আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২৫/অন্তিম পর্ব

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২৫/অন্তিম পর্ব

লেখিকা: সুলতানা তমা

এয়ারপোর্ট পৌঁছে চারদিকে ছুটাছুটি করছি তাসিনকে পাচ্ছি না তাহলে কি তাসিন চলে গেলো কিন্তু আমি তো তাড়াতাড়ি আসছি আরো আধা ঘন্টা বাকি আছে, আরে ওই তো তাসিন অবনীর সাথে বসে হেসে হেসে কথা বলছে, এতোক্ষণ তো অনুশোচনায় ভোগছিলাম কি করে তাসিনের সামনে যাবো এইটা ভেবে এখন তো রাগ হচ্ছে আমি তো না জেনে ভুল করেছি কিন্তু তাসিন জেনেশুনে অন্যায় করছে আজ ওর খবর আছে বউ রেখে অন্য মেয়েকে ভালোবাসা ছাড়াচ্ছি
আমি: তাসিন (আমার চিৎকার শুনে তাসিন অবনী দুজন হকচকিয়ে উঠলো)
তাসিন: অরনী তুমি এয়ারপোর্টে আর এভাবে চিৎকার করছ কেন এইটা বাসা না এয়ারপোর্ট
আমি: (ঠাস)
তাসিন: কি হলো থাপ্পড় মারলে কেন
আমি: আমি কি তোমার অরনী নাকি আমি তো তোমার অন্নি উল্টাপাল্টা নাম ধরে ডাকো কেন
তাসিন: সরি ভুল হয়ে গেছে
আমি: (ঠাস)
তাসিন: কি হলো আবার মারলে কেন
আমি: বউকে কি কেউ সরি বলে
তাসিন: তাই তো
আমি: তুমি এখানে কেন কোথায় যাচ্ছ
তাসিন: কোথাও না তো
আমি: মিথ্যে বল কেন তুমি লন্ডন যাচ্ছ না
তাসিন: লন্ডন আমি যাবো কে বলল
আমি: ভাবি যে বললো
তাসিন: ওহ হ্যাঁ যাবো তো
আমি: (ঠাস)
তাসিন: আবার মারলে কেন
আমি: বউ বাচ্চা রেখে লন্ডন যাওয়ার চিন্তা করেছ তাই
তাসিন: বাচ্চা মানে
আমি: মোবাইল তো সুইচড অফ করে রেখেছ তিথি কতোবার ট্রাই করলো জানানোর জন্য, তুমি বাবা হইবা
তাসিন: সত্যি
অবনী: হুররেরেরেরেরে আমি খালামনি হবো
তাসিন আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না আর অবনী এতো বড় মেয়ে হয়ে এয়ারপোর্টে নাচানাচি করছে আর হাত তালি দিচ্ছে বুঝলাম না এই মেয়ে এতো খুশি হলো কেন ওর তো কষ্ট পাওয়ার কথা

তাসিন আমাকে টেনে ওর পাশের চেয়ারে বসালো তারপর আমার সামনে হাটু গেড়ে বসে আমার হাত দুটু ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো
তাসিন: অন্নি আমি সত্যি বাবা হবো
আমি: না না তুমি মিথ্যে বাবা হইবা কিন্তু কাঁদছ কেন তুমি
তাসিন: খুশিতে
অবনী: আপু বেবিটা দেখতে ঠিক আমার মতো হবে অবশ্য আমরা দুবোন তো একরমই
আমি: দুবোন মানে
অবনী: ভাইয়া মাফ করো আর অভিনয় করতে পারবো না
আমি: কিসের অভিনয়
অবনী: আপু সব বলবো আগে তোমাকে একটু জরিয়ে ধরতে দাও আর তোমার থেকে দূরে থাকতে চাই না (অবনী আমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না)
অবনী: জানো আপু আমি সবসময় তোমার কাছে আসতে চেয়েছি তোমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে চেয়েছি কিন্তু ভাইয়া তোমার কাছে আসতেই দেয়নি
আমি: কেন
তাসিন: অবনী অন্নিকে সব বলে দাও
অবনী: আপু আমি তোমার সেই খুনি চাচ্চুর হতভাগি মেয়ে অবনী (অবনী কাঁদছে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম কি বলে এসব)
আমি: চাচ্চুর মেয়ে কিন্তু….
অবনী: আপু আমি জানি কি বলবে আমি ছোটবেলায় মারা গেছিলাম তাই তো
আমি: হ্যাঁ চাচ্চু তো এটাই বলেছিল
অবনী: আসলে আপু তোমাকে বলা হইছে আমি মারা গেছি আর আমাকে বলা হইছে তুমি মারা গেছ
আমি: কিন্তু তুই এতোদিন কোথায় ছিলি
অবনী: লন্ডন খালামনির কাছে
আমি: আমি যে বেঁচে আছি জানলি কিভাবে
অবনী: আমি এসবের কিছুই জানতাম না চাচ্চু যখন খুন হন তখন তো আমি খুব ছোট, যখন একটু বুঝতে শিখেছি তখন আব্বুর কাছে তোমার কথা জানতে চাইতাম আমাকে বলেছিল চাচ্চু চাঁচিআম্মুর সাথে তুমিও খুন হয়েছ, জানো আপু আব্বু আমাকে কখনো বাংলাদেশে আনতো না হয়তো তোমার আমার পরিচয় হয়ে যাবে এই ভয়ে, কিন্তু সেদিন খালামনি আর আম্মু ফোনে কথা বলছিল আর আমি শুনে পেলি পরে খালামনি আমাকে সব বলেন আর এইটাও বলেন তুমি বেঁচে আছ আম্মু তোমাকে খুন করানোর চেষ্টা করছে আমি যেন বাংলাদেশে এসে তোমাকে বাঁচাই
আমি: কিন্তু তাসিন….
অবনী: বলছি শুনো, আমি বাংলাদেশে আসি তোমাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে কিন্তু আব্বু সন্দেহ করলে তো আমাকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না কারন লোভ আব্বু আম্মুকে অন্ধ করে দিয়েছে তাই আমি আব্বু আম্মুর সাথে অভিনয় করি
আমি: চাচ্চুর সাথে অভিনয়
অবনী: হ্যাঁ আমি আব্বু আম্মুকে বলি আমিও তোমার সব সম্পত্তি চাই প্রয়োজন হলে তোমাকে খুন করবো এই কথা বলার পর আব্বু আম্মু আমাকে বিশ্বাস করে
আমি: কিন্তু তাসিনের সাথে পরিচয় হলো কিভাবে
অবনী: আব্বু যা বলতো তুমি সবকিছু করতে না তাই আব্বু সন্দেহ করেছিল যে তুমি ভাইয়া কে ভালোবেসে ফেলেছ তাই আমাকে বলেন আমি যেন ভাইয়ার সাথে প্রেমের অভিনয় করি যাতে করে তুমি ভাইয়াকে ভুল বুঝে ডিভোর্স দিয়ে দাও
আমি: এজন্য তুই তাসিনের সাথে অভিনয় করেছিস
অবনী: না আব্বু জানতো আমি আব্বুর কথা মতো অভিনয় করছি কিন্তু আমি তো অভিনয় করেছিলাম ভাইয়া আর শিলা আপুর কথায়
আমি: মানে
অবনী: আপু একটা মেয়ে সব সহ্য করতে পারে কিন্তু তার ভালোবাসার মানুষের পাশে অন্য কোনো মেয়েকে কখনোই সহ্য করতে পারে না তাই আমাদের এই প্ল্যান
আমি: তাই বলে এতো অভিনয়
তাসিন: আমিই করিয়েছি এছাড়া কোনো উপায় ছিল না তুমি তো আমাকে ভালোই বাসতে না
অবনী: আমি তোমার খুঁজে প্রথম যেদিন এই কলেজে আসি সেদিন ভাইয়ার সাথে দেখা হয় ভাইয়ার কাছে শুনি তুমি ভাইয়া কে ভালোবাস না উল্টো ভাইয়ার আব্বুকে খুনি ভাবো কিন্তু আসল খুনি তো আমার আব্বু তাই তোমার ভুল ভাঙ্গাতে চাই কিন্তু ভাইয়া না করে বলে প্রমান ছাড়া তোমাকে বিশ্বাস করানো যাবে না
আমি: সব বুঝলাম কিন্তু কক্সবাজার তুই কান্না করছিলি কেন
অবনী: তুমি না সত্যি বোকা আমি কই কান্না করছিলাম সব তো অভিনয় ছিল
আমি: কি যে বলিস সব আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে
অবনী: কলেজের মাঠে ভাইয়াকে কান ধরানোর জন্য তোমাকে অনেক বকা দিছিলাম এসব অভিনয় ছিল আর কক্সবাজার তুমি শাড়ি পরে সেঝেছিলে ভাইয়ার সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কিন্তু আমি যেতে দেইনি কেন দেইনি জানো
আমি: কেন
অবনী: কারন আব্বু আমাকে বলেছিল তোমার খাবারে বিষ দিতে আমি না করেছিলাম তাই আব্বু তোমাকে মারার জন্য অন্য লোক ভাড়া করেছিল আমি সেটা বুঝতে পেরে ভাইয়াকে বলেছিলাম তাই তোমাকে হোটেল থেকে বেরুতে দেইনি
আমি: কিন্তু সন্ধ্যায় তো শিলার সাথে….
তাসিন: সেটা আমার ইচ্ছাতেই শিলা তোমাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিল সারাদিন তো রুমে বসে কান্না করেছিলে তাই
আমি: আমি মোটেও কান্না করিনি
তাসিন: ম্যাম তোমার রুমে সিসি ক্যামেরা ছিল তুমি কখন কি করতে আমি বাইরে বসে দেখতাম
আমি: কি
তাসিন: অবাক হওয়ার কিছু নেই তোমার চাচ্চুর বাসায়ও তোমার রুমে সিসি ক্যামেরা ছিল আমি সবসময় তোমাকে দেখতাম এমনকি তোমাদের বাসার চারপাশে আমার অনেক লোক সমসময় পাহারা দিত
আমি: আর আমি বুঝতেও পারিনি
অবনী: তুমি যা বোকা মেয়ে আবার এসব প্যাঁচ বুঝবা হিহিহি
আমি: আচ্ছা তাসিন তুমি আমাকে ভালোবেসে থাকলে অবনীকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে গেছিলা কেন
তাসিন: কোথায় ঘুরতে গেলাম আমি তো আমাদের কম্পানির একটা কাজে গিয়েছিলাম, তোমাকে ঢাকায় রেখে গেলে বিপদ হতে পারে তাই তোমাকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম, তুমি আমার সাথে যেতে রাজি হতে না তাই অবনী আর শিলা কে সাথে নেই এতে লাভ হয়েছে তিনটা আমার কাজ হলো, তুমি যে আমাকে ভালোবাস এইটাও বুঝতে পেরেছ সাথে আমাদের পুঁছকে বাচ্চা ফ্রি
আমি: কিন্তু ডাবের কাহিনী
তাসিন: এইটা তোমার বোনের দোষ আমার না
আমি: মানে
অবনী: আপু আসলে সেদিন আমি হোটেলের বাইরে হাটছিলাম তখন আব্বুর দুজন লোক তোমাকে মারার প্ল্যান করে আমি ওদের পিছু নিয়ে সাগরপারে যাই সেখানে তোমরাও ছিলে, লোক দুইটা তোমাদের ডাবের ভিতরে বিষ দিয়ে চলে যায় আমি তাড়াতাড়ি এই ডাব পাল্টাতে গিয়ে এক মাতালের কাছ থেকে ডাব নিয়ে আসি তখন জানতাম না লোকটা যে মাতাল আর ডাবের ভিতরে মদ ভরে রেখেছে পরে তোমার মাথা ঘুরানো দেখে লোকটাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করাতে হেসে হেসে বলে ডাবের ভিতরে মদ ছিল আপু আমার কোনো দোষ নেই
তাসিন: আরে শালিকা তোমার দোষ হবে কেন ভালো কাজই তো করেছ এই ডাবের উচিলায় তো হিহিহি…..
আমি: কিন্তু সেদিন সকালে ফোন
অবনী: এইটা ভাইয়ার দোষ আমাকে সেদিন সকালে ফোন করে বলেছিল তোমাকে যেন এসব বলি, আমি বার বার নিষেধ করার পরও আমাকে জোর করে তাই বাধ্য হয়ে….
আমি: তাসিন
তাসিন: রাগ করে না বউ আসলে আমি ভেবেছিলাম অবনী এসব বললে তুমি রেগে আমাকে ভালোবাসি বলবা কিন্তু করলা উল্টোটা আমাকে ছেড়ে চলে আসলা
আমি: তুমি আমাকে ভালোবাস
তাসিন: বিশ্বাস হয় না নাকি
আমি: তাহলে এই দুই মাস আমার সাথে যোগাযোগ করনি কেন আজকে সকালে আমার জ্ঞান ফিরেছে শুনেও হসপিটালে যাওনি কেন
তাসিন: কে বললো দুই মাস যোগাযোগ রাখিনি হ্যাঁ কথা হয়নি কিন্তু তোমার সব খুঁজ রেখেছি তোমার বিপদ হতে পারে তাই বাসার পাশে লোক রেখেছি সবসময় আর সকালে হসপিটালে যেতে পারিনি অবনীকে এয়ারপোর্ট নিয়ে আসার জন্য, তুমিই বলো যে আমাদের জন্য এতোকিছু করলো তাকে বিপদের মধ্যে একা এয়ারপোর্টে আসতে দেই কিভাবে
আমি: অবনী এতো বছর পর দুবোনের দেখা হলো আর তুই চলে যাচ্ছিস
অবনী: আপু আগামীকাল থেকে আমার পরিক্ষা আজকে যেতে হবেই এয়ারপোর্ট আসার পর শুনেছি তোমার জ্ঞান ফিরেছে দেখা করতে হসপিটালে গেলে আমার ফ্লাইট মিসস হয়ে যাবে আর আমি তো পরিক্ষা দিয়েই তোমার কাছে চলে আসবো
আমি: ঠিক আছে
অবনী: আপু দোষ তো আমার মা বাবা করেছে আমি তো এসব জানতাম না প্লিজ আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না আমার আপন বলতে তো এখন শুধু তুমিই আছ
আমি: দুর পাগলী কে বললো আমি তোকে দূরে সরিয়ে দিবো আমারো তো আপন বলতে তুই শুধু আছিস
তাসিন: অবনী সময় হয়ে গেছে চলো
অবনী: হুম যাচ্ছি
অবনী চলে যাচ্ছে যতক্ষণ ওকে দেখা গেলো তাকিয়ে রইলাম চোখ দুইটা ভিজে যাচ্ছে এতো বছর পরে বোনটা কে পেলাম কিন্তু কাছে রাখতে পারলাম না
তাসিন: এই পাগলী কাঁদছ কেন ও তো পরিক্ষা দিয়েই তোমার কাছে ফিরে আসবে
–হুম
–চলো তো একটু কাজ আছে
–কি কাজ
তাসিন আমাকে টেনে গাড়িতে নিয়ে বসালো, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কে জানে

তাসিন ড্রাইভ করছে আমি ওর কাধে মাথা রেখে বসে আছি
–অন্নি জানো কাল আমি কতোটা ভয় পাইছিলাম
–কেন
–যখন দেখছিলাম তোমার চাঁচি তোমার দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়েছে আর তুমি যন্ত্রণায় চটপট করছিলে তখন তো ইচ্ছে হচ্ছিল নিজেই নিজেকে আগাত করি
–আচ্ছা তুমি এতো তাড়াতাড়ি চাচ্চুর বাসায়….
–আসলে গতকাল সব প্রমান আমাদের হাতে চলে আসার পরই আমি আব্বু আর অবনী কে নিয়ে তোমাদের বাসার দিকে রওনা দেই, বাসা থেকে কিছু দূরে ছিলাম তখন দেখি তুমি বিষের যন্ত্রণায় চটপট করছ তারপর তাড়াতাড়ি গিয়ে তোমাকে হসপিটালে নিয়ে যাই
–যদি আমার কিছু হয়ে যেতো
–আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম কিছু হলে আমিও….
–চুপ
–অন্নি তুমি একটু বস আমি আসছি
–কোথায় যাচ্ছ

তাসিন আমাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে একটা ফুলের দোকানে গিয়ে ঢুকলো, কিছুক্ষণ পর অনেক ফুল নিয়ে এসে গাড়িতে উঠলো
–এসব কি
–ফুল
–তাতো বুঝলাম কিন্তু ফুল দিয়ে কি করবা
–বাসর রাতেই তো ফ্লোরে ঘুমাতে দিছিলা তাই আজ নতুন করে বাসর করবো আর তোমার বুকে ঘুমাবো
–তুমি না খুব ফাজিল
তাসিনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ওর কাধে মাথা রেখে বসে আছি, যদি চাচ্চু এমন না করতো তাহলে হয়তো তাসিনকে অনেক আগেই ভালোবাসতাম আমাদের মাঝে এতোটা দূরত্ব সৃষ্টি হতো না, আমাদের মাঝে থাকতো শুধু ভালোবাসা, অভিমান আর খুনসুটি

ঘরির কাটায় রাত এগারোটা বাজে আমি তিথির রুমে বসে আছি তাসিন আমাকে রুমে যেতেই দিচ্ছে না কি যে করে তাসিনই ভালো জানে, একটু পর তাসিন এসে আমার চোখ বেঁধে রুমে নিয়ে আসলো, চোখের বাঁধন খুলে দিতেই তো আমি অবাক রুমটা কতো সুন্দর করে সাঝানো খাটে সব ফুল দিয়ে সাঝানো আর ফ্লোরে মোমবাতি, তাসিনের দিকে অবাক হয়ে তাকালাম ও আস্তে আস্তে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো তারপর আমাকে কোলে তুলে নিল, আমার কাছে যেন সব স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে

তাসিন আমাকে কোলে করে এনে বিছানায় শুয়ে দিল তারপর হাসতে হাসতে বললো
–যদি সত্যি অবনীকে ভালোবেসে লন্ডন চলে যেতাম (লাফ দিয়ে উঠে ওকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলাম ওর বুকে কিল ঘুষি দিয়ে যাচ্ছি)
–লন্ডন যাওয়ার খুব সখ তাই না
–না না এইটা তো ভাবি তোমাকে মিথ্যে বলেছিল এতো সুন্দর বউ রেখে কি আমি লন্ডন গিয়ে থাকতে পারবো
তাসিন আমার হাত ধরে টান দিয়ে ওর বুকে আমাকে শুয়ে দিল তারপর কপালে মায়া দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো “আজ নিজেকে হারাতে চাই তোমার মাঝে”😍😍

#Happy_Ending😊

(এভাবেই বেঁচে থাকুক সবার ভালোবাসা গুলো😊
পুরো গল্পটি কাল্পনিক ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন😊)

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২৪

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২৪

লেখিকা: সুলতানা তমা

মাথা যন্ত্রণা করছে খুব আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালাম, চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম আমি হসপিটালের বেডে শুয়ে আছি, পাশে মা বাবা তিথি ভাবি পরী আসিফ ভাইয়া দাঁড়ানো, আমি চোখ খুলেছি দেখেই সবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো, মা আমার পাশে বসে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন
মা: শেষ পর্যন্ত আমার বউমা কে বাঁচাতে পারলাম জানিস এই একটা রাত আমরা সবাই কতো কষ্টে কাটিয়েছি, ডক্টর তো বলেছিল মা বাচ্চা কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হবে না কিন্তু আল্লাহর রহমতে দুজনেই সুস্থ আছিস (বাচ্চার কথা বলতেই তাড়াতাড়ি পেটে হাত দিলাম যাক শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চাটা বেঁচে রইলো)
তিথি: ভাবি পেটে হাত দিতে হবে না ভয় পেয়ো না আমি ফুফি হবো হিহিহি
বাবা: আমরা যেতে যদি আর একটু দেরি হতো তাহলে আজ….
মা: বাদ দাও তো এসব অলোক্ষনে কথা আমাদের সেই ছোট্ট অরনী আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে এটাই তো অনেক (ছোট্র অরনী মানে তাসিন কি সব বলে দিলো নাকি)
বাবা: মা অবাক হবার কিছু নেই তাসিন আমাদের সব বলেছে
আমি:(মাথা নিচু করে রেখেছি এখন কি বলবো আমি তো অপরাধী)
বাবা: মন খারাপ করিস না তোর তো কোনো দোষ নেই তোকে ভুল বুঝানো হয়েছে প্রত্যেক সন্তানই মা বাবার খুনের প্রতিশোধ নিতে চাইবে
মা: আমরা তোর উপর রেগে নেই আমাদের তো আজ আনন্দের দিন আমাদের সেই ছোট্ট অরনী কে ফিরে পেয়েছি (অবাক হয়ে মা বাবা কে দেখছি কতো ভালো উনারা আর আমি কিনা ছি)
বাবা: এই পাগলী মেয়ে কাঁদছিস কেন
আমি: বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি না বুঝে….
বাবা: বাবা নারে পাগলী তুই তো ছোটবেলায় আমাকে বাবাই বলে ডাকতি আশরাফ তো সবসময় বলতো তুই নাকি আমার মেয়ে হাহাহা, তোর হয়তো মনে নেই এসব
আমি: চাচ্চু আর ছোট মা কে আমি শাস্তি দিতে চাই
বাবা: হ্যা দিবি ওরা এখন জেলে আছে এতোদিন সময় লাগতো না আসলে আমার কাছে প্রমান হিসেবে আশরাফের জবানবন্দী ছিল শুধু এইটা শক্ত কোনো প্রমান না তাই সেই হসপিটাল থেকে সি.সি ক্যামেরার ফুটেজ এনেছি এসব জোগাড় করতে বেশ সময় লেগে গেছে
আমি: বাবাই আমি বাসায় যাবো কবে
মা: আজকেই নিয়ে যাবো হসপিটালে রাখবো না তোকে
আমি: আমি বাসায় যাওয়ার আগে পুলিশ স্টেশনে যেতে চাই
বাবা: ঠিক আছে আমি ডক্টর এর সাথে কথা বলে রিলিজ নেওয়ার ব্যবস্থা করছি
আমি: আচ্ছা

বাসার সবাই আছে এখানে কিন্তু তাসিন নেই তাহলে কি তাসিন শুনেনি আমার যে জ্ঞান ফিরেছে নাকি শুনেও ইচ্ছে করে আসেনি, অবশ্য না আশারই কথা অবনী আছে তো
তিথি: ভাবি তুমি না সত্যি একটা বোকা মেয়ে
আমি: কি রকম
তিথি: এই যে ভাইয়া তোমাকে বার বার বুঝাতে চাইল আব্বু খুনি না তোমার আপন জনদের মধ্যেই কেউ একজন খুনি, আচ্ছা তোমার চাচ্চু ছাড়া তো তোমার আপন কেউ নেই এইটা ভেবেও কি সন্দেহ হয়নি (তাই তো এইটা আমার মাথায় আসলো না কেন আমি না সত্যি একটা বোকা মেয়ে)
তিথি: এখন আর টেনশন করোনা ভাইয়া ওদের জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে
–তোমার ভাইয়া কোথায়
–জানিনা ফোন দিয়েছিলাম তোমার জ্ঞান ফিরেছে শুধু বলতে পেরেছি বাচ্চার কথা বলার আগেই ফোনটা কেটে গেলো এখন তো মোবাইল সুইচড অফ বলছে
–মোবাইল অফ হবে কেন
–আরে আছে কোথাও চলে আসবে টেনশন করো না

সব জামেলা শেষ তোকে রিলিজ করে দিয়েছে চল মা (দরজায় তাকিয়ে দেখি বাবা হাসি মুখে রুমে ডুকছেন আর বলছেন)
মা: তিথি সবকিছু গোছগাছ করে নে
সবকিছু গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম পুলিশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে, চাচ্চু আর ছোট মার মুখ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে না কিন্তু উনাদের শুধু একটা প্রশ্ন করার জন্য যাচ্ছি, আচ্ছা উনাদের সম্পত্তি প্রয়োজন ছিল আব্বুর কাছে চাইতো কিন্তু আব্বু আম্মু কে খুন করলো কেন খুন না করেও সম্পত্তি নেওয়া যেতো তো, আমাকে মা বাবা হারা করলো সামান্য সম্পত্তির লোভে

চাচ্চু আর ছোট মার সামনে বসে আছি কি বলবো উনাদের আমার মুখ থেকে তো কোনো কথাই বের হচ্ছে না কষ্টে নাকি ঘৃনায় বুঝতে পারছি না
বাবা: অরনী তাড়াতাড়ি কর বাসায় যেতে হবে আমরা বাইরে যাচ্ছি তুই কথা বল
আমি: হুম
আমাকে রেখে সবাই বাইরে চলে গেলো চাচ্চু আর ছোট মা মাথা নিচু করে বসে আছে
আমি: চাচ্চু কেন করলে এমন
চাচ্চু: (নিশ্চুপ)
আমি: আমি তোমাদের মা বাবা জানতাম আর তোমরাই কিনা আমার আসল শত্রু আর ছোট মা তোমাকে তো সেরা অভিনেত্রীর খেতাব দেওয়া উচিত যা নিখুঁত ভাবে মায়ের অভিনয় করেছ এতো ভালোবাসা দিয়েছ যে আমি কখনো বুঝতেই পারিনি….
ছোট মা: আমাদের ক্ষমা করে দে মা
আমি: হাসি পেলো আচ্ছা এই যে ক্ষমা চেয়েছ আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলে কি আব্বু আম্মু ফিরে আসবে
ছোট মা: (নিশ্চুপ)
আমি: তোমাদের ক্ষমা করলে আম্মু আব্বু ফিরে আসবে না, ফিরে আসবে না আমার এত্তোগুলো বছরের কান্না, তোমরা জানো আমি লুকিয়ে লুকিয়ে কতো কান্না করি আব্বু আম্মুর জন্য, তোমাদের সম্পত্তি প্রয়োজন ছিল আব্বুকে বলতে খুন করলে কেন, আচ্ছা চাচ্চু একটু বলতো কখন কিভাবে খুন করছিলা
চাচ্চু: বাংলোতে
আমি: কখন
চাচ্চু: তুই তখন আমার বাসায় ছিলি তোকে রেখেই আমি বাংলোতে যাই ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতে কিন্তু ভাইয়া আমাকে টাকা দেয়নি কারন আমি টাকা খারাপ রাস্তায় উড়াতাম, তখন আফজাল চৌধুরী ঘুরতে গিয়েছিল বাংলোতে শুধু ভাইয়া আর ভাবি ছিল তাই রাগের মাথায় দুজন কে খুন করি বার বার টাকা চাওয়ার চেয়ে সব সম্পত্তি আমার হয়ে যাবে এইটা ভেবে কিন্তু ভাইয়া মৃত্যুর সময় বলে যায় সম্পত্তি তোর নামে নেই আঠারো বছর হলে পর তোর নামে হবে আর এর আগে তুই মারা গেলে সম্পত্তি সব এতিমখানায় ডোনেট হয়ে যাবে
আমি: এজন্যই আমাকে খুন না করে এতো আদর যত্ন দিয়ে বড় করেছ
চাচ্চু: (নিশ্চুপ)
আমি: অন্য সব সম্পত্তি তো আমার নামেই ছিল চাইলেই পেয়ে যাইতা শুধু শুধু তানিসের সাথে অভিনয় করালে কেন আমি এখন তাসিনের সামনে যাবো কিভাবে
চাচ্চু: লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম তাই তোদের যে সম্পত্তি আফজাল চৌধুরীর নামে ছিল সেই সম্পত্তিও ভোগ করতে চেয়েছিলাম
আমি: এজন্য মাঝপথে আমাকে সবার কাছে ছোট করলে,
ছোট মা তোমাকে কি বলবো খুঁজে পাচ্ছি না তুমি কিভাবে পারলে আমার পেটে বাচ্চা জেনেও আমাকে বিষ খাওয়াতে তুমি তো মায়ের জাত আর একজন নারী কে মা হওয়া থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিলে কিভাবে লোভ তোমাদের এতোই অন্ধ করে দিয়েছে
ছোট মা: তোর সব সম্পত্তি আমরা ভোগ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু যখন বুঝতে পারি তুই মা হতে যাচ্ছিস তখন থেকেই তোকে মারার চিন্তা করি কারন বাচ্চা হলে তো সব সম্পত্তি ওর নামে হয়ে যাবে তাই….
আমি: তাই নিজের মেয়ের মতো অরনী কে বিষ খাওয়াতে তোমার হাত কাঁপল না, মায়ের জাত তো এতো খারাপ হয় না তুমি কিভা…..
ছোট মা: অরনী মা আমাদের ক্ষমা করে দে
আমি: তোমাদের সাথে কথা বলতেও আমার এখন ঘৃনা হচ্ছে, পাপ করলে শাস্তি পেতেই হয় জেলে থেকে এখন সম্পত্তি ভোগ করো
চাচ্চু: অরনী শুন মা….
আমি: প্লিজ তোমাদের এই মুখে আমাকে আর মা বলে ডাকবা না, আর হ্যা আমি তো তোমাদের মা বাবা জানতাম সন্তান হয়ে মা বাবা কে ঘৃনা করি কিভাবে আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি কিন্তু যে পাপ করেছ তার শাস্তি হিসেবে তো বাকি জীবনটা জেলে কাটাতে হবেই, ভালো থেক আসি
চাচ্চু অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে কিছু করার নেই পাপ করেছে শাস্তি পাবে, ওদের সামন থেকে চলে আসলাম যতো বেশি সময় ওদের দেখবো ততোই কষ্ট বেশি হবে, নিজের মা বাবা কে তো হারালাম আজ চাচ্চু আর ছোট মা কেও হারালাম, আব্বু আম্মু কে হারিয়ে চাচ্চু আর ছোট মা কেই আব্বু আম্মু জানতাম আর আজ….
তিথি: ভাবি কি হয়েছে এলোমেলো ভাবে হাটছ কেন পরে যাইবা তো
আমি: হুম (কিভাবে বাবা মার কাছে আসলাম বুঝতে পারিনি মাথা ঘুরছে)
বাবা: বড় বৌমা ওকে ধরে ধরে গাড়িতে নিয়ে বসাও

গাড়িতে বসে আছি তাসিন হয়তো বাসায় আছে আমার উপর রাগ করে হয়তো হসপিটালে আসেনি কিন্তু আমি তাসিনের সামনে যাবো কিভাবে কি বলবো ওকে
তিথি: ভাবি চলো বাসায় চলে এসেছি
আমি: হুম
বাসায় ঢুকতে ভয় হচ্ছে তাসিনের সামনে যাবো কিভাবে তাসিন কি অবনী কে ভুলে আমাকে আবার ভালোবাসবে….?

বাসার চারদিকে চোখ বুলাচ্ছি কিন্তু তাসিন তো নেই ও কি জানেনা আমি যে বাসায় আসবো
ভাবি: অরনী কাকে খুঁজছ
তিথি: ভাবি হয়তো ভাইয়া কে খুঁজছে
বাবা: তাসিন তো….
ভাবি: বাবা আমি বলছি, অরনী তাসিন আজ লন্ডন চলে যাচ্ছে অবনীর সাথে
আমি: মানে
ভাবি: ওদের ফ্লাইট বারোটায় আজে এগারোটা
আমি: কি বলছ ভাবি
ভাবি: এখনো সময় আছে যা ওরা হয়তো এয়ারপোর্ট এই আছে
আমি: কিন্তু এতো কম সময়ে কিভাবে এয়ারপোর্ট যাবো
ভাবি: তাহলে বসে থাক তাসিন অবনীর হয়ে যাক
আমি: না না আমি যাবো
মা: কিন্তু এই শরীর নিয়ে
ভাবি: মা ওকে যেতে দিন ভয় নেই তাসিন ওখানে আছে

আর কিছু না শুনে দৌড়ে এসে গাড়িতে বসলাম ড্রাইভার কে তাড়াতাড়ি এয়ারপোর্ট যেতে বললাম, ভয় হচ্ছে যদি তাসিন চলে যায়
সময় যেন খুব দ্রুত যাচ্ছে কিন্তু রাস্তা যেন শেষ হতে চাচ্ছে না…..

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২৩

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২৩

লেখিকা: সুলতানা তমা

সকালে ফোনের রিংটোনে ঘুম ভাঙ্গলো চোখ বন্ধ রেখেই ফোন রিসিভ করলাম
–হ্যালো
–অবনী বলছি
–তুমি আমার ফোনে…
–তোমাকে সাবধান করার জন্য
–মানে
–ভালো করে শুনো অরনী তাসিন তোমাকে নয় আমাকে ভালোবাসে তুমি ওর স্ত্রী ওর পরিবারের ভয়ে শুধু তোমাকে ভালোবাসার অভিনয় করে যাচ্ছে আর ও বলেছে তোমাকে খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স দিয়ে আমাকে ওর বউ করে নিবে
–কি বলছ এসব (তাড়াতাড়ি উঠে বসতে গিয়ে খেয়াল করলাম নিজের শরীরের দিকে রাতের কথা একটু একটু মনে পরছে)
–যা সত্যি তাই বলেছি তাসিন তোমাকে বুকে নিয়ে ঘুমালেই ভেবো না ও তোমাকে ভালোবাসে ও সব অভিনয় করছে বুঝনা পুরুষ জাত নারীর স….
–অনেক বলেছ অবনী এবার চুপ করো
ফোনটা কেটে দিলাম রাগে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে তাসিন ভালোবাসে অবনী কে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার চিন্তা করছে আবার আজ আমার সাথে ছি তাসিন আমার সাথে এতো বড় প্রতারণা করতে পারলো, আমার সব শেষ করে দিয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছে ছাড়াচ্ছি তোর ঘুম
–তাসিন
–কি হয়েছে অন্নি (আমার চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি উঠলো)
–কি হয়েছে বুঝতে পারছ না কেন করলে এমন
–অন্নি কি বলছ কিসের কথা বলছ
–আমার অর্ধনগ্ন শরীর দেখেও কি বুঝতে পারছ না কি হয়েছে
–দেখ অরনী আমি কখনো তোমার অনুমতি ছাড়া তোমাকে স্পর্শ করতে চাইনি কিন্তু কাল নেশার ঘোরে…
–নেশার ঘোরে
–হ্যা আমি পরে বুঝতে পেরেছি ডাবের মধ্যে নেশা জাতীয় কিছু মেশানো ছিল
–আমার ডাবেই কেন নেশা জাতীয় জিনিস থাকবে আমি বুঝেছি এইটা তোমার কাজ নাহলে অবনীর কারন আমি অবনী কে কাল ডাব বিক্রেতার পাশে দেখেছিলাম
–কি বলছ
–হ্যা অবনী ছিল এইটা তোমাদের দুজনের প্ল্যান করা ছিল
–অরনী তুমি কিন্তু ভুল বুঝছ
–কোনটা ভুল ভালোবাসবা অবনী কে আর বিছানায় নিবা আমাকে বাহ্ তাসিন চৌধুরী বাহ্
–অরনী বেশি বলে ফেলছ
–অনেক হয়েছে তাসিন চৌধুরী আর না আমি তোমার বাবার উপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম তাই তুমি উল্টো আমার উপর প্রতিশোধ নিলে
–কি বলছ এসব
–আমি চাচ্চুর কাছে চলে যাচ্ছি সময় হলে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিব সাইন করে দিও
–অরনী আমার কথা শুনো প্লিজ
–তোমাকে অবনীর করে দিয়ে গেলাম ভালো থেকো
–অরনী আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি আমার কথা তো শুনবা প্লিজ
–আর একটা কথা বলবা তো তোমার চোখের সামনে সুইসাইড করবো
–মানে
–যা করেছ সুইসাইড করতেই ইচ্ছে হচ্ছে

তাসিন আর কোনো কথা না বলে চুপ করে বিছানায় বসে রইলো আমি ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ নিয়েই বেরিয়ে পরলাম, থাক তুই অবনী কে নিয়ে তোর মতো প্রতারক কে ভালোবাসার চেয়ে একা থাকা ভালো

গাড়িতে বসে আছি চাচ্চুর কাছে চলে যাবো ওদের মতো খুনি প্রতারকদের কাছে না থেকে চাচ্চুর কাছে থাকাই ভালো

কখন থেকে কলিংবেল বাজিয়ে যাচ্ছি কেউ দরজা খুলছে না মাথা এমনি গরম হয়ে আছে আবার…. যাক দরজা খুলেছে
–কিরে অরনী তুই
–ছোট মা দরজা খুলতে এতোক্ষণ লাগে
–আমি রান্না করছিলাম কি হয়েছে রেগে আছিস কেন
–কিছুনা রেস্ট নিতে দাও
–তার আগে বল বিয়ের পর একবারো আমাকে দেখতে আসলি না কেন লুকিয়ে তো আসা যায়
–তাসিন সারাক্ষণ আমার পিছনে লোক লাগিয়ে রেখেছিল কিভাবে আসবো
–আচ্ছা ফ্রেশ হয়ে নে আমি খাবার দিচ্ছি
–আচ্ছা

খেতে বসেছি কিন্তু খাবার গলা দিয়ে নামছে না তাসিন কে খুব মিসস করছি
–অরনী কি হয়েছে বলতো
–কিছু না ছোট মা আমি এখন থেকে এখানেই থাকবো আর কে আম্মু আব্বুর খুনি সে প্রমান আমার কাছে আছে সময় হলেই তাদের শাস্তি দিবো
–প্রমান আছে
–হ্যা চমকে উঠছ কেন
–প্রমান আছে কখনো তো বলিসনি আর যদি প্রমান থেকেই থাকে তাহলে তাসিন কে বিয়ে করেছিলি কেন
–তাসিন কে বিয়ে না করলে প্রমান পেতাম না
–তাসিন কে ডিভোর্স কবে দিবি
–(নিশ্চুপ)
–তুই কি তাসিন কে ভালোবাসিস
–জানিনা এসব বাদ দাও তো
–হুম আচ্ছা তুই এখানেই থাক সমস্যা নেই
–হুম

দুই মাস পর…..
বারান্দায় বসে বসে সন্ধ্যার আকাশ দেখছি এই সময়ে আমার মন খুব খারাপ থাকে এই সময়টায় তাসিন কে খুব মিসস করি ওর দুষ্টুমি গুলো খুব মিসস করি, আজ দুইটা মাস হয়ে গেলো তাসিনের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই সেদিন রাগে সিম চেঞ্জ করে ফেলেছিলাম তাসিনও আর আমার খুঁজ নেয়নি, এই দুইটা মাসে তাসিন কে কতোটা মিসস করেছি বুঝাতে পারবো না কিন্তু ও হয়তো সুখে আছে অবনী কে নিয়ে, উফফফ মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে ইদানীং কি যে হলো শুধু মাথা ঘুরায়, বিছানায় এসে শুয়ে পরলাম
–কিরে অরনী এই সন্ধাবেলায় শুয়ে আছিস
–মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে ছোট মা
–তোর কি হয়েছে বলতো কয়েকদিন ধরেই দেখছি ঠিক মতো খাবার খাচ্ছিস না শুধু শুয়ে থাকিস
–জানিনা কি হয়েছে
–সত্যি করে বলতো তাসিনের সাথে কি….
–মা বাদ দাও তো এসব
–হুম বুঝেছি দাড়া আমি আসছি

ছোট মা চলে গেলো আমি নিজেই তো জানিনা আমার কি হয়েছে
–অরনী এই দুধ টুকু খেয়ে নে
–আমি তো দুধ খাই না
–শরীরের যা অবস্থা করেছিস দুধ না খেলে হবে খেয়ে নে
–তোমার সাথে তর্ক করে লাভ নেই দাও খাচ্ছি ( ছোট মা জিদ করবে তাই একটানে সবটুকু দুধ খেয়ে নিলাম)
–ছোট মা তুমি আমাকে কি খাইয়েছ এইটা দুধ নাকি বিষ আমার গলা জ্বলে যাচ্ছে পানি দাও
–মারার জন্য বিষ খাইয়েছি কি এখন আবার বাঁচানোর জন্য
–তুমি…
–হ্যা তুই বলেছিস না প্রমান আছে তুই বেঁচে থাকলে তো আমাদের জেলে যেতে হবে
–তারমানে তোমরা আব্বু আম্মুকে খুন করেছ
–হ্যা ভেবেছিলাম তোর সব সম্পত্তি আমাদের হবে কিন্তু এখন বুঝেছি তুই মা হতে যাচ্ছিস এখন তো তোর সব সম্পত্তি তোর সন্তানের হবে তাই মা সন্তান দুটুই মর এক ডিলে দুই পাখি সাথে সব সম্পত্তি আমাদের
তাসিন ঠিকি বলেছিল আসল খুনি কে জানলে আমার সহ্য হবে না বিষের যন্ত্রনায় এতোটা কষ্ট হচ্ছে না যতোটা কষ্ট হচ্ছে চাচ্চু খুনি শুনে, আমার সন্তানটাও ওদের জন্য পৃথিবীর আলো দেখতে পেলো না, আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ছোট মার হাসি দেখতে পেলাম সাথে কানে বাজছে কে যেন অন্নি অন্নি বলে ডাকছে হয়তো মরার সময় তাসিন কে মিসস করার কারনে ডাকটা কানে বাজছে
আস্তে আস্তে চোখ দুইটা অন্ধকার হয়ে আসলো আমি মাটিতে লুটিয়ে পরলাম…..

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২২

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২২

লেখিকা: সুলতানা তমা

সকালে অবনীর চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভাঙ্গলো, তাসিন এখনো আমাকে বুকে জরিয়ে ধরে রেখেছে, অবনীর চেঁচামেচি শুনে আমাকে ছেড়ে তাসিন দরজা খুলতে গেলো, আমি বিছানায় উঠে বসলাম দেখি কি হয় অবনী এতো রেগে আছে কেন, তাসিন দরজা খুলতেই অবনী তাসিন কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে রুমের ভিতরে এসে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো
তাসিন: কি হয়েছে অবনী
অবনী: কয়টা বাজে
তাসিন: জানিনা
অবনী: জানবে কিভাবে এতোক্ষণ ধরে তো ঘুমেই
তাসিন: তো কি করবো
অবনী: কি করবা মানে তুমি এই মেয়ের সাথে এক রুমে এতোক্ষণ ঘুমাবা কেন (এখন বুঝলাম কেন এতো রেগে আছে)
তাসিন: আজব তো অরনী আমার স্ত্রী ওর রুমে ঘুমাবো নাতো কোথায় ঘুমাবো
অবনী: তুমি তো বলেছ ওকে ডিভোর্স দিয়েই আমাকে বিয়ে করবা (ডিভোর্স শব্দটা শুনেই মাথা ঘুরতে শুরু করলো, আমি তো তাসিন কে ডিভোর্স দিতে চাই না আমি তাসিন কে ভালোবাসি)
তাসিন: সেটা সময় হলে দেখা যাবে
অবনী: তারমানে তুমি আমাকে বিয়ে করবে না (বলেই কাঁদতে শুরু করলো)
তাসিন: অবনী শু….
তাসিনের কথা না শুনেই অবনী কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো তাসিনও পিছন পিছন গেলো, আমি পাথরের মূর্তির মতো বিছানায় বসে আছি, অবনী ডিভোর্স এর কথা বলেছে ওদের বিয়ের কথা বলেছে তারমানে তাসিন অবনী কে কথা দিয়েছে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অবনী কে বিয়ে করবে, কিন্তু আমি তাসিন কে ভালোবাসি অনেক বেশি ওকে হারাতে পারবো না আমি ডিভোর্স চাইনা, তাসিনের পাশে অন্য মেয়ে কে আমি সহ্য করতে পারবো না
–এই অন্নি কাঁদছ কেন (তাসিন এসে আমার পাশে বসে দু গালে আলতো করে ধরে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে)
–আমাকে আর কখনো অন্নি বলে ডাকবা না
–কষ্ট হচ্ছে
–(নিশ্চুপ)
–আমি দুজনকেই ভালোবাসি এখন তোমাদের মাঝে যে আমাকে বেশি ভালোবাসে আমি তার হবো
–মানে
–হুম এখন তুমি প্রমান করো অবনীর চেয়ে বেশি ভালোবাস আমাকে
–(এইটা কেমন কথা কিভাবে প্রমান করবো আর ভালোবাসা প্রমান করা যায় নাকি)
–কি হল কি ভাবছ
–কিছুনা
–তাহলে প্রস্তুত হয়ে যাও ভালোবাসা প্রমান করার
তাসিন বেরিয়ে গেলো এখন কি করবো ভালোবাসা প্রমান করে কিভাবে আমি তো জানিনা তাহলে কি তাসিন অবনীর হয়ে যাবে
শিলা: অরনী আসবো
–আয়
–কি ভাবছিস
–আচ্ছা ভালোবাসা প্রমান করে কিভাবে
–সময় হলে বুঝতে পারবি এখন চল নাস্তা করবি
–হুম

শিলা আর আমি একাই নাস্তা করছি তাসিন কে কোথাও দেখছি না অবনীও নেই
–কিরে কি খুঁজছিস
–তাসিন নাস্তা করবে না
–অবনী কে নিয়ে ঘুরতে গেছে
–হুম
–মন খারাপ না করে ভাইয়া কে নিয়ে ঘুরতে যা দেখিস ভাইয়া অবনী কে ভুলে যাবে
–সত্যি
–হুম
–ঠিক আছে তাসিন আসলেই যাবো

রুমে পায়চারী করছি আর তাসিনের জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু ও আসার নাম নেই, এই প্রথম ওর সাথে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে হলো কিন্তু ও আসার নাম নেই আমাকে অপেক্ষা করাচ্ছে, আচ্ছা ফোন দিলে কেমন হয় রাগ করবে না তো, রাগ করবে কেন তাসিন তো আমাকে ভালোবাসে ফোন দিয়েই দিলাম
–অরনী বল
–কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি আসো
–কেন কি হয়েছে
–আগে আস তো
–আচ্ছা দশ মিনিটের ভিতরে আসছি
–ওকে
ফোন রেখে ভাবছি তাসিনের সাথে যখন এই প্রথম নিজের ইচ্ছায় ঘুরতে যাবো তাহলে ওর পছন্দের শাড়ি পরলে কেমন হয়, ভাবতে ভাবতেই শাড়িটা বের করে পরতে শুরু করলাম

মাত্র দশ মিনিটে নিজেকে তাসিনের মনের মতো সাজিয়ে নিলাম তাসিন দেখলে খুব খুশি হবে, হঠাৎ দরজায় ঠোকা পরলো, দরজা খুলে দেখি তাসিন আর অবনী হাপাচ্ছে
তাসিন: কি হয়েছে অরনী
আমি: কিছু নাতো
তাসিন: তাহলে এভাবে আসতে বললে যে
আমি: আমি ঘুরতে যাবো তাই
তাসিন: ঘুরতে যেতে চাও এইটা কি ফোনে বলা যেতো না আমি কতোটা ভয় পাইছিলাম জানো আমি তো ভেবেছিলাম তোমাকে….
অবনী: তাসিন চুপ করো
আমি: কি বলো
তাসিন: কিছুনা চলো ঘুরতে নিয়ে যাই
অবনী: তাসিন তোমার কি মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে ঘুরতে যাবা মানে (তাসিন কিছুক্ষণ অবনীর দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর কি যে হলো ও আমার দিকে রাগি চোখে তাকালো)
অবনী: তাসিন ঘুরতে যাবে না
আমি: সত্যি তাসিন যাবে না তুমি
তাসিন: না
আমি: ওহ অবনীর কথায় এখন আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে না ঠিক আছে আমি একাই যাবো
তাসিন: এই রুম থেকে তুমি বেরুতে পারবে না চুপ করে রুমে বসে থাকো
আমি: মানে কি
তাসিন: যা বলেছি তাই কর
তাসিন বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে চলে গেলো, কি হলো এইটা তাসিন অবনীর কথায় আমাকে ঘুরতে নিয়ে গেলো না

জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম সন্ধ্যা নেমে এসেছে, আজ সারাদিন তাসিন আমাকে রুমে বন্দি করে রেখেছে, কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুইটা ফুলে গেছে, আচ্ছা ও আমার সাথে এমন করছে কেন…..?

হঠাৎ দরজা খুলার শব্দ পেলাম ভেবেছিলাম তাসিন এসেছে কিন্তু নাহ শিলা এসেছে
শিলা: অরনী চল
–কোথায়
–সারাদিন তো রুমে ছিলি একটু ঘুরে আসি
–যাবো না
–আরে ভাইয়া নিয়ে যায়নি তো কি হয়েছে আমি নিয়ে যাবো চল হাটলে ভালো লাগবে
–হুম

শিলা আর আমি সমুদ্রপারে হাটছি হঠাৎ তাসিন সামনে এসে দাঁড়াল
তাসিন্ন: শিলা অবনী একা হোটেলে তুমি চলে যাও আমি অরনী কে নিয়ে আসবো
শিলা: ঠিক আছে
(শিলা চলে গেলো তাসিন যে কি আগে হলে আসে না আর এখন শিলা কে বিদায় করে দিল)
–অন্নি রেগে আছ
–(নিশ্চুপ)
–চলো ওখানে বসি (কিছু না বলে চুপচাপ এসে বালুর মধ্যে বসে পরলাম, হঠাৎ ডাব দেখে খেতে ইচ্ছে হলো পানি পিপাসাও ধরেছে)
–ডাব খাবো
–তুমি বস আমি নিয়ে আসছি

একটু পর তাসিন খালি হাতে আসলো
–একটু অপেক্ষা করো ডাব নিয়ে আসবে
–তুমি আননি কেন
–এগুলো নাকি ভালো না
–কি যে বলো
কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে ডাব দিয়ে গেলো খাচ্ছি আর চারদিকে চোখ বুলাচ্ছি হঠাৎ ডাব বিক্রেতার কাছে অবনীর মতো কাউকে দেখলাম আমার চোখ পরতেই সরে গেলো, অন্ধকারে বেশি বুঝতে পারিনি
–তাসিন এইটা কি ডাব নাকি অন্য কিছু আমার মাথা ঘুরছে কেন
–আমারো তো একি অবস্থা মাথা ঘুরছে খুব, অন্নি হোটেলে চলো তুমি এখানে পরে গেলে বিপদ হবে

তাসিন কে ধরে ধরে হোটেলে আসলাম এসেই বিছানায় শুয়ে পরলাম তাসিনেরও একি অবস্থা, মাথা ঘুরছে কেমন যেন নেশা নেশা লাগছে, হঠাৎ তাসিন এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো ওর চোখের দিকে তাকালাম কেমন যেন নেশা ধরে যাচ্ছে, তাসিন আমার কপালে ঠোটে গলায় একের পর এক মায়া দিয়ে যাচ্ছে আজ আর ওকে আটকাতে ইচ্ছে হচ্ছে না আমিও তাসিন কে জরিয়ে ধরলাম…..

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২১

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২১

লেখিকা: সুলতানা তমা

–বাহ্ বাহ্ এই তাহলে তোমার আসল পরিচয় (কথাটা শুনে তাসিন আমাকে দূরে সরিয়ে দিল, দরজায় তাকিয়ে দেখি অবনী রাগি চোখে তাকিয়ে আছে)
অবনী: যদি ওকেই ভালোবাস তাহলে আমার সাথে অভিনয় করেছ কেন
তাসিন: (নিশ্চুপ)
অবনী: তুমি তো বলেছিলে ওকে ভালোবাস না তাহলে এখন কেন…
তাসিন: অবনী আমার কথা শুনো প্লিজ
অবনী: কি শুনবো হ্যা আর তুমি কেমন মেয়ে প্রথমে নিজের স্বামী কে ভালোবাসনি এখন যেই আমি ওকে ভালবেসেছি ওমনি ভালোবাসতে শুরু করেছ
তাসিন: অবনী চুপ করবা
আমি: তাসিন ওকে বলতে দাও
অবনী: যে মেয়ে নিজের স্বামী কে ভালোবাসে না অন্য মেয়ের ভালোবাসা কেড়ে নেয় তাকে আমার আর কিছু বলার নেই
আমি: অবনী অনেক বলেছ এবার থাম আমি ওকে ভালোবাসতাম না আমার ভালোবাসা পাবার জন্য ও অনেক কিছু করেছে আর তোমার সাথে রিলেশন হবার পরও যদি ও আমাকে ভালোবাসি বলে তাহলে সেটা কি আমার দোষ, শুনো কারো ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই তোমার তাসিন তোমারই আছে
তাসিন: অরনী শু…
আমি: তাসিন এই রুম থেকে বেরিয়ে যাও আর কখনো আমার রুমে আসবা না
তাসিন: অরনী আমার কথা তো শুনবা
আমি: তুমি যদি এক্ষণি এই রুম থেকে না বের হও আমি উল্টাপাল্টা কিছু করে বসব
তাসিন: ঠিক আছে যাচ্ছি

জানালা দিয়ে সমদ্রের বুকের চাঁদ দেখছি আর ভাবছি এই চাঁদটার মতো তো আমিও একা মা নেই বাবা নেই এতোকিছুর পর তাসিন কে ভালোবাসলাম সেও এখন অন্য কারো
শিলা: অরনী দরজা খুল খাবি চল (সেই সন্ধ্যা বেলায় তাসিন রুম থেকে বেরুনোর পর দরজা বন্ধ করেছিলাম আর ওদের সামনে যাইনি, দরজা খুলে বিছানায় এসে বসলাম শিলাও এসে বসলো)
শিলা: অরনী খাবি না সারাদিন ধরে তো কিছুই খাইছিস না
–হুম
–এখন আর ভেবে লাভ নেই ওদের কে ওদের মতো থাকতে দে আর নিজেকে অজতা কষ্ট দিস না খেতে চল
–হুম চল

শিলার পিছু পিছু দরজার বাইরে আসতেই দেখি তাসিন আর অবনী আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এই মেয়ের সাথে একসাথে বসে খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না তাও যেতে হবে কিছু করার নেই, ওদের পিছু পিছু হাটছি
আমি: শিলা আমরা কোথায় যাচ্ছি
তাসিন: পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে ওখানের খাবার নাকি খুব ভালো তা….
আমি: আমি কি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি
তাসিন: হাহাহাহা শিলা নিজেই তো জানেনা কোথায় খেতে যাচ্ছে
আমি: (উফফফফফ অসহ্য)
তাসিন: কিছু বললে
আমি: না

কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কি খেতে এসেও অবনীর অপর সিটে বসতে হলো আমার খাওয়া যে আর হবে না বুঝে গেছি
তাসিন: কি হলো অরনী খাচ্ছ না কেন
আমি: (বাহ্ এখন আর অন্নি ডাকা হয় না)
শিলা: কি ভাবছিস খেয়ে নে
আমি: আমার ভালো লাগছে না খাবো না আমি বরং রুমে যাই
তাসিন: না খেয়ে এখান থেকে যেতে পারবে না
আমি: তোমার কথা শুনব কেন
তাসিন: অরনী
আর কিছু না শুনে চলে আসলাম অবনীর সামনে বসে খাবার খাওয়ার চেয়ে না খাওয়া ভালো, রুমে এসেই শুয়ে পরলাম

উফফফ সকালে তাড়াহুড়ো করে অল্প খেয়েছিলাম সারা দিন কিছুই খাইনি এখন তো খিদায় ঘুম আসছে না
–অরনী দরজা খুলো (আবার তাসিন এসেছে অসহ্য)
–কেন
–আমার কি ঘুমাতে হবে না নাকি
–অন্য কারো রুমে গিয়ে ঘুমাও আমার রুমে কেন
–দরজা খুলো বলছি
দরজা খুলে দিয়ে এসে দফ করে বিছানায় বসে পরলাম, তাসিন পিছন থেকে হাত এনে আমার সামনে ধরলো হাতে খাবারের প্যাকেট
–খেয়ে নাও
–খাবো না
–অরনী এতো জিদ ভালো না খিদায় তো এতোক্ষণ ধরে ছটফট করতেছ চুপ করে খেয়ে নাও
–না
–ঠিক আছে
তাসিন খাবারের প্যাকেট বিছানায় রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলো

ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বললো
–অরনী তোমার লাইব্রেরীর কথা মনে আছে
–কেন
–লাইব্রেরী তে যা ঘটেছিল এখন তাই ঘটবে
–মানে কি
–তুমি তো খাবার খাবে না কিন্ত তোমার খিদা তো আছে স্বামী হয়ে তোমাকে না খাইয়ে রাখি কিভাবে তাই আমার ঠোট খাওয়াবো তোমাকে
–তাসিন ভালো হবে না কিন্তু
–কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সেটা আমি বুঝি
তাসিন ভেজা তোয়ালে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিলো তারপর আমার দিকে এগুতে শুরু করলো, তাসিনের ঠোট আমার ঠোটের একদম কাছে
–তাসিন আমি খাবো
–ঠোট তো তোমার ঠোটের একেবারে কাছে খেয়ে নাও
–আমি খাবার খাবো বলেছি
–অরনী তুমি না একদম রোমান্স বুঝনা এই সময়ে কেউ কথা বলে, আমার ইচ্ছে হচ্ছে আমি এখন খাবো
–তাহলে আমি খাবার খাবো না কান্না করবো (যাক এই কথায় কাজ হয়েছে তাসিন দূরে সরে গেলো)
–এদিকে এসো আমি খাইয়ে দিচ্ছি
–লাগবে না আমি খেতে পারি
–আসো নাহলে অর্ধেক রোমান্স হয়েছে বাকিটা পূরন করে ফেলবো
ওকে বিশ্বাস নেই আবার এমন করতে পারে তাই কোনো কথা না বলে চুপচাপ বসে রইলাম, তাসিন নিজের হাতে খুব যত্ন করে খাইয়ে দিচ্ছে আমি মুগ্ধ হয়ে ওকে দেখছি
–এভাবে চেয়ে থেকো না কপালে কালো টিপ নেইতো নজর লেগে যাবে হাহাহাহা
তাসিনের কথায় লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম

খাওয়া শেষ করে বিছানায় বসে আছি ভাবছি আমি সোফায় ঘুমাবো নাকি তাসিন কে বলবো
–অরনী ঘুমাতে আসো
–মানে কি এক বিছানায় ঘুমাবো নাকি আমি সোফায় ঘুমাবো
–আসবা নাকি আবার শুরু করবো
–না না আসছি

বিছানার এক পাশে চুপ করে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে রইলাম কতোদিন যে এভাবে ঘুমাতে হবে আল্লাহ জানেন কেন যে কক্সবাজার এসেছিলাম, অবশ্য কক্সবাজার আসাতে লাভ হয়েছে তাসিন কে যে আমি ভালোবাসি এইটা বুঝতে পেরেছি কিন্তু অবনী
–অরনী এভাবে শুয়ে আছ কেন
–এমনি
–এদিকে আসো
তাসিন আমাকে টেনে ওর বুকে নিয়ে জরিয়ে ধরলো
–তাসিন ছাড় আমাকে
–কেন আমার বুকে ঘুমাতে ভালো লাগছে না
–আমি কিন্তু অবনী কে বলে দিবো
–তাই না বলাচ্ছি তোমাকে (তাসিন আমার মাথায় জোরে চেপে ধরে ওর দিকে ঘুরালো তারপর আমার ঠোট খেতে শুরু করলো, ওকে তো সহজে আমি ছাড়াতেও পারি না দম বন্ধ হয়ে আসছে, অনেক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে হাসতে শুরু করলো)
–এখন থেকে আমার কথা না শুনলেই তোমার মিষ্টি ঠোট দুইটা খাবো
আর কিছু না বলে চুপচাপ তাসিনের বুকে শুয়ে আছি, তাসিন একহাত দিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরে রেখেছে আর একহাত দিয়ে আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে

এভাবে তাসিনের বুকে ঘুমাতে তো আমিও চাই, আমি তো চাই তাসিন শুধু আমার হউক কিন্তু আমাদের মধ্যে যে এখন অবনী দেয়াল হয়ে দাড়িয়ে আছে, আচ্ছা তাসিন যদি আমাকেই ভালোবাসে তাহলে অবনী কে বলে ওকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে না কেন……

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ২০

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ২০

লেখিকা: সুলতানা তমা

ট্রেনে বসে আছি শিলা আর আমি পাশাপাশি বসেছি আর তাসিন অবনী কে নিয়ে আমাদের সামনের সিটে বসেছে, অবনী জানালার পাশে বসেছে ওর শাড়ির আচল বার বার তাসিনের মুখে গিয়ে পরছে কিন্তু তাসিন বিরক্ত হচ্ছে না উল্টো অবনীর হাত ধরে বসে আছে উফফফ দেখতে খুব অসহ্য লাগছে কোথাও যেন খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে, এই দৃশ্য দেখতে ভালো লাগছে না তাই জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলাম, হঠাৎ মনে পরলো কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনলেই তো ওদের দিকে মন যাবে না, ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে গিয়ে ওদের দিকে চোখ পরলো আমি তাকিয়েছি দেখেই অবনী একটা হাসি দিয়ে তাসিনের কাধে মাথা রাখলো উফফফ অসহ্য, তাড়াতাড়ি হেডফোন কানে গুঁজে দিয়ে চোখ বন্ধ করলাম, অবনী কে সহ্য হচ্ছে না কেন আমি তো চেয়েছিলাম তাসিন আমাকে ভুলে অন্য কাউকে ভালোবাসুক তাহলে আজ সহ্য করতে পারছি না কেন এতো কষ্ট হচ্ছে কেন

এই অরনী গাড়িতেই বসে থাকবি নাকি নামবি
–হুম চলে এসেছি
–হ্যা সারাটা রাস্তা তো ঘুমিয়েই আসলি
–(এটাই ভালো হয়েছে ওদের কে দেখতে হলো না সহ্যও করতে হলো না)
–কি ভাবছিস নাম
–হুম

বড় একটা হোটেলের সামনে এসে তাসিন দাঁড়ালো এতোক্ষণের ভিতরে ও এখন আমার দিকে একবার তাকালো আমি মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালাম অজতা কারো প্রেমে বাদা হওয়ার ইচ্ছা আমার নেই,
–অরনী (তাসিনের ডাকে হুশ ফিরলো ভাবনার জগতে এতোটাই হারিয়ে গিয়েছিলাম যে কখন ওদের পিছু পিছু রুমের সামনে চলে এসেছি বুঝতেই পারিনি)
–হুম
–এই রুমে আমরা দুজন আর পাশে রুমে শিলা আর অব….
–আমি শিলার সাথে থাকবো
–তাহলে অবনী
–তোমার সাথে থাকবে
–রুমে চলো (বলেই আমার হাত ধরে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসলো)
–এই অরনী তোমার সমস্যাটা কি বলতো
–কিসের সমস্যা
–অবনী কি আমার বিয়ে করা বউ নাকি যে এক রুমে থাকবো
–হিহিহি
–হাসছ কেন
–ঘন্টার পর ঘন্টা হাত ধরে থাকা যায় কাধে মাথা রাখা যায় আর এক রুমে থাকতে গেলেই বিয়ে হয়নি
–তারমানে তুমি সব লক্ষ করেছ আর হিংসা করছ
–মোটেই না
–বুঝা যাচ্ছে তো
–বুঝলে ভালো
তাসিন হাসছে আর কথা না বাড়িয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম

ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি অবনী আমাদের রুমে তাও খাটের উপর তাসিনের কাধে মাথা রেখে হেসে হেসে কথা বলছে, এখন আর রাগটা কন্ট্রোল করতে পারলাম না
–তাসিন
–চেঁচাচ্ছ কেন
–তোমার যদি এসব করার ইচ্ছে ছিল আমার রুমে এসেছ কেন এক্ষণি এই রুম থেকে বের হও আর শিলা কে পাঠিয়ে দাও
–এইটা তোমার একার রুম না আমারো আমার যা ইচ্ছে তাই করবো তাতে তোমার কি
–তাসিন বেড়িয়ে যাও বলছি (ও আমার কথায় পাত্তা না দিয়ে অবনী কে আরো কাছে টেনে নিলো, উফফফ অসহ্য পাশে একটা ফুলের টব ছিল হাতে নিয়ে জোরে ফ্লোরে আছাড় মেরে দিলাম)
–অরনী কি করছ এসব
–বেশ করেছি
–এইটা তোমার বাড়ি না হোটেল এখানে ভাঙচুর করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
–তোমার বাবার তো টাকার অভাব নেই ক্ষতিপূরণ দিবা (তাসিন অবনী কে ইশারা করলো চলে যেতে এতোক্ষণ ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল তাসিনের ইশারা পেয়ে চলে গেল, তাসিন আমার কাছে এসে আমার দুগালে ধরে বললো)
–অরনী শান্ত হও প্লিজ আমার কথা শুনো আমি অবনী কে….
–ভালোবাস তাই তো বাস তাতে আমার কি ওর রুমে গিয়ে যা খুশি করো আমার রুমে কেন
–তুমি কখনো সঠিকটা বুঝবা না
তাসিন রুম থেকে বেরিয়ে গেলো অসহ্য প্রেম করবে তাও আমার রুমে বসে সখ কতো

বিকেল হয়ে গিয়েছে ভাবছি ঘুমাবো তখনি শিলা এসে ডাকতে শুরু করলো
–অরনী খেতে চল
–খাবো না
–সারা রাস্তা তো ঘুমিয়ে কাটাইছিস কিছুই খেলি না এখনো খাবি না
–না খাবো না
–ঠিক আছে আমি ভাইয়া কে বলে খাবার রুমে আনাচ্ছি
–না ওকে কিছু বলিস না
–কেন
–অবনী কে নিয়ে থাকতে দে
–আমি জানি তুই অবনী কে সহ্য করতে পারছিস না এখনো সময় আছে ভাইয়া কে বল তুই ভাইয়া কে ভালোবাসিস
–(নিশ্চুপ)
–অবনী প্লিজ
–বাদ দে তো তুই খেয়ে আয় ঘুরতে যাবো
–তুই না খেয়ে পারবি আমি পারবো না খেয়ে আসতেছি
–হুম

সন্ধ্যা নেমে আসছে শিলা কে নিয়ে বালুচরে হাটছি, তাসিন কে বলেছিলাম আমার সাথে ঘুরতে আসতে ওর নাকি এখন ইচ্ছে হচ্ছে না তাই শিলা কে নিয়ে একাই চলে এসেছি, বালুচরে এদিক সেদিক আনমনে হয়ে হাটছি হঠাৎ একটু দূরে থাকাতেই চোখ আটকে গেলো তাসিন অবনীর হাত ধরে হাটছে মাঝে মাঝে অবনী দৌড়াচ্ছে আর তাসিন দৌড়ে গিয়ে অবনী কে ধরছে
–এই অরনী কি হয়েছে তোর
–হুম কিছুনা
–এখন এসব দেখে কষ্ট পেয়ে কি লাভ হবে বল
–আমি বলেছিলাম আসতে তাসিন বলেছে এখন ওর ইচ্ছে হচ্ছে না আর অবনীর সাথে ঠিকি এসেছে
–এটাই এখন স্বাভাবিক কান্না করছিস কেন
–জানিনা আমি যাই
–একা যাবি নাকি এই অরনী….
শিলার কথা আর না শুনে দৌড়ে হোটেলে চলে আসলাম খুব কষ্ট হচ্ছে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে, রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্লোরে বসে পরলাম কান্না করছি অনেক বেশি কান্না করছি কাঁদলে হয়তো কষ্ট একটু কমবে
–অন্নি দরজা খুলো (হঠাৎ তাসিনের ডাকে কান্না বন্ধ করলাম ও এখানে আসলো কেন ও তো অবনীর সাথে দুষ্টামি করতে ব্যস্ত ছিল)
–অন্নি প্লিজ দরজা খুলো
–(ডাকুক যতো খুশি আজ দরজা খুলবো না)
–অন্নি প্লিজ চুপ হয়ে থেকো না কথা বল প্লিজ দরজা খুলো
–(নিশ্চুপ)
–অন্নি প্লিজ দরজা খুলো নাহলে আমি দরজা ভাঙার ব্যবস্থা করবো (না আর চুপ করে থাকা যাবেনা ও যদি সত্যি দরজা ভেঙ্গে ফেলে)
দরজা খুলে দিতেই তাসিন এক ঝটকায় রুমের ভিতরে ডুকে এদিক সেদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজতে শুরু করলো
–কি খুঁজছ
–আমি তো ভেবেছিলাম….
–আমি সুইসাইড করবো এটাই তো হিহিহি
তাসিন আমার মুখ চেপে ধরলো তারপর কাঁদতে কাঁদতে বললো
–তুমি সুইসাইড করলে আমার কি হবে আমি বাঁচবো কিভাবে
–কেন অবনী আছে না
–প্লিজ চুপ করো আর না অনেক হয়েছে আমি জানি তুমি অবনী কে সহ্য করতে পারছ না এবার অনন্ত স্বীকার করো তুমি আমাকে ভালোবাস
তাসিনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি চুপচাপ কি বলবো সত্যিই তো আমি তাসিন কে ভালোবেসে ফেলেছি, তাসিন আস্তে করে আমাকে ওর বুকে টেনে নিলো, আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছে ও, আজ আমারো ওর বাহুডোরে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে আর কোথাও হারিয়ে যেতে চাইনা তাসিন কেও হারাতে চাই না….

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ১৯

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ১৯

লেখিকা: সুলতানা তমা

তাসিনের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি যতো দিন যাচ্ছে আমার প্রতি যেন ওর ভালোবাসা বেড়েই চলেছে ইদানীং আমারো কেন যেন মনে হয় আমিও তাসিন কে ভালোবাসি কিন্তু অবনী….
তাসিন: কি হলো দূরে সরে গেলে কেন
–অবনী যদি জানতে পারে তোমার উপর রাগ করবে
–(ও কিছু না বলে চুপচাপ বারান্দায় চলে গেলো)

দুজন বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি
আমি: আজকে কলেজে যাওনি কেন
তাসিন: তুমি আসবে তাই
–আমি যে আসবো তুমি জানতে
–তুমি কখন কোথায় যাও বা যাওয়ার প্ল্যান কর সব আমি আগে থেকে জানি তুমি না সত্যি একটা বোকা মেয়ে
–কি রকম
–একবারো ভাবনি আমার অনুমতি ছাড়া হোস্টেল থেকে বেরিয়েছ কিভাবে
–তাই তো
–আমি অনুমতি দিয়ে রেখেছিলাম আর তুমি হোস্টেল থেকে বাসায় আসা পর্যন্ত আমার দুজন লোক তোমার পিছু পিছু এসেছে তুমি লক্ষ করনি
–মানে কি তুমি আমার পিছনে…..
–আমি জানি তোমার নিজের প্রতি কোনো খেয়াল নেই তাই তোমার নিরাপত্তার জন্য আমাকে এসব করতে হচ্ছে (অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ও আমাকে এত্তো ভালোবাসে)
–অরনী জানি তুমি প্রমানের জন্য এসেছ আব্বুকে একটু সুস্থ হতে দাও প্লিজ কথা দিচ্ছি আমিই প্রমান এনে দিব
–হুম

দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে সবার থেকে বিদায় নিয়ে হোস্টেলে চলে আসলাম, বসে বসে গেমস খেলছি
–অরনী পায়েলটা খুব সুন্দর যাই বলিস ভাইয়া তোকে খুব ভালোবাসে
–তাহলে অবনী
–(নিশ্চুপ)
–মেয়েটা কাল যা ইচ্ছে তাই বললো তাও তাসিন চুপ করে ছিল
–বাদ দে না
–উহু বাদ দিবো না আমি আর ক্লাসেই যাবো না
–দুর ভাইয়া তোকেই ভালোবাসে নাহলে কি নিজ হাতে পায়েল পরিয়ে দিত
–এখনো আমাদের ডিভোর্স হয়নি তাই বউ যেহেতু পায়েলটা দিয়েছে
–তুই যে কি
–আমি অরনী হিহিহি
–হাসি বের হবে ভাইয়া কে যখন হারাবি তখন
–ওকে

চার দিন কেটে গেলো এই চার দিনের মধ্যে একদিনও ক্লাসে যাইনি, আশ্চর্যের বিষয় হলো যে তাসিন আমাকে পড়া চুরি করতে নিষেধ করে সে তাসিন চারদিনের মধ্যে একবারো জানতে চায়নি কেন ক্লাসে যাচ্ছি না জানবে কিভাবে ও তো চার দিনের ভিতরে একবারো ফোন দেয়নি, অবশ্য এটাই এখন স্বাভাবিক অবনী আছে না, সবাই বলে তাসিন আমাকে ভালোবাসে এখন দেখেছ ওর ভালোবাসার নমুনা
–অরনী তোর ফোন বাজছে
–কে
–ভাইয়া
–চারদিনে ইচ্ছে হয়েছে
–কোনো সমস্যা ছিল মনে হয়
ফোনটা হাতে নিয়ে ভাবছি রিসিভ করবো নাকি কেটে দিবো, ভাবতে ভাবতেই কেটে গেলো একটু পর মেসেজটোন বেজে উঠলো “অন্নি প্লিজ ফোনটা রিসিভ করো প্রয়োজন আছে” তারপর সাথে সাথে আবার ফোন বেজে উঠলো, আল্লাহ জানেন কিসের প্রয়োজন রিসিভ করলাম
–অন্নি প্লিজ একটা হেল্প করবে
–কি
–আমাদের তো ডিভোর্স হয়েই যাবে ডিভোর্স এর আগে নাহয় একটু হেল্প করো
–বলবা তো কি
–অবনীর খুব ইচ্ছে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবে কিন্তু সাথে আমাকে যেতে হবে
–তো যাও এখানে আমার কি করার আছে
–বাসায় কি বলবো তুমি যদি আমাদের সাথে যেতে
–মানে কি
–বাসায় বলবো তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছি তাহলে কেউ কোনো প্রশ্ন করবে না তোমাকে ছাড়া গেলে তো বুঝই
–তাই বলে…
–অন্নি প্লিজ তুমি চাইলে শিলা কে সাথে নিয়ে যেতে পারো
–ভেবে দেখি
–প্লিজ অন্নি না করো না
–হুম রাখ এখন
ইসস প্রেম করতে যাবে ওরা আর আমি পাহারাদার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই তো আমার
–কিরে অরনী কি বিড়বিড় করছিস
–শিলা কক্সবাজার যাবি
–সত্যি নিয়ে যাবি উফফফ আমার অনেক ইচ্ছে কক্সবাজার যাওয়ার
–আমি তোকে নিয়ে যাবো কিভাবে আমাকেই তো যেতে হবে পাহারাদার হিসেবে
–মানে
–তাসিনের অবনী কক্সবাজার যেতে চায় তাসিন বাসায় কি বলে যাবে তাই সাথে আমাকে যেতে হবে আর আমি চাইলে তোকে নিয়ে যেতে পারি
–ওয়াও অরনী প্লিজ না করিস না আমি যেতে চাই
–কি বলছিস যে মেয়ে আমাকে এতো কথা শুনিয়েছে সে মেয়ের সখ পূরন করতে আমি যাবো কক্সবাজার
–অবনীর ইচ্ছেটা বাদ দে আমার ইচ্ছেটার কথা ভাব (সত্যি তো অবনীর কথা নাহয় বাদ দিলাম কিন্তু শিলা যে যেতে চাচ্ছে)
–প্লিজ অরনী আমার জন্য হলেও চল
–ঠিক আছে যাবো
–থ্যাংক ইউ

তাসিন কে ফোন দিলাম ওয়েটিং হয়তো অবনীর সাথে কথা বলছে, একটু পর তাসিন নিজেই ফোন দিল
–অরনী সরি অবনীর সাথে কথা বলছিলাম জানো মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসে আ…
–কক্সবাজার যাবো
–সত্যি
–হুম
–অবনী শুনলে খুব খুশি হবে
–আমি তোমার অবনীর জন্য যাচ্ছি না শিলার জন্য যাচ্ছি
–তুমি গেলেই হলো তাহলে আমরা আগামীকালই যাই
–এতো তাড়াতাড়ি
–হ্যা অবনীর আবদার তাড়াতাড়ি পূরন করতে চাই
–ভালো
–আমি বাসায় বলে তোমাকে জানাবো
–ঠিক আছে

আচ্ছা তাসিন যে বলেছিল ও ছোটবেলার কথা ভুলতে পারবে না আমাকে ভুলবে কিভাবে কিন্তু এখন তো তাসিন অবনী কে ভালোবাসে তাহলে কি তাসিন ছোটবেলার কথা ভুলে গিয়েছে, হ্যা ভুলাটাই তো স্বাভাবিক তাসিন তো এতোদিন মনে রেখেছে আমার তো কিছুই মনে নেই, আচ্ছা তাসিন ছোটবেলার স্মৃতি ভুলে অবনী কে ভালোবাসলে আমার কি আমার তো খুশি হবার কথা তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হবে কিন্তু আমার এমন লাগছে কেন, অবনী নামটা মনে হলেই কোথাও যেন একটু কষ্ট হয় তাহলে কি আমি তাসিন কে ভালোবেসে পেলেছি
–অরনী সন্ধ্যা বেলায় শুয়ে আছিস কেন
–ভালো লাগছে না
–আমি জানি কেন
–কেন
–অরনী তোকে ছোটবেলা থেকে ভুলের মধ্য দিয়ে বড় করা হয়েছে তাই তোর ভুল ধারনা গুলো ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে এতোটাই বাড়ছে যে এই ভুল ধারনার কারনে তুই তোর ভালোবাসাটা বুঝতে পারছিস না
–(নিশ্চুপ)
–অরনী তুই ভাইয়া কে ভালোবাসিস এটাই সত্যি কিন্তু তুই ভালোবাসা বুঝতে পারতেছিস না প্লিজ অরনী এখনো সময় আছে
–হুম

রাতে তাসিন ফোন করে জানালো বাসার সবাই রাজি সকাল দশটায় যেন শিলা কে নিয়ে রেলস্টেশনে থাকি, রাতেই দুজনের ব্যাগ গুছিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম

সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়ে গেলো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে শিলা কে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম

রেলস্টেশনে পৌঁছে দেখি তাসিন আর অবনী দাঁড়ানো, বাহ্ অবনী আজ তাসিনের পছন্দের নীল শাড়ি পরেছে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে কিন্তু আমার কেন জানি এই মেয়েটা কে সহ্য হচ্ছে না, সত্যিই কি আমি তাসিন কে ভালোবেসে পেলেছি….

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ১৮

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ১৮

লেখিকা: সুলতানা তমা

মাঠের এক কোনে বসে বসে ভাবছি তাসিন কিসের প্ল্যানের কথা বলছিল আবার কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ওর এই কথায় হঠাৎ দেখলাম তাসিন এদিকে আসছে
তাসিন: অন্নি এই নাও তোমার ফোন
আমি: লাগবে না
তাসিন: কেন
আমি: ক্লাসে তো আমাকে না চেনার ভান করেছ আর এইটা তোমার দেওয়া ফোন তাই তুমি নিয়ে গেছ এখন আবার দিচ্ছ কেন
তাসিন: তুমি ক্লাস না করে গান শুনছিলে তাই নিয়েছি রাগ করো না প্লিজ
আমি: লাগবে না তোমার ফোন আর এখান থেকে যাও তোমার অবনী দেখলে রাগ করবে
তাসিন: সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না তুমি ফোনটা নাও শুধু
আমি: আমার ফোন লাগবে না
তাসি: তাহলে আমি তোমার সাথে কথা বলবো কিভাবে
আমি: কোনো প্রয়োজন নেই তো কথা বলার অবনী তো আছেই
তাসিন: (নিশ্চুপ)
আমি: যাও
তাসিন: অন্নি ফোনটা নাও প্লিজ আমি অবনী কে ভালোবাসি কিন্তু তোমার সাথে….
আমি: একসাথে দুই মেয়ের সাথে কথা বলতে চাও
তাসিন: (আমার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে এই সুযোগে ওকে শাস্তি দেওয়া যাক আমাকে না চেনার ভান করে ফোন নিয়ে যাওয়া এবার বুঝবে ঠেলা)
আমি: নিতে পারি এক শর্তে
তাসিন: কি বলো
আমি: কান ধরে উঠবস করো আর বলো আমার গান শুনাতে কখনো ডিস্টার্ব করবা না
শিলা: অরনী পাগল হয়ে গেছিস কি বলছিস এসব এই কলেজের….
তাসিন: শিলা থামো সমস্যা নেই ওর কথায় আমি সব করতে রাজি (বলেই কান ধরে বসতে গেলো)
আমি: তাসিন আমি ফাজলামো করেছি সবাই দেখছে কান ছাড়ো
তাসিন: না
আমি: তাসিন প্লিজ সবাই হাসছে আমি ফাজলামো করেছি ফোন দাও আমি নিচ্ছি
অবনী: তাসিন কি করছ এসব (পাশে তাকিয়ে দেখি অবনী রাগি চোখে তাকিয়ে আছে ওর রাগ দেখে তাসিন কান ছেড়ে সুজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো)
অবনী: এসব কি করছিলে সবাই যে হাসছে দেখেছ ওহ বুঝেছি এই মেয়ের কথায় এসব করেছ
তাসিন: (নিশ্চুপ)
অবনী: এই মেয়ে তোমার নাহয় লজ্জা শরম নাই ও তো এই কলেজের টিচার ওকে কান ধরতে বললা কিভাবে (অবনী আমার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো একদমে বলে ফেললো আমি তো ফাজলামো করেছিলাম তাই বলে এসব বলবে)
তাসিন: অবনী মুখ সামলে কথা বলো অন্নি কে কিছু বলার আগে ভেবে চিন্তে বলো
অবনী: পারবো না তুমি এখন আমার তোমার ভালো মন্দ দেখার দায়িত্বটাও আমার আর ওকে কখনো অন্নি বলে ডাকবা না এতো আদর করে ডাকতে হবে না চলো আমার সাথে

নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি তাসিন চুপচাপ অবনীর সাথে চলে যেতে লাগলো, আবার ফিরে এসে ফোনটা শিলার হাতে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো “নিজের দোষে আমাকে হারিয়েছ আর অন্য মেয়ে তোমাকে এত্তোগুলো কথা শুনানোর সুযোগ করে দিয়েছ” বলেই হনহন করে চলে গেলো, আমি মাঠে বসে পড়লাম আমি ফাজলামো করেছিলাম আর মেয়েটা আমাকে এতো কথা শুনালো তাসিনও মেয়েটা কে কিছু বললো না
শিলা: এখন কান্না করে কি হবে নিজের দোষেই সব হারালি
–তাই বলে মেয়েটা আমাকে এতো কথা শুনাবে
–মেয়েটা ভাইয়া কে ভালোবাসে তাই ওর অধিকার আছে
–হুম
–নিজের অধিকার তো নিজেই শেষ করে দিলি
–তুই থাক আমি হোস্টেলে যাই

হঠাৎ শিলার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো, হোস্টেলে এসে শুয়ে ছিলাম কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতে পারিনি
–রাত হয়ে গেছে উঠে পড়তে বস আর ভাইয়া অনেক বার ফোন দিয়েছিল তুই ঘুমে তাই জাগাতে বারন করেছিল এখন ফোন দে
–পারবো না
–কেন
–ওর সাথে তো আমার কোনো কথা নেই যা কথা হবার ডিভোর্স এর সময় হবে
–পাগলামি করিস না
–আমি কাল তাসিনের বাবার কাছে যাবো প্রমান চাইবো
–কিন্তু
–আর কতো অপেক্ষা করবো আর বাবা হয়তো এতোদিনে সুস্থ হয়েছেন
–ঠিক আছে

সকালে শিলা কে নিয়ে তাসিনদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম, কলিংবেল বাজাতেই তিথি এসে দরজা খুলে দিলো, আমাকে দেখেই জরিয়ে ধরে সবাইকে ডাকতে শুরু করলো ভাবি এসেছে ভাবি এসেছে বলে, মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির সবাই ড্রয়িংরুমে এসে হাজির, মা এসে আমাকে জরিয়ে ধরলেন
মা: আমাদের কথা মনে পড়েছে বুঝি কতোদিন পর তোকে দেখলাম
ভাবি: তাসিন কে তো কলেজেই সারাক্ষণ কাছে পায় বাসায় এসে কি করবে আমাদের জন্য কি আর কষ্ট করে আসবে (বলেই আমাকে ধাক্কা মারলো সবাই আমাকে কতোটা ভালোবাসে আজ বুঝতে পারলাম)
আমি: মা বাবা কোথায়
মা: কেন তুই জানিস না কাল রাত থেকে তো উনি অসুস্থ তাসিন বলেনি
আমি: হ্যা বলেছিল এজন্যই তো দেখতে এসেছি (মিথ্যে বলা ছাড়া উপায় নেই রাতে হয়তো তাসিন বার বার এজন্যই ফোন দিয়েছিল দুর সব প্ল্যান বেস্তে গেলো আবার উনার সুস্থ হবার অপেক্ষা)

বাবার রুমে তাসিন আর আসিফ ভাইয়া বসা আমাকে দেখেই বাবা হাত বাড়িয়ে দিলেন আমিও গিয়ে বাবার মাথার কাছে বসলাম
বাবা: এতোদিন পর আসলি
তাসিন: আব্বু ও আসতে চেয়েছিল আমিই না করেছি ওর সামনে পরিক্ষা তো তাই (অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে আজো ও আমাকে ভালো সাজিয়ে দিলো)
বাবা: ঠিক আছে মা ভালো করে পড়াশুনা করবি কেমন আর বাবার জন্য দোয়া করবি
আমি: আচ্ছা

সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে, তাসিন কে কোথাও দেখতে না পেয়ে আমাদের রুমে গেলাম, রুমের যা অবস্থা করে রেখেছে কিন্তু তাসিন তো রুমেও নেই হঠাৎ দেখলাম বারান্দার দরজা খুলা এগিয়ে দেখি তাসিন বাইরে তাকিয়ে আছে হাতে সিগারেট
–তাসিন
–হুম (তাড়াতাড়ি সিগারেট ফেলে দিলো)
–এখন তো অবনী আছে সিগারেট খাচ্ছ কেন
–(মৃদু হাসল)
–অরনী শুনো না….
–বাহ অবনীর কথায় অন্নি থেকে অরনী
–সরি ভুল হয়ে গেছে
–আগে এমন ভুল হতো না বাদ দাও আসি

রুমের যা অবস্থা এমন অবস্থায় ফেলে রেখে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না তাই রুম গুছাতে লেগে গেলাম, বালিশ ঠিক করতে গিয়ে দেখি বালিশের নিচে একটি পায়েল, পায়েল হাতে নিয়ে তাসিনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি
–তুমি বাসায় নেই বালিশের নিচে পায়েল আসলো কোথায় থেকে এইটা ভেবেই তো অবাক হচ্ছ আসলে সেদিন একটা কাজে এক জায়গায় গিয়েছিলাম এই পায়েলটা দেখে পছন্দ হয়েছে তাই এনেছি কিন্তু তোমাকে দেওয়ার সাহস হয়নি যদি রাগ করো
–(সত্যি কি ও অবনী কে ভালোবাসে যদি অবনী কে ভালোবাসে তাহলে ও আমার জন্য পায়েল আনবে কেন আর…)
–অন্নি প্লিজ একটি কথা রাখবে আমার
–হুম বল
–পায়েলটা তোমার পায়ে পড়িয়ে দেই প্লিজ (কি করবো বুঝতেছি না তাসিন মুখ মলিন করে দাঁড়িয়ে আছে)
–ঠিক আছে

তাসিন যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো খুশি হয়ে আমার পায়ের কাছে বসে পড়লো তারপর খুব যত্ন করে পায়েলটা পড়িয়ে দিলো….

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ১৭

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ১৭

লেখিকা: সুলতানা তমা

–অরনী এই অরনী
–হুম
–এতো বেলা হয়ে গেছে এখনো শুয়ে আছিস ক্লাসে যাবি না
–না ভালো লাগছে না
–ক্লাসে চল ভালো লাগবে
–না
–চল বলছি

শিলা আমাকে টেনে ঘুম থেকে তুললো, রাতে যে কখন ঘুমিয়ে ছিলাম মনেই নেই, এখন এই পাগলীর জন্য ক্লাসে যেতে হবে আমার তো মোটেও ক্লাসে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না গেলেই তো তাসিনের চেহারা দেখতে হবে কিন্তু যাওয়া লাগবে শিলার জন্য, উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলাম
–এই অরনী হলো তোর
–হ্যা চল
–কিছু খেয়ে নে
–ইচ্ছে নেই চল

কলেজের ভিতর ঢুকতেই শুনলাম তাসিন কে নিয়ে সবাই কি যেন বলাবলি করছে কিন্তু বিষয়টা কি বুঝতে পারলাম না, হঠাৎ পিছন থেকে শিলা কে তাসিন ডাক দিলো, আমি দাঁড়িয়ে রইলাম শিলা আর তাসিন দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে অনেক দূরে যেহেতু কি কথা বলছে শুনতে পাচ্ছি না, অনেক্ষণ পর শিলা আসলো
–কিরে কি কথা বললি
–শুনলে সহ্য করতে পারবি তো
–মানে
–সবাই কি বিষয় নিয়ে বলাবলি করছে জানিস
–না তো
–কলেজে একটি নতুন মেয়ে এসেছে নাম অবনী, এই মেয়ে ভাইয়া কে প্রপোজ করেছে ভাইয়াও রাজি আজ ওদের দুজনের প্রেম হলো
–তাতে আমার কি আমি কেন সহ্য করতে পারবো না
–কলেজে যে মেয়েরা ভাইয়া কে দেখে ক্রাশ খাইছিল তারা কষ্ট পাচ্ছে আর তুই উনার বউ হয়ে বলছিস তাতে কি
–আমি ওর ছয়মাসের বউ তাও শুধু কাগজে কলমে ও প্রেম করুক বা বিয়ে করুক আমার কিছু না
–দূর তোর সাথে এই বিষয়ে কথা না বলাই ভালো
–আমিও তো এটাই বলতে চাইছিলাম এসব আজাইরা বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই
–হুম ক্লাসে চল

ক্লাসে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছি আর পা নাচাচ্ছি এইটা আমার খুব পুরনো অভ্যাস মন খারাপ থাকলে এমন করি হঠাৎ শিলা ধাক্কা দিয়ে সামনে থাকাতে ইশারা করলো, সামনে তাকিয়ে তো আমি অবাক একটি মেয়ে সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে কিন্তু এই মেয়ের সাথে আমার চেহারার এতো মিল কেন দুজন এক জায়গায় দাঁড়ালে সবাই ভাববে আমরা দুবোন
–অরনী
–হুম
–এই মেয়ে কে জানিস
–কে
–অবনী তাসিন ভাইয়ার…
–বুঝেছি কিন্তু ওর সাথে আমার চেহারার এতো মিল কেন
–এক চেহারার মানুষ নাকি পৃথিবীতে সাতজন থাকে শুনেছি অবনী তো আর তোর মতো হুবহু না দেখতে কিছুটা তোর মতো
–তাও কেমন যেন আমার সাথে ওর চেহারা মিলে যাচ্ছে
–তোর সতিন হবে তো তাই হিহিহি
–ফাজলামো করবি না
–ওকে ক্লাস শুরু হবে হেডফোন রেখে ক্লাসে মন দে
–আর ক্লাসে মন তাসিনের ক্লাস করতে তো ইচ্ছেই হয়না আমার
–ওই উনি কিন্তু এখানে তোর টিচার নাম ধরে ডাকবি না
–হুহ

কোন কাজের শাস্তি হিসেবে যে তাসিন আমার টিচার হয়েছে আল্লাহ জানেন ওর ক্লাস করতে একদম ইচ্ছে হয়না তাই হেডফোন কান থেকে না খুলে উল্টো সাউন্ড বারিয়ে দিয়ে গান শুনতে লাগলাম সাথে তো পা নাচানি আছেই, তাসিন ক্লাসে ঢুকেই আমার কানে হেডফোন দেখে রাগি চোখে তাকালো পড়া চুরি তো ও দেখতে পারে না তাই হয়তো, ওকে আর একটু রাগানোর জন্য আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি দিলাম সাথে সাথে ও আমাকে দেখিয়ে অবনীর দিকে তাকিয়ে ওকে চোখ মারলো মেয়েটাও কেমন নির্লজ্জের মতো হাসছে উফফফ মন চাইছে সবার সামনেই তাসিনের গলা টিপে ধরি কিন্তু বর্তমানে ও আমার টিচার তাই রাগটা কন্ট্রোল করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে গান শুনতে লাগলাম
–এই মেয়ে তোমার নাম কি (কথাটা শুনে পাশে তাকালাম হাসবো নাকি কাঁদব এখন তাসিন আমার নাম জিজ্ঞেস করছে)
–কি হলো চুপ হয়ে আছ কেন
–(শিলার দিকে তাকালাম আমার মতো ওর একি অবস্থা অবাক হয়ে তাসিনের দিকে তাকিয়ে আছে)
–এই মেয়ে কথা কান দিয়ে যায় না ওহ যাবে কিভাবে কানে তো হেডফোন লাগানো
–(চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকালাম)
–দাও ফোন আর হেডফোন আমার কাছে দাও ক্লাস শেষে নিয়ে যেও (বলেই ফোনটা আর হেডফোন নিয়ে গেলো তারপর আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে বললো “বলেছিলাম না পড়া চুরি করতে পারবা না এখন মন দিয়ে ক্লাস কর”)

তাসিন ফোন নিয়ে চলে গেলো আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে বসে ভাবতেছি ওর এই কাজের শাস্তি কি দেওয়া যায়
–অরনী
–কি কানের কাছে ফিসফিস করছিস কেন
–আরে রাগিস না একটা বিষয় ভেবে দেখেছিস
–কি
–ভাইয়া তোকে যেমন ভালোবাসে তুইও যদি তেমন ভালোবাসতি তাহলে আজকের ক্লাসটা হেব্বি হতো
–মানে
–স্বামী টিচার আর বউ ছাত্রী হিহিহি
–তোর ফাজলামো ছাড়াচ্ছি
–দেখ অবনী মেয়েটা তোর দিকে বার বার তাকাচ্ছে (অবনীর দিকে তাকালাম মেয়েটা আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, ওর প্রতি আগে একটু হিংসা হলেও এখন ওর চোখ দুটি দেখে কেমন যেন মায়া লাগছে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি বুঝতে পেরে মিষ্টি করে একটি হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে ফেললো)
–কিরে কি হয়েছে হিংসা হচ্ছে
–নারে কেমন যেন মায়া লাগছে আচ্ছা অবনীর বাসা কোথায় ওর বাবার নাম কি
–লন্ডন থেকে এসেছে জানি আর কিছু জানিনা
–হুম

ক্লাস শেষে লাইব্রেরীর দিকে গেলাম হঠাৎ তাসিনের কন্ঠ শুনে দাঁড়িয়ে পড়লাম, কার সাথে যেন কথা বলছে
–তুমি এমন করলে হবে নাকি
–কি করলাম
–ওর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলে তো বুঝে ফেলবে
–আর থাকাবো না
–তুমি দূর্বল হয়ে পরলে আমার সব প্ল্যান বেস্তে যাবে বুঝার চেষ্টা করো
–বুঝি তো কিন্তু
–প্লিজ এখন থামো ও এদিকে আসলে শুনে ফেলবে তোমাকে যা বলার ফোনে বলবো
–হুম
হঠাৎ শিলা আমার হাত ধরে টেনে মাঠে নিয়ে এলো
–এভাবে টেনে আনলি কেন
–ওরা এখন প্রেম করছে তাই ওদের কথা আমাদের শুনা উচিত না
–কিন্তু তাসিন কি যেন বলছিল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে কেন এমন করলে বুঝে যাবে তারমানে কি অবনী আমার দিকে তাকিয়ে ছিল বলে ও এসব বলেছে কিন্তু আমি কি বুঝে যাবো
–দুর অজতা তোর বিষয় ভাবছিস ওরা অন্য কিছু নিয়ে হয়তো কথা বলছিল
–না কেমন যেন রহস্য লাগছে আর তাসিন কি যেন প্ল্যান এর কথা বলছিল
–তুই না বললি এসব আজাইরা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো ঠিক না তাহলে এখন ভাবছিস কেন চুপ করে বসে থাক ওদের কে ওদের মতো থাকতে দে
–হুম

চুপ করে বসে আছি টিকি কিন্তু মাথা থেকে একটা কথা সরাতে পারছি না তাসিন কিসের প্ল্যানের কথা বলছিল…..

চলবে😍

আমার_প্রতিশোধ পার্ট: ১৬

আমার_প্রতিশোধ

পার্ট: ১৬

লেখিকা: সুলতানা তমা

তাসিনের দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছি ও দিব্যি হাসছে
–রাগ করেনা সোনা বউ
–আমি তোমাকে খুন করবো
–এখনি করবা নাকি যখন আশেপাশে কেউ থাকবে না তখন
–তাসিন
–হ্যা বল বউ
–দূর

ওর চোখের সামনে থেকে চলে আসলাম, ক্লাসে বসে আছি
–অরনী রাগ করছিস কেন
–কার উপর রাগ করবো যার মা বাবা নেই তার তো কিছুই নেই
–ভাইয়া তোকে সত্যি ভালোবাসে
–হুম জানি
–তাহলে এমন করছিস কেন
–তাসিনের বাবা যে খুনি না সেটার কোনো প্রমান নেই আমার কাছে চাচ্চু তাসিন কে মেনে নিবে না আর চাচ্চু তো আমার সব উনাকে কষ্ট দেই কিভাবে
–তারমানে তুইও ভাইয়া কে ভালোবাসিস
–ভালোবাসি কিনা জানিনা কিন্তু ওর প্রতি কেমন যেন মায়া কাজ করে আমি আর এই মায়া বাড়াতে চাইনা
–প্লিজ কান্না করিস না
–হুম
–ভাইয়া আসছে ক্লাসে যদি কান্না করিস ভাইয়া কিন্তু কষ্ট পাবে
তাসিন রুমে ঢুকার আগেই চোখের পানি মুছে নিলাম, সবাই ওর সাথে হাসছে কথা বলছে এসব আমার ভালো লাগছে না আব্বু আম্মুর কথা খুব মনে পরছে ইচ্ছে হচ্ছে চিৎকার করে কাঁদি, ক্লাসে মনোযোগ নেই কিন্তু তাসিন যে ভালো ভাবে ক্লাস নিচ্ছে সেটা সবার মনোযোগ দেখেই বুঝা যাচ্ছে, তাসিন ক্লাস নিচ্ছে আর বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে

ক্লাস শেষে শিলা আর আমি বাইরে একটু হাটতে বেরুলাম হঠাৎ পিছন থেকে তাসিন ডাক দিল
তাসিন: অন্নি এদিকে এসো
আমি: কেন
তাসিন: আসতে বলছি আস আর শিলা তুমি একটু দাড়াও এখানে
আমি: আরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ
তাসিন আমার হাত ধরে টানতে টানতে লাইব্রেরিতে নিয়ে আসলো
–এখানে এনেছ কেন
–এখানে কেউ নেই তাই
–মানে
–ক্লাসে কান্না করছিলে কেন
–এমনি
–তুমি এমনি কাঁদবা কেন
–তাতে তোমার কি
–আমার কি তাই না
–তাসিন আমার দিকে এগুবে না ভালো হবে না কিন্তু
–চুপ (তাসিন আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আমার ঠোটে ওর ঠোট ডুবিয়ে দিলো, অনেক্ষণ পর আমাকে ছেড়ে চেয়ারে গিয়ে দফ করে বসে পরলো, আমি এখনো পাথরের মূর্তির মতো দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে আছি একটু সময়ের মধ্যে তাসিন কি করে ফেললো ভাবছি)
–অন্নি সরি
–(নিশ্চুপ)
–তুমি কাঁদলে আমার খুব কষ্ট হয় তোমাকে তো আর মাইর দিতে পারবো না তাই এই কাজ করলাম এখন থেকে যতবার কাঁদবা ততোবার তোমার ঠোট আমার ঠোট দিয়ে চুষে খাবো
–(নিশ্চুপ)
–অন্নি তোমার চোখে পানি কেন আমি কিন্তু আবা….. (ওর কথা আর না শুনে দৌড়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে আসলাম)
শিলা: কাঁদছিস কেন
আমি: হোস্টেলে চল
শিলা: কিন্তু ক্লাস
আমি: তুই কর আমি যাই
শিলা: হয়েছে কি
আমি: যাই

আর এক মুহূর্ত দেরি না করে হোস্টেলে চলে আসলাম, ফোনটা হাতে নিলাম চাচ্চুকে বলবো আমাকে যেন এসে নিয়ে যায় কিন্তু চাচ্চুকে ফোন দেওয়ার আগেই তাসিন ফোন দিল কেটে দিলাম, বার বার কল দিচ্ছে আর আমি কেটে দিচ্ছি হঠাৎ মেসেজটোন বেজে উঠলো “কাঁদলে কিন্তু তোমার রুমে চলে আসবো আর হ্যা ভুলেও তোমার চাচ্চুর কাছে যাওয়ার চিন্তা করো না আমার অনুমতি ছাড়া তোমাকে এই হোস্টেল থেকে কেউ বের করতে পারবে না” মেসেজটা পড়ে হাসব নাকি কাঁদবো ভেবে পেলাম না, আমি এখন চাচ্চুর কাছে যেতে পারবো না কাঁদতেও পারবো না কতোটা পরাধীন হয়ে গেলাম, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এখন নিজেই কষ্টে ভুগছি, হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো চাচ্চুর কল রিসিভ করবো কিনা ভাবতে ভাবতে রিসিভ করে ফেললাম
–হ্যালো
–কিরে মা তোর কোনো খুঁজ নেই ফোন বন্ধ
–আমার মোবাইল নষ্ট ছিল কেমন আছ তোমরা
–তোর কোনো খুঁজ নেই আমরা ভালো থাকবো কিভাবে (আমি ছাড়া যে চাচ্চু ভালো থাকে না আমি নাকি তাকেই ভুলে যাবো, তাসিনের উপর খুব রাগ হচ্ছে)
–কিরে মা চুপ হয়ে আছিস কেন
–এমনি ছোট মা কোথায়
–বাসায় আমি একটু বাইরে এসেছি তুই কথা বলছিস কেউ দেখবে নাতো
–চাচ্চু আমি হোস্টেলে উঠেছি
–কেন
–সামনে পরিক্ষা
–কিন্তু
–সমস্যা নেই আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি ছোট মা কে বলো বাড়িটা আমার নামে লিখিয়ে নিয়েছি
–সত্যি
–হ্যা
–এখন শুধু বাকি আছে বাংলোটা আর দুইটা কোম্পানি
–এগুলা বাধ দাও না চাচ্চু আমার সম্পত্তি চাইনা
–এইগুলার মুল্য কতো তোর কোনো ধারনা আছে
–সম্পত্তি দিয়ে কি হবে আব্বু আম্মুকে তো আর ফিরিয়ে আনতে পারবো না
–কাঁদিস না মা আমরা আছি তো
–হুম আচ্ছা এখন রাখি পরে ফোন করবো
–আচ্ছা

ফোন রেখে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, একটি মাস কিভাবে যেন কেটে গেলো, মাত্র একমাসে তাসিনের প্রতি মায়া জন্মে গেলো কেমন মেয়ে আমি নিজের মা বাবার খুনির ছেলে কে নিয়ে এসব ভাবছি, নাহ তাসিনের আব্বু খুনি হউক বা না হউক আমি তাসিন কে ডিভোর্স দিব আর ডিভোর্স দিয়ে বাহিরে চলে যাবো এই দেশে আর থাকবো না, হঠাৎ কাধে কারো হাতের স্পর্শে পিছনে তাকালাম তাসিন দাঁড়িয়ে আছে
–তুমি হোস্টেলে আসলে কিভাবে
–তোমার কাছে আসতে আমাকে কোনো বাধা আটকে রাখতে পারবে না
–তাসিন কেন করছ এসব
–তুমি আবারো কান্না করেছ
–নাতো
–তোমার চোখ বলে দিচ্ছে
–আচ্ছা তোমার জন্য কি আমি এখন কাঁদতেও পারবো না
–না পারবে না কারন তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়
–আর পাঁচটা মাস অপেক্ষা করো কষ্ট হবে না
–কি করবে তুমি হ্যা কি করবে (আমার হাত ধরে টান দিয়ে আমাকে ওর বুকের সাথে জরিয়ে ধরলো, তাসিন যে খুব রেগে গেছে ওর চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে, ও রাগলে চোখ দুটু লাল হয়ে যায়)
–চুপ হয়ে আছ কেন বলো কি করবা
–ডিভোর্স দিব
–তাই (বলেই আমার চুলে ধরে জোর করে আমার ঠোটে ওর ঠোট ডুবিয়ে দিল, অনেক চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলাম না, অনেক্ষণ পর ও নিজেই ছেড়ে দিল তারপর আমার কপালে ওর কপাল ঠেকিয়ে বললো)
–আর কখনো ডিভোর্স এর কথা বললে খুন করে ফেলবো
–(ঠাস) এই তাপ্পর এর কথা মনে রেখো
–অন্নি
–অনেক হয়েছে তাসিন আর না অনেক সহ্য করেছি তোমার অত্যাচার আমি একা থাকতে চাই তুমি আমাকে আর ডিস্টার্ব করোনা প্লিজ আমি ডিভোর্স চাই
–ওকে অরনী ম্যাডাম তাসিন কি এখন থেকে বুঝবা আমার ভালোবাসা যখন তোমার কাছে অত্যাচার মনে হয় এই ভালোবাসার জন্যই আমি তোমাকে কাঁদাবো
তাসিন হাসতে হাসতে চলে গেলো…..

চলবে😍