অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৪ 

অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৪ 

অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৪ 

লেখা –সুলতানা ইতি

 

গাইথি যাওয়ার পর চুহেস নিজে নিজে কিছুক্ষন হাসলো,এই ভেবে যে পাগলি টা এখন ও আমার ধমক শুনলে ভয় পায়,
তার পর চুহেসে কিচেনে গিয়ে, দু কাপ আদা দেয়া চা করে গাইথির রুমে যায়,
গাইথিকে রুমে দেখতে ফেলো না,
বুঝে নিয়েছে বারান্দায় আছে হয় তো,

চুহেস পা টিপে টিপে বারান্দার দিকে গেলো
চুহেসের উপস্থিতি টের পায়নি গাইথি,সে শূন্য দৃষ্টি মেলে আকাশের দিকে ছেয়ে আছে

চুহেস – তারা গুনছো

হঠ্যাৎ কারো কথা শুনে গাইথি চমকে উঠে পাশে তাকিয়ে দেখে চুহেস, গাইথি আবার আকাশের দিকে দৃষ্টি দিলো

চুহেস- আকাশে আজ তারা নেই,,মনে বৃষ্টি নামবে,নাও আদা দিয়ে চা করে আনলাম,তোমার জন্য
কাঁদতে কাঁদতে তো গলার স্বর খারাপ করে ফেলেছো,চা টা খাও ভালো লাগবে

গাইথি- প্রয়োজন নেই আমি এখন ঘুমাবো

চুহেস বুঝলো গাইথি পালটা প্রতিশোধ নিচ্ছে
– ঠিক আছে চা টা খেয়ে ঘুমাতে যেও,
নাও

গাইথি চুপ চাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
চুহেস চেয়ার দেখিয়ে বল্লো
– বসো,

চুহেসের এই স্বাভাবিক আচরনে গাইথির মনটা হালকা হয়, গাইথি মনে মনে বল্লো
– এই চুহেস মেহেরা কে আমি সব সময় চাই,ঐ উগরো মেজাজি চুহেস কে একটু ও চাই না

চুহেস- কি ভাবছো এতো গভীর ভাবে

গাইথি- ভাবছি যদি আজ আকাশে চাঁদ থাকতো

চুহেস- চাদের আলোর ছেয়ে এই ফিকে অন্ধকার টা অনেক সুন্দর, আর ব্যাস্ত ঢাকার চাদের আলো উপভোগ করা যায় না

গাইথি- কেনো

চুহেস- চাদের আলো উপভোগ করা যায় নির্ঝন পরিবেশে,যেটা গ্রামে সম্ভব, অবশ্য আরেক টা জায়গা আছে

গাইথি- কোথায় সে জায়গা

চুহেস কথা গুরিয়ে বল্লো,
– আজকের ঠান্ডা হাওয়া আবছা অন্ধকার খারাপ লাগছে না

গাইথি- আপনি কিন্তু আমার প্রশ্ন টার এড়িয়ে গেলেন

চু্হেস- এড়িয়ে গেছি? হুম মনে হয় সেটা আমি তোমাকে জানাতে চাইছিনা

গাইথি- সেটা বুঝলাম, কিন্তু কেনো বলতে চান না

চুহেস- ওটা আমার ব্যাপার

গাইথি এই তো আর ভালো লাগলো না,কি হয় মন খুলে কথা বললে

চুহেস- বহুদিন ধরে মন খুলে কথা বলার কোন সাথি নেই,তাই সেই অভ্যাস টা ও নেই

গাইথি- এখন যদি কেউ সেই সাথি হতে চায়,তাকে কি ফিরিয়ে দিবেন

চুহেস- কাউকে জীবন থেকে ফিরিয়ে দিই নি,তাই নতুন করে কোন সাথি ধরকার নেই মনে হয়

গাইথি- বুঝলাম না,কাকে ফিরিয়ে দেন নি,

চুহেস- আর কথা নয় অনেক রাত হয়েছে ঘুমাও এই বলে চুহেস আর এক মুহুর্ত ও সেখানে দাড়ালো না

গাইথি যেমন ছিলো তেমন ই বসে আছে,ভাবছে চুহেসের বলা কথা টা,

তা হলে কি কেউ এসেছিলো তার জীবনে,এবং সে এখন ও আছে,তা হলে ওর জীবন এতো ছন্নছাড়া কেনো, উফফ আর ভাবতে পারছি না,ওর জীবনে অন্য কাউকে আমি মানতে পারবো না

চুহেস নিজের রুমে এসে ভাবছে গাইথির কথা,সেকি আমার জীবনে আসতে চায় কিন্তু কেনো তার তো সাইমুমের সাথে বিয়ে ফাইনাল হয়ে আছে তা হলে

কেউ যদি সাথি হতে চায় বলে কি বুঝালো সে,
সব কিছু কেমন যেন ধোয়াসা লাগছে,আমার জীবনে সে আসতে চাইবে কেনো,

চুহেস আয়নার সামনে দাঁড়ালো,সে দেখতে চায়,কিশোর কালের সেই লাবন্য চেহেরা টা এখন ও আছে কি না তার মাঝে, নাহ থাকবে কি করে বয়স তো আর কম হয়,থার্টিন চলছে,
এই পার্থক্য টা কি গাইথির চোখে পড়ছে না নাকি,

আচ্ছা অনেকে তো এই বয়সে বিয়ে করে,সব ছেলেরা যে পচিস, ছাব্বিশ বয়সে বিয়ে করবে তার তো কোন মানে নেই

দূর এই সব কি ভাবছি পাগলের মতো,বাবুই হয় তো এমনি কথা টা বলেছে,, কিন্তু বাবুই তো আর জানে না সেই ছোট বেলা থেকে ও আমার জীবন সাথি,ওর স্মৃতি টুকু আমার কাছে অনেক মূল্যবান

খুব সকালে ঘুম ভেঙে যায় গাইথির, আজ ঘুম ভাংতেই কেমন জানি লাগছে, মনের এক কোনে শূন্য শূন্য লাগছে,অনেক্ষন বসে থাকার পর মনের বিরুদ্ধে গাইথি ফ্রেশ হতে গেলো,
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা বানানোর জন্য কিচেনে গেলো,, মন ভালো নেই তাই আর বেশি ঝামেলা না করে সেন্ডউইস বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখলো

চুহেস আর নিহার খেতে বসলো, খেতে খেতে চুহেস নিহার কে বল্লো
– নিহার তুমি গাইথিকে অফিস যাওয়ার পথে ওদের বাসায় নামিয়ে দিবে

নিহার – স্যরি স্যার, আমার অফিসে কিছু কাজ আছে সেটা সে করে একটা জায়গা যেতে হবে

চুহেস- আজ তো আউটিং এ কোন কাজ নেই তা হলে

নিহার- স্যরি স্যার এটা আমার পার্সোনাল কাজ

গাইথি- উহুম উহুম, আমি কি আপনাদের কথার মাঝে একটা কথা বলতে পারি

চুহেস- কি কথা

গাইথি- আমি যত দূর জানি, গত কাল নিধিপা এসেছে ওর মামার বাসায়,মনে হয় আজ মিঃ নিহারের সাথে….

গাইথি কথা শেষ করতে পারলো না, নিহার বল্লো
– ঠিক বলেছেন ম্যাডাম

গাইথি- উহ ম্যাডাম কি কথা,আমাকে ম্যাডাম বলবেন না,গাইথি বললে খুশি হবো

নিহার কিছু বল্লো না, মনে মনে বল্লো,স্যারের হবু বউকে নাম ধরে ডাকবো,সেটা খুব ভালো দেখাবে

চুহেস- ঠিক আছে গাইথি তুমি রেডী হয়ে থেকো, ড্রাইভার তোমাকে নামিয়ে দিবে

নিহার- আরেহ,স্যার বাসায় আপনার মতো একজন পুরুষ থাকতে একজন মেয়ে একা বের হবে বাসা থেকে,তা ছাড়া পথে কতো রকম বিপদ থাকে তা বলে শেষ করা যায়

চুহেস- ইদানীং খুব বেশি বেড়েছো তুমি নিহার

নিহার- স্যরি স্যার,

অবশেষ এ গাইথি আর চুহেস এক সাথে বের হলো
দুজনেই নিরব গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে
গাইথিদের বাসার সামনে এসে গাড়ি থামলো
গাইথি নেমে চুহেস কে বল্লো
– ধন্যবাদ

চুহেস ভ্রু কুঁচকে বল্লো
– সো হোয়াট

গাইথি- এই যে আমার সাথে কষ্ট করে এতো টা পথ এলেন,এখন যদি আমার বাড়িতে আপনার পায়ের ধুলা দিতেন, তা হলে আমি ধন্য হতাম

চুহেস গম্ভীর হয়ে বল্লো
– আমার সময় নেই গাইথি
গাইথি- ওহ

গাড়ি স্ট্রাট দিলো, গাইথি এখন ও দাঁড়িয়ে আছে, ভাবছে চুহেসের শেষের কথা, চুহেস আমায় গাইথি বল্লো,কিন্তু ও তো আমায় বাবুই ছাড়া কথা বলতো না, হঠ্যাৎ এ পরিবর্তন
ঠিক আছে কোন ব্যাপার না, এবার গাইথি কি করে দেখো

চুহেস অফিসে গিয়ে কাজের মধ্যে ডুবে গেলো,দুপুর গড়িয়ে গেলো লাঞ্চ করার কোন খবর নেই,নিহার দু বার এসে বলেছে একবার ও পাত্তা দেয়নি

চুহেসের পার্সোনাল ফোনে কল আসে, অনেক্ষন রিং বেজে গেলো,চুহেস রিসিভ করেনি,কথা বলতে ইচ্ছে করছে না চুহেসের, নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে চায় চুহেস,

অফিস ছুটির পর চুহেস বাসায় যাচ্ছে, নিহার গাড়ি ড্রাইভ করছে, চুহেস ফোন হাতে নিয়ে কল লিস্ট দেখছে আননোন নাম্বার থেকে পঞ্চাস টা কল,একটা ভয়েস এস এম এস

চুহেস ভয়েজ এস এম এস টা রিসিভ করে শুনছে, গাইথি পাঠিয়েছে ভয়েজ টা
” হ্যালো চুহেস বাবুই বলছি,কল টা রিসিভ করো ”

ভয়েজ টা শুনে চুহেসের সারা মন প্রান ঝুড়ে আনন্দের শিহরিত হয়ে উঠলো, গাইথি এই প্রথম তাকে নাম ধরে ডেকেছে ভালোবাসার স্বরে কথা বলেছে, চুহেস খুশি মনে বাসায় আসে,,
ফ্রেশ হয়ে খেতে গিয়ে মন টা খারাপ হয়ে গেলো,বাবুই শত নিষেধ উপেক্ষা করে খাওয়ার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থেকে এটা ওটা এগিয়ে দিতো,
আজ বুয়া খাবার দিয়ে চলে গেলো
খাবার একটু মুখে দিয়ে হাত থেকে চামচ ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়

নিহার- কি হলো স্যার খাবেন না,দুপুর ও তো কিছু খেলেন না

চুহেস- ভালো লাগছে না, তুমি খেয়ে নাও
চুহেস চলে যায়

নিহার মুচকি মুচকি হাসছে এই ভেবে যে এই কয় দিনে গাইথির হাতের রান্না খেয়ে আজ বুয়ার হাতের রান্না ভালো লাগেনি, বুঝতে ফেরেছি স্যার,খবর টা গাইথি কে দিতে হয়,,

রাতে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছে চুহেস সকালে উঠে সভাব মতো মোবাইল হাতে নিয়ে দেখছে একটা ভয়েজ মেসেজ, বাবুই পাঠিয়েছে”গুড মর্নিং চুহেস উঠে পড়ো, আর কতো ঘুমাবে”
মনের অজান্তেই চুহেসের ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো

to be continue