খেলাঘর পর্ব-১৪

0
711

খেলাঘর পর্ব-১৪
লেখা-সুলতানা ইতি

এর মাঝে আয়ান এসে মিথিলা কে ঝড়িয়ে ধরে কান্না ঝুড়ে দিলো
আয়ান কাঁদছে আর বলছে আপি তুই চলে গেলে আমরা কার সাথে দুষ্টুমি করবো, কাকে রাগাবো বল, আপু তুই যাস না আমাদের ছেড়ে বাবা মা কেউ তোকে ছাড়া ভালো থাকবে না

মিথিলা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে তার চোখে অশ্রু নেই,,শুধু আয়ান কে বুকের সাথে মিশিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,

অরনিরা আয়ান কে ছাড়িয়ে মিথিলা কে নিয়ে গেলো বরের কাছে কন্যা সম্প্রদান হবে এখন,,

মিথিলার বাবা মিথিলার হাত আর ইভানের হাত এক করে বল্লো,
বাবা আজ তোমাদের চার হাত এক করে দিলাম এই হাত ছেড়ো না,,আমার মেয়েটা একটুকরো কাছা মাটি,যেমন ইচ্ছে তেমন করে গড়ে তুলো তাকে,কখনো কষ্ট ফেলে ও অভিযোগ করবে না,বাবা তুমি তো জানো কাছা মাটি কে যেমন করে তেমন ই হয়,,আমার মেয়ে ও তেমন

মাসুম ফারুকির কথা গুলো ইভান কে খুব বিরক্ত করছে
এতো প্যাচানোর কি আছে,এতো কষ্ট হলে মেয়ে বিয়ে না দিলেই পারতো কেউ তো ঝোর করে নিয়ে যাচ্ছে না মেয়ে কে,নিজেরা ই দিচ্ছে আবার নিজেরাই প্যান প্যান করছে,আসলে সব অভিনয় এতো বড় ঘরে মেয়ে বিয়ে দিচ্ছে এ টুকু অভিনয় না করলে হয়?

মাসুম ফারুকি ইভানের মুখের দিকে তাকিয়ে কি বুঝলো জানি না,উনি মেয়ে কে বুকে ঝড়িয়ে কান্নায় ভেংগে পড়লো এবার আর মিথিলা নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি বাবা কে ঝড়িয়ে কান্না শুরু করে,
ফাতেমা বেগম কাছে আসতেই মিথিলা বাবা কে ছেড়ে মাকে ধরে কান্না শুরু করলো,

ইভানের বিরক্তির শেষ নেই এতো কাঁদছে কেনো সবাই, মনে হচ্ছে এটা একটা মৃত বাড়ি

মিথিলাকে সাম্মি গাড়ি তে নিয়ে বসালো মিথিলা গাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্ঝরিণীর কাছে গিয়ে বল্লো
-শুন মন দিয়ে পড়া শুনা করবি,মা বাবার খেয়াল রাখবি আয়ানের সাথে একদম ঝগড়া করবি না,জিমি আপু ফোন করলে বলিস, আমি তার কথা খুব ভেবেছি,কেনো আসে নি সে

নির্ঝরিণী কাঁদতে কাঁদতে বল্লো আপি এসব কথা থাক এখন,
গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে রাহি এসে মিথিলার পাশে দাড়ালো, তাদের চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছে প্রিয় বান্ধুবীর বিয়োগ তাদের কে ও কাঁদাচ্ছে,

অরণি – চল মিথিল,সবাই মিলে মিথিলা কে ইভানের পাশে বসিয়ে দিলো গাড়ি চলছে মিথিলার কান্নার গতি আর ও বাড়ছে, এই কান্না কিসের মিথিলা বুঝতে পারছে না,তবে এই টুকু বুঝতে পারছে এই চোখের পানিতে পাওয়ার ছেয়ে হারানোএ যন্ত্রনা বেশি,

মিথিলার কান্না ইভান কে ভাবাচ্ছে না,বরং ইভান বিরক্ত হয়ে বল্লো এতো কান্নার কি আছে,শ্বশুর বাড়ির যাচ্চো,যমের বাড়ি তো নয়, তার পর টিসু এগিয়ে দিয়ে বল্লো না ও চোখ মুছে নাও

মিথিলা ইভানের কথা শুনে অবাক হয় ভয়েজ টা পরিচিত মনে হচ্ছে কোথায় যেন শুনেছি,,কিন্তু লজ্জার কারনে তাকাতে পারছে না মিথিলা,,কাপা হাতে টিসু নিয়ে চোখ মুছে কিন্তু কান্না তখন ও থামেনি নিঃশব্দে চোখের অশ্রু ঝরছে

মিথিলা মাথা নিচু করে ঘোমটা টেনে দেয়াতে ইভান মিথিলা কে দেখতে পাচ্ছে না,কিন্তু ইভানের কাছে মিথিলা কে পরিচিত মনে হচ্ছে

গাড়ি পৌছে গেছে গন্তব্যে মিসেস আয়মন বধু বরন করে ঘরে তুললেন,
রাত এগারটা এক গাধা ফুল দিয়ে সাজানো বিছানার উপর বসে আছে মিথিলা,বিছানার চাদর টা অনেক সুন্দর,সাধার মধ্যে লাল গোলাপ আর চড়ানো ছিটানো ফুলের পাপড়ি,,

এমন সময় দরজায় শব্দ হলো
ইভান ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে খাটের এক কোনায় এসে বসলো
মিথিলা তখন ও মাথা নিচু করে বিছানারচাদর দেখছে,

ইভান কিছুক্ষন ছুপ করে থেকে মিথিলার দিকে তাকায় এখন ও বড় করে ঘোমটা দিয়ে আছে উফফ এ কেমন মেয়ে এ যুগে এমন মেয়ে আছে নাকি

ইভান হালকা করে গলা টা কেশে ইভানের উপস্থিতি জানান দিলো

কিন্তু মিথিলার মাঝে কোন ভাবান্তর দেখা গেলো না

ইভান- এই যে শুনছেন, আপনি চাইলে চেঞ্জ করে আসতে পারেন, সারাক্ষন তো এই ভারি ভারী জিনিষ গুলো পরে থাকার কোন মানে হয় না

এবার মিথিলা মাথা নিচু করেই উঠে দাঁড়ালো
ইভান বিরক্ত হয়ে বল্লো
– আপনি অলওয়েজ মাথায় লম্বা ঘোমটা দিয়ে থাকেন নাকি

এবার মিথিলা,ভাবলো
না এটা ঠিক হচ্ছে না উনি আমার স্বামি,এখন পর্যন্ত কেউ কাউকে দেখা হয়নি এবার দেখার সময় এসেছে

মিথিলা ঘোমটা সরিয়ে ইভানের দিকে তাকিয়ে শকড খেলো,মনে হয় তার মাথায় ভাজ পড়লো
– আপনিইইইইই

ইভান- তুমিইইইইইই
তার পর দুজনের মুখেই কোন কথা নেই

মিথিলা মনে মনে বলছে
ছিঃ এমন ছেলের সাথেই আমার বিয়েটা হতে হলো যে কিনার সাধারণ ভদ্রতার জ্ঞান টুকু রাখে না

ইভান ভাবছে
-একি সে দিনের সে মেয়েটা ইস মেয়েটা জানি আমায় কি ভাবছে,হয়তো পৃথিবীর সব থেকে খারাপ মানুষ আমি এটা ই ভাবছে

ইভান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বল্লো
– তোমার নামটা যেন কি

মিথিলা কোন উত্তর না দিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে চলে গেলো,এই রুমে এসেই সব চিনে নিয়েছে মিথিলা কোন টা ওয়াশ রুম,কোন টা বেলকনি,মিথিলা ওয়াশ রুমে গিয়ে দেখে মেয়েদের প্রয়োজনীয় সব রাখা আছে সেখানে,
-যাক বাবা এগুলা খুঁজতে কোন ঝামেলা পোহাতে হলো না

ইভান- মেয়েটার কতো বড় সাহস আমার প্রশ্নের এন্সার না দিয়ে চলে গেলো,,দেখে তো পুচকি একটা মনে হয় কিন্তু জেদ আছে তা হলে,, সেদিনের জন্য কি স্যরি বলবো? দূর বলতে হবে না,
নায়ার কাছে এসব কিছু কোন ম্যাটার করতো না কিন্তু এই মেয়ে যে ফ্যামেলী তে স্ট্রাগল করেছে তাতে সেদিনের ব্যাপারটা ওর কাছে এক ভিরাট ইস্যু

ধ্যাত আমি এখন ও নায়ার কথা ভাবছি কেনো, নায়া অতিত বর্তমান নিয়ে খুশি থাকতে হবে,তাতে মা বাবা খুশি হবে কিন্তু নায়া কে ভুলবো কি করে

ইভানের ভাবনায় ছেদ পড়লো ওয়াশ রুমের দরজার খোলার শব্দে ,
ইভান ই আগ বাড়িয়ে কথা বল্লো
– শুনো তোমাকে তুমি করেই বলছি, বয়সে তুমি অনেক ছোট,আর সবাই তো বিয়ে করা বউকে তুমি ই বলে তাই না,কথা টা ইভানের গলায় আটকে আসছিলো,তবু ও বলে থামলো

মিথিলা সে দিনের সেই ছেলের সাথে আজকের এই ছেলের মিল খুঁজছে দুজন একই মানুষ হলে ও কিছু একটার যেন অমিল রয়ে গেছে

ইভান কি বলবে ভেবে না পেয়ে বল্লো
তুমি কি নাইটি পরতে লাইক করো, তা হলে পরতে পারো,ওখান টায় সব রাখা আছে হাত দিয়ে ইশারা করে ড্রেসিং টেবিলের উপর একটা ব্যাগ দেখালো

এবার মিথিলা যতো টা সম্ভব চোখ বড় করে অবাক হয়ে ইভানের দিকে তাকায়

ইভান- ধ্যাত আবার কি বললাম এতো মনে হয় এগুলাতে অভ্যাস্ত নয়,ঠিক আছে পরতে হবে না মনে হয় তুমি এগুলা কে ডিজলাইক করো তাই না,
আচ্ছা তুমি কি অলওয়েজ চোখে চশমা পরে থাকো, কথা অন্য দিকে গুরানোর জন্য ইভানের এই প্রশ্ন

মিথিলা এবার ও কোন কথা না বলে খাটের অপর পাশ টায় শুয়ে পড়ে

ইভান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মিথিলার দিকে, এই মেয়ে কথা বলতে জানে না নাকি,আচ্ছা আম্মু যেন এর কি নাম বলেছে দূর মনে ও করতে পারছি না এখন,
রাত টা তাদের এ ভাবেই কেটে যায়, ইভান খাটের এক পাশে মিথিলা অন্য পাশে

মিথিলা ঘুমের ভান করলে ও ঘুমায়নি ভাবছে ইহানের কথা কি করছে সে এখন খুব কষ্ট পেয়েছে ছেলেটা
কিন্তু সে অরনি কে ভুল বুঝলো কেনো
ইহান কি সত্যি আমায় কোন দিন ক্ষমা করবে না
সাম্মি কে তো বলেছি ইভানের মাঝে ইহান কে খুঁজে নিবো কিন্তু আদৌ কি তা আমি পারবো

ফজরের আজান কানে যেতেই মিথিলা সব ভাবনা বাদ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো, নাহ ইহানের কথা ভাবা ঠিক হচ্ছে না, একজনের স্ত্রী হয়ে অন্যজনকে নিয়ে ভাবা সত্যি অন্যায়,
মিথিলার নজর পড়লো ঘুমন্ত ইভানের দিকে খুব নিষ্পাপ লাগছে ঘুমন্ত ইভান কে,, কে বলবে এই ছেলে টা ই সেদিন এতো রুঢ় ব্যাবহার করে ছিলো তার সাথে

মিথিলা ভাবনা যগতে তালা দিয়ে ওযু করে নামায পড়ে নিলো
নামায পড়ে আবার একটু শুয়ে নেয়ার চিন্তা করলো
এই বাড়িতে সবাই কখন ঘুম থেকে উঠে কে জানে

নামাযের বিচানায় বসে আছে মাসুম ফারুকি,আজ মোনাজাতে অনেক কেঁদেছে মেয়েদের জন্য কাকে নিয়ে ভাববে তিনি, ছোট বোনের বিয়ে গেছে অথচ বড় বোন আসেনি ব্যাপার টা সত্যি দৃষ্টি কটু,আত্মিয় স্বজন সবাই প্রশ্ন করেছিলো জিমির না আসা নিয়ে,, কিন্তু কি করে সবাই কে বলি জিমির বর তাকে আসতে দেয়নি
ফাতেমা বেগম স্বামির পাশে এসে বসলো
কি ভাবছো এতো,প্রেসারর বাড়িয়ে ফেলবে আবার

মাসুম ফারুকি- না ভেবে উপায় আছে ফাতেমা মিথিলার বিয়েতে জিমি আসেনি দেখছো না সবাই কেমন চোখে দেখেছে আমাদের

ফাতেমা বেগম – তুমি ভেবো না জিমির সাথে আমার কথা হয়েছে,সব ঠিক আছে,,

আজ সকাল না হতেই নির্ঝরিণীর ঘুম ভেংগে যায় নির্ঝরিণী বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো বারান্দায় আগে থেকেই আয়ান দাঁড়িয়ে ছিলো
নির্ঝরিণী – ভাই তুই ঘুমাসনি

আয়ান- নির্ঝর মিথিলা আপু নেই ঘর টা কেমন নিশ্চুপ হয়ে গেছে বলতো স্টাডি রুমে যেতে ইচ্ছে করেনা,কর্নারের চেয়ার টা তে সব সময় আপু বই নিয়ে বসে থাকতো বল,আয়ান কথা বলতে বলেই কান্না শুরু করে দিলো
নির্ঝরিণী ও কাঁদছে ভাই কে ধরে
তাদের কান্নার তালে অন্ধকার থেকে আলোতে পরিনত হচ্ছে

to be continue
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here