খেলাঘর পর্ব-২৪

খেলাঘর পর্ব-২৪
লেখা- সুলতানা ইতি

ইভানের এমন ব্যাবহার মিথিলা নিতে পারছে না কাঁদছে বালিশ এ মুখ গুঁজে

মিসেস আয়মন ভাবছে কি হলো ওদের মাঝে সব ই তো ঠিক হয়েছে দেখলাম নাকি মিথ্যা ছিলো সব

মনে হয় ভুল করে ফেলেছি মিথিলার মতো একটা ভদ্র সহজ সরল মেয়ের সাথে ইভানের বিয়ে দিয়ে
গিয়ে দেখি আসি মেয়েটা এখন কি করছে

মিসেস আয়মন এসে দেখলো মিথিলা কাঁদছে, মিসেস আয়মন ভাবছে, কি বলে আমি মেয়ের কান্না থামাবো মেয়েটা যে আমার বড্ড সহজ সরল
– মা মিথিলা?

মিসেস আয়মনের ডাক শুনে মিথিলা উলটো দিকে ফিরে চোখের পানি মুছে মিসেস আয়মনের দিকে ফিরে

মিসেস আয়মন- কাঁদিস না মা,ইভুর কিছু একটা হয়েছে, কিন্তু কি হয়েছে সেটা আমরা জানি না, তবে এ ভাবে বসে থাকলে তো হবে না ইভানের প্রব্লেম টা কি আমাদের জানতে হবে,,

মা একজন স্ত্রীর কর্তব্য স্বামি কে সৎ পথে ফিরিয়ে আনা, একজন স্ত্রী চাইলে সব পারে তুমি ও পারবে মা, একটু চেষ্টা কর

মিথিলা ছুপ করে থেকে মিসেস আয়মনের কথা গুলো শুনলো কিন্তু কিচ্ছু বলেনি

মিসেস আয়মন- মা স্বামিরা একটু আধটু রাগ দেখাবেই, বুঝে ও দেখাবে, না বুঝে ও দেখাবে সেটা মেনে নিতে হয় মা,এ ভাবে ভেঙে পড়লে চলে,
আচ্ছা মন খারাপ হয়েছে না খুব, চল আমরা গুরতে যাবো এখন ই

মিথিলা- আমার ভালো লাগছে না আপনি যান

মিসেস আয়মন- ভালো লাগবে, আয় না

মিথিলা- আর পাচ দিন পরেই আমার পরীক্ষা পড়তে হবে,আমি এখন কোথায় ও যাবো না
মিসেস আয়মন আর কথা বাড়ালো না,তিনি চলে গেলেন

মিথিলা উঠে দাঁড়ালো, আগে সাওয়ার নিবে তার পর পড়তে বসবে চোখ মুখের যা হাল হয়েছে
মিথিলা কাবার্ডের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার শাড়ি গুলো এলো মেলো
– উফফ আগে মা সব গুছিয়ে রাখতো এখন সব নিজের করতে হচ্ছে শাড়ি গুলো যে এলো মেলো হয়ে আছে খেয়াল করিনি

মিথিলা শাড়ি গুলো গুছিয়ে রাখতে গিয়ে একটা চশমার বাক্স ফেলো বাক্স টা ছিনতে একটু ও কষ্ট হয়নি তার ইহানের দেয়া চশমা টা ভেঙে যাওয়ার পর এই বাক্স টা তেই রেখেছিলাম,, চশমা টা আজ ও ঝোড়া লাগাতে পারিনি দেখি তো এখন ঝোড়া লাগে কি না,

মিথিলা বাক্স টা খুলে অবাক হলো,চশমা টা ঝোড়া লাগানো বুঝা ই যাচ্ছে অনেক চেষ্টার পর চশমা টা ঝোড়া লেগে ছিলো, কিন্তু কে ঝোড়া লাগিয়েছি? বাক্স টার ভিতর ভালো করে তাকাতে গিয়ে একটা চিরকুট পেলো,তাতে লেখা
” যা তোমার কাছে স্পেশাল তা আমার কাছে ও স্পেশাল চশমা টার জন্য তোমার এতো মন খারাপ হতে দেখেই বুঝেছি এটা তোমার কাছে স্পেশাল,আমার ভাবনা টা আর ও মজবুত হয়, তোমার শাড়ির মাঝে ভাঙা চশমার বাক্স টা আর ভিতরে চশমার ভাঙা টুকরো দেখে তাই খুব যত্ন করে ঝোড়া লাগিয়ে রেখেছি,অনেক কষ্ট হয়েছে তবু ও ফেরেছি কারন জিনিষ টা যে তোমার কাছে মূল্যবান”

মিথিলার ঠোঁটে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো বুঝার আর বাকি রইলো না কাজ টা যে ইভানের,
মুহুর্তেই মিথিলার মন ভালো হয়ে যায়,খুশি মনে সাওয়ার সেরে,পড়তে না বসে রান্না করতে যায়,কতো ভুল বুঝেছি উনাকে,আমাকে ভালো না বাসলে আমার জন্য ফেলে দেয়া একটা জিনিষ কে এভাবে যত্ন করে কেউ?

আমি সত্যি উনাকে বুঝতে পারি না
রান্না বান্না শেষ করে মিথিলা ইভান কে কল দেয় কিন্তু ইভান কল রিসিভ ই করেনি
ধ্যাৎ উনি কল কেনো রিসিভ করছে না,,নিজেই নিজের মন কে বুঝালো হয়তো কাজে ব্যাস্ত আছে

বরাবরের মতো ইভান আজ ও লেইট করে বাসায় ফিরে, মিথিলা জেগেই ছিলো
ইভান কপাল কুঁচকে বল্লো
– এতো রাতে জেগে আছো যে
মিথিলা ইভান কে হঠ্যাৎ ই ঝড়িয়ে ধরে বল্লো
-ধন্যবাদ
ইভান আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠে মিথিলা কে ছাড়িয়ে নিয়ে বল্লো
– সো হোয়াট?

মিথিলা – আমার প্রিয়ো জিনিষ গুলো কে আপনার এতো টা প্রিয়ো মনে করার জন্য

ইভান- মানে

মিথিলা- মনে হচ্ছে কিছুই বুঝেন নি,আমি সেই চশমা টার কথা বলছি,জানেন চশমা টার পিছনে একটা কাহিনী আছে

ইভান- উফফ মিথিলা আমি খুব টায়ার্ড তোমার কাহিনী ফাহিনি এখন শুনতে পারবো না, আর হা তোমার জায়গাতে অন্য কারো জিনিষ হলে ও আমি এ ভাবেই করতাম সো এতে এতো এক্সাইটেড হওয়ার কিছু নেই,ক্লিয়ার?
কথা শেষ করে ইভান শুয়ে পড়লো

মিথিলা থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে যাক ভাভা কি এমন বললাম যে এতো রেগে গেলো
সত্যি উনি যে কি বুঝা মুশকিল,যাই ভাভা ঘুমাই অনেক রাত হয়েছে

পরদিন ইভান ব্রেকফাস্ট না করেই বেরিয়ে যাচ্ছিলো আজ নায়ার সাথে ব্রেকফাস্ট করার কথা, নায়া বায়না করেছিলো একদিন ওর সাথে ব্রেকফাস্ট করতে
ইভান কে বেরিয়ে যেতে দেখে মিসেস আয়মন গম্ভীর কন্ঠে বল্লো
– ইভান ব্রেকফাস্ট না করে কোথায় বেরুচ্ছিস

ইভান- আম্মু একদিন বাইরে ব্রেকফাস্ট করলে কিচ্ছু হবে না

মিসেস আয়মন- শুধু কি একদিন? এখন লাঞ্চ ডিনার সবটা ই বাইরে করিস? আয় বউমা ব্রেকফাস্ট তৈরী করেছে খেয়ে যাবি

ইভান- আম্মু রোজ রোজ এক হাতের রান্না খেতে ভালো লাগে না

মিসেস আয়মন- এ কেমন কথা ইভান মেয়েটা তোর পছন্দের খাবার রান্না করে তোর জন্য অপেক্ষা করে তুই আসিস ই না,আর এখন উলটো কথা বলছিস

ইভান রেগে যায় এবার মিথিলা কে বলে এই মেয়ে এই
– কে বলেছে তোমায় আমার জন্য রান্না করে বসে থাকতে? আমি বলেছি? না তো, তা হলে একদম নেকামি দেখাবে না
ইভান রেগে বেরিয়ে যায়

মিথিলা দাঁড়িয়ে আছে খাবার প্লেট হাতে নিয়ে কি বলবে বা কি করবে বুঝতে পারছে না

নায়া ডাইনিং রুমে বসে অপেক্ষা করছে ইভানের জন্য

রাইমা চৌধুরী- নায়া ইভান মনে হয় আজ আর আসবে না তুই নাস্তা শুরু করে দে

ইতিমধ্যে ইভানকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে নায়া শুধু ইভান যে ম্যারিড এটা গোপন রেখেছে

নায়া-( ইভান আসবে না? ওকে আসতেই হবে? ঐ মেয়ে কিছুতেই ওকে আটকে রাখতে পারবে না সে ক্ষমতা তার নেই)তুমি ও না কি যে বলো মোম ইভান কখনো আমার কথা ফেলেনি ও আসবে হয়তো কোন কারনে লেইট হচ্ছে

রাইমা চৌধুরী- কি জানি তুই ভালো বুঝিস

রায়হান চৌধুরী নিশ্চুপ খাচ্ছিলো স্ত্রীর সাথে এবার তিনি যোগ দিলেন
– বুঝলে রাই আমরা তখন একে ওপরের সাথে দেখা করলে কি বলবো না বলবো সব ঘুলিয়ে ফেলতাম এখনকার ছেলে মেয়েরা অন্য রকম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিয়ে করে নেয়,,

নায়া- ওহ ড্যাড এমন বলছো যেন আমরা বিয়ে করে নিয়েছি তোমাদের না জানিয়ে,শুধু ইভানের মা বাবা কে জানানো হবে না কারন তারা আমাকে মেনে নিবে না

রায়হান চৌধুরী- কেনো মানবে না তোরা একে অপরকে পছন্দ করিস এতে অন্যায় কি আছে,তুই আমাকে বিয়ের প্রপোজাল কেনো পাঠাতে দিচ্ছিস না বল

নায়া- ড্যাড ছুপ থাকো তো,যা বুঝো না তা নিয়ে কথা বলতে এসো না

রায়হান চৌধুরী- ছুপ ই তো আছি তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে তোর বিয়ে আমরা সুন্দর ভাবে দিবো তা না

নায়া মিঃ চৌধুরী কে থামিয়ে বল্লো
– উফফ ড্যাড মিডিল ক্লাস ফ্যামেলীর বাবাদের মতো কথা বলো না তো,তারা নিজের পছন্দ ছেলের মেয়ের উপর ছাপিয়ে দেয়

রাইমা চৌধুরী- দেখ মা আমরা তোর বাবা মা আমরা তোর ভালো চাই….
এমন সময় কলিংবেল বেঝে উঠে

নায়া- কেমন ভালো চাও আমি বুঝি এখন আর একটা কথা ও বলবে না ইভান এসে গেছে নায়া গিয়ে দরজা খুলে দেয়

নায়া ইভান ঝড়িয়ে ধরে বল্লো সুইট হার্ট এতো লেইট হলো যে

ইভান- ডার্লিং জানোই তো কতো কি ফ্যাস করে আমায় আসতে হয়

নায়া- ঠিক আছে এই নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো এখন চলো ড্যাড মোম তোমার জন্য অপেক্ষা করছে

কাল থেকে তিনবার লিখে তিনবার ই ভুলে টাস লেগে ডিলেট হয়ে গেছে খুব বিরক্ত নিয়ে এখন আবার লিখেছি জানিনা কেমন হয়েছে

চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here