আমার পাগলি প্রেমিকা ১১তম পার্ট

0
363

আমার পাগলি প্রেমিকা ১১তম পার্ট

…….#জেএইসজনি..
.
.
.
.
মা তার হাত থেকে একটা আংটি খুলে নিলার হাতে পরিয়ে দিলো,,
মানে আংটি বদলের কাজ টা সেরে ফেললো,,তারপর হাত থেকে মা তার নিজের হাতের বালা দুটো খুলে বললো,, দেখি মা তোর হাতটা,, সুন্দর করে নিলার হাতে পরিয়ে দিয়ে বললো, এই বালা জোরা আমাদের বংশের গৌরব, ,আমার শাশড়ি আমাকে দিয়েছিলো,, আজ আমি তোকে দিলাম,, এর মান রাখবি কিন্তু,
.
নিলা খুশিতে মাকে জড়িয়ে দরে কেদে দিলো, এত সহজে মেনে নিবে তা কখনো ভাবে নি,,
মা নিলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, ছি এই খুশির দিনে কেউ কাদে, পাগলি একটা,
.
নাহ সাইদ কে তো একটা থ্যাংকস দেওয়া দরকার, ও আমার অনেক বড় উপকার করলো,,
.
আমি সেখান থেকে উঠে বাসার ভিতরে সাইদকে খুজতে লাগলাম,,
কোথায়ও খুজে না পেয়ে অবশেষে বারান্দায় গেলাম,,
.
সেখানে গিয়ে যা দেখলাম তা দেখেতো আমি অবাক.
দেখি আনিসা সাইদের কাদে মাথা দিয়ে বসে আছে,
.
আমাকে দেখে ওরা বেশ ভয় পেয়ে গেলো,,
দুজন মাথা নিচু করে দারিয়ে আছে,,
.
আমি কিছু বলবো তার আগেই নিলা পিছন থেকে বললো,,
কি হোয়েছে,,,
নিলা ওদের দেখে ব্যাপার টা বুঝতে পারলো,, তাই আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,খবর দার ওদের কিছু বলবেন না।,,
নিলা ওদের কাছে যেতেই ওরা নিলার পিছন লুকালো,,
.
আমিঃ তা তোমাদের এসব চলছে কবে থেকে,,,
নিলাঃ আমি বলছি,, এর আগে যখন সাইদ এসেছিলো তখন থেকে,,,
আমিঃ ও।ভালো,,ওর পিছন থেকে এবার দুজন আমার সামনে আসো,,
.
দুজন আমার সামনে আসলো,, ভয়ে মাথা নিচু করে রেখেছে,,,
আমি ঃ তা আমার আগে বিয়ে করার নিয়ত আছে নাকি তোমাদের,,
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মাথা নারিয়ে না বললো,,
নিলা ঃ কি শুরু করেছেন আপনি,,
ওদের একা থাকতে দেন,,আর আপনি আমার সাথে চলেন, কথা আছে আপনার সাথে,,
.
নিলার পিছন পিছন আমি নিলার রুমে গেলাম,,
রুমে যেতেই নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে কেদে দিলো,,
.
আমি ঃ এই পাগলি কি হোয়েছে তোমার আবার,,
নিলা কান্না মাখা কন্ঠে বললো,, আমি ভাবতে পারিনি এত সহজে সব কিছু হবে,, আমার মার মতো একটা মা পেলাম, বাবার মতো একটা বাবা পেলাম,, এত সুখ কি আমার সইবে,,,
.
নিলার মাথাটা উচু করে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম,, পাগলি একটা, এর জন্য কাদতে হয়,, এখন হাতটা দেখি,,
পকেট থেকে একটা আংটি বের করে নিলার হাতে পরিয়ে দিলাম,,
আমিঃ এটা হলো,আমার পক্ষ্য থেকে,, নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,,,
আমিঃ আমাকে পরাবা না,,,
নিলাঃ একটু অপেক্ষা করেন,,
এই বলে নিলা গিয়ে তার ডয়ার খুলতে লাগলো,,
আমিঃএই পাগলি কি করছো তুমি, আরে আমি তো এমনেই বলেছি,,
.
নিলা ডয়ার থেকে একটা আংটি বের করে আনলো,,
নিলাঃ দেন হাতটা দিন,,
.
নিলা আমার হাতে একটা আংটি পরিয়ে দিলো,
আমিঃতুমি আংটি পেয়েছো কোথায়?
নিলা ঃএটা আমার বাবার দেওয়া স্মৃতি,,
আমি ঃ তোমার বাবার দেওয়া স্মৃতি তুমি আমাকে দিচ্ছো কেনো,, এটা তোমার কাছে রেখে দাও,, তোমার কাছেই ভালো মানাবে,,
এই বলে যেই খুলতে যাবো, তখন নিলা বললো,, খবরদার খুলবেন না এটা,, এটা আমার প্রিয় মানুষের কাছে অযত্নে থাকবে না, ,খুব যত্নে থাকবে,,
তাছারা আমি নিজেকে কখনো আপনার কাছ থেকে আলাদা ভাবছি নাকি,,
আমি নিলাকে আলতো করে জরিয়ে দরে বললাম, আমার পাগলিটাতো দেখি খুব কথা শিখেছে,,
নিলাঃ দেখতে হবে না কার হবু বৌউ আমি,,,
কিছুক্ষন পর,
নিলাঃ হইছে এবার ছারেন, আম্মা – আব্বার জন্য খাবার রেডি করতে হবে,,,মা একা পারবে না,
আমিঃ আচ্ছা যাবে তো যাও,, তার আগে একটা পাপ্পি দিয়ে যাও,,
নিলাঃ ধ্যাত,, আমার লজ্জা লাগে,
.
আমিঃতাহলেতো ছারছি না,,
নিলাঃআচ্ছা চোখ বন্ধ করেন,,
আমি চোখ বন্ধ করতেই নিলা একটা পাপ্পি দিলো, তারপর নাকটেনে দিয়ে চলে গেলো,,
.
কিছুক্ষন পর নিলা চা হাতে রুমে প্রবেশ করলো,,
নিলাঃআপনার চা, ,
.
নিলা আমার হাতে চা দিয়ে আবার নিয়ে একটু খেয়ে আমর হাতে দিলো,,
নিলাঃ নিন এবার খান,,
আমিঃ ওর নাকটা টেনে দিয়ে বললাম পাগলি একটা,,
নিলাঃ শুধু আপনার,,
,, নিলা চোলে গেলো,,
মেয়েটা আজ অনেক খুশি মনে হচ্ছে,,
.
রাতে সবাই এক সাথে খেতে বসলাম,, তখন
মা বললো,, আরে বেয়াইন সাহেবা আপনি বসেন আমাদের সাথে,,
নিলার মা ঃ না বেয়াইন আপনার খান, আমি বেরে দিচ্ছি,,
মা নিলার মাকে হাত দিয়ে টেনে বসালো, আর নিলাকে মার পাসে বসালো,,
.
খেতে খেতে আমার আব্বু বললো,,
বেয়াইন সাহেবা আমরা কিন্তু ওদের বিয়ে এক সপ্তাহর মধ্যেই পরাতে চাচ্ছি,, কি বলেন,,
.
নিলার মাঃআমি আর কি বলবো বেয়াই সাহেব, আপনারা যা ভালো বোঝেন তাই করেন,,
আব্বু ঃ তাহলে সামনের সপ্তায় শুভ কাজটা ছেরে ফেলি,,
আমাদেন উদ্দেশ্য করে বললো, ,
তোদের কোনো আপওি আছে,,
আমরা না জানালাম,,
.
মা ঃ তা হলে, জনি তুই কালকেই নিলা মাকে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটা শুরু করে দে,,
আমিঃ জি মা।
.
রাতে খেয়ে বিদায় নিলাম মা বাবা আর সাইদ সহ,
.
পর দিন নিলাকে বাসা থেকে এসে নিয়ে গেলাম,, সাথে আনিসা আর সাইদ আছে,, শফিংমলে গিয়ে সাইদ কে বললাম তুই আনিসা কে নিয়ে ওদিকে যা,, যা যা কিনার কিন, বিল আমি দেবো,
সাইদ আনিসা কে নিয়ে চোলে গেলো অন্যপাসে,,
.
আমি নিলাকে নিয়ে শাড়ির দোকানে ঢুকলাম,,
আমিঃএই আমাদের কিছু শাড়ি দেখান তো,,
.
নিলা দেখো তো কোনটা পছন্দ হয় তোমার,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো, একবার বলেছিনা, আপনার পছন্দই আমার পছন্দ,,
.
আমি একটা শাড়ি নিলার মাথায় দরে বললাম, বাহ বেশ মানাবেতো আমার মায়াবতীটাকে,,
নিলা লজ্জা পেয়ে মাথাটা নিচু করে ফেললো,,
তাহলে এই শাড়িটা নেই বিয়ের জন্য,
নিলা মাথা নারিয়ে হ্যা জানালো,,
,
আমিঃআচ্ছা এই শাড়ি গুলো বাসায় পরার জন্য দেখোতো,
আমি পাচটা শাড়ি পছন্দ করে সেগুলো প্যাক করে দিতে বললাম,
.
সেখান থেকে লেডিস সফে ডুকলাম,
সেখানে নিলার যা যা দরকার তা নিলো,,
.
অন্যদিকে সাইদ আনিসাকে
একটা ল্যাহেঙ্গা দেখিয়ে বললো, দেখোতো এইটা পছন্দ হয় কিনা,,
আনিসা কিছুটা রেগে বললো,
বিয়েতে কি আমি এইটা পরবো,,
সাইদঃ কেনো কি হোয়েছে,
আনিসাঃ আপনার মাথা হোয়েছে,, শাড়ি দেখান বিয়েতে শাড়ি পরবো,,
.
সাইদ ঃআচ্ছা তাহলে এই আকাশি কালারে শাড়িটা দেখো,,
আনিসা ঃ আপনার মন মতো একটা নেন,,
সাইদঃ আচ্ছা তাহলে এইটাই নেই,,
আনিসা ঃ এবার চলুন এটার সাথে ম্যাচিং করে আপনার একটা পান্জাবি কিনবো,,
.
আমিঃ অবশেষে কিনাকাটা করে কাউন্টারে সাইদের জন্য অপেক্ষা করছি, কিছুক্ষন পর তারাও চোলে আসলো,,
বিল পেমেন্ট করে ওদের নিয়ে রেষ্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খেলাম,,
.
তারপর ,
.
আমিঃসাইদ তুই আনিসা কে বাসায় পৌছে দিয়ে আয়,, আমি তোর ভাবি কে বাসায় দিয়ে আসছি,,,
সাইদঃ ঠিক আছে , এই চলো,,
সাইদরা চোলে গেলো,,
আমি ঃ চলো,,
নিলাঃনা আমি বাসায় যাবো না, আমি আপনার সাথে যাবো, আম্মা কে দেখবো,,,
আমি ঃআচ্ছা চলো,,
নিলাকে নিয়ে বাসায় গেলাম,,
নিলা মাকে গিয়ে জড়িয়ে দরলো,,
মাঃ আমার মেয়েটার কিনাকাটা হলো,,
নিলাঃ জি আম্মা,,
.
বিকালে নিলাকে তার বাসায় পৌছে দিলাম,,
.
আছতে আছতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসলো,, আমার আত্নীয় সজনদের দাওয়াত দিলাম,,
পুলিশে কিছু অফিসারদের দাওয়া করলাম,,
..
আজ আমাদের বিয়ে, যাকজমক ভাবে বিয়েটা হোয়ে গেলো,,
.
অন্য দিকে সাইদ আনিসা কে খুজে হয়রান,,
সাইদ ঃ এইতো সুন্দরি পেয়েছি তোমাকে,,
আনিসা পাস দিয়ে যাওয়ার সময় টান মেরে বুকে নিয়ে আসলাম,।
.
আনিসা ভয় পেয়ে গেলো,,
আমিঃআরে আমি,
আনিসাঃ ও আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,,

আমিঃতোমার তো কেনো খোজ নেই,
আমার কথা একটুও মনে নেই,
.
আনিসাঃ বান্ধুবিদের সাথে ছিলাম তো তাই মনে নেই,
সাইদঃআমি কিছুটা অভিমান করে বললাম,, এখানে আর আসছো কেনো,,যাও ওদের কাছে যাও,
এই বলে আনিসাকে বুক থেকে উঠাতে চাইলে, আনিসা আর একটু জোরে জড়িয়ে দরে বললো,, এর আগে বুক থেকে উঠানোর জন্য চিমটি কেটেছিলাম মনে নেই,, এবার কিন্তু আরো জোরে দেবো,
আনিসা আরো কিছুক্ষন সাইদ কে জড়িয়ে দরে থাকলো,,
.
আমি বাসর ঘরে ঢুকলাম,
নিলা এসে আমর পা ছুয়ে ছালাম করলো,,
আমি নিলাকে নিয়ে খাটে বসালাম,
.
কিছুক্ষন পর,
নিলা আমার বুকে মাথা রেখে কাদতে লাগলো,,

আমিঃ কি হোয়ে তুমি কাদছো কেনো,
নিলাঃ আমি ভাবিনি আপনাকে এত সহজে পাবো,, সবসময় আপনাকে হারানোর ভয় হতো ,
আমিঃএখন তো পেয়েছো,, এবার কান্না বন্ধ করো,,
নিলাঃ না, আজ সারা রাত কান্না করবো,,
আমিঃএ্যা, তাহলে বাসর করবো কখন,,
নিলাঃ কোনো কথা বলবেন না,, আমাকে কান্না করতে দিন,,
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি……
.
……চলবে…….
.
.
ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here