ভালোবাসার মূল্য

ভালোবাসার মূল্য

ভালোবাসার মূল্য

সাহরিয়ার শেখ সাব্বির

মনের আকাশ দিবো লিখে আমি তোমার নামে,

সেই আকাশ টি বিক্রি হবে ভালোবাসার দামে।

পারলে তুমি ভালোবেসে নিও তোমার করে,

আমি কিন্তু ভালোবাসবো সারাজীবন ধরে।

চলো হারিয়ে যাই

চলো হারিয়ে যাই

চলো হারিয়ে যাই

সাহরিয়ার শেখ সাব্বির

তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে চাই দূর তাঁরার দেশে,

তুমি কী যাবে আমার সাহে হাত বাড়িয়ে ভালোবেসে?

ভাসতে চাই দুজনায় সুখের ভেলায়,

তুমি কী থাকবে আমার সাথে নাকি রাখবে অবহেলায়?

কাছে টেনে ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও না আমায়,

ভালোবাসি বড্ডো বেশি আমি যে তোমায়।

 

বেহুলা মন

behola mon

বেহুলা মন

Written by Avantika Anha

মনের বিষন্নতা যখন গ্রাস করে অশ্রু ও সাথে টলমল,

গহীন থেকে দেখছে আমায় ঐ সে মেঘের দল।

বিলাস বহুল লোকের ভিড়ে কেন দেখে গহীন থেকে,

সব যখন ব্যস্ত হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে একটু ডাকে।

মৃত স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে বৃষ্টি এসে প্রেরণা জোগায়।

প্রশ্ন যখন ভরপুর আড়ালে তখন লুকিয়ে যায়,

যখন খুঁজি আমি নিজে করে লুকোচুরি আমার সাথে।

অশ্রুর সাথে আকাশ কাঁদে মনের আকাশ বৃষ্টি হয়ে নামে নিরব যখন আমি রই।

কেন সে আবার ডাকে,

সব ভুলে যখন ঘুমিয়ে যাই সে যে নিরবতা ভেঙ্গে ডেকে যায় ।

আমি কি তাদের খেলার সাথী? নাকি বিষন্নতার সাথী?

প্রশ্ন যখন করতে যাই কেন সে পালিয়ে যায়?

কোন সমুদ্দুরে আছে লুকিয়ে যাতনা গুলো ছিনিয়ে নিয়ে,

বেহুলা মন করে জালাতন শুদু তোমারি পরশ নিতে। .

ভালোবাসার বন্ধন

valobashar bondhun

ভালোবাসার বন্ধন

  সাহরিয়ার শেখ সাব্বির

এ কোন মায়ায় তুমি জড়ালে আমায়,

দূরে যেতে চাইলেও পারি না ভুলে থাকতে তোমায়।

ভালোবাসার মায়াজালে আবদ্ধ আমি,

আর এই জগতের সেরা সৌন্দর্য্য তুমি।

কাছে টেনে ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও আমায়,

ভালোবাসি একটু বেশি আমি যে তোমায়।

ঘোর লাগা স্বপ্ন পথে তুমি আমি হেঁটে যাই….

তারপর তুমি আমি ঘুম থেকে জেগে উঠব
চোখ খুলে স্মিত হাসি তোমার ঠোঁটে
তুমি ভুলেই যাবে পিছনে ফেলে আসা সব গল্প,
সাদা পথে হেঁটে যাব আমরা কত সভ্যতা পিছনে ফেলে
কত সহজ পথ ক্লান্তি নেই, নেই ভ্রান্তি।
মুখে নেই কথা, ইশারায় বুঝা হয়ে যায় মনের কথা
তুমি মুগ্ধ হাওয়ায় ডানা মেলা পাখি
আর আমি রঙধনু রঙ প্রজাপতি
গা ছুঁয়ে পাশাপাশি পথ চলা, এ পথ চলার শেষ নেই
নেই পথের বাঁক, কিংবা এবড়ো থেবড়ো পথ।
নিবিড় চোখে উপভোগ করে যাচ্ছ……অপার্থিব রূপ
আলোর মৃদু উষ্ণতায় বারবার হারাই
আবার হারাই, এখানে হিংসা নেই, ঈর্ষা নেই।
পেরোই কত শত অচেনা পথ, পথের পরে পথ
পথের পাশে সাজানো ঝোঁপ ঝাঁড়
বুনোফুলের ঘ্রাণে মাতাল বেলা,
এখানে সকাল নেই, দুপুর নেই, বিকেল নেই
নেই গোধূলিয়া, সন্ধ্যা নেই কিংবা রাত
অফুরন্ত সময় হাতের মুঠোয়, গাছে গাছে পিউ কাহা
কুহু কুহু সুরের মূর্ছনা, মুহুর্মুহু ঝরা পাতার গান
আহা নৈঃশব্দের বাগানে ফুটে আছে কথার ফুল
আর মিষ্টি রোদ্দুর, কখনো দ্বাদশীর জোছনা,
বিভ্রম চোখে, মোহ চোখে নাকি বুঝা দায়
শুধু জানি তুমি আমি নির্ভয়ে মুগ্ধতায় পথ হাঁটছি
শেষ না হোক এ পথ চলা….
সহসা নীল প্রতিচ্ছায়া… ঐ যে দেখো সম্মুখপানে!
হসপস পায়ের প্রতিধ্বনি ভেসে আসছে কানে
তুমি আমি নেই সেই পথে আর
অদৃশ্য সব মনোহর দৃশ্য, নেমে আসে অথৈ অন্ধকার
কত শত বছর যেনো কেটে যায় উফ…
রাস্তার মাঝে সোডিয়াম আলোয় দেখি তোমার মুখ
বিমর্ষ মলিন মুখোচ্ছায়ায় শুধু ঝাঁঝাঁ রোদ্দুর জ্বলে উঠে
ফিরে আসি ফের এখানেই…..পার্থিব বাস্তবে
ঘুম ভেঙ্গে শুয়ে থাকি নিশ্চুপ

তোমাকে

যন্ত্রণা আর হতাশার ঠিক মাঝ দিয়ে
অন্ধকার-খচিত সরু পথ চলে গেছে
কোন চুলোয় কে জানে, সেই বরাবর
সহসা মিলিয়ে গেলে যেন জিভের আগায়
গুড়পুকুরের হাওয়াই মিঠাই।

সেখানে কি আগুনরঙা প্রখর রোদে
স্বপ্নের ডানা থেকে গলে পড়ে মোম,
ঝরে পড়ে সহস্র পালক?
ইকারুসের থ্যাতলানো অবসাদে
লোহিত কনিকার মত মিশে থাকে
পতনের সেনাপতি অভিকর্ষ ত্বরণ?

সেখানে কি ভালবাসা স্পর্শময়, গভীরতাহীন?
আলো জ্বলে নিভে যায় অথচ অন্ধকার স্থির?
সেখানে কি আতশি কাঁচে দৃশ্য উল্টে আসে?
নাকি পাপ আর পুণ্য মাপে অচিন বাটখারা?

যেখানে গিয়েছ যাও, আমার এই পৃথিবীর পথ,
টালমাটাল, তবু ঘুরি সুখ-দুঃখের দ্বিচক্রযানে।

শেষ ঠাই

অস্তাচলের সূর্যটা পানকৌড়ির শেষডুব দেখে
হস্তরেখার মত পথেও নামায় ঘোলাটে আঁধার,
দীর্ঘশ্বাস নিজেও যখন ফেলে আরেকটি দীর্ঘশ্বাস,
ফিসফাস জলের কলতানও হয়ে উঠে বেশ নির্ভার!

ছুটন্ত ব্যকুলতা যেন মেপে মেপে ফেলে পদক্ষেপ
পেছন থেকে আগামীর কুয়াশা ধরে ফেলে পদযুগল,
একটা মায়াডালে অবসন্ন পাখি চোখ বুজে যেন
বলে, যতদূর যাও, এটাই তোমার সাধ্যাতীত ভূগোল!

আমি হাসি, চোখে জল রেখে শেষ ঠাই বলে ডেকে,
নৌকা ঘাটে, দাঁড়-বৈঠা রেখো গো উঠোনের আমডালে,
নিও কিঞ্চিত জলপান, মরিচ-পান্তা, গামছা বেঁধো কোমড়ে,
বরফশীতল মাটিতে হেটে যেও সমান সেই তালে!

পানসি

জলপীড়িতে বসা আদরের দোয়েল
ঘাট থেকে জলে যেত সকাল-বিকেল।
পা ভিজিয়ে খেলতি তুই দোয়েল নিয়ে
আমার দোয়েল সে গেলো্ তোর হয়ে!

জোনাকির সংসার ছিল ঘর জুড়ে
আয়নায় আলো দিত রাত-দুপুরে।
বুকের জোনাকী আমার হয়ে গেল পর
তোর চুলে বাসা বাঁধে- শুণ্য এ ঘর।

দোয়েল গেল, গেল জোনাকিরা চলে
একলা পানসি আমি জেগে থাকি জলে।

জলে ডুবেছিলি মেয়ে এতকাল ধরে
অতল দরদ ছিল চোখের গভীরে।
আজ তোকে মাটি এসে নিয়ে গেলো দূরে
সবুজ ঘাসের দেশে অনেক আদরে।

পিপঁড়ের পালকিতে দরদ অতল
পায়ে পায়ে সরে আসে নিরিবিলি জল
আমার ঘরের চালে ছিল যত মেঘ
ছায়া হয়ে পাড়ি দিল জলের আবেগ।

মেঘ গেল, জল ছেড়ে গেল মেয়ে চলে
একলা পানসি আমি জেগে থাকি জলে।

রূপবতী উঠোনে রেখে গেলি নদী
সে স্রোতে পানসি আমার অদ্যাবধি
পা-ভেজা জল ছুঁয় পানসির শরীর
হুহু করে জল উঠে বুকের গভীর…

নেই কেন খরশোলা

অনেকদিন দেখিনা সেই খরশোলা,
সকালে সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে ওঠা
তার চোখ, যেন মাথা থেকে ঠিকরে
বের হওয়া এক রূপোলী আলো। শান্ত নদীতে
ওঠা ছোট ছোট ঢেউ কিংবা মাছরাঙ্গা-
গাংচিলের ভয়ে ডুব দেওয়া অদৃশ্য মাছ ;
এখন আর শুশুকের মত ওঠে না জেগে।
ঝাঁক বেঁধে চলা সেই খরশোলা ছিল ,যেন
মামাবাড়ি বেড়ানো ছেলেমেয়ের দল।

আজ বহুদিন হয় দেখিনা সেই খরশোলা;
না যমুনায়, না বড়ালে , না হুরাসাগরে।
আজ মামা বাড়ির পাশ দিয়ে যাই আমি
হয় না মামা বাড়ি যাওয়া, নাই অবসর।

আমার মত খরশোলারাও হয়তো ভুলে গেছে
ওদের মামাবাড়ি,শৈশবের উজান ছুটে চলা।
অথবা আজ ওরা হারিয়ে গেছে নীলকণ্ঠ বিষাক্ত নদীতে।
কোনদিন আর হয়তো দেখবো না, দেখবে না
আমার সন্তান কোনদিনই পৃথিবীর আলোয়
সেই খরশোলা, একঝাঁক ধুসর ভয়ার্ত মাছ ;
হুরাসাগরে বা ইছামতী অথবা বড়ালে ;
না যমুনা-সুরমা-কীর্তন খোলায়।

( বি. দ্রু: খরশোলা এক ধরনের মাছ ,যাদের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মত শৈশবে সখ্যতা ছিল। অনেক অনেক সময় চলে গেছে খরশোলার সাথে, মাছধরার সাথে। )

এখনই সময়

সে এক অস্থির বাউণ্ডুলে উড়ুক্কু জীবন…
পদে পদে মাকড়শার জালের মত বিছিয়ে রাখা নিষিদ্ধ আনন্দের লেপ্টানো সুখে,
দু’কূলবিনাশী নষ্টামির উগ্র আহ্বান।
কণ্ঠনালিতে ধেয়ে চলা একঢোক শ্যেন ককটেলে
ছিঁড়ে খুবড়ে নাশ হয় কষ্টার্জিত সভ্যতার অস্থি-চর্মসার আবরণটুকু।
লেলিহান সর্বনাশের লক্‌লকে শিখায় জ্বলতে থাকে তার উপরের খোলস।
লুকিয়ে থাকা সম্মোহনি জাদুতে মিশে থাকে
সর্বস্ব বিকিয়ে দেওয়ার জীবনবাজি।
সম্ভ্রম আর শ্লীলতার উজাড়প্রায় পেয়ালায় শেষ চুমুকটি দিয়ে
শিরায় শিরায় ডাক আসে বুনো কামুক এক অজানা গন্তব্যের দিশায়।
বেড়ে ওঠার সীমাহীন অযত্ন আর অবহেলার যুগপৎ সম্মিলনে,
ভ্রান্তির বীজ রূপ্ত হতে থাকে প্রতিনিয়ত।
ঘুমহীন চোখের পাতায় জেগে থাকে অতীতের দীর্ঘশ্বাসেরা;
জানিয়ে যায় নষ্ট আগামীর আগাম পূর্বাভাষ।
আকণ্ঠ ডুবে থাকা হতাশা আর গ্লানির সর্বগ্রাসী বিষবাষ্পে
মিটমিটিয়ে জ্বলতে থাকে আশা আর সুন্দরের দূর্বল আলোকশিখা।
আশাহীন অজানা গন্তব্যে ধেয়ে চলা এই নিমজ্জমান তরীখানির
শেষ কাণ্ডারি তুমি।
তোমাকেই বলছি…শুনছো তো?