই রাহুল শকড হয়ে যায়, স্নেহা এখনো টানাটানি করছে পা নিয়ে ]

রাহুল : [ চেচিয়ে ] স্নেহা এটা কেমনি হলো?

মার্জান : ওহ মাই গড স্নেহা! তোর পা কিভাবে কাটলো?..

স্নেহা : ও..ওটা তেত..তেমন কিছুই না! ব্যাস কাচের টুকরো তে সামান্য একটু কেটে গেছে!

রাহুল : সামান্য একটু তাই না?..ব্লিডিং হচ্ছে তাও বলছো সামান্য একটু!

স্নেহা : হ্যা! সা..সামান্যই তো! আচ্ছা আপনি পা ছাড়ুন! আমি বাসায় গিয়ে মেডিসিন লাগিয়ে নিবো! [ বলেই পা টেনে নিচ্ছিলো ]

রাহুল : [ স্নেহার পা ধরে রেখে ] ওয়েট! আমার কাজ এখনো শেষ হয়নি! [ বলেই জ্যাকেটের পকেট থেকে স্নেহার পায়েলটি বের করে নিলো ]

জারিফা : অওও! এবার বুঝলাম! [ স্নেহাও এবার বুঝতে পেরে ব্লাশিং হয়ে হাসলো ]

রাহুল : তোমার পায়েলটা রয়েগিয়েছিলো! [ বলেই ধীরেধীরে পড়িয়ে দিতে লাগলো, মুচকি হেসে, সুবিধার্থে স্কার্টটা হালকা একটু উঠিয়ে দিলো স্নেহা, জারিফা আর মার্জান হাত তালিয়ে দিয়ে উঠলো, রিদোয়ান শিস বাজালো ]

আসিফ : [ হেসে ] দোস্ত! তুই অলোয়েজ বিনাটিকিটে লোকজনকে রোমান্স দেখাতে থাকবি নাকি এভাবে?..

রাহুল : [ হেসে উঠে দাঁড়িয়ে ] রোমান্সের নির্ধারিত কোনো সময় থাকে না, জাষ্ট মন কি বলে শুনো তারপর শুরু হয়ে যাও, আর লোকজনের কাজই তো পিঠপিছে কথা বলা! [ বলেই হুট করে কোলে তুলে নিলো স্নেহাকে ]

স্নেহা : [ চেচিয়ে ] আরে?..

রাহুল : হোয়াট আরে?..আরে আবার কি? ফাষ্ট টাইম নিচ্ছি নাকি? [ বলেই হাটা শুরু করলো ]

জারিফা : আরে আপনারা আবার হা করে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো! চলেন একটু ফ্রেশ হয়ে নিলে রিলেক্স লাগবে! [ বলেই আসিফ আর রিদোয়ান দুজনেরই হাত ধরে টেনে নিতে লাগলো ]
_______________________________________

স্নেহা : আপনার লজ্জাশরম বলতেই কিচ্ছু নেই! একদিকে রাস্তায় কয়েকজন লোক তাকিয়েছিলো, তারউপর আপনার ফ্রেন্ডসরা, আর আপনি সবার সামনেই….

রাহুল : হ্যা হ্যা! সবার সামনেই! এমোনি করবো! কে কি ভাবছে আই ডোন্ট কেয়ার! এক্সুলি লজ্জা তুমি পেলেই চলবে, [ চোখ মেরে ] ও হ্যা! উইথ ব্লাশিং! [ বলতেই স্নেহা মুচকি হাসলো ]

রাহুল : ব্যাস স্নেহা! ব্যাস! এক্ষুণিই এতো ব্লাশ না হোও প্লিজ! ফ্রিজে সাজিয়ে রাখা স্ট্রোভেরি আইস্ক্রিমের মতো লাগে, কোন সময় কামড়িয়ে খেতে বসি আই ডোন্ট নো! [ স্নেহা হেসে রাহুলের নাক টেনে দিয়ে কাধে মাথা রাখে ]

[ উপরে উঠে বেল বাজিয়ে দাড়ালো সবাই, একটু পর দরজা খুলতেই, রাহুল স্নেহা দু-জনই শকড হয়ে যায়, পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মার্জান, জারিফা, আসিফ, রিদোয়ান, তারাও অবাক হলো ]

স্নেহা : [ ভীতু হয়ে রাহুলের দিক তাকিয়ে ] রাহুল! না..নামান..

রাহুল : [ নাক ফুলিয়ে ] কেনো? কাকে ভয় পাচ্ছো?..

স্নেহা : [ ধীরো কন্ঠে ] বা..বাবা!

রাহুল : [ স্নেহাকে আরো টাইট করে ধরে ] সো্ হোয়াট?..চুপচাপ যেভাবে আছো ঐভাবেই থাকো! [ কোণা চোখে তাকালো স্নেহা তার বাবার দিক, ভয়ে আবার উল্টো ফিরে রাহুলের কাধের উপর মাথা রেখে মুখ লুকিয়ে রাখলো ]

রাহুল : [ স্নেহার বাবার দিক তাকিয়ে ] এক্সকিউজ মি! একটু সাইড প্লিজ! [ স্নেহার বাবা সরে দাড়ালো, রাহুল হুড়হুড়িয়ে হেটে ভেতরের রুমে চলে গেলো, বাকিদের অধিক জোড়ে পেট ফেটে হাসি আসছিলো তাও হাসি চেপে রাহুলের পেছন পেছন ভেতরের রুমে এগিয়ে গেলো,রাহুল স্নেহাকে খাটে বসিয়ে দিলেও স্নেহা রাহুলের ঘাড় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে ]

রাহুল : রিলেক্স স্নেহা!

স্নেহা : [ কাদো কন্ঠে ] রাহুল! আমার অনেক ভয় করছে, আপনি এইদিকেই থাকুন!

রাহুল : [ স্নেহার পাশে বসে, স্নেহার মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে ] আরে এভাবে ভয় পাচ্ছো কেনো তুমি! রিলেক্স থাকো স্নেহা! কিচ্ছু হবে না! [ বলেই পাশফিরে শায়লার দিক তাকিয়ে ] ফাষ্ট এইড বক্সটা দাও!

[ শায়লা ফাষ্ট এইড বক্স আনতে যাচ্ছিলো, তখনিই দেখে স্নেহার বাবা এবং মা ও রুমে এগিয়ে আসে, রাহুল তারা ঢুকেছে বুঝতে পেরে, স্নেহার সামনের চুল গুলি নিজ হাতে কানে গুজে দিলো, স্নেহা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রাহুলের দিক ]

রাহুল : [ চেচিয়ে ] আর কে আছেই বা তোমার আমি ছাড়া, ভয় পেলে আমায় পেয়ো, একদম আর কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই! বুঝেছো! [ চুপ করে আছে স্নেহা ]

– লিসেন্ট! কেউ কিছু বললে আমায় বলো, গলা কেটে হাতে ধরিয়ে দিবো, [ নাক ফুলিয়ে অন্যপাশ ফিরে গেলো স্নেহার বাবা, বাকিদের মারাত্মক হাসি পাচ্ছিলো তারা মুখ লুকাতে ব্যস্ত, স্নেহার মা ও হেসে উঠলো মুখে হাত দিয়ে,
আসিফ আউট অফ কন্ট্রোল, হাসি মোটেও আটকাতে পাচ্ছিলো না স্নেহার বাবার ফেইস দেখে, সামনে ড্রেসিং এর উপর একটা পানির বোতোল পেলো ঐটা নিয়েই গডগড করে গিলে পানি খেতে লাগলো ]

রাহুল : আর তুমি তো জানোই আমি তোমাকে কতো ভালোবাসি, ইউ আর মাই হার্ট, ইউ আর মাই ব্রেথ, ইউ আর মাই হার্টবিট, ইউ আর মাই সফটেড মিউজিক, ইউ আর মাই এব্রিথিং স্নেহা! [ বলেই স্নেহার মাথা কাছে টেনে কপালে একটি চুমু খেলো, কাঠ হয়ে গেলো স্নেহা! রাহুলের কান্ডে, বাকিদের চোখ কপালে উঠে গেলো, মুখ থেকে ফুস করে পানি বেড়িয়ে এলো আসিফের,হাসি কন্ট্রোল করে তাড়াহুড়ো ভাবে বোতোল রেখে বেড়িয়ে নিচে চলে গেলো আসিফ, কোণা চোকে তাকালো রাহুল স্নেহার বাবার দিক, চেয়ে আছে কিনা, হ্যা চেয়েই তো আছে, মনে মনে ভাবছে আরেকটু মজা নেওয়া যাক বলেই ধীরেধীরে হালকা করে স্নেহার গালে আরেকটি চুমু খেলো, জোড়ে একটি শ্বাস ফেলে পাশের রুমে চলে গেলো স্নেহার বাবা, বাকিরাও মজা নিয়ে হাসতেই রইলো, শায়লা ফাষ্ট এইড বক্স এগিয়ে দিলো, রাহুল মুচকি হেসে স্নেহার পায়ে মেডিসিন লাগিয়ে দেই, বাকিরা তাকিয়ে থাকে তাদের কিছুক্ষণ পর করা চোখাচোখি রোমেন্স ]

রাহুল : পায়ে ব্যাথা পেয়েছো, বলা দরকার ছিলো আমাকে!

– এখন বলবা সামান্য একটুই তো! তাই না?..লিসেন্ট এখন থেকে মশা কামড়ালেও আমাকে বলবা, মশাটাকে ও ছাড়বো না! [ এবার আর স্নেহা ও না হেসে পারলো না ]

রাহুল : [ তেডি স্মাইল দিয়ে ] ব্যাস! এই স্মাইলটারই কমতি ছিলো!

– [ দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেলে ] তুমি রিলেক্স করো! আমি যাচ্ছি! [ বলেই উঠে দাঁড়িয়ে যায়, আড়চোখে মার্জানের দিক তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করলো স্নেহার বাবা কোথায়, মার্জান ও ইশারা করে বললো পাশের রুমে আছে ]

রাহুল : [ দরজার দিক তাকিয়ে চেচিয়ে ] স্নেহা! আগামীকাল লাল শাড়ী পড়ে একদম লাল টুকটুকে বউ সেজে তৈরী থাকবে, আমি আসবো তোমাকে নিতে, আরে আরে স্নেহা! কি এতো ভাবছো বিয়ে করবো আমরা! কাকে ভয় পাচ্ছো আবার?..সবার সামনে থেকেই উঠিয়ে নিয়ে যাবো তোমাকে! [ সবাই হাসতে লাগলো রাহুলের কথায় ]

রাহুল : [ মুচকি হেসে স্নেহার দিক তাকিয়ে ] বাই স্নেহা! টেক কেয়ার! [ বলতেই রিদোয়ান পেছন থেকে হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে রাহুলকে জড়িয়ে ঠেলে নিয়ে বেড়িয়ে যায়, দুজনেই কিটকিটিয়ে হাসতে হাসতে শিরি দিয়ে নামতে থাকে, গেইট দিয়ে বেরুতেই দেখে আসিফ গাড়ীর সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ]

রাহুল : আরে তুই চলে এলি কেনো?..

আসিফ : [ হেসে ] থাকার মতো অবস্থায় রাখলি! রোমান্স করছিস তুই তাও আবার আংকেল আন্টির সামনে, লজ্জায় মরে যাচ্ছিলাম আমি,

রিদোয়ান : দোস্ত! শশুর-শাশুরীর সামনেও রোমান্স বাদ দিলি না তুই!

রাহুল : আরে একটু আগেই তো বললাম রোমান্স করতে সময় লাগে না জাষ্ট তোর মন কি বলে শোন!

রিদোয়ান : [ হেসে ] রোমান্স কিং হয়ে গেলি, তাহলে, রোমান্সের তাজটা তোকেই পড়িয়ে দেওয়া হোক!

রাহুল : উমম! নট বেড! [ বলেই গাড়ীতে উঠতে যাচ্ছিলো তখনি আবার ] আচ্ছা গাইস্! ভাবছি সামিরের কাছে আবার যাওয়া উচিৎ!

রিদোয়ান : তা কি জন্য শুনি?..

আসিফ : [ হেসে ] কাল তোর বিয়ে এটার ইনভাইট করতে!

রাহুল : আরে না! এগুলো কোনো মার হলো? ওকে আরো দিতে মন চাচ্ছে! প্লাস! ও স্নেহার বাবাকে যে টাকাগুলো দিয়েছে ঐগুলো ও ওকে রিটার্ন করবো!

আসিফ : দোস্ত এক্ষুনিই যাওয়াটা ঠিক হবে না! কাল সকালে ভার্সেটিতে পার্ফেক্ট প্লেস হবে!

রিদোয়ান : ইয়াহ! দ্যাটস রাইট!

রাহুল : [ কিছুক্ষণ চিন্তা করে ] ওকেই!

রিদোয়ান : [ গাড়ীর চাবি ছুড়ে মেরে ] ড্রাইভটাও কর দোস্ত! শুধু ভাবীর সাথে রোমান্স করলে চলবে না [ আলসেমি কেটে ] আই এম সো্ টায়ার্ড, এখন জাষ্ট পেছনে শুয়ে রিলেক্স করবো!

রাহুল : [ চাবি আসিফের দিক ছুড়ে মেরে ] কাল তোর দাওয়াত, আমার বিয়েতে চলে আসিস, দাওয়াত পাওয়ার খুশিতে ড্রাইভটাও তুই করে ফেল!

আসিফ : আমি জানতাম! চাবিটা গুড়ে ফিরে আমার কাছেই আসবে! [ রাহুল আর রিদোয়ান হেসে উঠে বসলো গাড়ীতে ]

আসিফ : তিনজন এক গাড়ীতে থাকলে কোনদিন তোরা দু-জন ড্রাইভ করেছিস বলতো?..

রিদোয়ান : ও হ্যালো! আসার সময় কে করলো?..

আসিফ : আজ! তাও আবার বিপদে পড়ে বাচার জন্যে!

রাহুল : দিজ ইস নট ফেয়ার রিদ! কখনো কখনো তুই ও কর! বেচারাকে অলোয়েজ..

আসিফ : আচ্ছা?..এমন ভাবে এডভাইস দিচ্ছিস যেনো নিজে কতোবার করে তরিয়ে ফেলেছিস!

রাহুল : [ হেসে গান ছাড়তে ছাড়তে ] আরে তোদের মতো দোস্ত থাকলে, আমার আবার কষ্ট করতে হয়?..

আসিফ : আমার বাসায় আগে যাচ্ছি! তারপর তুই ড্রাইভ করে তোর বাসায় যাবি! তারপর রিদ! ড্রাইভ করে ওর বাসায় চলে যাবে ব্যাস! [ চোখ মেরে ] ফিফটি ফিফটি ডান!

রাহুল : আরে আসিফ! আই এম অলসো্ টায়ার্ড! ইয়ার!

আসিফ : হোয়াটএভার!

রাহুল : আচ্ছা আমার বাসায় চল আজ!

আসিফ : এলকোহল চললে আসতে পারি!

রাহুল : প্রমিস করেছি স্নেহাকে!

আসিফ : তোকে কে খেতে বলছে?..আমরা খাবো! আরে সেলেব্রেটিং মুহূর্তে তো একটু চলতেই পারে,

রাহুল : তোরা খাবি আর আমি তাকিয়ে থাকবো?..

রিদোয়ান : [ কিটকিটিয়ে হেসে ] তুই চোখ বন্ধ করে স্মেল নিস দোস্ত!

রাহুল : [ মুখ ভেংগিয়ে ] স্মেলে আর কি! আচ্ছা চল!

আসিফ : [ হেসে ] তুই মুখ লাগালেই কিন্তু স্নেহার কাছে ফোন!

রাহুল : একবার তোর গার্লফ্রেন্ড হতে দে, খুব বিপদে পড়বি দেখেনিস!
– বাই দ্যা ওয়ে! এসব আমি আর এমনিতেও খায় না! যা তোরা খেয়েনিস এবার আল্লাহর ওয়াস্তে আমার বাসায়ই চল!

আসিফ : ইয়াহহ!
_______________________________________
এইদিকে, স্নেহার আশেপাশে গোল হয়ে বসে রইলো তার ফ্রেন্ডসরা!

শায়লা : ওহ মাই গড! রাহুলের কান্ডে তো আজ আমি ক্রাশই খেয়ে ফেলেছি! [ মার্জান আর জারিফা ঘুরে তাকালো ] আ..আই মিন ভাইওয়ালা ক্রাশ স্নেহা! ভাইওয়ালা! [ হেসে উঠলো স্নেহা ]

মার্জান : [ হেসে ] তোর বাবার ফেইস রিয়েকশনটাই মনে পড়ছে আমার! কি না বানিয়েছিলো ফেইস টা!

জারিফা : রাহুল যখন কিস্ দিচ্ছিলো স্নেহাকে! আয়হায়! আমার কি লজ্জা লাগছিলো!

হঠাৎ, স্নেহার মা এগিয়ে আসে রুমে,

শায়লা : আরে আন্টি বসেন না এইদিকে!

স্নেহার মা : না না..তোমরা বসো আরাম করো আমি তোমাদের জন্য রাতের খাবার রেডি করছি!

মার্জান : উম্মাহ আন্টি! থেংক ইউ থেংক ইউউউ! আহহ..কতোদিন পর আন্টির হাতের রান্না খাবো! [ স্নেহার মা মাথা নাড়িয়ে হেসে চলে যায়, জারিফা আর মার্জান মিলে হেসে হেসে মারামারিতে হয়ে যাওয়া সব ঘটনায় বলতে লাগলো শায়লাকে, হঠাৎ খেয়াল করলো স্নেহার বাবা রুমে ঢুকে হাজির! সবাই ঢোগ গিলতে লাগলো ]

শায়লা : [ চেয়ার এগিয়ে দিয়ে ] বব..বসেন আংকেল! [ চেয়ার টেনে বসলো স্নেহার বাবা, ভয়ে মাথা নিচু করে আছে স্নেহা ]

স্নেহার বাবা : কি হয়েছে?..স্নেহা কোথায় ছিলো?..

জারিফা : এ..এক্সুলি আংকেল! ঐ যে সামির আছে না! ও স্নেহাকে জোড় করে উঠিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিলো!

– আ..আর ওর উদ্দেশ্যটা মোটেও ঠিক ছিলো না!

মার্জান : আংকেল ও মোটেও ডিজার্ব করে না স্নেহাকে! [ নাকফুলিয়ে ] শালাকে তো দেখলেই মন চাই দু-চারটা বসিয়ে দেই! [ অবাক হয়ে তাকালো স্নেহার বাবা ] আ..আই মিন..আজ কতো বড় বিপদ এসেছিলো স্নেহার উপর, সস..সব ওরই কান্ড ছিলো আংকেল!

– যদি ঠিক মতো রাহুল না পৌছাতো, কি হতো আজ আমাদের স্নেহার!

জারিফা : [ কাদো ভাবে ] কি হতো এই ভোলাভালা মাসুম চেহেরাটার, কই থাকতো এই হাসির মুখখানি!

মার্জান : আপনি মোটেও চিন্তা করবেন না আংকেল, রাহুল আছে এখন স্নেহার সাথে, স্নেহার কিছু হতেই দিবে না ও, একটু আগেই তো দেখলেন কিভাবে ঝাটকি দিয়ে গেলো আপনাকে! [ শকড হয়ে তাকালো স্নেহার বাবা ]

শায়লা : [ চিমটি দিয়ে ফিসফিসিয়ে ] আরে! কি বলছিস এসব! তারিফ কর তারিফ!

মার্জান : [ হেসে ] মা..মানে কিভাবে সবাইকে বলে গেলো, স্নেহাকে ও কতোটা…হুমম!

জারিফা : আরে আংকেল ঐ সামিরটা দেখতে ও তো কাচকলার মতো! গাছে লটকে থাকা কালো বাদুড়ের মতো, নাকটা একদম হাতির শূরের মতো,কান দুটো খরগোশের মতো, চুল গুলো… আ..চুল গুলো..

মার্জান : [ চেচিয়ে ] শকুনের কাটার মতো,

জারিফা : হ্যা! আর পেটটা জলহস্তির মতো, ইয়া বড়, মনে হয় দশ প্লেট ভাত একসঙ্গেই খায়,আর ঘাড়টা গন্ডারের ঘাড়ের মতো,

মার্জান : আর রাহুলকে দেখেন আংকেল, পুরোই হিরার টুকরা আংকেল হিরা হিরা! যে জায়গায় পা রাখে যেনো মনে হয় ঐ জায়গায় চমকে উঠেছে, চারদিক আলোয় ভরে যায় যেমন! ও যখন চোখের পলক তুলে মেয়েদের দিক তাকায় না, সব মেয়েরায় ওর প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে, আর যখন সানগ্লাস খুলে, তখন তো অনেক মেয়ে বেহুঁশই হয়ে যায় আংকেল [ জারিফার দিক তাকিয়ে ] তাই না?..

জারিফা : হ্যা! আংকেল আমাদের তো কয়েকবার অনেক মেয়েকে হসপিটাল ও নিয়ে যেতে হয়েছে

মার্জান : [ মাথা নাড়িয়ে ] হুম আংকেল! আর ও যখন গান করে না! [ হাত নাড়িয়ে ] গাছের পাতারা ও হেলেদুলে নাচতে থাকে, কি মিষ্টি সূর আংকেল, পাখিরাও তাল মেলাতে থাকে তার সাথে কিচিরমিচির কিচিরমিচির,

জারিফা : কিচিরমিচির!

মার্জান : [ চেচিয়ে ] আরে আংকেল! [ চমকে উঠলো স্নেহার বাবা ]

– আপনি জানেন না! ভার্সেটিতে হাজার মেয়ে লাইন ধরে আছে রাহুলের জন্য! তার মধ্যে ঐ বাদুড়ের বাচ্চা সামির এর বোন নেহাটাও আছে, একদম ফেভিকলের মতোই রাহুলের পেছনে লেগে পড়েছে [ চেচিয়ে ] আংকেল!

স্নেহার বাবা : [ চমকে উঠে ] হ্যা!

মার্জান : [ মুচকি হেসে ] কিন্তু রাহুল! কাউকেই কেয়ার করেনি! তার তো শুধু স্নেহাকেই চাই! স্নেহা! স্নেহা! স্নেহা! আংকেল স্নেহা ছাড়া ও কিছু বুঝেই না! [ হা করে তাকিয়ে আছে স্নেহা মার্জানের দিক ]

জারিফা : একমিনিট আংকেল আমি বলছি এবার ঐ নেহাটা দেখতে কেমন! আফ্রিকান হনুমান দেখেছেন কখনো, দেখেননি তাই তো, ঠিকাছে আপনি রুটি বেলার আগে, খামিটা ময়দায় লাগিয়ে হাতে চাপ দিয়ে চেপ্টা করতে দেখেছেন কখনো?.. [ স্নেহার বাবা মাথা নাড়ালো ]

জারিফা : হ্যা! ঐ নেহার নাকটাও একদম তেমন চেপ্টা! [ হাসি আসছিলো বাকিদের তাও কন্ট্রোল করে রাখলো ]

জারিফা : গাছে লটকে থাকা তেড়াবেকা কাঠাল দেখেছেন আংকেল, ওর ফেইসকাটিংটাও পুরো এমনিই! আর ঢং এর কথা তো বললামই না [ চেচিয়ে ] আংকেল! এত্তো এত্তো ঢং করে, মিস ওয়াল্ডের মেয়েরাও মনে হয় অতো ঢং করে না

স্নেহার বাবা : [ কনফিউজড হয়ে ] সামিরের একটা বোন ও আছে! কিন্তু আমাদের তো বললোই না!

মার্জান : আরে আংকেল! কি করে বলবে, ওর ঐ লুচ্চা বোনটা রাহুলের পাশে শুয়ে ফোটো তুলে আপনাদের আমাদের মতো ওর ভাই বাদুড়ের বাচ্চাটাকে ও বোকা বানিয়ে রেখেছে! ফটো দিয়ে ব্লাকমেইল করে রাহুলকে পেতে চাইছে এই তেড়াবেকা কাঠালের মুখখানা!

– [ চেচিয়ে ] আংকেল আপনি সিটি গোল্ড আর রিয়েল গোল্ডের ডিফারেন্টায় বুঝেননি!

– ঐ বাদুড়ের বাচ্চা সিটি গোল্ডটাকে আপনি রিয়েল গোল্ড মনে করে স্নেহাকে তার হাতে তুলে দিতে ছিলেন আংকেল, আর রাহুল! রিয়েল গোল্ড দূর থেকেই চকচক করছিলো, কিন্তু আপনার চোখের ধুলোই আপনি অন্ধ হয়ে আছেন, [ চেচিয়ে ] চোখ খুলুন আংকেল, রিয়েল গোল্ড আর সিটি গোল্ডের পার্থক্য বুঝুন!

[ জোড়ে একটি শ্বাস ফেলে উঠে পাশের রুমে চলে গেলো স্নেহার বাবা, বাকিরা হা করে তাকিয়ে আছে স্নেহার বাবার চলে যাওয়া, তিনি বেরুতে না বেরুতেই কিটকিটিয়ে হেসেই জারিফা আর মার্জানকে জড়িয়ে ধরলো স্নেহা, হাসতে হাসতে চারজনই একে অপরের গায়ে উঠে জড়িয়ে হাসতে লাগলো ]

স্নেহা : [ হেসে ] কি বলছিলি এসব তোরা হ্যা?..

শায়লা : হাসি আটকানো আর শ্বাস আটকানো একই মনে হচ্ছিলো আমার! জানটায় না বেড়িয়ে যাচ্ছিলো!

মার্জান : তোর বাবার মাথা গেছে আজ! সারারাতই চিন্তা করবে! [ বলেই হাসতে লাগলো ]

[ রাতে সবাই খাবারদাবার খেয়ে নিলো, স্নেহার বাবা আর মা চলে যেতে চাইলো, কিন্তু স্নেহার ফ্রেন্ডসরা তাদের জোড় করেই আজ রাত এইখানে থাকতে হবে বলে রেখে দিলো ]

ফ্রেশ হয়ে এসে শায়লা রুমে ঢুকতে যাবে তখনিই দেখলো স্নেহা আলমারির পাশে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে রাহুলের জ্যাকেটটা জড়িয়ে ধরে স্মেল নিচ্ছে, শায়লা ও আর কি এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না, তাড়াহুড়ো করে জারিফা আর মার্জানকে ও ডেকে এনে দেখালো, চুপি চুপি দেখে তিনজনই কুটকুট করে হাসছে, হঠাৎ স্নেহা ঠের পেয়ে আড়চোখে তাকিয়ে তাড়াহুড়ো করে জ্যাকেটটা বটে আলমিরায় ঢুকিয়ে রাখতে যাবে তখনি মার্জান এসে ধুম করে আলমিরার দরজাটা লাগিয়ে দেই! চমকে উঠলো স্নেহা!

শায়লা : আরে মার্জান! আস্তে! পাশের রুমে আংকেল আন্টি আছে!

মার্জান : ওহ সরি সরি! [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] বাই দ্যা ওয়ে! স্নেহা মাই ডিয়ার! জ্যাকেটের পারফিউমটা কোন ব্রান্ডের ছিলো! হুম হুম!

স্নেহা : [ লজ্জা পেয়ে ] সর এটা রাখতে হব!

মার্জান : আরে আরে! রাখবি কেনো! নিতে থাক স্মেল! কি কিউটই তো লাগছিলো!

জারিফা : [ স্নেহার কাধে হাত রেখে ] ডোন্ট ওয়ারি! মেরি জান, জ্যাকেট থেকে আর স্মেল নিতে হবে না, [ চোখ মেরে ] কাল থেকে সরাসরিই নিবি হুমম!

স্নেহা : আরে তোরা এমনভাবে বলছিস যেনো এই প্রথমিই দেখছিস আমাকে এই জ্যাকেটটার স্মেল নিতে,

মার্জান : [ স্নেহাকে টেনে নিয়ে খাটে বসে ] আরে স্নেহা তোকে না আজ ইচ্ছে মতো জালিয়ে নিচ্ছি, কাল থেকে আর আমাদের পাবি কই?..[ মুখ গোমড়া করে ফেললো স্নেহা ]

মার্জান : [ বুঝতে পেরে ] আ..আই মিন,কাল থেকে আমরা প্রতিদিন রাতেই ফোনে গুডনাইট বলে ঘুমাবো কেমন! নতুন করেই… [ বলতেই হঠাৎ চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো পানি, স্নেহা ও কেদে জড়িয়ে ধরলো, বাকি দুজন ও বাদ গেলো কই, তারাও জড়িয়ে ধরে রাখলো ]

মার্জান : আরে এখন এভাবে কাদিস না কেউ! প্লিজ তখন স্নেহার বিদায়ের সময় চোখের পানি শর্ট পড়বে! [ হেসে উঠলো সবাই,রাতে চারজনই একসাথে এক খাটে শুয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো, হঠাৎ বেজে উঠলো স্নেহার ফোন, স্নেহা রিসিভ করতেই যাবে তখনিই ]

জারিফা : [ কেড়ে নিয়ে ] ওহো মিষ্টার তেডি স্মাইল! রিয়েলি?..এই নামে সে্ইভ করেছিস! [ সবাই কিটকিটিয়ে হাসতে লাগলো ]

স্নেহা : এইদিকে দে ফোন!

জারিফা : ওয়েট ওয়েট! বাবা এতোটাও জলদি কিসের! [ বলেই রিসিভ করলো ]

রাহুল : হ্যালো!

জারিফা : হ্যা! কে বলছেন?..

রাহুল : এক্সকিউজ মি! কে বলছি মানে?..

জারিফা : হ্যা! আপনি আগে ফোন করেছেন তাই আপনিই আগে বলেন কে আপনি কাকে চাই?..

রাহুল : [ হেসে ] অও! নটি কোম্পানির দল তোমরা? আমার স্নেহা কোথায়?..

জারিফা : আপনার স্নেহা?..স্নেহাটা আবার কে.. এই নামের কাউকে তো চিনিনা!

রাহুল : চেনা লাগবেও না! কাল থেকে মিসেস রাহুল নামেই চিনবা!

জারিফা : ওহো! [ বলেই মার্জান আর শায়লাকে কাছে ডেকে নিলো এবং সবাই একসাথেই বলে উঠলো ] স্নেহা! ইউ আর মাই হার্ট, ইউ আর মাই ব্রেথ, ইউ মাই হার্টবিট, ইউ মাই সফটেড মিউজিক, ইউ আর মাই এব্রথিং

রাহুল : [ হেসে ] শাট-আপ এব্রিওয়ান!

জারিফা : বাই দ্যা ওয়ে জিজু! আপনার নাম্বার কি নামে সেভ করেছে বলেন তো?..

রাহুল : ডোন্ট নো!

জারিফা : উফফো জিজু ডোন্ট নো না! মিষ্টার তেডি স্মাইল!

রাহুল : রিয়েলি?..

জারিফা : ইয়েস্

রাহুল : তাহলে আমিও মিসেস তেডি স্মাইল দিয়ে সেভ করে ফেলি!

জারিফা : হাউ কিউট!

রাহুল : আচ্ছা এবার দাও ওকে!

জারিফা : উমহুম নেভার!

রাহুল : আরে একটু দয়া করো প্লিজ!

জারিফা : ওয়ান কন্ডিশন!

রাহুল : ডান! ডান!

জারিফা : আরেহ না শুনেই ডান? আগে শুনুন তো!

রাহুল : আচ্ছা আমার মা বলো!

জারিফা : কাল! আপনার বিয়েতে বিগ বাজেট রাখবেন! নাহলে আপনাকে স্নেহার সামনে এন্ট্রি করতে দেবো না!

রাহুল : [ হেসে ] অও ওখেই!

জারিফা : ডান?..

রাহুল : হান্ড্রেট পার্সেন্ট!

জারিফা : হাউ সুইট মাই জিজু! ওকে নিন! [ বলেই স্নেহাকে দিয়ে দিলো ফোন ]

স্নেহা : [ উঠে বারান্দায় গিয়ে ] হ্যালো!

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here