হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-৮

0
613

হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-৮
#আরিশা অনু

–ওর হাতটা ব্যান্ডেজ করে দিয়ে বললাম বাসায় যাওয়ার আগে অবশ্যই ডক্টর কে দেখিয়ে যাবা।আর নেক্সট টাইম যেন এসব পাগলামি করতে না দেখি।তারপর ওর পাশ থেকে উঠে যেয়ে কাজে মন দিলাম….!!!

–পাগলি আমায় শাসিয়ে গেল যাতে ডক্তার দেখায়। এখনো সেই আগের মত কেয়ার করে আমার।এসব ভাবতে ভাবতে অতীতে ডুব দিলাম…
.
.
.
.
–রোহান তুমি কিচেনে কি করছো…??

–এইতো আমার অনুসোনার জন্য তার ফেভারিট পাসতা রান্না করছি….!!!

–কিচ্ছু করা লাগবে না বের হও তুমি আগে কিচেন থেকে।এখনি হাত পুড়ে যাবে তোমার….!!!

–আরে কিছু হবেনা তুমি শুধু শুধু টেনশন করছো।ওর সাথে কথা বলতে বলতে পাসতা সিদ্ধ করে নামাচ্ছিলাম তখন ই গরম পানি এসো আমার হাতে পড়লো আর আমি আহ্ করে উঠলাম….!!!

–রোহানননন কি করলে এটা বলেছিলাম না হাত পুড়ে যাবে।দৌড়ে যেয়ে ওর হাতে ঠান্ডা পানি ঢাললাম।অনেকটা পুড়ে গেছে। হাতটা লাল হয়ে আছে। কত বার বললাম তোমায় কিচেন থেকে বের হও রান্না করা লাগবে না। আমার একটা কথাও তুমি শুনোনা কেনো হ্যাঁ….??

–অনুসোনা আমি ঠিক আছি তুমি টেনসন করোনা।পাগলিটা এক নাগাড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে আর বকে যাচ্ছে আমায়।হাসি পাচ্ছে আমার ওর পাগলামি দেখে….!!!

–কিচ্ছুঠিক হয়নি চুপকরে এখানে বসে থাকবা।বেড থেকে নামলে আজ পা ভেঙে রেখে দেব বলে দিলাম।ওকে বকা দিলাম আচ্ছামত পাজিটা একটা কথা শুনেনা আমার।তারপর ডক্টর আঙ্কেল কে ফোন দিলাম উনি এসে দেখে গেলেন আর মলম দিয়ে গেলেন একটা।

–পাগলিটা সেদিন আমায় তিনবার ই নিজে হাতে খাইয়ে দিয়েছিল। বেড থেকে নামতে ও দেয়নি।আর কিচেনের ত্রিসিমানাই তো যেতেই দেইনি আর….!!!

–ভাবনার ঘোর ভাঙল অনুর ডাকে….!!!
.
.
.
.
–স্যার….??

–হ্যাঁ অনন্যা কিছু বলবা…?

–হ্যাঁ লাঞ্চ টাইম হয়ে গেছে আপনি খাবেন না….?

–কাটা হাত টার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করে বললাম আজ মনে হয় আর খাওয়া হবেনা…!!!?

–রোহান না খেয়ে থাকবে এটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।কিছু না বলে আমার কেবিনে চলে গেলাম আমার টিফিনটা আনতে….!!!?

–যাহ্ চলে গেল?আমি আরো ভাবলাম ও হয়তো খাইয়ে দেবে।অনেকদিন পর আবার ওর হাতে খেতে পারবো। এটা মনে হয় আমার কপালে নেই।মন খারাপ করে বসে এগুলো ভাবছিলাম তখন ই অনন্যা একটা টিফিন নিয়ে কেবিনে ঢুকলো……!!!?

–টিফিন খুলে খাবারটা নিয়ে ওর মুখের সামনে ধরলাম আর বললাম নিন হা করুন।ও এখনো হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মনে হয় বিশ্বাস করতে পারছে না যে সত্যি আমি ওকে এতকিছুর পর ও খাইয়ে দিচ্ছি।তাই আবার বললাম কি হল হা করো……??

–সত্যি যে অনন্যা আমায় খাইয়ে দিতে চাইছে এটা তো আমার বিশ্বাস ই হচ্ছেনা।যাই হোক ভাবাভাবি বাদ দিয়ে আগেতো ওর হাতে খাই।কত বছর পর আবার ওর হাতে খাচ্ছি।খাবার গুলোও যেন অমৃত হয়ে গেছে ওর হাতের ছোয়ায়।খেতে খেতে বললাম তুমি খাও। তুমি তো কিছুই খাচ্ছ না….!!!

–আমি পরে খেয়ে নেব আপনি আগে খেয়ে নিন…!!!

–না তুমি এখনি আমার সাথে খাবে নইলে আমি ও খাবোনা আর এই বলে দিচ্ছি….!!!

–উফ্ রোহান আগের মত জিদ্দি আছো এখনো।মেয়ের বাবা হয়ে গেছো এখন তো জিদটা একটু কমাও কথাটা বলেই আমার হুস ফিরলো।কি বলছি আমি এসব রোহান কে।নাহ্ রুহি শুধু আমার মেয়ে আর কারো না।আমি রুহিকে কিছুতেই রোহানের সামনে আনবো না তাহলে রোহান রুহিকে ও আমার কাছ থেকে কেড়ে নেবে।মরে যাবো আমি রুহিকে ছাড়া।ওকে আঁকড়ে ধরেই তো বেঁচে আছি এতগুলো বছর.!!

–ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম কি বললে মেয়ের বাবা মানে। আমার মেয়ে আছে নাকি আবার….?

–না না নেইতো এতদিন আমরা একসাথে থাকলে হত আর কি তাই বললাম।মিথ্যা বলে ওর থেকে রুহির কথা আড়াল করলাম।নয়তো ও আবার আমায় নিঃস্ব করে ছাড়তো….!!!

–ওহ্ তাই বলো আমি ভাবলাম….!!!

-ভয়ে ভয়ে ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলাম কি ভাবলে…?

–নাহ্ কিছুনা……!!!
.
.
.
.
–দিনগুলো এভাবেই দুষ্টু মিস্টি সময়ের মধ্য দিয়ে পার হয়ে যেতে লাগলো।এখন আর রোহান অনন্যার উপর তেমন রাগ দেখাই না।তবে বেশি বেশি ফাইল ধরিয়ে দিয়ে ওর সামনে বসিয়ে কাজ করাই। যাতে অনন্যা আর কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে না পারে।আর রোহান ও তার অনুসোনা কে চোখের সামনে সব সময় দেখতে পাই।এ যেন নতুন প্রেমে পড়ার মত অনুভূতি…!!?

–অনন্যা ও যে ব্যাপার গুলো উপভোগ করেনা তা নয়। ও ও সুযোগ খুঁজে আঁড় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে তার প্রিয় মানুষটা কে।যেন নতুন প্রেমে পড়া কপোত কপোতির মত চোখে মুখে লজ্জার ভাজ। অথচো প্রিয় মানুষ টা কে দুচোখ ভরে দেখার তিব্র আকাংক্ষা। সব মিলিয়ে দুজনেয় অনেক ভাল সময় পার করছে…!!

–রোহানের অবস্থা ও যেন আগের মত হয়ে উঠেছে। আজকাল অনন্যা ছাড়া নিজেকে অচল অচল লাগে তার।অফিস টাইম শেষ হওয়ার পর ও মাঝে মাঝে অনন্যাকে কাজের বাহানায় আটকে রাখে রোহান। পাগল মনটা যে কিছুতেই তার অনুসোনা কে ছাড়তে চাইনা।#হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি গুলো আবার পূর্ণ মাত্রায় সাড়া দিতে শুরু করেছে আজকাল। রোহান হয়তো সবভুলে আবার তার অনুসোনা কে তার করে নেওয়ার চিন্তায় মগ্ন হয়ে উঠেছে….!!!

— এদিকে সময় ও এগিয়ে চলেছে তার আপন গতিতে।কিন্তু কথায় বলেনা সুখের সময় বড় স্বংকিন্ন তাই হয়তো সুখের দিনটা আর বেসিদিন স্থায়ি হলোনা ওদের জীবনে।সব বিপত্তি ঘটলো সেদিন বিকালে……!!!
.
.
.
.
.
Continue…

(কি বিপত্তি ঘটলো জানতে হলে পাশে থাকুন?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here