জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট

0
1224

জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

মায়ের সাথে তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে এসেছে নিলয়।এটা নিলয়ের জন্য ২১তম মেয়ে দেখা।এর আগেও নিলয় আর তার মা মিলে ২০ জন মেয়ে দেখেছে নিলয়ের জন্য!কিন্তু কারও সাথেই তেমন সন্ধি মিলেনি নিলয়ের,, কারন নিলয় চায় একজন দ্বীনদার, নেককারিনী স্ত্রী।
কেও নিলয়কে পছন্দ করলেও নিলয় তাদের কাওকে পছন্দ করেনি,,আবার নিলয় কাওকে পছন্দ করলেও তারা আবার নিলয়কে পছন্দ করেনি।
এভাবেই একে একে ২০ জন মেয়ে দেখা হয়েছে নিলয়ের জন্য।
নিলয় মনে মনে ভাবছে এই মেয়েকে কি আমার পছন্দ হবে?সে কি আমার মনের মতন হবে?নাকি আমি তার অপছন্দ হব?তার মনের মতন হব না?
এসব ভাবনা চিন্তার মাঝেই কারও মিষ্টি কন্ঠের সালাম শুনে সামনের দিকে চোখ তুলে তাকাল নিলয়।এতক্ষন মাথানিচু করেই কিসব আবোলতাবোল ভাবছিল সে।
সালামশুনে হচকিয়ে উঠে তাড়াতাড়ি সালামের উত্তর দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে দেখল যে,মেয়েটি কালো বোরখা পড়ে,হাত পায়ে কালো মুজা ও মুখে নিকাব পরে আছে।
যার ফলে মেয়েটির কাজল রাঙা চোখজোড়াই শুধু দেখা যায়।নিলয় মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখল সুন্দর করে দুচোখে কাজল দেওয়া আছে।
মেয়েটির সাথে নিলয়ের চোখাচোখি হতেই লজ্জায় মেয়েটি চোখ নামিয়ে নিল।
নিলয় আরেকবার সামনে তাকিয়ে দেখল মেয়েটি একটি চেয়ারে বসে আছে,,তার পাশে তার মা দাঁড়ানো আর টেবিলে কিছু ফলমূল ও শরবত রাখা আছে।
এভাবেই কিছু দেখাদেখি আর চোখাচোখির মাঝেই কেটে গেল কিছুক্ষন।
,
,
নিলয়ের মা মেয়ের মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন—- ভাবী মেয়ে এই অবস্থায় কেন?
মেয়ের মা হালকা হেঁসে উত্তর দিলেন—— আসলে ভাবী আমার মেয়েটা পরপুরুষ এর সাথে অযথা কথা বলে না আর তাদের সাথে পরিপূর্ন পর্দার সাথে চলে, ইসলামিক নিয়মনীতিগুলাও মেনে চলার চেষ্টা করে তাই এই অবস্থায়ই পর্দার সহিত এসেছে!
——- কিন্তু বিয়ের উপলক্ষে তো পাত্র পাত্রী দেখার জায়েজ আছে!তাহলে কি আমার ছেলে আপনার মেয়েকে দেখতে পারবে না?
——- হুম অবশ্যই পারবে!আসলে আমার মেয়েটা ভাবছিল আপনার ছেলে বাদে অন্য কোন পরপুরুষ এসেছে তাই এখানেও পর্দা করেই এসেছে।
নিলয়ের মা খানিকটা হেঁসে বললেন—–মাশাল্লা,মাশাল্লা, আমার ছেলেও এমন একজনকেই খুজতেছে।
নিলয়ের মা মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন—— তা মামনি তোমার নাম কি?
মেয়েটি মৃদু স্বরে বলল—— তাফহিমা আনজুম তাসপিয়া! সবাই তাসপিয়া বলেই ডাকে!
——- মাশাল্লা খুব সুন্দর নাম!তা এবার কি আমরা তোমাকে দেখতে পারি?
মেয়েটি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিল,তারপর নিজেই আস্তে করে মুখের নিকাবটা সরিয়ে মাথাটা নিচু করে ফেলল।
মেয়েটিকে দেখে নিলয় তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
নিলয়ের মা মেয়ের মাকে উদ্দেশ্য করে বলল—- তা ভাবী আপনার মেয়ে মাশাল্লা দেখতে ভারী মিষ্টি।
আমার খুবই পছন্দ হয়েছে আপনার মেয়েকে”এখন ছেলেমেয়েরা কথা বলে তাদের মতামত পেশ করুক আমরা না হয় অন্য কোথাও বসি।
মেয়ের মা নিলয়ের মাকে নিয়ে অন্যরুমে চলে গেলেন।
,
,
নিলয় হালকা কাশি দিতে তাসপিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখল সে এখনো মাথানিচু করে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।
দুজনেই কিছুক্ষন নিরবতার মাঝে রইল।
নিরবতা ভেঙে নিলয় সালাম দিলে তাসপিয়া সালামের জবাব দিয়ে বলে কেমন আছেন?
—— আলহামদুলিল্লাহ ভাল,,আপনি কেমন আছেন?
—– জ্বি,আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভাল!
——আপনি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছেন!
——আসলে আমি এখনো সেরকম ভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই।তাই বলছিলাম কিছুদিন পরে বিয়েটা হলে আমার পক্ষে ভাল হতো!
——- না আপনি যা ভাবছেন আমি সেটা বলিনি!আমি বলছি আমাকে কি আপনার পছন্দ হইছে!আমাকে কি বিয়ে করতে আপনি ইচ্ছুক?
তাসপিয়া হালকা হেসে বলল—— পছন্দ না হওয়ার কি আছে!আপনি তো দেখতে মাশাল্লা খুব সুন্দর!
নিলয় গম্ভীর মুখে বলল—— আসলে আপনি হয়তো ভাবছেন আমি কোন হুজুর /আলেম!কিন্তু আমি তার একটিও নই,,আমি স্কুল কলেজেই লেখাপড়া করেছি!
নিলয়ের কথা শুনে তাসপিয়ার মন খারাপ হয়ে গেল।সে চেয়েছিল একজন হুজুর কিংবা আলেম তার জীবনসঙ্গী হবে।আর নিলয়কে দেখেও তো তার তেমনি মনে হয়েছিল আর এখন বলছে কিনা সে এর একটিও না।নিলয়ের কথা শুনে তাসপিয়ার চোখ মুখ যেন নিমিষেই কালো হয়ে গেল।
নিলয় তাসপিয়ার বেপার বুঝতে পেরে বলল—— কি ভাবছেন এত!আমাকে যদি আপনার পছন্দ না হয়, আর বিয়ে করতে সমস্যা থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে বলতে পারেন!আমি কিছু মনে করব না,আমি মাকে বুঝিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে নিব।আমি চাইনা কেও তার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আমার জীবনসঙ্গী হোক।
নিলয়ের কথা শুনে তাসপিয়া কিছুটা হলেও সস্তি পেল।কারন তার মা বাবা ভাই যেভাবে উঠে পরে লেগেছে তার বিয়ে দিতে,তাতে তো বিয়ের হাত থেকে বাচা বড়ই দায়।
বাবা ব্যবসার কাজে বিদেশ যাওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে মা লেগেছে আমার বিয়ে নিয়ে।আমি নাকি আর কয়দিন গেলেই বুড়ি হয়ে যাব।
এসব ভাবতে ভাবতে তাসপিয়া বলল*—— যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?
নিলয় হাসি মুখে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক উত্তর দিল।
তাসপিয়া মাথা নিচু করে বলল—– এর আগে কি আরও কোথাও পাত্রী দেখেছেন।
নিলয় মৃদু হেসে বলল—— হুম এর আগেও ২০ টা মেয়ে দেখেছি!আপনি তার মধ্যে ২১ তম।
নিলয়ের কথা শুনে তাসপিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল নিলয়ের দিকে,,চোখাচোখি হতেই আবার চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল—— এতজন পাত্রী দেখলেন অথচ একজনকেও আপনার পছন্দ হলো না!
নিলয় হেসে উত্তর দিল—— যারা আমাকে পছন্দ করছিল কিন্তু আমি তাদের পছন্দ করিনি!আবার যাদের আমি পছন্দ করেছি তারা আমাকে পছন্দ করেনি!ব্যাস আজ আপনাকে দেখতে আসা!
তাসপিয়া অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,—— আমি আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না?
—— মানে হলো,যারা আমাকে পছন্দ করে তাদের আমি পছন্দ করি না,, কারন আমি চাই একজন নেককার,নম্র,ভদ্র, জীবনসঙ্গী। কিন্তু তারা তেমন না।
আবার যাদের আমি পছন্দ করি তারা আবার আমাকে পছন্দ করে না,কারন আমি হুজুর/আলেম নয়।
সেদিন এক মেয়ে তো সরাসরি বলেই দিল যে,তার নাকি আমাকে মুটেও পছন্দ না!
তাসপিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল কেন কেন?
+—+—কারন তার পছন্দ হুজুর ছেলে।কিন্তু আমিতো হুজুর না,, আমি নাকি অপবিত্র, আমার মাঝে তেমন কিছুই নেই এইসব আর কি!
—— এসব বলছে কেন সে?
—— সে বলছে যে হুজুর ছেলেরা পবিত্র,তাদের মাঝে সবকিছুই আছে আরও অনেক কথা!
—— তার মানে সে কি বুঝাতে চেয়েছে?হুজুর ছেলেরা বাদে আর সবাই অপবিত্র,অন্য ছেলেদের মাঝে বিশেষ কোন জ্ঞানগুন নেই!
——কি জানি আমি এত কিছু তখন আর ভাবিনি,,মাথা নিচু করে মাকে নিয়ে তখনি সেই মেয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।
——- খুব কষ্ট পেয়েছিলেন সেদিন তাই না?
——- আরে না,কষ্ট পাব কেন?তার আমাকে পছন্দ হয়নি,এটা তো খারাপ কিছু না!সবার যে সবাইকে পছন্দ হবে এমন তো কোন কথা নেই তাই না?
——- হুম, কিন্তু আমার মতে মেয়েটার এভাবে কথা বলাটা ঠিক হয়নি!
——- আচ্ছা আগের কথা বাদ দেন তো!এখন আপনার মতামত জানাতে পারেন!আমি কিছুই মনে করব না!
——– হুম জানাব,তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে?
——- ওহ,বলুন কি প্রশ্ন আপনার?
——- দেশে তো কত সুন্দরি, স্মার্ট,আরও কত রকমের মেয়ে আছে,তা রেখে আপনি দ্বীনদার মেয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
নিলয় হেসে বলল—— কারন আমাদের রাসুল (সাঃ) চারটি বিষয় বিবেচনায় রেখে মেয়েদের বিয়ে করতে বলেছেন………..
১/মেয়ের ধর্মপরায়ণতা/দ্বীনদার
২/মেয়ের রুপ সৌন্দর্য
৩/মেয়ের বংশ মর্যাদা
৪/মেয়ের ধন সম্পদ
অতএব তুমি ধর্মপরায়নতা মেয়ের সন্ধান কর, নয়তোবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।((বুখারি ৫০৯০)

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন—গোটা পৃথিবীই সম্পদে পরিপূর্ন, এর মধ্যে উত্তম সম্পদ হলো পুণ্যবতী স্ত্রী।

আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি যাকে ধন সম্পদ দিয়েছি সে বেশি ভাগ্যবান নয়,,ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে আমি একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী দিয়েছি।

আবার গনিতের মতে,মেয়েটি যখন দ্বীনদার হয় তখন তার মান হয় ১,,আবার সেই দ্বীনদারের পাশাপাশি যদি মেয়েটি রুপবতী হয় তাহলে তার মান হয় ১০,এভাবে দ্বীনদার এর পাশাপাশি যদি মেয়েটির রুপ,ধনসম্পদ, বংশ মর্যাদা থাকে তাহলে মেয়েটির মান হয় ১০০০!
এখন যদি মেয়েটি দ্বীনদার না হয় তাহলে তো তার যে দ্বীনদারের মান ১ সেটা থাকবে না,,বাকি থাকবে তিন শূন্য(০০০)
এখন যদি ১০০০ এর মাঝে সেই ১ না থাকে তাহলে আমি বাকি (০০০) দিয়ে কি করব আপনিই বলুন।
,
নিলয়ের কথায় খুশি হয়ে তাসপিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
কিছুক্ষন নিরবতা রেখে তাসপিয়া যা বলল তা শুনে নিলয়ের মুখটা আরও গম্ভীরভাব হয়ে কালো হয়ে গেল???????????????

চলবে ইনশাল্লাহ……………………………………???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here