চুক্তির বউ ৮ম পর্ব

0
326

চুক্তির বউ ৮ম পর্ব

লেখা:তামান্না
শ্রাবণ অবাক হয়ে মাথা উঁচু করে সামনে তাকায়।পুলিশ এখানে আসলো কিভাবে আমি তো কাউকে কাউকে কল করিনি কিন্তু এরা জানলো কিভাবে?
এরমাঝেই আরেকজন এসে ভেতরে ডুকে শাণকে উদ্দেশ্য করে বলে…….
রিদিঃএইবার শ্বশুড়বাড়ি চলো মি.শাণ।অনেক ক্ষতি করেছো তুমি এদের আর বাকি জীবন জেলে বসে কাটিয়ে দিবে চলো।
শ্রাবণঃরিদি তুমি।(অনেকটা অবাক হয়ে)
রিদিঃহ্যা স্যার আমি।এখানকার থানার একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার।
মেঘঃরিদি তাকিয়ে কি দেখছো আগে বাধন টা খুলতে বলো এদের।আর কতক্ষণ এভাবে থাকবো।
রিদিঃহ্যা মেঘ।
রিদি ওর সাথে আসা পুলিশকনস্টেবল কে মেঘ আর শ্রাবণের বাধন খুলে দিতে বললো।
শাণঃএটা কিন্তু ঠিক হলো না।আমি তোমাদের দেখে নেবো।
রিদিঃআরে দূর তুমি কি দেখবে সেটা আমার জানা আছে।আসো আগে আমার সাথে একবার জেলের মাঝে পঁচে দেখো কি স্বাদ লাগে।
রিদি একজন কনস্টেবল কে ডেকে শাণ কে এরেস্ট করতে বললো।তারপর শাণের সব চেলাদের ও সাথে নিয়ে গেলো।
মেঘঃথেংক ইউ রিদি আজ তুমি না থাকলে এইখান থেকে বেঁচে ফিরতাম না।
শ্রাবণঃরিদি আমার মাথায় কিচ্ছু ডুকছে না।তোমরা একে অপরকে চিনো কিভাবে?
রিদিঃওয়েট স্যার।আগে শাণের ব্যবস্থা করে নেই।বিকেলে আমি আপনাদের বাসায় যাবো।
শ্রাবণঃথেংক ইউ রিদি।
রিদিঃইট’স মাই প্লেজার।আর হ্যা আমাদের সাথে তোমরা ও এসো বাসায় পৌঁছে দেবো।
রিদি ওদের সবাইকে ধরে গাড়িতে নিয়ে বসালো।অন্যদিকে মেঘ তখন থেকে এক হাত দিয়ে অন্য হাত খামচে যাচ্ছে কিন্তু কোনো কথা বলছে না।
শ্রাবণঃদাঁড়িয়ে আছো কেনো?বাসায় যাবে না।
মেঘঃ………..
শ্রাবণঃমেঘ কিছু বলছি তোমায় কি ভাবছো এতো?
মেঘঃক ক কই কিছু না।
শ্রাবণঃতুমি ভয় পাচ্ছো কেনো?নাও উই আর অলমোস্ট সেইফ।
মেঘঃহুম…..
শ্রাবণঃহুম কি এসো বাসায় যাবো মামনি চিন্তা করছে?মামনিকে তো কল ও করিনি এদিকে ফোনটাও সাথে নেই।
রিদিঃকি ব্যাপার তোমরা এখনো দাঁড়িয়ে কেনো?এসো বাসায় যেতে হবে দেরী হয়ে যাচ্ছে না।
শ্রাবণঃআমরা আসছি তুমি যাও।
রিদি যাওয়ার পর শ্রাবণ মেঘের হাতে ধরে গাড়িতে উঠিয়ে দিলো।তারপর নিজেও উঠে বসলো।ওদের জন্য আলাদা একটা গাড়ি আনা হয়েছে।গাড়িতে উঠে মেঘ কোনো কথাই বলছে না।কি যেন ভেবেই যাচ্ছে।হ্যা মেঘ এটাই ভাবছে আর একটু পর শ্রাবণ আর মেঘ আলাদা হয়ে যাবে।ভাবতেই মেঘের ভেতরে একটা ঝড় বয়ে যায়।
অন্যদিকে শ্রাবণের ভিতরেও একই ভাবনা।শ্রাবণ এর ভিতর যে ঝড়টা যাচ্ছে সেই একই ঝড় মেঘের মনেও বইছে।দুজনেই একটা ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করছে।ভাবতে ভাবতেই ওরা বাসার সামনে চলে আসে।রিদি ওদেরকে নামিয়ে দিয়ে বাকিদের নিয়ে থানার দিকে এগিয়ে গেলো।
বাসায় আসতেই শ্রাবণের মা মেঘকে ধরে কান্না শুরু করেন।
শ্রাবণের মাঃকোথায় ছিলি সারাদিন জানিস কতো টেনশন হচ্ছিলো আমার।এইভাবে কিছু না বলে কেউ বাসা থেকে বের হয়।আর যদি কখনো এমন ভুল হয় তাহলে কিন্তু মায়ের হাত মাইর খাবি।
মেঘঃমা মা শুনুন আপনার হাতের মাইর খাওয়ার জন্য এরকম ভুল আমি বার বার করতে রাজি।
শ্রাবণঃকি তুমি আবারো ও ওই গোন্ডাদের কাছে যেতে চাও?দেখলে তো কি হলো?
মেঘঃকিছুই হতো না আপনি কেনো ওদের ফাঁদে পা দিলে গেলেন?
শ্রাবণঃমেঘ আমি না গেলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলতো।
মেঘঃপাগল নাকি।শাণ মারবে আমাকে তার আগেই তো আমি ওর সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি।
শ্রাবণঃমানে কিভাবে?
মেঘঃআজ শাণ আমাকে ধরে নিয়ে গেলো কিভাবে?গোন্ডা পাঠিয়ে আমাকে নিয়ে এটাই ভাবছেন তো তাই না।আরে শাণের এতো সাহস নেই আমার কিছু করবে।একটা সময় তো ও আমাকেই ভালোবাসতো।
শ্রাবণঃতাহলে তুমি ওখানে গেলে কিভাবে?
মেঘঃসবটাই প্লেন ছিলো।নিজে থেকে ওর কাছে ধরা দিলাম যাতে ওকে পুলিশের হাতে তুলে দিবে পারি।
শ্রাবণঃপ্লেন মানে।
রিদিঃহ্যা স্যার প্লেন।
শ্রাবণঃআমি কিছু বুঝতে পারছি না।
মেঘঃদাড়ান বুঝিয়ে বলি।রিদি তুমি বলো…
রিদিঃহুম….
স্যার আমি আপনার অফিসের এম্পলোয়ি হয়ে কাজ করেছি শুধু মাত্র শাণের খুঁজ পাবার জন্য।আমাকে আগেই আপনার মা বলেছিলেন আপনার বিপদ।আর সেটা শাণের জন্য।শাণ যেভাবে হোক আপনার ক্ষতি করবে।এর আগেও শাণ আর শাণের বাবা আপনাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।আপনার অফিসের ম্যানেজার যে লোকটাকে দিয়ে গাড়ির ব্রেকফেইল করিয়ে ছিলো সে নিজেই আপনার মায়ের কাছে সব বলেছিলো।এতোদিন শাণ পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো।
শ্রাবণঃকিন্তু শাণ কেনো?
রিদিঃআপনার বাবার কোম্পানি টা নিজেদের কাছে দখল নেওয়ার জন্য।আপনার বাবার সব সম্পত্তি দখল করার জন্য।আপনার বাবা ম্যানেজারকে চোরের দায়ে কোম্পানি থেকে বরখাস্ত করেছিলেন আর যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য শাণ আর শাণের বাবা মিলে আপনাকে মারার প্লেন করে।সেদিন মারতে পারেনি কারণ সেদিন আপনার বাবা জেনে গেছিলেন গাড়ির ব্রেকফেইল করানো হয়েছে তাই তিনি আপনাকে বাঁচাতে নিজেই ড্রাইভ কন্ট্রোল করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেন।
শ্রাবণঃআর শাণ এতোদিন শুধু মেঘের নাম ব্যবহার করে আমার থেকে টাকা নিতো।
রিদিঃহ্যা স্যার।শাণ এটা ভেবেছিলো মেঘের ক্ষতি করার কথা বললে আপনি মেঘকে বাঁচাতে নিজের জীবন টাও দিয়ে দিবেন তাই ওর নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য এতোদিন মেঘকে ব্যবহার করেছে।ভাগ্য ভালো মেঘ শাণের আসল রূপ জেনে গেছিলো নয়তো আজ সত্যি মেঘের কোনো বিপদ হতো?
শ্রাবণঃতুমি ওখানে গেলে কিভাবে?
রিদিঃআজকে শাণ মেঘকে রাস্তা থেকে কিডন্যাপ করবে এটা মেঘ আর আমার প্লেন।শাণ কে ধরার আর কোনো উপায় ছিলো না।
শ্রাবণঃযদি মেঘের কোনো ক্ষতি হতো?
রিদিঃআমি থাকতে মেঘের কিছু হতে দিতাম না।মেঘকে কিডন্যাপ করার কিছুক্ষণ আগে মেঘ আমাকে কল করে।তারপর নিজের ফোন আমার নাম্বার কলিং এ রেখে শাণের পাঠানো গোন্ডাদের মধ্যে একজনের পকেটে রেখে দেয়।ওদের লোকেশন মুহুর্তেই পেয়ে যাই।তাই ওখানে যেতে কোনো অসুবিধা হয় নি।আজ মেঘ নিজে যদি শাণ কে ধরতে হেল্প না করতো তাহলে শাণ দু একদিনের মধ্যেই আপনার উপর এটাক করতো।
শ্রাবণঃথেংক ইউ রিদি।আজ তুমি না থাকলে আমরা কেউই বেঁচে ফিরতাম না।
রিদিঃথেংক্স তো মেঘের প্রাপ্য।সময় মতো আমাকে কল দেওয়ায় আমি ওখানে যেতে পারলাম।
শ্রাবণঃতাহলে আমার সাথে যে ডিল ফাইনাল করতে আমেরিকা গেলে।
রিদিঃশাণ আমেরিকা ছিলো।ওকে ফলো করার জন্য ইচ্ছে করে একটা ডিল করা।আর আপনাকে প্রটেক্ট করা।
শ্রাবণঃআমার বুঝা হয়ে গেছে এবার একটু আড্ডা দেই।টেনশন করতে করতে প্রাণের বারোটা বেজে গেছিলো।
মেঘঃআপনাকে টেনশন নিতে কে বলেছিলো?
শ্রাবণঃতুমি বুঝবে কিভাবে?তুমি তো আর….
শ্রাবণের মাঃহয়েছে আর টেনশন করতে হবে না।আসল অপরাধীর সাজা তো হয়েই যাবে এইবার এখন আর টেনশন করা লাগবে না।মেঘ তুই একটু চা করে আনবি।আজ সারাদিন তোর ধরে তোর হাতের চা খুব মিস করছি।
মেঘঃআচ্ছা মা আমি চা নিয়ে আসছি।
মেঘ রান্না ঘরে গিয়ে চা নিয়ে আসে সবার জন্য।
সবাই চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছে।শ্রাবণ বার বার আড়চোখে মেঘকে দেখছে।কিছু একটা বলতে চাইছে কিন্তু সবার সামনে চাইলেও কথা বলতে পারছে না।
মেঘ সেটা বুঝেই কেটে পড়ে রান্নাঘরে।ইচ্ছে করেই অনেকগুলো রান্নার আয়োজন শুরু করে।
কিছুসময় পর রিদি চলে গেলো।
সবাই রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেঘ আর পিয়ালি ছাদে বসে গল্প করছে।
পিয়ালিঃএখন কি করবি কিছু ভাবলি?
মেঘঃহুম।
পিয়ালিঃকি সিদ্ধান্ত নিলি?
মেঘঃচলে যাবো।
পিয়ালিঃমেঘ……..
মেঘঃহ্যা রে চলে যাবো।এগ্রিমেন্টের এক বছর পেড়িয়ে গেছে।কাল সকালেই এই বাড়ি ছাড়তে হবে।আর বিপদ বাড়িয়ে কি লাভ?
পিয়ালিঃমেঘ তুই একবার ও স্যারের কথা ভাববিনা?
মেঘঃওনার কথা ভেবেই বলছি।এগ্রিমেন্টে এটাই লেখা ছিলো এক বছর পর যে যার যার রাস্তা বেঁছে নিবো।আমার খেয়ালই ছিলো না।আজ এক বছর পের হতে যাচ্ছে।
পিয়ালিঃমেঘ তুই কি জানিস না স্যার তোকে……
মেঘঃআমাকে কি?
পিয়ালিঃমেঘ তুই আবার ভুল করিস না একবার স্যারের সাথে কথা বল।
মেঘঃআমার কিছু বলার নেই পিয়ালি।
পিয়ালিঃতোর নেই কিন্তু ওনার থাকতে পারে মেঘ।
মেঘঃওনি যা বলার এক বছর আগেই বলে দিয়েছেন নতুন করে আর কি বলবেন?
পিয়ালিঃতুই একটু বস আমি আসছি।
পিয়ালি উঠে নিচে নামলো…..
শাণ আমাকে টকালো।আমি তো কোনোদিন শাণের সাথে প্রতারণা করিনি তাহলে কেনো আজ শাণের সাথেই চুক্তি করলেন ওনি।তাও আমার জীবন নিয়ে।আমি কি খেলার পুতুল যে যার ইচ্ছে মতো আমাকে ব্যবহার করবে আবার সময় পুড়িয়ে গেলে ডাস্টবিনে ফেলে দিবে।
মেঘ বিড়বিড় করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
একটু পর পিয়ালি মেঘের কাধে হাত রেখে পাশে বসে।
মেঘঃএসেছিস।চোখের জল মুছতে মুছতে…
পিয়ালিঃহুম।এইটা ধর….ডায়রিটা মেঘের হাতে দিয়ে।
মেঘঃকি এটা?
পিয়ালিঃদেখতেই পাচ্ছিস ডায়রি।
মেঘঃহ্যা তো এটা দিয়ে কি করবো?
পিয়ালিঃপড়বি।এটা স্যারের ডায়রি।
মেঘঃএটা আমি পড়তে যাবো কেনো?
পিয়ালিঃতোর অনেক কিছু এখনো অজানা মেঘ।এটা না পড়লে জানতে পারবি না।
মেঘঃকিন্তু…..
পিয়ালিঃতুই পড় মেঘ।
মেঘঃহুম…
মেঘ শ্রাবণের ডায়রিটা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করে।প্রথমেই ডায়রির মাঝে লেখা-শ্রাবণের মেঘ।
মেঘ খানিকটা অবাক হয়ে পিয়ালির দিকে তাকায়।পিয়ালি ইশারায় পরের পেইজটা উল্টাতে বলে।মেঘ মাথা নেড়ে সায় দেয়।
তারপর পেইজ টা উলটে দেখে কিছু লেখা আছে।
আজ আমি প্রথম অফিস জয়েন করছি।বাপির খুব ইচ্ছে ছিলো নিজের ছেলেকে কোম্পানির সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম নিবেন।কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিলো না বলে বাপি আমাকে ছেড়ে চলে গেলো।অবশ্য বাপি চলে যাওয়ার পিছনে আমি দায়ী।আমাকে বাঁচাতে গিয়ে বাপি নিজেকে শেষ করে দিলো।
যাই হোক বাপির ইচ্ছে বলি আর নিজের দায়িত্ব কর্তব্য যাই বলি আজ থেকে বাপির রেখে যাওয়া আমানত গুলোর দায়িত্ব আমি নিলাম।আর এই ডায়রিতে প্রতিদিনের কিছু ঘটে যাওয়া কথা উল্লেখ করলাম যেহেতু নিজের লাইফ নিয়ে কারো সাথে কিছু শেয়ার করিনি তাই এই ডায়রিটাই আমার কষ্টগুলো জমা রাখার একটা আশ্রয়।
কোম্পানি জয়েন করার পর জানতে পারলাম আগের ম্যানেজার আংকেল কে চাকরী থেকে বাতিল করা হয়েছে কিন্তু কেনো তা আমাকে কেউ জানায়নি বা আমারো জানার ইচ্ছে হয়নি।
আজ প্রথম অফিসে জয়েন করে বুঝতে পারলাম বাপি কতোটা প্রেশারের মাঝে থাকতো।সারাদিন এতো এতো কাজ করেও বাপি হাসিমুখে বাসায় ফিরতো।আর আমাদের সাথে আড্ডা দিতো।আমার দুঃখ একটাই বাপিকে বুঝে উঠতে আমি খুব দেরী করে ফেলেছি।আগে যদি বুঝে নিতে পারতাম তাহলে হয়তো বাপিকে এতো তাড়াতাড়ি হারাতাম না।
একটু একটু করে কোম্পানির সব দায়িত্ব বুঝে নিলাম।নতুন একজন ম্যানেজার নিয়োগ করলাম।দেখতে দেখতে কোম্পানিটা বেশ উন্নতি হতে লাগলো।
এরপর একটা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেপারে দিলাম নতুন কর্মচারী লাগবে এইটা উল্লেখ করে।
কয়েকজন এর ভাইবা নিয়ে সিলেক্ট করলাম।
আজ আবার নতুন কর্মচারী জয়েনিং করার দিন।নতুন একজন জয়েন করলো তাও আবার একটা মেয়ে।দেখতে একদম পরীর মতো।টানা টানা চোখ।মায়াবী মুখ।বাকা ঠোটের হাসি।লাজুক লাজুক মুখের চাহনি।একদম পরীর মতো দেখতে।যে একবার দেখবে সেই প্রেমে পড়ে যাবে।প্রথম দেখায় মেয়েটাকে আপন ভেবে নিয়েছিলাম।কিন্তু জানতাম না যেই মেয়েকে আমি মনের গহীনে অজানা একটা সুখের ঠিকানা গড়ে তুলেছি সে অন্য কাউকে ভালোবাসে।বাপিকে হারিয়ে একরকম পাগল হয়ে গেছিলাম কিন্তু ওকে দেখে আবারো পাগলামি থামানোর একটা মাধ্যম খুঁজে পেলাম কিন্তু যেদিন জানলাম পরীটা অন্যকাউকে ভালোবাসে সেদিন আবারো খুব কষ্ট অনুভব করলাম।বুকের ভেতরে কেমন যেন ব্যথা অনুভব করতাম।মামনি আমার কষ্ট মেনে নিতে পারছিলো না।বার বার জানতে চাইতো বলে একদিন মামনিকে সব বলে দিলাম।মামনি আমাকে অনেক বুঝতো যে আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তাহলে একদিন সে আমার হবেই।আর আমার নিজের ভালোবাসায় উপর বিশ্বাস ছিলো।সেই বিশ্বাসটাই হয়তো আমাকে বাঁচতে শিখালো।ও কখন অফিসে আসতো কখন কি করতো সব নজর রাখতাম।একরম পাগল ছিলাম আমি ওর জন্য।ওহ হ্যা পাগল আমি এখনো ওর জন্য।মনের গহীনে আজো আমি ওকেই অনুভব করি।
কিন্তু সমস্যা তো বাধে অন্য জায়গায়…….
এমনটা হবে কোনোদিন ভাবিও নি।কি থেকে কি হয়ে গেলো।মুহুর্তেই সব শেষ হয়ে গেলো।আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।আমার কি করনীয় সেটাও মাথায় ডুকছে না।
অবশেষে একজনকে পেলাম আমাকে হেল্প করার জন্য।যে আমাকে প্রতিটা পদে হেল্প করেছে তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।কিন্তু তাও আমি থাকে ধন্যবাদ জানালাম।তার মাধ্যমেই আসল ঘটনা জানতে পারলাম।
চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here