Gangstar পর্বঃ03

0
263

Gangstar পর্বঃ03
লেখা_রওনাক_ইফাত_জিনিয়া
.

.
.
.আমিঃ আপনি এতদিনেও এইটুকু বুঝতে পারেননি যে আপনার আর আমার কোন দিক দিয়েই কোন মিল নেই?আপনার পাশে থাকাতো দূরের কথা আমার আপনার ছায়াটাও আমার সহ্য হয়না।দেখুন আমি আপনাকে সহ্য করতে পারছিনা দয়াকরে এখন আমার সামনে থেকে চলে যান।

রাতুলঃ থাক আজ আর কিছু বলবনা আর না তোমাকেও কিছু বলতে হবে।তুমি বসো আমি খাবার পাঠাচ্ছি।

আমিঃ খাবনা।খাওয়ার কোন ইচ্ছেই আমার নেই।তবে যদি কিছু খাওয়ার কথা বলেন তবে বিষ এনে দেন খেয়ে মরে যাই।না আমি থাকব আর না এসবকিছু হবে।

রাতুলঃ আর একবার মরার কথা বললে আমার থেকে খারাপ কিন্তু আর কেউ হবেনা।আর একটা কথা মনে রেখ আমার ভালবাসায় যদি এতটুকু সত্যি থেকে থাকে তবে আল্লাহ্ যেন তোমার আগে আমাকে নিয়ে নেয়।
.
.রাতুল চলে গেল আমি বসে আছি।আমার জীবনে সবথেকে বেশি যদি কোন মানুষকে ঘৃণা করে থাকি তবে সে রাতুল।ভালবাসা?আমাকে নাকি ভালবাসে?সে ভণ্ড আর এসবকিছু তার ভণ্ডামি তা আমি বেশ ভালোভাবেই জানি।ভেবেছে আমি বয়সে ছোট তাই যা বলবে তাই আমি বিশ্বাস করব কিন্তু সে জানেনা আমি তারথেকে বয়সে অনেক ছোট হতে পারি কিন্তু বোকা না।
.
একটু পর একটা মেয়ে খাবার নিয়ে এল।

রিমাঃ ভাবি এইযে তোমার খাবার দ্রুত খেয়ে নেও।

আমিঃ ভাবি?কে আপনার ভাবি?

রিমাঃ কেন তুমি রাতুল ভাইয়ের বউ না?তাহলেতো আমার ভাবিই হও।

আমিঃ দেখুন আমি আপনার কোন কালেরই ভাবিনা তাই দয়াকরে আমাকে এসব ভাবি টাবি ডাকতে আসবেন না।আর আপনার ভাইয়ের সাথে এখনও আমার বিয়েটা হয়নি আর না কখনও হবে তাই এসব বাদ দিন।

রিমাঃ তা তুমি যাই বল বিয়েতো তোমার আমার ভাইয়ের সাথেই হবে।

আমিঃ যখন হবে তখন দেখা যাবে।আপনি এখন যান আমার মাথাব্যাথা করছে।

রিমাঃ তুমি আগে খেয়ে নাও পরে শুয়ে ঘুমাবে।

আমিঃ আপনি রেখে যান আমি খেয়ে নিব।

রিমাঃ না খেয়ে ঘুমাবেনা কিন্তু।
.
.রিমা চলে গেল।আমি না খেয়েই শুয়ে পড়েছি।ঘুম আসছেনা।হঠাৎ দেখি একটা ল্যাপটপ।আমি উঠেই তাড়াতাড়ি আমার এফবি আইডিতে ঢুকলাম আর মিতুকে একটা মেসেজ করলাম।
.
“মিতু আমি ঠিক আছি আর রাতুল আমার বিয়েটা ভাঙ্গার জন্য এসব করেছে।তুই বাবা-মার খেয়াল রাখিস আর কাল সকালেই আমাকে বাসায় দিয়ে আসবে বলেছে। (নীলা)”
.
.হঠাৎ দরজার শব্দ শুনে আমি দ্রুত শুয়ে পড়লাম।আড়চোখে দেখলাম রিমা এসেছে।শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই জানিনা।
.
.সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আমি বাসায় চলে আসি।রাতুলকে আর দেখিনি আমার সাথেও সে আসেনি আমাকে অন্যলোকের মাধ্যমে বাসায় পাঠালো হয়েছে।মা তো আমাকে দেখা জড়িয়ে ধরল আর কান্না করে দিল।আমিও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি কাঁদতে শুরু করি।

মাঃ তুই ঠিক আছিসতো মা?তোর কোন ক্ষতি হয়নিতো?

আমিঃ আমি ঠিক আছি মা।সে শুধু আমার বিয়েটা ভাঙ্গার জন্য এসব করেছে।আমার ক্ষতি সে করেনি।

মাঃ যাক আল্লাহ্ বাঁচাইছে আমিতো ভয় পেয়ে গেছিলাম।আর আল্লাহ না চাইলে কেউ কখনও ক্ষতি করতে পারেনা যেমন রাতুল এতকিছু করার পরও তোর বিয়েটা ভাঙ্গতে পারেনি।

আমিঃ কি বলছ?এসব জেনেও হাসানের পরিবার বিয়েটা ভাঙ্গেনি?

মাঃ ওরা এসবকিছু জানেনা।আর তোর বিয়ে কাল হাসানের সাথেই হবে।

আমিঃ কিন্তু কিভাবে এসব হল মা?

মাঃ সে অনেক কথা পরে বলব এখন যা আগে ফ্রেস হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি।চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে কিছু খাওয়া হয়নি।
.
.আমি ফ্রেস হয়ে খেয়ে তারপর শুয়ে একটু ঘুমিয়েছি।হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠল দেখি মিতুর ফোন।

মিতুঃ কিরে নীলা তুই ঠিক আছিসতো?

আমিঃ হুম ঠিক আছি।আচ্ছা তুই বাসায় চলে আয় একা একা ভাল লাগছেনা।

মিতুঃ নারে আজ আর আসবনা কাল সকালেই চলে আসব।আচ্ছা বলত আমি কাল কি পড়ব?

আমিঃ একটা পড়লেই হল।আচ্ছা শাড়ীই পড়িস।

মিতুঃ ও ভাল কথা আমি তোর এফবিতে কয়েকটা শাড়ীর ছবি পাঠাচ্ছি তুই একটু সিলেক্ট করে দে কোনটা কাল পড়ব।

আমিঃ পড়না একটা পড়লেই হল।

মিতুঃ নারে তুইতো জানিস আমি পছন্দের ব্যাপারে কাঁচা তুই একটু বলে দে না।

আমিঃ মনে হচ্ছে কাল আমার না তোর বিয়ে।

মিতুঃ রাগ করিসনা প্লিজ।

আমিঃ আচ্ছা পাঠা আমি পরে ঢুকে দেখে নিব।

মিতু কলটা রেখে দেখি একটা নাম্বার থেকে বেশ কয়েকটা মিসকল।ঐ নাম্বার থেকে আবার কল এল আমি রিসিভ করতেই-

আমিঃ হ্যাঁলো কে বলছেন?

রাতুলঃ কেমন আছো?কি করছো এখন?

আমিঃ আপনি আবার নাম্বার পরিবর্তন করে আমাকে কল দিয়েছেন?

রাতুলঃ তুমি চলে যাবার পর এই প্রথম রুমটাতে এলাম আর এখনও আমি রুমটাতে তোমার উপস্থিতি টের পাচ্ছি মনে হচ্ছে তাই ফোন দিলাম।

আমিঃ আর কখনও আমাকে ফোন দিবেন না বলে দিলাম।

(রাগে ফোনটা বন্ধ করে দিলাম।বিকেলে যখন ফোন চালু করলাম কিছুক্ষন পরেই মিষ্টির ফোন।)

মিষ্টিঃ কিরে দোস্ত না জানিয়ে চুপকরে বিয়েটা সেরে ফেললি?এটা তোর কাছে আশা করিনি তবে তোর বরটা কিন্তু দেখতে বেশ।

আমিঃ আমার বর?কোথায় দেখলি আর কে বলল তোরে যে ঐটা আমার বর?

মিষ্টিঃ তবে এতদিন যা শুনেছি তাই সত্যি হল।

আমিঃ কি শুনেছিস?

মিষ্টিঃ তোর আর রাতুল ভাইয়ের সম্পর্ক চলছিল আর এখনতো বিয়ে করে প্রমাণই করে দিলি ঘটনা সত্যি।তুই যে ভাব দেখাতি মনে হতো রাতুল ভাইরে তুই সহ্যই করতে পারতিনা আর এখনতো…. হা হা হা…ভালোই লাগলো তবে বিয়ের দাওয়াতটা দিলেই পারতি।

আমিঃ এসব কি বলছিস কে বলল আমাদের বিয়ে হয়েছে?

মিষ্টিঃ নিজেই এফবিতে দুজনের ছবি দিয়েছিস relationship single থেকে married লাগিয়েছিস এখন এমন ভাব করছিস যেন কিছুই জানসনা?

আমিঃ কোথায় দেখেছিস ছবি?

মিষ্টিঃ কোথায় আবার তোর আইডিতে দিয়েছিস তো ওখানেইতো দেখব নাকি?
.
.মিষ্টির কথা শুনে মাথা ঘুরছিল।কি সব বলছে ও আমি কিসের দুজনের ছবি দিয়েছি?একটুপর মিতু ফোন করে একই কথা বলল।আগে মিষ্টির কথা তেমন বিশ্বাস না করলেও এখন অবিশ্বাস করতে পারছিনা।সাথে সাথেই এফবিতে log in করতে গিয়ে দেখি wrong password দেখাচ্ছে।তারমানে কেউ আমার আইডিতে ঢুকে password বদলে দিয়েছে।কিন্তু কিভাবে করবে কেউ এমন?আমি ছাড়াতো আর কেউ আমার আইডির password জানেনা।আমি ভাইয়াকে বলে ওর আইডিতে ঢুকে দেখি আসলেই আমার আইডি থেকে Relationship পরিবর্তন করা হয়েছে।Nilanjona Nila married Rahatul Islam Ratul তারপর আবার আমার সাথে রাতুলের বেশকিছু ছবিও দেয়া হয়েছে।ছবিতে আমার বিয়ের শাড়ি পড়া যা কাল কিডন্যাপের সময় পড়েছিলাম।
.
.বুঝতে পারছি এসবকিছু রাতুলের করা কাজ কিন্তু ছবি গুলোতে আমার চোখে সানগ্লাস পড়া তাই আমার চোখ ঠিকভাবে বুঝা যাচ্ছেনা।এখন বুঝতে পারছি আমার অচেতন থাকা আবস্থায় ওই এসব ছবি তুলেছিল আর সবাই যেন বুঝতে না পারে তারজন্য আমাকে সানগ্লাস পড়ানো হয়েছে যাতে আমার চোখ দেখা না যায়।
.
.আমার মাথা ঘুরছে।আসলে কালরাতে আমি তার ল্যাপটপ থেকে আমার আইডিতে ঢুকেছিলাম আর রিমা চলে আসাতে log out করার কথা মনে ছিলনা আর এই সুযোগটারই ব্যবহার করেছে খারাপ লোকটা।এই লোকটা যে এতটা জঘন্য কাজ করবে তা কল্পনাও করিনি।আমার জীবনটা পুরোপুরি শেষ করে দিল।কিন্তু এসব কেন করলো ওইতো জানে আমার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে তবে এমন কেন করলো?
.
.হাসানের বাবা আমার বাবাকে কল করে অনেক বাজে বাজে কথা শুনিয়েছে সাথে এও বলেছে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছি আর তাই বাবা মেনে নিতে না পেরে নিজের অসুস্থতার কথা বলে বিয়ের দিন পরিবর্তন করেছে যাতে আমাকে হাসানের সাথে বিয়ে দিতে পারে আর শুধু আমি না আমার পুরো পরিবারই নাকি খারাপ।আরো অনেক কথা।বাবা কথাগুলো বলছিল আর কাঁদছিল।এই প্রথম বাবাকে এতটা অপমানের স্বীকার হতে হল আর এসবকিছু হয়েছে শুধু ঐ খারাপের জন্য।আমার জীবন থাকতে আমি তাকে কোনদিন ক্ষমা করবনা।
.
.খুব খারাপ লাগছিল নিজের জন্য বাবা-মাকে এত অপমানিত হতে দেখে আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছে।এজীবন রাখার ইচ্ছে শেষ হয়ে গেছে।তাই লুকিয়ে মার ঘুমের ঔষধগুলো নিয়ে আমার রুমে এসে দরজা বন্ধ করেদিলাম।সবগুলো ঔষধ খেলাম।পরে রাতুলকে ফোন দিলাম।
(চলবে)

Rownak Ifat Xenia

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here