খেলাঘর/পর্ব-৪১

খেলাঘর/পর্ব-৪১
লেখা- সুলতানা ইতি

মিথিলা বাসায় এসে নির্ঝরিণী আর আয়ান কে কথা টা জানায়, আয়ান অনেক খুশি আজ
আয়ানের থেকে ও অনেক বেশি খুশি আয়ানের দুই বোন ভাইয়ের খুশি তাদের কাছে রাজ্য জয়ের সমান

নির্ঝরিণী – ভাই এবার মন দিয়ে পড়াশুনা কর দেখলি তো তোর হবু শ্বশুর কি বল্লো

আয়ান- তোকে এতো পাকামি করতে হবে না

নির্ঝরিণী – দেখলি আপু এখন ও বিয়ের কতো দেরি এখনি ভাই আমায় পাত্তা দিচ্ছে না বউ আসলে জানি কি করে

আয়ান- আপু নির কে কিছু বল

মিথিলা- উফফ তোরা আবার শুরু করলি? নির্ঝর আমার সাথে কিচেনে আয় কাজে হেল্প কর, তা হলে আর ঝগড়া করার ফন্দি মাথায় আসবে না

নির্ঝরিণী – আমি পারবো না তোমার আদরের ভাই কে বলো

মিথিলা- নির্ঝরিণীইইই আমার লেইট হয়ে যাচ্ছে আসবি কি না বল

নির্ঝরিণী – এই রে আপু রেগে গেছে আসছি আপু,,আমার পুরো নাম ধরে ডাকলেই বুঝে যাই আমাদের চশমা ওয়ালির রাগ উঠেছে হি হি হি

মিথিলা বাসার সব কাজ শেষ করে অফিসের জন্য বের হলো আজ ও লেইট হয়ে গেলো অফিসে পৌছতে ইহান খুব রেগে গেছে আজ

ইহান- মিথিলা তুই জানতিস আজ অফিসে অনেক কাজ পুরোনো হিসেব গুলো সব করতে হবে,আজকে আতাহার গ্রুপ কে তাদের দেনা পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে এর পর থেকে ঐ গ্রুপের সাথে চৌধুরী গ্রুপের কোন সম্পর্ক থাকবে না,এর পর তুই আজ লেইট করলি

মিথিলা- স্যরি?

ইহান- ইটস ওকে,আজ থেকে অফিসের একটা গাড়ি তোকে বিকেলে দিয়ে আসবে,সকালে নিয়ে আসবে ওকে

মিথিলা- তার দরকার নেই বাসার কাজ সামলাতে একটু লেইট হয়েছে তাই পৌছতে পারিনি, এর পর এমন হবে না

ইহান- ওকে এটাই লাস্ট,এর পর ভুল হলে আমি যা বলবো তোকে তা শুনতে হবে,,সব ব্যাপারে বেশি বুঝতে যাবি না,বেশি বুঝে জীবনের বারটা বাজিয়েছিস

মিথিলা চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছে

ইহান- কি হলো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো যা হিসেব গুলো দেখ

মিথিলা নিজের ক্যাবেনি বসে কাজ করছে,, এমন সময় ইহানের কল আসে
– মিথিলা কাজ হয়েছে? শেষ হলে তাড়া তাড়ি ফাইল হুলো নিয়ে আয় মিঃ চৌধুরী এসে গেছে

মিথিলা- এই তো শেষ আর একটু,মিথিলা ফাইল গুলো নিয়ে ইহানের ক্যাবেনি ডুকে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে ইহানের সামনে ইভান বসে আছে মিথিলার পা চলছে না যেন থমকে গেছে

ইহান- কি হলো মিস মিথি দাঁড়িয়ে পড়লে যে এসো
মিথিলা গিয়ে ইহানের পাশে দাঁড়ায়
মিথিলা কে দেখে ইভান বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়।

ইহান- মিঃ চৌধুরী আপনার আবার কি হলো, দাঁড়িয়ে পড়লেন যে বসুন

ইভান বসে পড়ে

ইহান- ইন্টিডিউজ করিয়ে দিচ্ছি,আমার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মিস আফরিনা মিথিলা

মিথিলার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে
ইভানের ও সেম অবস্থা

ইহান- কি হলো আপনারা দুজন দুজনকে হাই বলুন

ইভান ইহানের কথায় কান না দিয়ে বল্লো
– কাজের কথায় আসুন মিঃ ইহান চৌধুরী

ইহান- তা তো আসবো ই আফটার অল দীর্ঘ দিন পর চৌধুরী গ্রুপ আর আতাহার গ্রুপের বন্ধুত্বের সম্পর্ক টা ভাংতে যাচ্ছে তার আগে বলুন,আপনি মিস আফরিনা কে ছিনেন কিনা

কি হলো আফরিনা তুমি ছিনো নাকি মিঃ চৌধুরী কে

মিথিলা- ইহান, স্যরি, বসস আপনি প্লিজ কাজের কথায় আসুন এখানে পার্সোনাল কথা না বলি

ইহান- ফর্মালিটি শিখাচ্ছো আমাকে? অবশ্যই শিখাতেই পারো তুমি আমার সেক্রেটারি প্লাস আর কতো কি বলে ইভানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বল্লো বাই দ্যা য়ে কাজের কথায় আসা যাক

মিথিলা কে দেখার পর ইভান পুরো টা সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে ও কোন লাভ হয়নি ইহান তার চেহারা দেখেই বুঝতে পেরেছে ইভান জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে

ইহান ফাইল গুলো ইভানের সামনে দিয়ে বল্লো নিন হিসেব টা বুঝে নিন

ইভান ফাইল হাতে নিয়ে বল্লো
– আর দেখতে হবে না,আমার বিশ্বস্ত মানুষ ই ফাইল গুলো দেখেছে

ইহান- এক্সকিউজমি কিছু বললেন?

ইভান- নাহ কিছু বলার নেই আপনাকে আসি গুড বাই

ইহান- এক মিনিট একটা প্রশ্ন করার ছিলো

ইভান- করুন

ইহান তাচ্ছিল্যর হাসি হেসে বল্লো
-আপনি কি Jealous ফিল করছে

ইভান- আপনার কি দেখে মনে হলো,আমি Jealous ফিল করছি

ইহান- না মানে খুব তাড়া আপনার এখান থেকে বেরুনোর জন্য

ইভান- আপনি এখন থেকে আমার বিজনেস ক্লাইন্ট নন,আপনার সাথে আমি রিলেটেড নই সো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই

ইহান- তাই নাকি দুলা- ভাই

ইভান আর এক মুহুর্ত না দাঁড়িয়ে বেরিয়ে গেলো
গাড়িতে বসে আজ উলটা পালটা ড্রাইভ করছে মাথার মধ্যে মিথিলার ছবি আর ইহানের কথা গুলো ভন ভন করে গুরছে,তার পর গাড়ি টা থামিয়ে কিছুক্ষন জিম মেরে বসে রইলো,
– মিথিলা মিথিলা হ্যা মিথিলায়ায়ায়ায়া তার যোগ্যতা প্রমান করে দিয়েছে সে এখন চৌধুরী গ্রুপের এমডির পি এস আমি তাকে রিজেক্ট করেছি সে প্রতিশোধ নিয়ে নিলো, যাদের জন্য আমি তাকে বুঝতে পারিনি সে তাদের কম্পানিতে কাজ করছে নো য়ে মিথিলা আমার, মিথিলাকে আমি এই চাকরী করতে দিবো না মিথিলা আমার ওর উপর সব অধিকার আমার ই আছে কি বল্লো ঐ ছেলেটা , আমি Jealous কি না,আমি কেনো Jealous হবো মিথিলা আমার, সো আমার Jealous হওয়ার কোন দরকার নেই, আই লভ হিম

ইহান- খুব জব্দ হয়েছে আজ বুঝলি মিথি আজ সারাদিন লুচির মতো ফুলবে দেখিস

মিথিলা- এই সবের কোন দরকার ছিলো না ইহান,উনি কাজে এসেছে কাজের বাইরে কথা গুলো বলা কি ঠিক হয়েছে

ইহান রহস্য ভরা দৃষ্টিতে মিথিলার দিকে তাকিয়ে বল্লো
– এ.ল্লো তোর কি বুকের বাম পাশে লেগেছে খুব

মিথিলা- ইহান ফাজলামি করিস না ভালো লাগে না সব সময় ফাজলামি

ইহান- এই তুই ভাবিস কি নিজেকে তুই বিশ্ব সুন্দরি সব ছেলে তোর জন্য পাগল? ,আমি এখন ও তোকে চাই তাই তো? তা হলে আমি বলবো তুই ভুল দারনা করছিস

মিথিলা- ইহান আমি এটা কখন বললাম, আমি শুধু বলেছি মজা করা সব সময় ভালো লাগে না

ইহান টেবিলে আঘাত করে বল্লো,অবশ্যই ভালো লাগতে হবে বিকজ আম ইউর বস ওকে

মিথিলা আর কিছু না বলে রাগে গজ গজ করতে করতে নিজের ক্যাবিনে ফিরে এলো
– এমন করছে কেনো ইহান,জব ই তো করছি বিক্রি তো হয়ে যাইনি ওর কাছে,এই জব টা ছেড়ে দিবো তার আগে অন্য কিছু একটা খুজে নিতে হবে

ইহান – উফফ মিথির সাথে এ ভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি,কিন্তু কি করবো কতোক্ষন আর নিজের ভেতর কষ্ট ছেপে রাখবো, ভালো বেসেছিলাম তোকে আর তুই করেছিলি অবহেলা, জীবন টা ই শেষ হয়ে গেলো

মিথিলা অফিস ছুটির আগেই বেরিয়ে পড়ে
কাজে মন বসছিলো না ঠিক করলো আজ হেটেই বাসায় ফিরবে
মিথিলার যখন খুব মন খারাপ হয় তখন নিশ্চুপ একা হাটতে পছন্দ করে এতে অনেক টা পথ হাটা যায় পা ও ব্যাথা হয়না যেহেতু তখন সময় টা ঘোরের মধ্যে কাটে
মিথিলা হাটছে হঠ্যাৎ নজর পড়লো সামনে গাড়ি পার্ক করে ইভান দাঁড়িয়ে আছে পথ রোধ করে

মিথিলা পাশ কাটিয়ে যেতেই ইভান বাধা হয়ে দাঁড়ায়
মিথিলা দাঁড়িয়ে যায় কিন্তু কোন কথা বলেনি

ইভান- এই মেয়ে খুব অ্যাটিটিউড দেখাচ্ছো তাই না অবশই দেখানোর কথা চৌধুরী গ্রুপের এমডির পি এস এর অ্যাটিটিউড থাকবে না এ হয় নাকি,মিথি তুমি ঐ ছেলেটার সামনে সামনে থাকো কেনো বলো তো আমার বুঝি খারাপ লাগে না

মিথিলা – দিন দুপুরে ড্রিংক করে অসভ্যের মতো মাতলামি করতে ভালো লাগছে তাই না

ইভান- একটু খেয়েছি কি করবো বলো তুমি নেই এই হৃদয়ে যে মরুভূমি হয়ে আছে একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছি, দেবে কি এক ফোটা বৃষ্টির জ্বল, অবশ্যই তা দিয়ে মরুভূমি তে কিচ্ছু হবে না তবুও আমি তৃপ্ততা খুজে নিবো প্লিজ

মিথিলা- আপনি এখন সেন্সে নেই বাসায় যান

ইভান- বাসায় যাবো? কিন্তু সেখানে তো তুমি নেই তোমাকে দেখে ও যে চোখের তৃষ্ণা মিটেনা বার বার দেখতে চায় এই চোখ, চলনা মিথি নতুন করে পথ চলা শুরু করি

মিথিলার খুব রাগ হচ্ছে কিন্তু দাতে দাত ছেপে সহ্য করছে পাগলের সাথে পাগলামি করার কোন মানে হয় না মিথিলা পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো ইভান মিথিলার হাত ধরে টেনে গাড়ির সাথে ছেপে ধরে বল্লো
– এই মেয়ে এই কান খুলে শুনো, চাকরী টা ছেড়ে দাও,আমার বউ অন্যের সেক্রেটারি, ব্যাপার টা কেমন হয়ে গেলো না, আমার কিসের অভাব বলো,কোন কিছুর অভাব নেই, বলো চাকরি টা ছাড়বে কি না

মিথিলা- উফফ আমায় ছাড়ুন রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাতলামি করা আপনার সুশীল সমাজে থাকতে পারে,কিন্তু আমার অভদ্র সমাজে নেই

ইভান- ঠিক আছে তোমায় ছেড়ে দিবো আগে বলো তুমি এই চাকরী টা ছেড়ে দিবে

মিথিলা- নাহ,আমি চাকরী তো ছাড়বো ই না, এই বলে ইভান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে মিথিলা চলে এলো, রাস্তার মানুষ জন কেমন কেমন করে তাকাচ্ছে মিথিলার দিকে মিথিলার সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই আপন মনে হেটেই চলছে

আজ মধুপুর কলেজে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে প্রদান অথিতি শিল্পি নির্ঝরিণী,
নির্ঝরিণী সেখানে পৌছে তো অবাক হয়ে গেছে কারন সেখানে আয়াপ খান ও আছে
নির্ঝরিণী সিন্ধান্ত নিলো এখানে গান গাইবে না কিন্তু দর্শকের অনুরোধের কারনে যেতেও পারেনি
এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা যিনি করবেন আমান সাহেব তিনি নির্ঝরিণী আর আয়াপ কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে স্টেজে বরন করে নিলো, সবার অনুরোধ আগে নির্ঝরিণী গান গাইবে

নির্ঝরিণী গান ধরলো
“চাবেরকি বাহুমে মোজইহেএ যেতনি
হামকবি তুম্মম্মসে, মুহাবেতহু উতনি
খেইয়ে বিকরারি খেইয়ে বিকরারিনা আবহুকাম্মম্ম
বহুত ফেয়ার কারতি হু তুম হে সানাম
কাসাম চাহে লে লোওও খোদাকি কাসাম”

নির্ঝরিণী গান শেষ করে স্টেজ থেকে নেমে নিজের সিটে এসে বসলো

চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here