হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-১৬

0
583

হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-১৬
#আরিশা অনু
–আজ রুহির স্কুল এ ফাস্ট পরিক্ষা মেয়েটা এর আগে কখনো পরিক্ষা দেয়নি তাই ভয় পাচ্ছে।ভাবছি আজ ছুটি নেব আর রুহির সাথে ওর স্কুল এ যাব।মেয়েটাকে একটু ও সময় দিতে পারিনা আজকাল।আর সারাদিন রোহানের বাসায় কাজ করতে করতে ও অনেক ক্লান্ত হয়ে যায় তাই বাসায় এসে কোনো রকম ফ্রেশ হয়ে খেয়ে শুয়ে পড়ি।কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফোন হাতে নিলাম তারপর রোহান কে ফোন দিলাম।কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর ও ফোন রিসিভ করলো…

–আসসালামুআলাইকুম।স্যার আমি অনন্যা বলছি…..

–ওয়ালাইকুমআসসালাম।হ্যাঁ বলো অনন্যা….

–স্যার আজ আমার ছুটি লাগবে বললো অনন্যা…..

–হঠাৎ ছুটি কেনো জিজ্ঞেস করলো রোহান…?

–কি বলবো এখন বুঝতে পারছি না তাই বললাম আমার শরীরটা একটু খারাপ তাই আজ যদি ছুটি দিতেন তাহলে একটু ভালো হতো কথাটা বলে থামলো অনন্যা…..

–অনন্যার শরীর খারাপ শুনে বুকের ভেতর টা কেঁপে উঠলো।কি হল ওর আবার তাই ভাবনা বাদ দিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে তোমার অনন্যা…?

–ডক্তর দেখিয়েছো তো..?খুব বেশি অসুস্থ কি..?
আমি কি ডক্তর পাঠাবো..?এই মেয়ে কথা বলো না কেন হ্যাঁ। আমার টেনসন হচ্ছে তো প্লিজ কিছু বলো একদমে কথা গুলো বলে থামল রোহান…..

–আমার সামান্য অসুস্থতার কথা শুনে রোহানের পাগলামি গুলোই বলে দিচ্ছে যে ও কতটা ভালোবাসে আমায়।তারপর ওকে বললাম ঠিক আছি আমি স্যার এত টেনশন করার মত কিছু হয়নি।তারপর আর দু একটা কথা বলে ফোন রাখলাম….

–রুহিকে রেডি করে দিলাম আর আমিও রেডি হয়ে নিলাম।ভাবছি ওর পরিক্ষা শেষে ওকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বের হব আজ।মেয়েটা স্কুল থেকে বাসায় এসে একা একা বোর হয় তাই আজ একটু ঘুরতে নিয়ে যাব ওকে।তারপর আম্মুকে বলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম….
.
.
.
.
.
–অনন্যার হঠাৎ কি হল খুব বেশি অসুস্থ কিনা কে জানে উফ্ এত টেনশন হচ্ছে এখন আমার কে জানে মেয়েটা কি করছে এখন।ডক্টর দেখিয়েছে কিনা কে জানে। ও যা কেয়ারলেস কে জানে ঠিক মত মেডিসিন নিচ্ছে কি না টেনশনে আমার মাথা ধরেছে এখন।আচ্ছা একটা ফোন দেব কি? হুম ফোন দিয়ে দেখি কি করছে মেয়েটা। নাহ্ ফোন ও তো ধরছে না এই মেয়ে কি জানেনা যে আমি ফোন দেব।কতবার ফোন দিলাম কোনো খবর ই নাই। এতক্ষণ ধরে একা একা কথাগুলো বলে যাচ্ছে রোহান…..!!!

–একটু আগে রুহির পরিক্ষা শেষ হয়েছে তাই ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম স্কুল থেকে।আম্মুকে আগেই বলে দিয়েছিলাম যে রুহিকে নিয়ে ঘুরতে যাব আজ।তারপর একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়লাম মা মেয়ে…..

–আম্মু আমরা কোথায় যাব এখন অনন্যাকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললো রুহি….

–এইতো আজ আমার সোনামা টা কে নিয়ে শিশু পার্কে যাব এখন…

–সত্যি আম্মু…?

–হুম সত্যি তারপর আমার মার পছন্দের সব খাবার ও খাব আজ আমরা কথাটা বলে থামলো অনন্যা……

–ইয়ে কি মজা কি মজা আজ আমরা ঘুরতে যাব বলে আনন্দে লাফিয়ে উঠল রুহি।আমার আম্মু বেস্ট আম্মু বলে অনন্যা কে জড়িয়ে ধরলো রুহি….

–অনেক দিন পর রুহিকে এমন আনন্দ করতে দেখে চোখে পানি এসে গেল আমার।এত অল্পতে আমার মেয়েটা কত খুশি তারপরও ওকে এটুকু সময় দিতে পারিনা আমি কথাটা ভাবতেই দুচোখ ভেঙে কান্না আসছে এখন আমার। তারপর ও রুহির কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিলাম…..

–শিশুপার্ক থেকে ঘুরে এসে একটা রেস্টুরেন্ট এ ডুকলাম। মা মেয়ে খেয়ে আম্মুর জন্য কিছু খাবার নিলাম তারপর বেরিয়ে পড়লাম বাসার উদ্দেশ্যে।কিছুদূর আসার পর রাস্তার পাশে ফুসকা ওয়ালাকে দেখে রুহি ফুসকা খাওয়ার বাইনা ধরলো।কি আর করবো বাধ্য হয়ে মেয়ের আব্দার মেটাতে মাঝ রাস্তায় নেমে পড়লাম ফুসকা খেতে।সত্যি বলতে বেপারটা আমি নিজেও উপভোগ করছি। আগে যখন আমি আর রোহান এক সাথে থাকতাম প্রায় ই রাতে আমি ফুসকা খাওয়ার বাইনা ধরতাম। আর আমার জেদ এর কাছে হার মেনে রোহান নিয়ে আসতো আমায় ফুসকা খাওয়াতে।সবথেকে মজার ব্যাপার ছিল একপ্লেট ফুসকা ভাগ করে খাওয়ার সময়টা।যখন ই আমরা ফুসকা খেতে আসতাম তখন ই ফুসকা ওয়ালা মামাকে বলতাম আমাদের দুজনের ফুসকা যেন এক প্লেট এ দেয়।এমন একটা সময় ছিল যখন মামা কে বলাও লাগতো না মামা আমাদের দেখেই একপ্লেটে ফুসকা দিয়ে দিত।তবে আরও একটা মজার ব্যাপার ছিল ফুসকা খাওয়ার সময় রোহান আমায় খাইয়ে দিত নিজে হাতে আর আমি ও ওকে খাইয়ে দিতাম।সব সময় এই নিয়মটা রোহানের কাছে বাধা ছিল যেন।আমি মাঝে মাঝে যেদিন মজা করে বলতাম নিজে হাতে খাও জনাব সেদিন নাক ফুলিয়ে মুখ বাঁকা করে বসে থাকতো।আর আমি হেসে উঠতাম ওর কান্ডগুলো দেখে….

–বসে বসে এতখন উপরের কথা গুলো একমনে ভাবছিলাম তখন ই ফুসকা ওয়ালা মামার ডাকে হুস ফিরল আমার……

–আরে আফা আপনে এতবছর কই আছিলেন?স্যার আসেনাই আপনার লগে? এই বাচ্চাডা কেডা আপনের মাইয়া বুঝি কথাগুলো একনাগাড়ে বলে থামল ফুসকা ওয়ালা….

–লোকটার দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি আরে এত সেই ফুসকা ওয়ালা মামা।তারপর মামার সাথে কথা বললাম রুহিকে পরিচয় করিয়ে দিলাম ওনার সাথে।আর টুকটাক কথায় জমে উঠল তিন জনের এই ছোট দল টা…
.
.
.
.
.
–অনন্যা কেমন আছে কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা আমি খুব টেনশন হচ্ছে এদিকে ফোন টা ও ধরলো না।শরীর কি বেশি খারাপ হয়ে গেল ওর উফ্ কি মুশকিলে পড়া গেল।এদিকে কোনো কাজে ও মন বসছেনা আজ তাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম অফিস থেকে……

–কিছুদূর আসার পর হঠাৎ চোখ গেল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ফুসকার গাড়িটার দিকে আর তার পাশে একটা বেঞ্চে বসে আছে অনন্যা আর সেদিনের সেই বাচ্চা মেয়েটা।ওরা খুব হেসে হেসে ফুচকা ওয়ালার সাথে কথা বলছে।মেয়েটা এত কিউট আর মায়াবি যে ইচ্ছা করছে এখনি যেয়ে কোলে তুলে নিয়ে আদর করি…..

–হঠাৎ খেয়াল হল রোহানের অনন্যা বলেছিল ও অসুস্থ তাহলে এখানে কি করছে ও….?

–এতক্ষণ এ বুঝলাম তার মানে অনন্যা আমায় মিথ্যা বলেছিল। আসলে ও মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল। আমি টেনশন করব জেনেও আবার আমায় মিথ্যা বললো ও।আর আমি কিনা গাধার মত সেই সকাল থেকে ওর জন্য চিন্তা করে যাচ্ছি আর ও এখানে দিব্বি মজায় আছে…..

–মেজাজ খারাপ হয়ে গেল এবার আমার এখন ইচ্ছা করছে যেয়ে ওর চুলের মুঠি ধরে ঠাঁস ঠাঁস করে কয়টা চড় বসিয়ে দি।আর কত খেলবে ও আমার ইমোশন গুলো নিয়ে।তারপর নিজের রাগ কন্ট্রোল করলাম অনেক কষ্টে।খুব সখ না তোমার গেম খেলার অনন্যা কাল তোমায় বোঝাবো গেম কারে কয়।আমার সাথে গেম খেলার স্বাদ কাল মেটাবো তোমার।সাত জন্মে ও ভুলতে পারবানা এমন অবস্থা করবো তোমার আমি। এতক্ষণ গাড়ি এক সাইডে থামিয়ে অনন্যাকে দেখছিল আর একমনে কথাগুলো বলছিল রোহান।তারপর রাগে রাগে গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল রোহান…..!!!
.
.
.
.
.
Continue….

(ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here