খেলাঘর পর্ব-১৭

খেলাঘর পর্ব-১৭
লেখা-সুলতানা ইতি

ইভান- এই জন্য ই তো তুমি কারো সাথে মিশতে জানো না
মিথিলা আর কিছু বল্লো না মনটা তার খারাপ হয়ে গেছে, ক্লাস সেভেনে এক্সামের সময় ইহানের সাথে আমার পরিচয়, সেদিন ম্যাথ এক্সাম ছিলো আমি আমার মতো করে এক্সাম দিচ্ছি, এই ভাবে দেড় ঘন্টা পার হয়ে যাওয়ার পর পিছনের বেন্স থেকে কেউ একজন ফিস ফিস করে বল্লো
এই মেয়ে সব নাম্বার কি তুমি একা ই নিবে আমাদের কে একটু হেল্প করতে পারো না

মিথিলা তখন পিছনে ফিরে একটা ছেলে কে দেখতে পায় হুম এই ছেলেটা ই ছিলো ইহান,ইহান আগে ক্লাসে অনিয়মিত ছিলো কিন্তু মিথিলার সাথে পরিচিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত হয়ে যায়,

সেই এক্সাম হল থেকেই তাদের একটু একটু কথা আর একটু একটু বন্ধুত্ব শুরু হয় এক সময় বেষ্ট ফ্রেন্ডশিপ, এর মাঝে হৃদয় টা কখন আদান প্রদান হয়ে গেছে টের ই পায়নি কেউ,মিথিলার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যায় নিশ্বাস নিতে তার কষ্ট হচ্ছে মিথিলা চোখ বন্ধ করে ফেল্লো

ইভান মিথিলা কে ছুপ হয়ে যেতে দেখে মিথিলার দিকে তাকিয়ে দেখলো মিথিলার মুখটা বিষাদময়
– কি হয়েছে মিথিলা কোন সমস্যা

মিথিলা কোন জবাব দিলো না, আজ সকালে অরনিরা এসেছিলো তাদের কাছে থেকে মিথিলা জেনেছে ইহান কোথায় ওরা জানে না সেদিন নাকি ইহান বাড়ি যায়নি,ইহানের বাবা মা সুইজারল্যান্ড তাই তাদের সাথে ও যোগাযোগ করতে পারেনি,ইহান সেদিনের পর থেকে আর কলেজে ও আসেনি বলতে বলতে অরনি কেদে দিয়েছিলো

মিথিলা অরনিকে কিছুই বলতে পারেনি সে নিজেই ইহানের লাপাত্তা হওয়া টা মেনে নিতে পারছে না

গাড়ি চলছে মিথিলার বন্ধ চোখের পাতা বেধ করে টপ টপ করে পানি পড়ছে

ইভান অবাক হলো মিথিলার অবস্থা দেখে,এই তো কথা বলছিলো এর মাঝে আবার কি হলো সেটা ই বুঝতে পারছেনা ইভান
– মিথিলা এই মিথিলা

এতো কাছে থেকে ও ইভানের কথা গুলো তার কানে প্রবেশ করছে না

ইভান বিরক্ত হয়ে আবার ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিলো, মেয়েটা কে খুব ইরিটিয়েড লাগে,,এই যুগে এমন বিরক্তিকর মানুষ ও আছে, কি এতো ভাবে সারা দিন কে জানে,

ইভানরা এসে পৌছে গেলো
– আমরা পৌছে গেছি,এবার তো একটু স্বাভাবিক হও,নইলে আব্বু আম্মু ভাববে আমি তোমার সাথে কি না কি করে ফেলেছি
মিথিলা কিছু বল্লো না নিঃশব্দে গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে চলে গেলো

সন্ধায় সবাই এক সাথে গল্পের আসরে বসলো
গল্পের মাঝে মাঝে খাওয়ার জন্য আছে হালকা স্নেক্স

আতাহার চৌধুরী- কেমন কাটলো শ্বশুর বাড়িতে, ভালো লেগেছে তো তোর

ইভান- হুম আব্বু খুব ভালো লেগেছে

– হুম মিঃ ফারুকি খুব ভালো মানুষ

ইভান- শালিকা টা সব ছেয়ে আগুনের গোলা আব্বু

আতাহার চৌধুরী- বাবা দু দিনেই শালিকা দুলা ভাইয়ের মন জিতে নিয়েছে দেখছি,তা ও তো তোর কপাল ভালো, আমার তো কোন শালি ছিলো না, মুন কে বিয়ে করে কপালটা ই পুড়লো

মিসেস আয়মন, অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো আতাহার চৌধুরীর দিকে
– কি বল্লে তুমি

আতাহার চৌধুরী- কিছু বলিনি তো

মিসেস আয়মন- ছেলে আর ছেলের ভয়ের সামনে ইজ্জতের ফালুদা করতে না চাইলে মুখ সামলে কথা বলবে

আতাহার চৌধুরী- মনে থাকবে,এতো রাগছো কেনো মুন
মিসেস আয়মন – যেমন বাপ তেমন ছেলে,শালির প্রশংসা করছে আমার মিথিলা কম কিসের

ইভান- যাক বাবা কি এমন বললাম।দুলা ভাই হিসেবে এই টুকু বলা যাবে না

মিথিলা ওদের মাঝে নিরব দর্শক, কোন কথা ই তার মুখে নেই,বাবা ছেলে এমন কথা ও
বলতে পারে এ তার প্রথম শুনা

ইভান- আরেহ আম্মু আব্বু শুনো ই না, নির মানে আমার শালিকা আমায় উদ্ভট একটা উপহার দিয়েছে

মিসেস আয়মন- কি রকম?

ইভান- পায়রা,সাথে অদ্ভুত একটা যুক্তি

আতাহার চৌধুরী-পায়রা? তুই কিছু বলিসনি

ইভান- আমি গফুর চাচার পায়রার পরকিয়ার গল্প টা শুনিয়ে দিয়েছি

মিসেস আয়মন-হাসতে শুরু করে
শালি দুলা ভাই, দুজনের মাথার তার লুজ আছে

ইভান- আম্মুউউ

আতাহার চৌধুরী- হয়েছে এবার কাজের কথায় আসি
সবাই হাসি বন্ধ করে গম্ভীর হলো

আতাহার চৌধুরী- তোর বিয়ের আনন্দে অফিসে তেমন একটা কাজ হয়নি, অনেক কাজ পড়ে আছে

ইভান- নো প্রব্লেম আব্বু আমি কাল থেকেই
অফিসে জয়েন করবো

মিসেস আয়মন- কাল থেকে? না না আর কয়টা দিন যাক তার পর

আতাহার চৌধুরী- আমি ও তাই চাই,কিন্তু কন্সট্রাকশান সাইটে ইভান ছিলো, এতো দিন কাজ টা বন্ধ ছিলো আর কতো দিন বন্ধ থাকবে,যেহেতু প্রথম থেকে ইভান সেখানে আছে, সেহেতু আমি গেলে এখন প্রথম থেকে কাগজ পাতি সব ঘাটতে হবে,,

ইভান- কিছু করতে হবে না কাল থেকে আমি আছি,বিয়ে করেছি বলে আর কয়দিন বসে থাকবো

মিসেস আয়মন- মিথিলা তুই কিছু বলছিস না যে

মিথিলা- আমি কি বলবো উনি যা ভালো বুঝে

মিসেস আয়নন হতাশ হলেন মিথিলা এখন ইভানের মন অব্দি পৌছতে পারেনি এর মধ্যে ইভান কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লে তো মোটে ও সময় হবে না
-তুমি না বলে ছিলে এদের হ্যানিমুনে পাঠাবে সেটার কি হলো

হ্যানিমুনের কথা শুনে মিথিলার হার্টবিট বেড়ে যায়
ইভান- আম্মু এখন ওসব ছাড় পরে যাওয়া যাবে,অফিসের কাজ গুলো গুছিয়ে নিই তার পর যাবো

মিসেস আয়মন- তোদের যেমন ইচ্ছে

ইভান- ওকে আমি ফাইল গুলো এখনি আবার দেখে নিচ্ছি তা হলে কাল আর জামেলা থাকবে না।

ইভান উঠে রুমে চলে এলো
রুমে এসে ইভান পুরোনো সব ফাইল দেখতে শুরু করলো, কিন্তু সব গুলোর মাঝে ব্ল্যাক কালারের ফাইল টা না পেয়ে খুঁজতে শুরু করলো,ওটা তো কাবার্ডের দ্বিতীয় তাকে রেখেছিলাম এখন কোথায় গেলো
ইভান কাবার্ডের দ্বিতীয় তাকে মিথিলার শাড়ি গুলো ভাজ করা দেখতে পেলো কিন্তু ফাইল নেই

ইভান- মিথিলা এই মিথিলা এই দিকে আসো তো
মিসেস আয়মনের সাথে মিথিলা বসে ছিলো, ইভান ডাকছে শুনে মিসেস আয়মন খুশি হয়ে বল্লো

যা তো মিথিলা দেখ ইভু কেনো ডাকছে তোকে
মিথিলা উঠে এলো
-ডাকছিলেন কেনো

ইভান- ব্ল্যাক কালারের ফাইল টা এখানে রাখা ছিলো এখন পাচ্ছি না।

মিথিলা- আমি কি করে জানবো

ইভান- কি করে জানবে মানে এই তাকে আমি ফাইল গুলো রেখেছিলাম এখন এই তাকে তোমার জিনিষ পত্র কিন্তু আমার ফাইল টা নেই কেনো

মিথিলা- আমি শাড়ি গুলো রাখার সময় আপনার ফাইল দেখিনি

ইভান – দেখনি মানে ইউ ইডিয়েট , এক্ষনি ফাইল টা খুজে দাও খুব ইমপ্রট্যান্ট ফাইল

মিথিলা ফাইল খুঁজতে সামনের দিকে এগুচ্ছিলো আর ইভান চিন্তিত মুখে পিছু হাটছিলো
ইভানের ধাক্কা লেগে মিথিলা পড়ে যায়,সাথে চশমা টা চোখ থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়

ইভান রেগে যায়
– ইডিয়েট দেখে হাটতে পারো না এখন ফ্লরে বসে আছো উঠো, আর ফাইল টা এক্ষুনি খুজে দেবে

কিন্তু মিথিলার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই চশমা টা ভেঙে গেছে মিথিলা সেটা নিয়ে ব্যাস্ত কাঁদছে মিথিলা চশমা টা তার কাছে মূল্যবান ছিলো,এই চশমা টা কখনো চোখ থেকে খুলবেনা কথা দিয়েছিলো ইহান কে,আজ চশমা টা ভেঙে গেলো

ইভান- এই মেয়ে একটাই চশমা ই তো বেঙেছে এতে এমন কান্নার কি আছে, এই রকম দশটা চশমা চলে আসবে আমার একটা ফোন কলে

মিথিলা কর্কশ কন্ঠে বল্লো
চশমা টা আপনার কাছে হেলা পেলা হলে ও আমার কাছে এর মূল্য আছে,সব কিছু টাকা দিয়ে বিচার করতে যাবেন না

ইভান- একদম লেকচার দিবে না উঠো বলছি
ইভানের ধমক শুনে মিথিলা উঠে দাঁড়ালো কিন্তু স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার আগেই মিথিলা ঢলে পড়ে যাচ্ছিলো

ইভান বরাবর ই রাগি চোখেই মিথিলার দিকে তাকিয়েছিকো হঠ্যাৎ মিথিলা কে পড়ে যেতে দেখে ইভান ধরে ফেল্লো
-মিথিলা,কি হয়েছে তোমার চোখ খোল মিথিলা, মিথিলার কোন রেসপন্স না পেয়ে ইভান মিথিলাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে খাটে শুইয়ে দিলো

ইভান রুম থেকে একটু উচ্ছ স্বরে ডাকলো
– আব্বু. আম্মু, দেখে যাও মিথিলার কি হলো যেন
মিসেস আয়মন,আর আতাহার চৌধুরী এসে মিথিলাকে সেন্সলেস হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো

কি হয়েছে মিথিলার
ইভান- জানি না আম্মু, হঠ্যাৎ ই এমন হলো

মিসেস আয়মন- বললেই হলো,এমনি এমনি কেউ কেউ সেন্সলেস হয় না মিথ্যা বলিস না

আতাহার চৌধুরী- মুন আগে বৌমার জ্ঞান ফিরাতে হবে এই সব কথা ছাড়ো এখন

মিসেস আয়মন- হুম ঠিক বলেছো ডক্টর কে ফোন করো

ইভান- আম্মু ডক্টর ডাকতে হবে না,চোখে মুখে পানি মারো দেখবে সেন্স ফিরবে

মিসেস আয়মন- ছুপ, একদম ছুপ তোর কোন কথা নেই এখানে,

আতাহার চৌধুরী- ডক্টর কে কল করলো,কিছুক্ষন পর ডক্টর এসে পড়লো
ডক্টর মিথিলা কে দেখে একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে বল্লো
– ভয়ের থেকে এমন হয়েছে, আর রোগী মনে হয় টেনশন করে অনেক, সব সময় মনমরা হয়ে থাকে এই জন্য,,স্বাভাবিক ভাবে রাখতে হবে উনাকে নইলে হার্টের প্রব্লেম দেখা দিতে পারে,একটু পরে ই জ্ঞান ফিরে আসবে, কোন চিন্তা করবেন না

ডক্টর চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পরে মিথিলার সেন্স ফিরে আসে
মিথিলা সেন্স ফিরতেই বল্লো
– আমার চশমা টা কি ফেলে দিয়েছেন

ইভান- হুম বুয়া এসে রুম টা পরিষ্কার করে নিলো,টেনশন করো না আমি বুঝতে পেরেছি চশমা ছাড়া তুমি চলতে পারো না,,চশমা এনে দিবো তোমায়

মিথিলা ছুপ হয়ে গেলো,,চশমা টা ফেলে দিয়েছে শুনে মবে খুব কষ্ট ফেলো ইহানের কথা মনে পড়ছে অনেক,মিথিলা বিড় বিড় করে বলছে ইহান আমি তোর কথা রাখতে পারিনি

মিসেস আয়মন- মিথিলা কিছু বলছো কি
মিথিলা – না

আতাহার চৌধুরী- বৌমা তুমি কি কোন ব্যাপারে খুব চিন্তিত

মিথিলা- না আমি ঠিক আছি

মিসেস আয়মন উঠে দাঁড়ালো, ইভু বুয়ার হাতে গরম দুধ পাঠিয়ে দিচ্ছি,মিথিলা কে খাইয়ে দিস
মিসেস আয়মন চলে গেলো

ইভান কিছুক্ষন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকলো
নিজেই নিজের মনের সাথে কথা বলছে
– আমার এমন ব্যাবহার করা উচিত হয়নি মিথিলার সাথে, কয়দিন হলো মেয়েটা আসছে এখন ও তো কিছুই বুঝে উঠেনি, আমি আম্মু কে জিজ্ঞাস করলেই তো ফাইলটার সন্ধান পেয়ে যেতাম,আচ্ছা মিথিলা চশমা টা ভেংগে যাওয়াতে কষ্ট ফেলো কেনো, ওটা কি তার কাছে খুব স্পেশাল? হতে পারে

ইভান বেরিয়ে গেলো
মিথিলা এবার উঠে দাড়ালো,বুয়া অনেক আগেই দুধ দিয়ে গেছে মিথিলা পরে খাবে বলে রেখে দিয়েছে।

চশমার ভাঙা টুকরো গুলো কোথায় ফেলতে পারে ডাস্টবিন এ, কিন্তু ডাস্টবিন খুঁজে দেখতে গেলে যদি কেউ দেখে ফেলে
না তবু ও আমাকে দেখতে হবে ইহানের শেষ স্মৃতি ছিন্ন আমি ফেলে দিই কি করে

মিথিলা নিঃশব্দে হেটে ডাস্টবিনের কাছে যায় অনেক খুঁজে চশমার টুকরো গুলো পেলো,ভাগ্যিস সব গুলো টুকরো একড়া পলিথিন মুড়ানো ছিলো,এই জন্য মিথিলা নিশ্চিত ছিলো, সব গুলো ভাংগা অংশ এক জায়গা তেই আছে

মিথিলা রুমে ফিরে এলো,ভাংগা টুকরো গুলো মিলানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না,চশমা ছাড়া খালি চোখে নিপুন ভাবে কোন কাজ ই করতে পারে না মিথিলা চশমার টুকরো গুলো যত্ন করে রেখে দিলো মিথিলা

ইভান অনেক রাতে এলো,মিথিলার জন্য ডজন খানেক চশমা নিয়ে

মিথিলা- এতো চশমা নিয়ে আমি কি করবো

ইভান- আমি ও এতো গুলো আনতে চাইনি, কিন্তু চশমা চুজ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম মনে হলো এটা না ওটা বুঝি তোমার চোখে ভালো মানাবে এভাবে সব গুলো দেখে মনে হলো এখানে সব চশমা ই তোমার চোখের জন্য পারফেক্ট

একটা করে চোখে দাও তো দেখি কোন টা তোমায় বেশি সুইট লাগবে

মিথিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইভানের দিকে,সত্যি আমি ইভান কে বুঝতে পারছি না,এই তো কয়েক ঘন্টা আগের ইভানের সাথে এখন কার ইভানের কোন মিল নেই,
এই ইভান কে দেখে মনে হচ্ছে যুগ যুগ এর সাথে কাটিয়ে দেয়া যায়

ইভান- হা করে দেখছো কি, এসো দেখি তো এই চশমা টা পরো চোখে

ইভান নিজে মিথিলার চোখে চশমা পরিয়ে দিলো
ইভান ছেয়ে আছে মিথিলার চোখের দিকে
মিথিলা ছেয়ে আছে ইভানের চোখের দিকে আজ প্রথম বার চার চোখের মিলন হলো,আজ মিথিলা সব লজ্জা সংকোচ ভুলেই ইভানের পানে ছেয়ে আছে,হয়তো ঐ চোখে কিছু খুজছে

to be continue
ভুল ক্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here