টেম্পরারি_বিয়ে _৯_এবং_শেষ_পর্ব

টেম্পরারি_বিয়ে
_৯_এবং_শেষ_পর্ব
Written by Avantika Anh
পরেরদিন আবির উঠে দেখে আহান পাশে নেই । আনহা কেও দেখছে না ।
আবির : আনহা ( ডাক দিলাম )
আমি : বলুন
আবির : ও তুমি আছো ।
আমি : কি দরকার ?
আবির : ভিডিও কল
আমি : মানে ?
আবির : আরে মা কে দেখাবো তার নাতি কে ।
আমি : ভালো ।
.
.
আবির ভিডিও কল দিলো আরোহি কে
.
আরোহি : হুম ভাইয়া বল
আবির : তোর ভাগিনা হইছে রে
আরোহি : সত্যি ?
আবির : হুম
আরোহি : কই ও ? নাম কি ?
আবির : আহান । এই দেখ ( আহান কে দেখিয়ে )
আরোহি : ভাইয়া কতো কিউট । একদম ভাবির মতো । ভাবি কই ?
আবির : আছে কিন্তু এখনো রাজি হয় নি ।
.
ওই ভাবির মতো মানে ? আমার মতো হয় নি ?
আরোহি : না ফুল ভাবির মতো । ভাবি কে ফোন দে ।
আবির : নে
.
.
.
আমি : হুম আরোহি বলো ।
আরোহি : ভাবি ভাইয়া অনুতপ্ত । ওকে ক্ষমা করে দাও ।
আমি : কিছু জিনিসের ক্ষমা হয় না আরোহি ।
আরোহি : হুম কিন্তু
আমি : কোনো কিন্তু না ।
.
ফোন টা আবির কে দিয়ে দিলাম ।
.
আবির : এখন কি করবো বল ?
আরোহি : আইডিয়া আছে ।
আবির : কি
আরোহি : ……………. ( আইডিয়া বললো )
.
পরেরদিন আমি অফিসে গেলাম । আবির ফোন করলো ।
.
আমি : হুম বলুন ।
আবির : আনহা আম্মু অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ছে । ( মিথ্যা কথা । আরোহির প্লান )
আমি : কিইইই ? কিভাবে ? কই সে ? এখন কেমন আছে ?
আবির : ওতো ভালো না । আমি বাংলাদেশে ফিরছি । সে ইচ্ছা প্রকাশ করছে তোমাকে আর আহান কে দেখার । তুমি আসলে ভালো হয় ।
আমি : ওকে আমি এখনি ব্যবস্থা করছি ইমার্জেন্সি ভিসা আর টিকিট এর ।
আবির : হুম ।
.
.
কিছুদিন পর….
প্লেনে…….
আবির : বাহ এখন আর ভয় পাও না দেখছি ।
আমি : আগে অনেক কিছুই ভয় পাই না
আবির : বেশ ভালো জানু ।
আমি : কে জানু ?
আবির : তুমি
আমি : কেনো নিহা আছে না ?
আবির : সরি তো
আমি : নো মাফ
আবির : হুররর
আমি : হুহ
.
.
বাড়িতে…………..
আবিরের আম্মু নাটক করছিলো অসুস্থতার । সেই সথে আমার পরিবারও এসেছিলো । সবাই আমাকে দেখে খুব খুশি । আহান কেও কোলে নিচ্ছে সবাই ।
.
মা : আনহা মা (আবিরের মা)
আমি : জ্বী মা বলুন
মা : আমি তো মরেই যাবো ।
আমি : এভাবে বলবেন না
মা : আমার শেষ ইচ্ছা টা রাখ তোরা একসাথে থাক । আহানেরও তো পিতার প্রয়োজন ।
আমি : কিন্তু
মা : আমার শেষ ইচ্ছা এটা
আমি : আচ্ছা যা আপনার ইচ্ছা তাই হবে ।
মা : থেংকস মা
আমি : থেংক ইউ এর কিছু নেই ।
.
সেদিন সবাই খুশি হলো । রাতে রুমে ।
.
আবির এসে জড়িয়ে ধরলো । আমি ছাড়িয়ে নিলাম ।
.
আবির : আমি জানি তো এতো সহজে মানার মেয়ে তুমি নও । শুধু মায়ের জন্য রাজি হইছো ।
আমি : যখন জানেন ই তো জড়িয়ে ধরলেন কেনো ?
আবির : আমার বউ আমার ইচ্ছা
আমি : বড় আইছে নিহার কাছে যান ।
আবির : বউ থাকতে অন্যের কাছে যাবো কেন ?
আমি : আগেও গেছেন ।
আবির : সরি
আমি : হুহ । আমি ঘুমাবো বাই ।
.
.
.
রাতে ঘুম ভাঙ্গে গেলো । দেখলাম আবির পমাকে জড়িয়ে ধরে আছে । আমি ছাড়িয়ে নিলাম ।
(ভাবছি আহান কে দোলনায় রাখলো কে ? নিশ্চয়ই আবির )
.
সকালে….
আবির : বউ নাস্তা কি ?
আমি : আলুর পরোটা ( মা ছিলো তাই জবাব দিলাম )
আবির : বাহ ভালোই ।
.
নাস্তার টেবিলে সবাই খাচ্ছে আবির খাচ্ছে না ।
মা : কি রে খাচ্ছিস না কেনো ?
আবির : হাতে ব্যাথা পাইছি ।
আমি : (ভাবছি কখন পাইলো ব্যাথা কে জানি ?)
মা : ও‌ এই ব্যাপার । বৌমা খাওয়ায় দিবে তোকে বউমা ।
আমি : আ..আমি
মা : হুম
.
কি আর করার খাইয়েই দিলাম ।
.
রুমে….
আবির : তোমার হাতে খাইতে সেই মজা ।
আমি : হুহ ভাগেন
আবির : না বউ আমি ভাগবো না ।
আমি : হাত কেমনে কাটছে ?
আবির : কখন কাটছে ?
আমি : মানে ?
আবির : কাটে নি তো
আমি : তাহলে ব্যান্ডেজ কেনো ?
আবির : তোমার হাতে খাওয়ার জন্য
আমি : আপনি খচ্চর হয়ে গেছেন
আবির : তোমার কাছেই শিখছি
আমি : দুররররর ।
.
রাতে আবির অনেক গুলো কিটক্যাট আনে আমাকে দিলো ।
আমি : কিটক্যাট থেংকু ।
আবির : ওয়েলকাম ।
আমি : না না না নিবো না আপনার কোনো জিনিস নিবো না
আবির : সত্যি
আমি : জ্বী ।
আবির : ওকে আমি ই খাই ।
.
ইয়াম কি মজা ।
.
আমি কেড়ে নিলাম সব ।
আবির : কি হলো সব কেড়ে নিলে কেনো ?
আমি : এগুলো আমার আমি দিবো না কাউকে ।
আবির : তুমি বলে নিবা না ।
আমি : না আমি নিবো ।
আবির : হাহা নাও
আমি : হুম ।
.
.
দেখতে দেখতে আহান এর জন্মদিন আসলো । প্রথম জন্মদিন বলে সবাই ধুমধাম করেই আয়োজন করলো ।
.
আহান এখন গুটি গুটি পায়ে হাটতে পারে । একটু আধতু ডাকতেও পারে মা বলে , বাবা বলে ।
.
জন্মদিনের জন্য আমি রেডি হচ্ছি । আবির আসলো ।
আবির : বাহ বউ তোমাকে তো খুব কিউট লাগছে ইচ্ছে করছে এখনি বিয়ে করি ।
আমি : হুহ
আবির : বউ নিহা আসছে
আমি : কেনো ওই শাকচুন্নি কেনো ? (মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে)
আবির : এ্যা শাকচুন্নি হাহা
আমি : সরি ভুলে বলছি
আবির : জানি তো ওকে শাকচুন্নিই ভাবো ।
.
সেদিন কার্ড দিচ্ছিলাম । ও দেখে ফেলছিলো । সামনে ছিলো তাই দাওয়াত টা দিছি ।
.
ফাংশনে…….
.
.
আমি আর আবির দাঁড়িয়ে ছিলাম । আহান আমার কোলে ছিলো । এমন সময় নিহা আসলো ।
নিহা : বাহ কিউট হইছে তো তোমাদের বেবি টা ।
আমি : থেংক ইউ ।
নিহা : আজ আমার আর আবিরের বিয়ে হলে আমাদেরও এমন একটা বেবি হতো হাহা ।
আমি : হুম
.
.
আমি আহান কে নিয়ে অন্য দিকে গেলাম । নিহার কথা টা ভালো লাগে নি ।
.
আবির বুঝলো আমার খারাপ লাগছে । আমি যাওয়ার পর ।
.
আবির : একেই বলে লাইফ তাই না নিহা ।
নিহা : কেনো ?
আবির : হাহা আমি অনেক লাকি আনহা কে পেয়ে ।
নিহা : হুম
আবির : তুমি তো পেয়েও ছেড়ে দিছিলা । ওই মেয়েটা পাশে ছিলো । আবার তোমার জন্যই আমি ওকে হারাতে বসেছিলাম । অবশ্য এতে পমারো দোষ ছিলো । বাদ দেও ।
নিহা : কি বুঝাতে চাও ?
আবির : কিছু মানুষ আজকাল নিজে না পেলে যে পায় তাকে খোঁচা মারে তাই না ।
নিহা : আবির তুমি আমাকে এভাবে বলছো কেনো ?
আবির : তুমি আনহা কে কেনো ওভাবে বললা ?
নিহা : না মানে
আবির : বাদ দাও আমার ছেলের জন্মদিনে আসছো খাও । ওকে দোয়া দাওআর চলে যাও । আশা করি আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না ।
.
নিহা আর কিছু বললো না । আবির জানে তার আর কিছু বলার নাই । আবিরও চলে আসলো ।
.
.
আমি দেখলাম আবির নিহার সাথে হেসে কথা বলছিলো । তাই রেগে গেছি ।
.
অনুষ্ঠানের মাঝে আনহার হাত ধরে টেনে নিলাম এক রুমে ।
.
আমি : আমাকে টানলেন কেনো ?
আবির : বাহ্ রে বউ এর সাথে একটু রোমান্স করবো না ।
আমি : নিহা আছে না আপনার যান হেসে হেসে কথা বলুন ।
আবির : বাহ কিছু জ্বলতেছে নাকি ?
আমি : না কিছু জ্বলে না আমি যাবো ছাড়ুন আমাকে
আবির : ও তাহলে আমি নিহার কাছে যাই ।
আমি : পা ভাঙ্গে দিবো
আবির : বাবা রে গুন্ডি নাকি ।
আমি : আপনি পমার বর অন্য মেয়ের কাছে গেলে পা ভাঙ্গে দিবো ।
আবির : এই কথা টা সেদিন বলো নি কেনো ?
আমি : কবে ?
আবির : লন্ডনে
আমি : আপনিই তো নিহা কে হ্যা বলছিলেন ।
আবির : সরি তো
.
.
আবির হাটু গেড়ে বসলো….
আবির : আনহা জানি আমি অনেক কষ্ট দিছি । মাফ করবা কি না জানি না । কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি । বাসবো । তুমি না বাসলেও আমাকে ভালোবাসার অধিকার দিও ।
আমি : উঠুন
আবির : কেনো
আমি : মাফ করবো আপনাকে কিন্তু
আবির : কি ?
আমি : বিয়ে করতে হবে ।
আবির : এমা আবার আরেকটা বিয়ে করবো দুই বউ কেমনে সামলাবো ।
আমি : থাক লাগবে না নো মাফ বাই ।
আবির : আরে আরে রাগো কেনো ?
আমি : বিয়ে করুন এবং আজকে এখানে সবার সামনে ।
আবির : ওয়েট এবং ওয়াচ
আমি : হিহি
.
.
সেদিন বিয়ে করছি সেই অনুষ্ঠানে পরিচিত কাজি কে ডেকে ।
.
সবাই খুশিই ছিলো ।
.
রাতে….
আবির এলো….
আবির : বউ
আমি : হুমমম বলো বর
আবির : হাহা রাগ ভাংগায় ছাড়ছি
আমি : হুম
আবির : আহান কই ?
আমি : আরোহির কাছে
আবির : বাহ তাইলে ভালোই হলো
আমি : না আমি ওকে মিস করতেছি
আবির : হেহে
আমি : কি
আবির : এই নাও
আমি : ওয়াও কিটক্যাট
আবির : তুমি না এখনো বাচ্চাই আছো ।
আমি : আমি বড় হলাম কবে?
আবির : হাহা আই লাভ ইউ
আমি : আই লাভ ইউ টু আহিয়ার আব্বু
আবির : এমা আহিয়া কে ?
আমি : জুনিয়ার আহান
আবির : হা হা কবে আসবে ?
আমি : ৫ বছর পর
আবির : ভাবতেছি ১১ টা বাচ্চা নিবো
আমি : হুররর মাথা নষ্ট
আবির : তাই নাকি ।
.
তা আজ রাত জাগবা না ।
আমি : কেনো ?
আবির : এর আগের বার কি করছিলা ?
আমি : হেহে আমি ঘুমাবো
আবির : ওমা তাই নাকি আগে একটু জড়িয়ে ধরি তোমাকে
আমি : বুড়া মানুষের ধং জাগছে
আবির : ওই আমি বুড়া
আমি : হুম বুড়া তো
আবির : তাই নাকি তাহলে বুড়ার বুড়ি তুমি
আমি : এ্যা আমি পিচ্চি
আবির : হাহা
আমি : হুম
.
.
.
এরপর শুরু হয় এক নতুন ভালোবাসার গল্প
#কাল্পনিক_গল্প
.
…….সমাপ্ত…….
.
(পাশে থাকুন নতুন গল্পের জন্য)

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৮

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৮
Written by Avantika Anh
মিটিং শেষে….
আমি চলে আসতেছিলাম ।‌ কিন্তু আবির পথ আটকালো ।
আবির : আনহা
আমি : জ্বী স্যার বলুন
আবির : আনহা আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ
আমি : আপনাকে কি আমি চিনি ? আর আমি কেনো ক্ষমা করবো ?
আবির : আমাকে প্লিজ ক্ষমা করো । আমার সন্তান কই ?
আমি : কোন সন্তান ওই যে যাকে আপনি নাপাক বলছিলেন ।
আবির : প্লিজ ইয়ার সরি আর কোনোদিন হবে না ।
আমি : আপনার নিহা কই ? ওকে বলুন
আবির : নিহা কেউ না । আমি ওকে রিজেক্ট মারছি । বিয়ে করি নি প্লিজ ।
আমি : listen we are divorced now . I don’t wanna talk to you .
Abir : please damn listen to me
Ami : I don’t bye .
.
আমি চলে আসলাম ।
.
আবির কিছু সময় নিশ্চুপ বসে থাকলো । তারপর নিজেকেই বললো ।
আবির : না দোষ আমি করেছি । আমি ওকে ফিরিয়ে আনবোই । দেখি এখন ওর খোঁজ নিবো ।
.
এই কম্পানিতে খোঁজ নেই ।
.
Abir : hey there . I need a little help
someone : yahh sir tell me
Abir : can you give me the address of Anha ?
Someone : yahh but why did you need it .
Abir : I need to discuss with her about this project .
Someone : okay sir her address is N/W road 102 mumusi road 4 the building 10th floor .
Abir : thanks for your help .
Someone : Welcome sir .
.
আবির সেই বিল্ডিং এ গেলো । সেখানে বাসা ভাড়া নিলো সেও ।
.
আমি বসে ছিলাম আহান এর সাথে । আহান আমার আর আবিরের ছেলে ।
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ ।
.
আমি দরজা খুলতেই…..
আমি : আপনি
আবির : হুম জানু ।
আমি : মানে
আবির : আমার সন্তান কই ?
আমি : নাই এখানে কেউ ।
.
আবির শুনলো না জোড় করে আসলো । গিয়েই আহান কে কোলে নিলো ।
আবির : (দেখলো সেই বাচ্চাটাই । যাকে অনেক কিউট লেগেছিলো । ভাবলো তার মানে এটাই আমার ছেলে )
আমার সন্তান ।
আমি : ( কেড়ে নিলাম ) সেই অধিকার আপনার নেই ।
আবির : প্লিজ ওকে দেও ।
আমি : না
আবির : একটু প্লিজ
আমি : ( আবিরের মুখ দেখে না করতে পারলাম না ) যাস্ট কিছু সময়ের জন্য
আবির : ওকে ।
.
আহান আবিরের কোলে গিয়ে হাসা শুরু করলো । হয়তো বাবার কোল বলে ।
.
আবির : নাম কি রেখেছো ?
আমি : আহান
আবির : ফিরে চলো আনহা ।
আমি : কোনোদিন না দেন ওকে । আপনি যান প্লিজ ।
.
আবির : আমি তো যাবো না ।
আমি : মানে ?
আবির : আমার বউ , আমার বাচ্চা তাদের ছাড়া কেনো যাবো ?
আমি : না না না কেউ নাই আপনার যান ।
আবির : ডিনার রেডি তাই না খেয়েই নিই । আমার খুব ক্ষুধা লাগছে ।
.
আবির নিজেই গিয়ে খাবার নিয়ে খাওয়া শুরু করলো ।
.
.
এদিক আমি ভাবছি ( এ্যা মি. আবির কি পাগল হয়ে গেছে ? হোক গা আমার কি ? )
.
আবির : বাহ আনহা তোমার রান্না তো এখনো আগের মতোই ।
আমি : ভালো খেয়ে বিদায় হন ।
আবির : বিদায় হবো না গো
আমি : হুররর
আবির : আনহা কিটক্যাট
আমি : কই কই ?
আবির : এমা তুমি এখনো কিটক্যাট খাও ।
আমি : আপনার কি ? আমি খাবো আমার ব্যাপার
আবির : হাহা
আমি : পাগল হইলেন ? হাসছেন কেনো ?
আবির : হুম বাবু তোমার জন্য
আমি : কিইইইই ?
আবির : আচ্ছা আমি‌ ফ্রেশ হয়ে নেই । বেডরুম কোনদিক এদিক ।
আমি : বলবো না
আবির : ওকে আমি খুঁজে নিবো ।
.
.
আমি আহান কে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে সব গুছিয়ে রাখতে কিচেনে গেলাম । এসে দেখি আবির আহানের পাশে শুয়ে পড়ছে ।
.
আমি : হইছে বাপ ব্যাটা একসাথে । হুররররর । আমি যাবোই না এই রাক্ষসের সাথে ।
.
আবির : যেতেই হবে
আমি : আপনি জেগে আছেন ।
আবির : না ঘুমাচ্ছি ।
আমি : তা কথা কে বলে ?
আবির : ভুত
আমি : হুহ ।
.
.
আমি গিয়ে অন্য রুমে ঘুমালাম । রাতে আহানের কান্নায় ঘুম ভাঙ্গে গেলো । জ্বলদি গিয়ে দেখি আবির থামানোর চেষ্টা করতেছে ।
.
আমি : দেন আইছে । এতোদিন খোঁজ নাই । আমার পোলা এইডা ।
আবির : আমারো পোলা । আই মিন ছেলে
আমি : হিহি পারে না আর কইতে আসে ।
আবির : চুপ করাও ।
আমি : আপনি আমার খোঁজ পাইলেন কেমনে ?
আবির : জানো না
“আগার কিছি চিজ কো দিল সে চাহো তো পুরি কায়নাত উছে তুমছে মিলানেকি সাজিস কারেগি”
আমি : আইছে
আবির : লিগালি আমি এখনো তোমার হাজবেন্ড ।
আমি : মানে আমি যে ডিভর্স লেটার পাঠাইছিলাম ।
আবির : ওগুলো কোর্টে জমাই দেই নি
আমি : আমিই থাকবো না
আবির : আমিও পিছে পিছে যাবো ।
আমি : দুর হন
আবির : তুমিও চলো ।
আমি : যাবোই না
আবির : হুহ যাবা তো তুমি ।
.
.
পরেরদিন…….
.
আমি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছি ।
.
আবির : ( ভাবছে এই রে কাপড় তো আমার ফ্লাটে । আমি বের হলেই তো আর ঢুকতে দিবে না । হুর কেনো দিবে না দিতেই হবে )
.
আমি আহান কে কোলে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছি ।
আবির : কই যাও ওকে নিয়া?
আমি : ও লাইনা এর কাছে থাকে কিছু সময় ।
আবির : ওই বউ যেও না
আমি : হুহ আমি গেলাম ।
আবির : তোমার তো আজ যাওয়া হবে না
আমি : আমি তো যাবো ।
আবির : তোমাকে আজ ফিরতেই হবে জ্বলদি ।
আমি : না ।
.
চলে আসলাম আর কথা না বাড়িয়ে…..
.
.
অফিসে থাকাকালীন
.
লাইনা ফোন দিলো ।
Laina : Anha . come here soon
Ami : What happened ?
Laina : A man came to me some time before . he snatched him . please come
Ami : I am coming

.
.
আমি জ্বলদি আসতেছি ।
.
.
আমি আর লাইনা সেম বিল্ডিং এ থাকি । আমি যেতেই আবিরের কোলে আহান কে দেখলাম । বুঝতে বাকী রইলো না এটা আবিরের কাজ ।
.
Laina : that man .
he stolen ahan
Ami : What the heck abir .
আপনি এরকম করলেন কেন ?
আবির : আমি বলছিলাম আজ তোমাকে ফিরতেই হবে ।
আমি : আপনি একটা
আবির : রাক্ষস জানি তো ।
.
দেখো আহানের জন্য কতো কি কিনছি ?
আমি : আহানের এসবের প্রয়োজন নেই ।
Laima : do you know him ?
Ami : actually…
Abir : I am her husband .
Laina : but anha has divorced her husband
Abir : divorce has not happened yet
Ami : stop it Abir . Just give me back my child
Abir : He is my child also .
Ami : No he is just mine . Off your drama .

.
আমি আহান কে নিয়ে চলে আসলাম ।
.
.
.
কিছু সময় পর কলিংবেল বাজলো । আমি জানি এটা আবির তাই আর দরজা খুললাম না ।
.
অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো ।
.
আমি : Hello
আবির : আনহা দরজা খুলো
আমি : না
আবির : যদি না খুলো আমি হাত কাটবো ।
আমি : কাটেন
.
.
কিছু সময় পর একটা এমএমএস আসলো । আবির সত্যি হাত কেটেছে ।
.
আমি জ্বলদি গিয়ে দরজা খুললাম ।
.
আমি : এটা কেনো করলেন
আবির : বলেছিলাম দরজা খুলতে ।
.
.
আমি তাড়াতাড়ি ওষুধ এনে লাগিয়ে দিচ্ছিলাম ।
.
.
আবির : ভালো তো বাসো আমাকে তাহলে ফিরে আসছো না কেনো ?
আমি : না আমি কাউকে ভালোবাসি না
আবির : মিথ্যে বলে কি লাভ ?
আমি : কিছু মিথ্যে বলছি না ।
.
আমার কাজ আছে আপনি থাকলে থাকুন নইলে নাই । আমি আহান কে ঘুম পাড়িয়ে দিবো এখন ।
.
আবির : আমি পাড়াবো ।
আমি : না
আবির : আবার হাত কাটবো ।
আমি : হুররর আচ্ছা নেন ।

.
.
দেখলাম আবির সত্যি পারলো । হাজার হোক বাবা তো । কিন্তু না আমি মানবো না যে করেই হোক আমাকে অন্য কোথাও শিফট হতে হবে‌।
.
.
চলবে……..

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৭

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৭
Written by Avantika Anh
.
বাসায়…….
আরোহি : ভাবি কি কি শপিং করলা ?
আমি : অনেক কিছু এখানে আছে ।
আরোহি : ওয়াও
আমি : হুম আমি ফ্রেশ হবো আচ্ছা
আরোহি : ভাবি
আমি : হুম বলো
আরোহি : কিছু হয়েছে নাকি ?
আমি : আরে না কিছু না ।
.
.
বলে চলে আসলাম……
.
আবির : আনহা
আমি : হুম
আবির : নিহা কে কি সবাই মানবে ?
আমি : আমি আছি এতো চিন্তা কই ?
আবির : থেংকু
আমি : জ্বী
.
ওইদিনের পর থেকে আমি মি. আবিরের সাথে যথেষ্ঠ দূরত্ব রাখা শুরু করি ।
.
.
১ মাস পর…
আবির : আনহা
আমি : জ্বী
আবির : তুমি কি হাসপাতাল গেছিলা ?
আমি : না তো ( কিছু টা ভয়ে )
আবির : ওহ
আমি : হুম
আবির : মনে হলো তোমাকে দেখেছিলাম ।
আমি : হাহা আজ কি সূর্য পশ্চিমে উঠছে নাকি ?
আবির : কেনো‌?
আমি : আমনাে দেখেন যে
আবির : আবার মজা
আমি : হেহে কই মজা ?
আবির : তুমি ভালো হবা না
আমি : খারাপ ছিলাম কবে ?
.
মি. আবির টিকটিকি
আবির : কি কই ?
.
(ঘুরে দেখে সত্যি । আমাকে জড়িয়ে ধরে ফেলে )
আমি : চলে গেছে
আবির ছেড়ে দিলো । সরি
আমি : হুম
.
আজকাল চুপচাপ ই থাকি ।
.
ছাদে বসে ছিলাম ।
.
আরোহি আসলো ছাদে….
আরোহি : ভাবি
আমি : হুম
আরোহি : তুমি প্রেগনেন্ট তাই না ।
আমি : ম.. মানে কি বলো এসব ।
আরোহি : মিথ্যে বলে লাভ নাই । তুমি যার কাছে চেক আপ করো । সে আমার বিএফ
আমি : হুম
আরোহি : এতো বড় গুড নিউজ লুকাচ্ছো কেনো ?
আমি : কিছু জিনিস না জানাই ভালো ।
আরোহি : অনেকদিন ধরে দেখছি বলো কি হয়েছে ?
আমি : কিছু না
আরোহি : এটাও মিথ্যা
আমি : কই‌ কিছু হলো ?
আরোহি : ভাইয়া কে কিছুদিন আগে নিহার সাথে দেখলাম ।
আমি : কোন নিহা?
আরোহি : জেনেও না জানার ভান করছো ।
আমি : না তো
আরোহি : নিহা কি ভাইয়ার লাইফে ফিরে আসতেছে ?
আমি : আমি পরে কথা বলছি
আরোহি : ভাবি তোমাকে আমার কসম বলতেই হবে আজ তোমাকে
আমি : এটা কি করলা ?
আরোহি : কসম দিলাম ।
আমি : নিহা আর আবির একে অপরকে ভালোবাসে । এটা টেম্পরারি বিয়ে……..

.
(সব বললাম)
আরোহি : না এটা আর মানা যাবে না । ভাইয়া এটা করতে পারে না ।
আমি : আরোহি তোমাকেও আমার কসম কাউকে বলবা না
আরোহি : কিন্তু
আমি : আমি আর ১ মাস পর চলে যাবো ।
আরোহি : কিন্তু কোথায় ?
আমি : সেটা জেনে কি করবে ?
আরোহি : প্লিজ আমাকে তো কসম দিয়েছো । এতোটুকু জানাও খালি ।
আমি : সিলেট ।
আরোহি : কেনো ?
আমি : আমার পার্ট টাইম জব হয়েছে । কোনো মতে চলে যাবে । আমি আমার স্টাডি কমপ্লিট করবো পাশাপাশি আমার এক বন্ধু হেল্প করছে ।
আরোহি : ভাবি যেও না প্লিজ
আমি : আমাকে যে যেতেই হবে ।
.
কিছু বললাম না আর ।
.
ওইদিনের পর থেকে আরোহি নিজেও আবিরের সাথে খুব একটা কথা বলতো না ।
.
আবির একদিন আরোহিকে জিজ্ঞেস করলো ।
আবির : কি রে তোর কি হইছে ?
আরোহি : তোর জেনে কি ?
আবির : সত্যি বল কি হইছে ?
আরোহি : না কিছু না
আবির : আচ্ছা
.
.
আমার যাওয়ার দিন চলে এলো ।
সেদিন সকালে…..
আবির : আনহা কই ?
.
আনহা…..
.
পাশে একটা চিঠি পেলো ।
.
“মি. আবির কেমন আছেন মি. রাক্ষস ?
হাহা । আমি চলে যাচ্ছি আজ নিশ্চয়ই হ্যাপি আপনি । আপদ বিদায় হলো । খোঁজ পাবেন না । নিহা কে নিয়ে খুশি হইয়েন । আপনার কাছ থেকে একটা জিনিস লুকালাম । কিন্তু কি তা কখনো জানাবো না । ওটা আপনার স্মৃতি । আপনার কাছে কিছু চাওয়া নেই আমার পরিবারের খেয়াল রাখিয়েন । ডিভর্স পেপারে সাইন করা আছে । আরও কোনো ফর্মালিটি থাকলে আরোহি কে বলিয়েন। আমি পূরণ করে দিবো
.
ইতি
কেউ না”
.
আবির এর চোখ দিয়ে কেনো জানি পানি বইতে লাগলো ।
.
আবির নিহা কে ফোন করে সব জানালো ।
নিহা : ভালোই হইছে এখন জ্বলদি আমাদের বিয়ে হবে ।
আবির : ও একা নিহা বুঝার চেষ্টা করো । ওর কেউ নাই ।
নিহা : তোমার জেনে কি হবে ?
বাবু আমরা আমাদের উপর এখন গুরুত্ব দেই প্লিজ ।
.
আবির : পরে কথা বলছি ।
নিহা : কিন্তু
.
আবির ফোনটা কেটে দিলো ।
.
আবির : আরোহি
আরোহি : কি হইছে টা কি ?
আবির : আনহা কই গেছে ?
আরোহি : জানি না
আবির : বল প্লিজ
আরোহি : তোর মতো পাষাণ কে কোনোদিন খোঁজ দিবো না আমি ।
আবির : আরোহি ( থাপ্পর দিলাম আরোহি কে )
আরোহি : মেরে লাভ নাই । তুই তো জানিস ই না তুই দুইজন কে হারালি ।
আবির : মানে ?
আরোহি : কিছু না ।
.
তারও ২ মাস পরে….
আবির আজকাল আনহা কে খুব মিস করে ।
.
নিজেই ওই ঘড়ি টা বাজায় । আর আনহার জন্য চকলেট কিনে রেখে দেয় ।
.
কোনো এক কাজে আবির কে সিলেট যেতে হয় । কিন্তু রোডে এক ব্যাক্তি এক্সিডেন্ট করে । তাকে আবির সাহায্য করতে হসপিতালে নিয়ে যায় । সেখানে আবির আনহার দেখা পায় । কিন্তু আবির আনহা কে একটা ছেলের সাথে দেখে যে আনহার হাত ধরে ছিলো আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিলো আনহা প্রেগনেন্ট । আবিরের সাথে নিহা ছিলো ।
.
নিহা : দেখছো ও বিয়েও করে ফেলছে । তাও আবার বাচ্চাও আছে । হাহা তুমি এই চরিত্রহীনা কে ভালো বলতা ।
আবির রেগে যায়….
আবির : ছি ছি ছি পরপুরুষের সাথে এতো কিছু
আমি : (কিছু বললাম না)
ছেলেটি : কি বলছেন এসব ?
আবির : গায়ে লাগে ?
হাহা শালি কতো বড় নির্লজ্জ । ডিভর্সের আগেই এতো কিছু কতোগুলো ছেলের সাথে শুঁয়েছিস ।
আমি : ( কিছু না বলে চলে আসলাম )
.
.
সেদিনের পর আমি বেশি বাইরে যেতাম না বেশি ।
.
আবির বাড়ি ফিরে….
আবির : আরোহি
আরোহি : কি
আবির : তোর ভাবি তো বাজে মেয়ে
আরোহি : কি বলতেছিস এসব ?
আবির : আজ সিলেটে দেখলাম । প্রেগনেন্ট তাও আবার একটা ছেলের সাথে ছি । কথা শুনায় দিছি । নির্লজ্জ টাকে ।
আরোহি : অফ ইট ভাইয়া । তুই কি করলি এটা ।
ভাবি একটুও বাজে না ।
আবির : এ্যা বললেই হলো ।
আরোহি : ভাবির পেটে তোর সন্তান ।
আবির : মানে
আরোহি : মানে ভাবি প্রেগনেন্ট ছিলো যাওয়ার আগেই ।
আবির : কিন্তু কীভাবে ? ( আবিরের মনে পড়লো সেদিনের ঘটনা )
আমি কি করে ফেললাম ?
আরোহি : ছি ভাইয়া ছি । মেয়েটা শুধু ওই বাচ্চা টার জন্য বেঁচে ছিলো । তুই এসব করে বাঁচার ইচ্ছাও মেরে ফেলছিস ।
আবির : (কিছু না বলে রুমে চলে গেলো)
.
আবির নিজেও আনহা কে ভালোবেসে ফেলছে । সে নিজেও বুঝছে । নিহার কথায় তার রাগ উঠে যায় আর সে কন্ট্রোল করতে না পেরে এতো কিছু বলে ফেলে ।
.
.
আবির কিছু সময় পর আবার আরোহির কাছে যায়….
.
.
আবির : আরোহি আমাকে ক্ষমা কর বোন । আমিও আনহা কে ভালোবেসে ফেলছি তাই এতোসব । আমার সন্তান আর আমার স্ত্রী কে আমি ফেরত চাই ।
আরোহি : হাহা কোনোদিন ফিরবে না ভাবি ।
আবির : মানে
আরোহি : জানি না ভাবি সিলেট ছেড়ে দিছে ফোনও লাগছে না । কই গেছে জানি না । তুই বেশি দেরি করে ফেললি ।
কাজ
আবির তবুও খুঁজতে গেলো সিলেট কিন্তু পেলো না ।
.
নিহা অনেকবার আবির কে ফোন করে কিন্তু আবির নিহার সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ।
.
১বছর পর…..
এই এক বছরে আবির নিজেকে অনেক ব্যস্ত করে ফেলেছে । কাজ , কাজ আর কাজ ।
.
এখনও খুঁজে যাচ্ছে সে আনহা কে । তার মনে হয় সে একদিন না একদিন তাকে পাবেই । সাথে তার সন্তান কেও ।
.
সে আনহার দেওয়া ঘড়ি টা এখনো যত্নে রেখে দিয়েছে ।
.
কাজের জন্য একটা কম্পানির সাথে ডিল ফাইনাল করতে আবির থাইল্যান্ড যায়।
.
.
একটা বেবি কে দেখে আবিরের কেনো জানি কোলে নিতে ইচ্ছে করে । বাচ্চাটার বয়স সম্ভবত ৭ মাস ।
.
কোলে নিয়ে তার মনে হয় তার বেবিটাও হয়তো এরকমই হবে ।
.
মেয়েটাকে বলে
Abir : Your baby is so cute .
Unknown girl : No it’s not my baby . it’s my friend’s baby .
Abir : no worry . Is this a boy ?
Unknown girl : Yahh
Abir : Really a cute one .
Unknown girl : Thank’s
.
আবির চলে আসলো ।
.
মিটিং এ…..
.
.
Anha : Hello gentlemen and ladies . I am from CWO company . Nice to meet you all.
আবির থ হয়ে যায় কারণ এ আর কেউ না আনহা । এদিকে আমিও একটু হকচকিয়ে যাই ।
.
চলবে…..
.
( আর একটুই বাকী গল্পের । এর পরের পার্টগুলোয় জানবেন আবির কীভাবে আনহার রাগ ভাঙ্গায় । সাথেই থাকুন )

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৬

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৬
Written by Avantika Anh
আবির গোসল শেষে এসে দেখে আনহা নাই ।
আবির : আনহা কই ?
আমি : মি. আবির আমি এখানে ।
আবির : কই ?
আমি : বেলকনি তে জ্বলদি আসেন আমার ভয় লাগছে ।
আবির : এ্যা পড়ে টড়ে যাচ্ছে নাকি ।
.
.‌
আবির গিয়ে দেখে আমি বেলকনিতে দাড়ায় আছি শকড্ হয়ে
আবির : ভয়ের কি ?
আমি : আমার উচু জায়গায় কোণায় যেতে ভয় লাগে । আম্মু আমি এতো উপরে ।
আবির : হাহা এতে ভয়ের কি
আমি : পড়ে গেলে কি হবে ।
আবির : জনসংখ্যা কমবে ।
আমি : এ্যা
আবির : হাহা চলে আসুন এদিক ।
আমি : হাত টা দেন
আবির : হাত দিয়া কি হবে
আমি : এখান থেকে ঝাপ দিবো আপনাকে নিয়া ।
আবির : কি???
আমি : আমার ভয় লাগতেছে হাত দেন
.
আবির আমার হাত ধরে কিনার থেকে আনলো ।
আবির : এমনি তো ডেয়ারিং হন আপনি । বাট উচ্চতা এতো ভয় পান ।
আমি : আপনি নিজেও তো টিকটিকি ভয় পান ।
আবির : ম..মা..মানে কে বললো আপনাকে ?
আমি : আরোহি
আবির : এবার বাড়ি গিয়ে ওর বিয়েটা দিয়েই দিবো ।
আমি : না না না ওকে কিছু করুন খালি আপনাকে আমি ঝাটা দিয়া পিডামু ।
আবির : মানে
আমি : আপনি যা বুঝলেন ।
আবির : এই মেয়ে আমাকে পিটাবা এইটুকু একটা মেয়ে ।
আমি : এইটুকু না ৫” ৫ আছি
আবির : যাস্ট হাইটে এমনি তো ৫ বছরের বাচ্চা।
আমি : এ্যা বললেই হলো ।
আবির : যাও ফ্রেশ হও
আমি : উকে
আবির : হুম
.
আমি গোসল টা সেরে ফেললাম ।
আমি : মি. আবির
আবির : কি
আমি : চলেন চকলেট কিনতে যাই
আবির : আজ আর না কাল যাবো নে
আমি : না না না আমি আজ ই যাবো
আবির : আমার ব্যাগের পকেটে দেখো কিটক্যাট আছে
.
আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি আছে ।
আমি : আপনি কই পাইলেন ?
আবির : ওই যে তোমার গুলো যে লুকিয়েছিলাম তখন ।
আমি : শয়তান । আমার জিনিস চুরি করা আপনাকে আমি ছাড়ুম না
আবির : টাকা গুলো তো শেষ করছোই ।
আমি : হিহি আরও করবো ।
মি. আবির আমার ক্ষুধা লাগছে ডিনার কোথায় হবে ?
আবির : নিচে রেস্টুরেন্টে
আমি : ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করবো ।
আবির : এ্যা ক্যান্ডেল লাইট কেনো ?
আমি : আমার অনেক দিনের ইচ্ছা । ফ্রেন্ড হিসেবে ভাবুন ।
আবির : ওকে
.
.
ডিনারে…..
আবির : Excuse me .
Waiter : yes sir
Abir : can you bring two bowl of chicken soup ?
waiter : okay sir . anything more ?
Abir : Anha do you want anything more ?
Ami : I want a chocolate ice
Abir : okay bring it please .
Waiter : Sure sir
আবির : নেন আপনার ইচ্ছা পূর্ণ ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ।
আমি : মি. আবির চলেন সেল্ফি তুলি ।
আবির : সেল্ফি দিয়ে কি হবে ?
আমি : সেল্ফি আমি আরোহি আর প্রেয়সি কে দেখাবো ।
আবির : হুর আজাইরা ।
আমি : আরোহিকে ভিডিও কল দেই । ও দেখুক ।
.
আবির : ওকে ।
.
ভিডিও কলে….
আমি : হাই আরোহি
আরোহি : হাই ভাবি । wow you are looking pretty in London .
আমি : কি যে বলো । আমরা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতেছি । I am missing you
আরোহি : আমিও তোমাকে মিস করছি ভাবি ।
আমার মেন্টাল ভাই টা কই ?
আমি : আরে কি বলো । পাশেই
আরোহি : হিহি । ওকে দেখাও
আমি : এই নাও
আবির : এবার বাড়ি যেতে দে খালি ।
আরোহি : ভাইয়া হানিমুন কেমন হচ্ছে । জুনিয়র কাউকে নিয়ে তারপর আসিছ ।
আবির : তোর মাথায় এগুলো কই থেকে আসে ?
আরোহি : আসে যায় ।
যা তুই হানিমুন ইনজয় কর আমি রাখলাম বাই ।
.
.
আমি : ওই মি. আবির
আবির : কি
আমি : কাল শপিং এ যাবো তো
আবির : হুম
.
খাবার শেষে….
আমি : আইসক্রিম খাবেন
আবির : না
আমি : তা কেনো খাবেন । আপনি তো খেতেই পারেন না ।
আবির : আমি পারি
আমি : খেয়ে দেখান
আবির : (খেয়ে দেখালো‌) প্রুফ পেলেন
আমি : হ
আবির : খাওয়া ডান
আমি : হুম চলেন ঘুমাই কাল জ্বলদি উঠে শপিং এ যামু কিন্তু ।
.
রাতে ঘুমানোর আগে….
আমি : মি. আবির আমরা কি এক বিছানায় ঘুমাবো ।
আবির : ব্যাপার না মাঝে বালিশ থাকবে
আমি : ওকে
.
শুয়ে পড়ার কিছু সময় পর । আমি মি. আবির কে গুতা দিলাম ।
আবির : কি হলো ?
আমি : গান শুনান না একটা ।
আবির : ওই মেয়ে এখন গান কই থেকে আসলো ।
আমি : শুনান প্লিজ
আবির : আমি ঘুমাবো
আমি : শুনান নইলে মামনি কে ফোন দিমু‌ । দিয়া কমু আপনি আমাকে মারছেন ।
আবির : হুহ দুই লাইন বলবো যাস্ট ।
আমি : ওকে
আবির : “পৃথিবীর যতো সুখ যতো ভালোবাসা;
সবই যে তোমায় দিবো একটাই আশা”
আমি : ওকে শুনুন না
আবির : ঘুমান
আমি : চলেন বেলকনি তে যাই ।
আবির : এই মেয়ে ঘুমা বলছি
আমি : ( ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিছি )
আমি ঘুমাচ্ছি
আবির 🙁 মুচকি হাসছে । ভাবছে.. মেয়েটা পারেও বটে)
.
সকালে….
আমি : মি. আবির ও মি. আবির
আবির : ওহো কে রে‌?
আমি : আমি আনহা
আবির : এতো জ্বলদি উঠছেন যে ?
আমি : আজ যে ঘুরতে যাবো আমরা মনে নাই ?
আবির : হায় রে এই মেয়েটা ?
আমি : চলেন ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে জ্বলদি যাই ।
আবির : আচ্ছা ওকে ।
.
.
কিছু সময় পর…..
আমি আর আবির রাস্তায় হাটছি ।
আমি : মি. আবির
আবির : বলেন কি চাই ম্যাডাম ?
আমি : চলেন আইস্ক্রিম খাবো ।
আবির : এখন না পরে ।
আমি : হুহ তাহলে ওই টেডি বিয়ার টা কিনে দেন ।
আবির : তুমি বাচ্চা ?
আমি : হুম দেন না ।
আবির : চলো ।
.
অনেক কিছু শপিং করলাম ।
.
শপিং শেষে…..
আবির : আনহা
আমি : হুম বলেন
আবির : এই নাও
আমি : এইটা কি ?
আবির : খুলে দেখো
আমি : ( একটা গাউন ছিলো সাদা রং এর ) আমি উরিম্মা কি কিউট কধর জন্য ?
আবির : আপনার ।
আমি : আল্লাহ গো আজ সূর্য কোনদিক উঠছে ?
আবির : আপনাকে কিছু দেওয়াই ভুল লাগবে না ফেরত দেন ।
আমি : মজা করলাম ।
আপনার জন্য কিছু একটা আমার কাছেও আছে ।
আবির : কি ?
আমি : এই ঘড়ি টা । এটায় না একটা মেসেজ সেট করা যায় । আমি সেট করছি । শুনেন তো
.
আবির অন করলো “মি. আবির থুক্কু এংরি রাক্ষস আমারে একটা কিটক্যাট দেন”
.
আবির : এটা কেমন মেসেজ ?
আমি : যখন মনে পড়বে আমার কথা অন করবেন আর আমার জন্য কিটক্যাট কিনবেন ।
আবির : হাহা মনে পড়বে না
আমি : উকে ।
.
এভাবে ৫ দিন চলে গেলো । ঘুরতে হাসি খুশিতে । আজকাল আবির আর আনহা কিছুটা ক্লোজ হয়ে এসেছে । কিন্তু খুশি যে মাঝে মাঝে সাময়িক হয় ।
.
৫ম দিন একই হোটেলে আবির একজন কে দেখে থমকে যায় । সে আর কেউ নয় নিহা ছিলো ।
.
আবিরকে দেখে নিহা এলো….
নিহা : কেমন আছো ?
আবির : ভালো তুমি?
নিহা : ভালো নেই
আবির : তা তোমার বর কই?
নিহা : We have got devorced
আবির : কেনো ?
নিহা : ও চিটার ছিলো । আমি শুধু টাকার পিছনে‌ দৌড়েছিলাম তাই হয়তো ।
আবির : ওওওও
নিহা : জানো তোমাকে হারানোর পরে বুঝেছি ভালোবাসা কি?
আবির : ভালোবাসা মানে তো আমার কাছে তোমাকে নিয়ে গড়া স্বপ্ন ।
.
আমি চলে আসলাম ।
আমি : মি. আবির
নিহা : ইনি কে ?
আবির : ওয়াইফ
নিহা : বিয়ে করে ফেললা ।
আবির : আম্মুর ইচ্ছে
আমি : পরে আসবো আমি । যাই আচ্ছা
নিহা : না আমার কাজ আছে বাই আপনারা থাকুন ।
.
নিহা চলে যায় । আবিরের চোখ দিয়ে পানি বইতে থাকে।
আবির : আটকাতে পারলাম না
.
এ কথা শুনে আমি ডাকলাম…
আমি : নিহা দাড়াও
নিহা : কি ?
আমি : মি. আবির যে তোমাকেই ভালোবাসে ।
নিহা : তাহলে বিয়ে ।
আমি : এটা টেম্পরারি বিয়ে
নিহা : এটা কি সত্যি ?
আবির : হুম ভালোবাসি তোমাকে
নিহা : আমিও তোমাকে ভালোবাসি ।
আমি : আমি আসি আপনারা সময় কাটান ।
নিহা : ধন্যবাদ আপনাকে
আমি : জ্বী ।
.
.
.
আমি রুমে চলে আসলাম । এতোদিনে মি. আবির কে ভালোবেসে ফেলছিলাম । কিন্তু এটা যে টেম্পরারি বিয়ে ।
.
.
রুমে অনেক সময় কাঁদলাম ।
মি. আবির এলো । আজ তাকে অনেক খুশি মনে হলো । আমি ঘুমানোর ভান করে শুয়ে থাকলাম ।
.
আবিরও শুয়ে পড়লো ।
.
পরেরদিন শেষ দিন লন্ডনে অবস্থানের । সেদিন রাতে ।
আবির এসে দেখলো আমি টলটেছি ।
আবির : আনহা কি হয়েছে ?
আমি : কি যে কে জানি ?
আবির : মানে ?
আমি : এই জুস টা সেই টেস্টি খান আপনিও
আবির দেখলো ওটা এলকহল ছিলো ।
আবির : তোমাকে এটা কে দিছে?
আমি : ওয়েটার দিয়ে গেছে ডিনার ।
.
আবির ফোন করে জানলো ভুলে এসেছে…
.
আবির ভাবছে এখন আনহাকে সামলাতে হবে ।
আবির : আনহা চলো শুয়ে পড়ো
আমি : না আমি যাবো না ।
আবির : চলো
আমি : মি. আবির আপনি না সেই কিউউউউট
আবির : হুম ভালো ।
আমি : না ভালো না খুব পঁচা । আমাকে একটুও ভালোবাসেন না আপনি ।
আবির : না ভালোবাসি‌ ( এমনি বললো )
আমি : তাইলে ওই নিহার কাছে যাচ্ছেন কেনো ? আমি কতো ভালোবাসি আপনাকে । আপনি আমার কষ্ট বুঝেনই না । আমি যে কতো কাঁদি ( বলতে বলতে কেঁদে ফেললাম )
আবির : ( ভাবছে আনহা এসব কি বলছে? )
আনহা শুয়ে পড়ো।
আমি : না না এই মি. আবির আমি একটা জিনিস চাই ।
আবির : আচ্ছা দিবো ।
আমি : সত্যি
আবির : হুম
আমি : জুনিয়র আবির দেন আমাকে । কিন্তু ও আপনার মতো পঁচা হবে না ।
আবির : হুম আমি পঁচা এবার ঘুমান ।
আমি : না আমি এখন গোসল করবো ।
আবির : না এখন না ঘুমান আগে ।
আমি : না গোসল ।
.
বলে বাথরুমে চলে গেলাম ।
.
শাওয়ার অন করে ফেললাম ।
আবির : আনহা চলুন ।
.
( কিন্তু আবিরও ভিজে গেলো )
.
আবির : আনহা কে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো ।
আমি : আমাকে ছাড়ুন আপনি ভালো না । আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন পঁচা ।
আবির : ( কিছু বললো না )
আমি : বলেন নইলে কামড় দিবো ।
আবির : হুম
.
আমি পুরো ভিজে ছিলাম । আবির আমার কাপড় পাল্টে দিলো । কিন্তু এর মাঝে একটা ভুল জিনিস হয়ে যায় ।
.
সকালে…
আমি নিজেকে অমন অবস্থায় দেখে থ । কিছু সময় মনে করার চেষ্টা করলাম কাল কি হয়েছে ।
.
কিছু কিছু যা মনে পড়লো তা ভেবে আমি অনুতপ্ত হয়ে পড়ি ।
.
জ্বলদি ফ্রেশ হয়ে নিয়ে ।
আবিরের ঘুম ভাঙ্গে । সে সব কিছু মনে করে নিজেও অনুতপ্ত হয়ে পড়ে ।
.
আবির : সরি
আমি : আমি সরি । কিছু মনে করিয়েন না । এটা বাদ দেন । মনে রাখার প্রয়োজন নেই । আচ্ছা আমাদের ডিভোর্স কবে ? আপনার আর নিহার বিয়ে কবে ?
আবির : দেশে ফিরি আগে ।
আমি : জ্বী চলুন তৈরি হই আজই তো মনে হয় ফ্লাইট
আবির : হুম ।
.
এরপর ফ্লাইটেও বেশি একটা কথা হলো না আমার । আসলে আমি নিজেই বলি নি কারণ আমি ছিলাম অনুতপ্ত ।
.
চলবে……

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৫

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৫
Written by Avantika Anha
আমি রুমে গেলাম ।
.
আইস্ক্রিম খাওয়ার কুফলও আছে কিছু । জ্বর চলে আসলো পরেরদিন ।
সকালে……
আবির উঠে ফ্রেশ হলো । দেখলো আমি এখনো ঘুমাচ্ছি এটা দেখে আবিরের মনে প্রশ্ন জাগলো ও এখনো ঘুমায় কেনো ?
.
আবির এসে আমাকে ডাকলো : মিস আনহা উঠেন নি যে আজ ।
আমি : উহ
আবির : কি ?
আমি : উঠতেছি । কয়টা বাজে আল্লাহ এতো লেট । আমি তো নামায ও পড়ি নি ।
.
আমি উঠে যাচ্ছিলাম বাথরুমের ওদিক । কিন্তু পড়ে যেতে ধরলাম । আবির ধরলো ।
আবির : এই আপনার তো জ্বর এসেছে ।
আমি : হুম একটু মনে হয় ।
আবির : একটু জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে
আমি : মিথ্যুক গা পুড়লে তো আগুন লাগতো এখানে আগুন কই ?
আবির : এখনো আপনার মজা মনে হচ্ছে জ্বরকে
আমি : হিহি না তো
আবির : তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হন । আমি ঔষধ নিয়ে আসতেছি আপনার আম্মুর কাছ থেকে ।
আমি : হুম
.
আবির ঔষুধ নিয়ে আসলো….
আমাকে দিতে ধরলো..

আমি : ইইইই ছি আমি খাবো না এটা ।
আবির : খেতে হবে জ্বর এসেছে ।
আমি : না না না খাবো না
আবির : খেতেই হবে
আমি : ইইই আপনি খান আমি তো ভাগলাম ।
.
পালাতে গেলাম কিন্তু শক্তি কম হওয়ায় আবার মাথা ঘুরে গেলো ।
আবির এবার জোড় করে খাওয়ায় দিলো ।
আমি : সুস্থ হই খালি আপনার উপর শোধ তুলবোই ।
.
পরেরদিন সুস্থ হয়ে গেলাম ।
.
রাতে আবির ঘরে এলো । আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো আমি ঘুমানোর ভান করে শুয়ে ছিলাম ।
আবির কিছু না বলে টেবিলের উপর থেকে পানি নিয়ে যেই মুখে দিলো ।
আবির : এটা কেমন পানি এতো লবণ কেনো ?
আমি : ( হেসে ফেললাম )
আমার হাসি দেখে আবির বুঝে গেলো এই কাজ ওয়ান এন অনলি আমার ।
আবির : এটা কি করছেন ?
আমি : কাল আমাকে ওই তিতা ওষুধ খাওয়াইছিলেন যেমন তার ফল ।
আবির : হুহ
.
আবির কিছু না বলে ঘুমায় গেলো ।
.
আমি পরের দিন নাস্তার পরে আমার কিটক্যাট খুঁজছিলাম ।
আমি : কই গেলো ?
আবির : কি খুঁজছেন ? কিটক্যাট বুঝি ?
আমি : আপনি আমার কিটক্যাট লুকাইছেন তাই না
আবির : হুম কাল কি করছিলেন আমার সাথে
.
আমি : আমার কিটক্যাট দিন
আবির : না
আমি : দেন নইলে খামচি দিবো
আবির : হাহা পারবেন না
.
আমি আগায় গেলাম খামচি দিতে ।
.
আমি খামচি দিতে যাবো । এমন সময় আবির আমার হাত দুটো ধরে ফেললো ।
আবির : এবার কেমনে খামচি দিবেন ?
আমি কামড় মেরে দিলাম আবিরের গলার কাছে ।
আবির : কামড়ালেন কেনো ?
আমি : হিহি কিটক্যাট না দেন আমি আবার কিনে নিবো । তাও আপনার টাকায় । কিন্তু শাস্তি তো আপনি পেয়েছেন ।
.
সেদিন কিটক্যাট কিনে খেয়ে নিয়ে আবিরের মানিব্যাগ তাকে ফেরত দিলাম ।
আবির : আমিও দেখে নিবো ।
আমি : ওমা দেখুন দেখুন ভালো করে দেখুন ।
.
সেদিন বাড়ি ফেরার দিন ছিলো । তাই রওয়ানা হলাম । হাজার হোক নিজের বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিলাম কষ্ট তো হবেই ।
.
গাড়িতে আমি কাঁদছিলাম ।
আবিরের দেখে খারাপ লাগলো ।
আবির : আপনি কাঁদছেন বাহ বাহ এটাও তো দারুণ মিস ডেইলি সোপ
আমি : আমি মোটেও কাঁদছি না
আবির : এই যে চোখে পানি ।
.
আমি : ইইইই নাই তো ( মুছে ফেললাম )
আবির : হাহা‌
.
সেদিন বাড়ি পৌছালাম ।
মা আমাদের দেখে খুশি হলেন ।
মা : তোদের অনেক মিছ করেছি ।
.
আরোহি : ( আবিরের গলায় দাগ লক্ষ্য করলো ) বাহ ভাইয়া ভাবির লাভ বাইট নিয়ে ঘুরতেছিস ।
.
এই কথা শুনে আবির আর আমি দুজনেই লজ্জা পেলাম ।
.
আমি : আমি কাপড় পাল্টে ফ্রেশ হয়ে আসছি । ( বলে কেটে পড়লাম )
আবির : আমারো ঘরে কাজ আছে । গেলাম ।৤
.
রুমে এসে আবির আমার হাত ধরে টেনে আমাকে দেয়ালের সাথে আটকে ধরলো ।
আবির : আমার সাথে মজা নেওয়া । আজ আপনার জন্য আমাকে এমন লজ্জা পেতে হলো ।
আমি : আপনার দোষ
আবির : আমিও আপনাকে কামড় দিবো এখন ।
আমি : না না না
আবির : আপনাকে শাস্তি পেতেই হবে
.
আবির কামড় দেওয়ার আগেই…
.
আমি : ( কেঁদে ফেললাম ) ভ্যা ভ্যা ভ্যা
আবির : হুহ আমি তো কিছুই করলাম না । তাতেই কাঁদছেন ।
আমি : আপনি আমাকে কামড় দেন খালি আমি আপনার আম্মু কে বলে দিবো ।
আবির : এ্যা
আমি : হ্যা আপনাকেই লজ্জা পেতে হবে ।
আবির : ( মেয়েটা চালাক আছে ।)
.
আবির আমাকে ছেড়ে দিলো…..
রাতে খাবার টেবিলে….
মা : বাবা আবির তোরা হানিমুনে কবে যাচ্ছিস ?
.
এই কথা শুনে আবির আর আমার দুজনেরই গলায় খাবার আটকে গেলো ।
.
মা : কি রে বল ?
আবির : হ্যা যাবো যাবো জ্বলদি ই যাবো ।
আরোহি : কবে যাবি সেটা বল ?
আবির : দেখি
মা : শুন আমি বলছিলাম বিদেশ যাবি নাকি দেশেই কোথাও ?
আবির : বাইরে যেয়ে কি করবো দেশেই যাই
মা : না বাইরে যা আমি টিকিট কেটে রাখছি লন্ডন যা ।
আবির : কেটেই তো রাখছো তাহলে জিজ্ঞেস করার কি আছে ?
মা : আন্দাজি জিজ্ঞেস করলাম ।
আবির : মা তুমিও না
মা : পরশু ফ্লাইট ।
আমি : এ্যা আমার পাসপোর্ট যে বাড়িতে ।
মা : আমি আগেই আনাইছি । তোমার ব্যাগে আছে দেখে নিও ।
আমি : ওকে ( একবার ইন্ডিয়া গেছিলাম । তখন পাসপোর্ট বানানো ছিলো )
.
.
যাওয়ার দিন..
আমি : মি. আবির কি মজা হবে তাই না ?
আবির : এতো এক্সাইটেড হওয়ার কিছু নাই । ভুলে যাইয়েন না এটা টেম্পরারি বিয়ে ।
আমি : আরে জানি তো মনে আছে । এটা আমার কাছে এমনিও হানিমুন না ঘুরতে যাওয়া ।
.
প্লেনে….
আমি : মি. আবির আমার ভয় লাগছে বাড়ি চলুন ।
আবির : কি মাথা কি নষ্ট
আমি : আম্মুর কাছে যাবো ।
আবির : আনহা বিহেভ ইয়োরসেল্ফ
আমি : আপনার হাত টা দেন
আবির : কেনো ?
আমি : আরে দেন তো ( বলেই টেনে নিলাম )
.
প্লেন উপরে উঠার টাইমে মি. আবির কে এমন খামচে ফেলছিলাম । যে উনি চিল্লায় উঠছিলেন । যদিও পরে এর জন্য আমাকে বকেছেন । কিন্তু পমার সেই ভয় লাগছিলো ।
.
ওখানে পৌঁছে এক হোটেলে উঠলাম আমরা ।
আমি : মি. আবির শুনেন তো
আবির : কি
আমি : আমরা এখানে কয়দিন আছি ?
আবির : ৭ দিন
আমি : ওয়াও কতো মজা হবে । আমি অনেক ঘুরবো আর শপিং ও করবো
আবির : করিয়েন
আমি : চলেন না চকলেট কিনতে যাই ।
আবির : মাথা খারাপ এতো লং ওয়ে পার করে আসলাম একটু রেস্ট নিবো ।
আমি : ওকে তাহলে রাতে
আবির : কালকে
আমি : উহু
আবির : নইলে যাবো না
আমি : ওকে মি. রুড
আবির : কিছু বললেন
আমি : না আমি কখন বললাম । আপনি বেশি শুনা শুরু করছেন ।
আবির : হুহ । আমি গোসল করবো ।
আমি : টাটা ।
আবির : ও শুনুন একা আবার বাইরে যাইয়েন না ।
আমি : আমি বাচ্চা নাকি ?
আবির : বাচ্চার মতোই
আমি : হুহ যান তো আপনি
আবির : হুম
.
চলবে…….

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৪

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৪
Written by Avantika Anha
মাঝ রাতে আবিরের ঘুম ভাঙ্গে গেলো বিরবির শব্দে উঠে দেখে আনহা হাঁচি দিচ্ছে ।‌
.
.
আবির : ভালো হইছে আরো ভিজেন
আমি : আপনি একটা রাক্ষস ।
আবির : হাহা আর আপনি পেত্নি
আমি : হা….চ্ছি আপনি খুব বাজে ।
আবির : হাহা হাচ্ছি হাচ্ছি করতে থাকুন । আমি ঘুমালাম ।
আমি : একটা মেয়ে কে এভাবে রেখে ঘুমাতে লজ্জা করে না
আবির : আপনাকে ভিজতে কে বলছিলো ?
আমি : বৃষ্টি হলে আমি ভিজবোই ।
আবির : তাই বলে এতোক্ষণ ।
আমি : হিহি
আবির : এমন অবস্থায়ও হাসতেছেন আপনি ।
আমি : মানুষ কে সবসময় হাসতে থাকতে হয় । আপনার মতো গোমড়া মুখো হবো নাকি আমি ?
আবির : হুহ
আমি : আম্মু কে ডেকে দেন ।
আবির : এতো রাতে আম্মু কে জ্বালাতে হবে না ।
আমি : তাইলে কি করবো ? হা….চ্ছি
আবির : দাড়ান আমি কিছু করছি শ
আমি : ওকে ।
.
আবির কিছু সময় পর আমার জন্য গরম পানি , মধু দিয়ে নিয়ে এলো ।
আবির : নিন খেয়ে নিন ।
আমি : এটা কি ?
আবির : গরম পানি আর মধু ।
আমি : ও দেন ।
আবির : নেন
.
আমি হাতে নিয়েই দেখি অনেক গরম ।
আমি : আম্মু এতো গরম কেনো ।
আবির : এতো গরম না ।
আমি : না আমি খাবো না ।
আবির : খান বলছি ।
আমি : না
আবির : আপনাকে খেতেই হবে ।
….বলে জোড় করে খাওয়ায় দিলো…..
আমি : ইইইইইইইইই
আবির : হাহা
আমি : হাসতেছেন কেনো রাক্ষস
আবির : আপনি না অনেক ফানি
আমি : ওওওও ওইটা তো জানি
আবির : হাহা
আমি : একটা কথা কমু ?
আবির : বলুন
আমি : আপনাকে না হাসলে কিউট লাগে । আমি ঘুমাইলাম টাটা ।
.
বলেই শুয়ে পড়লাম । আবির আর কিছু না বলে সেও ঘুমিয়ে পড়লো ।
.
পরেরদিন সকালে…..
আমি আবির কে ফোন দিলাম ।
আমি : মি. আবিররররররর
আবির : কি হয়েছে ? ফোন দিলেন কেনো ? আপনি কই আছেন ?
আমি : উহু উহু
আবির : কাঁদছেন কেনো ?
আমি : প্রেয়সি কুত্তি টা
আবির : কি করছে ?
আমি : গাছে উঠছি আর আমাকে রাখে পালায় গেছে । আমি নামতে পারি না । মই দিয়া উঠছিলাম । মই নিচে পড়ে গেছে । আমাকে নামান ।
আবির : হায় রে এই মেয়েটা ।
আমি : আরে মেয়ে মেয়ে পরে কইরেন । আমাকে নামান ।
আবির : হাহা কই আছেন ?
আমি : বাড়ির বাগানের আম গাছে । জ্বলদি আছেন প্লিজ ।
আবির : আসতেছি ।
.
আবির আসলো….
আবির : বাহ মিস পেত্নি কে তো দারুণ লাগতেছে ।
আমি : ওই নামান আমাকে আগে
আবির : আমি কেনো নামাবো ?
আমি : প্লিজ নামান আমি কিটক্যাট দিবো আপনাকে ।
আবির : এক শর্তে
আমি : রাজি রাজি
আবির : আমার কথা শুনতে হবে
আমি : ওকে নামান ।
.
আবির গাছে উঠলো আর আমাকে নামাতে হেল্প করলো । আমি নামার পর….
আমি : মানি না মানবো না আপনার কথা মানবো না হিহি।
আবির : চিটার
আমি : হিহি আম খাবেন ? দেখেন কতোগুলো পেরেছি ।
আবির : না আপনি খান
আমি : তা খাবেন কেনো আপনি তো তিতা জিনিস সরি কফি খাবেন ।
আবির : হুম
আমি : দুরররর কথা বলা বেকার
আবির : হুমমমম
আমি : ওই হুম হুম থামান টেম্পরারি হাজবেন্ড
আবির : হুমমমম
আমি : ওই বেকামুখো
আবির : মানে
আমি : হুম
আবির : ওটা মানে কি ?
আমি : হুম
আবির : শোধ তুলছেন ?
আমি : হুম । হিহি আমি যাই কাঁচা আম গুলো মাখাবো ।
আবির : আচ্ছা
.
.
কিছু সময় পর আমগুলো মাখিয়ে আবিরের কাছে নিয়ে গেলাম ।

আমি : নিন খান
আবির : আমি এসব খাই না বলেছিলাম না
আমি : আরে একটু খান
আবির : না
আমি : একটু
আবির : না মানে না
.
আমি জোড় করে খাওয়াতে গেলাম । উনি চিৎকার করে
আবির : বললাম না খাবো না । এতো বাড়াবাড়ির কি আছে ? আপনি কে আপনি কে আমার যে এতো জোড় করছেন ।
আমি : সরি ( আগেও বলেছি আমার উপর কেউ সামান্য চিৎকার করলে আমার কান্না চলে আসে )
.
আমি কেঁদে চলে গেলাম ।
আবির ভাবছে ( আন্দাজি চিৎকার করলাম । মেয়েটা কেঁদেই ফেললো )
.
কিছু সময় পর….
দুপুরে…..
খাওয়ার টেবিলে…..
আবির : ( ভাবছে আমার দিকে একবারো তাকাচ্ছে না । বেশিই বকে ফেললাম নাকি ?)
আম্মু : জামাই কে দে
আমি : তুমি নিজেই দাও
আম্মু : আচ্ছা
.
আমি খাওয়া করে উঠে গেলাম ।
আম্মু : বাবা রাগ করো না । ও একটু রাগ করে । একটু জেদীও ।
আবির : হুম না ব্যাপার না ।
.
বিকালে…..
আবির : ( ভাবছে আনহা কে সরি বলা দরকার । কিন্তু কই সে ?
.
বাইরে বাচ্চাদের হাসার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে । আনহা ওখানে নাকি )
.
আবির বাইরে গেলো । দেখে আনহা পিচ্চি দের সাথে কুত কুত খেলছে ।
আবির : ( হাহা এই মেয়ে সত্যি বড় নাকি পিচ্চি )
.
আমি খেলছিলাম । এমন সময় মি. আবির কে দেখে পড়ে যাই ।
আবির : ( জোড়ে হেসে ফেলে )
.
আমি রাগী লুকে আবিরের দিকে তাকাই
আমি : হেসে লাভ নাই পারলে খেলে দেখান
আবির : এ আর এমন কি ।
.
আবির খেলতে গেলো । কিন্তু সহজেই পড়ে গেলো ।
আমি এটা দেখে হাসতে হাসতে শেষ ।
আমি : হিহি পারে না পারে না
.
আবির এবার রাগী লুক আমার দিকে দিলো ।
.
কিছু না বলে চলে গেলো ।
.
কিছু সময় পর আমিও রুমে গেলাম । হাতমুখ ধুয়ে ফেললাম ।
.
আবির এবার উঠে আমার হাত ধরে ফেললো ।
আমি : এ্যা হাত ধরেছেন কেনো ?
আবির : খুব হাসি পাচ্ছিলো তাই না ?
আমি : হিহি আপনি তো খেলতেও পারেন না
আবির : হুহ
আমি : একটা কথা বলবো ?
আবির : হুম
আমি : আপনার পিছনে তেলাপোকা ।
.
আবির হাত ছেড়ে পিছনে তাকালো । এই সুজোগে আমি দৌড় ।
.
.
তারপর আর বিকালে আবিরের সামনে যাই নাই ।
.
সন্ধ্যার আগে আগে আমি ছাদে বসে বসে আইস্ক্রীম খাচ্ছিলাম । এমন সময় কে জানি কাধে হাত দিলো ।
আমি : কে রে ?
.
পিছনে ঘুরে দেখি মি. আবির ।
তাড়াতাড়ি পালানোর জন্য উঠে দৌড় মারতে চাইলাম কিন্তু পড়ে যেতে ধরলাম ।
.
আবির আমাকে ধরে ফেললো । ওই টাইমে আমার বিভিন্ন মুভির রোমান্টিক সিন গুলো মনে পড়তেছিলো । মি. আবিরও আমার দিকে তাকায় ছিলো ।
আমি : তুলুন
.
( হায় কপাল । কি ভাবছেন কি হলো ? হালায় হাত ছেড়ে দিলো )
আমি : আমার কোমর আল্লাহ গো
আবির : সরি সরি ভুলে হয়ে গেছে ( আসলে ওর দিকে তাকায় কিছুটা হারিয়ে গেছিলাম । হঠাৎ ও কথা বলায় হুশ ফিরছিলো আর হাত টা ভুলে ছেড়ে গেছিলো )
.
আমি : আপনি না ফুলললল রাক্ষসসসস
আমাকে এবার তুলুন ।
.
আবির : হুম হাত দেন
.
আমি : না থাক আমি নিজেই উঠে যাবো । আপনার ভরসা নাই আবার আমাকে ফেলে দিবেন ।
.
চলবে……..

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৩

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৩
Written by Avantika Anha
রাতে বৃষ্টি হচ্ছিলো । আমার আবার বৃষ্টি অনেক ভালো লাগে । তাই আর আটকাতে পারলাম না ।
আমি ভিজার জন্য দৌড় দিলাম ।
.
আবির : কই যাচ্ছেন ?
আমি : বৃষ্টি ভিজতে টাটা
আবির : রাতে ভিজিয়েন না ঠান্ডা লাগবে ।
আমি : আমি তো ভিজবোই
.
বলেই দৌড়…..
৪৫ মিনিট পর…..
আবির ভাবছে ” উনি এখনো এলো না কেনো ? এতো ভিজলে তো নির্ঘাত জ্বর আসবে । যাবো কি একটু দেখে আসি । “
.
আবির গিয়ে দেখলো আমি এখনো ভিজতেছি ।‌
আবির : এই মেয়ে আপনি এখনো ভিজছেন ?
আমি : কই কিছুক্ষণ মাত্র
আবির : এ্যা কিছুক্ষণ না এক ঘন্টা
আমি : ও মাত্র । আমি আরও ২ ঘন্টা ভিজবো ।
আবির : আপনি চলুন আমার সাথে
আমি : আমি তো যাবো না যাবো না যাবো না রে আমি যাবো না যাবো না যাবো না রে‌।
আবির : যেতেই হবে
আমি : পারলে নিয়ে যায়ে দেখান ।
আবির : আমাকে আন্ডারেস্টিমেট কইরেন না
আমি : এ্যা আইসে
.
আবির কথা না বাড়িয়ে আনহার কাছে গেলো ।
আমি : আপনিও ভিজবেন চলেন একসাথে ভিজি ।
আবির : আমি ভিজতে না আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি ।
.
এই বলে আবির আমাকে কে কোলে নিয়ে রুমের দিকে এগুতে লাগলো ।‌আমি লাফালাফি লাগালাম ।
আবির : লাফালাফি করে লাভ নাই আমি আপনাকে আর ভিজতে দিবো না ।
.
রুমে এসে আবির নামিয়ে দিলো আমাকে ।
আমি : আপনি একটা রাক্ষস ।
আবির : ওয়াও গুড
আমি : আমি ভিজবো
.
বলে আবার যেতে লাগলাম । এবার আবির হাত ধরে ফেললো ।
আমি : আম্মু আমি যাবো ।
আবির : এখানে আম্মু নেই আর আপনি যাবেন না ।
গিয়ে কাপড় বদলে নিন ।
আমি : আচ্ছা
.
আমি বাথরুমে ঢুকলাম । আসল প্লান তো এটা না । আমি তো ভিজবোই ।
.
আবির নিজের কাপড় বদলানোর জন্য কাপড় বের করতে লাগলো ।
.
এই ফাঁকে আমি দরজা খুলে আবার দৌড় দিছি ভিজতে ।
.
আবির : এ্যা এই মেয়ে এতো ফাজিল । আবার ধরে আনতে হবে এখন ।
.
আবির আবার আসলো ।
আবির : আপনি তো বেশ ফাজিল । একবার ধরে নিয়ে গেলাম । আবার চলে এলেন ।
আমি : এই আপনি আর আমার কাছে আসবেন না ।
আবির : আপনাকে তো আমি নিয়ে যাবোই ।
.
আমি : এই কাছে আসবেন না ।
.
আমি পিছাতে লাগলাম । আবির আমার দিকে এগুতে লাগলো ।
আমি পা পিছলে পড়ে গেলাম ।
আমি : আহ আম্মু গো
আবির : ভালো হইছে
আমি : সব আপনার জন্য
আবির : হাহা কোমর ভাঙ্গে গেছে নাকি ?
আমি : আম্মু আমার কোমর ভাঙ্গে গেছে ।
আবির : এবার চলুন
আমি : ওই‌ আমার পা মোচকে গেছে ।
আবির : ভালো হইছে
আমি : হুর
.
আবির : চলুন আমি নিয়ে যাচ্ছি ।
.
.
বলে কোলে করে নিয়ে গেলো ।
.
রুমে আবির আমাকে কাপড় দিলো চেন্জ করতে । সে বাথরুমে গেলো ।
.
আমি কাপড় টা বদলে ফেললাম ।
.
আবির এলো ….
আমি : আম্মু গো আমার পা গো । উহু কি ব্যাথা রে
আবির : হায় কপাল আপনাকে জোড় করতে কে বললো । আমার কথা শুনলে কি হতো ?
আমি : উহু পরে বইকেন । আমারে কাঁদতে দেন ।
আবির : এই মেয়েটা ওহো
আমি : আম্মু ব্যাথা ব্যাথা ব্যাথা
আবির : দেখি পা টা
আমি : না ব্যাথা
আবির : দেখি
আমি : উহু দেখেন
আবির : (দেখলাম মোচকে গেছে । হাত দিতেই )
আমি : আম্মু সরান ব্যাথা আম্মুর কাছে যাবো ( আমি চিৎকার দিতে শুরু করলাম )
আবির : একদম চুপ কোনো কথা না ।
আমি : ( গালি শুনে চুপ করে গেলাম । আমার উপর কেউ চিৎকার করলে আমি কেঁদে ফেলি তাই চুপ করে গেলেও চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো )
আবির : এতোটুকুতে কাঁদার কি
.
(আমি চুপ)
.
আবির : কি হলো কথা বলেন
আমি : আপনি চুপ করতে বলেছেন
আবির : আচ্ছা বাট কাঁদছেন কেন ?
আমি : আমার উপর কেউ‌জোড়ে চিৎকার করলে কেঁদে দেই তাই ।
আবির : হুম আপনি যে ডেইলি সোপের নায়িকা তাই‌এতো কাঁদেন
আমি : একদম না
আবির : এবার ওদিকে ঘুরেন‌
.
আমি ঘুরলাম । আবির কি জানি করলো পায়ে ।
আমি : আম্মুউউউউউ ( বলেই আবিরের হাত খামচে দিলাম )
আবির : ওহো
আমি : সরি
আবির : ইটস ওকে
.
কিছু সময় পর আবির কাজ করছিলো । আমি যেয়ে বললাম ” হাত টা দিন “
আবির : কেনো
আমি : দেন তো ( বলেই হাত টা টেনে ওষুধ লাগিয়ে দিলাম )
আবির : ওতো বেশি কাটে নি
আমি : যেটুকুই হোক কেটেছে তো । তাও আমার জন্য
আবির : ব্যাপার না । নিহাও এমন করতো ।
আমি : হুম । মন খারাপ ।
আবির : না
আমি : বললেই হলো । আপনার মুখ দেখলেই বুঝা যায় বুঝলেন ।
আবির : বাহ আপনি বুঝি জ্যোতিষী
আমি : হুর মজা নেন
আবির : আরে না
আমি : ঘুমান গিয়ে আমার ঘুম পাচ্ছে
আবির : হুম ঘুমান আমার কাজ আছে ।
আমি : ওকে গুড নাইট
.
আমি ঘুমিয়ে গেলাম । আবির কাজ শেষ করলো । তারপর আমার দিকে তাকালো আর হেসে দিলো ।
আবির : এই মেয়েটা এতোটা ফাজিল যা ভাবার বাইরে হাহা ।
.
বলে আবির ঘুমিয়ে পড়লো ।
.
চলবে…….

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_২

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_২
Written by Avantika Anha
কিছু সময় পর আমি , আরোহি আর আবির বের হলাম । কারে বসে ছিলাম । আমি আর আরোহি পাশাপাশি বসেছিলাম । আবির ড্রাইভ করছিলো । দুই মেয়ে আমরা মানে আমাদের গল্প তো চলবেই । আরোহি আর আমি গল্প করছিলাম ।
.
আবির : হায় কপাল এতো কথা মানুষ কেমনে বলে‌
আমি : মুখ দিয়ে
আরোহি : হুম ঠিক ভাবি মুখ দিয়া ।
আবির : কম কথা বলো তোমরা ।
আমি : বেশিই বলবো হিহি
আরোহি : বলবো বলবো আমরা কথা বলবো ।
আবির : আমি যে কেনো আসছি ।
আরোহি : আমাদের ব্যাগ ক্যারি করতে
আবির : আরোহি বেশি কথা বলবি না একদম বিয়ে দিয়ে দিবো ।
আমি : ডোন্ট ওয়ারি আরোহি বিয়ে ভাঙ্গে দিবো
আরোহি : থেংকু ভাবি‌
আবির : দুই মেয়ে একসাথে হইলেই হইলো ।
আমরা একসাথে : হিহি
.
শপিং মলে
আমি কালার চুজ করতে পারছিলাম না ।
আরোহি দেখে বললো : ভাইয়া তুই চুজ কর
ভাইয়া : আমি কেনো ?
আরোহি : বাহ রে তোর বউ তুই চুজ করবি না । জ্বলদি চুজ কর ।
ভাইয়া : আচ্ছা এই নীল টা নে ।
আরোহি : বাহ জানিস ভাবিরও প্রিয় কালার নীল ।
আমি : আরোহি তুমি কিছু নেও
আরোহি : আমার সব আছে
আমি : নেও প্লিজ
আবির : নিয়ে নে পরে আর চান্স পাবি না‌
আরোহি : ওকে আমি তিনটা নিবো
আমি : তিনটা কেনো ৫ টা নাও বিল তো আর আমরা দিবো না হিহি
আবির : (দুইটাই এক গোয়ালের গরু আমার পকেট আজ ফাঁকা) হুর নে যা ইচ্ছা নে
.
শপিং শেষে আমরা গেলাম ফুচকা খেতে ।
আবিরের মন খারাপ হয়ে গেলো । সে ভাবতে লাগলো নিহার সাথেও তো আমি এভাবেই আসতাম ।
আমি দেখলাম উনার মন খারাপ তাই মন ভালো করার চেষ্টা করলাম ।
আমি : আরোহি তোমার ভাই মনে হয় না ফুচকা খেতে পারে
আরোহি : হুম ভাবি ঠিক বলছো ।
আবির : মোটেও না
আমি : বললেই হলো
আবির : আমি ফুচকা খেতে পারি
আমি : তাহলে প্রতিযোগিতা হোক আপনার আর আমার আর আরোহির ।
আরোহি : হুম হোক হোক ।
আবির : ( খাইছে রে আমি তো ওতো ফুচকা খাইতাম না ) হুম হোক
.
ফুচকা খাওয়া শুরু হলো । আমি জিতলাম তারপর আরোহি ।‌
.
আবির হেরে গেলো ।
আবির : যাই হোক আমি হারছি তো কি দেখ আমার এখনো কতো গুলো বাকী । তোমরা দেখো আর আমি খাই ।
আরোহি : ভাবি এখন কি হবে আমার তো এখনো খেতে ইচ্ছে করছে ।
আমি : এটা আর এমন কি উঠায় নাও
আরোহি : বুঝছি ভাবি আইডিয়া সেই
আবির : কি আইডিয়া ? কি উঠাবে ?
আমি আর আরোহি আবিরের প্লেট থেকে ফুচকা খেয়ে নিলাম ।
.
আবির হা করে ছিলো ।
এটা দেখে আমি আর আরোহি হেসেই দিলাম ।
.
আরোহি এমন সময় ওর কোন বান্ধবী কে দেখে চলে গেলো ।
আমি আর আবির বাড়ি ফিরছিলাম ।
আবির : আপনি তো খুব ফাজিল
আমি : এখন জানলেন ?
আবির : হুম
আমি : মি. আবির
আবির : বলুন
আমি : ফুচকার দোকানে কি নিহা কে মিস করছিলেন ?
আবির : আপনি জানলেন কীভাবে ?
আমি : হাহা মনে হলো ।
আবির : ওওওও
আমি : গ্লাস এর বাইরে দেখছিলাম ।
.
এমন সময়….
আমি : গাড়ি থামান
আবির : কেনো?
আমি : আরে থামান
আবির : কি হয়েছে ?
আমি : থামান তারপর বলছি
আবির : এই যে থামালাম
.
আমি দৌড়ে গেলাম । আসলে আইস্ক্রিম দেখছি আর কি আমি ঠিক থাকি নাকি ।
.
যেয়েই দুটো আইস্ক্রিম নিলাম । মি. আবির বিল টা পে করেন ।
আবির : ( ভাবছে কি আর করার করতেই হবে । বাট এই মেয়ে বাচ্চা নাকি । এতো বাচ্চামি স্বভাব )
আচ্ছা
.
বিল পে করে ।
আমি কারে বসে আইস্ক্রিম খাচ্ছিলাম ।
আবির : ওহো আপনি কি বাচ্চা
আমি : বড় হলাম কবে ( আইস্ক্রিম খেতে খেতে )
আবির : খান খান
আমি : এমা গো
আবির : কি
আমি : আপনি খাবেন না এই নিন একটা আপনার জন্যও কিনছি
আবির : আমি এসব বাচ্চাদের জিনিস খাই না ।
আমি : তাই তো আপনি বুড়া
আবির : কিইইইই
আমি : খেলে কি হয় ( বলেই জোড় করে মুখে ঢুকায় দিলাম )
আবির : এসব কি আপনি পাগল নাকি ?
আমি : না আমি পাগল কেনো হবো
আবির : তো ?
আমি : আমি তো পাগলি । জানেন না আমি মেয়ে ।
আবির : হায় কপাল ।
.
.
বাড়ি ফিরলাম……..
মা : কি রে শপিং হলো তোদের
আবির : হুম মা ।
আমি : আপনার জন্য এই শাড়ি টা এনেছিলাম ।
মা : আপনি বলছিস কেন রে মা । আমি তো তোর মা এখন । আম্মু বলবি ।
আমি : মামনি বলি ?
মা : যা ইচ্ছে বল মা । দেখি শাড়িটি
আমি : এই যে
মা : বাহ দারুণ তো ।
ধন্যবাদ যা ফ্রেশ হয়ে নে । কাল আবির আর তুই তোর বাপের বাড়ি যাবি । ঘুরে আসবি ।
আমি : সত্যি ?
মা : হুম
.
রুমে….
আবির : শুনুন কথা ছিলো ।
আমি : জ্বী বলতে থাকেন টেম্পরারি হাসবেন্ড
আবির : মানে ?
আমি : এটা টেম্পরারি বিয়ে মানে আপনি টেম্পরারি হাসবেন্ড
আবির : ওহ
শুনুন ধন্যবাদ আমি মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে ভুলে গেছিলাম ।
আমি : ব্যাপার না উনি আমারো মা
আবির : টেম্পরারি
আমি : হুম হুম টেম্পরারি
.
আমি : আমি ফ্রেশ হবো টাটা ।
আবির : আমি যাবো
আমি : আমি আগে
আবির : না আমি
আমি : আরে মামনি তুমি
.
আবির যেই পিছনে ঘুরলো আমি দৌড় টু বাথরুম ।
আবির পিছনে দেখে কেউ নাই ।
আবির : কই কেউ তো নাই ।
এ্যা আমাকে বোকা বানায় গেলো ।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে
আমি : হিহি বোকা বানাইছি
আবির : হুহ
আমি : চলেন ডিনারে
আবির : জ্বী
.
ডিনারে…
আমি একটু কম খাই ।
মা : এতো কম কেনো ? আরেকটু নে
আমি : আমার এটাই যথেষ্ঠ আমি এটুকুই খাই ।
আবির : এই জন্য তো হাড্ডি ওয়ালি
আমি : মোটেও না
আবির : মিস হাড্ডি বাহ দারুণ নাম তো
আমি : আপনি যে মি. বুড়া
আবির : মোটেও আমি বুড়া না
আমি : তো আমিও মিস হাড্ডি না
আবির : আপনি মিস হাড্ডি
আমি : না না না আপনি বুড়া
আবির : না
মা : এই তোরা থামবি । দুটোই বাচ্চা
আমি : মামনি উনিই প্রথম আমাকে বললো
মা : আবির এমন আর বলবি না আমার মেয়ে কে
আবির : ও তোমার মেয়ে হলে আমি কি ?
মা : তুই জামাই
আরোহি : হাহা দুলাভাই ।
আবির : সব মেয়েই এক দুর আমার পক্ষে কেউ নাই ।
মা : তোর ছেলে হলে ও তোর পক্ষে হবে যা
আবির : হুর
.
খাওয়া শেষে রাত্রে
আমি : ইয়ো ইয়ো কি মজা কাল যাবো বাড়ি
আবির : ঘুমায় পড়ুন কাল উঠতে হবে ।
আমি : আমার না খুশি হলে‌ ঘুম পায় দেরিতে
আবির : তো আপনি জেগে থাকুন আমি ঘুমালাম ।
আমি : না না তখন ভুত আসলে আমার কি হবে ?
আবির : ওহো এতো ভয় ?
আমি : আমি মরলে কি হপ্পে ?
আবির : জনসংখ্যা কমবে
আমি : হুহ‌
আবির : আমি ঘুমালাম
.
আমি : না না না
এই বলে মি. আবির কে জ্বালাতে লাগলাম যেন তিনি না ঘুমান ।
আবির : ইসসস নিজে ঘুমাবে না আমাকেও ঘুমাতে দিবে না
আমি : হুম
আবির : তা জেগে কি করবো
আমি : চলেন মুভি দেখি
আবির : আচ্ছা
.
মুভি টা একটু ইমোশোনাল‌
.
আবির : ( কে জানি কাঁদছে । পাশে তাকায় দেখি আনহা কাঁদছে । মেয়েটাকে কাঁদলে একদম মানায় না । ফাজলামি করলেই ভালো লাগে )
কাঁদছেন কেন ?
আমি : ওদের কতো কষ্ট হচ্ছে ( বলেই আবার কেঁদে দিলাম )
আবির : এটা তো সত্যি না
আমি : তবুও
আবির : হুম আপনি তো কাঁদবেনই কাঁদুরি
আমি : না না না
আবির : হ্যা হ্যা হ্যা
আমি : কথা‌ বলাই বেকার
আবির : মুভি টা কন্টিনিউ করি
আমি : হুম
.
দেখতে দেখতে আমি ঘুমিয়ে পড়ছি‌।
.
.
আবির তাকায় দেখে আমি ঘুমায় পড়ছি । (ভাবছে মেয়েটা বড় আজব । কষ্টে নাকি সুখে বুঝাই যায় না । নিশ্চুপ পরি লাগতেছে ঘুমিয়ে তাকে । নাহ মায়ায় জড়ানো যাবে না । আমি তো অন্যের মায়ায় আবদ্ধ )
.
আবির শোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো
.
পরেরদিন সকালে
আমি : মি. আবির ও মি. আবির উঠুন উঠুন ।
আবির : কে রে এতো সকালে
আমি : নামায পড়বেন না
আবির : আমি নামায পড়ি না ঘুমালাম
আমি : না পড়তেই হবে
.
আবির জবাব দিলো না ।
আমি : পড়বেন না তাইতো
.
বলেই বাথরুম থেকে পানি এনে ঢেলে দিলাম ।
.
আবির : উঠে বলে কি হলো এসব
আমি : গোসল হিহি
আবির : এটা কেনো
আমি : নামায পড়েন নইলে গোবর এনে ঢেলে দিবো ।
আবির : ( ভাবছে এই মেয়ের ভরসা নাই । তাই উঠে নামায পড়তে গেলো )
.
(আমি ভাবছি জানি এই বিয়ের মানে নাই । কিন্তু কিছু পারি আর না পারি আপনাকে ভালো করেই যাবো)
.
বিকেলে….
আমি আর আবির বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলাম
.
বাড়ি গিয়ে আম্মু আর সবাই হ্যাপি । আম্মু হ্যাপি আমাকে দেখে । বাকীরা হ্যাপি টাকাওয়ালা জামাই দেখে বুঝতে পারলাম ।
.
মা একা ডেকে বললো ” তুই খুশি আছিস ?”
আমি : হবো না কেনো ? টাকাওয়ালা জামাই দিছো
মা : এভাবে বলছিস কেনো ? সবাই জোড় করলো তাই তো
আমি : বাদ দাও
মা : জামাই বড় ভালো
আমি : হুম
.
.
সব আত্মীয় রা চলে গেলো । আম্মু জামাই আদর করতে লাগলো ।
.
আবির পা উঠায় বসে আছে
আমি : আম্মু আমিও এসেছি একটু তাকাও
আম্মু : জামাই প্রথম এসেছে তুই তো আছিসই
আমি : হায় আল্লাহ মেরি মা না রাহি
আম্মু : চুপ কর তো
আমি : দুর আম্মু মিমি আসে নাই ?
আম্মু : আসবে একটু পর
আমি : ইয়াহু তোমরা যাই হও আমার বেস্টু আমারি থাকবে ।
.
কিছু সময় পর মিমি আসলো ।
হায় কপাল হেইডাও দুলাভাই দুলাভাই ।
আমি : আমি আর থাকবো না এই বাড়িতে গেলাম আমি ।
.
বের হয়ে যাচ্ছিলাম । কেউ আটকায় না কেনো ?
আমি : আমি কিন্তু সত্যি যাচ্ছি
মিমি : টাটা
আমি : গেলাম আমি
মিমি : যা
আমি : আমার বাড়ি আমি কেন যাবো দুররর‌ আমি গেলাম আমার রুমে
.
আমি চলে গেলাম….
.
আবির : আনহা মনে হয় রাগ করলো.
আম্মু : না বাবা ও এমনি একটু বাচ্চার মতো
আবির : হুম দুই দিনে বুঝে গেছি
আম্মু : বাবা ও না চাপা স্বভাবের একটু । একটুতেই কেঁদে ফেলে ওর খেয়াল রেখো ।
আবির : জ্বী (মনে মনে বললো এটা যে হবে না । এটা টেম্পরারি বিয়ে )
.
সবাই চলে গেলো ।
আবির আমার রুমে গিয়ে দেখে আমি কিটক্যাট খাচ্ছি ।
আবির কিছু না বলে বসে পড়লো বেডে
.
আমি কিটক্যাট খেয়ে যাচ্ছি
আবির : এতো খাচ্ছেন কেনো ?
আমি : আমার প্রিয় আর আমি রাগ করছি তাই
আবির : দাঁত সব যাবে
আমি : না যাবে না পমি গেলাম ব্রাশ করতে টাটা ।
.
বলেই বাথরুমে দৌড় ।
আবির আমাকে এভাবে দৌড়াতে দেখে হেসেই ফেললো ।
আবির ভাবছে পাগলি মেয়ে এটা ফুল ।
.
চলবে……

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব__১

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব__১
Written by Avantika Anha
.
.
বিয়ে নিয়ে হয়তো সবার ইচ্ছে থাকে । স্বপ্ন থাকে । আমারো ছিলো । আজ আমার বিয়ে কিন্তু আমি খুশি কি দুঃখী বুঝছি না । খুশি কি এই জন্য হবো যে বাবার অপারেশনের টাকা টা জোগাড় হয়ে গেলো । নাকি এই জন্য যে আজ আমার বিয়ে‌ । শুধু বিয়ে বললে ভুল #টেম্পরারি_বিয়ে ।‌ অনেকের মনে প্রশ্ন হচ্ছে নিশ্চই কি এই টেম্পরারি বিয়ে । আসলে বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লো । আমার টাকার প্রয়োজন অপারেশনের জন্য । কিন্তু আমি জব করি না কেবল ইন্টার পরীক্ষা দিলাম । এতেই এতো বড় প্রব্লেমে পড়ে যাই । ফুপিরা ভালো পাত্র পেয়ে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগে যায় ।‌
.
.
যেদিন আমাকে দেখতে আসে সেদিনই একান্তে মি. আবির জানিয়ে দেন যে তিনি বিয়ে করতে ইচ্ছুক নয় । তিনি অন্য কাউকে ভালোবাসতেন কিন্তু সে তাকে ধোকা দিয়ে অন্যের কাছে চলে যায় । আজও নাকি তিনি তাকেই ভালোবাসেন । সব শুনে হাসি মুখে বলি আচ্ছা ।
.
তিনি বলেন আমার বাবার অপারেশন টা তিনিই করার খরচ দিবেন । এটাই যথেষ্ঠ ছিলো । তাই নিজের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দিলাম ।
.
তার বন্ধুরা তাকে জোড় করে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিলেন । আমি কিছু না বলে সালাম করে বললাম , “টেম্পরারি হলেও নিয়ম অনুযায়ী সালাম টা করে নিলাম । জানি শীগ্রই এই বিয়ে ভেঙ্গে যাবে । আপনি কি নামায পড়বেন আমার সাথে ?”
.
আবির : যে বিয়ের মানে নেই তাতে এতো নিয়ম মানারও প্রয়োজন নাই ।‌ আমি ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবো আপনি শোফায় শুয়ে পড়িয়েন আর আপনার যা ইচ্ছা করুন । আমাকে বলার প্রয়োজন নেই ।
আমি : জ্বী আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন তারপর নাহয় আমি যাবো ।
আবির : আপনাকে বলতে হবে না‌।
আমি : আচ্ছা
.
আমি বিয়ের গহনা খুলতে লাগলাম । আবির ফ্রেশ হয়ে আসার পর আমি ফ্রেশ হলাম এবং ওযু করে নিলাম । আবির ঘুমিয়ে পড়েছে । আমি নামায পড়ে নিলাম ।
.
তারপর আমিও শুয়ে পড়লাম ।
.
আমার জায়গা পরিবর্তন‌ করলে সহজে ঘুম হয় না । তাই কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করলাম । ঘুম আসতেছিলো না তবুও । তাই বেলকনিতে গিয়ে দাড়ালাম । বেলকনির ওই নিস্তব্ধ পরিবেশ আর আমার বর্তমান অবস্থার কথা ভেবে চোখে পানি চলে এলো ।
.
আবিরের ঘুম ভেঙ্গে গেলো কারো কান্নার শব্দে । তাকিয়ে দেখে আনহা রুমে নেই । আবির খুঁজতে লাগলো আনহা কে । দেখলো বেলকনিতে দাড়িয়ে ।
.
আমি কাঁদছিলাম । হঠাৎ কেউ আমার পিছনে এসে দাড়ানোতে সামান্য চমকে উঠলাম । ভুত ভেবে ভয়ে বলে উঠলাম “আম্মু ভুততততততত”
আবির : এ্যা কই ভুত ?
আমি : ( চোখ খুলে দেখি আবির ) ও আপনি
আবির : আপনি এতো রাতে‌ বেলকনিতে কাঁদছেন কেনো ?
আমি : শখ লাগছে তাই ।
আবির : মানে‌
আমি : কিছু না । আপনি এমনে ভুতের মতো দাড়ায় ছিলেন কেনো ?
আবির : আপনি রুমে ছিলেন না তাই দেখতে এলাম ।
আমি : ও । একটা প্রশ্ন আছে ?
আবির : বলতে পারেন । ( আবির ভাবছে বিয়ের ব্যাপারে কিছু নাকি )
আমি : এখানে কি ভুত আছে ?
আবির : মানে ( এ কেমন প্রশ্ন )
আমি : আরে ভুত ভুত যে হাউ মাউ করে
আবির : হুম আছেই তো আপনি নিজেই তো একটা ভুত ।
আমি : কোন দিক দিয়া ।
আবির : ভুত না হলে কেউ‌ এতো রাতে বেলকনিতে আসে ?
আমি : ঘুম আসতেছিলো না
আবির : গুড জব
আমি : আর আমি ভুত না আপনি নিজেই রাক্ষস
আবির : হুহ বললেই হলো । নিজে তো পেত্নির মতো ।
আমি : আপনি যে রাক্ষস
আবির : এই মেয়ে আমি রাক্ষস না ।
আমি : তো আমিও ভুত না ।
আবির : আল্লাহ গো এই মেয়ে এতো কথা বলে কেন ?
আমি : ইচ্ছা হইছে ।
আবির : হইছে বাদ দেন । এতো বেশি কথা বলা ভালো না । তা আপনি টেম্পরারি বিয়ে তে রাজি হলেন কেনো ? আপনি তো ভালো কাউকে পেতে পারতেন ।
আমি : ভাগ্যে হয়তো এটাই ছিলো আর আপনি জানেন ই আমার বাবা অসুস্থ ।
আবির : শুধুমাত্র এ জন্য নিজের সব ইচ্ছা ত্যাগ করলেন ?
আমি : জানি না । হয়তো সবাই বোঝা মনে করে তাই হয়তো ।
আবির : ও ( হয়তো মেয়েটার খুব কষ্ট )
আমি : আচ্ছা আপনার ভালোবাসার মানুষটির নাম কি ?
আবির : নিহা
আমি : অনেক ভালোবাসেন তাই না ?
আবির : এখনো ওর অপেক্ষায় ।
আমি : ওহ
আবির : জ্বী শুয়ে পড়ুন ।
আমি : শুনুন
আবির : বলুন ।
আমি : বন্ধু হতে তো পারি তাই না আমরা ?
আবির : নাহ
আমি : কেনো
আবির : কোনো মায়ায় জড়াতে চাই না
আমি : আচ্ছা । একটা কথা বলি ?
আবির : হুম বলুন
আমি : আমি বিছানায় ঘুমাবো আপনি শোফায় যান
আবির : মানে ? কেনো ?
আমি : কোলবালিশ আর বিছানা ছাড়া ঘুম আসে না ।
আবির : ওহ আচ্ছা ( আবিরেরও আসে না । কিন্তু ও কিছু বললো না )
.
আমি : তাইলে গুড নাইট আমার ঘুম পাইছে ।
.
বলে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়লাম ।
.
আবির কিছু না বলে শুয়ে পড়লো ।
.
সকালে আনহা উঠে গোসল করে নিলো । রেডি হচ্ছিলাম । এমা খাইছে রে আমি যে শাড়ি পড়তে পাড়ি না ভুলেই গেছি ।
.
আবিরের ঘুম ভেঙ্গে গেলো । দেখলো আনহার ব্যর্থ চেষ্টা । আনহার ব্যর্থ চেষ্টা দেখে হেসেই ফেললো আবির ।
.
আমি : হাসার কি আছে ?
আবির : আপনি শাড়ি পড়তে পারেন না । হাহা ।
আমি : আম্মু পড়তে দেয় নি আমার কি দোষ ।
আবির : হাহা ভালোই তা পড়ছেন কেনো ?
আমি : পড়া বাধ্যতা
আবির : ও ।
আমি : আপনার ফোন টা দেন তো ।
আবির : মানে ?
আমি : ফোন দেন ।
আবির : আপনাকে কেনো দিবো ?
আমি : আপনার ফোন চেক করবো না আমি নেটে দেখবো শাড়ি পড়া ।
আবির : এই নিন । ( আইডিয়া আছে ভালোই )
আমি : (ফোনে নিহার পিক ও দেখে ফেললাম । এখনো আগলে রেখেছেন । যাই হোক আমার কি)
.
শাড়ি পড়ে ফেললাম ।
.
আবির আনহার দিকে তাকিয়ে আছে । দারুণ লাগছে শাড়িতে । আমার সাথে চোখ পড়তেই আবির চোখ সরিয়ে নিলো ।
.
হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ পেলাম ।
আমি : কে ?
আরোহি : আমি ভাবি ।
( আরোহি আবিরের বোন )
দরজা খুলো ।
.
আমি : দাড়াও
.
ওই আপনি জ্বলদি বিছানায় যান ।
আবির : কেন
আমি : আরোহি দেখলে জেনে যাবে যে আমাদের মাঝে কিছু একটা ভুল
আবির : এই রে ঠিক তো ।
.
আবির জ্বলদি সব উঠায় বিছানায় গেলো ।
.
আরোহি : আরে ভাইয়া ভাবি পরে রোমান্স করিস দরজা খুল ।
.
আমি দরজা খুললাম….
আরোহি : কি রে ভাই এতো ঘুম কেনো ?
আবির : তোর কি । এখানে কেন আসছিস?
আরোহি : বাহ বাহ এখনো রোমান্স‌ বাকী নাকি ?
আবির : তুই যাবি না মার খাবি ?
আরোহি : হুহ যা তোর সাথে কথা নাই । আমি ভাবির কাছে এসেছি ।
আমি : বলো ননোদিনী
আরোহি : ভাবি আই লাভ ইউ
আমি : আই লাভ ইউ টু
আবির : যা ভাগ নিজের ভাইয়ের তো খোঁজ নাই ।
আরোহি : নিবোও না । টাকা দে তো ।
আবির : হুহ টাকার বেলায় আমি । যা দিবো না ।
আরোহি : দে ভাবির জন্য শপিং করতে যাবো
আবির : কেনো ?
আরোহি : আম্মু বলেছে
আমি : আমার কিছু লাগবে না
আরোহি : আরে ভাবি লাগবে
আবির : আচ্ছা নে
আরোহি : ওকে রেডি থাক একটু পর শপিং এ যাবো
আবির : আমি কেন ?
আরোহি : তোকে তো যেতেই হবে
আবির : আমি যাবো না ।
আরোহি : আম্মু কে বলবো নাকি
আবির : না থাক আমি যাবো ( আবির তার মা কে একটু ভয় পায় )
.
চলবে…..