চুক্তির_বউ  ১ম_পর্ব

0
456

চুক্তির_বউ
১ম_পর্ব
টক টক টক টক টক,,,,,,,,
মেঘঃMay I come I’m sir .
শ্রাবণঃYes,Please come.
মেঘঃSir কেনো ডেকেছেন আমাকে?
শ্রাবণঃহ্যা বলছি বসো এখানে।
মেঘঃOh Sure.(বসতে বসতে)
শ্রাবণঃশুনলাম তোমার টাকার দরকার।কথাটা কি সত্যি?
মেঘঃআসলে স্যার…
শ্রাবণঃসত্যি কি না সেটা বলো।
মেঘঃহ্যা স্যার টাকা দরকার।
শ্রাবণঃকত টাকা দরকার?
মেঘঃপ্রায় দশ লাখের মতো।
শ্রাবণঃটাকা টা আমি তোমাকে দেবো।
মেঘঃআপনি কেনো আমাকে এতোগুলো টাকা দিবেন?তাছাড়া এতো টাকা আমি আপনার থেকে নিতে পারবো না।
শ্রাবণঃটাকা তো খুব ইম্পরট্যান্ট তোমার কাছে।
মেঘঃহ্যা ইম্পরট্যান্ট।কিন্তু আমি আপনার থেকে টাকা টা নিতে পারবো না।
শ্রাবণঃটাকা তো আমি তোমাকে এমনি এমনি দিবো না,
মেঘঃতাহলে কেনো দিবেন টাকা?
শ্রাবণঃআমার একটা কাজ তোমাকে করে দিতে হবে,
মেঘঃকি এমন কাজ যে যার বিনিময়ে আপনি আমাকে এতোগুলো টাকা দিবেন?
শ্রাবণঃসেটা কিছুক্ষণ পর বলবো।এখন বলো টাকা টা নিবে কি না।
মেঘঃস্যার টাকা আমার দরকার কিন্তু আমি সেটা এমনি এমনি নিতে পারবো না।কি কাজ আর সেটা কতোটা ইম্পরট্যান্ট আমাকে জানতে হবে না হয় টাকা আমি নিতে পারবো না।
শ্রাবণঃতাহলে তোমার মা কে বাঁচাবে কিভাবে যদি টাকা জোগাড় না হয়।
মেঘঃআপনি কিভাবে জানেন আমার মায়ের ব্যাপারে?(অনেকটা অবাক হয়ে)
শ্রাবণঃসেটা তোমার দেখার বিষয় না।এখন দেখো তুমি কি করবে?
মেঘঃকি কাজ করতে হবে বলুন?
শ্রাবণঃএকটা Agreement পেপারে সই করতে হবে।
মেঘঃকিসের এগ্রিমেন্ট?
শ্রাবণঃবিয়ের।
মেঘঃমানে…..(অনেকটা ধাক্কা খায় মেঘ)
শ্রাবণঃমানে হলো একটা বিয়ের এগ্রিমেন্ট পেপারে সই করবে তাহলে আমি তোমাকে টাকা টা দিবো।এগ্রিমেন্ট হবে এক বছরের একবছর পর তুমি তোমার পথ দেখবে আমি আমার পথ।ক্লিয়ার…….
মেঘঃসরি স্যার।(মেঘ উঠে গেলো)
শ্রাবণঃভেবে দেখো সময় মাত্র চব্বিশ ঘন্টা।
মেঘ কিছু না বলে নিজের ডেস্ক এ বসে ভাবতে থাকে।ডাঃ বলেছে যেভাবে হোক টাকা টা জোগাড় করতে নয়তো তাদের আর কিছু করার থাকবে না।মা কে তো বাঁচাতেই হবে যেভাবেই হোক প্রয়োজনে নিজেকে মেরে ফেলে হলেও মায়ের ট্রিটমেন্ট আমি করাবো কিন্তু স্যার মায়ের খুঁজ পেলেন কিভাবে? আর এগ্রিমেন্ট পেপার ই বা কেনো?বিয়ে যদি করতে না চান তাহলে বিয়ের নাটক কেনো?জানতে হবে আসল রহস্য টা কি?
পিয়ালিঃকি রে মেঘ কি ভাবছিস?
মেঘঃঅন্যমনস্ক….
পিয়ালিঃমেঘ কি ভাবছিস বলবি তো?
মেঘঃহুম হ্যা পিয়ালি তুই কি বলবি বল?
পিয়ালিঃবলবি তো তুই।
মেঘঃমানে কি বলবো আমি?
পিয়ালিঃতোকে স্যারের সাথে কথা বলতে দেখলাম কিছু হয়েছে।
মেঘঃনা……
পিয়ালিঃতাহলে কি এতো ভাবছিস?
মেঘঃতুই তো জানিস মা ছাড়া আর কেউ নেই আমার আজ যদি সেই মাকেই না বাঁচাতে পারি তাহলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে যাবো।যে মা নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছে নিজের সুখ না দেখে আমার সুখের কথা ভেবেছে আজ সে মায়ের মৃত্যু কিভাবে নিজের চোখে দেখি বলতে পারিস।
পিয়ালিঃমন খারাপ করিস না কিছু একটা উপায় নিশ্চয় পাওয়া যাবে।
মেঘঃহুম……
মেঘ সারারাত ঘুমোতে পারেনি।কিভাবে ঘুমাবে মা যে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে তাহলে মেয়ে কিভাবে ভালো থাকে।
রাতটা কোনোভাবে পার করে মেঘ।সকালে অফিসে গিয়ে শ্রাবণের সাথে দেখা করতে গেলো।
মেঘঃস্যার আসবো।
শ্রাবণঃআরে মেঘ তুমি কি ব্যাপার?আজ নিজেই এলে।Any Problem?
মেঘঃসমস্যা তো একটাই।
শ্রাবণঃতারমানে আমার প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি তুমি তাইতো।
মেঘঃআর কোনো অপশন কি নেই?
শ্রাবণঃনা এইটাই একমাত্র অপশন।লাইফ তোমার।মা ও তোমার সিদ্ধান্ত ও তোমার দেখো কি করবে।
মেঘঃআমি রাজি।
শ্রাবণঃগুড….আমি জানতাম তুমি এই প্রস্তাব ফেলতে পারবে না।
মেঘঃস্যার টাকা টা আজই দরকার।
শ্রাবণঃহ্যা…টাকা আজই দিবো আর বিয়েটা ও আজই হবে।
মেঘঃকিন্তু স্যার…..
শ্রাবণঃকোনো কিন্তু না এসো আমার সাথে।
কোনো প্রশ্ন না। যেখানে যাবো সাথে তুমি ও যাচ্ছ আর হ্যা ভয় পেয়ো না তোমার মায়ের ট্রিটমেন্ট এর টাকা আমি দিচ্ছি এটাই ফাইনাল।
মেঘঃThank You Sir…
শ্রাবণঃএসব না বললেও চলবে।এসো তো আগে।
শ্রাবণ মেঘকে নিয়ে নিজের গাড়িতে বসালো তারপর নিজেই ড্রাইভ করতে শুরু করে।
মেঘঃআমরা কোথায় যাচ্ছি?
শ্রাবণঃগেলে বুঝতে পারবে এতো প্রশ্ন করো কেনো তুমি?
মেঘঃনা স্যার এমনি জিজ্ঞেস করছিলাম।
তারপর মেঘকে নিয়ে একটা বাড়ির ভেতরে ডোকে,মেঘ চারিদিকে তাকিয়ে আছে এটা বাড়ি না রাজপ্রাসাদ।এতো সুন্দর বাড়ি কারো হয় নাকি।
শ্রাবণের সাথে মেঘ ভেতরে গেলো,ভয়ে মেঘের গলার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে কিন্তু একটা কথাও মুখ ফুটে বলতে পারছে না।
শ্রাবণঃমামনি,মামনি দেখো কাকে নিয়ে এসেছি?
একটু পর হুইল চেয়ারে বসে একজন মহিলা এগিয়ে এলেন শ্রাবণের কাছে।হ্যা ওনি শ্রাবণের মা।একটা এক্সিডেন্ট এর পর থেকে ওনি পেরালাইজড হয়ে যান সেই থেকে হাটাচলা করতে পারেন না।
শ্রাবণের মাঃএই তো শ্রাবণ আমি।এতো চিৎকার করে ডাকছিস কেনো?
শ্রাবণঃকাকে নিয়ে এসেছি দেখো?
শ্রাবণের মাঃবাহহ খুব সুন্দর তো।একি সেই মেয়ে যাকে তুই?
শ্রাবণঃমামনি, মামনি শোণ আজ কে ওর আমার বিয়ে তুমি সব আয়োজন করো আমি একটু আসছি ওকে নিয়ে শপিং এ যাবো।
শ্রাবণের মাঃএতো দিনে একটা কাজের মতো কাজ করতে যাচ্ছিস।ঠিক আছে আমি তোর উকিল আংকেল কে আসতে বলি সব কাগজ পত্র রেডি করে রাখি তোরা শপিং করে আয়।
শ্রাবণঃওকে।
শ্রাবণের মাঃএদিকে একটু আসবে মা।
মহিলার মুখে মা ডাক শুনে মেঘের ভেতর কেমন যেন মুচড় দিয়ে উঠলো।মেঘ ওনার পায়ের কাছে গিয়ে বসে হাতে হাত রাখে।
শ্রাবণের মাঃআজ থেকে আমার এই বাদর ছেলেটার সব দায়িত্ব কিন্তু তোমার।ওকে দেখে রাখবে কেমন।আমার ছেলের পছন্দ যে এতো সুন্দর আমার জানা ছিলোনা।এই বলে ওনি অনুর কপালে একটা চুমু দিলেন।
মেঘ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওনার দিকে।কি বললেন ওনি এটা।মেঘের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।মেঘ ঘাড় ঘুরিয়ে শ্রাবণের দিকে তাকালো।শ্রাবণ সোজা সাপ্টা জবাব দিলো।
শ্রাবণঃএভাবে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি এসো শপিং করতে হবে।
মেঘ রিতিমতো ভয়ে পেয়ে গেলো শ্রাবণের এরকম কথায়।কি আজব লোক রে বাবা,নিজের
স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আমাকে বিয়ে করতে চাইছে।নাকি ওনার এই বিয়ের পিছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।কে জানে কি চান ওনি।ওনার মতিগতি বুঝার ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দেননি মনে হয়।যাই হোক এতো ভেবে কাজ নেই।এখন মা কে বাঁচানোর এই একটাই উপায় যেভাবে হোক মা কে আমার চাই ই চাই।
দুজনে টুকটাক শপিং করে বাসায় আসে।শ্রাবণ মেঘকে একটা শাড়ি পরে রেডি হতে বলে।একটুপর কাজী আসবে তার পর থেকেই মেঘের আগামী এক বছর চুক্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকবে।একটা সম্পর্ক কি চুক্তি দিয়ে শুরু হয় মেঘ ভাবছে এগুলো শ্রাবণের কথা হুশ ফিরে।
শ্রাবণঃএই যে হ্যালো তাড়াতাড়ি রেডি হও এক্ষুণি কাজী এসে যাবে।
মেঘঃস্যার আমার মা।
শ্রাবণঃতোমার মায়ের অপারেশন আজকে রাতেই হবে।তুমি সেখানে যাবে কিন্তু আমাদের বিয়েটা আগে হোক তারপর।
মেঘঃঅপারেশন এর টাকা।
শ্রাবণঃওটা অলরেডি জমা দেওয়া হয়ে গেছে আর ডাক্তারের সাথে আমার কথাও হয়েছে।
মেঘঃওহহহ……
শ্রাবণঃতুমি রেডি হয়ে এসো আমি নিচে অপেক্ষা করছি।
মেঘঃহুম….মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো….
শ্রাবণঃওহ হ্যা একটা কাজ বাকি।
শ্রাবণ আলমারি থেকে একটা কাগজ বের করে মেঘের হাতে দিলো।
মেঘঃএটা কি স্যার?
শ্রাবণঃএটাই এগ্রিমেন্ট পেপার।
মেঘ হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলো।শ্রাবণ ওকে থামিয়ে দেয়।
শ্রাবণঃএখন এটা পড়ে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি সাইন করো।
মেঘঃএক্ষুণি সাইন করতে হবে।
শ্রাবণঃহ্যা এক্ষুণি।তাড়াতাড়ি করো।
মেঘ ভয়ে ভয়ে কলম তা হাতে তুলে নিলো।
হ্যা আল্লাহ বাঁচার কি কোনো উপায় নেই শেষ পর্যন্ত একটা এগ্রিমেন্ট কাগজে সই করে বেঁচে থাকার লড়াই করতে হবে।কিন্তু যদি শান এটা জানে তাহলে ওকে কি জবাব দেবো।অবশ্য ওর আর এখন আমার লাইফ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই যদি থাকতো তাহলে এভাবে….
ভাবতে ভাবতে মেঘের চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
শ্রাবণঃএতো ভেবে লাভ নেই যা হবে ভালোই হবে তোমার মাকে তো ফিরে পাবে।
মাকে বাঁচাতে আজ নিজের জীবনকে একটা চুক্তির ভেতরে নিয়ে নিলাম।একটা সাক্ষর এর মাধ্যমে আমি আমার সব হারাতে যাচ্ছি তবে যাই হোক এর জন্য তো আমি মাকে ফিরে পাবো এটাই আমার কাছে অনেক।
হুট করেই মেঘ কাগজে সই করে কাগজ টা শ্রাবণের হাতে দিলো।শ্রাবণ সেটার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো তারপর ওটা আলমারি তে রেখে মেঘ কে নিচে আসতে বলে নিজে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
মেঘ খুব জুড়ে কান্না করতে লাগলো।আজ সব শেষ হয়ে গেলো সব।
চলবে…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here